শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

সামুদ্রিক আগাছার উদ্যানে সবুজ কাছিম। ছবি: সংগৃহীত।

বছর চারেক আগে অর্থাৎ ২০২২ সালের জুনের শেষের দিকে ইংরেজি খবরের কাগজ টাইমস অফ ইন্ডিয়া পড়তে পড়তে একটা খবরের চোখ আটকে গেল। খবরের শিরোনামটা ছিল “Rare green sea turtle rescued in Sunderbans”। সংবাদের সঙ্গে ছিল একটা ছবি। ছবিটা দেখেই হঠাৎ স্মৃতির পক্ষীরাজে চেপে পাড়ি দিলাম শৈশবে। এইরকম অপরূপ দেখতে সামুদ্রিক কচ্ছপের খোলক আমি গ্রামে আমাদের পাড়াতেই কারও বাড়িতে দেখেছি। অবিকল একই রকম। দেখলে মনে হয় যেন রঙ-তুলি দিয়ে সুন্দর করে ছবি আঁকা খোলক। আমাদের বাড়িতেও এরকম একটা খোলক ছিল। তবে তা এত সুন্দর রঙিন ছিল না। তখনকার দিনে অ্যালুমিনিয়াম বা প্লাস্টিকের গামলা পাওয়া যেত না। বেতের ধামা গামলার কাজ করত। তবে ধামাতে তরল কোনও বস্তু রাখা যেত না। তাছাড়া বেতের ধামার দামও ছিল অনেক বেশি। সাধারণ গরিব ও মধ্যবিত্ত সুন্দরবনবাসীর কাছে বেতের ধামা ছিল বাহুল্য। আর তাই বিকল্প হিসেবে সুন্দরবনের বহু বাড়িতেই ব্যবহৃত হত সামুদ্রিক কচ্ছপের বিশাল আকার সব খোলক যা বিজ্ঞানের ভাষায় ক্যারাপেস। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বালিকাঠা ও অলিভ রিডলে কাঠার খোলক পাত্র হিসেবে ব্যবহার হত। কিন্তু তারই মধ্যে ওইরকম সুন্দর রঙিন খোলক কার বাড়িতে যে দেখেছিলাম অনেক চেষ্টাতেও আর মনে করতে পারলাম না। কিন্তু খোলকের বর্ণবাহার এখনও মনের মধ্যে গাঁথা আছে।
মনে পড়ে, ওই রকম একটা খোলকের বায়নাও করেছিলাম বাবার কাছে। আগেই কয়েকটি লেখায় বলেছি যে আমার বাড়ি থেকে প্রায় দু কিলোমিটার দক্ষিণে উকিলের হাট ছিল কাঠার মাংস বিক্রির জন্য বিখ্যাত। তাছাড়া সমুদ্র কাঁকড়ার পাইকারি বাজার হিসেবেও উকিলের হাট ছিল খুব জনপ্রিয়। হাটবারে কাঁকড়া কিনতে ছোটবেলায় মাঝে মাঝেই বাবার সঙ্গে গিয়েছি। একটু বড় হলে বেশ কয়েকবার একাও গিয়েছি। সম্ভবত তখন আমি ক্লাস এইটে পড়ি। উকিলের হাটে কাঁকড়া কিনতে গিয়ে দ্বিতীয়বারের জন্য ওই রকম সুন্দর রঙিন খোলক দেখেছিলাম। কাঠার মাংস বিক্রেতারা বাস রাস্তার ধারে সারিবদ্ধ ভাবে বসে থাকত। পাশে রাখা থাকত কচ্ছপের পিঠ থেকে ছাড়ানো বিশালাকার খোলক। মনে মনে ভেবেছিলাম, ইস, ওই খোলকটা যদি বাড়িতে কিনে নিয়ে যেতে পারতাম! সে ইচ্ছে পূরণ হয়নি, আর কিছুদিন পর স্মৃতির গভীরে হারিয়েও গিয়েছিল। সংবাদপত্রের ওই সংবাদ স্মৃতিগুলোকে জাগিয়ে দিল। শৈশবে ওই সামুদ্রিক কচ্ছপের নাম জানতাম না। সংবাদপত্র থেকেই জানলাম এরা হল সুন্দরবনের একসময়ের পরিচিত বাসিন্দা সবুজ কাছিম।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৫: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— বালিকাঠা

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৭ : সোনার কেল্লা: ডিটেকশনের ড্রয়িংরুম

খবরের কাগজ থেকে যখন জানলাম যে, এরা হল সবুজ কাছিম আমার মনে কিন্তু একটা প্রশ্ন জাগল—এদের খোলক তো সেই অর্থে সবুজ নয়, বরং অলিভ রিডলে কচ্ছপদের খোলকের রং অনেকটাই সবুজ। তাহলে কি কোথাও ভুল হচ্ছে? গুগলের শরণাপন্ন হলাম। জানলাম ওদের খোলক বা ক্যারাপেসের নিচে থাকা চর্বির রং সবুজ। আর তাই এই কচ্ছপদের নাম ‘Green sea turtle’, বাংলায় সবুজ কাছিম। বিজ্ঞানসম্মত নাম ‘Chelonia mydas’। পরিণত সবুজ কাছিমরা পুরোপুরি শাকাহারী। এই কারণেই এদের চর্বির রঙ হয় সবুজ। সামুদ্রিক কচ্ছপদের মধ্যে এরা আকারের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। প্রথম স্থানাধিকারী হল লেদারব্যাক কাছিম। এরা অবশ্য সুন্দরবন পর্যন্ত পৌঁছায় না। আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে এদের আনাগোনা রয়েছে। সবুজ কাছিমরা কিন্তু আটলান্টিক মহাসাগর, প্রশান্ত মহাসাগর আর ভারত মহাসাগর— তিনটে বড় মহাসাগরেই পাওয়া যায়। ভারত মহাসাগরের সবুজ কাছিমরা সুন্দরবনসহ ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূল এবং পাকিস্তান ও শ্রীলংকার উপকূলে প্রজনন ঋতুতে একসময় প্রচুর পরিমাণে দল বেঁধে হাজির হত।
কলকাতায় বৃষ্টি

সবুজ কাছিমের ছানা। ছবি: সংগৃহীত।

তবে বর্তমানে এরা এতই সংকটে রয়েছে যে অল্পবিস্তর আন্দামান ও গুজরাত উপকূলে দেখা গেলেও সুন্দরবনে এদের আর দেখা যায় না। আর তাই বহুদিন পর সুন্দরবনের খবরে উঠে এসেছে সবুজ কাছিমের নাম। সংবাদটি হল, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বনবিভাগের মাতলা রেঞ্জের একজন বনকর্মী ক্যানিংয়ের তালদি থেকে একটি অপরিণত সবুজ কাছিমকে উদ্ধার করেছেন। মাতলা নদীতে সবুজ কাছিমটি একজন মৎস্যজীবীর জালে আটকে গিয়েছিল এবং তাকে বিক্রির জন্য তালদি বাজারে আনা হয়েছিল। বনকর্মী কাছিমটিকে উদ্ধার করার পর বোম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটি নিশ্চিত করেছে যে সেটি হল বিরলতম প্রজাতির সবুজ কাছিম। ওই সংবাদে বলা হয়েছে যে সবুজ কাছিমটিকে উদ্ধার করে ঝড়খালিতে এনে রাখা হয়েছে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এবং সব ঠিক থাকলে কয়েকদিনের মধ্যেই তাকে সমুদ্রে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। বনকর্মীর নজরে পড়ে যাওয়ায় সে যাত্রা সবুজ কাছিমটি হয়তো বাঁচল, কিন্তু যেগুলো নজরে আসছে না সেগুলো তো মানুষের উদরস্থ হচ্ছে নিশ্চিতভাবে। যে সবুজ কাছিম একসময় সুন্দরবন অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত এখন কিন্তু তারা এই কারণেই চরমভাবে বিপন্ন। এখন যে স্বল্প সংখ্যক সবুজ কাছিম ভারত মহাসাগরে টিকে রয়েছে তারা সুন্দরবনকে প্রজননক্ষেত্র হিসেবে পরিত্যাগ করেছে বলা যায়। আর পথ ভুলে যারা চলে আসছে তারা মানুষের লোভানলের শিকার হচ্ছে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০০ : স্থানীয়রা দিনে কৃষি কাজ করতেন, আর রাতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিতেন বিপ্লবীরা

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৫: নৈতিকতার নিরিখে, মল্লযুদ্ধে জরাসন্ধবধ, আজও প্রাসঙ্গিক কেন?

আগেই বলেছি, সবুজ কাছিমরা হল সমুদ্রের বিশালাকার কচ্ছপ। একটা পরিণত কচ্ছপ লম্বায় হয় প্রায় ১.৫ মিটার এবং ওজন হয় ৬৮ থেকে ১৯০ কেজি। এদের পিঠের খোলক খুবই মসৃণ, অনেকটা হৃদপিণ্ড আকারের। লম্বায় হয় প্রায় ৭৮ থেকে ১১২ সেন্টিমিটার, আর কালো, বাদামি বা অলিভ রঙের হয়। যদিও খোলকের উল্টো দিকটা হয় হলদেটে সাদা। খোলকের উপরে বৈচিত্র্যময় নানা রঙের নানা রকম অলংকরণ দেখা যায়। আর এই অলংকরণ সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। বাচ্চা অবস্থায় এদের খোলকের রঙ হয় কালো, অপরিণতদের ক্ষেত্রে হয় গাঢ় বাদামি বা সবুজ, আর পরিণত হলে পুরোপুরি বাদামি। কিন্তু তার ওপর তৈরি হয় বর্ণময় অলংকরণ। এদের পেটের দিকে যে খোলক বা প্ল্যাস্ট্রন থাকে তার রঙ হয় হলুদ। দেহ যত বড় তার তুলনায় মাথাটা মনে হয় যেন কিছুটা ছোট। মাথার সামনে তুন্ড তুলনামূলকভাবে গোলাকার এবং অঙ্কুশবিহীন (Unhooked)। এরা খোলকের ভেতরে মাথাকে ঢুকিয়ে নিতে পারে না। সমস্ত সামুদ্রিক কচ্ছপের মতো এদেরও রয়েছে চারটে ফ্লিপার যা মূলত জলে সাঁতার কাটার কাজে ব্যবহৃত হয়। তবে বালি খুঁড়ে বাসা তৈরির কাজেও ফ্লিপার ব্যবহৃত হয়। এদের সামনের ফ্লিপারে একটা নখর থাকে। অপরিণতদের ক্ষেত্রে কখনও কখনও দুটো নখর দেখা যায়।
কলকাতায় বৃষ্টি

অপরিণত সবুজ কাছিম। ছবি: সংগৃহীত।

সবুজ কাছিমদের বাচ্চারা সাধারণত সর্বভুক হয়। এরা ছোট ছোট মাছ ও মাছের ডিম, ছোট অমেরুদন্ডী প্রাণী যেমন কাঁকড়া, চিংড়ি ইত্যাদি এবং স্পঞ্জ, জেলিফিস ইত্যাদি নরম মাংসল সামুদ্রিক প্রাণী খায়। তবে পরিণত হলে বড় বড় সামুদ্রিক শ্যাওলা যেমন উলভা, সারগাসাম ইত্যাদি খেতে পছন্দ করে। বড় অবস্থায় এরা কিন্তু সম্পূর্ণরূপে শাকাহারি হয়ে যায়। সুন্দরবন অঞ্চলে আসার পর এরা জলে খসে পড়া ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের পাতা খেতে পছন্দ করে। অগভীর সমুদ্রের তলদেশে বড় বড় লাল ও বাদামি শ্যাওলার ‘উদ্যানে’ এদের বিচরণ করতে দেখা যায়। এদের প্রবাল প্রাচীরেও থাকতে দেখা যায়। প্রবাল প্রাচীরে জন্মানো লাল, বাদামি ও সবুজ শ্যাওলা হল এদের প্রিয় খাদ্য।

প্রজনন ঋতুতে এরা প্রজননক্ষেত্রগুলোতে পাড়ি জমায়। কখনও কখনও দেড় দু’হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়েও প্রজননক্ষেত্রে পৌঁছায়। সুন্দরবনের উপকূলে এরা জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ডিম পাড়তে বেশি আসে। তবে বছরের অন্য সময়েও এরা কম-বেশি আসতে পারে। স্ত্রী সবুজ কাছিম দুই বা চার বছর অন্তর পুরুষ কাছিমের সাথে মিলিত হলেও পুরুষ কাছিম প্রতিবছরই নিত্যনতুন স্ত্রী কাছিমের সঙ্গে মিলিত হয়। প্রজনন ঋতুতে তাই পুরুষ কাছিমরা প্রতিবছর প্রজননক্ষেত্রের কাছে এসে পৌঁছায়। যে প্রজননক্ষেত্রে ওদের জন্ম হয়েছিল সেখানেই ওরা বারে বারে ডিম পাড়তে আসে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৬৪: আকাশ এখনও মেঘলা

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০১ : সত্য সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, আর মূর্খ অন্যের ব্যাখ্যায় তাকে খোঁজে!

উপকূলে জলের মধ্যেই স্ত্রী ও পুরুষ সবুজ কাছিমের যৌনমিলন ঘটে। তারপর ত্রী কাছিম উপকূলের সর্বোচ্চ জোয়ার-রেখার থেকে সামান্য উপরে পিছনের একজোড়া ফ্লিপার দিয়ে ১১ থেকে ২২ ইঞ্চি গভীর একটা গর্ত করে। তারপর সেখানে ৮৫ থেকে ২০০ টি ডিম পাড়ে। কতগুলি ডিম পাড়বে তা নির্ভর করে স্ত্রী কাছিমের বয়সের উপর। ডিম পাড়তে এক দেড় ঘন্টা সময় লাগে। ডিম পাড়া শেষ হলে ডিমের ওপর বালি চাপা দিয়ে স্ত্রী কাছিম ফিরে যায় সমুদ্রে। দেখা গেছে স্ত্রী কাছিম বছরে তিন থেকে পাঁচ বার ডিম পাড়ে। ডিমের রঙ সাদা এবং গোলাকার। ব্যাস হয় প্রায় ১.৮ ইঞ্চি। ৫০ থেকে ৭০ দিনের মধ্যে ডিম ফুটে কোনও এক রাত্রে সবুজ কাছিমের বাচ্চারা বেরিয়ে আসে। এই সময় বাচ্চাদের জীবন হয় খুব ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এই সময় শেয়াল, কুকুর তারকেল, গোসাপ কিংবা সামুদ্রিক পাখিরা এদের শিকার করে।
কলকাতায় বৃষ্টি

পরিণত সবুজ কাছিম। ছবি: সংগৃহীত।

এদের প্রজননক্ষম হয়ে উঠতে ২০ থেকে ৫০ বছর সময় লাগতে পারে। হ্যাঁ, ২০ থেকে ৫০ বছর! তাহলে এরা বাঁচে কতদিন? কচ্ছপ বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে সবুজ কাছিমরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ৮০ বছর বাঁচে! তবে বাচ্চাদের মৃত্যুহার এত বেশি যে অনেক বেশি পরিমাণে বাচ্চাকে জন্ম দিতে হয়। বাচ্চাদের মাত্র এক শতাংশ প্রজননক্ষম অবস্থায় পৌঁছতে পারে। স্ত্রী ও পুরুষ পরিণত সবুজ কাছিম খালি চোখে দেখে চেনা যায় কারণ পুরুষদের লেজ স্ত্রীদের থেকে লম্বা হয়, আর সামনের ফ্লিপারের নখর বড় হয়। সামুদ্রিক কচ্ছপদের মধ্যে সবুজ কাছিমের গতিবেগ নাকি সবচেয়ে বেশি। ঘন্টায় ৫৪ কিলোমিটার গতিবেগে সাঁতার কাটতে পারে।
সমুদ্রের তলদেশে বাস্তুতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষায় সবুজ কাছিম অসাধারণ ভূমিকা পালন করে। এরা সামুদ্রিক উদ্ভিদের আগার দিকটা কেটে কেটে খায়। কিন্তু মাটির সঙ্গে যুক্ত অংশ রেখে দেয়। এর ফলে সামুদ্রিক আগাছা আরও সুন্দরভাবে বিস্তার লাভ করতে পারে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক পর্ব-১৬২ : আঁধারে আলো

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

শুধু সবুজ কাছিম নয়, নানা জাতের মাছ ও কবচি প্রাণীরাও এই সামুদ্রিক উদ্যানে বসবাস করে। এই সামুদ্রিক উদ্যানের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে সবুজ কাছিমের ভূমিকা অনবদ্য। আর তাই অনেকেই মজা করে এদের “সমুদ্রের মালি” বলে থাকেন। যেসব সবুজ কাছিম প্রবাল প্রাচীরে বসবাস করে সেখানে একপ্রকার মাছের (হলুদ টাং মাছ, Zebrasoma flavescens) সাথে ওদের দারুণ বন্ধুত্ব দেখা যায়। এরা সবুজ কাছিমের সাথে ঘুরে ঘুরে সমুদ্রের বাগানে শ্যাওলা ও নানা ধরনের জলজ কীট যেমন খায় তেমনই কাছিমের খোলকে ও ফ্লিপারে লেগে থাকা বিভিন্ন পরজীবীকে খেয়ে কাছিমের দারুণ উপকার করে। এতে খোলক ঝকঝকে মসৃণ হয়ে যায়, ফলে জলের মধ্যে দিয়ে কাছিমের সাঁতার কাটতে খুব সুবিধা হয়।
কলকাতায় বৃষ্টি

ডিম ফুটে বেরোচ্ছে সবুজ কাছিমের ছানা। ছবি: সংগৃহীত।

বিভিন্ন প্রজননক্ষেত্র থেকে সবুজ কাছিমরা হারিয়ে যাচ্ছে। মূলত মাংসের জন্য ওদের একসময় নির্বিচারে শিকার করা হয়েছে। সুযোগ পেলে এখনও লুকিয়েচুরিয়ে হচ্ছে। চুরি হয়েছে ডিমও। তাছাড়া এদের বর্ণময় ও বিশালাকার খোলক গৃহস্থালির কাজে গামলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আবার উপকূলে বিপুল পরিমাণে মৎস্য শিকারের সময় জালে আটকে ওরা প্রাণ হারাচ্ছে। ম্যানগ্রোভ নিধন, দূষণের গ্রাস এবং মানুষের আনাগোনা নষ্ট করে দিয়েছে ওদের প্রজননক্ষেত্র। তাই সুন্দরবনের সবুজ কাছিমরা আর এখন আসে না বললেই চলে। চরমভাবে বিপন্ন হয়ে পড়েছে ওরা। ওরা আই.ইউ.সি.এন-এর লাল তালিকাভুক্ত প্রাণী। ভারতীয় বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইনে এরা শিডিউল-১ এ তালিকাভুক্ত। তবে শুধু আইন নয়, আমাদের সচেতনতা ও বন্যপ্রাণের প্রতি ভালোবাসা সবুজ কাছিমদের রক্ষা করতে পারে, আবার ফিরিয়ে দিতে পারে সুন্দরবনে তাদের হারিয়ে যাওয়া প্রজননক্ষেত্র।—চলবে।
* সৌম্যকান্তি জানা। সুন্দরবনের ভূমিপুত্র। নিবাস কাকদ্বীপ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা। পেশা শিক্ষকতা। নেশা লেখালেখি ও সংস্কৃতি চর্চা। জনবিজ্ঞান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের জন্য ‘দ্য সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল ২০১৬ সালে ‘আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ এবং শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান লেখক হিসেবে বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ ২০১৭ সালে ‘অমলেশচন্দ্র তালুকদার স্মৃতি সম্মান’ প্রদান করে সম্মানিত করেছে।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content