রবিবার ৮ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
সকাল থেকেই পিশাচপাহাড় হেলথ-সেন্টারে আজ অস্বাভাবিক রকম ভিড়। এমনিতে হেলথ্‌-সেন্টারটি মাছি তাড়ালেও, বছরে মাঝেমধ্যে এইরকম দিন আসে। কারণটিও জানা গেল, চার্চের হাসপাতালের দু’জন ডাক্তার হঠাৎ করে ছুটি নেওয়ায় সেখানে আজ খুব চাপ। অনেককে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে দু’দিন পরে আসতে বলে। গরিব-গুর্বো মানুষ সব। অনেক কষ্টে কাজটাজে না গিয়ে একদিন নষ্ট করে এসেছে ডাক্তার দেখাবে বলে, এখন চার্চের হাসপাতাল হাত গুটিয়ে নিলে তারাই বা যায় কোথায়? সে-কারণেই তারা হেলথ্‌-সেন্টারে এসে ভিড় জমিয়েছে। আশেপাশে জটলা করে বসে আছে সব। গোবিন্দ সকলকে এক-একটা টোকেন ধরিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সে জানে না, ডাক্তারবাবু কখন আসবেন। সেই যে রাতে বেরুলেন, এখনও ফেরেননি।

শেফালিকা বিশ্বাস অবশ্য সকাল-সকাল চলে এসেছেন। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ মানুষ তিনি। সাধারণ চিকিৎসা কীভাবে করতে হয়, সেগুলি তাঁর নখদর্পণে। রেশমাও চলে এসেছে। সচরাচর দুজনের কেউই কামাই করে না, ফাঁকিও দেয় না কাজে। কিন্তু ডাক্তারবাবু না থাকলে মুশকিল হল এই যে, শেফালিকা কিংবা রেশমা—কেউই তো আর প্রেসক্রিপশন লিখতে পারবেন না। ছোটখাট পেটব্যথা, কান কটকট, জ্বরজারি ইত্যাদির ওষুধ মেডিকেল স্টোর থেকে দিয়ে দেওয়াই যায়, কিন্তু হিসেব মেলানর সময় তো ডাক্তারের সার্টিফায়েড ডক্যুমেন্টস লাগবে। এদিকে ভিড় ক্রমেই বাড়ছিল।
রেশমা এসে বলল, “শেফালিকাদি, ডাক্তারবাবু তো এখন ফিরলেন না। এখন এদের ফেরাই কী বলে? এতক্ষণ বসিয়ে রেখে যদি বলি আজ ডাক্তারবাবু দেখবেন না, তাহলে তো ঝামেলা বাধাতে পারে!” তার গলায় চিন্তার সুর। সত্যব্রতকে সকলেই ভালোবাসে, কেউ দাদা, কেউ ভাই, কেউ সহৃদয় স্যারের মতো দেখে। সত্যব্রতও তেমনভাবেই দেখেন তাঁর এমপ্লয়িজদের। ফলে এখানে ঝামেলা বাধতে পারে, এটা যেমন চিন্তার, তেমনই সত্যব্রত এখনও কেন ফিরছেন না, সেটাও সমান চিন্তার।

শেফালিকা ভিতরে-ভিতরে চিন্তিত এবং সতর্ক হলেও বাইরে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছেন। কাল ডাক্তারবাবু রাতে ফোন করে এমন একজনকে তাঁর কাছে রেখে গিয়েছে, তাকে রক্ষা করা এখন তাঁর অন্যতম কর্তব্য। আবার একজন নার্স হিসাবে রুগীর আপৎকালীন সেবাশুশ্রূষা করাও তাঁর প্রাথমিক কর্তব্য। দু’টি দিক সামাল দেওয়াই তাঁর কাজ এখন। মনে-মনে তাঁর চিন্তা হচ্ছে, ডাক্তারবাবুকে নিয়ে। কাল ওইরকম একটা পরিস্থিতির মধ্যে এমারজেন্সি কল এলেই তাঁকে চলে যেতে হল? গোবিন্দকেও সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারতেন? বিপদ যদি কিছু ঘটে, তাহলে তিনি বা রেশমা কীভাবেই বা সামাল দেবেন? এদিকে মুশকিল হচ্ছে, যতবার ফোন করছেন, ততবার টেম্পোরারিলি আউট অফ সার্ভিস কিংবা স্যুইচড অফ বলছে। মোবাইলে কি চার্জ শেষ হয়ে গিয়েছে? চার্জারও তো নিয়ে যাননি নিশ্চয়ই। কিন্তু যেখানে এমারজেন্সি কলে গেছেন, সেখানে কারুর কি ওইরকম চার্জার নেই, যাতে সত্যব্রত নিজের ফোনটা চার্জ দিতে পারেন ? ব্যাপারটা ঠিক সুবিধার মনে হচ্ছে না তাঁর।

একবার বাইরে তাকিয়ে দেখলেন তিনি, তারপর শেফালিকাকে বললেন, “চিন্তা করিস না। আমি আর তুই মিলে যেগুলি আমাদের দেখবার মতো সেগুলি দেখে দেবো। আর যা সত্যি সেই কথাই বলব যে, ডাক্তারবাবু এমারজেন্সি কলে গেছেন, এখনও ফেরেননি। হয়ত ক্রিটিক্যাল কেস!”
“ওরা শুনলে হয়। যা সব গোঁয়ার-গোবিন্দ টাইপের পাবলিক।”
“শুনবে, ভালো করে বুঝিয়ে বললে শুনবে না কেন?” শেফালিকা আশ্বস্ত করেন রেশমাকে। তারপর জিজ্ঞাসা করেন, “গোবিন্দ কোথায়?”
“বাইরেই তো ছিলো। এই কিছুক্ষণ আগে টোকেন নিয়ে গেল তো!”
“ওকে ডাক, আর টোকেন বিলি করতে বারণ কর। ডাক্তারবাবুর যদি আরও দেরি হয় আর ওদের হাতে যদি টোকেন থাকে, তাহলে ওরা আরও বেশি করে হুজ্জুতি করবে।”
“ঠিক আছে, আমি ডাকছি দাঁড়াও,” বলে রেশমা চলে গেল।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১১৮: একটি খালি বিয়ারের বোতল

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০২: শ্রীমার অন্তিম সময়কালীন ভবিষ্যবাণী

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬২: এক নির্বাসিত রাজপুত্রের কথা

চেয়ার থেকে উঠে দরজায় গিয়ে একবার দাঁড়ালেন শেফালিকা। দেখতে চাইলেন ভিড়ের বহর। তখনই তাঁর চোখে পড়ল, কিছু লাফাঙ্গা টাইপের চোয়াড়ে লোক চোখে-মুখে শ্যেনদৃষ্টি নিয়ে হেলথসেন্টারের দিকে তাকিয়ে বসে আছে, সামনের গাছতলায়। ওদের হাবভাব মোটেও ভালো লাগল না তাঁর। সবক’টিই অচেনা মুখ। আগে কোনওদিন এই সেন্টারে দেখেন নি। এলাকাতেও চোখে পড়েনি। পড়লে ওইরকম চেহারা মনে থাকতো। ওরা কি পেশেন্টপার্টি? কিন্তু তাহলে তো আশেপাশে পেশেন্ট থাকবে। ওদের আশেপাশে তো তেমন অসুস্থ কেউ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না! না-কি ওরা নিজেরাই পেশেন্ট? কিন্তু তা-হলে ওদের চেহারায়, চোখে-মুখে অসুস্থতার কোন চিহ্ন, উদ্বেগ এইসমস্ত দেখা যেত, তা তো দেখতে পাচ্ছেন না শেফালিকা। ওরা মোবাইল ঘাঁটছে, নিজেদের ভিতর ফিসফাস করে কীসব কথাবার্তা বলছে, আবার মাঝেমধ্যে শ্যেনদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে হেলথসেন্টার, তাঁদের কোয়াটার্স ইত্যাদির দিকে। দেখে মনে হচ্ছে, জরিপ করছে যেন। কী দেখছে ওরা?

তারপরেই ভয়ে হিমঠাণ্ডা হয়ে গেল শেফালিকার ভিতরটা। ওরা কি তবে সেই হায়নার দল, যারা নিরীহ মেয়েটির পিছনে পড়ে আছে তাকে খুন করবে বলে? সত্যব্রত তো সেটাই বলেছেন কাল রাত্রে। নুনিয়ার খুব বড় বিপদ। ওকে খুন করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে একদল কালপ্রিট। যেভাবেই হোক ওকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, তারপর সেফ কাস্টডি হিসেবে কলকাতা থেকে আসা গোয়েন্দা-অফিসারের হাতে তুলে দিতে হবে। উনিই পারবেন ওর স্পেশাল প্রোটেকশনের ব্যবস্থা করতে। নুনিয়া না-কি অনেককিছু জানে। এই এলাকায় একের-পর-এক ঘটে যাওয়া অপরাধ থেকে শুরু করে বুধন মাহাতো কেসের অনেককিছুর আই-উইটনেস হল নুনিয়া। রাতের বেলা তাঁর কাছে সত্যব্রত অনুরোধ জানায় যেভাবেই হোক নুনিয়াকে দু-এক দিনের জন্য তাঁর কাছে শেলটার দিতে হবে।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮২: যে রাজাকে দেখলে প্রজারা ভয় পান, সেই রাজা ভালো প্রশাসক হতে পারেন না

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৮: সত্যনিষ্ঠতার মাপকাঠি কী নাস্তিকতার নিরিখে বিচার্য?

তবে তাতে আপত্তি ছিল না শেফালিকার। একাই তো থাকেন। এই দুনিয়ায় আপন বলতে একমাত্র মেয়ে। তার বিয়ে হয়েছে কত দূরে। সে-ও পেশায় নার্স। আর বছর দুই পরে রিট্যায়ার করে মেয়ের কাছেই চলে যাবেন ঠিক করে রেখেছেন শেফালিকা। সেখানে গিয়ে যদি প্রাইভেট কোনও হাসপাতালে ইচ্ছে হয় কাজ খুঁজবেন, নাহলে একমাত্র নাতনির সঙ্গে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেবেন। জামাইয়ের মেডিকেল স্টোর আছে। মোটামুটি ভালোই চলে। ওরা তো এখন থেকেই বলে ভিআরএস নিয়ে ওদের কাছে চলে যেতে। নাতনির সঙ্গে ভিডিও-কলে কথা হয় হোয়াটসঅ্যাপে। সেও দিদিমাকে চলে আসতে বলে। কিন্তু চাকরির টার্ম শেষ না করে কীভাবেই বা যান তিনি? এখানে একা নিঃসঙ্গ জীবন যে খুব ভালো লাগে তা তো নয়। সেই কোন্‌ কালে অ্যাকসিডেন্টে স্বামীকে হারিয়েছেন। তারপর দাঁতে দাঁত চেপে মেয়েকে মানুষ করেছেন, বিয়ে দিয়েছেন। গোটা জীবনটাই তো কেটে গেল ভাগ্যের সঙ্গে লড়াই করে। সে-লড়াই এখন শেষ হয় নি। এখন না-হয় আর একটি বাচ্চা মেয়ের জন্য লড়াই করলেন। তবে এইমুহূর্তে ওই লোকগুলিকে দেখে মনে হচ্ছে লড়াই হলেও সে-লড়াই ঠান্ডা নয়, খুব হিংস্রই হবে।

সরে এলেন তিনি দরজা থেকে। ওরা লক্ষ্য রাখছে। ওদের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকলে কিংবা বারবার চোখ গেলে বুঝতে পারবে যে, নিশ্চয়ই কোথাও কোন সমস্যা আছে। এখন একেবারে শান্ত-ধীর-স্থির থাকতে হবে। নুনিয়াকে তিনি ডাকাবুকো বলেই জানতেন। কারুর কথা শোনে না, চার্চের হোস্টেলের নিয়ম মানে না, যখন-তখন প্রাণ হাতে করে জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়, কিন্তু তাকে আজ সকালে দেখে তিনি নিজেই অবাক হয়ে গেছে। ভয়ে সিঁটিয়ে আছে মেয়েটি। নুনিয়ার জীবনের ঝড়ঝাপটার কথা, তার ব্রুটালি রেপড্‌ হওয়ার কথা জানেন শেফালিকা। ওইটুকু মেয়ের উপর যারা পাশবিক অত্যাচার করতে পারে, তারা আসলে পশুরও অধম। পশুরা এত নির্দয় হয় না। প্রকৃতির শেখানো পথ ছাড়া তারা নিজেদের জন্য কোন অন্যায় পথ তৈরি করে নেয় না। এ-কেবল মানুষই পারে। মেয়েটিকে সকালে পরোটা আর আলুভাজা করে দিয়েছিলেন, সঙ্গে নিজের হাতে তৈরি আমের আচার। মেয়েটা গোগ্রাসে খেয়েছে। ভালো করে নিশ্চয়ই খাওয়া হয় নি কতদিন। ও মিষ্টি জাতীয় জিনিস খায় না, দুধ খায় কি-না জানা নেই। ঘরে দুধ নেইও। দুধ খাওয়ার মতো বাচ্চাই যে নেই।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৪: ভুবন চিল ও শঙ্খচিল

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৫৯: নীল হ্রদের পারে, নীল আকাশের নিচে লাল রঙের হেলিকপ্টার অন্য মাত্রা এনে দিয়েছিল

শেফালিকা নিজে দুগ্ধজাতীয় খাবার পছন্দ করেন না। কিন্তু যদি দরকার পড়ে তাহলে নুনিয়ার জন্য দুধ আনাবেন। সমস্যা হচ্ছে, কাল থেকে মেয়েটি সামান্য হুঁ-হ্যাঁ ছাড়া আর কোন কথাই বলেনি। সারাক্ষণ চুপ করে কী যেন ভেবে গিয়েছে। ওকে বেশি ঘাঁটাতে যাননি। আগে মেন্টাল ট্রমা কাটিয়ে উঠুক, তারপর দেখা যাবে। ভেবেছিলেন গোবিন্দকে দিয়ে মাছ আনাবেন বাজার থেকে। কিংবা চিকেন। সন্ধ্যেবেলা গিয়ে নুনিয়ার জন্য ভালো করে রাঁধবেন। কিন্তু তারপর নিজেই ভেবেছেন, গোবিন্দকে দিয়ে এ-সব আনানো যাবে না। এমনিতেই শেফালিকা খুব সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত। গোবিন্দ কেন, এখানকার সকলেই সেটা জানে। হঠাৎ করে মাছ-মাংসের ঘটা দেখলে সক্কলে সন্দেহ করবে। কিন্তু নুনিয়া যে তাঁর কাছে আছে, সেটা তো কাউকে জানতে দিলে চলবে না। সেইকারণেও তিনি দুধের ব্যবস্থা করে দিতে গোবিন্দকে বলতে পারছেন না। ও সন্দেহ করবে। প্রশ্নে-প্রশ্নে জেরবার করবে। গোবিন্দর কৌতূহল বেশি বলেই তার কাছে অনেকের হাঁড়ির খবর থাকে।

তক্ষুনি মনে হল, গোবিন্দের কাছ যেহেতু সক্কলের হাঁড়ির খবর থাকে, সেহেতু ও-তো জানতে পারে ওই সন্দেহভাজন লোকগুলির সম্পর্কে। ও এলে ওকেই কায়দা করে জিজ্ঞাসা করতে হবে। এখন সাধারণ সমস্যা নিয়ে এসেছে, তাদের একে-একে ডাকবেন বলে ঠিক করলেন। গোবিন্দ এলে ওকেই বলবেন, সকলকে বলতে যে, ডাক্তারবাবু জরুরি কলে বাইরে গেছেন, কখন ফিরবেন জানা নেই, যাদের সাধারণ জ্বর বা সমস্যা তারা চাইলে সিনিয়র নার্সদিদিকে দেখিয়ে ওষুধ নিতে পারেন, তবে ডাক্তারবাবু না আসা পর্যন্ত প্রেসক্রিপশন পাবে না কেউই।
এমনসময় রেশমা গোবিন্দকে নিয়ে ঢুকল।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২: “জনৈক গণশত্রুর জবানবন্দি”

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১১৯: আশ্রমের ছাত্ররা বৃষ্টিতে ভিজলে কুইনাইন খাওয়ানো হত

গোবিন্দ শেফালিকালে বলল, “কী দিদি? আপনি ডেকেছেন?”
“হ্যাঁ গোবিন্দ। না ডেকেই বা কী করি বল? দেখছ তো অবস্থা! আজ ডাক্তারবাবু নেই, আজকেই যেন পেশেন্ট পার্টির বান ডেকেছে।”
“সেটাই তো সমস্যা গো। ব্যাপারটা আমার ভালো ঠেকছে না। কাল রাতে ডক্টরসাবকে নিয়ে কারা যেন চলে গেল। তাদের কাউকেই আমি চিনি না। কোন মুলুকে গেল তাও বুঝতে পারলাম না। এত বেলা হয়ে গেল, এখন ফিরছেন না, চিন্তা হচ্ছে!” গোবিন্দ চিন্তিত মুখে বলল।
“তোমার সঙ্গে যাওয়া উচিৎ ছিল গোবিন্দ!” শেফালিকা বললেন।
“আমি যেতে চেয়েছিলাম দিদি। কিন্তু ডক্টরসাব নিজেই মানা করলেন। বললেন, সেন্টারের খেয়াল রাখতে। কিছু হলে জানাবেন। কিন্তু আমি কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত বেশ কয়েকবার ফোন করে দেখেছি, ফোন বন্ধ আছে ওঁর। কী-হল কিছুই বুঝতে পারছি না!”
“গোবিন্দ, এখানে আজ যারা উপস্থিত হয়েছে ডাক্তারকে দেখানোর জন্য তারা সক্কলেই নিশ্চয়ই স্থানীয় লোক এবং তোমার চেনা। মানে আমি বলতে চাইছি, ডাজতারবাবু ইমার্জেন্সি কলে গিয়েছেন, কখন ফিরবেন বোঝা যাচ্ছে না—এ-কথা শুনলে তারা নিশ্চয়ই অসহিষ্ণু হবে না। তোমার চেনা লোক হলে একটু নিশ্চিন্ত হই, এই আর কি!”
“সক্কলেই কি-আর চেনা হয় দিদি? তবে কিছু আছে, যারা চেনা। তাদের বোঝালে তারা বুঝবে। কিন্তু ওদিকে ওই বকুলগাছতলায় কয়েকটা লুচ্চা-টাইপ আদমি বসে আছে, ওদের কখন দেখি নি আগে। লোক্যাল লোক বলে মনে হচ্ছে না। ভাবগতিকও সুবিধার নয়। পেশেন্টের কী হয়েছে জিজ্ঞাসা করে টোকেন দিতে গেলাম, ডাক্তার কখন আসবেন জানতে চাইলো, তারপর না-কি টোকেন নেবে। আচ্ছা আপনিই বলুন, কোন পেশেন্টপার্টি এইভাবে টকেনকে রিফিউজ করে? লোকগুলিকে দেখে আমার সুবিধার মনে হচ্ছে না। খালি মনে হচ্ছে, কী-এক গণ্ডগোল পাকাবার মতলব নিয়ে এসেছে যেন!”
শেফালিকা বললেন না যে, ওদের তিনিও দেখেছেন এবং একই রকম ভেবেছেন ওদের সম্পর্কে। মুখে বললেন, “তাহলে কী হবে গোবিন্দ?”
গোবিন্দ এক-মুহূর্ত ভাবল। তারপর বলল, “ওরা গোখরো হোক বা কালাচ, সাপের বিষ ঝাড়তে হলে ওঝা ডাকতে হবে।”

রেশমা বলল, “অই ওঝারা কিন্তু বুঝরুকি করে। আদতে কিছুই করতে পারে না। লাভের মধ্যে সাপে-কামড়ানো মানুষটি মারা যায়। ফলে ওঝা ডাকলে হবে না। সাপুড়ে ডাকতে হবে। স্নেক-ক্যাচার!”
“এটা ভালো বলেছেন রেশমাদিদি, ঠিক ঠিক, স্নেক-ক্যাচারই ধরুন ডাকতে হবে, তার ব্যবস্থা করছি। নাহলে আমার মন বলছে, আজ একটা আগেভাগে করে রাখা প্ল্যানমাফিক এখানে একটা ঝামেলা হবেই হবে। ওরা সেই ঝামেলার হোতা!” বলে কাকে ডায়াল করতে লাগল ফোনে। —চলবে।
* ধারাবাহিক উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer atanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content