
|| ১৪ ||
দিয়ার মায়ের কথা হাঁ হাঁ করে উঠলেন বিশু পাল।
— একী বলছেন বৌদি! কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছে। আজ সে ঠিকমত চাকরি পাচ্ছে না কালকে পেয়ে যাবে। তাবলে ওর মতো একটা মেয়েকে আমার গ্যাস এজেন্সিতে কলমপেষার কাজে নিয়ে,… না না সে যে বড় অন্যায় হবে। সে যে আমার মেয়ের মতোই। হ্যাঁ, আমার মেয়ে সে রকম পড়াশোনা করেনি। পাড়ার ছেলের সঙ্গে প্রেম করে বসলো। বিয়ে তো দিতেই হবে।
— একী বলছেন বৌদি! কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছে। আজ সে ঠিকমত চাকরি পাচ্ছে না কালকে পেয়ে যাবে। তাবলে ওর মতো একটা মেয়েকে আমার গ্যাস এজেন্সিতে কলমপেষার কাজে নিয়ে,… না না সে যে বড় অন্যায় হবে। সে যে আমার মেয়ের মতোই। হ্যাঁ, আমার মেয়ে সে রকম পড়াশোনা করেনি। পাড়ার ছেলের সঙ্গে প্রেম করে বসলো। বিয়ে তো দিতেই হবে।
কিন্তু দিয়ার মতো একজন মেধাবী ছাত্রীকে কী করে আমি আমার গ্যাসের দোকানে… না বৌদি তা হয় না।
— চাকরি পেলে তবে তো! ততদিন আমাদের কি করে চলবে?
বিশু পাল খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বসেছিলেন।
— বৌদি আপনিতো ক্লাস টেন অব্দি পড়েছেন।
— হ্যাঁ। পড়েছি!
— গ্যাস এজেন্সির কাজটা আমি আপনাকে দেবো।
— আমি? আমি ওসব হিসেবের কাজ পারবো!
— আপনাকে কোন হিসেবের কাজ করতেই হবে না। আমার এজেন্সিতে পুরনো লোক আছে তারা শিখিয়ে দেবে। আপনার সেলাই করার থেকে কম পরিশ্রমের কাজ। অত মাথাও ঘামাতে হয় না। সকালদুপুর একই কাজ। এক সপ্তাহে আপনি সব শিখে যাবেন। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি।
— চাকরি পেলে তবে তো! ততদিন আমাদের কি করে চলবে?
বিশু পাল খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে বসেছিলেন।
— বৌদি আপনিতো ক্লাস টেন অব্দি পড়েছেন।
— হ্যাঁ। পড়েছি!
— গ্যাস এজেন্সির কাজটা আমি আপনাকে দেবো।
— আমি? আমি ওসব হিসেবের কাজ পারবো!
— আপনাকে কোন হিসেবের কাজ করতেই হবে না। আমার এজেন্সিতে পুরনো লোক আছে তারা শিখিয়ে দেবে। আপনার সেলাই করার থেকে কম পরিশ্রমের কাজ। অত মাথাও ঘামাতে হয় না। সকালদুপুর একই কাজ। এক সপ্তাহে আপনি সব শিখে যাবেন। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা / ৬৫

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০১ : ত্রিপুরাতেও সিপাহি বিদ্রোহের ছোঁয়া লেগেছিল
বিশু পালের চেষ্টায় মায়ের চাকরি হল গ্যাস এজেন্সিতে। মায়ের সঙ্গে দিয়া প্রথমদিন এজেন্সিতে গিয়েছিল দিয়া। মা সেলাইয়ের কাজ স্কুলে আর ঘরে করতেন। বাবার অসুখের সময়ই মায়ের সেভাবে বাইরে বের হওয়া। পাঁচটা অচেনা মানুষের সঙ্গে কথা বলা। কাগজ নিয়ে এঘর ওঘর। এ টেবিল ও টেবিল। বাবার মৃত্যুটা একটা বড়ো ধাক্কা। মা আর দিয়া দু’জনের জন্যেই। কিন্তু দিয়া জানতো বাবা বেশীদিন থাকবেন না! মাও হয়তো জানতেন! যেমন আমরা সকলে অনেক কিছু জানি কিন্তু মনে মনে মানতে পারি না। তাই দিয়ার যন্ত্রণাটা একরকম।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৩ : রিমিতার ব্রেকিং-নিউজ

একলা নববর্ষ
মায়েরটা অন্যরকম। একটা মানুষকে ঘিরে এত বছরের যৌথজীবনে একটা ছেদ। হঠাৎ যেন একটা ভয়ঙ্কর শূণ্যতা। দিয়া বোঝার চেষ্টা করেও যেন মায়ের একাকীত্ব বুঝতে পারে না। অপরের মনকে বোঝা খুব কঠিন। স্বামী-স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে সকলেই হয়তো তাদের মতো চেষ্টা করে। কিন্তু বুঝতে পারে ? দিয়া তো চেষ্টা করেও পারে না।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৭: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— শিকরেঠুঁটো কাছিম

ত্রিপুরা: বছর সন্ধির পার্বণ ও নববর্ষ
হঠাৎ করে একটা অচেনা পরিবেশে কাজ করতে যাবার আগে মাকে যেন অদ্ভুত একটা কুণ্ঠা জড়িয়ে ধরেছিল। সেখানে গ্যাসের ডেলিভারি বয়দের ভিড়, অচেনা কাস্টমার। একেকজন একেক রকম। যখন মা প্রথম কাজ শুরু করেছিলেন তখন এতও মোবাইল বুকিং-এর চল ছিল না। লোকজন এসে গ্যাসের বই দিয়ে বুকিং করতো। গ্যাস পৌঁছতে দেরি হলে তারা মেজাজ দেখাতো। মা নিজে গ্যাস বুক করতে গিয়ে এসব দেখেছেন। তাই সেখানে কাজ করতে গিয়ে খুব ভয় পেয়েছিলেন।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৬: প্রাকৃতিক অবস্থার পরিবর্তন ও প্রাণীদের অস্থিরতা : যুদ্ধের দূষণ, মনে, প্রাণে, বাতাবরণে, সর্বত্র

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৭ : সোনার কেল্লা: ডিটেকশনের ড্রয়িংরুম
— ও দিয়া! আমি বোধহয় পারবো না রে!
— কেন পারবে না?
— অতো হিসেবপত্তর! কম্পিউটার! ভুলচুক হলে বকাবকি করবে! এ বয়সে এসে আর ওসব সহ্য হবে না। হয়তো মাইনে কেটে নেবে।
— তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে মা? হ্যাঁ, ভুলচুক হলে কথা শুনতে হয়! সেতো সংসারেও হয়! তুমি বাবাকে শোনাতে না? বাবাও কখনও সখনও মাথাগরম করে ফেলতো। আমি ভুল করলে তুমি বকাবকি করো না। আমিও তোমাকে ছাড়ি না। কথা শুনিয়ে দি!
— সেতো বাড়িতে। নিজেদের মধ্যে!
— ভুল তো ভুল মা! বাড়িতে হোক আর বাড়ির বাইরে। মুখ বুজে সহ্য করতে হবে।
মা বিড়বিড় করে বলেছিলেন।
— হ্যাঁ! সহ্য করতে হবে! সংসারের জন্যে কষ্ট সহ্য করেছি! এবার বেঁচে থাকার জন্যে লোকের কথা সহ্য করতে হবে।—চলবে।
— কেন পারবে না?
— অতো হিসেবপত্তর! কম্পিউটার! ভুলচুক হলে বকাবকি করবে! এ বয়সে এসে আর ওসব সহ্য হবে না। হয়তো মাইনে কেটে নেবে।
— তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে মা? হ্যাঁ, ভুলচুক হলে কথা শুনতে হয়! সেতো সংসারেও হয়! তুমি বাবাকে শোনাতে না? বাবাও কখনও সখনও মাথাগরম করে ফেলতো। আমি ভুল করলে তুমি বকাবকি করো না। আমিও তোমাকে ছাড়ি না। কথা শুনিয়ে দি!
— সেতো বাড়িতে। নিজেদের মধ্যে!
— ভুল তো ভুল মা! বাড়িতে হোক আর বাড়ির বাইরে। মুখ বুজে সহ্য করতে হবে।
মা বিড়বিড় করে বলেছিলেন।
— হ্যাঁ! সহ্য করতে হবে! সংসারের জন্যে কষ্ট সহ্য করেছি! এবার বেঁচে থাকার জন্যে লোকের কথা সহ্য করতে হবে।—চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















