
কখনও কখনও এমন কিছু ঘটনা অপ্রত্যাশিতভাবে ঘটে যায় যে, তার অভিঘাতে আগে থেকে ঠিক করে রাখা পরিকল্পনা ওলটপালট হয়ে যায়, কিন্তু তাতে আবার শাপে বরও হয়। মঙ্গল ওঝার মৃত্যুতেও ঠিক তেমনটি হল। যদি মঙ্গল বেঁচে থাকত, তাহলে তার উপস্থিতিতে কালাদেওর গুহা সে নিশ্চয়ই সার্চ করতে দিত না। অন্তত কাজটা সহজ হত না। কিন্তু এখন মঙ্গল ওঝা নিজে মারা গিয়ে কাজটা সহজ করে দিয়ে গিয়েছে।
style="display:block"
data-ad-client="ca-pub-2284096077348736"
data-ad-slot="3069590626"
data-ad-format="auto"
data-full-width-responsive="true">
সাইকেল মাহাতো অ্যান্ড কোং-কে সঠিক জায়গায় চালানের ব্যবস্থা করে দিতে বেশি সময় লাগেনি। ডিএম, এসডিপিও উপস্থিত থাকলে এ-সব ব্যাপার মুহূর্তেই হয়ে যায়, সেটাই হয়েছে। সুদীপ্তর জন্য চিন্তা হচ্ছিল ওদিককার আপডেট কিছু দেয়নি সে। কিন্তু এই মুহূর্তে সে কেমন অবস্থায় আছে, তা না জেনে তাকে ফোন করার অর্থ হল যে, কাজে সে গিয়েছে, হয়তো সেটাই পণ্ড করে দেওয়া। সকাল হলে খোঁজ নেবে ভেবে সে রাত গভীর হলেও উল্লাসকে ফোন করেছিল। উল্লাস কয়েকবার ফোন করেছিল, মিসড্ কল আছে। একটা ছোট্ট মেসেজও পাঠিয়েছে, “আরজেন্ট। স্যার, কল ব্যাক করুন!” বলে। উল্লাসের জানার কথা নয় যে, এখানেও বিষয়টা যথেষ্ট আরজেন্টই ছিল। এখন তার অনেকটা হালকা লাগছে। সাইকেল মাহাতোকে বামাল সমেত গ্রেফতার করা গিয়েছে, এটাই আজকের ব্রেকিং নিউজ। তবে এই ব্যাপারটি এখনই চারদিকে ছড়াতে চাইছে না শাক্য। আগামী তিনদিন খুব দ্রুত কিছু পদক্ষেপ করতে হবে। আপাতত তিনদিন ঘুম, বিশ্রাম—এসব থেকে দূরে কাজে ব্যস্ত থাকতে হবে। সাইকেল মাহাতো যে গ্রেফতার হয়েছে, তা পাবলিক না-জানলেও, তার ওপরওয়ালারা সহজেই অনুমান করে নেবেন। এতে কয়েকটি ফল হতে পারে। প্রথমটি হল, যেভাবেই হোক প্রত্যাঘাত করা। একইসঙ্গে সাইকেলের জীবনও এখন গভীর সংকটে। সে মুখ খুললে নিশ্চয়ই অনেক কিছু ফাঁস হয়ে পড়বে, অতএব তাকে বাঁচিয়ে রাখা আর কোনওমতেই উচিত কাজ হবে না, তা নিশ্চয়ই তার কর্তারা বুঝে যাবে। অতএব তাদের বাঁচিয়ে রাখাটাও জরুরি। তাকে ইন্টারোগেশনের কাজটা সে যেমন করবে, তেমন এসডিপিওর বিশ্বাসভাজন অফিসারকে দিয়েই পুছতাছ করা হবে। ডিএম আর এসডিপিও দু’জনেই বাড়ি গিয়েছেন। ফ্রেশ হয়ে আবার সকাল আটটার মধ্যেই তাঁরা একজোট হয়ে মিটিং-এ বসবেন। শাক্য আপাতত সার্কিট হাউসে উঠেছে। সারাদিন-সারারাতের ক্লান্তির পরে এই শেষ রাতে তার আর ঘুম আসছিল না। শাওয়ার নিয়ে সে অনেকক্ষণ টাওয়েল পরেই ছিল। সারাদিনের জামাপ্যান্ট পরার ইচ্ছে করছিল না। এই সার্কিট হাউসে ওয়াশিং মেশিন আছে, কেয়ারটেকার জামাকাপড় নিয়ে গিয়েছে, কেচে-ড্রায়ার দিয়ে শুকিয়ে সকালের মধ্যেই ব্যবস্থা করে দেবে। আপাতত এক কাপ ব্ল্যাক কফি এবং সামান্য কিছু ওটস্ কুকিজ গলাধঃকরণ করে উদোম হয়ে সে শুয়ে আছে বিছানায়। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ, অতএব ফ্রিলি শুয়েব থাকতে কোনও অসুবিধাই হচ্ছে না তার। শুয়ে শুয়ে ফোন চেক করছিল সে। একেজি স্যার মেইল করবেন বলে ভেবেছিল সে, কিন্তু আজকেও কোন মেইল ঢোকে নি দেখে সে বুঝতে পারল, স্যার কাজটা সিরিয়াসলি করাচ্ছেন। প্রাইম সাসপেক্টসদের এ টু জেড সম্বলিত মেইল এল বলে। আর তখনই তার চোখে পড়েছিল উল্লাস মাহাতোর মিসড্ কল এবং মেসেজের বিষয়টি।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬১ : গোবিন্দ সোরেন দ্য গ্রেট

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু! পর্ব-১২৯: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১০

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৭ : সোনার কেল্লা: ডিটেকশনের ড্রয়িংরুম
উল্লাস সেই সন্ধ্যার দিকে ফোন করেছিল। তার কিছু পরে মেসেজ। এখন ঘড়ির কাঁটায় তার সাড়ে তিনটে। ক্লান্তিতে ঘুম জাঁকিয়ে আসার কথা। কিন্তু ঘুমের কোনও তাড়নাই নেই তার মধ্যে। এই সময় উল্লাসকে ফোন করা অমানবিক হবে ভেবে শাক্য তাকে একটা মেসেজ করল, “খুব বিজি ছিলাম। কাল সকালে কথা বলবো” বলে। সে আশা করেছিল, কাল সকালে মেসেজ দেখে উল্লাস রিপ্লাই দিলে সে তাকে ফোন করে নেবে। নিশ্চয়ই কোন গুরুত্বপূর্ণ আপডেট আছে, না-হলে উল্লাস এতবার ফোন করত না। এই মুহূর্তে উল্লাস থাকলে ম্যাসাজ নেওয়া যেত। সারাদিনের হেকটিক শিডিউলসের পরে ম্যাসাজ জাস্ট চার্মিং রিফ্রেশমেন্ট। কিন্তু উপায় নেই। উল্লাস এখন আছে অনেক দূরে।
শাক্য সে-কথা ভেবে সবে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেছে, এমনসময় তাকে অবাক করে দিয়ে উল্লাস মেসজ করল, “এক্ষুনি করতে পারেন। আমি ঘুমাইনি স্যার!”
এত রাতে উল্লাস না ঘুমিয়ে জেগে? কী ব্যাপার? কোনও গুরুতর কিছু? শাক্য সঙ্গে-সঙ্গে ফোন করেছিল, “উল্লাস, তুমি ঠিক আছো তো?”
“হ্যাঁ স্যার। চেষ্টা করছি ঠিক থাকার!” উল্লাস খুব মৃদুস্বরে জবাব দিল।
“তুমি কি এখন ফোনে কথা বলতে পারবে না-কি মেসেজে কথা বললে সুবিধা?”
“ফোনই ঠিক আছে। অনেক কথা বলার আছে আপনাকে। আজকের বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা। সে-কথা ভেবেই ভয়ে আমার ঘুম আসছে না!”
“কী হয়েছে?” শাক্য একটু চিন্তিত গলাতেই বলল।
শাক্য সে-কথা ভেবে সবে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেছে, এমনসময় তাকে অবাক করে দিয়ে উল্লাস মেসজ করল, “এক্ষুনি করতে পারেন। আমি ঘুমাইনি স্যার!”
এত রাতে উল্লাস না ঘুমিয়ে জেগে? কী ব্যাপার? কোনও গুরুতর কিছু? শাক্য সঙ্গে-সঙ্গে ফোন করেছিল, “উল্লাস, তুমি ঠিক আছো তো?”
“হ্যাঁ স্যার। চেষ্টা করছি ঠিক থাকার!” উল্লাস খুব মৃদুস্বরে জবাব দিল।
“তুমি কি এখন ফোনে কথা বলতে পারবে না-কি মেসেজে কথা বললে সুবিধা?”
“ফোনই ঠিক আছে। অনেক কথা বলার আছে আপনাকে। আজকের বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা। সে-কথা ভেবেই ভয়ে আমার ঘুম আসছে না!”
“কী হয়েছে?” শাক্য একটু চিন্তিত গলাতেই বলল।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০০ : স্থানীয়রা দিনে কৃষি কাজ করতেন, আর রাতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিতেন বিপ্লবীরা

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৫: নৈতিকতার নিরিখে, মল্লযুদ্ধে জরাসন্ধবধ, আজও প্রাসঙ্গিক কেন?
উল্লাস তখন মোটামুটি ডিটেইলসে আজকের অভিজ্ঞতার কথা জানাল তাকে। মঙ্গল ওঝা যে গাছের গুঁড়ির কোটরে পিস্তল লুকিয়ে রাখে, এই সত্য তাকে হতবাক্ করে দিয়েছে।
“তুমি যখন পালিয়ে আস, তখন ওরা কী করছিল উল্লাস?” শাক্য জিজ্ঞাসা করল।
“ওরা কথা বলছিল স্যার। মঙ্গলকে কেমন বিধ্বস্ত লাগছিল, আর অন্য লোকটি খুব রাগো-রাগো গলায় মঙ্গলের উপর হাত-পা নেড়ে চোটপাট করছিলেন। তবে আমি তো আর দেখিনি। দাঁড়াইনি। পালিয়ে এসেছিলাম বলতেগেলে। তারপর কী হয়েছে জানি না!”
“তুমি পিস্তল সরিয়েছ বলেই চোটপাট করছে মঙ্গলের ওপর। ভেবে বলো, লোকটিকে আগে কখন সত্যিই দেখনি?”
“তখন মনে হচ্ছিল, দেখিনি। পরে অনেক ভাবতে-ভাবতে মনে হল, হয়তো এই লোকটিকে দেখিনি, কিন্তু এর মতো কাউকে কোয়থায় যেন দেখেছি!”
“কোথায় উল্লাস? মনে করতে পেরেছো?” শাক্য কিছুটা তীক্ষ্ণ ভঙ্গীতে জিজ্ঞাসা করল।
“মনে পড়ছে না স্যার। পড়লে জানাবো আপনাকে।”
“মঙ্গল ফিরে এসে কী করছে, কিছু দেখলে বা জানলে?”
“আমি নিজে একবার গিয়েছিলাম। শুনলাম, ও ফেরেনি এখনও। কোনও-কোনওদিন না-কি বিশেষ পুজো থাকলে ফিরতে অনেক রাত হয়। সেই শুনে চলে এসেছিলাম। কাল সকালে আর-একবার যাব, গিয়ে তার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করতে হবে, তাই তো স্যার?” উল্লাস জিজ্ঞাসা করল। হায়, সে যদি জানত, যার সঙ্গে দেখা করার জন্য আগামীকালও সে যাবে ভাবছে, সে এখন না-দেখা দেওয়ার দেশে পাড়ি দিয়েছে। জীবন অতি তুচ্ছ দশা। মরণের মাঝখানে দু’দণ্ড জিরোবার অবকাশ কেবল।
“হ্যাঁ, যেও!” বলল শাক্য।
“স্যার! পিস্তলদুটি নিয়ে কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না! আপনি কিছু সাজেস্ট করুন!” চাপা গলাতেও তার আতঙ্কের সুর কানে বাজল শাক্যর।
সে বলল, “তুমি চিন্তা করো না। আমি সুদীপ্তস্যারকে বলে রাখব। তিনি তোমার কাছ থেকে পিস্তলদুটি কালেক্ট করে নেবেন। ডায়ারিতে কেবল লেখা থাকবে, তুমি পিস্তলদুটি কুড়িয়ে পেয়েছ!”
“মিথ্যে বললে যদি জেলে ঢুকিয়ে দেয় স্যার!’
“আরে ভয় পেয়ো না। অত কিছু বলতেও হবে না। সুদীপ্তর ওপর ভার দেবো। তুমি নিশ্চিন্তে ঘুমাও!”
“অনেকদিন আমার সার্ভিস নেন নি স্যার!” উল্লাস কথা পাল্টাল।
কথা পালটে দিল কেন উল্লাস? তাহলে কি কেউ এসেছে তার কাছে? কিংবা জানালার ধারে? সেই কারণেই কি উল্লাস কথা ঘুরিয়ে দিল?
শাক্য বলল, “উল্লাস, কোন উত্তর কথায় দেবে না। হুঁ-হাঁ করে দেবে। মনে থাকবে?”
“হ্যাঁ!”
“আপাতত বল, কেউ কি এসেছে তোমার ঘরে?”
“না!”
“তাহলে জানালার ধারে কিংবা বাড়ির আশেপাশে কাদের উপস্থিতির আওয়াজ পাচ্ছো ?”
“হ্যাঁ!”
“মিত্র নিশ্চয়ই নয় ওরা, এ-কথা মাথায় রাখবে। নিজে আত্মরক্ষা করো!”
“হুঁ!”
“তুমি কাল তেমন বুঝলে গ্রাম থেকে চলে আসবে। ওখানে থাকা তোমার পক্ষে আর সেফ না। বুঝেছো?”
“হুম্!”
“উল্লাস, সাতসকালেই বেরিয়ে পড়ো। আর এসে সোজা থানায় চলে যেয়ো। সুদীপ্তস্যারকে যেহেতু আগেই সব জানিয়েছ, অতএব তাঁর দিক থেকে কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আর ওসি ভদ্রলোক মালাকার তিনি হয়তো একটু বেগড়বাঁই করতে পারেন, তেমন হলে আমাকে ফোন করতে বলো। বুঝলে?”
“হুম!”
“এখন ফোন রেখে ঘুমানোর চেষ্টা করো। বাড়ির পাশে যারা ছিল, তারা আছে এখনও ?”
“না মনে হয়!”
“বেশ। ওরা হয়তো বাড়ি-বাড়ি খুঁজে বেড়াচ্ছে পিস্তল দুটি! সাবধানে রেখেছ তো ?”
“হ্যাঁ।”
“বেশ। রাখছি এখন।”
“তুমি যখন পালিয়ে আস, তখন ওরা কী করছিল উল্লাস?” শাক্য জিজ্ঞাসা করল।
“ওরা কথা বলছিল স্যার। মঙ্গলকে কেমন বিধ্বস্ত লাগছিল, আর অন্য লোকটি খুব রাগো-রাগো গলায় মঙ্গলের উপর হাত-পা নেড়ে চোটপাট করছিলেন। তবে আমি তো আর দেখিনি। দাঁড়াইনি। পালিয়ে এসেছিলাম বলতেগেলে। তারপর কী হয়েছে জানি না!”
“তুমি পিস্তল সরিয়েছ বলেই চোটপাট করছে মঙ্গলের ওপর। ভেবে বলো, লোকটিকে আগে কখন সত্যিই দেখনি?”
“তখন মনে হচ্ছিল, দেখিনি। পরে অনেক ভাবতে-ভাবতে মনে হল, হয়তো এই লোকটিকে দেখিনি, কিন্তু এর মতো কাউকে কোয়থায় যেন দেখেছি!”
“কোথায় উল্লাস? মনে করতে পেরেছো?” শাক্য কিছুটা তীক্ষ্ণ ভঙ্গীতে জিজ্ঞাসা করল।
“মনে পড়ছে না স্যার। পড়লে জানাবো আপনাকে।”
“মঙ্গল ফিরে এসে কী করছে, কিছু দেখলে বা জানলে?”
“আমি নিজে একবার গিয়েছিলাম। শুনলাম, ও ফেরেনি এখনও। কোনও-কোনওদিন না-কি বিশেষ পুজো থাকলে ফিরতে অনেক রাত হয়। সেই শুনে চলে এসেছিলাম। কাল সকালে আর-একবার যাব, গিয়ে তার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করতে হবে, তাই তো স্যার?” উল্লাস জিজ্ঞাসা করল। হায়, সে যদি জানত, যার সঙ্গে দেখা করার জন্য আগামীকালও সে যাবে ভাবছে, সে এখন না-দেখা দেওয়ার দেশে পাড়ি দিয়েছে। জীবন অতি তুচ্ছ দশা। মরণের মাঝখানে দু’দণ্ড জিরোবার অবকাশ কেবল।
“হ্যাঁ, যেও!” বলল শাক্য।
“স্যার! পিস্তলদুটি নিয়ে কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না! আপনি কিছু সাজেস্ট করুন!” চাপা গলাতেও তার আতঙ্কের সুর কানে বাজল শাক্যর।
সে বলল, “তুমি চিন্তা করো না। আমি সুদীপ্তস্যারকে বলে রাখব। তিনি তোমার কাছ থেকে পিস্তলদুটি কালেক্ট করে নেবেন। ডায়ারিতে কেবল লেখা থাকবে, তুমি পিস্তলদুটি কুড়িয়ে পেয়েছ!”
“মিথ্যে বললে যদি জেলে ঢুকিয়ে দেয় স্যার!’
“আরে ভয় পেয়ো না। অত কিছু বলতেও হবে না। সুদীপ্তর ওপর ভার দেবো। তুমি নিশ্চিন্তে ঘুমাও!”
“অনেকদিন আমার সার্ভিস নেন নি স্যার!” উল্লাস কথা পাল্টাল।
কথা পালটে দিল কেন উল্লাস? তাহলে কি কেউ এসেছে তার কাছে? কিংবা জানালার ধারে? সেই কারণেই কি উল্লাস কথা ঘুরিয়ে দিল?
শাক্য বলল, “উল্লাস, কোন উত্তর কথায় দেবে না। হুঁ-হাঁ করে দেবে। মনে থাকবে?”
“হ্যাঁ!”
“আপাতত বল, কেউ কি এসেছে তোমার ঘরে?”
“না!”
“তাহলে জানালার ধারে কিংবা বাড়ির আশেপাশে কাদের উপস্থিতির আওয়াজ পাচ্ছো ?”
“হ্যাঁ!”
“মিত্র নিশ্চয়ই নয় ওরা, এ-কথা মাথায় রাখবে। নিজে আত্মরক্ষা করো!”
“হুঁ!”
“তুমি কাল তেমন বুঝলে গ্রাম থেকে চলে আসবে। ওখানে থাকা তোমার পক্ষে আর সেফ না। বুঝেছো?”
“হুম্!”
“উল্লাস, সাতসকালেই বেরিয়ে পড়ো। আর এসে সোজা থানায় চলে যেয়ো। সুদীপ্তস্যারকে যেহেতু আগেই সব জানিয়েছ, অতএব তাঁর দিক থেকে কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আর ওসি ভদ্রলোক মালাকার তিনি হয়তো একটু বেগড়বাঁই করতে পারেন, তেমন হলে আমাকে ফোন করতে বলো। বুঝলে?”
“হুম!”
“এখন ফোন রেখে ঘুমানোর চেষ্টা করো। বাড়ির পাশে যারা ছিল, তারা আছে এখনও ?”
“না মনে হয়!”
“বেশ। ওরা হয়তো বাড়ি-বাড়ি খুঁজে বেড়াচ্ছে পিস্তল দুটি! সাবধানে রেখেছ তো ?”
“হ্যাঁ।”
“বেশ। রাখছি এখন।”
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০১ : সত্য সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, আর মূর্খ অন্যের ব্যাখ্যায় তাকে খোঁজে!
ফোন রেখে কিছুক্ষণ ভাবল শাক্য। আঁধারে আলোর রেখে ফুটে উঠছে আস্তে-আস্তে। বাইরেও, কেসের ক্ষেত্রেও। একটা মোটিভ আবছাভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কালাদেও-রহস্য যদি এই পথে হাঁটে তাহলে সে অবাক হবে না। তবে পিশাচপাহাড় রিসর্টের খুনখারাপির ব্যাপারটি এখন ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। এ-যেন ধরি-ধরি করেও না-ধরতে পারার মতো! কিছু একটা মিসিং-লিঙ্ক আছে, যা জানা গেলেই হয়তো সে-কেসটিও সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।
সকালবেলার মিটিং-এ সে যত দ্রুত সম্ভব একসঙ্গে একাধিক জায়গায় রেইড করতে বলবে। কালাদেওর থান তার মধ্যে অন্যতম। তার মন বলছে, যত দেরি হবে ততই সেখান থেকে যাবতীয় এভিডেন্স, কুকীর্তির চিহ্ন হাওয়া করে দেবে ওরা। একদিকে সাইকেলের ইন্টারোগেশন চলবে, অন্যদিকে রেইড। চার্চ হসপিটালও তার মধ্যে পড়ে। যদিও দুই ভিন্ন ভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠান এবং থানে রেইড হবে শুনলে স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া কী হবে, আদৌ বিভাগ সেটি অনুমোদন করবে কি-না—এরকম নানা বিষয়ের রূপরেখা আজকের আলোচনায় স্পষ্ট করে নিতে হবে। প্রত্নতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগের অনুমতি পেতে বছর গড়িয়ে গেলে, এ-কেসের মীমাংসা কার্যত অসম্ভব। এমনিতেই যথেষ্ট দেরী হয়ে গিয়েছে।
সকালবেলার মিটিং-এ সে যত দ্রুত সম্ভব একসঙ্গে একাধিক জায়গায় রেইড করতে বলবে। কালাদেওর থান তার মধ্যে অন্যতম। তার মন বলছে, যত দেরি হবে ততই সেখান থেকে যাবতীয় এভিডেন্স, কুকীর্তির চিহ্ন হাওয়া করে দেবে ওরা। একদিকে সাইকেলের ইন্টারোগেশন চলবে, অন্যদিকে রেইড। চার্চ হসপিটালও তার মধ্যে পড়ে। যদিও দুই ভিন্ন ভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠান এবং থানে রেইড হবে শুনলে স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া কী হবে, আদৌ বিভাগ সেটি অনুমোদন করবে কি-না—এরকম নানা বিষয়ের রূপরেখা আজকের আলোচনায় স্পষ্ট করে নিতে হবে। প্রত্নতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগের অনুমতি পেতে বছর গড়িয়ে গেলে, এ-কেসের মীমাংসা কার্যত অসম্ভব। এমনিতেই যথেষ্ট দেরী হয়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৫: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— বালিকাঠা

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি
ভাবতে-ভাবতে কখন যে চোখ লেগে গিয়েছিল তার বুঝতেও পারেনি। হঠাৎ ফোনের রিং-টোনের শব্দে তার ঘুম ভেঙে গেল। সকাল হয়েছে। ফোনটা হাতে নিয়ে দেখল, সাড়ে ছ’টা বাজে। আর ফোনটা করছে সুদীপ্ত, “দাদা, গুড নিউজ আছে!”
“তুমি মানে তোমরা ঠিক আছো তো? কোন ঝামেলা হয়েছে কাল রাতে?”
“দাদা, আপনি গুরুদেব। ঠিকই ধরেছিলেন। ওরা দলবল নিয়ে গিয়েছিল, নুনিয়ার খোঁজে। তিনটেকে পাকড়াও করেছি। একটি সম্ভবত পালিয়ে গিয়েছে। তবে যে-কটি নমুনাকে ধরেছি, তারা গুলিগোলা চালিয়ে জখম করতে চেয়েছিল আমাদের। ওদের উচিৎ শিক্ষা দিতে হবে। পার্টিগুলি ওদের ‘ধোয়া তুলসীপাতা’ বললেও তা যে তারা নয়, তা আমি-আপনি ভালো করেই জানি।”
“সঙ্গত যুক্তি। এদিকেও খবর ভালো। সাইকেল মাহাতোকে তার শাগরেদ-সহ গ্রেপ্তার করেছি। সত্যব্রতকে খুনের চেষ্টার অপরাধে দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে তার শাস্তি। এখন বিচারবিভাগ যা মনে করবেন!”
“হ্যাঁ। তোমার-আমার এক্ষেত্রে কিছু করার নেই। কারো-ই নেই। বিচারবিভাগের চেয়ে বড় আর কে আছে?”
“একদম সঠিক বিশ্লেষণ। যাক্, ওদের যে-ভাবেই আজকেই কোর্টে প্রোডিউস করো। সাবধানের মার নেই। কে-যে কার চেনা, সেটা বোঝাই যায় না আগে থেকে। কোর্টে তুললে দেখবে কত ওয়েল উইশার, স্বেচ্ছাসেবি সংস্থা ঝাঁপিয়ে পড়বে অপরাধীর অধিকার নিয়ে।”
“তা আর বলতে। একটা কথা, উল্লাস ফোন করেছিল আমায় !”
“জানি। কথা হয়েছে। তুমি তার ব্যাপারটা একটু দেখো। তাকে আজ সকালেই গ্রাম থেকে ও-দুটি নিয়ে চলে আসতে বলেছি সটান তোমার কাছে। তারপর যা ভালো বুঝবে করবে। তবে ও-বেচারা নিরপরাধ!”
“হ্যাঁ দাদা। উল্লাসের ক্লিনচিট পেতে অসুবিধা হবে না।”
ভোর হয়ে গিয়েছে। আস্তে-আস্তে আঁধার কেটে নতুন দিনের আলো ফুটে উঠছে। কয়েক দিনেই অনেকখানি অগ্রগতি হয়েধে কেসের। একেজি স্যার নিশ্চয়ই খুশি হবেন। সুদীপ্তকে কিছু বলতে যাচ্ছিল সে। তার আগেই একটা মেসেজ ঢুকল শাক্যর মোবাইলে। মেসেজ পড়েই সে সঙ্গে-সঙ্গে লাফিয়ে উঠল। এতক্ষণ সে যে উদোম হয়ে শুয়ে ছিল, সেদিকে তার বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই তখন। মেসেজ সংক্ষিপ্ত— “মঙ্গল ওঝা ডেড! হোয়াট উইল উই ডু নাও?” নাম্বারটি ডিএমের। নিশ্চয়ই এসডিপিও তাঁকে ইনফর্ম করেছেন নিউজটা! এত দ্রুত সব ঘটছে। তবে কি শেষের খুব কাছে দাঁড়িয়ে আছে তারা? —চলবে।
“তুমি মানে তোমরা ঠিক আছো তো? কোন ঝামেলা হয়েছে কাল রাতে?”
“দাদা, আপনি গুরুদেব। ঠিকই ধরেছিলেন। ওরা দলবল নিয়ে গিয়েছিল, নুনিয়ার খোঁজে। তিনটেকে পাকড়াও করেছি। একটি সম্ভবত পালিয়ে গিয়েছে। তবে যে-কটি নমুনাকে ধরেছি, তারা গুলিগোলা চালিয়ে জখম করতে চেয়েছিল আমাদের। ওদের উচিৎ শিক্ষা দিতে হবে। পার্টিগুলি ওদের ‘ধোয়া তুলসীপাতা’ বললেও তা যে তারা নয়, তা আমি-আপনি ভালো করেই জানি।”
“সঙ্গত যুক্তি। এদিকেও খবর ভালো। সাইকেল মাহাতোকে তার শাগরেদ-সহ গ্রেপ্তার করেছি। সত্যব্রতকে খুনের চেষ্টার অপরাধে দীর্ঘমেয়াদী হতে পারে তার শাস্তি। এখন বিচারবিভাগ যা মনে করবেন!”
“হ্যাঁ। তোমার-আমার এক্ষেত্রে কিছু করার নেই। কারো-ই নেই। বিচারবিভাগের চেয়ে বড় আর কে আছে?”
“একদম সঠিক বিশ্লেষণ। যাক্, ওদের যে-ভাবেই আজকেই কোর্টে প্রোডিউস করো। সাবধানের মার নেই। কে-যে কার চেনা, সেটা বোঝাই যায় না আগে থেকে। কোর্টে তুললে দেখবে কত ওয়েল উইশার, স্বেচ্ছাসেবি সংস্থা ঝাঁপিয়ে পড়বে অপরাধীর অধিকার নিয়ে।”
“তা আর বলতে। একটা কথা, উল্লাস ফোন করেছিল আমায় !”
“জানি। কথা হয়েছে। তুমি তার ব্যাপারটা একটু দেখো। তাকে আজ সকালেই গ্রাম থেকে ও-দুটি নিয়ে চলে আসতে বলেছি সটান তোমার কাছে। তারপর যা ভালো বুঝবে করবে। তবে ও-বেচারা নিরপরাধ!”
“হ্যাঁ দাদা। উল্লাসের ক্লিনচিট পেতে অসুবিধা হবে না।”
ভোর হয়ে গিয়েছে। আস্তে-আস্তে আঁধার কেটে নতুন দিনের আলো ফুটে উঠছে। কয়েক দিনেই অনেকখানি অগ্রগতি হয়েধে কেসের। একেজি স্যার নিশ্চয়ই খুশি হবেন। সুদীপ্তকে কিছু বলতে যাচ্ছিল সে। তার আগেই একটা মেসেজ ঢুকল শাক্যর মোবাইলে। মেসেজ পড়েই সে সঙ্গে-সঙ্গে লাফিয়ে উঠল। এতক্ষণ সে যে উদোম হয়ে শুয়ে ছিল, সেদিকে তার বিন্দুমাত্র ভ্রূক্ষেপ নেই তখন। মেসেজ সংক্ষিপ্ত— “মঙ্গল ওঝা ডেড! হোয়াট উইল উই ডু নাও?” নাম্বারটি ডিএমের। নিশ্চয়ই এসডিপিও তাঁকে ইনফর্ম করেছেন নিউজটা! এত দ্রুত সব ঘটছে। তবে কি শেষের খুব কাছে দাঁড়িয়ে আছে তারা? —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।


















