শয্যায় শায়িত রাজার দেহ আজ যেন নির্বাপিত অগ্নিশিখা, শুকিয়ে যাওয়া গভীর, শূন্য সমুদ্রখাত। অস্তাচলগামী সূর্যের মতোই নিভে গিয়েছে তাঁর শৌর্য, বীর্য, অমিত বিক্রম। কৌশল্যা রাজার চরণে আছড়ে পড়ে কাঁদতে লাগলেন।
শয্যায় শায়িত রাজার দেহ আজ যেন নির্বাপিত অগ্নিশিখা, শুকিয়ে যাওয়া গভীর, শূন্য সমুদ্রখাত। অস্তাচলগামী সূর্যের মতোই নিভে গিয়েছে তাঁর শৌর্য, বীর্য, অমিত বিক্রম। কৌশল্যা রাজার চরণে আছড়ে পড়ে কাঁদতে লাগলেন।
নির্বাসনের ষষ্ঠ দিন। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেল রাজা দশরথের। রাতের আকাশে বিদ্যুতের ঝলকের মতো জেগে উঠল বহুদিন আগের এক শোকচিত্র।
নিষ্প্রভ রথ অযোধ্যার প্রবেশদুয়ার পার করে ঢুকছে দেখেই ছুটে গেল তার দিকে জনস্রোত। প্রজারা জানতে চায়, রামের খবর— কোথায় আছেন তিনি, কেমন আছেন তাঁরা সকলে।
অযোধ্যার রাজপুত্র, রাজবধূ আজ বিলাসী কোমল সুখশয্যায় নয়, নিদ্রা যাবেন কঠিন ভূমিতলে, পাতার বিছানায়। পান করবেন শুধু জল। লক্ষ্মণ আর সুমন্ত্র তৈরি করে দিলেন পর্ণশয্যা।
সীতা কৌশল্যাকে প্রণাম করে বললেন, “মা, স্ত্রীর ধর্ম, কর্তব্য আমি জানি। আপনি আমাকে সাধারণ নারীর মতো মনে করবেন না। আপনি আপনার পুত্রের মঙ্গল বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকুন
জ্যেষ্ঠপাণ্ডব যুধিষ্ঠির রাজসূয়যজ্ঞ করতে মনস্থ করেছেন। পাণ্ডবদের শুভাকাঙ্ক্ষী কৃষ্ণের পরামর্শ অনুযায়ী, অত্যাচারী ক্ষমতালিপ্সু প্রভাবশালী মগধরাজ জরাসন্ধের প্রতিপত্তির কাছে হার স্বীকার করেছেন যাদবরা, জরাসন্ধের গিরিব্রজ নামের পার্বত্যদুর্গে বন্দি রয়েছেন পরাজিত রাজারা, তাঁদের মুক্ত করা যুধিষ্ঠিরের প্রথম কর্তব্য। এই সব বৃত্তান্ত শুনে, জরাসন্ধের অমিত শক্তি ও ক্ষমতা স্মরণ করে, যুধিষ্ঠির রাজসূয় যজ্ঞানুষ্ঠানে অনীহা প্রকাশ করলেন। অত্যুৎসাহী দ্বিতীয়পাণ্ডব ভীমসেনের অভিমত হল,জরাসন্ধকে পরাজিত করতে যুদ্ধোদ্যম প্রয়োজন। তাঁর...
রাঘব রাম জটায়ুর বন্দনা করে সানন্দে আলিঙ্গন করে বিনত হলেন। শুদ্ধচিত্ত রাম, পিতার সঙ্গে জটায়ুর বন্ধুত্বের কথা তাঁর মুখ হতে বার বার শুনতে লাগলেন। রাম, সীতার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব মহাবলশালী জটায়ুর হাতে ন্যস্ত করলেন। জটায়ুকে সঙ্গে নিয়ে, শত্রুদহনের ইচ্ছায় এবং অরণ্যরক্ষার্থে পঞ্চবটীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন রাম।
রাজসূয় যজ্ঞারম্ভকে কেন্দ্র করে মত বিনিময়ের মধ্যে যে তত্ত্বকথার সূচনা হল তার মধ্যে লুকিয়ে আছে রাজনৈতিক, সামাজিক, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার নানা রসদ। একটি মহান বিরাট উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত নানা সাধারণ থেকে অসাধারণ তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। এ সবই মহাভারতের মহাকাব্যিক বিস্তার নয় কী?
রাম, স্থির করলেন, বনবাসের নির্ধারিত সময়ের অবশিষ্টাংশ, সজ্জনকল্যাণে নিয়োজিতপ্রাণ মহর্ষি অগস্ত্যের আশ্রমে বাস করবেন। রামের নির্দেশানুসারে, অনুজ লক্ষ্মণ মহর্ষির আশ্রমের এক শিষ্যকে বললেন, রাজা দশরথো নাম জ্যেষ্ঠস্তস্য সুতো বলী। রামঃ প্রাপ্তো মুনিং দ্রষ্টুং ভার্য্যয়া সহ সীতয়া।। রাজা দশরথের জ্যেষ্ঠ পুত্র বলশালী রাম, মুনির দর্শনের আশায়, স্ত্রী সীতার সঙ্গে উপস্থিত হয়েছেন। লক্ষ্মণ আত্মপরিচয় দিলেন, আশ্রমবাসীগণ শুনে থাকবেন, তিনি রামানুজ লক্ষ্মণ, রামের হিতসাধক, অনুগত ভক্ত। পিতার আদেশানুসারে, তাঁরা এই ভয়াবহ অরণ্যে...
রাজসূয় যজ্ঞের আয়োজনে উদ্যোগী হলেন রাজা যুধিষ্ঠির। এ বিষয়ে তিনি কৃষ্ণের অনুমোদনপ্রার্থী। কৃষ্ণ, পাণ্ডবদের পরম আত্মীয়। পাণ্ডবজননী কুন্তী কৃষ্ণের পিতার ভগিনী। কৃষ্ণ তৃতীয় পাণ্ডব অর্জুনের প্রিয়সখা। এ ছাড়াও যুধিষ্ঠিরের জানেন, কেউ সম্প্রীতিবশত প্রীতিভাজনের ত্রুটি দেখেন না। স্বার্থহেতু (অর্থলাভেচ্ছায়) কেউ শুধু মনোমত কথা বলেন। কারও আবার নিজের জন্য যেটি হিতকর সেটাই তাঁদের লক্ষ্য হয়ে থাকে। সুপরামর্শদানের বিষয়ে, লোকসমাজের এটাই প্রচলিত বিশ্বাস। কেচিদ্ধি সৌহৃদাদেব ন দোষং পরিচক্ষতে। স্বার্থহেতোস্তথৈবান্যে প্রিয়মেব...
কপিঞ্জল তখন একটু চিন্তা করে সেই খরগোশ শীঘ্রগকে বলল, বেশ! তবে তাই হোক! যদি স্মৃতিকেই তুমি প্রমাণ বলে স্বীকার করো তবে এখনই চলো কোনও এক স্মৃতিপাঠকের কাছে। ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষের জ্ঞান যার আয়ত্তে। তার রায়ই হবে চূড়ান্ত। তিনি যাঁর সপক্ষে রায় দেবেন—এই গাছের কোটরটি তারই হবে।
“এইটা তো আমার বাসা! এখানে তুই এলি কী করে? তৎ শীঘ্রং নিষ্ক্রম্যতাম্ — এখনই ওখান থেকে বেরিয়ে আয়।” — ধমকে উঠল কপিঞ্জল। তার স্বর কাঁপছিল রাগে, আর গলায় ফুটে উঠছিল মালিকানা হারানোর যন্ত্রণা।
খরগোশটি বক্তব্য হল, এতো সহজে হার মেনে এই পিতৃপিতামহের ভূমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার কোনও মানেই হয় না। সেই হাতির দলকে এমন কিছুর ভয় দেখাতে হবে যাতে তারা আর এই জায়গায় ফিরে না আসে। রাজনীতি শাস্ত্রে বলা হয়েছে, নির্বিষ সাপেরও ফণা তুলে ভয় দেখানো উচিত। কারণ বিষ আছে কি নেই—সেই চিন্তা লোকে করে না। সকলেই সাপের ফণাকেই ভয় পায়। অর্থাৎ আমাদের ক্ষমতা কতটা সেটা ভেবে লাভ নেই। কীভাবে আমরা তাদেরকে ভয় দেখাতে পারবো সেই উপায় ভাবতে হবে।
কাকোলূকীযম্ পরিশেষে সেই কাকটি বলল, পক্ষীরাজ গরুড়ের এমনই মহিমা যে তাঁর নাম শুনলেইশত্রু আর তোমাদের দিকে এগোতে সাহস পায় না।রাজার এমনই ক্ষমতা হওয়া উচিত যে তাঁর নাম শুনলেই শত্রু ভয় পাবে।শাস্ত্রেও বলে যে দুর্জন লোকের সামনে কেউ যখন নিজের প্রভুর নাম নিয়ে বলেন, “আমরা মহামহিমশালী অমুক রাজার প্রজা” তখন প্রজাদেরও মঙ্গল হয়।ফলে এই উলূকের মতন যাকে তাকে রাস্তা থেকে তুলে এনে রাজা করার কোনো মানেই হয় না। বংশ-পরম্পরাক্রমে রাজনীতিতে দক্ষ প্রভাবশালী ব্যক্তিকেই রাজা করা উচিত। মহান পুরুষের নাম নিলে অনেক লাভ হয়; খরগোশদের...
যেভাবে একজন অভিজ্ঞলোক ঘাটে নেমে গভীর জলের মধ্যেও তল খুঁজে পান তেমনই ভাবে গুপ্তচরেরাও মন্ত্রী-প্রভৃতি আঠেরো প্রকার তীর্থদের মধ্যে নিজের একটা জায়গা করে নিয়ে সকলের সঙ্গে মিলেমিশে শত্রুরাজার কাজকর্ম সম্পর্কে খবর জোগাড় করে আনতে পারেন। বৃদ্ধমন্ত্রী স্থিরজীবীর কথা শুনে মেঘবর্ণ বললেন, হে তাত! দয়া করে বলবেন আমাদের এই কাক-সমাজের সঙ্গে উলূক-সমাজের এইরকম প্রাণঘাতী শত্রুতার কারণ কী?
ইল্বল অতি যত্নে মধ্যাহ্নভোজনের আয়োজন করে সকলকে আহ্বান করল। নিজের হাতে সকলকে পরিবেশন করলে সে। ইল্বলের লক্ষ্য ছিলেন অগস্ত্যমুনি। কারণ, তিনিই ছিলেন একমাত্র ব্রাহ্মণ।
লোপামুদ্রা যখন বিবাহযোগ্যা হলেন, বিদর্ভরাজ তাঁকে উপযুক্ত পাত্রস্থ করবার জন্য মন্ত্রীদের সঙ্গে পরামর্শ করছিলেন, তখন অগস্ত্যমুনি তাঁর অন্তর্দৃষ্টিতে এই সমস্ত কিছুই জানতে পারলেন।
বৃহদশ্বমুনি নলরাজার গল্প শুনিয়ে যুধিষ্ঠিরকে এই বলে আশ্বস্ত করলেন, ‘হে রাজন্ আমি তোমায় অক্ষবিদ্যা শিখিয়ে দেব। তাহলে তোমায় আর সবসময় পাশাখেলার ভয়ে দিন কাটাতে হবে না।’ মুনি কথা রাখলেন।
ঋতুপর্ণরাজাও সব ঘটনা শুনে অত্যন্ত খুশি হলেন। বাহুকের গুণমুগ্ধ ছিলেন তিনি। তিনি জানতেন, বাহুক নিতান্ত সাধারণ কোন মানুষ নন। আজ সে সন্দেহ দূর হল। তিনি ফিরে গেলেন নিজ রাজ্যে।
দময়ন্তী বাহুক বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নিজের পুত্রকন্যাকে বাহুকরূপী নলের কাছে পাঠালেন। নলরাজা পুত্রকন্যাকে পেয়ে তাদের কোলে নিয়ে কেঁদে ভাসালেন। কিন্তু তবুও নিজের পরিচয় প্রকাশ করলেন না।
রানী তখন নিজের কর্মে অবিচল। সেদিন দুপুরের দায়িত্ব পেয়ে নিষ্ঠার সঙ্গেই পালন করছিলেন। তেমন কী আর কাজ! রবীন্দ্রনাথ হয়তো শুয়ে শুয়ে বললেন, ‘কলমটা দে, খাতাটা দে।’ আবার কখনো হয়তো শীত-শীত লাগছে, পা দুটো চাদর দিয়ে ঢেকে দিতে বলতেন। তেমন কিছু কাজ নয়, শুধু জেগে থাকা, গুরুদেবের পাশে বসে থাকা। কেউ পাশে থাকলে, দুটো কথা বললেও তো ভালোলাগে গুরুদেবের। অন্তত অসুস্থতার কথা ভুলে থাকতে পারেন। কেউ তাঁর পাশে নিজের কাজকম্ম বন্ধ করে বসে থাকলে, সেবা-শুশ্রূষা করলে, তা নিয়ে বিচলিত হন গুরুদেব। রানীকে একদিন বললেন, ‘আমার জন্য তোদের কত সময় নষ্ট হয়।’
রবীন্দ্রনাথকে নস্যাৎ করার চেষ্টা, ফুৎকারে উড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা তো কম হয়নি। নোবেল তিনি পেয়েছিলেন তিপান্ন বছর বয়েসে। প্রবল সম্ভাবনা নিয়ে সাহিত্যের আসরে অবতীর্ণ হয়ে প্রচলিত লেখার চেনা ছক ভেঙেছিলেন, নতুনতর পথ আবিষ্কার করেছিলেন। সেসময় অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বই তো রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতা করেছেন। রবীন্দ্রনাথের মতো প্রতিভাবানের বিরোধিতা করে বোধহয় তাঁরা আত্মতৃপ্তি লাভ করতে চেয়েছেন।
জোড়াসাঁকোয় এলে সুদক্ষিণা দেবী বড় স্মৃতিকাতর হয়ে পড়তেন। এক অদ্ভুত ভালোলাগায় মন ভরে যেত। স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গ সুদক্ষিণা পোষ্যপুত্র গ্রহণ করেছিলেন। এক সময় সুদক্ষিণা ভেবেছিলেন জমিদারি ছেড়েছুড়ে কলকাতায় চলে আসবেন। স্মৃতি দিয়ে ঘেরা ঠাকুরবাড়ির সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে শেষজীবন কাটাবেন। সেই ভাবনা সত্যি হয়ে ওঠেনি। সুদক্ষিণার ডাকনাম ছিল ‘পূর্ণিমা’।
স্বর্ণকুমারী দেবী ঔপন্যাসিক হিসেবে সমকালে যথেষ্ট প্রসিদ্ধি পেয়েছিলেন। তাঁর উপন্যাস সমকালেই ইংরেজিতে অনুবাদ হয়েছিল। কথাসাহিত্যচর্চার পাশাপাশি স্বর্ণকুমারী জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়েও বই লিখেছিলেন। তাঁর দৃষ্টির স্বচ্ছতা, ভাবনার আধুনিকতা ও বিজ্ঞানবোধ আমাদের মনে যতই বিস্ময় উদ্রেক করুক না কেন, মহর্ষির এই কন্যাটি কখনও স্কুলে যাননি। তাঁর পড়াশোনা সবই বাড়িতে।
দিগম্বরী দেবীকে আশপাশের মানুষজন বলতেন ‘রত্নগর্ভা’। তাঁর কোনও কন্যা সন্তান ছিল না। সকলেই পুত্র। সব মিলিয়ে পাঁচ পুত্র। জ্যেষ্ঠ পুত্র মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ। একজন অল্প বয়সে মারা গিয়েছিলেন। ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই তথ্য দিলেও খগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের তাঁর ‘রবীন্দ্র কথা’য় জানিয়েছেন, দিগম্বরীর প্রথম সন্তানটি ছিল কন্যা, অকালে অসময়ে শৈশবে মারা গিয়েছিল।
ধর্ম চেতনা এবং সংশয়—চিরকালীন। সাধারণ থেকে সাধক প্রত্যেকেই এই সংশয় প্রকাশ করেছেন। ধর্মলাভ করা সম্ভব? যদি যায়, কোনও পথে? কীভাবে? ধর্মলাভ হলে তার লক্ষণ বা কী?
একবার ঠাকুর যেন কোন দূর দেশ হতে এসে ভাবের ঘোরে মায়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, “দেখো! কলকাতার লোকগুলো যেন অন্ধকারে পোকার মতো কিলবিল করছে। তুমি তাদের দেখো।”
আধ্যাত্মিক জীবন, শুধু খাদ্য-পানীয়ের নিরিখে বিচার যোগ্য নয়। তার থেকেও অধিকতর বড় বিষয় হল মানসিক শুদ্ধতা। সাধকের ক্ষেত্রে, অনেক সময় সাধন অপেক্ষা এ বিচার অধিকতর অর্থবহ হয়ে পড়ে যে কী গ্রহণযোগ্য বা গ্রহণযোগ্য নয়, তা সাধন পথে একপ্রকার বিঘ্ন।
উপনিষদের ব্রহ্মজ্ঞানের পার্বত্য পাদদেশে, যেখানে ভক্তির পরাকাষ্ঠা প্রেম নদী বিধৌত করে একে অপরকে। শ্রীরামকৃষ্ণ বলছেন, “এক চৈতন্য অভেদ, বিষ্ঠা, মুত্র, অন্ন, ব্যঞ্জন সবপ্রকার খাবার জিনিস পড়ে রয়েছে, তাঁর (শ্রীরামকৃষ্ণ) ভিতর থেকে জীবাত্মা বেরিয়ে সবকিছুকে স্পর্শ করে গেল।”
শ্রীরামকৃষ্ণ ভাবাবিষ্ট হয়ে রাখালকে বলছেন, “এখানকার শ্রাবণ মাসের জল নয়। খুব হুড় হুড় করে আসে, আবার বেরিয়ে যায়। এখানে পাতাল ফোঁড়া শিব, বসানো শিব নয়।”
আপনার অনুরোধ করা পৃষ্ঠাটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনার অনুসন্ধান পরিমার্জিত করার চেষ্টা করুন অথবা ওয়েবসাইট মেনু থেকে পোস্টটি সনাক্ত করুন।
আপনার অনুরোধ করা পৃষ্ঠাটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনার অনুসন্ধান পরিমার্জিত করার চেষ্টা করুন অথবা ওয়েবসাইট মেনু থেকে পোস্টটি সনাক্ত করুন।
একদিন সকালে উদ্বোধনে শ্রীমায়ের ঘরে স্বামী অরূপানন্দ তাঁকে বলেছিলেন যে, শ্রীচৈতন্য নারায়ণীকে আশীর্বাদ করেছিলেন, ‘নারায়ণী, তোমার কৃষ্ণে ভক্তি হোক’। তখন তিন-চার বছরের নারায়ণী ‘হা কৃষ্ণ’ বলে মাটিতে গড়াগড়ি দিতে লাগল। তিনি আরও বললেন যে, দেবর্ষি নারদের সিদ্ধিলাভের পর একটা পিঁপড়ে দেখে হঠাৎ কিরকম দয়া হল।
উদ্বোধনে একদিন সকালে পুজোর ঘরে স্বামী অরূপানন্দ মা সারদাকে বললেন, ‘মা, যদি ঈশ্বর বলে কেউ থাকেন তাহলে এই জগতে এতো দুঃখকষ্ট কেন? তিনি কি দেখছেন না? তাঁর কি এসব দূর করবার শক্তি নেই?’ তখন শ্রীমা বললেন, ‘সমস্ত সৃষ্টিই সুখদুঃখময়। দুঃখ না থাকলে সুখ কি বোঝা যায়? আর সকলের সুখ হওয়া কি করে সম্ভব?
সরযূদেবী রাধাষ্টমীর দিন মা সারদার সঙ্গে দেখা করতে এসে দেখেন যে, তিনি স্নানে যাবেন বলে তেল মাখছেন। এই সময়ে প্রণাম করতে নেই বলে তিনিও করেননি। লৌকিক জীবনে জগজ্জননীও লৌকিক মর্যাদা রক্ষা করে চলেন। মা সারদা গঙ্গাস্নান করে আসার পর তিনি তাঁর শ্রীচরণের পুজো করেন ফুলচন্দনাদি দিয়ে। শ্রীমা তাঁর পায়ে তুলসীপাতা দিতে নিষেধ করেন।
শ্রীমা তখন কাশীতে রয়েছেন। স্বামী শান্তানন্দ তাঁকে বললেন যে, তাঁর তো সাধন, ভজনের শক্তি নেই। শ্রীমার চরণাশ্রিত তিনি। তখন শ্রীমা বললেন, ‘তোমার ভয় কি? ঠাকুর তোমার সন্ন্যাস রক্ষা করুন। ঠাকুরের কাজ ঠাকুর করবে আর তোমার সাধনভজন করবে। কাশী তোমাদের স্থান। সাধন মানে তাঁর চরণে মন সর্বদা রেখে তাঁর চিন্তায় ডুবে থাকা। সাধনের সময় নানা প্রলোভনের জিনিস দেখে ঠাকুর জড়সড় হতেন আর সে সব চাইতেন না।
সরযূ সন্ধ্যার সময় শ্রীমাকে দেখতে এসেছে। মা সারদা একটা পাটিতে শুয়ে আছেন আর অন্য পাটিতে শুয়ে রাধু তাঁকে গল্প বলার জন্য পীড়াপীড়ি করছে। সরযূকে দেখে শ্রীমা বললেন, ‘একটা গল্প বলতো মা’। সরযূ এবার ভারি বিপদে পড়ে গেল, শ্রীমার কাছে সে কী গল্প বলবে ভেবে পেল না। সেদিন সে তার আগে পড়া মীরাবাঈয়ের গল্প বলল। মীরার একটি দোঁহা “বিন্ প্রেমসে নহি মিলে নন্দলালা” শুনে শ্রীমা বললেন, “আহা, আহা, তাই তো প্রেমভক্তি না হলে হয় না”। রাধুর কিন্তু এই গল্প ভালো লাগল না। শেষে সরলাবালা এসে তাকে দুয়ো আর সুয়োরানির গল্প বলতে রাধু খুশি হল।...
আপনার অনুরোধ করা পৃষ্ঠাটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনার অনুসন্ধান পরিমার্জিত করার চেষ্টা করুন অথবা ওয়েবসাইট মেনু থেকে পোস্টটি সনাক্ত করুন।
১৯ বছরের চিরঞ্জীব মণ্ডল চিঠি দিয়েছিল ১৫ বছরের লাবণ্য মুখার্জিকে। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক লাবণ্য এ নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি।
আজ কুড়ি বছর পর দেখা। ঊর্মি কথা বলে যাচ্ছে—পঞ্চাশেই বুড়ো হয়ে গেছিস যে। আমিও টুকটাক উত্তর দিচ্ছি হেসে। জোর করে প্রশ্নটা করেই ফেললাম। কেন চলে গিয়েছিলি সেদিন…
সতীর চোখে চোখ রাখল পদ্মা। সতী তাকাল তার ছোটবোন সাবিত্রীর দিকে, পদ্মা হাত রাখল দু-মেয়ের মাথায়। সতীর হাত কাঁপছে! প্রথমবারের চেষ্টায় দেশলাই জ্বলল না যে, পদ্মা তাকাল। দ্বিতীয়বারের চেষ্টাও ব্যর্থ হল।
কী দেখছে সে? তারপর তার মনে হল, যাই হোক না কেন, বাইরে বেরিয়ে দেখা উচিত। কি হচ্ছে জানতেই হবে তাকে। ঘুরে বেরুতে যাবে, বাধা পেল। পরাণ এসে দাঁড়িয়েছে কখন নিঃশব্দে। ফিসফিস করে বলল সে, “চুপ থাক। কাউকে বলিস না।
নদীর পাড় ধরে গেলে থানাটা কাছে পড়ে। পুরুষোত্তম ওই রাস্তাতেই গেল। পাণ্ডা দুটোকে দড়ি বেঁধে টেনে নিয়ে গেল থানা পর্যন্ত। তখনও অন্ধকার। শুধু পদ্মা আর তার দুই মেয়ে ছাড়া গোটা বার্ণপুর ঘুমোচ্ছে।
ওয়াশরুমের মধ্যে ঢোকার প্রায় সঙ্গে-সঙ্গেই আর একবার গুলির আওয়াজ শুনল সে। ওরা এত গুলি খরচ করছে কার জন্য? তবে কি দল একটা নয়, দুটো? না কি পুলিশ এসেছে? কিন্তু পুলিশ জানবেই বা কেমন করে? একটু থামল সে। পরবর্তী পদক্ষেপ ভেবে ফেলতে হবে এক্ষুনি। সে সন্তর্পণে পিছনের দরজাটা সামান্য খুলে উঁকি মারল। নাহ্, কেউ কোথাও নেই।
হাসপাতাল জুড়ে আবার নিস্তব্ধতা ফিরে এল। একটা থমথমে ভোর। এখনও পাখিরা জাগেনি। ঝিঁঝিঁর আওয়াজ ছাড়া আর কিছু নেই। ভোর হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গেই রাত্রির এই রহস্যময়তা কেটে যাবে। একটা নতুন রিফ্রেশড্ সকাল আসবে। তারই প্রতীক্ষায় নিয়ন বাতিগুলি জ্বলেপুড়ে খাক্ হচ্ছিল যেন!
বিছানায় শুইয়ে দিয়ে এরপর অরণ্য তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এদিক ওদিক কামড় দিতে লাগল। “আঃ, লাগছে, ছাড়!” বলে আর্য ঠেলে সরিয়ে দিতে চাইল তাকে। কিন্তু পারছিল না। এক হাতে আর্যকে ধরে আর এক হাতে নিজের প্যান্টটা নামিয়ে দিল অরণ্য। তার উত্থিত পুরুষাঙ্গ থির-থির করে কাঁপছিল উত্তেজনায়। আর্যর চুলের মুটি ধরে তার উপর আর্যর মুখখানা চেপে ধরল অরণ্য। হিংস্র গলায় বলল, “যা করার কথা কর!”
সুদীপ্ত জানে এর পরের টার্গেটকে হিট করাই কঠিন হবে। কারণ, সেই লোকটি এখন জেনে গিয়েছে, শত্রু তার সামনে নেই, পিছনে আছে এবং তারাও সশস্ত্র শুধু নয়, তা ব্যবহার করতেও পিছপা নয়। এটা জেনে যাওয়া মানে লোকটির মনে বিচিত্র প্রতিক্রিয়া হয়। প্রথমেই সে এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে ভয় দেখাতে চায়। এক্ষেত্রে তার টার্গেট বেছে হিট করার কোনও সুযোগ বা সময় থাকে না বলে সে দিগ্বিদিকজ্ঞানশূন্য হয়ে গুলি চালাতে থাকে। এতে অবশ্য উল্টোদিকের লোকজনের আহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সাইকেলের সঙ্গে আর একজন আছে, সে পল্টু গায়েন। বয়স কম। তবে অভিনয় করে কেপমারিতে সে ওস্তাদ। এলাকার লোক হলেও সে এলাকায় অপারেশন চালায় না। ফলে এমনিতে স্থানীয় ক্ষেত্রে গুড ইমেজ রয়েছে। পুলিশের কাছে অবশ্য তার সম্পর্কে সব তথ্যই আছে। কিন্তু এলাকায় কিছু না করায় তার নামে কোন অভিযোগ নেই এখানে, ফলে তাকে ধরাও সম্ভব হয়নি পুলিশের পক্ষে।
বুবুকে আজকে ব্রেকফাস্টের বদলে ব্রাঞ্চ দিতে হবে। কারণ সকালে বেরিয়ে কখন ফেরার সম্ভব হবে সেটা চক্রবর্তী সাহেব নিজেও জানেন না। উল্টোডাঙার মুচিবাজারের আরিফ রোডে বাবু মানে ধৃতিমানের ভাড়া বাড়ি থেকে একটা অ্যাপক্যাব নিয়ে তাকে পৌঁছতে হবে সুদূর দক্ষিণে রিজেন্ট পার্ক পোস্ট অফিসের পাশে। অমিতাভ চক্রবর্তী একে টেলি নায়িকার স্বামী তার ওপর আবার গলায় ওড়না ঝুলিয়ে মৃত্যু। মিডিয়াতে যেন ডবল ডিমের এগ রোল। ঠাসা মাংসের পুর!
অমিতাভ নীলাঞ্জনার ছবিতে ছবিতে ছয়লাপ করা বিয়ে এবং বৌভাত। হইহই করা হনিমুন লোকে যতটা উপভোগ করেছে। অমিতাভ’র এই মৃত্যুতে তাদের অপ্রকাশিত গ্রে রিলেশনস মানে কাছে কাছে থেকে ক্রমশ দূরে দূরে যাওয়া এখানে ওখানে ছড়িয়ে পড়ল। সাতসকালে সরাসরি গোয়েন্দা কর্তা ভৈরব চক্রবর্তীর ফোন।
অমিতাভ চক্রবর্তীর দ্বিতীয় বিবাহ। প্রথমজন রুনা। রুনা দত্ত। নামী কোম্পানিতে অমিতাভ’র টিমের সর্বকনিষ্ঠ সদস্যা! মার্চ মাসে কনফিডেন্সিয়াল রিপোর্ট তৈরি হয়। মাস ছয়েক রুনা কোনও ক্লায়েন্ট পায়নি। কোম্পানি বসে বসে মাইনে দিয়েছে। আইটি জগতে যাকে বেঞ্চ বলে। সামনে এপ্রিল থেকে ইনক্রিমেন্ট তো পাবেই না, চাকরিটাই বাঁচবে কিনা সেটা জিজ্ঞাসার মুখে। কাজে অতটা পোক্ত না হলেও রুনার উপস্থিত বুদ্ধি চিরকালই প্রখর।
শেক্সপিয়ারের গল্পে ইয়াগো ক্যাসিওর পদোন্নতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে ক্যাসিওকে বিপদে ফেলতে গোপনে ডেসডিমোনার রুমাল চুরি করে ক্যাসিওর বাড়িতে রেখে আসে এবং পরে ওথেলোকে সেই রুমাল দেখিয়ে মিথ্যে অবিশ্বাস জাগাতে জানায় যে ডেসডিমোনা ক্যাসিওর প্রতি অনুরক্ত! ইয়াগো চেয়েছিল ক্যাসিওর সঙ্গে ওথেলোর যুদ্ধ হোক আর সে ডেসডিমোনাকে ভোগ করুক। কিন্তু অবিশ্বাসের আগুনে জ্বলতে থাকা ওথেলো ডেসডিমনাকে খুন করে বসে।
শ্রেয়ার জোরাজুরিতে আবার ঐশী পালকে জেরা করার জন্যে গোয়েন্দা দফতরে হাজির করা হল। একই দিনে শুভ্রাংশু মুখার্জীকে ডাকা হল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। এদের দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়নি সুতরাং উকিল ডেকে তার সামনে কথা বলার কোন ওজর আপত্তি টিকবে না। বলা হল পুলিশ এখনও ধোঁয়াশায় রয়েছে এটা আত্মহত্যা না খুন। তাই আবার ভালো করে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
দিয়া কী চাইবে না! প্রেম? একা একা নিঃশব্দে খানিক হেসে কাগজটা কুচিয়ে ফেলে জলের ফ্ল্যাশ টেনে দিলো। গাড়িটা চলছে। বিতান জিজ্ঞেস করেনি দিয়া কোথায় যাবে! বিতান জানে দিয়া কোথায় থাকে। সেদিন ভোগপ্রসাদ পরিবেশনের দলে বিতান ছিল! দিয়া ব্যাপারটায় সেদিনই নির্ভেজাল বন্ধুত্বের শিলমোহর দিতে চেয়েছিল। তাই সে চেঁচিয়ে বলল…
দোকানের খরিদ্দারেরাও অদ্ভুত। দরদাম করে না। ইশারায় কথা বলে। টাকা দেয় খবরের কাগজ মোড়ে বই নিয়ে চলে যায়। খুব ইচ্ছে ছিল জানার। ওই বইতে কী এমন থাকে যার জন্য ওরকম লুকোচাপা। জানা হয়নি। সেদিনও। আজ এতটা বড় হয়েও। তবে আজ ইন্টারনেট ঘেঁটে বুঝতে পারে কেন নানা বয়সের কিশোর যুব প্রৌঢ় সে বইয়ের আকর্ষণে ঘুরঘুর করতো। এতদিন বাদে দিয়ার কেমন যেন মনে হয় অতনু সেন তার কাছে সেই মলাটজোড়া নিষিদ্ধ বইয়ের মতো। কী আছে মানুষটার মধ্যে?
ঘণ্টা বাজিয়ে সময় শেষ হয়। পরীক্ষার সময়। হাসপাতালে আত্মীয়ের পাশে বসার সময়। পাগলা গারদে। জেলখানায়। আলোয় থাকা মানুষের সাথে অন্ধকারজীবীদের দেখা হওয়ার সময়। কিন্তু জীবন থেমে গেলে? সব ঘণ্টা সব কোলাহল নিঃশব্দ! জীবনরেখার আর কোনও উথাল-পাথাল নেই। সে তখন ধীর স্থির শান্ত। অজস্র বিন্দুতে বয়ে যাওয়া। অবিরাম। অবিরল।
ইনফোসিসে চার বছর, তারপর উইপ্রোতে আরও চার বছর কাটানোর পর এই স্টার্ট আপ চালু করেন রবীন চ্যাটার্জি। ওভারসিস ক্লায়েন্ট সামলানোর অভিজ্ঞতা আছে। টেকনিক্যাল হেড ছিলেন।প্রজেক্ট ম্যানেজারের কাজ করেছেন। নিশ্চিত চাকরি সচ্ছল রোজগার ছেড়ে অনিশ্চিত ভবিষ্যতে লাফ দেওয়ার জন্য সাহস, আত্মবিশ্বাস লাগে। সেটা একটু সহজ হয়েছে তার স্ত্রী মালবিকার জন্য। মালবিকা উইপ্রো’র চাকরি ছাড়েননি।
দিয়া অতনুর টেক সলিউশন কলকাতাতেও চাকরিটা পেতো। মেয়েদের চাকরিতে নেবেন না, এমন এক ভীষ্মের প্রতিজ্ঞার জন্যই সে চাকরিটা পেল না। অতনু সেনের সমস্যাটা ঠিক কোথায় দিয়া সেদিন জানতে পারেনি কিন্তু আমরা জেনেছি। কিন্তু মহাভারতে ভীষ্মের সমস্যাটা কি ছিল?
আজও খেতে বসে হাবিজাবি অনেককিছু ভাবছিলাম। ভাবছিলাম আমার কথা। মায়ের কথা। বাবার কথা। এই বাড়ির কথা। ছোটবেলার কথা। অনেকক্ষণ লক্ষ্য করে করে মা এবার ধমক দিলেন। —আচ্ছা কী খাচ্ছিস, কেন খাচ্ছিস তোর কি কিছুই খেয়াল থাকে না। মানছি লেখালেখি করিস। মাথার মধ্যে নানান রকমের ভাবনা ঘোরে। এত বছর ধরে তোকে দেখছি। কিন্তু খাবার সময়টাতো মন দিয়ে খাবি। এই বয়সে যে তোর জন্য রান্না করেছি কোনটা কেমন হয়েছে তার কোন হুঁশই নেই খেতে হয় খাচ্ছিস চিবোতে হয় চিবোচ্ছিস। —না, না। ভালো হয়েছে। নুন ঝাল তেল মশলা একদম পারফেক্ট। এদিকে কোনও সমস্যা নেই...
কিছু বলার আগেই ফোনটা বেজে উঠলো। আমি জানি কে ফোন করছে? ওপরে তাকিয়ে দেখলাম আমাদের বারান্দার আলোটা জ্বলল কানে ফোন নিয়ে মা কথা বলতে বলতে বেরিয়ে এসেছে।
এই গলি আসলে বাঁক নিয়ে উল্টোদিকে ঘুরেছে। মানে আমি গলিটা দিয়ে যত এগিয়েছি আসলে ততই পিছিয়ে সুইমিং পুলের দিকে গিয়েছি।
সম্পাদক চূড়ান্ত ব্যস্ত। কাঁচা লেখা কার্বাইড দিয়ে পাকানোর সময় আর নেই। তখন আমাদের বাড়িতে ল্যান্ডফোন নেই। বাড়ি গিয়ে দেখলাম সম্পাদক চিরকুট পাঠিয়েছেন।
পুলের জলের তলায় হালকা নীল স্পষ্ট আলো। একেবারে নিচের সাদা টাইলস দেখা যায়। মেয়েটির দিকে তাকালাম। জলের তলায় তার শরীরের কোন অস্তিত্ব নেই।
বসুন্ধরা পরিবারের কালপুরুষ অরিয়ন। সমস্ত বিপদে-আপদে সর্বক্ষণ সঠিক মন্ত্রণা দিয়েছেন এ পরিবারের প্রধান পুরুষকে।
রূপসাগর একটা অলীক আবেগে-ঢাকা জায়গা সেখানে দেখামনের মানুষ কাঁচা সোনার মতোই নিখাদ বা সম্পূর্ণ খাঁটি। সেই সোনা তখনও অলংকার হয়ে ওঠেনি, তাই তাতে খাদ মেশানো হয়নি। কাঁচা টলটলে সেই সোনার শরীরে শুধুই ভালোলাগার ভালোবাসার সুখ মেশানো।
শ্যানন বলেছিল কীরা কাকীমার মা মানে শ্যাননের দিদিমা ফিওনা রায়ান আয়ারল্যান্ডের বিখ্যাত হিউগ লেন গ্যালারির আর্ট কিউরেটর ছিলেন। কীরা ছোটবেলায় ভালো ছবি আঁকতেন। কিন্তু নিজে আর্ট কিউরেটর হয়েও ফিওনা মেয়েকে শিল্পীর অনিশ্চিত জীবন দিতে চাননি।
ন’কাকীমা সুজাতার মধ্যে আজ এতবছর পরেও কীরা কাকিমা এবং তার মেয়েদের প্রতি ঈর্ষা এতটুকু কমেনি। কিন্তু কীরা কাকিমা তো কোনওভাবে ফুলকাকাকে সুজাতার থেকে কেড়ে নেননি। ফুলকাকা উচ্চশিক্ষার তাগিদে সেই মুহূর্তে বিয়েটা করতে চাননি।
এরকম জিনিস সচরাচর মেলে না, বুবু মানে পিসিমণির ছোটছেলে গৌরব সিটি ব্যাঙ্কের কোন কাজে অস্ট্রেলিয়া থেকে নিউ ইর্য়ক গিয়েছিল সেখানে কোনও এক জায়গায় এটা দেখে কিনে তার ন’মামা পেন্টিংটা আর্টিস্ট তরুণকান্তির জন্য পাঠিয়েছে।
আপনার অনুরোধ করা পৃষ্ঠাটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনার অনুসন্ধান পরিমার্জিত করার চেষ্টা করুন অথবা ওয়েবসাইট মেনু থেকে পোস্টটি সনাক্ত করুন।