
দ্বারকানাথ ঠাকুর।
ঠাকুরবাড়িতে সুন্দরীর অভাব ছিল না। বাহ্যিক সৌন্দর্য তো ছিলই, ভিতরের সৌন্দর্যে, প্রগাঢ় ব্যক্তিত্বেও কেউ কেউ এগিয়ে ছিলেন। একথা কন্যা ও বধূ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। কন্যারা কেউ কেউ সমাজের বিশিষ্টজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। বিশিষ্টজনেরা রাখঢাক না রেখেই সেই মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। যথেষ্ট কৌতুক উদ্রেককারী একটি ঘটনার উল্লেখ করা যেতে পারে। রবীন্দ্রনাথের ভ্রাতুষ্পুত্রী ইন্দিরার রূপখ্যাতি কতদূর ছড়িয়েছিল, তা বোঝার জন্য এই ঘটনাটিই যথেষ্ট। প্রমথ চৌধুরীর সঙ্গে ইন্দিরার বিবাহ হয়। প্রমথর অগ্রজ আশুতোষও ছিলেন ঠাকুরবাড়ির জামাতা। মূলত রবীন্দ্রনাথের আগ্রহে ও যোগাযোগে ভ্রাতুষ্পুত্রী প্রতিভার সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়েছিল। কিশোরী ইন্দিরাকে দেখার জন্য ব্যাকুল হয়ে প্রবল রোদে প্রমথ চৌধুরী অপেক্ষা করেছিলেন। ইন্দিরাকে ঘিরে অনেকেরই মুগ্ধতা ছিল। অকপটে তিনি তা স্বীকারও করেছেন। ‘স্মৃতিসম্পুট’-এ লিখেছেন, ‘ঐতিহাসিক সত্যরক্ষার্থে স্বীকার করতেই হবে যে, আমার পাণিগ্রহণের আগে পাণিপ্রার্থীর অভাব ছিল না।’
ঠাকুরবাড়িতে সুন্দরীদের মধ্যে সেরার সেরা ছিলেন দিগম্বরী দেবী। প্রিন্স দ্বারকানাথের পত্নী তিনি। ঠাকুরবাড়িতে যাঁরা বধূ হয়ে এসেছেন, তাঁরা অনেকেই যশোর-কন্যা। যশোরের মেয়ে হলে অভিভাবকরা বোধহয় স্বস্তি বোধ করতেন। যশোর-কন্যার প্রতি বাড়তি আনুগত্য দিগম্বরকে দিয়েই শুরু হয়েছিল। যশোরের নরেন্দ্রপুর গ্রামের পিরালি ব্রাহ্মণ রামতনু রায়চৌধুরীর কন্যাটি যে অপরূপা সুন্দরী ছিলেন, বাংলা ও ইংরেজি মিলিয়ে দ্বারকানাথের যে খান কয়েক জীবনীগ্রন্থ রচিত হয়েছে, সবকটিতেই আছে, তিনি ছিলেন ‘সাক্ষাৎ জগদ্ধাত্রী’। রবীন্দ্রনাথের সেজদা হেমেন্দ্রনাথের পুত্র ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর দ্বারকানাথের জীবনী রচনা করেছিলেন। রবীন্দ্র-পরিবারের জামাতা কৃষ্ণ কৃপালনী ইংরেজিতে দ্বারকানাথের জীবনী লিখেছিলেন। এই জীবনীটি বাংলায় অনুবাদ করেছেন আশ্রমিক ক্ষিতীশ রায়। এই দুটি জীবনী থেকে মূলত তথ্য সংগ্রহ করে দ্বারকানাথের একাধিক জীবনী লেখা হয়েছে। পরিবারভুক্ত দু-জনের দেওয়া তথ্যের প্রামাণ্যতা নিয়ে বোধহয় প্রশ্ন থাকে না।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৩: মেথরকে ডেকে এনে বসাতেন নিজের বিছানায়

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৫: অধিকার নয়, অবস্থানই বলে দেয় জায়গা কার– মালিকের? না দখলদারের?

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬২: আলাস্কা ঘুরে দেখার জন্য গাড়ি ভাড়া পাওয়া দুষ্কর
দিগম্বরী দেবীর শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যই ছিল না, তিনি ছিলেন সৌভাগ্যবতী। কৃষ্ণ কৃপালনী তাঁর বইতে জানিয়েছেন, ‘দিগম্বরী ছিলেন পরমাসুন্দরী, যেমন তাঁর মুখশ্রী তেমনি অঙ্গ সৌষ্ঠব। সাক্ষাৎ লক্ষ্মীর মতো তিনি যেখানেই যেতেন, সৌভাগ্য সঙ্গে নিয়ে যেতেন। দ্বারকানাথের গৃহলক্ষ্মী রূপে যেদিন তিনি জোড়াসাঁকোর বাড়িতে পদার্পণ করেন, সেদিন থেকে ঠাকুরপরিবারে সৌভাগ্য উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে।’

ঠাকুরবাড়ির এই দালানে হত জগদ্ধাত্রীপুজো।
ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুরও প্রায় একই কথা বলেছেন। দ্বারকানাথের যে জীবনচরিত রচনা করেছিলেন, সে বইতে আছে, ‘দিগম্বরী দেবীকে লোকে লক্ষ্মীর অবতার বলিত। তাঁহার হাতের আঙুল চাঁপার কলির মত ছিল। তাঁহার কেশদাম কোঁকড়া ছিল। প্রতিমার পদযুগল যেরূপ সচরাচর গঠিত হয়, তাঁহার পদযুগল সেইরূপ ছিল। তিনি নাতিহ্রস্ব ও নাতিদীর্ঘ এবং শরীরে দোহারা ছিলেন। আমাদের গোষ্ঠীতে প্রবাদ আছে যে, আমাদের বাটীতে যে জগদ্ধাত্রী মূর্তি গঠিত হইত, তাহার মুখ নাকি দিগম্বরী দেবীরই মুখের আদর্শে গঠিত হইত। সেকালের বৃদ্ধ বা বৃদ্ধা যাঁহাকে তাঁহার রূপের কথা জিজ্ঞাসা করিয়াছি, তাঁহাদের সকলেই একবাক্যে বলিয়াছেন যে, তাঁহার রূপের কি বর্ণনা করিব, সাক্ষাৎ জগদ্ধাত্রী ছিলেন।’
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৩: তত্ত্বতালাশ

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৬: জয় বাবা ফেলুনাথ: রুকুর অন্দরমহল
ঠাকুরবাড়ির ঠাকুরদালানে একসময় জগদ্ধাত্রী পুজো হত। জগদ্ধাত্রী প্রতিমার মুখটি দিগম্বরী দেবীর মুখের আদলে নির্মাণ করত প্রতিমাশিল্পী। ক্ষিতীন্দ্রনাথ দিগম্বরী দেবীর রূপ-সৌন্দর্যের আরও বর্ণনা দিয়েছেন। তাঁর বর্ণনা শুনে আমরা নিশ্চিত হতে পারি। বংশপরম্পরায় সেই বিস্ময়কর সৌন্দর্যের কথা কণ্ঠে কণ্ঠে সঞ্চারিত হয়েছে। দ্বারকানাথের চতুর্থ পুরুষ ক্ষিতীন্দ্রনাথ। তাঁর লেখা থেকে জানা যায়, দিগম্বরী দেবীর গায়ের রং উজ্জ্বল গৌরবর্ণ ছিল। দেখে মনে হত, দুধের সঙ্গে বুঝি আলতা মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি এমনই প্রগাঢ় গৌরবর্ণ ছিলেন যে তার শরীরের ভিতরে যে রক্ত প্রবাহিত হত, তা শরীরের চামড়া ভেদ করে দেখা যেত।

ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
দিগম্বরী দেবী অত্যন্ত ধর্মপ্রাণা মহিলা ছিলেন। প্রতিদিন সূর্য ওঠার আগেই তিনি উঠে পড়তেন। চারটে নাগাদ ঘুম থেকে উঠে স্নানান্তে হরিনাম জপতেন। হরিনামের পর আহার করতেন। খেতেন দুধ ও ফল। রান্না করার জন্য ঠাকুর ছিল। প্রতিদিনই রান্নার জোগাড় করে তিনি বই নিয়ে বসতেন। রোজের রান্না অবশ্য ঠাকুরই করত। দিগম্বরী দেবী রাতেও হরিনাম করে আহার গ্রহণ করতেন। বিস্ময়কর হলেও সত্য, দিগম্বরী একাদশীর উপবাস করতেন। সেকালে অনেকেই ভাবত, সধবা একাদশীর উপবাস করলে স্বামীর মঙ্গল নয়, অমঙ্গল হয়। শাশুড়িঠাকুরনও তাঁর এই উপবাস নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেছেন। সেই মন্তব্যে দিগম্বরী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েননি, বরং জোরের সঙ্গে বলেছেন, তাঁর উপবাসে স্বামীর কোনও অমঙ্গল হতে পারে না, হবেও না।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২২: রামের পাদুকাগ্রহণের মাহাত্ম্য, ভরত কী রামের ছায়াশ্রিত প্রশাসক?

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৮: লক্ষ্মী প্যাঁচা
ঠাকুরবাড়ির বাইরের কেউ এমনতরো বর্ণনা দিলে আমরা বানানো, অতিরঞ্জিত ভাবতেই পারতাম। ঠাকুরবাড়ি নিয়ে অতিরঞ্জিত কথাবার্তার তো অভাব নেই। দিগম্বরী সম্পর্কে, তাঁর রূপসৌন্দর্য সম্পর্কে যে তথ্য ঠাকুরবাড়ির পরবর্তীকালের সদস্যরা দিয়েছেন, অনুমান করি তা শ্রুতিনির্ভর। পরিবারজীবনে প্রচলিত তথ্য তাঁরা তাঁদের রচনায় ব্যবহার করেছেন।

কৃষ্ণ কৃপালনী।
দিগম্বরী দেবীকে আশপাশের মানুষজন বলতেন ‘রত্নগর্ভা’। তাঁর কোনো কন্যা সন্তান ছিল না। সকলেই পুত্র। সব মিলিয়ে পাঁচ পুত্র। জ্যেষ্ঠ পুত্র মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ। একজন অল্প বয়সে মারা গিয়েছিলেন। ক্ষিতীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই তথ্য দিলেও খগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের তাঁর ‘রবীন্দ্র কথা’য় জানিয়েছেন, দিগম্বরীর প্রথম সন্তানটি ছিল কন্যা, অকালে অসময়ে শৈশবে মারা গিয়েছিল।।
আরও পড়ুন:

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৬: দীনদুখিনীর জননী সারদা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-১১: ভাগ্যের ফেরে হাস্যকর ‘লাখ টাকা’
দ্বারকানাথ বৈষ্ণব পরিবারের সন্তান। সেই রকমই জীবনযাপনে, আহারে-আচরণে অভ্যস্ত ছিলেন। গৃহদেবতা লক্ষ্মীনারায়ণের নিত্যসেবা করতেন নিজের হাতে। দিগম্বরী প্রথমজীবনে এসব দেখতে অভ্যস্ত ছিলেন। প্রিন্স দ্বারকানাথ জীবনের শুরুতে মাছ-মাংস ছুঁয়েও দেখতেন না। মূলত রামমোহন রায় মাংসাহারে তাঁকে প্রবৃত্ত করেছিলেন। ইংরেজের সঙ্গে সম্পর্ক ও সখ্য স্থাপনের পর শুধু মাংস নয়,পানাহারের অঢেল ব্যবস্থা হয়েছিল। হঠাৎ করেই দ্বারকানাথের মধ্যে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ব্যবসায়িক কারণে ধনবান ইংরেজদের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করতে প্রয়াসী হয়েছিলেন তিনি। ব্যবসায়ী-জীবনে সাফল্য লাভের আশাতেই দ্বারকানাথ চেনা জীবনের বাইরের গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের সঙ্গে সখ্য তৈরি করতে গিয়েই দ্বারকানাথ বিলাস-বৈভব ও আড়ম্বরপূর্ণ জীবন বেছে নিয়েছিলেন। ইউরোপীয় অতিথিদের আমন্ত্রণ জানিয়ে মদ-মাংস সহযোগে বিনোদনের যথেচ্ছ ব্যবস্থা করতেন প্রায়শই। তাঁর এই আকস্মিক পরিবর্তন, ভোগসর্বস্ব জীবনকে বেছে নেওয়ার অপচেষ্টা সমাজজীবনে নিন্দিত তো হয়েইছে, পরিবার-জীবনকেও বিপর্যস্ত করে তুলেছিল।

ঠাকুরবাড়ি।
ম্লেচ্ছদের সঙ্গে দ্বারকানাথ পান-ভোজন করেন, এই কারণে দিগম্বরী দেবীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। স্বামীর সঙ্গে তিনি কথা বলতেন না। যদি বা বলার প্রয়োজন হত, তাহলে কথাবার্তার পর সাতঘড়া গঙ্গা জলে স্নান করতেন। আপাতভাবে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, সে দূরত্ব বাইরের দূরত্ব, ভেতরে ভেতরে প্রেমপ্রীতি রয়ে গিয়েছিল। দিগম্বরী প্রয়াত হওয়ার পর তাঁর স্মৃতি বিজড়িত জোড়াসাঁকো বা কলকাতা শহর ত্যাগ করে শুধু নয়, এ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে গিয়ে দ্বারকানাথ দিগম্বরী দেবীর স্মৃতি ভুলতে চেয়েছিলেন।
ক্ষিতীন্দ্রনাথ জানিয়েছে, ‘দ্বারকানাথ স্বীয় পত্নীকে হৃদয়ের সহিত ভালবাসিতেন, যদিও ঘটনাসূত্রে তাঁহার উপদেশে মাংসাহার প্রভৃতি ত্যাগ করিতে পারেন নাই। দিগম্বরী দেবীর স্বর্গপ্রাপ্তি ১৮৩৯ খ্রীষ্টাব্দে ঘটিয়াছিল অনুমান হয়। এই ঘটনার পর অবধি দ্বারকানাথ সাংসারিক কার্যে উদাসীনের মত হইয়া পড়িলেন এবং দিগম্বরীর স্মৃতিসম্বলিত স্বদেশ পরিত্যাগ করিয়া ইংলণ্ড গমনের ইচ্ছা হৃদয়ে পোষণ করিলেন।… হৃদয়ে পত্নীবিয়োগের অবধি কর্মের সাগরে অবগাহন করিবার প্রবল ইচ্ছা দেখিতে পাই।’
অভাবনীয় রূপ সৌন্দর্যের অধিকারিনী দিগম্বরী দেবীর দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। না হওয়ার জন্য দিগম্বরী নিজেই দায়ী। তাঁর চিন্তাশক্তির দীনতা ও সংস্কারাচ্ছন্নতাই বোধহয় দায়ী।
ক্ষিতীন্দ্রনাথ জানিয়েছে, ‘দ্বারকানাথ স্বীয় পত্নীকে হৃদয়ের সহিত ভালবাসিতেন, যদিও ঘটনাসূত্রে তাঁহার উপদেশে মাংসাহার প্রভৃতি ত্যাগ করিতে পারেন নাই। দিগম্বরী দেবীর স্বর্গপ্রাপ্তি ১৮৩৯ খ্রীষ্টাব্দে ঘটিয়াছিল অনুমান হয়। এই ঘটনার পর অবধি দ্বারকানাথ সাংসারিক কার্যে উদাসীনের মত হইয়া পড়িলেন এবং দিগম্বরীর স্মৃতিসম্বলিত স্বদেশ পরিত্যাগ করিয়া ইংলণ্ড গমনের ইচ্ছা হৃদয়ে পোষণ করিলেন।… হৃদয়ে পত্নীবিয়োগের অবধি কর্মের সাগরে অবগাহন করিবার প্রবল ইচ্ছা দেখিতে পাই।’
অভাবনীয় রূপ সৌন্দর্যের অধিকারিনী দিগম্বরী দেবীর দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। না হওয়ার জন্য দিগম্বরী নিজেই দায়ী। তাঁর চিন্তাশক্তির দীনতা ও সংস্কারাচ্ছন্নতাই বোধহয় দায়ী।
* গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি (Tagore Stories – Rabindranath Tagore) : পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Parthajit Gangopadhyay) অবনীন্দ্রনাথের শিশুসাহিত্যে ডক্টরেট। বাংলা ছড়ার বিবর্তন নিয়ে গবেষণা, ডি-লিট অর্জন। শিশুসাহিত্য নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে গবেষণা করে চলেছেন। বাংলা সাহিত্যের বহু হারানো সম্পদ পুনরুদ্ধার করেছেন। ছোটদের জন্য পঞ্চাশটিরও বেশি বই লিখেছেন। সম্পাদিত বই একশোরও বেশি।


















