
অ্যাম্বুল্যান্সের আগে-পিছে পুলিশের গাড়ি, তার পিছনে ডিএমের গাড়ি যাচ্ছিল। এসপিকে বলা হয়েছে। তিনি সদর হাসপাতালে থাকবেন। আজ রাতেই যা-যা ব্যবস্থা করার করে ফেলতে হবে। ডিএম চেয়েছিলেন, নীরবে সমস্ত কাজটা সারতে। কিন্তু শাক্য আপত্তি জানিয়েছিল। তার মতে, যা করতে হবে এইরকম ভাবেই করতে হবে।
“কিন্তু তাতে তো সক্কলে জানতে পেরে যাবে না? এইরকম ভিআইপি ট্রিটমেন্টে নিয়ে যাওয়ার মানে হসপিটালে অনেকের চোখে পড়া। আপনি বোধহয় জানেন না, সদর হসপিটাল রাতেও লোকে লোকারণ্য থাকে। দূর-দূরান্ত থেকে যাঁরা ডাক্তার দেখাতে আসেন, তাঁরা আগের দিন বিকেলেই পৌঁছে যান। সারারাত হাসপাতাল চত্বরে কাটিয়ে ভোর-ভোর টিকিট করিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে যাবেন বলে। জানেন তো এখানকার অনেক জায়গাই বলতে গেলে এক্সট্রিম রিমোট এরিয়া, সেখান থেকে দিনের দিন ডাক্তার দেখাতে এলে সেদিন আর ডাক্তার দেখানো সম্ভব না। এই কারণেই এরকম ব্যবস্থা।”
“বুঝলাম। তবে হসপিটালে তো শুনেছি রাতে চত্বরের ভিতর থাকা নিষিদ্ধ, তাহলে কর্তৃপক্ষ কি সে-সব নিয়ম-নির্দেশ মানছেন না? ভেরি স্যাড!” শাক্য বলল।
ডিএম বললেন, “দেখুন, নির্দেশ আছে, নিয়ম আছে, সবই মানলাম। কিন্তু সবসময় তো আইনের কথা মাথায় রাখলে চলে না। মানবিকতা বলেও একটা দিক আছে। সেই হিউম্যানিটরিয়ান গ্রাউণ্ডে আটকাচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা গরীব-গুর্বো আদমি সব, কোথায় যাবে এত রাতে? হোটেল ইত্যাদি বেশ কিছু আছে এখানে, অস্বীকার করছি না, কিন্তু যাঁরা অর্থের অভাবে এক বেলা না-খেয়ে থাকে, তাঁদের হোটেলে থাকার কথা ভাবাটাই বিলাসিতা। সেই কারণে…”
“কিন্তু তাতে তো সক্কলে জানতে পেরে যাবে না? এইরকম ভিআইপি ট্রিটমেন্টে নিয়ে যাওয়ার মানে হসপিটালে অনেকের চোখে পড়া। আপনি বোধহয় জানেন না, সদর হসপিটাল রাতেও লোকে লোকারণ্য থাকে। দূর-দূরান্ত থেকে যাঁরা ডাক্তার দেখাতে আসেন, তাঁরা আগের দিন বিকেলেই পৌঁছে যান। সারারাত হাসপাতাল চত্বরে কাটিয়ে ভোর-ভোর টিকিট করিয়ে ডাক্তার দেখিয়ে যাবেন বলে। জানেন তো এখানকার অনেক জায়গাই বলতে গেলে এক্সট্রিম রিমোট এরিয়া, সেখান থেকে দিনের দিন ডাক্তার দেখাতে এলে সেদিন আর ডাক্তার দেখানো সম্ভব না। এই কারণেই এরকম ব্যবস্থা।”
“বুঝলাম। তবে হসপিটালে তো শুনেছি রাতে চত্বরের ভিতর থাকা নিষিদ্ধ, তাহলে কর্তৃপক্ষ কি সে-সব নিয়ম-নির্দেশ মানছেন না? ভেরি স্যাড!” শাক্য বলল।
ডিএম বললেন, “দেখুন, নির্দেশ আছে, নিয়ম আছে, সবই মানলাম। কিন্তু সবসময় তো আইনের কথা মাথায় রাখলে চলে না। মানবিকতা বলেও একটা দিক আছে। সেই হিউম্যানিটরিয়ান গ্রাউণ্ডে আটকাচ্ছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা গরীব-গুর্বো আদমি সব, কোথায় যাবে এত রাতে? হোটেল ইত্যাদি বেশ কিছু আছে এখানে, অস্বীকার করছি না, কিন্তু যাঁরা অর্থের অভাবে এক বেলা না-খেয়ে থাকে, তাঁদের হোটেলে থাকার কথা ভাবাটাই বিলাসিতা। সেই কারণে…”
“আমি বুঝেছি স্যার। কিন্তু আপনি জানেন, এই মানবিকতার সুযোগ নিয়ে কেবল পেশেন্টপার্টি রাতে হাসপাতাল চত্বরে থাকে না, থাকে অনেক অ্যান্টিসোশ্যালেরাও। তারাই সমস্ত সমস্যার উৎস। ওই গরীব-গুর্বো মানুষগুলিকেও গেটে আটকে দেবে, কিন্তু হুলিগানদের আটকাবে না। আপনি জানেন, এমন ঘটনা আকচার ঘটছে। সাধারণ পেশেন্টদের থাকতে দিন, কোন অসুবিধা নেই, কিন্তু ওই সব সমাজবিরোধীদের ঢুকতে দিলে বিপদ!”
“হ্যাঁ, মিঃ সিংহ, আমি মানছি আপনার কথার মধ্যে যাথার্থ্য আছে। তবে কি জানেন, বেশি কড়াকড়ি করার ইচ্ছে থাকলেও নানা কারনে তা হয় না! এই আর কি!”
“জানি। উই আর অল ইন সেম বোট! মাঝেমধ্যে মনে হয় চাকরি ছেড়েছুড়ে অন্য কোথাও চলে যাই!” আক্ষেপের সুরে বলল শাক্য।
“যাক্। এক্সপিডিশন টু কালাদেও-থানের ব্যাপারটা কী ঠিক করলেন? আমি কিন্তু সামনের সপ্তাহে মিটিং ডাকব বলে ভেবেই নিয়েছি।”
“সামনের সপ্তাহ? বেশি দেরি হয়ে যাবে না?”
“দেখুন। এক্সপিডিশন-টিম বানাতে কিছু সময় তো লাগবেই। জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার কোনও এক্সপার্টের ব্যবস্থা না-করলে ধোঁকার টাটি দেওয়া যাবে না। আমি বাইরের দিক থেকে সবকিছু স্বাভাবিক দেখাতে চাই। এথিক্যালি অ্যান্ড পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকতে হবে আমাদের। কারণ, বুঝতেই পারছেন, কালাদেওর থানকে ঘিরে এখানকার আদিবাসীদের মধ্যে যে-পরিমাণ উন্মাদনা রয়েছে, তাতে তাদের বিশ্বাসে সামান্য চিড় খেলেই বিপদ। অতএব…! তার উপর ধরুন প্যারা-মিলিটারি লাগবে। সে-যদিও কাছেই একটি আর্মি-বেস রয়েছে, তাদের সাহায্য চাইলেই পাওয়া যাবে। আমি ইতিমধ্যেই উপরে মেইল করে দিয়েছি। সব দিক বজায় রেখেই যা-করার করতে হবে। নাহলে একেবারে পলিটিক্যাল হাঙ্গামা বেঁধে যাবে। তখন জবাবদিহি করতে-করতে আমাদের লাইফ হেল হয়ে যাবে।”
“তা ঠিক। দেখুন, যত তাড়াতাড়ি হয়। আমি আর ওয়েট করতে চাইছি না।”
“আমিও না। তাছাড়া ওই কালাদেওর ব্যাপারে আমার স্পেশাল ইন্টারেস্ট আছে। এখানে আসার আগে যদিও আমি ওই দেবতার নামও শুনিনি। এলাম যখন, তখন কালাদেও তার তাণ্ডবলীলা শুরু করে দিয়েছেন। আমি সদর থেকে পুলিশ পাঠিয়েও দেখেছি, তাদের মধ্যেও কেউ সচরাচর কালাদেওর বিরুদ্ধে তদন্তে রাজি নয়। সকলের বিশ্বাসগুলি কালাদেওরই কীর্তি। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কেন, সারা পৃথিবীর আর্মি দিলেও কোন লাভ হবে না। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি না। কালাদেওর থানে একবার নিতান্ত কৌতূহলী হয়ে গিয়েছিলাম। আহামরি কিছু লাগেনি। কিন্তু লোকাল মানুষের সেণ্টিমেন্টকে আঘাত দিলে ফল উল্টো হবে। সেই কারণেই বাধ্য হয়েছিলাম মেনে নিতে। যদিও আমি তখনও বিশ্বাস করতাম না, এখনও করি না যে, কালাদেওর ব্যাপারটা কোন অলৌকিক ঘটনা। ভূত-প্রেত যদি থাকে, তাহলেও তাকে চালাচ্ছে কোন মানুষ। এটাই আমার বিশ্বাস।”
“হ্যাঁ, মিঃ সিংহ, আমি মানছি আপনার কথার মধ্যে যাথার্থ্য আছে। তবে কি জানেন, বেশি কড়াকড়ি করার ইচ্ছে থাকলেও নানা কারনে তা হয় না! এই আর কি!”
“জানি। উই আর অল ইন সেম বোট! মাঝেমধ্যে মনে হয় চাকরি ছেড়েছুড়ে অন্য কোথাও চলে যাই!” আক্ষেপের সুরে বলল শাক্য।
“যাক্। এক্সপিডিশন টু কালাদেও-থানের ব্যাপারটা কী ঠিক করলেন? আমি কিন্তু সামনের সপ্তাহে মিটিং ডাকব বলে ভেবেই নিয়েছি।”
“সামনের সপ্তাহ? বেশি দেরি হয়ে যাবে না?”
“দেখুন। এক্সপিডিশন-টিম বানাতে কিছু সময় তো লাগবেই। জিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার কোনও এক্সপার্টের ব্যবস্থা না-করলে ধোঁকার টাটি দেওয়া যাবে না। আমি বাইরের দিক থেকে সবকিছু স্বাভাবিক দেখাতে চাই। এথিক্যালি অ্যান্ড পলিটিক্যালি কারেক্ট থাকতে হবে আমাদের। কারণ, বুঝতেই পারছেন, কালাদেওর থানকে ঘিরে এখানকার আদিবাসীদের মধ্যে যে-পরিমাণ উন্মাদনা রয়েছে, তাতে তাদের বিশ্বাসে সামান্য চিড় খেলেই বিপদ। অতএব…! তার উপর ধরুন প্যারা-মিলিটারি লাগবে। সে-যদিও কাছেই একটি আর্মি-বেস রয়েছে, তাদের সাহায্য চাইলেই পাওয়া যাবে। আমি ইতিমধ্যেই উপরে মেইল করে দিয়েছি। সব দিক বজায় রেখেই যা-করার করতে হবে। নাহলে একেবারে পলিটিক্যাল হাঙ্গামা বেঁধে যাবে। তখন জবাবদিহি করতে-করতে আমাদের লাইফ হেল হয়ে যাবে।”
“তা ঠিক। দেখুন, যত তাড়াতাড়ি হয়। আমি আর ওয়েট করতে চাইছি না।”
“আমিও না। তাছাড়া ওই কালাদেওর ব্যাপারে আমার স্পেশাল ইন্টারেস্ট আছে। এখানে আসার আগে যদিও আমি ওই দেবতার নামও শুনিনি। এলাম যখন, তখন কালাদেও তার তাণ্ডবলীলা শুরু করে দিয়েছেন। আমি সদর থেকে পুলিশ পাঠিয়েও দেখেছি, তাদের মধ্যেও কেউ সচরাচর কালাদেওর বিরুদ্ধে তদন্তে রাজি নয়। সকলের বিশ্বাসগুলি কালাদেওরই কীর্তি। তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ কেন, সারা পৃথিবীর আর্মি দিলেও কোন লাভ হবে না। কিন্তু আমি বিশ্বাস করি না। কালাদেওর থানে একবার নিতান্ত কৌতূহলী হয়ে গিয়েছিলাম। আহামরি কিছু লাগেনি। কিন্তু লোকাল মানুষের সেণ্টিমেন্টকে আঘাত দিলে ফল উল্টো হবে। সেই কারণেই বাধ্য হয়েছিলাম মেনে নিতে। যদিও আমি তখনও বিশ্বাস করতাম না, এখনও করি না যে, কালাদেওর ব্যাপারটা কোন অলৌকিক ঘটনা। ভূত-প্রেত যদি থাকে, তাহলেও তাকে চালাচ্ছে কোন মানুষ। এটাই আমার বিশ্বাস।”
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪৫: জরুরি একটি ফোন

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৩: ডায়মন্ড হারবার, গৌরীর হারিয়ে যাবার দিন

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪১: যুধিষ্ঠিরের রাজসূয় যজ্ঞানুষ্ঠানের সিদ্ধান্তে কেন কৃষ্ণের অনুমোদন প্রয়োজন?

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৬: বক্সনগরে আবিষ্কৃত হয়েছে বৌদ্ধ স্তুপ, চৈত্যগৃহ ও একটি মঠ
ভালো লাগল কথাটা শাক্যর। ডিএম নিজেও বিশ্বাস করেন না যে, কালাদেও নামক কোন প্রেত বা অলৌকিক কিছুর হাতে এতগুলি লোক মারা পড়েনি, এটা তাকে উদ্দীপ্ত করার জন্য যথেষ্ট। সে মাথা নেড়ে সায় দিয়ে বলল, “আমি নিজে এই কেসের ফাইলগুলি পড়ে আগের অপরাধগুলির ব্যাপারে জানতে পারি। আমি এখানে আসার পরে আরও দুটি মার্ডার ঘটে গিয়েছে। কলকাতা-পার্টির একজন, সম্ভবত অনিল সাক্সেনা আর পিশাচপাহাড় রিসর্টের একটি লোক মার্দার হয়েছিল। আশ্চর্যের ব্যাপার, এত করে বলা সত্ত্বেও ছেলেটির কোনও হোয়্যার-অ্যাবাউটস্ রিসর্ট কর্তৃপক্ষ রাখেননি। এটা একটা পানিশেবল্ অফেন্স হওয়া উচিত বলে মনে করে শাক্য।
সে বলল, “আমারও সেটাই বিশ্বাস। সেই কারণেই তাড়াহুড়ো এত। যারা লাশের পাহাড় ছুঁড়ে দিয়ে ভাবছে, সব দোষ নন্দঘোষের মতো কালাদেওর উপর দিয়েই যাবে, তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছে। দেখা যাক। তারা পুলিশি-বিভাগের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে একপ্রকার। এটা কোনভাবেই বরদাস্ত করে নেওয়া যায় না!”
“হ্যাঁ! সেই-কারণেই আটঘাট বেঁধে নামতে চাইছি!”
“বেশ!” বলেই হঠাৎ যেন কী মনে পড়ে গেল, সেই ভঙ্গিতে বলল শাক্য, “ও হ্যাঁ, আর একটা অনুরোধ মিনিমাম রাখতে হবেই!”
“কী অনুরোধ?”
“একটি বাচ্চা মেয়ে, নাম নুনিয়া, এই কেসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন সাক্ষী হয়ে উঠতে পারে বলেই আমার বিশ্বাস, তাকে ফুল প্রোটেকশন দেওয়ার দরকার বলে আমি মনে করি। এই কেসের তদন্তে লালবাজারের এক সহকর্মী পাভেলের উপর যে ডেডলি অ্যাটাক হয়, সেই সময় মেয়েটির সঙ্গে আমার পরিচয়। মূলত তার জন্যই সে-যাত্রা পাভেল বেঁচে যায়। আমিও সেফলি জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসতে পারি। মেয়েটি ওইখানে যে চার্চটি আছে, তাদের অরফ্যান্দের হোমে থাকে। লেখাপড়ায় মন নেই। দিনরাত টো-টো করে ঘুরে বেড়ায় বনে-বাদাড়ে। অদ্ভুত ইনটুইশন পাওয়ার। অন্য কোনও সাইকিক পাওয়ার থাকলেও আমি অবাক হব না। অবশ্য এ-জাতীয় পাওয়ার অলৌকিক কোনও ঘটনা নয়। প্রকৃতির এক অদ্ভুত খেয়াল। কখন-কখন কারও মধ্যে দেখা যায়। সাময়িকভাবে কিংবা চিরকালীন। কিন্তু নুনিয়া অন্তত একটি কেসে প্রাইম উইটনেস হতে পারে। এই ডক্টর সত্যব্রতর সঙ্গে নুনিয়ার একটি অদ্ভুত বন্ডিং আছে। নুনিয়াকে ইনি স্নেহ করেন, নুনিয়াও ডক্টরকে বিশ্বাস করে। নুনিয়া সম্ভবত ডক্টরকে কিছু বলেছিল। আমরা এখনও জানি না, সেই কারণেই ডক্টরকে কিডন্যাপ করা হয়েছিল কি-না। নুনিয়া এখন কোথায়, কীভাবে আছে, তাও জানি না। জানতে হবে। আজ-কালের মধ্যে নুনিয়াকে আমাদের হেফাজতে নিতে হবে। আমার কেমন যেন মনে হচ্ছে, ডক্টরের পর যার উপর অ্যাতাক হবে, সে নুনিয়া। অবশ্য অলরেডি তা হয়ে গিয়েছে কি-না কে বলবে?”
সে বলল, “আমারও সেটাই বিশ্বাস। সেই কারণেই তাড়াহুড়ো এত। যারা লাশের পাহাড় ছুঁড়ে দিয়ে ভাবছে, সব দোষ নন্দঘোষের মতো কালাদেওর উপর দিয়েই যাবে, তারা মূর্খের স্বর্গে বাস করছে। দেখা যাক। তারা পুলিশি-বিভাগের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে একপ্রকার। এটা কোনভাবেই বরদাস্ত করে নেওয়া যায় না!”
“হ্যাঁ! সেই-কারণেই আটঘাট বেঁধে নামতে চাইছি!”
“বেশ!” বলেই হঠাৎ যেন কী মনে পড়ে গেল, সেই ভঙ্গিতে বলল শাক্য, “ও হ্যাঁ, আর একটা অনুরোধ মিনিমাম রাখতে হবেই!”
“কী অনুরোধ?”
“একটি বাচ্চা মেয়ে, নাম নুনিয়া, এই কেসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একজন সাক্ষী হয়ে উঠতে পারে বলেই আমার বিশ্বাস, তাকে ফুল প্রোটেকশন দেওয়ার দরকার বলে আমি মনে করি। এই কেসের তদন্তে লালবাজারের এক সহকর্মী পাভেলের উপর যে ডেডলি অ্যাটাক হয়, সেই সময় মেয়েটির সঙ্গে আমার পরিচয়। মূলত তার জন্যই সে-যাত্রা পাভেল বেঁচে যায়। আমিও সেফলি জঙ্গল থেকে বেরিয়ে আসতে পারি। মেয়েটি ওইখানে যে চার্চটি আছে, তাদের অরফ্যান্দের হোমে থাকে। লেখাপড়ায় মন নেই। দিনরাত টো-টো করে ঘুরে বেড়ায় বনে-বাদাড়ে। অদ্ভুত ইনটুইশন পাওয়ার। অন্য কোনও সাইকিক পাওয়ার থাকলেও আমি অবাক হব না। অবশ্য এ-জাতীয় পাওয়ার অলৌকিক কোনও ঘটনা নয়। প্রকৃতির এক অদ্ভুত খেয়াল। কখন-কখন কারও মধ্যে দেখা যায়। সাময়িকভাবে কিংবা চিরকালীন। কিন্তু নুনিয়া অন্তত একটি কেসে প্রাইম উইটনেস হতে পারে। এই ডক্টর সত্যব্রতর সঙ্গে নুনিয়ার একটি অদ্ভুত বন্ডিং আছে। নুনিয়াকে ইনি স্নেহ করেন, নুনিয়াও ডক্টরকে বিশ্বাস করে। নুনিয়া সম্ভবত ডক্টরকে কিছু বলেছিল। আমরা এখনও জানি না, সেই কারণেই ডক্টরকে কিডন্যাপ করা হয়েছিল কি-না। নুনিয়া এখন কোথায়, কীভাবে আছে, তাও জানি না। জানতে হবে। আজ-কালের মধ্যে নুনিয়াকে আমাদের হেফাজতে নিতে হবে। আমার কেমন যেন মনে হচ্ছে, ডক্টরের পর যার উপর অ্যাতাক হবে, সে নুনিয়া। অবশ্য অলরেডি তা হয়ে গিয়েছে কি-না কে বলবে?”
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩০: কাদাখোঁচা

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৪৮: আকাশ এখনও মেঘলা
“আমি এসপিকে বলবো? উনি খোঁজ নিয়ে জানাবেন। লোকাল থানার ওই সেকেন্ড অফিসার যিনি এসেছিলেন, তাঁর কী-যেন-নাম…”
“সুদীপ্ত।”
“হ্যাঁ, সেই সুদীপ্ত তো ফিরে গিয়েছেন। তাঁকে ফোন করুন। তিনি যদি সন্ধান করতে পারেন। চার্চের মধ্যে অরফ্যান হোস্টেলে সুরক্ষিত থাকবে আশা করা যায়। চার্চেও ফোন করা যায়।…”
“না!” শাক্য গম্ভীর হয়ে বলল, “নুনিয়াকে এভাবে সকলকে জানিয়ে রেসকিউ করার চেষ্টার অর্থ হল, তাকে আরও বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়া। যা করতে হবে গোপনে!”
“তাহলে ডক্টরের ব্যাপারটা গোপনে করলেই তো হতো! এভাবে সকলকে জানিয়ে হসপিটালে যাওয়া যে উচিত নয়, তা তো আমি আগেই বলেছিলাম মিঃ সিংহ!”
“দেখুন, দুটি ঘটনা এক জিনিস নয়। নুনিয়াকে গোপনেই উদ্ধার করতে হবে, তার অন্য কারণ আছে। ডক্টরের ক্ষেত্রে আমরা ঘটা করে রেসকিউ করে এই যে নিয়ে যাচ্ছিস, আপনি তো জানেন, কেন নিয়ে যাচ্ছি। গ্রামের দিকে মাঠে ফসলের সময় মাঝেমাঝে কোথাও বড় করে আগুন জ্বালানো হয় দেখেছেন ?”
ডিএম মাথা নাড়লেন।
শাক্য বলল, “হয়। এই বাংলায় তো হয়ই। অনেককাল ধরে চলে আসছে। প্রথার মতো দাঁড়িয়ে গিয়েছে এখন। লোকে বলে ভূত-প্রেত কিংবা কোন অপদেবতা যাতে ফসলের উপর নজর না-দেয়, তার জন্যই আগুনের ব্যবস্থা। আসলে মূল কারণটি কিন্তু তা নয়। একেবারেই বৈজ্ঞানিক। ফসল ধরা এবং পাকার ঠিক আগের সময়টাতেই নানারকম পোকামাকড়ের উৎপাত বেড়ে যায়। এইসব পোকারা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে। এখন আগুন জ্বাললে পোকারা তাদের স্বাভাবিক প্রবণতা অনুযায়ী ক্ষেত থেকে আগুন লক্ষ করে ছুটে আসবে, তারপর যা হবে বুঝতেই পারছেন। এতে ফসলের পক্ষে ক্ষতিকারক একাধিক পোকাকে ট্রাপে ফেলে মেরে ফেলার লোকপ্রচলিত আদিম উপায়। পরে তাতে ভূত-প্রেত-অপদেবতার গল্প যুক্ত হয়েছে।”
“সুদীপ্ত।”
“হ্যাঁ, সেই সুদীপ্ত তো ফিরে গিয়েছেন। তাঁকে ফোন করুন। তিনি যদি সন্ধান করতে পারেন। চার্চের মধ্যে অরফ্যান হোস্টেলে সুরক্ষিত থাকবে আশা করা যায়। চার্চেও ফোন করা যায়।…”
“না!” শাক্য গম্ভীর হয়ে বলল, “নুনিয়াকে এভাবে সকলকে জানিয়ে রেসকিউ করার চেষ্টার অর্থ হল, তাকে আরও বিপদের দিকে ঠেলে দেওয়া। যা করতে হবে গোপনে!”
“তাহলে ডক্টরের ব্যাপারটা গোপনে করলেই তো হতো! এভাবে সকলকে জানিয়ে হসপিটালে যাওয়া যে উচিত নয়, তা তো আমি আগেই বলেছিলাম মিঃ সিংহ!”
“দেখুন, দুটি ঘটনা এক জিনিস নয়। নুনিয়াকে গোপনেই উদ্ধার করতে হবে, তার অন্য কারণ আছে। ডক্টরের ক্ষেত্রে আমরা ঘটা করে রেসকিউ করে এই যে নিয়ে যাচ্ছিস, আপনি তো জানেন, কেন নিয়ে যাচ্ছি। গ্রামের দিকে মাঠে ফসলের সময় মাঝেমাঝে কোথাও বড় করে আগুন জ্বালানো হয় দেখেছেন ?”
ডিএম মাথা নাড়লেন।
শাক্য বলল, “হয়। এই বাংলায় তো হয়ই। অনেককাল ধরে চলে আসছে। প্রথার মতো দাঁড়িয়ে গিয়েছে এখন। লোকে বলে ভূত-প্রেত কিংবা কোন অপদেবতা যাতে ফসলের উপর নজর না-দেয়, তার জন্যই আগুনের ব্যবস্থা। আসলে মূল কারণটি কিন্তু তা নয়। একেবারেই বৈজ্ঞানিক। ফসল ধরা এবং পাকার ঠিক আগের সময়টাতেই নানারকম পোকামাকড়ের উৎপাত বেড়ে যায়। এইসব পোকারা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে। এখন আগুন জ্বাললে পোকারা তাদের স্বাভাবিক প্রবণতা অনুযায়ী ক্ষেত থেকে আগুন লক্ষ করে ছুটে আসবে, তারপর যা হবে বুঝতেই পারছেন। এতে ফসলের পক্ষে ক্ষতিকারক একাধিক পোকাকে ট্রাপে ফেলে মেরে ফেলার লোকপ্রচলিত আদিম উপায়। পরে তাতে ভূত-প্রেত-অপদেবতার গল্প যুক্ত হয়েছে।”
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭৭ : রাজা সাজা

দশভুজা, সরস্বতীর লীলাকমল, পর্ব-৪৬: ঠাকুরবাড়ির লক্ষ্মী মেয়ে
“বাহ! বেশ বললেন তো!”
“ধন্যবাদ। আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, ডক্টরের রেসক্যিউর প্রশ্নে আমি এই প্রথার কথাটি কেন বললাম ?”
“ধরতে পারছি!”
বলতে-বলতে গাড়ি সদর হাসপাতালের গেটে পৌঁছে গেল। পুলিশের গাড়ি দেখে গেটম্যান মেইন গেট খুলে দিল। গাড়িগুলি অ্যাম্বুল্যান্স-সহ একে-একে ভিতরে ঢুকল। এসপি অপেক্ষা করছিলেন। সঙ্গে সুপার নিজেও। ডিএম স্বয়ং এসেছেন যেখানে, তা যে কোন সাধারণ কেস নয়, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি তাঁর। কয়েকজন নার্সও আছেন। ট্রলিবেড নিয়ে ওয়ার্ডবয় প্রস্তুত। অ্যাম্বুল্যান্স থামতেই দু’জন ওয়ার্ডবয় এগিয়ে এল ট্রলিবেড নিয়ে। সত্যব্রতকে নামানো হল। তিনি এখনও সেন্সলেস অবস্থায় রয়েছেন। ওরা তাঁকে নিয়ে ট্রলি ঠেলে ভিতরে ঢুকে গেল। আগে-পিছনে দু’জন করে চারজন পুলিশ।
শাক্যরা ইতিমধ্যে নেমে পড়েছিল গাড়ি থেকে। রাতের হাসপাতালে ডিএম যেমন বলছিলেন, তার চেয়েও বেশি লোকজন দেখা গেল। বড়-বড় নিয়ন আলো জ্বলছে। তাদের আলোয় ঝলমল করছে চারদিক। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে শুয়ে-বসে থাকা অপেক্ষমান পেশেন্টপার্টির কেউ-কেউ এত গাড়ি-টাড়ি দেখে উঠে বসেছে। কেউ অতি কৌতূহলী হয়ে কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়ে দেখছে। শাক্য তাদের দিকে একঝলক তাকিয়ে দেখল। আলাদা করে মুখ দেখে কিছু বোঝার উপায় নেই। তবে যদি তাদের কোন খোচড় থাকে, তাহলে এই ভিড়ের ভিতরেই সে আছে। খুব নিবিষ্ট মনে সে সবকিছু ওয়াচ করবে, তারপর যেখানে জানানোর জানিয়ে দেবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী অ্যাকশন ঠিক হবে। কারণ ডক্টরকে এখানে স্পেশাল প্রোটেকশনের মধ্যে রাখার যে নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থা হচ্ছে, সেই লোহার বাসরঘরে কোন ছিদ্র আছে কি-না, তা দেখেশুনেই পরবর্তী প্ল্যান ঠিক করবে ওরা। তবে ওদের আসতেই হবে।
“ধন্যবাদ। আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন, ডক্টরের রেসক্যিউর প্রশ্নে আমি এই প্রথার কথাটি কেন বললাম ?”
“ধরতে পারছি!”
বলতে-বলতে গাড়ি সদর হাসপাতালের গেটে পৌঁছে গেল। পুলিশের গাড়ি দেখে গেটম্যান মেইন গেট খুলে দিল। গাড়িগুলি অ্যাম্বুল্যান্স-সহ একে-একে ভিতরে ঢুকল। এসপি অপেক্ষা করছিলেন। সঙ্গে সুপার নিজেও। ডিএম স্বয়ং এসেছেন যেখানে, তা যে কোন সাধারণ কেস নয়, তা বুঝতে অসুবিধা হয়নি তাঁর। কয়েকজন নার্সও আছেন। ট্রলিবেড নিয়ে ওয়ার্ডবয় প্রস্তুত। অ্যাম্বুল্যান্স থামতেই দু’জন ওয়ার্ডবয় এগিয়ে এল ট্রলিবেড নিয়ে। সত্যব্রতকে নামানো হল। তিনি এখনও সেন্সলেস অবস্থায় রয়েছেন। ওরা তাঁকে নিয়ে ট্রলি ঠেলে ভিতরে ঢুকে গেল। আগে-পিছনে দু’জন করে চারজন পুলিশ।
শাক্যরা ইতিমধ্যে নেমে পড়েছিল গাড়ি থেকে। রাতের হাসপাতালে ডিএম যেমন বলছিলেন, তার চেয়েও বেশি লোকজন দেখা গেল। বড়-বড় নিয়ন আলো জ্বলছে। তাদের আলোয় ঝলমল করছে চারদিক। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে শুয়ে-বসে থাকা অপেক্ষমান পেশেন্টপার্টির কেউ-কেউ এত গাড়ি-টাড়ি দেখে উঠে বসেছে। কেউ অতি কৌতূহলী হয়ে কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়ে দেখছে। শাক্য তাদের দিকে একঝলক তাকিয়ে দেখল। আলাদা করে মুখ দেখে কিছু বোঝার উপায় নেই। তবে যদি তাদের কোন খোচড় থাকে, তাহলে এই ভিড়ের ভিতরেই সে আছে। খুব নিবিষ্ট মনে সে সবকিছু ওয়াচ করবে, তারপর যেখানে জানানোর জানিয়ে দেবে। সেই অনুযায়ী পরবর্তী অ্যাকশন ঠিক হবে। কারণ ডক্টরকে এখানে স্পেশাল প্রোটেকশনের মধ্যে রাখার যে নিশ্ছিদ্র ব্যবস্থা হচ্ছে, সেই লোহার বাসরঘরে কোন ছিদ্র আছে কি-না, তা দেখেশুনেই পরবর্তী প্ল্যান ঠিক করবে ওরা। তবে ওদের আসতেই হবে।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৭ : কাঞ্চনজঙ্ঘা: দেখা হবে চন্দনের বনে

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৪: কবি-কন্যার প্রিয় বান্ধবী
ডিএম সুপারকে কিছু বলার জন্য আলাদা করে ডেকে নিয়ে তাঁর অফিসঘরের দিকে এগোলেন। সঙ্গে এসপি। ডিএম যেতে গিয়েও একবার থমকে দাঁড়ালেন। শাক্যকে ডাকলেন হাত দিয়ে। শাক্য যেতেই বললেন, “অফিসার। আমার মনে হয় আপনারই বলা উচিৎ এখন আমাদের কী করণীয়। সুতরাং আপনি দূরে দাঁড়িয়ে থাকলে চলবে না।”
শাক্য বলল, “আমি দূরে এমনি দাঁড়িয়ে ছিলাম না। হসপিটালে ভিড় করা পেশেন্টপার্টির মধ্যে ক্যামাফ্লেজ করে শয়তানের কোন অনুচর খোচড়গিরি করছে কি-না সেটাই বোঝার চেষ্টা করছিলাম!”
“সেইরকম কেউ আছেন নাকি অফিসার?” ব্যস্ত হয়ে বলে মুঠলেন এসপি, “তাহলে আমি এক্ষুনি পুলিশকে বলছি, সকলকে ভালো করে তল্লাশি করতে!”
“না না। ও ভুল করবেন না। খোচড় হল দূত। জানেন না, শাস্ত্রে বলেছে, দূত অবধ্য। আমি চাই এখানে যদি কোন খোচড় থাকে, তবে সে সমস্ত ইনফরমেশন কালেক্ট করে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিক, না-হলে আমাদেরই ক্ষতি।”
ডিএম বললেন, “মি. সিংহ যেমন চাইছেন, তেমনই হোক!”
“আচ্ছা, বেশ!” এসপি বললেন।
“আমরা অফিসে বসে পরবর্তী আলোচনা করতে পারি!” ডিএম বললেন।
“নিশ্চয়ই। চলুন!”
পেশেন্টপার্টির ভিড়ে দাঁড়িয়ে সত্যসত্যই একজন সব নজরবন্দি করছিল। শাক্যরা ভিতরে ঢুকে যেতেই সে একটু দূরে সরে এসে কাউকে কল করল। “হ্যালো…” —চলবে।
শাক্য বলল, “আমি দূরে এমনি দাঁড়িয়ে ছিলাম না। হসপিটালে ভিড় করা পেশেন্টপার্টির মধ্যে ক্যামাফ্লেজ করে শয়তানের কোন অনুচর খোচড়গিরি করছে কি-না সেটাই বোঝার চেষ্টা করছিলাম!”
“সেইরকম কেউ আছেন নাকি অফিসার?” ব্যস্ত হয়ে বলে মুঠলেন এসপি, “তাহলে আমি এক্ষুনি পুলিশকে বলছি, সকলকে ভালো করে তল্লাশি করতে!”
“না না। ও ভুল করবেন না। খোচড় হল দূত। জানেন না, শাস্ত্রে বলেছে, দূত অবধ্য। আমি চাই এখানে যদি কোন খোচড় থাকে, তবে সে সমস্ত ইনফরমেশন কালেক্ট করে সঠিক জায়গায় পৌঁছে দিক, না-হলে আমাদেরই ক্ষতি।”
ডিএম বললেন, “মি. সিংহ যেমন চাইছেন, তেমনই হোক!”
“আচ্ছা, বেশ!” এসপি বললেন।
“আমরা অফিসে বসে পরবর্তী আলোচনা করতে পারি!” ডিএম বললেন।
“নিশ্চয়ই। চলুন!”
পেশেন্টপার্টির ভিড়ে দাঁড়িয়ে সত্যসত্যই একজন সব নজরবন্দি করছিল। শাক্যরা ভিতরে ঢুকে যেতেই সে একটু দূরে সরে এসে কাউকে কল করল। “হ্যালো…” —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।


















