
একজন বেয়ারা কফি দিয়ে গেল। দিয়াকে থামতে হয়েছিল। কফি নিতে অনুরোধ করে অতনু বলেছিল —
—ভালো তৈরি হয়েছেন
—থ্যাঙ্ক ইউ স্যার
—কিন্তু আনফরচুনেটলি আমরা মেয়েদের রিক্রুট করি না।
—ভালো তৈরি হয়েছেন
—থ্যাঙ্ক ইউ স্যার
—কিন্তু আনফরচুনেটলি আমরা মেয়েদের রিক্রুট করি না।
কফি কাপ থেকে ঠোঁট থমকে সরে এসেছিল। হালকা প্যাস্টেল শেডের লিপস্টিক ছোঁয়ানো ঠোঁট। লোরিয়্যাল। পয়সা জমিয়ে শখ করে কেনা।
—এরকম কেন?
—সেরকম কোন ডেফিনিট উত্তর নেই। এটাই আমাদের পলিসি।
—তাহলে আমাকে ক্যাবিনে ডাকলেন কেন, রিসেপশন থেকেই তো চলে যেতে বলতে পারতেন
—হয়তো পারতাম কিন্তু তাতে আপনার আরও বেশি খারাপ লাগতো
—এখনও তো খারাপ না লাগার মত কিছু বললেন না, এত কথার পর।
—এরকম কেন?
—সেরকম কোন ডেফিনিট উত্তর নেই। এটাই আমাদের পলিসি।
—তাহলে আমাকে ক্যাবিনে ডাকলেন কেন, রিসেপশন থেকেই তো চলে যেতে বলতে পারতেন
—হয়তো পারতাম কিন্তু তাতে আপনার আরও বেশি খারাপ লাগতো
—এখনও তো খারাপ না লাগার মত কিছু বললেন না, এত কথার পর।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, দ্বিতীয় অধ্যায়, পর্ব-৫৩: আকাশ এখনও মেঘলা

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৮: পরবাস প্রস্তুতি (চার)

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫১: সাইকেল মাহাতো অ্যান্ড কোং

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৫: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — বাঘরোল
বাকি কফিটা কাপেই ফেলে রেখে দিয়া উঠে দাঁড়িয়েছিল। বেরিয়ে যাবার মুখে অতনুর কথা শুনে আবার ফিরতে হয়েছিল দিয়াকে। এরকম অভিজ্ঞতা আগে হয়নি। চাকরি না দিয়ে কেউ অন্য অফিসের রেফারেন্স দেয় না। অতনু সেন দিয়েছিলেন।
দিয়া অতনুর টেক সলিউশন কলকাতাতেও চাকরিটা পেতো। মেয়েদের চাকরিতে নেবেন না, এমন এক ভীষ্মের প্রতিজ্ঞার জন্যই সে চাকরিটা পেল না। অতনু সেনের সমস্যাটা ঠিক কোথায় দিয়া সেদিন জানতে পারেনি কিন্তু আমরা জেনেছি। কিন্তু মহাভারতে ভীষ্মের সমস্যাটা কি ছিল?
দিয়া অতনুর টেক সলিউশন কলকাতাতেও চাকরিটা পেতো। মেয়েদের চাকরিতে নেবেন না, এমন এক ভীষ্মের প্রতিজ্ঞার জন্যই সে চাকরিটা পেল না। অতনু সেনের সমস্যাটা ঠিক কোথায় দিয়া সেদিন জানতে পারেনি কিন্তু আমরা জেনেছি। কিন্তু মহাভারতে ভীষ্মের সমস্যাটা কি ছিল?
আরও পড়ুন:

ডাক দিয়েছ কোন সকালে?

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯০: ত্রিপুরার রাজপরিবারকে রবীন্দ্রনাথের প্রথম পত্র
ভীষ্ম মানেই তো যিনি কঠোর প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেছেন। আসল নাম দেবব্রত। রাজার ছেলে। রাজা শান্তনু। ভরত বংশের উত্তরাধিকারী। পাণ্ডব ও গৌরবদের পূর্বপুরুষ। হস্তিনাপুরের রাজা প্রতীক ও তার শ্রীসুনন্দার ছোট ছেলে। রাজা হবার সম্ভাবনা ছিল না। বড় ভাই দেবাপি সন্ন্যাস নিলেন। মেজভাই কুরু রাজ্যের বাইরে বালহিক প্রদেশের রাজা হলেন। রাজত্ব এলো শান্তনুর হাতে। রাজা শান্তনুর প্রথম স্ত্রী জহ্নু মুনির মেয়ে গঙ্গা বা জাহ্নবী। জাহ্নবীর সাত ছেলের একজন হলেন দেবব্রত। এর আবার একটা পূর্বজন্মের ইতিহাস আছে। ইক্ষাকু বংশের রাজা ছিলেন মহাভিষ। তিনি বহু যাগযজ্ঞের সিঁড়ি বেয়ে স্বর্গে গিয়েছিলেন। কিন্তু স্বর্গসুখ সইল না। একদিন স্বর্গে যখন সবাই বসে আছেন, তখন বায়ুর ফিচলেমিতে গঙ্গা দেবীর পরনের সূক্ষ্মবস্ত্র অপসৃত হয়েছিল। দেবতারা সম্মান প্রদর্শন করে নতমস্তক হয়েছিলেন। কিন্তু মহাভিষ ড্যাবড্যাব করে গঙ্গার দিকে তাকিয়েছিল। সঙ্গে সঙ্গে বহিষ্কার। ব্রহ্মার শাপে মহাভিষ সাপলুডোর সাপের মুখে পড়ে স্বর্গ থেকে সটান মর্ত্যে প্রতীপের পুত্র শান্তনু হয়ে জন্মালেন। এদিকে অন্য এক সাবপ্লটে ভগীরথ গঙ্গাকে মর্ত্যে নিয়ে আসার জন্য ব্রহ্মার উপাসনা করেছিলেন। কিন্তু গঙ্গাকে মর্ত্যে আসতে হল কেন?
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি পর্ব-৯২: অবিবেচনা যত দ্রুত সিদ্ধান্ত আনে, তত দ্রুত ধ্বংসও আনে

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৬: পঞ্চবটীর যাত্রাপথে প্রাপ্তি, পিতৃবন্ধু জটায়ু ও বনবাসজীবনে লক্ষ্মণের ভূমিকা
মহাভারতে রয়েছে এক রাজা সগরের কথা। তাঁর ছিল ৬০ হাজার সন্তান। জনসংখ্যার সমস্যা তখন ছিল না তো। অনেক অনেক দিন আগে অফিসকাছারিতে ডেকে ডেকে লোকে চাকরি দিত। তারপর চাকরির জন্য সংগ্রাম শুরু হল। পোস্টাল অর্ডার জমা করা। পরীক্ষা দেওয়া। লক্ষ মানুষের গোনাগুনতি দশ-বিশটা চাকরির জন্য মারপিট। তারপর চাকরি নিয়ে চুরিচামারি। রাজা সগর অশ্বমেধ যজ্ঞ করলেন। সেই ঘোড়া ঘুরিয়ে গা-জোয়ারি। আজকাল নামকরা কেষ্টবিষ্টু লোকজন রাস্তার মোড়ে হোর্ডিং ফ্লেক্স লাগিয়ে জমজমাট জন্মদিন ফুটবল লীগ নাট্যসম্মেলন কতকিছুই না করে।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮০ : হাত বাড়ালেই বন্ধু

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি
পুরাকালে এসব হতো। এক কেষ্ট নাম করলে অন্য বিষ্টুর চোখ টাটায়। দেবরাজ ইন্দ্রের এসবে বড় নাম খারাপ। স্বর্গের মতো একটা জায়গায় রাজা হয়ে থাকা। কিন্তু বার বার নানান ছোঁচা কাজে জড়িয়ে গিয়েছেন দেবরাজ। চারদিকে খোঁজ খোঁজ। অশ্ব ফিরে না এলে যজ্ঞ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। সাগরের ষাট হাজার সন্তান স্বর্গ-মর্ত্য ঘুরে পাতালে গিয়ে ধ্যানমগ্ন মহর্ষি কপিলের কাছে অশ্ব আবিস্কার করে ফেললেন। সেখানে অশ্বমেধের ঘোড়া এলো কী করে? তার মানে কি মহর্ষি কপিলই? জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে তারা মহর্ষি কপিলের ধ্যান ভাঙালো।—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

















