
ওপাশ থেকে গুলি ছুটে আসার আগেই তারা সামান্য ছিটকে সরে গিয়েছিল বাঁ পাশে। আশেপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বড় বড় শাল গাছ। একটা তেঁতুল গাছও আছে সেগুলির ভিড়ে। সুদীপ্তর মন কু ডাক ডেকেছিল। তার মনে হয়েছিল, ওরা যে-পরিমাণ বিপজ্জনক, তাতে টর্চের আলো দেখে নিশ্চয়ই সচেতন হয়ে যাবে এবং পুলিশ বলে চিনতে পারলে আক্রমণ করতে দেরি করবে না। কার্যক্ষেত্রে সেটাই হল। তার আগেই অবশ্য ওরা তিনজন এক-একটা গাছের আড়ালে আশ্রয় নিয়েছিল। সেক্ষেত্রে ওরা হয়তো নিশ্চিত ছিল যে, অনশকারে ওদের উপস্থিতি এখনও পুলিশ টের পায়নি, অতএব ওরা টর্চের আলো লক্ষ করে গুলি চালাতে দেরি করেনি। ভাগ্যিস, তার আগেই তারা তিনজনেই যতটা সম্ভব বাঁ-পাশে গাছগুলির আড়ালে সরে যাওয়ায় গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হল। মাটিতে লেগে সামান্য ধুলো উড়িয়ে অন্য কোথাও গিয়ে হিট করল।
শিবম মুণ্ডার না লাগলেও সে তার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায়, “মাই গো” বলে চেঁচিয়ে উঠল।
আফজল তাকে চাপা গলায় ধমক দিল, “আঃ! চুপ কর শিবম্। ওরা গলার আওয়াজ শুনলে বুঝে যাবে, এবার আর টার্গেট মিস্ করবে না!”
অন্ধকারে দ্রুত পায়ের আওয়াজ হচ্ছিল। ওরা কয়েকজন আছে বোঝা যাচ্ছে। পালিয়ে না গিয়ে ওরা যে তাদের খোঁজে এদিকে আসছে, তাতেই বোঝা গেল, ওরা একেবারে বেপরোয়া হয়ে আছে।
শিবম মুণ্ডার না লাগলেও সে তার স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায়, “মাই গো” বলে চেঁচিয়ে উঠল।
আফজল তাকে চাপা গলায় ধমক দিল, “আঃ! চুপ কর শিবম্। ওরা গলার আওয়াজ শুনলে বুঝে যাবে, এবার আর টার্গেট মিস্ করবে না!”
অন্ধকারে দ্রুত পায়ের আওয়াজ হচ্ছিল। ওরা কয়েকজন আছে বোঝা যাচ্ছে। পালিয়ে না গিয়ে ওরা যে তাদের খোঁজে এদিকে আসছে, তাতেই বোঝা গেল, ওরা একেবারে বেপরোয়া হয়ে আছে।
সুদীপ্ত চাপা গলায় আফজল আর শিবমকে বলল, “যেভাবেই হোক, গাছের এই প্রাকৃতিক বর্মকে ব্যবহার করে আমাদের ছড়িয়ে পড়তে হবে আফজল!”
আফজলও চাপা গলায় জবাব দিল, “হ্যাঁ স্যার! ওরা ফেরশাস! আবার গুলি চালাতে দেরি করবে না!”
শিবম্ ভয় পাওয়া ফ্যাঁসফেঁসে গলায় চাপাসুরে বলল, “গাড়ির দিকে পালিয়ে যাব স্যার ? এরা অনেকে আছে। আমরা কিছু করতে পারব না!”
আফজল কাঁচা খিস্তি দিল, “বা***, চুপ করুন তো!”
অন্ধকারে ওরা এগিয়ে আসছিল। একটা চাপা গলার আওয়াজ পাওয়া গেল, “কুত্তার বাচ্চারা কোথায় গেল বল তো বাঁ***!”
“একটার মনে হচ্ছে লেগেছে। চেঁচিয়ে উঠল দেখলি না? শালা কতদূরে আর যাবে?” চাপা গলাতেই আরেকজন উত্তর দিল। তবে নিস্তব্ধ রাতে সব কথাই শুনতে পাচ্ছিল সুদীপ্ত কিংবা আফজলেরা।
“পুলিশ ফাঁদ পেতেছিল নাকি বাঁ***?”
“না, মনে হয় না। হয়তো টহলদারি ভ্যান নিয়ে এদিকে এসেছিল!”
“তা বলে হেলথসেন্টারের চারপাশে টর্চ জ্বেলে আমাদের খুঁজবে কেন?”
“আমাদের খুঁজছিল না, অন্য কিছু খুঁজতে এসেছিল হয়তো। থানার খোঁচড়টাকে জিজ্ঞাসা করলেই হবে!”
“বা*** খোচড় বাঁ***! বসকে বলতে হবে, ওকে এবারের ইন্সটলমেন্ট না পাঠাতে!”
“কথা কম বল বে। ওরা শুনলে আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাবে এবার!”
“পুলিশ বুঝেশুনে গুলি খরচ করে বে। আমাদের মতো না। ওদের প্রত্যেকটা গুলির জন্য জবাবদিহি করতে হয়!”
“আবে চুপ! খোঁজ। যেটা আহত হয়েছিল, তাকে তুলে নিয়ে গেলে বেশিদূর যেতে পারবে না। আর মরে গেলে লাশটা উঠিয়ে নিয়ে যাব। তারপর ধড়-মুণ্ডু আলাদা করে দিয়ে…হেঁ হেঁ… আগের গুলির মতো কালাদেওরা নামে…”
“চুপ চুপ। কথা কম। কাজ বেশি। বস বলে না? চুপ্!”
আফজলও চাপা গলায় জবাব দিল, “হ্যাঁ স্যার! ওরা ফেরশাস! আবার গুলি চালাতে দেরি করবে না!”
শিবম্ ভয় পাওয়া ফ্যাঁসফেঁসে গলায় চাপাসুরে বলল, “গাড়ির দিকে পালিয়ে যাব স্যার ? এরা অনেকে আছে। আমরা কিছু করতে পারব না!”
আফজল কাঁচা খিস্তি দিল, “বা***, চুপ করুন তো!”
অন্ধকারে ওরা এগিয়ে আসছিল। একটা চাপা গলার আওয়াজ পাওয়া গেল, “কুত্তার বাচ্চারা কোথায় গেল বল তো বাঁ***!”
“একটার মনে হচ্ছে লেগেছে। চেঁচিয়ে উঠল দেখলি না? শালা কতদূরে আর যাবে?” চাপা গলাতেই আরেকজন উত্তর দিল। তবে নিস্তব্ধ রাতে সব কথাই শুনতে পাচ্ছিল সুদীপ্ত কিংবা আফজলেরা।
“পুলিশ ফাঁদ পেতেছিল নাকি বাঁ***?”
“না, মনে হয় না। হয়তো টহলদারি ভ্যান নিয়ে এদিকে এসেছিল!”
“তা বলে হেলথসেন্টারের চারপাশে টর্চ জ্বেলে আমাদের খুঁজবে কেন?”
“আমাদের খুঁজছিল না, অন্য কিছু খুঁজতে এসেছিল হয়তো। থানার খোঁচড়টাকে জিজ্ঞাসা করলেই হবে!”
“বা*** খোচড় বাঁ***! বসকে বলতে হবে, ওকে এবারের ইন্সটলমেন্ট না পাঠাতে!”
“কথা কম বল বে। ওরা শুনলে আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালাবে এবার!”
“পুলিশ বুঝেশুনে গুলি খরচ করে বে। আমাদের মতো না। ওদের প্রত্যেকটা গুলির জন্য জবাবদিহি করতে হয়!”
“আবে চুপ! খোঁজ। যেটা আহত হয়েছিল, তাকে তুলে নিয়ে গেলে বেশিদূর যেতে পারবে না। আর মরে গেলে লাশটা উঠিয়ে নিয়ে যাব। তারপর ধড়-মুণ্ডু আলাদা করে দিয়ে…হেঁ হেঁ… আগের গুলির মতো কালাদেওরা নামে…”
“চুপ চুপ। কথা কম। কাজ বেশি। বস বলে না? চুপ্!”
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪৯: সত্যব্রতের মুখোমুখি

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২০ : চারুলতা-মহানগর — বীক্ষণযন্ত্র

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৪: ছোট নখরযুক্ত ভোঁদড়

হ্যালো বাবু! পর্ব-১১৭: ডেসডিমোনার রুমাল / ১৬
ওরা চুপ করে যেতেই ঝিঁঝিঁর ডাকে আকুল রাত্তির আবার ফিরে এলে বলে মনে হল।
সুদীপ্ত আস্তে-আস্তে আফজল যে গাছের আড়ালে ছিল, সেখানে চলে এসেছিল। তারপর আফজলের কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলল, “তুমি শিবমকে নিয়ে যেখানে অদের দেখেছিল। সেখানে যাও। হয় কাউকে পাবে, না পেলে বুঝবে সে অলরেডি ভিতরে ঢুকেছে। তোমরা সেন্টারের পিছন দিকে যাওয়ার চেষ্টা কর!”
“আলো না জ্বেলে যাওয়া অসম্ভব! সাপখোপ প্রচুর!”
“তাহলে?”
“আগে এদের আটকানোর ব্যবস্থা করি, তারপর…! আজ এদের ছাড়া যাবে না স্যার। ছাড়ান দিলে এরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে!”
এমনসময় কাছেই কোথাও খসখস আওয়াজ হল। সঙ্গে-সঙ্গে সুদীপ্তরা সতর্ক হয়ে চুপ করে গেল। শ্বাস-প্রশ্বাসের আওয়াজও যাতে না শোনা যায়, এমনভাবে কন্ট্রোল করল নিজেদের।
সুদীপ্ত আস্তে-আস্তে আফজল যে গাছের আড়ালে ছিল, সেখানে চলে এসেছিল। তারপর আফজলের কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলল, “তুমি শিবমকে নিয়ে যেখানে অদের দেখেছিল। সেখানে যাও। হয় কাউকে পাবে, না পেলে বুঝবে সে অলরেডি ভিতরে ঢুকেছে। তোমরা সেন্টারের পিছন দিকে যাওয়ার চেষ্টা কর!”
“আলো না জ্বেলে যাওয়া অসম্ভব! সাপখোপ প্রচুর!”
“তাহলে?”
“আগে এদের আটকানোর ব্যবস্থা করি, তারপর…! আজ এদের ছাড়া যাবে না স্যার। ছাড়ান দিলে এরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে!”
এমনসময় কাছেই কোথাও খসখস আওয়াজ হল। সঙ্গে-সঙ্গে সুদীপ্তরা সতর্ক হয়ে চুপ করে গেল। শ্বাস-প্রশ্বাসের আওয়াজও যাতে না শোনা যায়, এমনভাবে কন্ট্রোল করল নিজেদের।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৫: রাজসূয় যজ্ঞের সূচনায় মতবিনিময়ে নিহিত বৈচিত্র্যময় মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯০: ত্রিপুরার রাজপরিবারকে রবীন্দ্রনাথের প্রথম পত্র
কিছুক্ষণ আগে সুদীপ্তরা যেখানে ছিল, সেখানেই ওরা দাঁড়িয়ে এখন। মাটির দিকে তাক করে ওরা এবার আলো ফেলতেই, দূর থেকে সুদীপ্তরা তাদের দেখতে পেল। সংখ্যায় দু’টি লোক। হাতে পিস্তল উঁচিয়ে আছে একজন, আর একজন টর্চ জ্বেলে এদিক-ওদিক আলো ফেলছিল। দু’জনের কারুর মুখই অন্ধকারে ভালো দেখা না-গেলেও, বোঝা যাচ্ছিল, তারা এলাকার পরিচিত দুষ্কৃতি নয়। এটা অবশ্য সুদীপ্ত আগেই অনুমান করেছিল। পরিচিত দুষ্কৃতিরা এত সহজে গোলাগুলি চালায় না। যে লোকটির হাতে টর্চ, সে আশেপাশের ঝোপঝাড়, বড় গাছ, কখন-বা মাটির দিকে আলো ফেলে ওদের খুঁজছিল।
“কী বে, কোথায় গায়েব হল বল তো?”
“বুঝতে পারছি না! এত তাড়াতাড়ি তো গায়েব হওয়ার কথা নয়। ওদের দেখামাত্রই গুলি চালিয়েছি। বুড়বকের মতো টর্চ না জ্বাললে জানতেই পারতাম না, ধরা পড়ে যেতাম!”
“এখন সে সম্ভাবনা আছে। না খুঁজে পেলে এখন ফিরে যাই চল!”
“ফিরে যাবি কী, রূপচাঁদ ভিতরে ঢুকেছে, তাকে না নিয়ে গেলে আমাদের পালিয়ে যাওয়া বেকার বাঁ***!”
“ওইদিকে গাছের আড়ালে লুকায়নি তো আহত লোকটিকে নিয়ে?”
“আহত-আহত করছিস, লেগেছে কি-না সেতা আগে ভালো করে জান। তারপর তো!”
“না লাগলে কেউ ‘মাই গো’ বলে চেঁচিয়ে ওঠে? মেলা না বকে খোঁজ? শালা যত্ত ঝামেলা। কোথায় ভাবলাম, চুপিচুপি কাজ সেরে চলে যাবে, তা না, এখন উটকো আপদ লেওড়া!”
যার হাতে টর্চ সে আলো ফেলে সুদীপ্তরা যেখানে লুকিয়ে পড়েছিল, সেদিকে।
“ওদিকে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে! যাই চল্!”
সুদীপ্তরা অবশ্য বিপদ বুঝতে পেরে আগেই সেখান থেকে সরে পড়েছিল। তারা আর একটু এগিয়ে গিয়েছিল যেদিক থেকে ওরা এসেছিল, সেদিকেই। সেখান থেকেই টর্চের আলো অনুসরণ করে ওদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল তারা।
“স্যার!” আফজল ডাকল, “এবার কী করবো? ওরা ওদিকে আমাদের না পেয়ে এদিকে ফিরে আসবে, আর তখনই আমরা ধরা পড়ে যাব!”
সুদীপ্ত সে-কথাই ভাবছিল। ট্রিকস্ অ্যাপ্লাই করতে হবে। তা-না-হলে ধরা পড়ে যাবেই। সে বলল, “আফজল, পকেটে কোন কাগজপাতি আছে?”
“স্যার?” বুঝতে না পেরে আফজল জিজ্ঞাসা করল। অন্ধকারে যদিও তার মুখের বিস্ময়চিহ্ন দেখতে পেল না বাকিরা।
“কিছু অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে একটা ট্রিকস্ অ্যাপ্লাই করতাম!”
“কাগজ নেই স্যার। কেবল মোবাইল আর রুমাল!”
“আমারও তেমনটাই স্যার!” শিবম্ জানায়, “তবে একটা লিফলেট আছে, বেকার। বিকেলে থানার মধ্যে কুড়িয়ে পেয়েছিলাম। কী আছে লিফলেটে পড়ে দেখব-দেখব করে আর পরা হয়নি। দাদ-হাজা-চুলকানির লিফলেট্ হবে আর-কি। আসবার সময় মার্কেটের মোড়ে একজন দেখছিলাম একে-ওকে-তাকে ডেকে-ডেকে দিচ্ছিল। সেটা চলবে স্যার?”
“দাও। তবে ওতে কিছু হবে না। লিফলেটের কাগজ কোনও কম্মের নয়। পাতলা ফিনফিনে এত যে কাগজ সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে যাবে। তোমরা তোমাদের রুমাল দাও। আমি আমারটা বার করছি। ক্যুইক্।”
“কী বে, কোথায় গায়েব হল বল তো?”
“বুঝতে পারছি না! এত তাড়াতাড়ি তো গায়েব হওয়ার কথা নয়। ওদের দেখামাত্রই গুলি চালিয়েছি। বুড়বকের মতো টর্চ না জ্বাললে জানতেই পারতাম না, ধরা পড়ে যেতাম!”
“এখন সে সম্ভাবনা আছে। না খুঁজে পেলে এখন ফিরে যাই চল!”
“ফিরে যাবি কী, রূপচাঁদ ভিতরে ঢুকেছে, তাকে না নিয়ে গেলে আমাদের পালিয়ে যাওয়া বেকার বাঁ***!”
“ওইদিকে গাছের আড়ালে লুকায়নি তো আহত লোকটিকে নিয়ে?”
“আহত-আহত করছিস, লেগেছে কি-না সেতা আগে ভালো করে জান। তারপর তো!”
“না লাগলে কেউ ‘মাই গো’ বলে চেঁচিয়ে ওঠে? মেলা না বকে খোঁজ? শালা যত্ত ঝামেলা। কোথায় ভাবলাম, চুপিচুপি কাজ সেরে চলে যাবে, তা না, এখন উটকো আপদ লেওড়া!”
যার হাতে টর্চ সে আলো ফেলে সুদীপ্তরা যেখানে লুকিয়ে পড়েছিল, সেদিকে।
“ওদিকে গাছের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে! যাই চল্!”
সুদীপ্তরা অবশ্য বিপদ বুঝতে পেরে আগেই সেখান থেকে সরে পড়েছিল। তারা আর একটু এগিয়ে গিয়েছিল যেদিক থেকে ওরা এসেছিল, সেদিকেই। সেখান থেকেই টর্চের আলো অনুসরণ করে ওদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল তারা।
“স্যার!” আফজল ডাকল, “এবার কী করবো? ওরা ওদিকে আমাদের না পেয়ে এদিকে ফিরে আসবে, আর তখনই আমরা ধরা পড়ে যাব!”
সুদীপ্ত সে-কথাই ভাবছিল। ট্রিকস্ অ্যাপ্লাই করতে হবে। তা-না-হলে ধরা পড়ে যাবেই। সে বলল, “আফজল, পকেটে কোন কাগজপাতি আছে?”
“স্যার?” বুঝতে না পেরে আফজল জিজ্ঞাসা করল। অন্ধকারে যদিও তার মুখের বিস্ময়চিহ্ন দেখতে পেল না বাকিরা।
“কিছু অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে একটা ট্রিকস্ অ্যাপ্লাই করতাম!”
“কাগজ নেই স্যার। কেবল মোবাইল আর রুমাল!”
“আমারও তেমনটাই স্যার!” শিবম্ জানায়, “তবে একটা লিফলেট আছে, বেকার। বিকেলে থানার মধ্যে কুড়িয়ে পেয়েছিলাম। কী আছে লিফলেটে পড়ে দেখব-দেখব করে আর পরা হয়নি। দাদ-হাজা-চুলকানির লিফলেট্ হবে আর-কি। আসবার সময় মার্কেটের মোড়ে একজন দেখছিলাম একে-ওকে-তাকে ডেকে-ডেকে দিচ্ছিল। সেটা চলবে স্যার?”
“দাও। তবে ওতে কিছু হবে না। লিফলেটের কাগজ কোনও কম্মের নয়। পাতলা ফিনফিনে এত যে কাগজ সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে যাবে। তোমরা তোমাদের রুমাল দাও। আমি আমারটা বার করছি। ক্যুইক্।”
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৬৩: বরাকের ভট্ট সঙ্গীত এবং বারমোসী গান

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৭: পরবাস প্রস্তুতি (তিন)
আফজল অবাক হল আবার। সুদীপ্ত স্যারের এই সিচ্যুয়েশনে কি মাথা খারাপ হল?
শিবম্ অবশ্য বলামাত্র পকেট থেকে লিফলেট আর রুমাল বার করে দিয়েছিল। অন্ধকারে দেখা না গেলেও এখন যেহেতু তারা কাছাকাছি ছিল, ফলে অসুবিধা হল না। আফজলও পকেট থেকে রুমাল বার করে দিল। যদিও সে জানে না সুদীপ্ত কী করতে চলেছে।
“আশেপাশে ভাঙা ছোট শুকনো ডাল বা আর কিছু আছে শিবম্? দেখ তো!”
“অন্ধকারে কীভাবে খুঁজবো স্যার? সাপটাপের গায়ে হাত পড়ে যাবে… তাহলেই শেষ!”
কথাটা মিথ্যে নয়। আশেপাশে বড় শালগাছের কাণ্ডের চারপাশে ছোট-ছোট কাঁচা শালশিশু মাথা তুলেছে এই নতুন বসন্তে। তরল অন্ধকারেও তাদের কাঁচা কলাপাতা সবুজ রঙ সাদাটে হয়ে দেখা যাচ্ছিল। সেইগুলির একটি থেকে একটি কাঁচা ডাল ভেঙে তার ডগায় রুমালগুলি একের সঙ্গে অন্যটি গিঁট বেঁধে তা ডালটিতে জড়িয়ে নিজের পকেট থেকে লাইটার বার করে রুমালে আগুন ধরিয়ে ডালটা ছুঁড়ে দিল যেখানে দূরে কালপ্রিটগুলিকে প্রথম দেখা গিয়েছিল, সেদিকে। আগুনজলা ডালতা তীরের মতো হাওয়ায় সাঁতার কেটে সেখানে পড়তেই ওদের চোখে পড়ল।
“বে, আগুন! ওদিকে। তার মানে আমরা এখানে ওদের খুঁজছি আর ওরা তার ভিতরেই অন্ধকারে ওখানে গিয়ে হাজির!”
“কিন্তু আগুন জ্বালবে কেন?” দ্বিতীয়জন বেশ সংশয়বাদী। তার মানে সতর্ক এবং বুদ্ধিমান। বুদ্ধিমান না হলে তার মগজে সংশয় এবং জিজ্ঞাসার জন্ম হত না।
“কোনভাবে ধরে গিয়েছে হয়তো। ওদিকে চল্। ওই ভুলের জন্যই ওরা আজ নিকেশ হবে!”
দ্বিতীয়জন দোনামোনা করে এগোল প্রথমজনের পিছু-পিছু। সে টর্চ আর জ্বালছিল না এখন। হেলথসেন্টারের ভিতরের হলদেটে আলো তেরছা হয়ে জায়গায়-জায়গায় পড়েছে, গাছের ডালপাতার আড়াল দিয়ে যদিও তা খুব কমই আলোকিত করতে পারছিল বাউন্ডারি ওয়ালের গা-ঘেঁষে যে রাস্তাটি তাকে, তবুও চলা যায়। ওরা অবশ্য চলছিল না, দৌড়াচ্ছিল।
“ওদের ওইদিকে পাঠালেন যে স্যার? আমরা কী করব এবার?” আফজল জিজ্ঞাসা করল।
“আমরা এবার ওদের অ্যাটাক্ করব!”
“মানে ? সে তো এখানেই করলে হত!”
“না। এখানে করলে ওরা পালিয়ে যেতে পারত। ওখানে পারবে না। জায়গাটা ভালো করে দেখ। চারপাশের মধ্যে ওই জায়গাটাই যা ফাঁকা। একটা ছোট গেট লক্ষ্য করছো। নিয়ন বাল্বের আলোয় এখান থেকেই বেশ দেখা যাচ্ছে। ওরা ওইপথেই ভিতরে সেঁধুবার প্ল্যান করছিল। ইতিমধ্যে কেউ গেছে কি-না বুঝতে পারছি না। কিন্তু ওখানে ওদের উপর অ্যাটাক্ করে ঘায়েল করা আমাদের পক্ষে সুবিধাজনক। টর্চ জ্বেলে শত্রু খুঁজতে হবে না অন্তত!”
“বুঝলাম। কিন্তু গুলি চালাবেন? ওরা কিন্তু মাত্র একবার চালিয়েছে। আমরা তখন চালাতে পারতাম, চালাইনি কিন্তু!”
“আমরা কেউ অন্ধকারে শব্দভেদী বাণ মারার ট্রেনিং নিয়ে আসিনি আফজল। শুনেছি, ও ট্রেনিং মিলিটারিতে দেওয়া হয়। এখানে গুলি চালালে যে লাগবেই, তার কোন গ্যারান্টি ছিল না। জানে মেরে ফেললে কিন্তু উল্টো ল্যাফড়া। পায়ের দিকে লক্ষ্য রাখো। দরকার হলে দুটি পা-ই জখম করে দাও। আমি আর তুমি যাব। শিবম্ এখানেই থাক। দরকার পড়লে সে হেল্প করবে আমাদের। তিনজনই বাঘের মুখে গিয়ে পড়ার মতো বোকামি করা যাবে না!”
পকেটে ফোন ভাইব্রেট করছিল। কেউ ফোন করছে। কে? ভাগ্যিস, গাড়িতে উঠে সে বুদ্ধি করে ফোন ভাইব্রেশন মোডে করে দিয়েছিল। না-হলে এখন ফোন বেজে উঠলে সব প্ল্যান ভেস্তে যেত।
“শিবম্কে থানায় ফোন করতে বলব ? আরও ফোর্স লাগলে মালাকার স্যার ব্যবস্থা করে…”
“একটু আগে শুনলে না, থানায় ওদের খোঁচড় আছে। কে তা জানি না। কিন্তু মালাকার স্যার জানার সঙ্গে সঙ্গে সে জেনে যাবে এবং যদি সে এদের গ্যাং-কে জানিয়ে দেয়, তাহলে উল্টো বিপদ ঘটতে পারে ! দরকার পড়লে শিবম্ জানাবে। এখন এস, এগনো যাক্।”
শিবম্ অবশ্য বলামাত্র পকেট থেকে লিফলেট আর রুমাল বার করে দিয়েছিল। অন্ধকারে দেখা না গেলেও এখন যেহেতু তারা কাছাকাছি ছিল, ফলে অসুবিধা হল না। আফজলও পকেট থেকে রুমাল বার করে দিল। যদিও সে জানে না সুদীপ্ত কী করতে চলেছে।
“আশেপাশে ভাঙা ছোট শুকনো ডাল বা আর কিছু আছে শিবম্? দেখ তো!”
“অন্ধকারে কীভাবে খুঁজবো স্যার? সাপটাপের গায়ে হাত পড়ে যাবে… তাহলেই শেষ!”
কথাটা মিথ্যে নয়। আশেপাশে বড় শালগাছের কাণ্ডের চারপাশে ছোট-ছোট কাঁচা শালশিশু মাথা তুলেছে এই নতুন বসন্তে। তরল অন্ধকারেও তাদের কাঁচা কলাপাতা সবুজ রঙ সাদাটে হয়ে দেখা যাচ্ছিল। সেইগুলির একটি থেকে একটি কাঁচা ডাল ভেঙে তার ডগায় রুমালগুলি একের সঙ্গে অন্যটি গিঁট বেঁধে তা ডালটিতে জড়িয়ে নিজের পকেট থেকে লাইটার বার করে রুমালে আগুন ধরিয়ে ডালটা ছুঁড়ে দিল যেখানে দূরে কালপ্রিটগুলিকে প্রথম দেখা গিয়েছিল, সেদিকে। আগুনজলা ডালতা তীরের মতো হাওয়ায় সাঁতার কেটে সেখানে পড়তেই ওদের চোখে পড়ল।
“বে, আগুন! ওদিকে। তার মানে আমরা এখানে ওদের খুঁজছি আর ওরা তার ভিতরেই অন্ধকারে ওখানে গিয়ে হাজির!”
“কিন্তু আগুন জ্বালবে কেন?” দ্বিতীয়জন বেশ সংশয়বাদী। তার মানে সতর্ক এবং বুদ্ধিমান। বুদ্ধিমান না হলে তার মগজে সংশয় এবং জিজ্ঞাসার জন্ম হত না।
“কোনভাবে ধরে গিয়েছে হয়তো। ওদিকে চল্। ওই ভুলের জন্যই ওরা আজ নিকেশ হবে!”
দ্বিতীয়জন দোনামোনা করে এগোল প্রথমজনের পিছু-পিছু। সে টর্চ আর জ্বালছিল না এখন। হেলথসেন্টারের ভিতরের হলদেটে আলো তেরছা হয়ে জায়গায়-জায়গায় পড়েছে, গাছের ডালপাতার আড়াল দিয়ে যদিও তা খুব কমই আলোকিত করতে পারছিল বাউন্ডারি ওয়ালের গা-ঘেঁষে যে রাস্তাটি তাকে, তবুও চলা যায়। ওরা অবশ্য চলছিল না, দৌড়াচ্ছিল।
“ওদের ওইদিকে পাঠালেন যে স্যার? আমরা কী করব এবার?” আফজল জিজ্ঞাসা করল।
“আমরা এবার ওদের অ্যাটাক্ করব!”
“মানে ? সে তো এখানেই করলে হত!”
“না। এখানে করলে ওরা পালিয়ে যেতে পারত। ওখানে পারবে না। জায়গাটা ভালো করে দেখ। চারপাশের মধ্যে ওই জায়গাটাই যা ফাঁকা। একটা ছোট গেট লক্ষ্য করছো। নিয়ন বাল্বের আলোয় এখান থেকেই বেশ দেখা যাচ্ছে। ওরা ওইপথেই ভিতরে সেঁধুবার প্ল্যান করছিল। ইতিমধ্যে কেউ গেছে কি-না বুঝতে পারছি না। কিন্তু ওখানে ওদের উপর অ্যাটাক্ করে ঘায়েল করা আমাদের পক্ষে সুবিধাজনক। টর্চ জ্বেলে শত্রু খুঁজতে হবে না অন্তত!”
“বুঝলাম। কিন্তু গুলি চালাবেন? ওরা কিন্তু মাত্র একবার চালিয়েছে। আমরা তখন চালাতে পারতাম, চালাইনি কিন্তু!”
“আমরা কেউ অন্ধকারে শব্দভেদী বাণ মারার ট্রেনিং নিয়ে আসিনি আফজল। শুনেছি, ও ট্রেনিং মিলিটারিতে দেওয়া হয়। এখানে গুলি চালালে যে লাগবেই, তার কোন গ্যারান্টি ছিল না। জানে মেরে ফেললে কিন্তু উল্টো ল্যাফড়া। পায়ের দিকে লক্ষ্য রাখো। দরকার হলে দুটি পা-ই জখম করে দাও। আমি আর তুমি যাব। শিবম্ এখানেই থাক। দরকার পড়লে সে হেল্প করবে আমাদের। তিনজনই বাঘের মুখে গিয়ে পড়ার মতো বোকামি করা যাবে না!”
পকেটে ফোন ভাইব্রেট করছিল। কেউ ফোন করছে। কে? ভাগ্যিস, গাড়িতে উঠে সে বুদ্ধি করে ফোন ভাইব্রেশন মোডে করে দিয়েছিল। না-হলে এখন ফোন বেজে উঠলে সব প্ল্যান ভেস্তে যেত।
“শিবম্কে থানায় ফোন করতে বলব ? আরও ফোর্স লাগলে মালাকার স্যার ব্যবস্থা করে…”
“একটু আগে শুনলে না, থানায় ওদের খোঁচড় আছে। কে তা জানি না। কিন্তু মালাকার স্যার জানার সঙ্গে সঙ্গে সে জেনে যাবে এবং যদি সে এদের গ্যাং-কে জানিয়ে দেয়, তাহলে উল্টো বিপদ ঘটতে পারে ! দরকার পড়লে শিবম্ জানাবে। এখন এস, এগনো যাক্।”
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭৯ : উত্তরমেঘ

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৭: এক উটকো লোকের কথায় ভুলে রবীন্দ্রনাথ-মৃণালিনীকে দিতে হয়েছিল খেসারত
অন্যপক্ষের লোকদুটি তখন আশেপাশে তন্নতন্ন করে খুঁজছিল। আগুনটা অবশ্য ততক্ষণে নিভে গিয়েছিল। একে ভিজে কুয়াশার দাপট, তার সঙ্গে সামান্য তিনটি রুমাল আর কতক্ষণ লড়াই করবে?
“কী হল বল তো বে? আগুনটা তো এখানেই জ্বলতে দেখেছিলাম আমরা। ওরা কোথায় গেল?” সংশয়বাদী জিজ্ঞাসা করল।
“সেটাই তো! দেখেছি ঠিক। দুজনেই দেখেছি। সুতরাং ভুল দেখিনি। কিন্তু…! অন্য কিছু নয় তো বে?”
“অন্য কিছু মানে?”
“মানে ওই যাদের নাম রাত্তিরে নিতে নেই…!”
“শালা বোকা*** মাথা গরম করে দিস না। ওদের একটা ব্যবস্থা না করে গেলে বসের কাছে ঝাড় খেতে হবে!”
“টর্চটা জ্বাল। আশেপাশে দেখি!”
অন্যজন টর্চ জ্বালল। সামনের দিকে ফেলল। ওরা জানতেও পারল না কালান্তক যমের মত সুদীপ্ত এবং আফজল ওদের পিছন-পিছন এসে রিভলভার তাক করেছে টার্গেটে হট করবে বলে!—চলবে।
“কী হল বল তো বে? আগুনটা তো এখানেই জ্বলতে দেখেছিলাম আমরা। ওরা কোথায় গেল?” সংশয়বাদী জিজ্ঞাসা করল।
“সেটাই তো! দেখেছি ঠিক। দুজনেই দেখেছি। সুতরাং ভুল দেখিনি। কিন্তু…! অন্য কিছু নয় তো বে?”
“অন্য কিছু মানে?”
“মানে ওই যাদের নাম রাত্তিরে নিতে নেই…!”
“শালা বোকা*** মাথা গরম করে দিস না। ওদের একটা ব্যবস্থা না করে গেলে বসের কাছে ঝাড় খেতে হবে!”
“টর্চটা জ্বাল। আশেপাশে দেখি!”
অন্যজন টর্চ জ্বালল। সামনের দিকে ফেলল। ওরা জানতেও পারল না কালান্তক যমের মত সুদীপ্ত এবং আফজল ওদের পিছন-পিছন এসে রিভলভার তাক করেছে টার্গেটে হট করবে বলে!—চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।


















