
ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী।
রবীন্দ্রনাথ অত্যন্ত স্নেহ করতেন ইন্দিরা দেবীকে। ‘ছিন্নপত্রাবলী’-র সব চিঠি তাঁকে লেখা। তিনি আর কেউ নন, কবির ভ্রাতুষ্পুত্রী। অগ্রজ সত্যেন্দ্রনাথের কন্যা। ইন্দিরাকে রবীন্দ্রনাথ উৎসর্গ করেছিলেন তাঁর ‘প্রভাতসঙ্গীত’ কাব্যগ্রন্থটি। সাহিত্যবোধ জাগিয়ে তুলেছিলেন প্রিয় ভ্রাতুষ্পুত্রীর মধ্যে। ইন্দিরার প্রথম লেখা ছাপা হয়েছিল ‘বালক’ পত্রিকায়। তখন তাঁর বছর বারো বয়স। ঠাকুরবাড়ি থেকেই পত্রিকাটি প্রকাশিত হত। ইন্দিরার মা জ্ঞানদানন্দিনীর নাম সম্পাদক হিসেবে ছাপা হলেও ‘বালক’ একা হাতে সামলাতেন রবীন্দ্রনাথ। ‘বালক’-এর পাতায় ইন্দিরা দেবীর সাহিত্যচর্চার শুরু। পরবর্তীকালে অনেক লেখাই লিখেছেন ‘সবুজ পত্র’ পত্রিকায়। শুধু সাহিত্য-প্রীতি নয়, প্রায় সহজাত ছিল সংগীতপ্রীতি। শিশুকাল থেকেই ছিল সংগীতে প্রবল অনুরাগ-উৎসাহ। বালিকা-বয়সে গান শিখেছিলেন ব্রাহ্মসমাজের গায়ক বিষ্ণু চক্রবর্তীর কাছে। পরে ওস্তাদের কাছেও তালিম নিয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথের গান নিয়েও তাঁর আগ্রহের অন্ত ছিল না। রবীন্দ্রগানের স্বরলিপিও করেছিলেন।
ইন্দিরা বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হয়েছিলেন প্রমথ চৌধুরীর সঙ্গে। অত্যন্ত রুচিবান আধুনিকমনস্ক মানুষ ছিলেন তিনি। বিবাহ হঠাৎ ঘটেনি। প্রমথ চৌধুরীর অগ্রজ আশুতোষ ছিলেন ঠাকুরবাড়ির জামাতা ও কবির বন্ধু। রবীন্দ্র-অগ্রজ হেমেন্দ্রনাথের কন্যা প্রতিভাসুন্দরীর সঙ্গে তাঁর বিবাহ হয়েছিল। সেই সূত্রে আশুতোষ-ভ্রাতারা অগ্রজের শ্বশুরালয়ে আসতেন। তাঁদের সঙ্গে ‘অন্তরঙ্গ মেলামেশা’র কথা ইন্দিরা নিজেই জানিয়েছেন।

প্রমথ চৌধুরী।
আশুতোষ-ভ্রাতা প্রমথর সঙ্গে প্রথমে কিছুদিন ‘পূর্বরাগপর্ব’ চলেছিল। তারপর স্বপ্নপূরণ, বিবাহ-বন্ধন। প্রমথ চৌধুরীর পেশাগত জীবন খুব সুখের ছিল না। কখনও হাইকোর্টে ওকালতি করেছেন, আবার কখনো কাজ করেছেন গোপাললাল শীল এস্টেটে। এমনকি দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরে ম্যানেজারিও করেছেন। কিছুকাল সম্মানজনক এক চাকরি করেছিলেন, আইন কলেজে অধ্যাপনা। পরে মন দিয়েছিলে ‘সবুজ পত্র’ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য-সাময়িকী সম্পাদনায়। পত্রিকা প্রকাশের এই উদ্যোগে শামিল হয়েছিলেন ঠাকুরবাড়ির আর এক জামাতা, তিনি মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়। মণিলাল বিবাহ করেছিলেন অবনীন্দ্র-কন্যা করুণাকে। ‘সবুজ পত্র’-এর
প্রকাশলগ্ন থেকে পাশে পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথকেও।
বিবাহোত্তর জীবনে প্রমথ চৌধুরী ঠাকুরবাড়িতে থাকেননি। ঠাকুরবাড়ির জামাইরা অনেকেই শ্বশুরালয়ে থাকতে অভ্যস্ত ছিলেন। এরই মাঝে তিনি বাড়ি করেছিলেন বালিগঞ্জের ব্রাইট স্ট্রিটে। সে বাড়ির নাম দিয়েছিলেন ‘কমলালয়’।
প্রকাশলগ্ন থেকে পাশে পেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথকেও।
বিবাহোত্তর জীবনে প্রমথ চৌধুরী ঠাকুরবাড়িতে থাকেননি। ঠাকুরবাড়ির জামাইরা অনেকেই শ্বশুরালয়ে থাকতে অভ্যস্ত ছিলেন। এরই মাঝে তিনি বাড়ি করেছিলেন বালিগঞ্জের ব্রাইট স্ট্রিটে। সে বাড়ির নাম দিয়েছিলেন ‘কমলালয়’।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৫২: আকাশ এখনও মেঘলা

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২০ : চারুলতা-মহানগর — বীক্ষণযন্ত্র

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৫: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — বাঘরোল

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫০: মধ্যরাতের বিপদ-আপদ
প্রমথ-ইন্দিরার মনে গোপন দুঃখ ছিল। সন্তানহীনতার সেই দুঃখ কখনো প্রকট হয়ে ওঠেনি। নিজেদের মতো করে আনন্দ খুঁজে পেয়েছিলেন। কমলালয়ে তাঁদের আনন্দময় দিনযাপনে দুঃখের উঁকিঝুঁকিও ছিল। গয়না হারিয়ে বেদনাসিক্ত হয়েছিলেন ইন্দিরা। চোখের জলে ফেলেছিলেন। পুজোর ছুটিতে সেবার সপরিবারে গিয়েছিলেন রাঁচিতে। রাঁচি থেকে কমলালয়ে ফিরে ইন্দিরা তো হতবাক। গয়নার বাক্সটা বাড়ির আলমারিতে তুলে রাখতে গিয়ে কেমন যেন খটকা লাগে তাঁর। হালকা মনে হয়। ছোট্ট বাক্সের ডালাটা খুলতেই মুহূর্তে মন খারাপ হয়ে যায়। একেবারে ফাঁকা, সব গয়নাই নির্ঘাৎ চুরি গিয়েছে। মহিলাদের কাছে গয়না বড়ো প্রিয়। প্রাণের থেকেও প্রিয়। সেই গয়না চুরি ইন্দিরাকে বিমর্ষ করেছিল। দিদিমার দেওয়া সরু সোনার চিক, মায়ের দেওয়া ব্রোজ, স্বামী গড়িয়ে দিয়েছিলেন সোনার শিকলজোড়া, চুরি গিয়েছিল সব গয়নাই! কষ্টে বুক ফেটে যাওয়ার জোগাড়। কান্না পায়। তারই মধ্যে মনে পড়ে, আগের দিনের ঘটনাবলি, রাঁচির বাড়িতে কী ঘটেছিল! অনুমান করতে পারেন কখন চোর এসেছিল, কীভাবে চুরি গিয়েছিল কখন,চোর হস্তগত করেছিল গয়নাগাটি!

ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী।
ইন্দিরার মনে পড়ে যায়, আগের দিনের ঘটনাবলি, রাঁচির বাড়িতে কী ঘটেছিল! অনুমান করতে পারেন, কখন চোর এসেছিল, চুরি করে হস্তগত করেছিল গয়নাগাটি! রাঁচি থেকে কলকাতায় ফেরার তখন তোড়জোড় করছিলেন ইন্দিরা, বাক্স গোছাতে গোছাতে অল্প সময়ের জন্য নেমেছিলেন একতলায়। একতলায় তাড়াহুড়ো করে নামার ফলে বাক্স বন্ধ করতে ভুলে গিয়েছিলেন। বাক্স বন্ধ না করায় ঘটে যায় বিপত্তি । সেই সময়ই ‘গৃহেতে পশিল চোর’! কে এই চোর? ইন্দিরার মনে হয়, বাইরে থেকে কেউ আসেনি। ঘরের লোকই নিয়েছে। রাঁচির বাড়িতে মোগলজান নামে এক চাকর ছিল। সে-ই নিয়েছে। ইন্দিরার কাছে চুরির কথা জানার পর পিতা সত্যেন্দ্রনাথ থানা-পুলিশ করেছিলেন। তারপরও কাজের কাজ কিছু হয়নি। মোগলজানের শুধু চাকরি গিয়েছিল, এর বেশি কিছু নয়।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৫: রাজসূয় যজ্ঞের সূচনায় মতবিনিময়ে নিহিত বৈচিত্র্যময় মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯০: ত্রিপুরার রাজপরিবারকে রবীন্দ্রনাথের প্রথম পত্র
পিতৃদেব আদরের কন্যাকে ‘চুরির ক্ষতিপূরণ’ দিয়েছিলেন দু-শো টাকা। সে টাকায় ইন্দিরা কিছু গয়নাও কিনেছিলেন। গয়না কিনলেও মনের ভেতর খুঁতখুতুনি রয়েই গিয়েছিল, দিদিমার দেওয়া চিকটার জন্য খুব দুঃখ হত। মনে হত নতুন করে চিক গড়ালেও তেমনটি তো আর পাওয়া যাবে না।
চুরি এই প্রথম নয়, ঘরে চুরি হয়েছে, বাইরে চুরি হয়েছে। গয়না চুরির কথা বলতে গিয়ে সেসব মনে পড়ে গেছে ইন্দিরার। শিমলায় চাকরিসূত্রে থাকতেন ইন্দিরার পিতা সত্যেন্দ্রনাথ। শিমলাপাহাড়ে শোওয়ার ঘরে সত্যেন্দ্রনাথ আয়নার টেবিলে রেখেছিলেন সোনার ঘড়ি। বাইরে থেকে কেউ হাত বাড়িয়ে নিয়ে দে ছুট। সত্যেন্দ্রনাথ বুঝতে পেরেই হাঁকডাক শুরু করে দিয়েছিলেন। ততক্ষণে পাহাড়ের উঁচু-নিচু পথ দিয়ে চোরবাবাজি কোথায় অন্ধকারে মিলিয়ে গিয়েছে! না, তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
চুরি এই প্রথম নয়, ঘরে চুরি হয়েছে, বাইরে চুরি হয়েছে। গয়না চুরির কথা বলতে গিয়ে সেসব মনে পড়ে গেছে ইন্দিরার। শিমলায় চাকরিসূত্রে থাকতেন ইন্দিরার পিতা সত্যেন্দ্রনাথ। শিমলাপাহাড়ে শোওয়ার ঘরে সত্যেন্দ্রনাথ আয়নার টেবিলে রেখেছিলেন সোনার ঘড়ি। বাইরে থেকে কেউ হাত বাড়িয়ে নিয়ে দে ছুট। সত্যেন্দ্রনাথ বুঝতে পেরেই হাঁকডাক শুরু করে দিয়েছিলেন। ততক্ষণে পাহাড়ের উঁচু-নিচু পথ দিয়ে চোরবাবাজি কোথায় অন্ধকারে মিলিয়ে গিয়েছে! না, তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

চেয়ারে বসে ইন্দিরা, দাঁড়িয়ে প্রমথ। সঙ্গে অন্যান্যরা।
পিতৃদেবের ঘড়ি হারিয়েছে দেখে পুত্র সুরেন্দ্রনাথ নিজের হাতের সোনার ঘড়ি খুলে দিয়েছিলেন, ব্যবহার করার জন্য। ইন্দিরার লেখা থেকে জানা যায়, সে ঘড়ি সুরেন্দ্রনাথ পুরস্কার পেয়েছিল বিএ পরীক্ষায় খুব ভালো রেজাল্ট করার জন্য।
চুরির কি আর শেষ আছে! চুরি হয়েছে বালিগঞ্জের কমলালয়েও। একদিন মাঝরাতে হঠাৎই ইন্দিরার ঘুম ভেঙে যায়। মনে হয়, দেয়ালে কার যেন ছায়া। ভয়মিশ্রিত প্রশ্ন জাগে, কোনও জন্তু-জানোয়ার নয়তো! একটু পরেই পুরো ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বুঝতে পারেন, ঘরের ভেতরে হামাগুড়ি দিয়ে কেউ ঢোকার চেষ্টা করছে! ‘কে ও’ বলে চিৎকার করে ওঠেন তিনি। চিৎকার করা মাত্র, কেউ যে পালিয়ে গেল, তাও বুঝতে পেরেছিলেন ইন্দিরা দেবী। পাশে শোওয়া স্বামীকে ধাক্কা দিয়ে তুলেছিলেন। কে আর জানত, আরও এক দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে!
চুরির কি আর শেষ আছে! চুরি হয়েছে বালিগঞ্জের কমলালয়েও। একদিন মাঝরাতে হঠাৎই ইন্দিরার ঘুম ভেঙে যায়। মনে হয়, দেয়ালে কার যেন ছায়া। ভয়মিশ্রিত প্রশ্ন জাগে, কোনও জন্তু-জানোয়ার নয়তো! একটু পরেই পুরো ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বুঝতে পারেন, ঘরের ভেতরে হামাগুড়ি দিয়ে কেউ ঢোকার চেষ্টা করছে! ‘কে ও’ বলে চিৎকার করে ওঠেন তিনি। চিৎকার করা মাত্র, কেউ যে পালিয়ে গেল, তাও বুঝতে পেরেছিলেন ইন্দিরা দেবী। পাশে শোওয়া স্বামীকে ধাক্কা দিয়ে তুলেছিলেন। কে আর জানত, আরও এক দুঃসংবাদ অপেক্ষা করছে!
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৬৩: বরাকের ভট্ট সঙ্গীত এবং বারমোসী গান

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৭: পরবাস প্রস্তুতি (তিন)
প্রমথ চৌধুরী ঘড়ি দেখতে গিয়ে তো চমকে উঠলেন! কোথায় ঘড়ি, আয়নার টেবিলেই তো ছিল! নিতান্তই কেনা ঘড়ি নয়, ঘড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে আবেগ। বিয়ের ঘড়ি। না, সেখানে ঘড়ি খুঁজে পাননি তিনি। আলো জ্বালতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আয়নার পাশে যে আললা, সেই আললাতে থাকা কয়েকটা ভালো শাড়িও তো নেই। ঘড়ি শুধু নয়, চোর শাড়িও নিয়ে পালিয়েছে।
প্রমথ-ইন্দিরার চিৎকারে ওই রাতেও এদিক-ওদিক থেকে কয়েকজনকে জড়ো হয়েছিল। চলল একতলায়, দোতলায় অনেক খোঁজাখুঁজি। কোত্থাও কেউ নেই। সকাল হতে না হতেই পুলিশ আসে। পাড়ার লোকজন এসে ভিড় করে। কী কী চুরি হয়েছে, পুলিশ লিখে নিয়ে যায়, দেয় চোর ধরার, চুরি যাওয়া জিনিস উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি। পারুক, না পারুক চেষ্টার কসুর করেনি পুলিশ। পরের দিনই নিয়ে আসে দু-টো ‘কালো মুষকো জোয়ান’কে। এনে ইন্দিরার কাছে পুলিশ জানতে চায়, চিনতে পারছে কিনা। অন্ধকারে সেভাবে দেখাই যায়নি। ফলে শনাক্ত করার কোনও উপায় ছিল না। ফলে ইন্দিরা কিছুই বলতে পারেননি। জানিয়েছেন, তাঁর অক্ষমতার কথা।
প্রমথ-ইন্দিরার চিৎকারে ওই রাতেও এদিক-ওদিক থেকে কয়েকজনকে জড়ো হয়েছিল। চলল একতলায়, দোতলায় অনেক খোঁজাখুঁজি। কোত্থাও কেউ নেই। সকাল হতে না হতেই পুলিশ আসে। পাড়ার লোকজন এসে ভিড় করে। কী কী চুরি হয়েছে, পুলিশ লিখে নিয়ে যায়, দেয় চোর ধরার, চুরি যাওয়া জিনিস উদ্ধারের প্রতিশ্রুতি। পারুক, না পারুক চেষ্টার কসুর করেনি পুলিশ। পরের দিনই নিয়ে আসে দু-টো ‘কালো মুষকো জোয়ান’কে। এনে ইন্দিরার কাছে পুলিশ জানতে চায়, চিনতে পারছে কিনা। অন্ধকারে সেভাবে দেখাই যায়নি। ফলে শনাক্ত করার কোনও উপায় ছিল না। ফলে ইন্দিরা কিছুই বলতে পারেননি। জানিয়েছেন, তাঁর অক্ষমতার কথা।

প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হত 'সবুজ পত্র'।
জোড়াসাঁকো থেকেও ঘড়ি চুরি গিয়েছিল। ইন্দিরারা সবাই মিলে মাঝেমধ্যেই জোড়াসাঁকোয় যেতেন। জোড়াসাঁকোয় গেলে থাকতেন কবির পুত্রবধূ প্রতিমা দেবীর ঘরে। সেবারও তেমনই ছিলেন। আয়নার টেবিলে রেখেছিলেন হাতঘড়িটা। ঘড়িটা নির্দিষ্ট বাক্সে রেখে নিশ্চিন্তই ছিলেন। পরের দিন স্নানান্তে ঘরে ফিরে দেখলেন, ঘড়ির বাক্সটা রয়েছে, অথচ ঘড়িটা নেই। অনেক খোঁজাখুঁজি, সেবারও খবর দেওয়া হয়েছিল পুলিশে।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭৯ : উত্তরমেঘ

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৭: এক উটকো লোকের কথায় ভুলে রবীন্দ্রনাথ-মৃণালিনীকে দিতে হয়েছিল খেসারত
বাড়ির চাকর নিয়েছে, এমন মনে হলেও ইন্দিরা স্পষ্ট করে কাউকে বলতে পারেননি। বারবার মনে হয়েছে, চাকরকে সন্দেহ করলে, পুলিশ ডাকলে জোড়াসাঁকোর বাড়ির মানুষজন বিপদে পড়বেন। কাজের লোকটি চলে গেলে সবকিছু তাঁদেরই সামলাতে হবে। এক আত্মীয় অবশ্য পরামর্শ দিয়েছিলেন, সব চাকরবাকরদের বাক্স খুলে খানাতল্লাশি করা দরকার। সেসব আর কে করে!
পরের দিন পুলিশ এলেও সেভাবে তদন্ত করেনি। প্রশ্নের পর প্রশ্ন, অনেক প্রশ্ন করেছিল। ইন্দিরাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, কাউকে সন্দেহ করেন কিনা। বাড়ির নেপালি চাকরটিকেই সন্দেহ করেন তিনি, সে কথা অবশ্য পুলিশকে বলেননি। ক-দিন পর নজরে পড়ে, শুধু ঘড়ি নয়, চুরি গেছে শাড়িও। আললায় তাঁর একটি দামি তসরের শাড়িও তো দেখতে পাচ্ছেন না। চোর নিয়ে পালিয়েছে, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না।
পরের দিন পুলিশ এলেও সেভাবে তদন্ত করেনি। প্রশ্নের পর প্রশ্ন, অনেক প্রশ্ন করেছিল। ইন্দিরাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, কাউকে সন্দেহ করেন কিনা। বাড়ির নেপালি চাকরটিকেই সন্দেহ করেন তিনি, সে কথা অবশ্য পুলিশকে বলেননি। ক-দিন পর নজরে পড়ে, শুধু ঘড়ি নয়, চুরি গেছে শাড়িও। আললায় তাঁর একটি দামি তসরের শাড়িও তো দেখতে পাচ্ছেন না। চোর নিয়ে পালিয়েছে, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
চোর ধরা না পড়লেও ইন্দিরার ঘড়ি চুরির কথা ছড়িয়ে পড়েছিল। এই ঘটনার কিছুদিন পরই বিশ্বভারতী তাঁকে সংবর্ধনা জানিয়েছিল। সেই সংবর্ধনায় তাঁকে দেওয়া হয়েছিল হাতঘড়ি। ইন্দিরা কৌতুক করে ‘উপঢৌকন’ বললেও সেই ঘড়ি বিশ্বভারতী-কর্তৃপক্ষ দিয়েছিলেন গভীর শ্রদ্ধায়,ভালবাসায়। সংবর্ধনায় পাওয়া হাতঘড়িটাই এরপর থেকে নিয়মিত পরতেন ইন্দিরা দেবী।
* গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি (Tagore Stories – Rabindranath Tagore) : পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Parthajit Gangopadhyay) অবনীন্দ্রনাথের শিশুসাহিত্যে ডক্টরেট। বাংলা ছড়ার বিবর্তন নিয়ে গবেষণা, ডি-লিট অর্জন। শিশুসাহিত্য নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে গবেষণা করে চলেছেন। বাংলা সাহিত্যের বহু হারানো সম্পদ পুনরুদ্ধার করেছেন। ছোটদের জন্য পঞ্চাশটিরও বেশি বই লিখেছেন। সম্পাদিত বই একশোরও বেশি।


















