
একটু বেলার দিকে ঘুম ভাঙল পূষণের। প্রথমটা বুঝতে পারেনি এত বেলা হয়ে গিয়েছে। অভ্যাসবশত হাত বাড়িয়ে রিমিতাকে খুঁজেও যখন পেল না তখন ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল বিছানা শূন্য। রিমিতা শুয়ে থাকলে ঘুম ভেঙেই তাকে কাছে টেনে নিয়ে বুকের সঙ্গে মিশিয়ে বাসি মুখে চুমু খাওয়ার স্বাদটাই আলাদা। বিশেষ করে নগ্ন অবস্থায় শায়িত রিমিতাকে কাছে টেনে নেওয়ার সময় একটা আলাদা বন্যতা কাজ করে। আজকেও সেটাই চাইছিল। কিন্তু পেল না। রিমিতা উঠে গিয়েছে। এবং উঠে জানালার পর্দাও সরিয়ে দিয়ে গিয়েছে। ফলে রোদ মাখানো আলো এসে পড়েছে তার চোখে। চোখটা বন্ধ করল সে। একবার ভাঙা গলায় ডাকল, “রিমিতা?” কেউ সাড়া দিল না। রিমিতা কি ওয়াশরুমে আছে? হালকা উঠে বসল সে। পিঠের কাছে বালিশগুলিকে জড়ো করল। তার পরনে খুব ছোট একটা বক্সার, আর কিচ্ছু না। মর্নিং-ইরেকশনের কারণে বক্সারের সামনের দিকটি উঁচিয়ে আছে। তার অর্থ, যৌনাঙ্গের স্বাস্থ্য ভালোই আছে। যদিও সে জানে, এটা কেবল সেক্সের ইচ্ছা থেকে হয় না। ঘুমের মধ্যে প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রের ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে মূত্রথলি পূর্ণ হওয়ার কারণে স্নায়ুতন্ত্রের উপরে যে চাপ পড়ে, তার জন্যই পুরুষাঙ্গ দৃঢ়-কঠিন হয়ে পড়ে। টেস্টোস্টেরন হরমোনের আঁতলামি তো আছেই এর সঙ্গে-সঙ্গে। মোটের ওপর মর্নিং-স্টিফনেস অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি ঘটনা। তবে তার এখন সেক্স করতেই ইচ্ছে করছিল। এখানে আসার পর অনেকটা দিন কেটে গিয়েছে, পিউবিক হেয়ার সেভ না-করার ফলে জঙ্গল হয়ে গিয়েছে। রিমিতার এতে খুব অস্বস্তি হয়। আসবার সময় সে ক্লিন করেই এসেছিল, তখন তো জানত না, এখানে এসে এভাবে ফেঁসে যাবে, ফলে পিউবিক হেয়ার সেভিং ক্রিমের মতো কোনও কিছু নিয়ে আসেনি, সে রেজারও ব্যবহার করে না, ওতে হার্ড হয়ে যায় পিউবিক হেয়ারের গোড়া, বার দুয়েক এই অবস্থায় সেক্সের সময় রিমিতা তার অস্বস্তির কথা জানিয়েছে। কিচ্ছু করার নেই। যার যার পছন্দ-অপছন্দ আলাদা। পূষণ ভেবেছিল, আজ সকালে বাজারের দিকে গিয়ে একটা ক্রিম বা কিছু কিনে আনবে। এখানে যে আর ক’দিন আটকে থাকতে হবে জানা নেই। তবে অরণ্যবাবুরা আলোচনা করছিলেন, এবার সম্ভবত কলকাতা থেকে তাঁরা ল’ইয়ার নিয়ে আসছেন। এভাবে কোনও সন্দেহের বশে দিনের পর দিন কোথাও আটকে রাখা যে পুলিশের পক্ষে বেআইনি কাজ হচ্ছে, তা তাঁরা এবার বুঝিয়ে দিতে চান।
উঠে পড়ল পূষণ। বিছানা থেকে নেমে পায়ে স্লিপার গলিয়ে ওয়াশরুমের দিকে এগোল সে। রিমিতা নিশ্চয়ই শাওয়ার নিচ্ছে। শাওয়ার সেক্স তার খুব পছন্দের। হলে মন্দ হয় না। কিন্তু ওয়াশরুমের দিকে গিয়ে হতাশ হল সে। ওয়াশরুমের দরজা এদিক থেকেই বন্ধ। তার মানে এটাই বোঝায় যে, রিমিতা ওয়াশরুমেও নেই। নীচে গিয়েছে কি? ডাইনিং-এ? হতে পারে। হয়তো সে ঘুমাচ্ছে দেখে তাকে আর বিরক্ত করেনি। ফ্রেশ হয়ে মর্নিং-টি খাচ্ছে লনে বসে। এখনও রোদ তেমন চড়া নয়। কিছুক্ষণ পরে আর লনে বসে থাকা যাবে না। এসেছিল যখন তখন ভরা বসন্ত। আর এখন চড়া বসন্ত!
জানালা দিয়ে উঁকি মারল সে। নাহ্, পিছনের লনে কেউ নেই। সামনের লন এদিক থেকে দেখার উপায় নেই। তার চেয়ে দ্রুত ফ্রেশ হয়ে নীচে গিয়ে রিমিতার সঙ্গে যোগ দিলেই হয়। সে জানালা থেকে সরেই আসছিল। তখনই দেখল, কাপাডিয়ার সঙ্গে অরণ্য কিছু কথা বলছে। বেশ উত্তেজিত। হাত-পা নেড়েই বলছে। প্রথমে ভাবল, হয়তো রিসর্টের সার্ভিস-সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ জানাচ্ছে। কিন্তু তারপর ব্যালকনিতে বেরিয়ে এসে নীচের দিকে ঝুঁকে পড়তেই বুঝল, তা নয়। অরণ্য বলছিল, “কাল রাতে অনেকবার আপনাকে ফোন করেছি, আপনি ফোন ধরেননি!”
জানালা দিয়ে উঁকি মারল সে। নাহ্, পিছনের লনে কেউ নেই। সামনের লন এদিক থেকে দেখার উপায় নেই। তার চেয়ে দ্রুত ফ্রেশ হয়ে নীচে গিয়ে রিমিতার সঙ্গে যোগ দিলেই হয়। সে জানালা থেকে সরেই আসছিল। তখনই দেখল, কাপাডিয়ার সঙ্গে অরণ্য কিছু কথা বলছে। বেশ উত্তেজিত। হাত-পা নেড়েই বলছে। প্রথমে ভাবল, হয়তো রিসর্টের সার্ভিস-সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ জানাচ্ছে। কিন্তু তারপর ব্যালকনিতে বেরিয়ে এসে নীচের দিকে ঝুঁকে পড়তেই বুঝল, তা নয়। অরণ্য বলছিল, “কাল রাতে অনেকবার আপনাকে ফোন করেছি, আপনি ফোন ধরেননি!”
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫৯ : ভোরের রক্তাক্ত কবিতা

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৬ : ‘বসন্তবায় মোরে জাগায় পল্লব কল্লোলে’

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০০ : প্রাচীন ভারতের ‘স্টিং অপারেশন’-এরও নজির মেলে পঞ্চতন্ত্রের কূটনীতিতে!

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৬ : অগ্নি সংস্কার
কাপাডিয়া শান্ত মানুষ। তাঁর মুখের ভঙ্গিতে কাঁচুমাচু ভাব স্পষ্ট। কোনওরকমে তিনি বললেন, “আমি সম্ভবত ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ফিরতে বহুত দের হয়েছিল!”
“কেন? কী এমন রাজকার্য করতে গিয়েছিলেন যে, মাঝরাতে ফিরলেন?”
“মাঝরাতে নয়, দশটার দিকে ফিরেছি! আপনাদের জন্যই গিয়েছিলাম। রিসর্ট চালাতে গেলে রোজ কতকিছুর যে প্রয়োজন হয়, সব জায়গায় দুসরা আদমি ভেজকে ফায়দা নেহি। ইসি লিয়ে হাম খুদ যাতে হ্যায় বিচ-বিচ মে। আমাকে যে কমিশন দেয়, তা ওরা গেলে দেয় না। নয় ওরা কমিশনে মাল সওদা করে সেই টাকা নিজেরাই হাপিশ করে দেয়। এসে বলে, কমিশন কম দিয়েছে! বোঝেনই তো, চারপাশে গদ্দার আদমিতে ভর্তি!”
“করেন তো সেই থোড়-বড়ি-খাড়া আর খাড়া-বড়ি-থোড়! কোনও ভ্যারাইটিজ নেই। দিনের পর দিন চিকেন, মাটন খেয়ে-খেয়ে ওসব খাওয়ার ইচ্ছেটাই চলে যাচ্ছে! বাঙালির ছেলে আফটারঅল। ভালো মাছ এনেছেন? তাহলে আজ সেটাই লাঞ্চে খাওয়াবেন। দেখব, আপনার কত ধক্!”
“মছলি?”
“হ্যাঁ, মছলি। এমন ভাব দেখাচ্ছেন যেন এই প্রথম শুনছেন। আপনি মছলি খান না?”
“না না। জরুর খাই। কিন্তু আমি তো মছলি কিংবা সবজি আনতে যাইনি। রিসর্টে খাবার-দাবার ছাড়াও তো আরও কিছু লাগে, সেসবই নিজের হাতে কিনতে গিয়েছিলাম। অবশ্য মশলাপাতিও এনেছি। তবে কাঁচা বাজার হামার লোকেরাই করে!”
“কিন্তু আপনাকে প্রথমে যে কথা জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তার উত্তর দিন?”
“কোন কথা?” বেকুবের মতো কাপাডিয়া জিজ্ঞাসা করলেন।
“কেন? কী এমন রাজকার্য করতে গিয়েছিলেন যে, মাঝরাতে ফিরলেন?”
“মাঝরাতে নয়, দশটার দিকে ফিরেছি! আপনাদের জন্যই গিয়েছিলাম। রিসর্ট চালাতে গেলে রোজ কতকিছুর যে প্রয়োজন হয়, সব জায়গায় দুসরা আদমি ভেজকে ফায়দা নেহি। ইসি লিয়ে হাম খুদ যাতে হ্যায় বিচ-বিচ মে। আমাকে যে কমিশন দেয়, তা ওরা গেলে দেয় না। নয় ওরা কমিশনে মাল সওদা করে সেই টাকা নিজেরাই হাপিশ করে দেয়। এসে বলে, কমিশন কম দিয়েছে! বোঝেনই তো, চারপাশে গদ্দার আদমিতে ভর্তি!”
“করেন তো সেই থোড়-বড়ি-খাড়া আর খাড়া-বড়ি-থোড়! কোনও ভ্যারাইটিজ নেই। দিনের পর দিন চিকেন, মাটন খেয়ে-খেয়ে ওসব খাওয়ার ইচ্ছেটাই চলে যাচ্ছে! বাঙালির ছেলে আফটারঅল। ভালো মাছ এনেছেন? তাহলে আজ সেটাই লাঞ্চে খাওয়াবেন। দেখব, আপনার কত ধক্!”
“মছলি?”
“হ্যাঁ, মছলি। এমন ভাব দেখাচ্ছেন যেন এই প্রথম শুনছেন। আপনি মছলি খান না?”
“না না। জরুর খাই। কিন্তু আমি তো মছলি কিংবা সবজি আনতে যাইনি। রিসর্টে খাবার-দাবার ছাড়াও তো আরও কিছু লাগে, সেসবই নিজের হাতে কিনতে গিয়েছিলাম। অবশ্য মশলাপাতিও এনেছি। তবে কাঁচা বাজার হামার লোকেরাই করে!”
“কিন্তু আপনাকে প্রথমে যে কথা জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তার উত্তর দিন?”
“কোন কথা?” বেকুবের মতো কাপাডিয়া জিজ্ঞাসা করলেন।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১২৬: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৭

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯৮ : বিনা বিচারে আটকদের নিয়ে রাজা বীরবিক্রম কিশোর মাণিক্যকে চিঠি লিখেন নেহরু
লোকটিকে দেখে মায়া হচ্ছিল পূষণের। বেচারা নিরীহ মানুষ। সর্বদাই ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকেন। তার উপর কালাদেও আক্রমণ করার পরে আরও যেন গুটিয়ে নিয়েছেন নিজেকে। স্বাভাবিক ব্যাপার। সেদিন যদি কালাদেও কিংবা তারই ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ানো কোন সাইকো যদি ঠিকঠাক নাগালে পেয়ে যেত, তাহলে আজ আর কাপাডিয়া এখানে থাকতেন না। আর মানুষটি মিথ্যেও বলছেন না। কাল সত্যিই রাত দশটার দিকে ফিরেছেন কাপাডিয়া। পূষণ তখন ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে স্মোক করছিল। কাপাডিয়া বাইকের পিছনে একরাশ জিনিষপত্র বেঁধেছেঁদে ঢুকলেন। গেটম্যান সম্ভবত তাঁর ফেরার অপেক্ষাতেই ছিল কিংবা তিনি ফোন করে দিয়ে থাকবেন। ভিতর থেকে কর্মচারীদের এক-দুজন মালপত্রগুলি নামিয়ে নিয়ে গেল। কাপাডিয়া আবার তাদের কাউকে বললেন, “জলদি সারে সামান স্টোররুম পে রাখ দো। কাল হিসাব-কিতাব করেঙ্গে। আজ বহোত টায়ার্ড হুঁ। খাকে আয়া হুঁ। এক কাপ ব্ল্যাক কফি ভেজ দো চালিশ মিনিট বাদ!”
যাকে বলছিলেন, সে সম্ভবত মাথা নেড়ে সায় দিয়েছিল কারণ, অন্যপক্ষ থেকে হ্যাঁ বা না—কিছুই শোনা যায়নি।
অরণ্য বলল, “আপনি ন্যাকা, না-কি ডিমনেশিয়া আছে আপনার? বললাম না, আমাদের আলাদা একটা রুম লাগবে। তার ব্যবস্থা করুন। নাহলে গড়বড় হয়ে যাবে!”
“ও হো! ওহি বাত! দেখিয়ে অরণ্যবাবু, দোতলায় আর কোনও রুম খালি নেই আপাতত। আপনাকে দিতে হলে নীচে দিতে হবে!”
“মানে? আমি দোতলা থেকে নীচে নেমে আসবো?”
“হ্যাঁ আসলে ক্ষতি কী? আপনিই তো দুসরা রুম চাইছেন। আর কোন দোতলা রুম বাকি নেই। বেশিরভাগ তো আপনাদের পার্টিই আছেন। আর বাকি একটাই ওহি কাপল আছেন। সেম ফ্লোরে আপনাকে দুসরা রুম ফিন কাঁহা সে দিই বলুন?”
“উফ্। আপনাদের এখানে আসাটাই ভুল হয়েছিল। একটা রিসর্ট চালান, সেখানে এক্সট্রা রুম নেই। লোক্যাল থানার সঙ্গে কোনও লিয়াজোঁই নেই আপনাদের। থাকলে কবেই পুলিশ আমাদের পারমিশন দিয়ে দিত, স্টেশন লিভ করার। কিন্তু আপনার তো পুলিশ দেখলেই প্যান্টে হাগা হয়ে যায়। কী-যে এতকাল রিসর্ট চালালেন। আবার বলেন, সারাজীবন হোটেল-রিসর্টে কাজ করে-করেই আপনার কেটে গিয়েছে। নমুনা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, কী কাজ করতেন!” অরণ্য খুব খারাপভাবে ভ্রূ-ভঙ্গি করল।
কাপাডিয়া অসহায়ের মতো বললেন, “হামি হামার সাধ্যমতো কাজ করেছি অরণ্যবাবু। বাকি সব ওপরওয়ালার হাতে!”
“কালাদেওর হাতে বলুন!”
যাকে বলছিলেন, সে সম্ভবত মাথা নেড়ে সায় দিয়েছিল কারণ, অন্যপক্ষ থেকে হ্যাঁ বা না—কিছুই শোনা যায়নি।
অরণ্য বলল, “আপনি ন্যাকা, না-কি ডিমনেশিয়া আছে আপনার? বললাম না, আমাদের আলাদা একটা রুম লাগবে। তার ব্যবস্থা করুন। নাহলে গড়বড় হয়ে যাবে!”
“ও হো! ওহি বাত! দেখিয়ে অরণ্যবাবু, দোতলায় আর কোনও রুম খালি নেই আপাতত। আপনাকে দিতে হলে নীচে দিতে হবে!”
“মানে? আমি দোতলা থেকে নীচে নেমে আসবো?”
“হ্যাঁ আসলে ক্ষতি কী? আপনিই তো দুসরা রুম চাইছেন। আর কোন দোতলা রুম বাকি নেই। বেশিরভাগ তো আপনাদের পার্টিই আছেন। আর বাকি একটাই ওহি কাপল আছেন। সেম ফ্লোরে আপনাকে দুসরা রুম ফিন কাঁহা সে দিই বলুন?”
“উফ্। আপনাদের এখানে আসাটাই ভুল হয়েছিল। একটা রিসর্ট চালান, সেখানে এক্সট্রা রুম নেই। লোক্যাল থানার সঙ্গে কোনও লিয়াজোঁই নেই আপনাদের। থাকলে কবেই পুলিশ আমাদের পারমিশন দিয়ে দিত, স্টেশন লিভ করার। কিন্তু আপনার তো পুলিশ দেখলেই প্যান্টে হাগা হয়ে যায়। কী-যে এতকাল রিসর্ট চালালেন। আবার বলেন, সারাজীবন হোটেল-রিসর্টে কাজ করে-করেই আপনার কেটে গিয়েছে। নমুনা দেখেই বোঝা যাচ্ছে, কী কাজ করতেন!” অরণ্য খুব খারাপভাবে ভ্রূ-ভঙ্গি করল।
কাপাডিয়া অসহায়ের মতো বললেন, “হামি হামার সাধ্যমতো কাজ করেছি অরণ্যবাবু। বাকি সব ওপরওয়ালার হাতে!”
“কালাদেওর হাতে বলুন!”
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৩: জরাসন্ধ ও কৃষ্ণের কথোপকথন সূত্রে নিহিত আছে রাজনীতির পাঠ

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৫ : য-এ যুদ্ধ
কালাদেও শব্দটি শুনে কাপাদিয়ার মুখ অন্ধকার হয়ে গেল। লোকটি সম্ভবত সেদিনের খারাপ অভিজ্ঞতার পর থেকে একেবারে ভয়ে সিঁটিয়ে আছে। এমনিতেই ভীতু মানুষ, তার উপর আবার প্রাণভয়। কাপাডিয়া ফিসফিস করে কিছু বললেন অরণ্যকে। উপর থেকে তা শুনতে পেল না পূষণ। কিন্তু দেখল, কথাটা শুনেই অরণ্য কেমন থমমত খেয়ে গিয়ে চুপ করে গেল।
কাপাডিয়া জোড়হস্তে অরণ্যের দিকে তাকিয়ে বলল, “আপনারা তো বলেছিলেন, কলকাত্তা থেকে ল’-ইয়ার এনে হাইকোর্টে কেস করবে। তা সেটাই করুন না কেন? আমাদের তো কিছু করার নেই। পুলিশ যা এখানকার, কমপ্লেইন লেখাতে গেলে আমাকেই না ঘাড় ধরে লক-আপে ভরে দেয়!”
“এই এই, এই আপনার অমূলক ভয়। পুলিশ যাকে-তাকে যখন ইচ্ছে গ্রেপ্তারও করতে পারে না। তার জন্য উপযুক্ত কারণ লাগে। আর গ্রেপ্তার করলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোর্টে তুলতে হয়। না-হলে পুলিশ নিজেই ফেঁসে যাবে আইনের হাতে।”
“ও-সব তো হামিও জানি। কিন্তু সেই যব ছোটা থা, তব সে লেকে আ তক, পোলিশওয়ালেকো দেখকে আনকমফোর্ট ফিল করতা হুঁ!” কাপাডিয়া বিব্রত হয়ে সাফাই দিলেন।
কাপাডিয়া জোড়হস্তে অরণ্যের দিকে তাকিয়ে বলল, “আপনারা তো বলেছিলেন, কলকাত্তা থেকে ল’-ইয়ার এনে হাইকোর্টে কেস করবে। তা সেটাই করুন না কেন? আমাদের তো কিছু করার নেই। পুলিশ যা এখানকার, কমপ্লেইন লেখাতে গেলে আমাকেই না ঘাড় ধরে লক-আপে ভরে দেয়!”
“এই এই, এই আপনার অমূলক ভয়। পুলিশ যাকে-তাকে যখন ইচ্ছে গ্রেপ্তারও করতে পারে না। তার জন্য উপযুক্ত কারণ লাগে। আর গ্রেপ্তার করলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোর্টে তুলতে হয়। না-হলে পুলিশ নিজেই ফেঁসে যাবে আইনের হাতে।”
“ও-সব তো হামিও জানি। কিন্তু সেই যব ছোটা থা, তব সে লেকে আ তক, পোলিশওয়ালেকো দেখকে আনকমফোর্ট ফিল করতা হুঁ!” কাপাডিয়া বিব্রত হয়ে সাফাই দিলেন।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৪: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— অলিভ রিডলে কচ্ছপ

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি
একটা রুমে থাকতে-থাকতেই আর-একটা রুম কী-কারণে দরকার অরণ্যের, তা বুঝতে পারল না পূষণ। কলকাতা থেকে যে উকিল আনানোর কথা বলেছিল অরণ্য, তাদের কেউ কি আসছেন এই পিশাচপাহাড় রিসর্টে? অরণ্যকে কথাটা জিজ্ঞাসা করতে হবে। এলে তাদের সকলের পক্ষেই ভালো। এখানে আর বেশিদিন থাকতে হলেই সে একেবারে পাগলও হয়ে যতে পারে। কলকাতায় ফিরে চাকরির যে কী হাল হবে, তা সে নিজেও জানে না। আবার সিভি পাঠিয়ে, ইন্টারভিউ দিয়ে-দিয়ে ক্লান্ত হয়ে কবে যে নতুন জব পাবে, তার ঠিক-ঠিকানা নেই। এ-রাজ্যে এখন জবের যা হাল!
অরণ্য কথা বলতে-বলতে উপরের দিকে তাকাল। তাকিয়েই পূষণকে দেখতে পেল। পূষণ হাত নাড়ল।
“মর্নিং,” অরণ্য বলল, “ওখানে কী করছেন? নীচে আসুন। একসঙ্গে কফি খাওয়া যাক্!”
“আমি সকালে কফি খাই না। স্রেফ এক কাপ ফ্লেভারড্ লিকার দার্জিলিং টি হলেই আমি খুশি!”
“বেশ তো। সেটাই খাবেন। নেমে আসুন!”
কাপাডিয়া হাসিমুখে বললেন, “হাঁ হাঁ, নেমে আসুন। আপনার ম্যাডামকে তো দেখলাম, হন্হন্ করে বেরিয়ে গেলেন। কোথায় চললেন বলে জানতে চাইলাম, কুছু বললেন না!”
মানে? ধাক্কা খেল পূষণ। রিমিতা রিসর্ট থেকে বেরিয়ে গিয়েছে? কোথায় গিয়েছে? কই কাল রাতেও তো কিছু বলেনি যে, কোথাও যাওয়ার আছে। তবে একটা ফোন এসেছিল। কথা বলতে-বলতে ও ওয়াশরুমে ঢুকে গিয়েছিল। হুঁ-হ্যাঁ-আচ্ছা ছাড়া কান পেতেও আর কিছু শুনতে পায়নি সে। বেরিয়ে আসার পরেও জিজ্ঞাসা করতে পারেনি যে, কার ফোন? এতে রিমিতা খুব অফেন্ডেড হয়। তাছাড়া সম্পর্কে বিশ্বাস থাকাটা খুব জরুরি। কিন্তু এখন চিন্তা হচ্ছে। ফোনটা কে করেছিল কাল? তাহলে কি কালকের সেই ফোনের জন্যই রিমিতা সাতসকালে বেরিয়ে গিয়েছে?
সে কাপাডিয়াকে জিজ্ঞাসা করল, “কখন বেরিয়েছে জানেন? আসলে আমি ঘুমাচ্ছিলাম, সেজন্য…”
“সাড়ে সাতটার দিকে। আমি চা খাচ্ছিলাম রিসেপশন রুমে বসে। তখন ম্যাডাম বেরিয়ে গেলেন। আমি আর কিছু জানি না!”
পূষণের কপালে চিন্তার গভীর ভাঁজ আরও গাঢ় হল।—চলবে।
অরণ্য কথা বলতে-বলতে উপরের দিকে তাকাল। তাকিয়েই পূষণকে দেখতে পেল। পূষণ হাত নাড়ল।
“মর্নিং,” অরণ্য বলল, “ওখানে কী করছেন? নীচে আসুন। একসঙ্গে কফি খাওয়া যাক্!”
“আমি সকালে কফি খাই না। স্রেফ এক কাপ ফ্লেভারড্ লিকার দার্জিলিং টি হলেই আমি খুশি!”
“বেশ তো। সেটাই খাবেন। নেমে আসুন!”
কাপাডিয়া হাসিমুখে বললেন, “হাঁ হাঁ, নেমে আসুন। আপনার ম্যাডামকে তো দেখলাম, হন্হন্ করে বেরিয়ে গেলেন। কোথায় চললেন বলে জানতে চাইলাম, কুছু বললেন না!”
মানে? ধাক্কা খেল পূষণ। রিমিতা রিসর্ট থেকে বেরিয়ে গিয়েছে? কোথায় গিয়েছে? কই কাল রাতেও তো কিছু বলেনি যে, কোথাও যাওয়ার আছে। তবে একটা ফোন এসেছিল। কথা বলতে-বলতে ও ওয়াশরুমে ঢুকে গিয়েছিল। হুঁ-হ্যাঁ-আচ্ছা ছাড়া কান পেতেও আর কিছু শুনতে পায়নি সে। বেরিয়ে আসার পরেও জিজ্ঞাসা করতে পারেনি যে, কার ফোন? এতে রিমিতা খুব অফেন্ডেড হয়। তাছাড়া সম্পর্কে বিশ্বাস থাকাটা খুব জরুরি। কিন্তু এখন চিন্তা হচ্ছে। ফোনটা কে করেছিল কাল? তাহলে কি কালকের সেই ফোনের জন্যই রিমিতা সাতসকালে বেরিয়ে গিয়েছে?
সে কাপাডিয়াকে জিজ্ঞাসা করল, “কখন বেরিয়েছে জানেন? আসলে আমি ঘুমাচ্ছিলাম, সেজন্য…”
“সাড়ে সাতটার দিকে। আমি চা খাচ্ছিলাম রিসেপশন রুমে বসে। তখন ম্যাডাম বেরিয়ে গেলেন। আমি আর কিছু জানি না!”
পূষণের কপালে চিন্তার গভীর ভাঁজ আরও গাঢ় হল।—চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।


















