শয্যায় শায়িত রাজার দেহ আজ যেন নির্বাপিত অগ্নিশিখা, শুকিয়ে যাওয়া গভীর, শূন্য সমুদ্রখাত। অস্তাচলগামী সূর্যের মতোই নিভে গিয়েছে তাঁর শৌর্য, বীর্য, অমিত বিক্রম। কৌশল্যা রাজার চরণে আছড়ে পড়ে কাঁদতে লাগলেন।
শয্যায় শায়িত রাজার দেহ আজ যেন নির্বাপিত অগ্নিশিখা, শুকিয়ে যাওয়া গভীর, শূন্য সমুদ্রখাত। অস্তাচলগামী সূর্যের মতোই নিভে গিয়েছে তাঁর শৌর্য, বীর্য, অমিত বিক্রম। কৌশল্যা রাজার চরণে আছড়ে পড়ে কাঁদতে লাগলেন।
নির্বাসনের ষষ্ঠ দিন। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেল রাজা দশরথের। রাতের আকাশে বিদ্যুতের ঝলকের মতো জেগে উঠল বহুদিন আগের এক শোকচিত্র।
নিষ্প্রভ রথ অযোধ্যার প্রবেশদুয়ার পার করে ঢুকছে দেখেই ছুটে গেল তার দিকে জনস্রোত। প্রজারা জানতে চায়, রামের খবর— কোথায় আছেন তিনি, কেমন আছেন তাঁরা সকলে।
অযোধ্যার রাজপুত্র, রাজবধূ আজ বিলাসী কোমল সুখশয্যায় নয়, নিদ্রা যাবেন কঠিন ভূমিতলে, পাতার বিছানায়। পান করবেন শুধু জল। লক্ষ্মণ আর সুমন্ত্র তৈরি করে দিলেন পর্ণশয্যা।
সীতা কৌশল্যাকে প্রণাম করে বললেন, “মা, স্ত্রীর ধর্ম, কর্তব্য আমি জানি। আপনি আমাকে সাধারণ নারীর মতো মনে করবেন না। আপনি আপনার পুত্রের মঙ্গল বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকুন
পাণ্ডবদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বীর অর্জুনের পৃথিবীজয়ের বৃত্তান্তটি বিচিত্র ও আকর্রষণীয়। অর্জুন প্রথমে কুলিন্দদেশের রাজাদের বশীভূত করে, আনর্ত্ত, কালকূট, অন্য এক কুলিন্দদেশ জয় করলেন। তার পরে পদানত সুমণ্ডলদেশের রাজাকে সঙ্গে নিয়ে শাকলদ্বীপ এবং প্রতিবিন্ধ্যরাজাকে পরাজিত করলেন। সপ্তদ্বীপের মধ্যে বিখ্যাত শাকলদ্বীপবাসী রাজারা। সসৈন্য সেই রাজাদের সঙ্গে অর্জুনের ভয়ঙ্কর যুদ্ধ হল। মহাধনুর্দ্ধর সেই রাজাদের জয় করে, তাঁদের সঙ্গে সম্মিলিত হয়ে প্রাগ্ জ্যোতিষপুরের উদ্দেশে যাত্রা করলেন।
খর ও রামের যুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে যুদ্ধের আবহ নানা প্রশ্নের উদ্রেক করে। এমনই বোধ হয় মহাকাব্যিক বিস্তার, যার অমীমাংসিত আলোচনার রেশ যুগ যুগান্তরে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতেই থাকে, আবহমান, নিরন্তর।
মহাভারতের বিচিত্র অনুষঙ্গ ছাড়াও, কৃষ্ণ ও তাঁর প্রলম্বিত ছায়াশ্রিত পাণ্ডবদের বিভিন্ন কীর্ত্তিকাহিনী সংযোজিত হওয়ায় হয়তো ভারতকথার এই গৌরবময় পরিণতি সম্ভব হয়েছে। মহাভারতের ভরতবংশীয়দের যশ ও অপযশ ছাপিয়ে, প্রোজ্জ্বল হয়ে ওঠেন যিনি, তিনি ভরতের উত্তরসূরীদের কাছে আজও প্রিয় জনার্দন, কৃষ্ণ।
আমরা দুর্বলচিত্ত মানুষেরা হয়তো মনে করি, একদা নিয়তির অমোঘ নির্দেশে এই দুর্ভাগ্যজনক চরম পরিণতি তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট হয়েছে। যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি জেনেও নিছক কৌতূহলী দর্শকের ভূমিকায় থেকে যান, দেবতা, ঋষি, সিদ্ধপুরুষদের মতো প্রভাবশালীদের অনেকেই। এক অর্বাচীন কথকঠাকুরাণীর মস্তিষ্কপ্রসূত এই ব্যখ্যা। সুধী পাঠকবর্গ, কোনও ধর্মীয় ভাবাবেগের মূলে কুঠারাঘাত বলে মনে করবেন না। বর্তমান দুনিয়ার যুগচিত্রের সঙ্গে এর সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায় কী?
অতীতে মল্লযুদ্ধের অনৈতিক বিষয় হল, ক্লান্ত প্রতিপক্ষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাঁকে নৃশংসভাবে হত্যা। যে কোনও যুদ্ধে নৈতিকতার বিধিবদ্ধ মানদণ্ড অতিক্রম করে যান যুদ্ধরত দুই পক্ষই। ভুলে যান মানবিকতা, মমত্ববোধ প্রভৃতি কোমলবৃত্তি। প্রকট হয়ে ওঠে হত্যা, মৃত্যু, জিঘাংসা এবং প্রতিশোধস্পৃহা। জয় হয়, আত্মঘাতী নৈতিক অবক্ষয়ের।এই চিত্রের পরিবর্তন হয়নি।
একদিন—মাঘ মাসের কনকনে শীতের ভোরে, যখন হালকা বাতাস বইছে আর ঝিরঝির করে বৃষ্টিও পড়ছে—মিত্রশর্মা গৃহকার্যের পর গ্রামান্তরে যাত্রা করলেন। উদ্দেশ্য, আসন্ন যজ্ঞের জন্য যজমানের কাছ থেকে পশুদানের আবেদন করা। গ্রামান্তরে এক যজমানের বাড়িতে গিয়ে মিত্রশর্মা বললেন, “ওহে যজমান! আগামী অমাবস্যায় একটি যজ্ঞ করব স্থির করেছি। তাই আমাকে একটি পশুদিন—তত্ দেহি মে পশুম্ একম্।”
একটানা ধর্মকথা শুনিয়ে, তীক্ষ্ণ দাঁতের সেই সাধুবেশী বিড়ালটি শেষমেশ বলেই ফেলল,“ভয় পেয়ো না, আমি তোমাদের খেতে আসিনি, তন্ন অহং ভক্ষযিষ্যামি। বরং আমি তোমাদের এই বিবাদের বিচার করব, জয়-পরাজয় নির্ধারণ করব। তবে একটা কথা আছে, এখন আমি বয়সে একটু বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছি। আগের মতো কান ভালো কাজ করে না। তোমাদের কথাবার্তা ঠিকঠাক বুঝতে পারি না যদি দূরে থাকো। তাই একটু কাছে এসো, আমি ভালো করে শুনি তোমাদের দ্বন্দ্বটা কী নিয়ে। বোঝার পর নিরপেক্ষভাবে বিচার করব যাতে কোনও অন্যায় না হয়। আমি তো এখন তপস্বী, ভুল বিচার করলে পরলোকে আমার বিপদ হবে!”
কপিঞ্জল তখন একটু চিন্তা করে সেই খরগোশ শীঘ্রগকে বলল, বেশ! তবে তাই হোক! যদি স্মৃতিকেই তুমি প্রমাণ বলে স্বীকার করো তবে এখনই চলো কোনও এক স্মৃতিপাঠকের কাছে। ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষের জ্ঞান যার আয়ত্তে। তার রায়ই হবে চূড়ান্ত। তিনি যাঁর সপক্ষে রায় দেবেন—এই গাছের কোটরটি তারই হবে।
“এইটা তো আমার বাসা! এখানে তুই এলি কী করে? তৎ শীঘ্রং নিষ্ক্রম্যতাম্ — এখনই ওখান থেকে বেরিয়ে আয়।” — ধমকে উঠল কপিঞ্জল। তার স্বর কাঁপছিল রাগে, আর গলায় ফুটে উঠছিল মালিকানা হারানোর যন্ত্রণা।
খরগোশটি বক্তব্য হল, এতো সহজে হার মেনে এই পিতৃপিতামহের ভূমি ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার কোনও মানেই হয় না। সেই হাতির দলকে এমন কিছুর ভয় দেখাতে হবে যাতে তারা আর এই জায়গায় ফিরে না আসে। রাজনীতি শাস্ত্রে বলা হয়েছে, নির্বিষ সাপেরও ফণা তুলে ভয় দেখানো উচিত। কারণ বিষ আছে কি নেই—সেই চিন্তা লোকে করে না। সকলেই সাপের ফণাকেই ভয় পায়। অর্থাৎ আমাদের ক্ষমতা কতটা সেটা ভেবে লাভ নেই। কীভাবে আমরা তাদেরকে ভয় দেখাতে পারবো সেই উপায় ভাবতে হবে।
ইল্বল অতি যত্নে মধ্যাহ্নভোজনের আয়োজন করে সকলকে আহ্বান করল। নিজের হাতে সকলকে পরিবেশন করলে সে। ইল্বলের লক্ষ্য ছিলেন অগস্ত্যমুনি। কারণ, তিনিই ছিলেন একমাত্র ব্রাহ্মণ।
লোপামুদ্রা যখন বিবাহযোগ্যা হলেন, বিদর্ভরাজ তাঁকে উপযুক্ত পাত্রস্থ করবার জন্য মন্ত্রীদের সঙ্গে পরামর্শ করছিলেন, তখন অগস্ত্যমুনি তাঁর অন্তর্দৃষ্টিতে এই সমস্ত কিছুই জানতে পারলেন।
বৃহদশ্বমুনি নলরাজার গল্প শুনিয়ে যুধিষ্ঠিরকে এই বলে আশ্বস্ত করলেন, ‘হে রাজন্ আমি তোমায় অক্ষবিদ্যা শিখিয়ে দেব। তাহলে তোমায় আর সবসময় পাশাখেলার ভয়ে দিন কাটাতে হবে না।’ মুনি কথা রাখলেন।
ঋতুপর্ণরাজাও সব ঘটনা শুনে অত্যন্ত খুশি হলেন। বাহুকের গুণমুগ্ধ ছিলেন তিনি। তিনি জানতেন, বাহুক নিতান্ত সাধারণ কোন মানুষ নন। আজ সে সন্দেহ দূর হল। তিনি ফিরে গেলেন নিজ রাজ্যে।
দময়ন্তী বাহুক বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নিজের পুত্রকন্যাকে বাহুকরূপী নলের কাছে পাঠালেন। নলরাজা পুত্রকন্যাকে পেয়ে তাদের কোলে নিয়ে কেঁদে ভাসালেন। কিন্তু তবুও নিজের পরিচয় প্রকাশ করলেন না।
রানী তখন নিজের কর্মে অবিচল। সেদিন দুপুরের দায়িত্ব পেয়ে নিষ্ঠার সঙ্গেই পালন করছিলেন। তেমন কী আর কাজ! রবীন্দ্রনাথ হয়তো শুয়ে শুয়ে বললেন, ‘কলমটা দে, খাতাটা দে।’ আবার কখনো হয়তো শীত-শীত লাগছে, পা দুটো চাদর দিয়ে ঢেকে দিতে বলতেন। তেমন কিছু কাজ নয়, শুধু জেগে থাকা, গুরুদেবের পাশে বসে থাকা। কেউ পাশে থাকলে, দুটো কথা বললেও তো ভালোলাগে গুরুদেবের। অন্তত অসুস্থতার কথা ভুলে থাকতে পারেন। কেউ তাঁর পাশে নিজের কাজকম্ম বন্ধ করে বসে থাকলে, সেবা-শুশ্রূষা করলে, তা নিয়ে বিচলিত হন গুরুদেব। রানীকে একদিন বললেন, ‘আমার জন্য তোদের কত সময় নষ্ট হয়।’
রবীন্দ্রনাথকে নস্যাৎ করার চেষ্টা, ফুৎকারে উড়িয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা তো কম হয়নি। নোবেল তিনি পেয়েছিলেন তিপান্ন বছর বয়েসে। প্রবল সম্ভাবনা নিয়ে সাহিত্যের আসরে অবতীর্ণ হয়ে প্রচলিত লেখার চেনা ছক ভেঙেছিলেন, নতুনতর পথ আবিষ্কার করেছিলেন। সেসময় অনেক প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্বই তো রবীন্দ্রনাথের বিরোধিতা করেছেন। রবীন্দ্রনাথের মতো প্রতিভাবানের বিরোধিতা করে বোধহয় তাঁরা আত্মতৃপ্তি লাভ করতে চেয়েছেন।
জোড়াসাঁকোয় এলে সুদক্ষিণা দেবী বড় স্মৃতিকাতর হয়ে পড়তেন। এক অদ্ভুত ভালোলাগায় মন ভরে যেত। স্বামীর মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গ সুদক্ষিণা পোষ্যপুত্র গ্রহণ করেছিলেন। এক সময় সুদক্ষিণা ভেবেছিলেন জমিদারি ছেড়েছুড়ে কলকাতায় চলে আসবেন। স্মৃতি দিয়ে ঘেরা ঠাকুরবাড়ির সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে শেষজীবন কাটাবেন। সেই ভাবনা সত্যি হয়ে ওঠেনি। সুদক্ষিণার ডাকনাম ছিল ‘পূর্ণিমা’।
স্বর্ণকুমারী দেবী ঔপন্যাসিক হিসেবে সমকালে যথেষ্ট প্রসিদ্ধি পেয়েছিলেন। তাঁর উপন্যাস সমকালেই ইংরেজিতে অনুবাদ হয়েছিল। কথাসাহিত্যচর্চার পাশাপাশি স্বর্ণকুমারী জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়েও বই লিখেছিলেন। তাঁর দৃষ্টির স্বচ্ছতা, ভাবনার আধুনিকতা ও বিজ্ঞানবোধ আমাদের মনে যতই বিস্ময় উদ্রেক করুক না কেন, মহর্ষির এই কন্যাটি কখনও স্কুলে যাননি। তাঁর পড়াশোনা সবই বাড়িতে।
দিগম্বরী দেবীকে আশপাশের মানুষজন বলতেন ‘রত্নগর্ভা’। তাঁর কোনও কন্যা সন্তান ছিল না। সকলেই পুত্র। সব মিলিয়ে পাঁচ পুত্র। জ্যেষ্ঠ পুত্র মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ। একজন অল্প বয়সে মারা গিয়েছিলেন। ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই তথ্য দিলেও খগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের তাঁর ‘রবীন্দ্র কথা’য় জানিয়েছেন, দিগম্বরীর প্রথম সন্তানটি ছিল কন্যা, অকালে অসময়ে শৈশবে মারা গিয়েছিল।
ধর্ম চেতনা এবং সংশয়—চিরকালীন। সাধারণ থেকে সাধক প্রত্যেকেই এই সংশয় প্রকাশ করেছেন। ধর্মলাভ করা সম্ভব? যদি যায়, কোনও পথে? কীভাবে? ধর্মলাভ হলে তার লক্ষণ বা কী?
একবার ঠাকুর যেন কোন দূর দেশ হতে এসে ভাবের ঘোরে মায়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, “দেখো! কলকাতার লোকগুলো যেন অন্ধকারে পোকার মতো কিলবিল করছে। তুমি তাদের দেখো।”
আধ্যাত্মিক জীবন, শুধু খাদ্য-পানীয়ের নিরিখে বিচার যোগ্য নয়। তার থেকেও অধিকতর বড় বিষয় হল মানসিক শুদ্ধতা। সাধকের ক্ষেত্রে, অনেক সময় সাধন অপেক্ষা এ বিচার অধিকতর অর্থবহ হয়ে পড়ে যে কী গ্রহণযোগ্য বা গ্রহণযোগ্য নয়, তা সাধন পথে একপ্রকার বিঘ্ন।
উপনিষদের ব্রহ্মজ্ঞানের পার্বত্য পাদদেশে, যেখানে ভক্তির পরাকাষ্ঠা প্রেম নদী বিধৌত করে একে অপরকে। শ্রীরামকৃষ্ণ বলছেন, “এক চৈতন্য অভেদ, বিষ্ঠা, মুত্র, অন্ন, ব্যঞ্জন সবপ্রকার খাবার জিনিস পড়ে রয়েছে, তাঁর (শ্রীরামকৃষ্ণ) ভিতর থেকে জীবাত্মা বেরিয়ে সবকিছুকে স্পর্শ করে গেল।”
শ্রীরামকৃষ্ণ ভাবাবিষ্ট হয়ে রাখালকে বলছেন, “এখানকার শ্রাবণ মাসের জল নয়। খুব হুড় হুড় করে আসে, আবার বেরিয়ে যায়। এখানে পাতাল ফোঁড়া শিব, বসানো শিব নয়।”
আপনার অনুরোধ করা পৃষ্ঠাটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনার অনুসন্ধান পরিমার্জিত করার চেষ্টা করুন অথবা ওয়েবসাইট মেনু থেকে পোস্টটি সনাক্ত করুন।
আপনার অনুরোধ করা পৃষ্ঠাটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনার অনুসন্ধান পরিমার্জিত করার চেষ্টা করুন অথবা ওয়েবসাইট মেনু থেকে পোস্টটি সনাক্ত করুন।
একদিন সকালে উদ্বোধনে শ্রীমায়ের ঘরে স্বামী অরূপানন্দ তাঁকে বলেছিলেন যে, শ্রীচৈতন্য নারায়ণীকে আশীর্বাদ করেছিলেন, ‘নারায়ণী, তোমার কৃষ্ণে ভক্তি হোক’। তখন তিন-চার বছরের নারায়ণী ‘হা কৃষ্ণ’ বলে মাটিতে গড়াগড়ি দিতে লাগল। তিনি আরও বললেন যে, দেবর্ষি নারদের সিদ্ধিলাভের পর একটা পিঁপড়ে দেখে হঠাৎ কিরকম দয়া হল।
উদ্বোধনে একদিন সকালে পুজোর ঘরে স্বামী অরূপানন্দ মা সারদাকে বললেন, ‘মা, যদি ঈশ্বর বলে কেউ থাকেন তাহলে এই জগতে এতো দুঃখকষ্ট কেন? তিনি কি দেখছেন না? তাঁর কি এসব দূর করবার শক্তি নেই?’ তখন শ্রীমা বললেন, ‘সমস্ত সৃষ্টিই সুখদুঃখময়। দুঃখ না থাকলে সুখ কি বোঝা যায়? আর সকলের সুখ হওয়া কি করে সম্ভব?
সরযূদেবী রাধাষ্টমীর দিন মা সারদার সঙ্গে দেখা করতে এসে দেখেন যে, তিনি স্নানে যাবেন বলে তেল মাখছেন। এই সময়ে প্রণাম করতে নেই বলে তিনিও করেননি। লৌকিক জীবনে জগজ্জননীও লৌকিক মর্যাদা রক্ষা করে চলেন। মা সারদা গঙ্গাস্নান করে আসার পর তিনি তাঁর শ্রীচরণের পুজো করেন ফুলচন্দনাদি দিয়ে। শ্রীমা তাঁর পায়ে তুলসীপাতা দিতে নিষেধ করেন।
শ্রীমা তখন কাশীতে রয়েছেন। স্বামী শান্তানন্দ তাঁকে বললেন যে, তাঁর তো সাধন, ভজনের শক্তি নেই। শ্রীমার চরণাশ্রিত তিনি। তখন শ্রীমা বললেন, ‘তোমার ভয় কি? ঠাকুর তোমার সন্ন্যাস রক্ষা করুন। ঠাকুরের কাজ ঠাকুর করবে আর তোমার সাধনভজন করবে। কাশী তোমাদের স্থান। সাধন মানে তাঁর চরণে মন সর্বদা রেখে তাঁর চিন্তায় ডুবে থাকা। সাধনের সময় নানা প্রলোভনের জিনিস দেখে ঠাকুর জড়সড় হতেন আর সে সব চাইতেন না।
সরযূ সন্ধ্যার সময় শ্রীমাকে দেখতে এসেছে। মা সারদা একটা পাটিতে শুয়ে আছেন আর অন্য পাটিতে শুয়ে রাধু তাঁকে গল্প বলার জন্য পীড়াপীড়ি করছে। সরযূকে দেখে শ্রীমা বললেন, ‘একটা গল্প বলতো মা’। সরযূ এবার ভারি বিপদে পড়ে গেল, শ্রীমার কাছে সে কী গল্প বলবে ভেবে পেল না। সেদিন সে তার আগে পড়া মীরাবাঈয়ের গল্প বলল। মীরার একটি দোঁহা “বিন্ প্রেমসে নহি মিলে নন্দলালা” শুনে শ্রীমা বললেন, “আহা, আহা, তাই তো প্রেমভক্তি না হলে হয় না”। রাধুর কিন্তু এই গল্প ভালো লাগল না। শেষে সরলাবালা এসে তাকে দুয়ো আর সুয়োরানির গল্প বলতে রাধু খুশি হল।...
আপনার অনুরোধ করা পৃষ্ঠাটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনার অনুসন্ধান পরিমার্জিত করার চেষ্টা করুন অথবা ওয়েবসাইট মেনু থেকে পোস্টটি সনাক্ত করুন।
সুবিনয় পায়চারি করছে ছাদে। ছাদের রেলিং ঘেঁষে বেশ কয়েকটি ফুলের টব। তাতে গাঁদা-চন্দ্রমল্লিকা-ডালিয়া ফুটে রয়েছে। ওরা বাপ-বেটি যে যখন সময় পায় পরিচর্যা করে ওদের। প্রিয়া ফুল খুব ভালোবাসে। বড় দুঃখী তার মেয়েটা। জন্মের মাত্র ছ’মাস পরেই মাকে হারাল। সুমিতা না থাকলে কী করে যে প্রিয়াকে মানুষ করত, ভাবতেও ভয় করে সুবিনয়ের।
সিদ্ধার্থের যখন বয়স বারো, তখন একদিন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর সময় অ্যাক্সিডেন্টে ভীষণভাবে আহত হয় বাবা। দিন তিনেক নার্সিংহোমে শুয়ে থাকার পর মারা যায়। একটুও কষ্ট তো সিদ্ধার্থের হয়ইনি, বরং স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল এই ভেবে, যে মাকে আর রোজ রোজ অপমানিত হতে হবে না। কিন্তু সিদ্ধার্থের ভাবনায় একটু ভুল ছিল।
ভারি মিষ্টি মেয়ে প্রিয়া। সিদ্ধার্থের যখন এমএ ফাইনাল ইয়ার, তখন ওর এক বন্ধু প্রিয়াকে পড়াবার কথা বলেছিল ওকে। প্রিয়ার তখন বিএ ফার্স্ট ইয়ার। একদিন বিকেলে ইউনিভার্সিটি থেকে ফিরে সিদ্ধার্থ কবিতাকে বলেছিল, “মা, একটা টিউশনি পেয়েছি। মেয়েটি ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে।
ডাক্তার চৌধুরীর অ্যাপার্টমেন্টের দরকার পড়েনি। ওষুধও আনাতে হয়নি। তবে ঘুমের ওষুধগুলো সব শেষ হয়ে গিয়েছে। লাবণ্য ঘুমের মধ্যেই চিরদিনের মতো চিরঞ্জীবের কাছে ফিরে গিয়েছে।
হঠাৎ একটা শিরশিরে ঠান্ডা হাওয়ায় ঘুমটা ভেঙ্গে গেল। চাদরটা পায়ের কাছ থেকে নিতে গিয়েচমকে উঠল লাবণ্য টেবিলের পাশেচেয়ারে কে বসে? কে?
সকাল থেকেই আজ সাজো-সাজো রব সেকারণেই। ফাদারের জিনিষপত্র বাঁধাছাঁদা কমপ্লিট আগেই। ফাদার যাবেন চার্চের অ্যাম্বুলেন্সে। মেডিক্যাল কিছু জিনিসপত্র কিনে কলকাতা থেকে সেই অ্যাম্বুলেন্স ফিরে আসবে। যাওয়ার আগে জনে-জনে ডেকে ফাদার কাল থেকেই পাখিপড়ার মতো বুঝিয়ে দিচ্ছেন। আজকেও দিচ্ছেন আর ঘন-ঘন মোবাইল দেখছেন। যেন কারুর ফোনের অপেক্ষা করছেন। ফোন এল তখন দশটা বাজে। ফাদার ফোন হাতে অফিসঘরের দিকে চলে গেলেন। তাঁর মুখে আঁধার ঘনাচ্ছিল।
শাক্য পকেট থেকে রিভলভার বার করে আস্তে আস্তে এগিয়ে যেতেই হঠাৎ উল্টোদিক থেকে একটা বুলেট তীব্রগতিতে ছুটে এসে প্রায় কানের কাছ ঘেঁষে টিলাপাথরে লেগে আওয়াজ তুলল। শাক্য আর দেরি করল না। সে-ও পাল্টা গুলি চালাল। লোকটির পিস্তলধরা হাত টার্গেট করেই সে গুলিটা চালাল। ট্রেনিং-এর সময় নিখুঁত লক্ষ্যে গুলি চালানোর ব্যাপারে তার নামডাক ছিল। এবারেও ব্যর্থ হল না। একটা চিৎকার। তারপরেই লোকটির হাত থেকে পিস্তল খসে পড়ল। লোকটি আহত হয়েছে। শাক্য সেদিকে দৌড়ে গেল।
পিনাকীবাবু জিভ কাটলেন, “না না স্যার। কী বলছেন? আমাকে দেখে কি তেমন মনে হয়? যতদিন আমার স্ত্রী জীবিত ছিলেন, ততদিন তালা লাগিয়ে আসার প্রয়োজন পড়ত না। তাঁর লাং-ক্যান্সার হয়েছিল। পাঁচ বছর হল তিনি গত হয়েছেন। আমাদের একটিই সন্তান। মুম্বই আইআইটিতে পড়ে!” বলে তিনি আর কথা না বাড়িয়ে শাক্যর হাত থেকে চাবির গোছা নিয়ে চেষ্টা করতে লাগলেন।
শাক্যর মনে সন্দেহ জাগছিল, এই গুহার মধ্যে নিশ্চয়ই মানুষের যাতায়াত আছে এবং পর্যাপ্ত হাওয়া চলাচলেরও কোন বন্দোবস্ত আছে, সে হতে পারে প্রাকৃতিক, কিংবা মানুষের দ্বারা ব্যবস্থা করা। গুহার সংকীর্ণ ফাঁক দিয়ে ভিতরের দিকে তাকিয়ে তার মনে হল, এই কারণেই ট্যানেলের মধ্যে এত সহজে তারা আসতে পেরেছে। সে কর্নেলকে বলল, “আমি কি মশালটা এবার নিভিয়ে ফেলতে পারি?”
আফজল একটা কাঁচা খিস্তি মারল, তারপর বলল, “অপরাধীদের জন্য যতগুলি হিউম্যান রাইটস্ অরগ্যানাইজেশন সারা বিশ্বে চলে, সাধারণ মানুষের রাইটস্ নিয়ে ততটা কিন্তু চলে না। আপনি কোনও হিউম্যান রাইটস অরগ্যানাইজেশনকে দেখবেন না, যারা এই সমস্ত গ্যাং-এর ভিকটিম হিসেবে মারা গিয়েছে, তাদের হয়ে কথা বলতে। আমাদের সিস্টেম—ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত এত কোরাপটেড—আপনি তো জানেন, আমাদের পুলিশকেই কি লোকে সাধে এমনি-এমনি বদনাম করে?
অমিতাভ চক্রবর্তী দ্বিতীয় স্ত্রী অভিনেত্রী নীলাঞ্জনা চক্রবর্তী হোয়াটসঅ্যাপ- এ ভয়েস মেসেজ করে তাঁর স্বীকারোক্তি জানিয়েছেন। তদন্তকারী অফিসের শ্রেয়া বাসুর কাছে আসা সেই স্বীকারোক্তি শ্রেয়া ধৃতিমানকে ফরওয়ার্ড করেছে। আরিফ রোডের ভাড়াবাড়ির দোতলার ঘরে অন্ধকার মধ্যরাতে কানে হেডফোন দিয়ে ধৃতিমান শুনছে সেই স্বীকারোক্তি।
নগেন ও শান্তার যান্ত্রিক সম্পর্কের মধ্যে পাশের বাড়ির বিমল অনুঘটকের কাজ করেছিল। আবার বিমল জানতেই পারেনি তার বোন প্রমিলা পাশের বাড়ির বিবাহিত নগেনের প্রতি অনুরক্ত। আর সেখান থেকেই প্রেম অতৃপ্তি নিয়ে মানবজীবনের জটিলতার আঁকিবুঁকি রচনা করেছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার চালু হল নীলাঞ্জনা স্বীকারোক্তি—আর পরবর্তী অংশ শুনে যেন চমকে উঠল ধৃতিমান!
—রুনা বেপরোয়া ধরণের মেয়ে। রুনার রাজনৈতিক যোগাযোগ ছিল। এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর চারিত্রিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সে অমিতাভদের পাঁচতারা কোম্পানির চাকরিতে ঢুকে পড়েছিল। কিছুদিন পরেই কাজের চাপে বেসামাল দিশেহারা অবস্থা রুনার। আইটি কোম্পানিতে এই ধরনের কর্মীদের চাকরি সর্বপ্রথম যায়। বড়কর্তা অমিতাভ নিয়ম মতো রুনাকে কাউন্সেলিং-এ ডেকেছিলেন। রুনা জানত অমিতাভ’র রমণীবিলাসের প্রতি আকাঙ্ক্ষার কথা।
প্রকাশ্য দিবালোকে বড়রাস্তায় দুদলের রাজনৈতিক রেষারেষির মধ্যে দুষ্কৃতীর গুলিতে প্রাণ হারালেন এস আই তাপস বসু। হয়তো তিনি নন দুস্কৃতীদের মূললক্ষ্য ছিলো প্রতিদ্বন্দ্বী দলের কোন বড়ো নেতা, সেই নেতার চরম সৌভাগ্য। গুলি এসে শ্রেয়ার বাবার বুকে লাগে। সেই থেকে শ্রেয়া নিজেকে কঠিন থেকে কঠিনতর কোরে তুলেছে।
আমার আর অমিতাভের মধ্যে একই সমস্যা হয়েছিল। চোখে দেখে, খানিক কথা বলে বা আলতো হাত চেপে ধরাতে যাকে ভালো লেগেছিল আর বিয়ে নামক ছাড়পত্রের পর বন্ধদরজার ভিতরে আলোয় বা অন্ধকারে আমি যাকে খুঁজে পেলাম, তিনি আমার অচেনা। একজন অস্বাভাবিক অমানুষ।
বিনি কি দিয়াকে দেখতে চেয়েছিল? তার মানে বিতানকে বিনির কাছে দিয়ার কথা বলতে হয়েছে। বিতান সব বলেছে ? না সব মানে, দিয়া ও বিতানের মধ্যে যে প্রেম ছিল এমনটা তো নয়! বিতানের দিক থেকে যে দূর্বলতা ছিল, সেটা দিয়ার ছিল না! সত্যিই কি ছিল না? নিজেক জিজ্ঞেস করেছে? একা বন্ধ ঘরে। বন্ধ চানের ঘরে। কিংবা চোখ বুজে আশপাশ ভুলে গিয়ে! বিছানায় শুয়ে। বয়ে যাওয়া কোনও নদীর সামনে। একা একা। নিজের মুখোমুখি। যখন মানুষ মিথ্যে বলতে পারে না!
সামাজিক বৈবাহিকতায় দ্বন্দ্ব আছে দূরত্ব আছে রাগ অভিমানের ভাঙ্গাগড়া আছে, কিন্তু সন্তানের সামাজিক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কোথায় যেন জীবনের শেষপর্যন্ত একটা দায়িত্ববোধের বন্ধন আছে। একসময় যারা বিবাহ সম্পর্কের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে একা থাকতে চেয়েছেন তেমন অনেককেই শেষ জীবনে গিয়ে আক্ষেপ করতে দেখেছে দিয়া। পশুদের মতো মানুষও যূথবদ্ধ জীব। একা বাঁচতে পারে না। তাই মানুষ বন্ধু খোঁজে। সঙ্গী খোঁজে।
ফেরার সময়টা ইচ্ছে করেই একটু বদলে নিয়েছিল দিয়া। তার মূলত দুটো কারণ ছিল। রবীন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিতানের ব্যবসা নিয়ে কী কথা হয়েছে সে জানে না। জানতে চায়ও না। আর দ্বিতীয়টা ব্যক্তিগত। দু’জনে একসঙ্গে পড়ত। বিতান এখন বিবাহিত! সন্তানের বাবা! দিয়া অবিবাহিতা! সে আর তার মা! আর কেউ নেই! দিয়া কোনওভাবেই নতুন করে কোনও সমস্যায় যেতে চায় না। দু’জনেই দু’ভাবে দায়বদ্ধ! বিতানের বিবাহবন্ধন। দিয়ার অবিবাহিতের গণ্ডী!
হেডমিস্ট্রেস দু’জনকেই টিফিনের সময় অফিসরুমের বাইরে কান ধরে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন। তাই দেখে মিথ্যেবাদী সেই মেয়েটির মনে যেন অদ্ভুত একটা শান্তি হয়েছিল। সে আড়চোখে দিয়াকে দেখতে দেখতে ফিক ফিক করে হাসছিল। এই সমস্ত নির্লজ্জ বেহায়াদের এরকমই স্বভাব। নিজের মানঅপমান জ্ঞান নেই। কিন্তু অপরের বিপদে-অপমানে এরা চরম শান্তি উপভোগ করে।
সব অফিসেই যেমন দুষ্টু লোকের গুপ্তচর থাকে বিশুপালের গ্যাস এজেন্সিতেও বিশুপালের জামাইয়ের তেমনি এক পেটোয়া শাকরেদ ছুটে গিয়ে খবর দিয়ে দেয় খোদ মালিক এসে উপস্থিত হয়েছেন, সঙ্গে ফিরে এসেছেন ওই মেয়েটি আর তার মা। ব্যাস! ধুরন্ধর জামাই তড়াক করে বিশুবাবুর চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে উঠেই, চোখ বুজে ভেবে নেয় তাকে ঠিক কী কী মিথ্যা কথা বলতে হবে।
আজও খেতে বসে হাবিজাবি অনেককিছু ভাবছিলাম। ভাবছিলাম আমার কথা। মায়ের কথা। বাবার কথা। এই বাড়ির কথা। ছোটবেলার কথা। অনেকক্ষণ লক্ষ্য করে করে মা এবার ধমক দিলেন। —আচ্ছা কী খাচ্ছিস, কেন খাচ্ছিস তোর কি কিছুই খেয়াল থাকে না। মানছি লেখালেখি করিস। মাথার মধ্যে নানান রকমের ভাবনা ঘোরে। এত বছর ধরে তোকে দেখছি। কিন্তু খাবার সময়টাতো মন দিয়ে খাবি। এই বয়সে যে তোর জন্য রান্না করেছি কোনটা কেমন হয়েছে তার কোন হুঁশই নেই খেতে হয় খাচ্ছিস চিবোতে হয় চিবোচ্ছিস। —না, না। ভালো হয়েছে। নুন ঝাল তেল মশলা একদম পারফেক্ট। এদিকে কোনও সমস্যা নেই...
কিছু বলার আগেই ফোনটা বেজে উঠলো। আমি জানি কে ফোন করছে? ওপরে তাকিয়ে দেখলাম আমাদের বারান্দার আলোটা জ্বলল কানে ফোন নিয়ে মা কথা বলতে বলতে বেরিয়ে এসেছে।
এই গলি আসলে বাঁক নিয়ে উল্টোদিকে ঘুরেছে। মানে আমি গলিটা দিয়ে যত এগিয়েছি আসলে ততই পিছিয়ে সুইমিং পুলের দিকে গিয়েছি।
সম্পাদক চূড়ান্ত ব্যস্ত। কাঁচা লেখা কার্বাইড দিয়ে পাকানোর সময় আর নেই। তখন আমাদের বাড়িতে ল্যান্ডফোন নেই। বাড়ি গিয়ে দেখলাম সম্পাদক চিরকুট পাঠিয়েছেন।
পুলের জলের তলায় হালকা নীল স্পষ্ট আলো। একেবারে নিচের সাদা টাইলস দেখা যায়। মেয়েটির দিকে তাকালাম। জলের তলায় তার শরীরের কোন অস্তিত্ব নেই।
বসুন্ধরা পরিবারের কালপুরুষ অরিয়ন। সমস্ত বিপদে-আপদে সর্বক্ষণ সঠিক মন্ত্রণা দিয়েছেন এ পরিবারের প্রধান পুরুষকে।
রূপসাগর একটা অলীক আবেগে-ঢাকা জায়গা সেখানে দেখামনের মানুষ কাঁচা সোনার মতোই নিখাদ বা সম্পূর্ণ খাঁটি। সেই সোনা তখনও অলংকার হয়ে ওঠেনি, তাই তাতে খাদ মেশানো হয়নি। কাঁচা টলটলে সেই সোনার শরীরে শুধুই ভালোলাগার ভালোবাসার সুখ মেশানো।
শ্যানন বলেছিল কীরা কাকীমার মা মানে শ্যাননের দিদিমা ফিওনা রায়ান আয়ারল্যান্ডের বিখ্যাত হিউগ লেন গ্যালারির আর্ট কিউরেটর ছিলেন। কীরা ছোটবেলায় ভালো ছবি আঁকতেন। কিন্তু নিজে আর্ট কিউরেটর হয়েও ফিওনা মেয়েকে শিল্পীর অনিশ্চিত জীবন দিতে চাননি।
ন’কাকীমা সুজাতার মধ্যে আজ এতবছর পরেও কীরা কাকিমা এবং তার মেয়েদের প্রতি ঈর্ষা এতটুকু কমেনি। কিন্তু কীরা কাকিমা তো কোনওভাবে ফুলকাকাকে সুজাতার থেকে কেড়ে নেননি। ফুলকাকা উচ্চশিক্ষার তাগিদে সেই মুহূর্তে বিয়েটা করতে চাননি।
এরকম জিনিস সচরাচর মেলে না, বুবু মানে পিসিমণির ছোটছেলে গৌরব সিটি ব্যাঙ্কের কোন কাজে অস্ট্রেলিয়া থেকে নিউ ইর্য়ক গিয়েছিল সেখানে কোনও এক জায়গায় এটা দেখে কিনে তার ন’মামা পেন্টিংটা আর্টিস্ট তরুণকান্তির জন্য পাঠিয়েছে।
আপনার অনুরোধ করা পৃষ্ঠাটি খুঁজে পাওয়া যাবে না। আপনার অনুসন্ধান পরিমার্জিত করার চেষ্টা করুন অথবা ওয়েবসাইট মেনু থেকে পোস্টটি সনাক্ত করুন।