
ছবি: সংগৃহীত।
দুলাল বা সাধারণত ছেলেরা এখানেই ভুল করে বসে। তাদের মধ্যে কৌতূহল মেয়েদের থেকে একটু হলেও কম কোনও একটা অপ্রাসঙ্গিক বিষয় টেনে এনে পরিস্থিতিকে অনেকটা ভারী করে তুলতে তারা চায় না। মেয়েরা ঠিক উল্টো। কোনও কৌতূহল না মেটানো পর্যন্ত তাদের মনে শান্তি নেই!
দুলাল দুর্বলতা থেকে নয় সে আসলে ভাবছে স্নিগ্ধাকে তারা কেন এতও গুরুত্ব দেবে? ফুলশয্যার রাতে স্নিগ্ধাকে নিয়ে কথা হবে কেন?
—কি মুশকিল আজ কত লোকজন এসেছিল বলো তো? সকলের সঙ্গেই প্রায় ফ্যামিলি ছিল। লাল-নীল-কালো-হলুদ কোন শাড়ি পরা কে ছিল, অত মনে থাকে?
তৃপ্তি মনে মনে ভাবছে কেন দুলাল বুঝতে পেরেও, না বোঝার ভান করছে!
—কি আশ্চর্য! মেয়েটা শুধু তোমার সঙ্গে আলাদা ছবি তোলার জন্যে বায়না করল। তাঁর মা-ও তোমায় বললেন, মণি এসে শেষমেশ তোমাদের দুজনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়ে তার আশায় জল ঢেলে দিল। আর তুমি তাকে বুঝতে পারছো না?
—কি মুশকিল আজ কত লোকজন এসেছিল বলো তো? সকলের সঙ্গেই প্রায় ফ্যামিলি ছিল। লাল-নীল-কালো-হলুদ কোন শাড়ি পরা কে ছিল, অত মনে থাকে?
তৃপ্তি মনে মনে ভাবছে কেন দুলাল বুঝতে পেরেও, না বোঝার ভান করছে!
—কি আশ্চর্য! মেয়েটা শুধু তোমার সঙ্গে আলাদা ছবি তোলার জন্যে বায়না করল। তাঁর মা-ও তোমায় বললেন, মণি এসে শেষমেশ তোমাদের দুজনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়ে তার আশায় জল ঢেলে দিল। আর তুমি তাকে বুঝতে পারছো না?
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৩: জলপিপি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০২: শ্রীমার অন্তিম সময়কালীন ভবিষ্যবাণী

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৬২: এক নির্বাসিত রাজপুত্রের কথা
তৃপ্তির আসল মানসিক উথালপাথালটা বুঝে দুলাল তাকে সেই রাতেই নিশ্চিন্ত করতে পারলে সমস্যাটা মিটে যেত। কিন্তু ছেলেরা তাদের মানসিকতা দিয়ে মেয়েদের বিচার করে। অবশ্য শতকরা পঁচানব্বই ভাগ মেয়েরাও তাই! শুধু পাঁচ শতাংশ নারী-পুরুষ নিজেদের মানসিকতার বদল ঘটাতে জানে। তাই দুলাল সেই রাতে বুঝতেও পারেনি তৃপ্তির মনে স্নিগ্ধা একটা উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮২: যে রাজাকে দেখলে প্রজারা ভয় পান, সেই রাজা ভালো প্রশাসক হতে পারেন না

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৮: সত্যনিষ্ঠতার মাপকাঠি কী নাস্তিকতার নিরিখে বিচার্য?
এত তুচ্ছ কারণে উদ্বেগ? প্রশ্নটা দুলালের মতো অনেকেরই মনে হবে, কিন্তু হ্যাঁ! আর এই উদ্বেগটা যুক্তিযুক্ত! দেখতে যাওয়ার দিন, বিয়ের দিন আর সেই বৌভাতের দিন মিলিয়ে মাত্র তিনদিন তৃপ্তি দুলালকে দেখেছে। সে ছোটবেলায় মা-বাবাকে হারিয়েছে। বড় হয়ে ছোটভাইকে হারিয়েছে। প্রাপ্তির ভাঁড়ার শূন্য! দুলাল মানুষটা কতটা বিশ্বস্ত, কতটা দ্বায়িত্ববান তৃপ্তি তার বিন্দুবিসর্গ জানে না! একেবারে একা এই মানুষটার মুখোমুখি বসবার সুযোগ পেয়েছে এই প্রথম। তাই তার মধ্যে প্রথম পরিচিতির সংশয় আছে, ভয় আছে, উদ্বেগ আছে! তারই মধ্যে এই অন্য একটি মেয়ের আবির্ভাব। আবার তার কথা তুলতে দুলাল তাকে বুঝতে না পারার ভান করছে। কেন?
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১১৯: গোখরো কিংবা কালাচ

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৫৯: নীল হ্রদের পারে, নীল আকাশের নিচে লাল রঙের হেলিকপ্টার অন্য মাত্রা এনে দিয়েছিল
তৃপ্তির প্রশ্ন শুনে দুলালের মনে হল স্নিগ্ধার ব্যাপারটায় চুপ করে থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
—ও তো স্নিগ্ধা। বাবার কাছে টিউশন পড়তো। ছোটবেলায় বাড়িতে আসত-টাসত! পড়াশোনায় গবেট! মণির চেয়ে বড়, কিন্তু ফেল করতে করতে মণির সঙ্গে এইচএস টুকু পাশ করেছে। পাশের গলিতে ওদের বাড়ি। কল্যাণীতে ওর বিয়ে হয়েছে!
দুলাল ভেবেছিল সমস্যাটা এখানেই মিটে যাবে। ভুল ভেবেছিল। সে আন্দাজও করতে পারেনি দুলালের সংসারজীবনকে বিষাক্ত করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে স্নিগ্ধা! বিয়েবাড়ি মেটার কিছুদিন পর দিদি জামাইবাবুরা চলে গেলেন। কিছুদিন থেকে মণিও চলে গেল তার শ্বশুরবাড়ি। বাড়িতে দুলাল মা আর তৃপ্তি। আগে দুলাল আর মা থাকতো। এখন তৃপ্তি সংসারে আসায় দুলাল এবং দুলালের মা, দুজনেরই সুবিধা হয়েছে। গলি থেকে বেরোলেই রাস্তার উপরে বিকেলের দিকে বাজার বসে। স্টেশনারির দোকানপশারও সবই ওখানে।
—ও তো স্নিগ্ধা। বাবার কাছে টিউশন পড়তো। ছোটবেলায় বাড়িতে আসত-টাসত! পড়াশোনায় গবেট! মণির চেয়ে বড়, কিন্তু ফেল করতে করতে মণির সঙ্গে এইচএস টুকু পাশ করেছে। পাশের গলিতে ওদের বাড়ি। কল্যাণীতে ওর বিয়ে হয়েছে!
দুলাল ভেবেছিল সমস্যাটা এখানেই মিটে যাবে। ভুল ভেবেছিল। সে আন্দাজও করতে পারেনি দুলালের সংসারজীবনকে বিষাক্ত করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে স্নিগ্ধা! বিয়েবাড়ি মেটার কিছুদিন পর দিদি জামাইবাবুরা চলে গেলেন। কিছুদিন থেকে মণিও চলে গেল তার শ্বশুরবাড়ি। বাড়িতে দুলাল মা আর তৃপ্তি। আগে দুলাল আর মা থাকতো। এখন তৃপ্তি সংসারে আসায় দুলাল এবং দুলালের মা, দুজনেরই সুবিধা হয়েছে। গলি থেকে বেরোলেই রাস্তার উপরে বিকেলের দিকে বাজার বসে। স্টেশনারির দোকানপশারও সবই ওখানে।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২: “জনৈক গণশত্রুর জবানবন্দি”

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১১৯: আশ্রমের ছাত্ররা বৃষ্টিতে ভিজলে কুইনাইন খাওয়ানো হত
দুলালকে এখন আর ছোট ছোট করে সংসারের জিনিসপত্র আনতে যেতে হয় না। ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকার জন্য এমনিতেই জুটমিল থেকে বের হতে দেরি হয়ে যেত। নেতা হওয়ার সুবাদে তার জেনারেল শিফট পড়তো! চটকলের চাহিদাও তখন অত বেশি না। তাই দিনে দুটো শিফটেই প্রোডাকশন উঠে যায়। ছটা দুটো, দুটো দশটা! দশটা ছটার নাইট শিফটে শুধু সিকিউরিটি পাহারায় থাকে! দুলাল সাড়ে নটা সাড়ে পাঁচটার জেনারেল শিফটে যায়! ইউনিয়নের কাজ থাকে তাই সে এক ঘণ্টা আগে অফিসে যায় আর এক-দেড়ঘণ্টা পরে অফিস থেকে বের হয়। আগে বাজারহাটের চাপ থাকতো তাই অসুবিধে হত। কিন্তু তৃপ্তি আসার পর বাড়ির বাজার-দোকানের সব ঝামেলা সেই সামলায়।
আর সেটাতেই খুব সুবিধে হল স্নিগ্ধার। বিকেলের দিকটা এসে পার্লারে এসেছিল। হঠাৎ তৃপ্তিকে দেখে স্নিগ্ধার মন আনন্দে নেচে উঠল। —চলবে।
আর সেটাতেই খুব সুবিধে হল স্নিগ্ধার। বিকেলের দিকটা এসে পার্লারে এসেছিল। হঠাৎ তৃপ্তিকে দেখে স্নিগ্ধার মন আনন্দে নেচে উঠল। —চলবে।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। উপন্যাস লেখার আগে জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১ম খণ্ড)’। এখন লিখছেন বসুন্ধরা এবং…এর ৩য় খণ্ড।


















