বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: সংগৃহীত।

কৃষি ভিত্তিক ভারত প্রায় সমস্ত উৎসব মূলত কৃষি অর্থাৎ ফসল উৎপাদনকে ঘিরে আবর্তিত হয়। উত্তর পূর্বাঞ্চলের উৎসব অনুষ্ঠানও এই ধারার ব্যতিক্রম নয়। ত্রিপুরার অন্যতম উৎসব গরিয়া, গাজন, বিজু — যাই হোক না কেন শষ্য উৎপাদনকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছিল একদিন। সুখ ও সমৃদ্ধির কামনা, নতুন ফসলের জন্য প্রার্থনা যেন সমস্ত উৎসবেরই মূল সুর। ত্রিপুরায় সুদীর্ঘকাল যাবৎ বছর সন্ধির এই কৃষিকেন্দ্রিক পার্বণ এবং বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হয়ে আসছে। মাণিক্য যুগে অর্থাৎ রাজতন্ত্রের সময়কালেও ১লা বৈশাখ নতুন বছরকে বরণ করে নেয়া হতো। রাজধানীর মন্দির মন্দিরে হতো পুজো-পাঠ।

প্রথমেই আসা যাক ত্রিপুরায় বছর সন্ধির পার্বণের কথায়। চৈত্র-বৈশাখের সন্ধিক্ষণে ত্রিপুরার জনজাতিদের প্রধান লোক উৎসব গরিয়া অনুষ্ঠিত হয়। গরিয়া হলেন সুখ ও সমৃদ্ধির দেবতা। জনজাতিদের বিশ্বাস গরিয়া দেবতা তুষ্ট হলে সম্পদ, সন্তান ও শান্তি সুনিশ্চিত হবে। গোলা ভরা ফসল হবে। চৈত্র সংক্রান্তির দিন আবাহন হয় গরিয়ার। এক সপ্তাহ পর উৎসবের সমাপ্তি ঘটে বৈশাখে। এই সাতদিন পাহাড়ের পাড়ায় পাড়ায় চলে নৃত্যগীত। দল বেধে যুবক যুবতীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নৃত্য গীতের মাধ্যমে দেবতাকে তুষ্ট করে। জমাতিয়া, ত্রিপুরী, রিয়াং, নোয়াতিয়া— ত্রিপুরার বিভিন্ন জনজাতি সম্প্রদায় এই উৎসবে সামিল হয়ে থাকে।
ত্রিপুরী সম্প্রদায়ের মধ্য ‘ওচাই’র নির্দেশে গরিয়া পূজা সম্পন্ন হয়। একটি বংশদন্ডকে গরিয়া দেবতার প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়। কাঁচা মূলী বাঁশের শীর্ষে ঝুলানো হয় ফুলের মালা, কাঁচুলি। দেবতার মাথার আকৃতি তৈরি করা হয় বাঁশের মাথায় উদাল গাছের টুকরা বেঁধে। বাঁশের কঞ্চি বাঁশের গায়ে বেধে দেবতার বাহু তৈরি করা হয়। কঞ্চির গায়ে ঝুলিয়ে দেয়া হয় দড়ি বা পাট। জমাতিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবটি উদযাপনের অন্যতম অঙ্গ হল গরিয়া দেবতাকে নিয়ে গ্রাম প্রদক্ষিণ। পূজার উপকরণের মধ্যে রয়েছে ফুল, মালা, তুলা, সুতো, ধান, চাল, মাটির পাত্র, ডিম, কবুতর, মোরগ, হাঁস, মদ ইত্যাদি। চিরাচরিত প্রথা অনুসারে গরিয়া দেবতাকে তুষ্ট করতে হাঁস, মোরগ বলি দেয়া হয় এবং তার রক্ত দেবতার সামনে ছিটিয়ে দেয়া হয়। পুজো চলাকালীন সময়ে কেউই গরিয়া দেবতার ছায়া অতিক্রম করতে পারবেনা। দেবতা রুষ্ট হবেন তা হলে।

এক সময় ত্রিপুরার ফসল উৎপাদন ছিল মুখ্যত জুম (Shifting Cultivation) নির্ভর। ফাল্গুণ-চৈত্র মাসে শুরু হয় জুমের প্রস্তুতি। জঙ্গলের জরাজীর্ণ লতাগুল্ম পোড়ানোর পর বৃষ্টির প্রতীক্ষা। জনজাতিদের কাছে এই সময়টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জুম পোড়ানো, বীজ বপন সারতে হবে সময় মতো। চাই পর্যাপ্ত বর্ষণও। তা হলেই জুমে জুমে হবে সুজন্মা, ফসলে ফসলে ছেয়ে যাবে পাহাড়। সে-জন্যই ফসলের প্রাচুর্যের জন্য চাই কৃষি দেবতার তুষ্টি সাধন। এ ভাবেই এসেছে গরিয়া পুজো। গরিয়াতে আরাধ্য দেবতা হলেন গরিয়া ও কালিয়া। এই দুই দেবতাকে গণেশ ও কার্তিক রূপে ভাবা হয়ে থাকে। গণেশ হলেন সিদ্ধিদাতা অর্থাৎ সমৃদ্ধির দেবতা। কার্তিক হলেন অশুভ শক্তি সংহারক। গরিয়া পূজার কামনা হলো অশুভ শক্তির বিনাশ, সুখ ও সমৃদ্ধির আশা।

গরিয়া পুজো সাম্প্রতিক কালে ত্রিপুরার এক সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।বর্তমানে শহরাঞ্চলের অজনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষও গরিয়া পূজা ও উৎসবে সামিল হচ্ছেন পাহাড়ি এলাকার পাশাপাশি শহরেও বারোয়ারী গরিয়া পুজোর প্রচলন হয়েছে। উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেন শহরবাসীরা। সব সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেন উৎসবে। পুজো উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন হয়ে থাকে। গরিয়া পূজাকে কেন্দ্র করে গরিয়া নৃত্যেরও প্রচলন হয়েছে।গান ও নাচের তালে তালে প্রতিফলিত হয় জুম উৎপাদনের বিভিন্ন প্রক্রিয়া। মেয়েদের থাকে চিরাচরিত পোষাক রিসা ও পাছড়া। ত্রিপুরার জনজাতি নৃত্যের মধ্যে গরিয়া নৃত্য আজ এক বিশেষ স্হান নিয়ে আছে।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৫: নৈতিকতার নিরিখে, মল্লযুদ্ধে জরাসন্ধবধ, আজও প্রাসঙ্গিক কেন?

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা

চৈত্রশেষে

গাজন উৎসবেও ফুটে উঠে বর্ষশেষে নতুনের আবাহনের সুর। প্রকৃতি নির্ভর জীবনে অতি প্রাকৃত নানা বিশ্বাস মানুষের হৃদয়ে প্রোথিত আছে। এই বিশ্বাস থেকেই জন্ম নিয়েছে নানা ধর্ম ভিত্তিক লোকপার্বণ। বাংলার অন্যতম লৌকিক উৎসব হচ্ছে গাজন।চৈত্র সংক্রান্তির দিনে অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসব। উৎসবের কেন্দ্রীয় দেবতা হলেন শিব। ত্রিপুরা এবং বরাক উপত্যকার বাঙালিদেরও অন্যতম উৎসব গাজন। গাজনের মূল বিষয় হচ্ছে সূর্য ও পৃথিবীর মিলন যাতে পৃথিবী শষ্য উৎপাদন করতে পারে। শৈব ধর্ম প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে শিব সর্বোচ্চ দেবতার আসন লাভ করেন এবং সূর্যোৎসবে শিব ও গৌরী সূর্য ও পৃথিবীর প্রতীক দেবদেবী রূপে পরিণত হন। নৃত্যের মাধ্যমে এই উৎসব উদযাপিত হয়।নৃত্যে ত্রিশূল ও ডমরু হাতে থাকেন শিব,সঙ্গে থাকেন গৌরী। উৎসব উদযাপনের জন্য মাসব্যাপী কৃচ্ছসাধন করতে হয় ভক্তদের।গাজনের দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে নৃত্য করে অর্থ ও চাল সংগ্রহ করে উৎসবের জন্য। গাজন উৎসবের বহিরঙ্গের সঙ্গে যেন জনজাতিদের গরিয়ারও মিল খুঁজে পাওয়া যায়। চৈত্রের শেষ দিনে অনুষ্ঠিত হয় চড়ক মেলা। মেলার দিনে গাজনের দল যেমন নৃত্য করে, তেমনই গাজনের সন্ন্যাসীরা মাস ব্যাপী কৃচ্ছ সাধনের পর পিঠে বড়শি গেঁথে চড়ক গাছে ঝুলে নানা রকম শারীরিক কসরৎ প্রদর্শন করে। তার আগে অনুষ্ঠিত হয় চড়ক পুজো। সাধারণত গ্রামাঞ্চলে চড়ক মেলা অনুষ্ঠিত হয়। দূর দূরান্তের দোকানীরা মেলায় হাজির হন।গাজন ও চড়ক মেলা হলো বর্ষশেষে গ্রাম ত্রিপুরার বড় পার্বণ। পুরনো যা কিছু জরাজীর্ণ তাকে ধুয়ে মুছে নতুনের আবাহন যেমন বর্ষশেষের নানা উৎসবের তাৎপর্য তেমনই বলা যায় গরিয়া এবং গাজনও এই ধারার ব্যতিক্রম নয়। গরিয়া এবং গাজনের মূল সুরও কিন্তু অভিন্ন।দুটি উৎসবেই নতুন বছরে নতুন ফসলের প্রার্থনা। সুখ ও সমৃদ্ধির কামনা।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০০ : স্থানীয়রা দিনে কৃষি কাজ করতেন, আর রাতে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিতেন বিপ্লবীরা

বিচিত্রের বৈচিত্র, গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৪: বিড়াল জাতক : অতি চালাকের?

ত্রিপুরার চাকমা সম্প্রদায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয়-সামাজিক উৎসব হচ্ছে বিজু। তিনদিন ব্যাপী এই উৎসব শুরু হয় বাংলা বছরের শেষ দিনের আগের দিন। প্রথম দিনটিকে বলা হয় ফুল বিজু। এ দিনটিতে ঘরের আসবাব, কাপড়চোপড়, বাসনপত্র ইত্যাদি পরিষ্কার করা হয়। উৎসবের উদ্দেশ্যে খাদ্য সামগ্রী সংগ্রহ করা হয়। ফুল দিয়ে ঘর সাজানো হয়।সন্ধ্যায় বুদ্ধ মন্দিরে প্রার্থনা করা হয়। মন্দির, ঘরবাড়ি আলোকমালায় সাজানো হয়। পরদিন অর্থাৎ চৈত্র সংক্রান্তির দিনে হলো মূল বিজু। সকালে নদীতে স্নানের মাধ্যমে এই পবিত্র দিনটির সূচনা হয়। যুবক যুবতীরা চিরাচরিত নতুন পোষাক পরে বাড়ি বাড়ি ঘুরবে এবং প্রতি বাড়িতে সুস্বাদু খাদ্য সামগ্রী গ্রহণ করবে। ঐতিহ্যমন্ডিত খেলাধূলায় কিশোর তরুণ সম্প্রদায় অংশ নেবে। সন্ধ্যায় রয়েছে বিজু নৃত্যের আসর। প্রবীণরা সারা দিন ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকবেন। শেষ দিনটিকে বলা হয় ‘গজ্জে পজ্জে বিজু’। এই দিনটিও নানা রকম ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অতিবাহিত হবে।বিজু উৎসবকে কেন্দ্র করেই সৃষ্টি হয়েছে বিজু নৃত্য। চাকমা সম্প্রদায়ের এই নৃত্যটি বর্তমানে ত্রিপুরার অন্যতম উপজাতি নৃত্য। ছেলে মেয়েরা ঐতিহ্যমন্ডিত পোষাকে এই নৃত্যে অংশ নেয়। ঢোল,বাঁশী,বাঁশ নির্মিত বাদ্যযন্ত্র ঢুডুক,হেংগারাঙ এই নৃত্যে ব্যবহৃত হয়।বিজু নৃত্যে অসমের বিহু নৃত্যের একটা প্রভাব রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। এই ভাবেই কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করেই যেন আবর্তিত হচ্ছে নানা লোকপার্বণ। নানা অঞ্চলে নানা নামে,নানা রঙ্গে।কিন্তু সব উৎসবের মূল সুর অভিন্ন।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৬: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— সবুজ কাছিম

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০১ : সত্য সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, আর মূর্খ অন্যের ব্যাখ্যায় তাকে খোঁজে!

বাঙালিদের বারো মাসে তের পার্বণের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বাংলা নববর্ষ। ইংরেজি নববর্ষও আজ বাঙালিদের পার্বণের তালিকায় ঢুকে পড়লেও ম্লান হয়ে যায়নি বাংলা নববর্ষ উদযাপন। ব্যবহারিক ক্ষেত্রে বাংলা বছর শুধু সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলেও নববর্ষ উদযাপন কিন্তু আজও তার গুরুত্ব কিছুটা বজায় রাখতে পেরেছে। পুজো-পাঠ, শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে বঙ্গ সংস্কৃতির প্রবাহ এখনও যেন কিছুটা অক্ষুন্ন আছে! ইংরেজি বর্ষশেষ আর নববর্ষের খানাপিনা, হুল্লোড়,আতসবাজি-সব মিলিয়ে এতে বিনোদনটাই যেন বড় বিষয়, উদযাপন গৌণ। তার তুলনায় বাংলা নববর্ষ একদিকে যেমন বঙ্গ সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, তেমনই তার অবস্থানও বাংলা ভাষাভাষিদের হৃদয়ে হৃদয়ে, ব্যবহারিক ক্ষেত্রে তার মূল্য কম হলেও! গোটা পৃথিবীর বিপুল সংখ্যক বাংলা ভাষাভাষিরা এই দিনটি উদযাপন করে থাকেন। এমনকি বেশ কয়েক বছর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত এই উৎসবকে ইউনেস্কো থেকে মানবতার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক পর্ব-১৬২ : আঁধারে আলো

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

বাংলা নববর্ষ উদযাপনের ইতিহাস পর্যালোচনায় উঠে আসে সম্প্রীতির ইতিহাস। অনেকে মনে করেন ইসলামিক ও হিন্দু ক্যালেন্ডারের সংমিশ্রণে সম্রাট আকবরের আমলে তা সৃষ্টি বা পুষ্ট হয়েছিল। সৃষ্টি হয়েছিল ফসল উৎপাদন ভিত্তিক ক্যালেন্ডার। অর্থাৎ বাংলা ক্যালেন্ডারের ইতিহাসে সম্প্রীতির সুরের পাশাপাশি রয়েছে মানুষের জীবিকার প্রসঙ্গও।

যাইহোক, সুদীর্ঘকাল ধরে ত্রিপুরাতেও বাংলা নববর্ষ উদযাপিত হয়ে আসছে। মাণিক্য রাজাদের আমলেও গুরুত্বের সঙ্গে দিনটি উদযাপিত হতো। রাজধানীর মন্দির মন্দিরে পুজো-পাঠ, পবিত্র ঘন্টাধ্বনি ইত্যাদি চলতো। বাংলা বছরের প্রথম দিনটিকে যে মাণিক্য রাজাগণ বিশেষ গুরুত্ব দিতেন তার প্রমাণ ছড়িয়ে আছে রাজার আদেশ নামায়। ১৩৫১ ত্রিপুরাব্দের (১৯৪১ খ্রিস্টাব্দ) ১লা বৈশাখ প্রচারিত এক রাজকীয় আদেশনামায় মহারাজ বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্য শুরুতেই লিখছেন, ‘নববর্ষের মঙ্গল প্রত্যুষে আমি আমার প্রিয় প্রজাবৃন্দের মঙ্গল ও উন্নতি কামনা করিতেছি।…’ রাজ সরকারের কাজকর্মেও যে বাংলা বছর তখন এক গুরুত্বপূর্ণ স্হান দখল করে ছিল তা বুঝতে মোটেই অসুবিধা হয় না। অতীতের সেই ঐতিহ্য এখনও টিকে আছে, বঙ্গ সংস্কৃতির প্রবাহকে অক্ষুন্ন রাখতে সহায়তা করছে।
* ত্রিপুরা তথা উত্তর পূর্বাঞ্চলের বাংলা ভাষার পাঠকদের কাছে পান্নালাল রায় এক সুপরিচিত নাম। ১৯৫৪ সালে ত্রিপুরার কৈলাসহরে জন্ম। প্রায় চার দশক যাবত তিনি নিয়মিত লেখালেখি করছেন। আগরতলা ও কলকাতার বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে ইতিমধ্যে তার ৪০টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ত্রিপুরা-সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের ইতিহাস ভিত্তিক তার বিভিন্ন গ্রন্থ মননশীল পাঠকদের সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়ও সে-সব উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে। রাজন্য ত্রিপুরার ইতিহাস, রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ত্রিপুরার রাজ পরিবারের সম্পর্ক, লোকসংস্কৃতি বিষয়ক রচনা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সঞ্জাত ব্যতিক্রমী রচনা আবার কখনও স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাস ইত্যাদি তাঁর গ্রন্থ সমূহের বিষয়বস্তু। সহজ সরল গদ্যে জটিল বিষয়ের উপস্থাপনই তাঁর কলমের বৈশিষ্ট্য।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content