শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
 

|| ফোটোগ্রাফ-১১ ||

কিন্তু শ্রেয়া যে কেন হঠাৎ আজ এভাবে রিঅ্যাক্ট করল! শ্রেয়া বদমেজাজি। এই ধরণের মানুষ মাথা দিয়ে ভাবেন না। ভাবতে পারেন না। ভাবতে জানেন না। যেটা মন বলে সেটাই করেন। শরীরের মধ্যে মন কোথায় আর মাথাই বা কোথায়? মন বলতে আমরা হৃদয় বোঝাই বটে। কিন্তু মস্তিষ্ক আর হৃদয় দুটোর অবস্থানই তো মাথার মধ্যে। একতলা আর দোতলা। বাড়িওয়ালা দোতলায় থাকেন আলো হাওয়া বেশি। মাস গেলে নিশ্চিন্ত বাড়িভাড়া রোজগার। টাকার চিন্তা নেই ভেবেচিন্তে অন্য কাজ করেন। একতলায় গাছগাছালির অন্ধকার। মশা কামড়ায়। মাস গেলে এককাঁড়ি টাকা ভাড়া বেরিয়ে যায়। ভাড়াটের রাগ বেশি। অভিমান বেশি। আমাদের মস্তিষ্ক একেবারেই এরকম।
উপরি মস্তিষ্ক। সেরিব্রাল বা প্রি-ফ্রন্টাল কর্টেক্স। সেখানেই জ্ঞান, ভাবনা, যুক্তি বুদ্ধি দিয়ে কোনও জিনিসকে দেখার চেষ্টা। কাজ করার আগে কাজের প্ল্যান করা। কাজের সাফল্য নিয়ে ভাগে ভাগে একটা ধারণা করে রাখা। ভুল রাস্তায় চলে গেলে নিজেকে শুধরে নেবার উপায় ‘প্ল্যান বি’ ঠিক করে রাখা এসব হলো মাথার ওপরতলার দায়দায়িত্ব। নিম্ন মস্তিষ্ক বা ব্রেন স্টেম বা লিম্বিক সিস্টেম। মানে যে অংশটা মস্তিষ্কের নিচের থেকে ঘাড় বেয়ে শিরদাঁড়ায় জুড়ে আছে। সে জায়গাটায় ভরে আছে আবেগ, অনুভূতি, ভয় , দুশ্চিন্তা , সাহস , রাগ , প্রেম স্নেহ ভালবাসা। সাহসের সঙ্গে শিরদাঁড়া শব্দটা তাই বোধহয় এত কাছাকাছি। মোদ্দা কথা যা কিছু আমাদের চিন্তাকে আচ্ছন্ন করে, তা রাগ প্রেম স্নেহ দুশ্চিন্তা ভয় আতঙ্ক যাই হোক তার উৎপত্তিস্থল মস্তিষ্কের একতলায়।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১২৯: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১০

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৬: প্রাকৃতিক অবস্থার পরিবর্তন ও প্রাণীদের অস্থিরতা : যুদ্ধের দূষণ, মনে, প্রাণে, বাতাবরণে, সর্বত্র

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

যন্ত্রণার অতীত ধৃতিমানেরও আছে। বাবুর এই পোষ্যটি ছোট্টবেলার সঙ্গী। বুবু তাঁর আত্মার আত্মীয়। সেই রানাঘাটের বাড়ি থেকে তার সঙ্গে রয়েছে। তখন বাবা-মা সকলে ছিলেন। এখন কেউ বুবুর বয়েস জানতে চাইলে, ‘অত হিসেব করি না’ বলে এড়িয়ে যায়। আসলে তার ভয় হয়। বুবুকে হারিয়ে ফেলার ভয়। মাকে যেমন আচমকা হারিয়ে ফেলেছিল। মা যখন চলে গেলেন বাবু তখন ক্লাস নাইন। বাবু একা আর ভাই বোন নেই। কাছের বলতে ছিল বুবু। বাবা যখন চলে গেলেন তখন বাবু রবীন্দ্রভারতীতে নাটক নিয়ে মাস্টার্স করছে। বাবারা পাঁচ ভাই। পৈতৃকবাড়ি। বাবা চলে যাবার আগে থেকেই চাপা কথাবার্তা চলতো। বাড়ির ভাগবাঁটোয়ারা বাড়ি সারাইয়ের এতও খরচ। বুবুকে নিয়ে বাবু তখনই রানাঘাটের বাড়ি ছেড়ে এসেছে।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৭ : সোনার কেল্লা: ডিটেকশনের ড্রয়িংরুম

একলা নববর্ষ

কিন্তু শ্রেয়া আজ আত্রেয়ীকে নিয়ে হঠাৎ এতো সেনসিটিভ হয়ে উঠলো কেন? শ্রেয়ার সঙ্গে বহুদিনের পরিচয়। প্রথম দেখা গোয়েন্দা কর্তা ভৈরব চক্রবর্তীর ক্যাবিনে। চক্রবর্তী সাহেব ধৃতিমানের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেছিলেন—
—শ্রেয়া ইনি হলেন ধৃতিমান। ধৃতিমান চৌধুরী। ফিল্ম ডিরেক্টর। নাটকের দল আছে। দলের নাম বাবু কালচার! হ্যাঁ ‘থ্যাটার বায়োস্কোপ’তো কলকেতার বাবুসমাজের বিনোদন ছিলই। তাই বাবু কালচার নামটা সুন্দর। পুরনো ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে দেয়। কিন্তু তার মধ্যেও একটা ক্লু আছে। ধৃতিমানের ডাকনাম হল বাবু। তাই বাবু যদি কালচার করে। সেটাও বাবু কালচারই হবে। এটাই ধৃতিমানের ইউএসপি। তারপর শ্রেয়ার পরিচয় দিয়ে ছিলেন।
—আর ধৃতিমান! এই হল আমাদের ডিপার্টমেন্টের অ্যাংরি ইয়াং উমেন! শ্রেয়া বাসু! মেজাজ কখনওই শ্রেয়ার বশে থাকে না! মেজাজ শ্রেয়াকে বশে রাখে। একসঙ্গে কাজ করলে ওকে সামলাতে হবে।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৬: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— সবুজ কাছিম

ত্রিপুরা: বছর সন্ধির পার্বণ ও নববর্ষ

একসঙ্গে কাজ শুনে স্বাভাবিক ভাবে শ্রেয়া অবাক হতেই চক্রবর্তী সাহেব বললেন—
—আমার কথায় ক্লু ছিল শ্রেয়া। ধৃতিমান একজন অতি ধীরস্থির চিন্তাশীল মানুষ পেশা নয়, কিন্তু রহস্য সমাধান ওর নেশা। ওর ছবিতে নাটকে আশ্চর্য সব পাজল থাকে। আমি সিওর আমাদের ধৃতিমান সাহায্য করতে পারবে। তবে অফিসিয়াল ক্যাপাসিটিতে তো নিতে পারবো না, একটু ম্যানেজ করে চলতে হবে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক পর্ব-১৬২ : আঁধারে আলো

চৈত্রশেষে

তারপর থেকে বহুকাজ শ্রেয়া ও ধৃতিমান একসঙ্গে করেছেন। লোকাল থানা বা লালবাজারে এই বহিরাগত মানুষটিকে নিয়ে অনেক অসন্তোষ ছিল। শ্রেয়া সবকিছু সামলে চলতেন আর গোয়েন্দাকর্তা ভৈরব চক্রবর্তীকে কেউই বিশেষ ঘাঁটান না। স্বয়ং কমিশনার তাঁর ওপর ভরসা করেন এবং সকলেই জানেন যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও ভৈরব চক্রবর্তীকে পছন্দ করেন। কিন্তু তিনি অত্যন্ত নিয়মনিষ্ঠ কোনও বাড়তি সুবিধা নেন না! —চলবে।

অমিতাভ হত্যারহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content