
ফোন রেখে দিয়ে সুদীপ্ত একবার ভাবল। ঘড়তে বলছে, এখন রাত একটা। সুদূর মফস্সলে রাত একটা মানে গভীর রাত। তার উপর পিশাচপাহাড়ের যে-দিকটায় একটু শহুরে হাওয়া, সেদিকে দু’-একটি বাড়িতে রাতজাগার মানুষ থাকলেও, যেদিকে আধা গ্রাম, সে-সব অঞ্চলে সন্ধ্যে হতে-না-হতেই রাত নেমে আসে। রিসর্টগুলি অবশ্য শহরের যে-প্রান্তে সেদিকে জঙ্গল, টিলা—এসবই বেশি। সেখানেও এত রাতে হইচই উন্মাদনার আওয়াজ থিতিয়ে আসে। ক্বচিৎ-কদাচিৎ বন-ফায়ারের আমেজ নিতে শহুরে বাবু-বিবিরা সংলগ্ন বাগানে ভিড় জমায়, বাকি রাতগুলি সুনসান টিমটিমে আলোর রেণু গায়ে মেখে ঘুমিয়ে পড়ে রিসর্টগুলিও। সেই সমস্ত রিসর্ট ছাড়িয়ে আরও খানিকটা গেলে জঙ্গলের গা ঘেঁষে হেলথ-সেন্টার, তারও খানিকটা পরে চার্চের হসপিটাল। এই দু’টি জায়গায় সারারাত আলো জ্বললেও নিঝুম রাত্রিতে জন-মনিষ্যি না-থাকায় কেমন গা-ছমছম করে। পুলিশি জিপ নিয়ে সারারাত টহলদারির ব্যবস্থা থাকলেও ওদিকে পারতপক্ষে রোঁদে কেউ যায় না।
সুদীপ্ত একবার ভাবল টহলদারি জিপকে কোথায় আছে জানতে চেয়ে থানার দিকে আসতে বলে। তারপর জিপে করেই হেলথ-সেন্টারের দিকে যায়। কিন্তু তারপর ভাবল, বাইক নিয়ে বেরিয়ে কাছাকাছি গিয়ে ওদের ডেকে নিলেই হবে। তার ভূতের ভয় নেই। কালাদেওর উপর বিশ্বাসও নেই। তবে কালপ্রিটদের সে ভয় না পেলেও সমঝে চলে। এরা পারে না এমন কিছুই নেই। মানুষকে মেরে ফেলা এদের কাছে জলভাত। মানুষের লাশ দেখলে এরা অবিমিশ্র আনন্দ পায়। শাক্য স্যারের অনুমান সঠিক হলে এরা সত্যব্রতকে আবার জালে তোলার জন্য হেলথ-সেন্টারের আশেপাশে অপেক্ষা করবে। অন্তত থানা গাড়বে আজ-কাল-পরশু রাতে। কাউকে-না-কাউকে পাহারায় রাখবেই রাখবে। অতি সন্তর্পণে তাকে তুলে আনতে হবে, বেগতিক দেখলে গুলি করেই হোক বা না-হোক, তাদের একজনও ধরা পড়লে অনেক খবরাখবর পাওয়া যাবে। যদিও এরা যে খুব ধূর্ত, তাতে সন্দেহ নেই। ফলে খুব সতর্ক-সাবধান হয়ে এগোতে হবে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪৬: সেফ শেলটার

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৮: অসম-মিজোরাম সীমান্তে ঘাড়মুড়ার নব আবিষ্কৃত ভাস্কর্যও সুপ্রাচীন

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭৮ : কুহক

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৫: পোষা হরিণকে সাঁওতালপাড়ায় মারা হয়েছিল তির ছুঁড়ে
থানায় রাতে বেশি লোকজন থাকে না। যাদের আজ টহলের ডিউটি, তারা তো আগেই বেরিয়ে গেছে। এখন যারা আছে, তাদের মধ্যে থেকে কাউকে সঙ্গে নিলে থানায় লোকের সংখ্যা একজন হলেও কমে যাবে। সেটা কতটা উচিত হবে সেটাই বুঝতে পারছে না সুদীপ্ত। মালাকার স্যারকে যে বলবে, তার উপায় নেই। সুদীপ্ত রাতে আছে মানে তিনি নিশ্চিন্তে নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন এখন। ডাকলেও ‘হ্যাঁ-হুঁ’ ছাড়া খুব বেশি মতামত জানাবেন না। যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সেই সুদীপ্তকেই নিতে হবে। সে ঠিক করল একাই বেরিয়ে যাবে। রাস্তায় টহলদারি গাড়িকে ফোন করে ডেকে নিলেই হল।
থানায় জানিয়ে বাইক নিয়ে বের হল সুদীপ্ত। রাতের পিশাচপাহাড়ের একটা আলাদা সৌন্দর্য আছে। শুনশান রাস্তাঘাট, টিমটিম করা স্ট্রিট-লাইট, গাছপালা থেকে ভেসে আসা অজানা গন্ধ, রাতপোকাদের ডাক—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত সুন্দরের রাজ্য যেন। অথচ এরই মাঝে কোথাও লুকিয়ে আছে ভয়, অজানা আশঙ্কার ভয়ঙ্কর ঊর্ণনাভ। আসলে বোধহয় সৃষ্টির এটাই একান্ত ইচ্ছা, ভয় ও ভালোবাসাকে সে একসঙ্গে সাজিয়ে রাখে। এককে পেতে গেলে আরেককে গ্রহণ করতেই হবে। কে-আর সারাজীবন সুন্দরকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পেয়ে এসেছে?
থানায় জানিয়ে বাইক নিয়ে বের হল সুদীপ্ত। রাতের পিশাচপাহাড়ের একটা আলাদা সৌন্দর্য আছে। শুনশান রাস্তাঘাট, টিমটিম করা স্ট্রিট-লাইট, গাছপালা থেকে ভেসে আসা অজানা গন্ধ, রাতপোকাদের ডাক—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত সুন্দরের রাজ্য যেন। অথচ এরই মাঝে কোথাও লুকিয়ে আছে ভয়, অজানা আশঙ্কার ভয়ঙ্কর ঊর্ণনাভ। আসলে বোধহয় সৃষ্টির এটাই একান্ত ইচ্ছা, ভয় ও ভালোবাসাকে সে একসঙ্গে সাজিয়ে রাখে। এককে পেতে গেলে আরেককে গ্রহণ করতেই হবে। কে-আর সারাজীবন সুন্দরকে নিরবচ্ছিন্নভাবে পেয়ে এসেছে?
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৪: রাঙা মেঘের বেলাভূমি

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪২: রামায়ণে মহর্ষি অগস্ত্যের তপস্যালব্ধ শুভশক্তির আবেদন চিরন্তন
থানা থেকে বেরিয়ে বাম দিকে এগিয়ে গেল সুদীপ্ত। আস্তে-আস্তে বাড়িঘর বিরল হয়ে আসছে। তবে হাইওয়ে নির্জন নয় একেবারে। মাঝেমধ্যে ঝড়ের গতিতে আসছে-যাচ্ছে মাল-বোঝাই লরি কিংবা ট্রাক। সকাল ন’টা বাজতে-না-বাজতেই কমে আসবে এদের আনাগোনা। শুরু হয়ে যাবে সাইকেল-গাড়ি-অটো বা টোটোর দৌরাত্ম্য। সেই সঙ্গেই আছে বাইক। ছোট্ট এই আধাগ্রাম-আধা শহরের মানুষেরাও যে কত ছোট-বড় গাড়ির মালিক হতে পারেন, তা সক্কালবেলা রাস্তায় দাঁড়িয়ে নিজের চোখে না-দেখলে বিশ্বাস হয় না। এখন অবশ্য ট্রাক-লরি ছাড়া রাস্তায় আর কেউ নেই। অন্যসময় হলেও দু’চারজন মাতালের দেখা পাওয়া যেত, কিন্তু এখন কালাদেওর ভয়ে রাত বাড়লে কেউই আর বেরুচ্ছে না পথে। এদিককার যে-কয়েকটি ধাবা বা চায়ের দোকান সারারাত খোলা থাকত, তাও কালাদেওর ভয়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
আজকাল ট্রাক কিংবা লরি পিশাচপাহাড়ে ঢোকার আগেই সেরে ফেলে তাদের রাতের খাবার কিংবা মিটিয়ে আসে চায়ের নেশা। এই পথটা একটু বেশি তাড়াতাড়ি পার হয়ে যায় তারা। হাইওয়ে থেকে একটা রাস্তা বাঁ-দিকে বেঁকে গিয়েছে। ঢালাই রাস্তা। আগে মোরাম রাস্তা থাকলেও চার্চের উদয়গে এই রাস্তা বর্তমানে সরকারি উদ্যোগে ঢালাই করা হয়েছে। এই রাস্তার দুপাশে শাল-সেগুন-কেঁদের জঙ্গল শুরু। রাস্তাতা কিছুদূর গিয়ে দু’ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। ডানদিকের রাস্তা ধরে বেশ কিছুটা ভিতরে গেলে চার্চ এবং তার হাসপাতাল। আর রাস্তার বাঁ-দিক ধরলে সরকারি হেলথ-সেন্টার। সচরাচর বড় রাস্তার ধারেই হেলথ-সেন্টার গড়ে ওঠে। কিন্তু এখানে তার ব্যতিক্রম। তার কারণ সম্ভবত, একসময় হেলথ-সেন্টারের জায়গায় কুষ্ঠাশ্রম ছিল। ফলে লোকালয় থেকে দূরে এই স্যানিটরিয়াম গড়ে উঠেছিল। পরে কুষ্ঠাশ্রম উঠে গিয়েছে। সেই জমিতে কুষ্ঠাশ্রমের বাড়িটি কিছুটা সংস্কার করে হেলথ্-হোম তৈরি হয়েছে। রাস্তায় ঢোকার মুখে মিউনিসিপ্যালিটির তরফ থেকে সাইনবোর্ড লাগানো। কাঠের তীর একদিকে চার্চ ও তার হাসপাতাল, অন্যদিকে হেলথ-সেন্টারের দিক নির্দেশ করছে।
আজকাল ট্রাক কিংবা লরি পিশাচপাহাড়ে ঢোকার আগেই সেরে ফেলে তাদের রাতের খাবার কিংবা মিটিয়ে আসে চায়ের নেশা। এই পথটা একটু বেশি তাড়াতাড়ি পার হয়ে যায় তারা। হাইওয়ে থেকে একটা রাস্তা বাঁ-দিকে বেঁকে গিয়েছে। ঢালাই রাস্তা। আগে মোরাম রাস্তা থাকলেও চার্চের উদয়গে এই রাস্তা বর্তমানে সরকারি উদ্যোগে ঢালাই করা হয়েছে। এই রাস্তার দুপাশে শাল-সেগুন-কেঁদের জঙ্গল শুরু। রাস্তাতা কিছুদূর গিয়ে দু’ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। ডানদিকের রাস্তা ধরে বেশ কিছুটা ভিতরে গেলে চার্চ এবং তার হাসপাতাল। আর রাস্তার বাঁ-দিক ধরলে সরকারি হেলথ-সেন্টার। সচরাচর বড় রাস্তার ধারেই হেলথ-সেন্টার গড়ে ওঠে। কিন্তু এখানে তার ব্যতিক্রম। তার কারণ সম্ভবত, একসময় হেলথ-সেন্টারের জায়গায় কুষ্ঠাশ্রম ছিল। ফলে লোকালয় থেকে দূরে এই স্যানিটরিয়াম গড়ে উঠেছিল। পরে কুষ্ঠাশ্রম উঠে গিয়েছে। সেই জমিতে কুষ্ঠাশ্রমের বাড়িটি কিছুটা সংস্কার করে হেলথ্-হোম তৈরি হয়েছে। রাস্তায় ঢোকার মুখে মিউনিসিপ্যালিটির তরফ থেকে সাইনবোর্ড লাগানো। কাঠের তীর একদিকে চার্চ ও তার হাসপাতাল, অন্যদিকে হেলথ-সেন্টারের দিক নির্দেশ করছে।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৪৯

দশভুজা, অন্য লড়াই: এই স্বাধীনতার জন্য আমরা লড়াই করিনি
সেই রাস্তায় ঢোকার আগে সুদীপ্ত বাইক থামাল। পকেট থেকে ফোন বার করে আফজলকে ধরল। আফজল আজ টহলদারি জিপের দায়িত্বে আছে। জিপটা এখন কোথায়-কতদূরে আছে, জানা দরকার। এই রাস্তার দু’দিকে কেবল জঙ্গল, মানুষের কোন বসতি নেই। একটা ঝোরা, বছিরের বেশিরভাগ সময়েই যা জলহীন থাকে, তা জঙ্গলের বুক চিরে একটা নালায় পড়ে বয়ে যাচ্ছে। বর্ষাকাল ছাড়া যদিও তার অস্বিত্ব বোঝা যায় না তেমন।
আফজলের ফোনে রিং হচ্ছিল। সুদীপ্ত এদিক-ওদিক তাকাল। কেউ কোথাও নেই। কিন্তু তার মন জানে, বিপদ যদি থাকে, তাহলে তা খুব সহজেই জঙ্গলের অন্ধকারে গা-লুকিয়ে থাকতে পারে। অসতর্ক হওয়ার মধ্যে কোনও বীরত্ব নেই। বরং যারা জেনেশুনে অসতর্ক হয়, তারা আদতে মূর্খ।
আফজন ফোন তুলল।
—“হ্যালো।”
—“আফজল। সুদীপ্ত স্যার বলছি!”
— “হ্যাঁ স্যার। জানি। বলুন!”
—“তোমরা কোথায়?”
—“আমরা গলিঘাঁটার মোড়ে। কেন স্যার? কোন বিপদ হয়েছে না-কি? থানায় ফিরতে হবে?” আফজলের গলায় উদ্বেগ।
—“না না। বিপদ এখনও ঘোতেনি কিছু, তবে হতে কতক্ষণ?”
আফজল বুঝতে না পেরে বলল—“স্যার!”
— “আফজল। আমি হেলথ-সেন্টারের যাওয়ার রাস্তার মুখে হাইওয়েতে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। আজ রাতে হেলথ-সেন্টারের দিকে একটু নজর দিতে হবে, বুঝলে। ওপরতলার নির্দেশ তেমনই। কিন্তু একা যেতে চাইছি না। কারণ, কোনও গণ্ডগোল হলে একা সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। তুমি তো জানো, হেলথ্-হোমের ডক্টরকে দু’দিন আগে কিডন্যাপ করা হয়েছে। তাঁর খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। কিন্তু এরপরেও হেলথ-সেন্টারের উপর আবার অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা করছেন ওপরতলার কেষ্ট-বিষ্টুরা। আমাদের আজ রাতে অ্যালার্ট থাকতে হবে, সেই সঙ্গেই একবার নজরদারি চালাতে হবে হেলথ-সেন্টারের চারপাশটা। বুঝলে?”
—“আচ্ছা স্যার। আপনি ওইখানে ওয়েট করুন। আমরা মিনিট দশ-পনেরর মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছি। গাড়ি ঘোরাতে বলছি হরিপদকে।”
—“হ্যাঁ, বল!”
—“আচ্ছা স্যার!”
—“আর একটা কথা। তোমার কাছে যে সার্ভিস রিভলভার আছে, তা লোডেড আছে তো?”
—“হ্যাঁ স্যার। আপনি তো জানেন, বর্ডার-এরিয়াতে টহল দিতে গেলে সার্ভিস রিভলভার লোডেড না-হলে মুশকিল।”
—“বেশ। ঠিক আছে। এসো তাড়াতাড়ি!”
“সে ঠিক আছে? কিন্তু সার্ভিস রিভলভার লোডেড কি-না কেন জিজ্ঞাসা করলেন স্যার? কোন এনকাউন্টার-টাউন্টার হবে না-কি?”
—“না না আফজল, প্যানিক করো না। তেমন কিছুই নয়। আমরা কেবল চারপাশটা একসঙ্গে একটু ছানবিন করে নেবো। তারপর ভরের আলো ফোটার আগেই বেরিয়ে আসব, ভয় পেয়ো না!”
—“ও, আচ্ছা স্যার! বুঝলাম!”
—“ঠিক আছে এসো!”
—“হুম। আমাদের আসার আগে যদি কোন বিপদ হয়, তাহলে যেভাবেই হোক ফোন করে একটা মিস-কল অন্তত দেবেন। ঠিক আছে?”
—“সুযোগ পেলে নিশ্চয়ই দেবো! বেশ রাখছি এখন। দেখা হচ্ছে!”
আফজলের ফোনে রিং হচ্ছিল। সুদীপ্ত এদিক-ওদিক তাকাল। কেউ কোথাও নেই। কিন্তু তার মন জানে, বিপদ যদি থাকে, তাহলে তা খুব সহজেই জঙ্গলের অন্ধকারে গা-লুকিয়ে থাকতে পারে। অসতর্ক হওয়ার মধ্যে কোনও বীরত্ব নেই। বরং যারা জেনেশুনে অসতর্ক হয়, তারা আদতে মূর্খ।
আফজন ফোন তুলল।
—“হ্যালো।”
—“আফজল। সুদীপ্ত স্যার বলছি!”
— “হ্যাঁ স্যার। জানি। বলুন!”
—“তোমরা কোথায়?”
—“আমরা গলিঘাঁটার মোড়ে। কেন স্যার? কোন বিপদ হয়েছে না-কি? থানায় ফিরতে হবে?” আফজলের গলায় উদ্বেগ।
—“না না। বিপদ এখনও ঘোতেনি কিছু, তবে হতে কতক্ষণ?”
আফজল বুঝতে না পেরে বলল—“স্যার!”
— “আফজল। আমি হেলথ-সেন্টারের যাওয়ার রাস্তার মুখে হাইওয়েতে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। আজ রাতে হেলথ-সেন্টারের দিকে একটু নজর দিতে হবে, বুঝলে। ওপরতলার নির্দেশ তেমনই। কিন্তু একা যেতে চাইছি না। কারণ, কোনও গণ্ডগোল হলে একা সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। তুমি তো জানো, হেলথ্-হোমের ডক্টরকে দু’দিন আগে কিডন্যাপ করা হয়েছে। তাঁর খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। কিন্তু এরপরেও হেলথ-সেন্টারের উপর আবার অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা করছেন ওপরতলার কেষ্ট-বিষ্টুরা। আমাদের আজ রাতে অ্যালার্ট থাকতে হবে, সেই সঙ্গেই একবার নজরদারি চালাতে হবে হেলথ-সেন্টারের চারপাশটা। বুঝলে?”
—“আচ্ছা স্যার। আপনি ওইখানে ওয়েট করুন। আমরা মিনিট দশ-পনেরর মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছি। গাড়ি ঘোরাতে বলছি হরিপদকে।”
—“হ্যাঁ, বল!”
—“আচ্ছা স্যার!”
—“আর একটা কথা। তোমার কাছে যে সার্ভিস রিভলভার আছে, তা লোডেড আছে তো?”
—“হ্যাঁ স্যার। আপনি তো জানেন, বর্ডার-এরিয়াতে টহল দিতে গেলে সার্ভিস রিভলভার লোডেড না-হলে মুশকিল।”
—“বেশ। ঠিক আছে। এসো তাড়াতাড়ি!”
“সে ঠিক আছে? কিন্তু সার্ভিস রিভলভার লোডেড কি-না কেন জিজ্ঞাসা করলেন স্যার? কোন এনকাউন্টার-টাউন্টার হবে না-কি?”
—“না না আফজল, প্যানিক করো না। তেমন কিছুই নয়। আমরা কেবল চারপাশটা একসঙ্গে একটু ছানবিন করে নেবো। তারপর ভরের আলো ফোটার আগেই বেরিয়ে আসব, ভয় পেয়ো না!”
—“ও, আচ্ছা স্যার! বুঝলাম!”
—“ঠিক আছে এসো!”
—“হুম। আমাদের আসার আগে যদি কোন বিপদ হয়, তাহলে যেভাবেই হোক ফোন করে একটা মিস-কল অন্তত দেবেন। ঠিক আছে?”
—“সুযোগ পেলে নিশ্চয়ই দেবো! বেশ রাখছি এখন। দেখা হচ্ছে!”
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৭ : কাঞ্চনজঙ্ঘা: দেখা হবে চন্দনের বনে

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩১: সুন্দরবনের এক অনন্য প্রাণীসম্পদ গাড়োল
ফোন রেখে দিল সে। কাছেই কোথাও বুনো কোন ফুলের ঝাড় আছে। এই বসন্তে তারাও অন্ধকার আলো করে ফুটে উঠেছে। উদগ্র গন্ধ ভেসে আসছে। কেমন যেন ঝিম ধরে যায় এই গন্ধের আওতায় থাকলে। বাইকটা নিয়ে রাস্তার মুখ থেকে একটু সরে এল সে। পকেট থেকে সিগারেট বার করে ধরাল। শীত বিদায় নিলেও এখানে রাতের দিকে ঠান্ডা শিরশিরে একটা হাওয়া বয়। আজও বইছে। শাক্য দা কী করছে এখন? আজ রাতে ফিরবে কি? তাকে টেক্সট-মেসেজ করে জানিয়েছিল সেই কখন যে, গাড়ি পাঠাতে হবে না। ডিএম নিজের দায়িত্বে ওখানকার কাজ মিটে গেলে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করবেন। এমনিতেও লালবাজার থেকে আগত অফিসারের সর্বক্ষণের ব্যবহারের জন্য গাড়ি লোকাল থানাকেই ব্যবস্থা রাখতে হয়। তবে শাক্য এ-ব্যাপারে বেশি চাপ দেয়নি। সব থানাতেই পুলিশ এবং ট্রান্সপোর্ট অপ্রতুল। তার নিজের জন্য একটা গাড়িকে সারাদিন আটকে রাখলে সেটা অনাচার করা হবে।
শাক্য দা-কে মেসেজ করবে সে? না-কি এখন করবে না ? শাক্য দাকে অবশ্য এই ক’দিনে যেমনটা বুঝেছে সে, তাতে শাক্য দা কিছু মনে করার মানুষ নয়। ইতস্তত করে সে মেসেজ করেই দিল। যখন দেখবেন নিশ্চয়ই রিপ্লাই দেবেন।
—“কী করছেন? আজ রাতে কি ফিরতে পারবেন দাদা?”
সে ভেবেছিল কাল সকালে উত্তর আসবে। কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে মিনিট পাঁচেক পরে রিপ্লাই এল, “হসপিটালে বসে আছি। ডক্টরের সেন্স এখন ফেরেনি। ফিরলে কথা বলে তারপর রওনা হবো। তোমার কী খবর? হেলথ-সেন্টারের দিকে একবার যেতে পেরেছিলে কি?”
—“আমি ঠিক আছি। হেলথ-সেন্টারে ঢোকার রাস্তায় আছি দাদা!”
—“একা না-কি? খবরদার একা যেও না। এরা বড় ফেরোশাস গ্যাং! হ্যাঁ গ্যাং-ই বলছি, কারণ, এ-কাজ একজনের পক্ষে করা সম্ভব নয়। এরা একদল দুষ্কৃতি মিলে এ-সব কাজ করছে বলেই মনে হচ্ছে। ফলে কাউকে না নিয়ে যেও না!”
—“টহলদার পুলিশকে বলেছি। টহলদার-ভ্যান নিয়ে এল বলে…!”
—“এলে তবে যেও। চারদিকে খেয়াল রেখো। ডিউটির চেয়েও বড় মানুষের প্রাণ। মনে রেখো।”
— “হ্যাঁ দাদা!”
—“ফিরে জানিও!”
—“সিওর। আর কোন কাজ?”
—“নুনিয়া। দ্যাটস পুয়োর গার্ল। ওকে সেফ কাস্টডিতে রাখতে হবে। যে-ভাবেই হোক ওর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা কর ব্রো। আমাদের কেসে এটা খুব জরুরি!”
—“ঠিক আছে। আমি দেখছি। এখন তো রাত। আজ তো কিছু করা সম্বভব নয়। কাল সকালে চার্চে গিয়ে ফাদারের সঙ্গে কথা বলবো।”
—“যাই করো। ল্যাজামুড়ো কিছু বলো না। জাস্ট বলবে, আমার প্রাণ বাঁচানোর জন্য আমি ওকে স্পেশালভাবে ট্রিট দিতে চেয়েছি। সেই কারণে তোমার হাতে যেন ছাড়ে। আবার তুমিই তাকে সুস্থভাবে ফিরিয়ে দেবে।”
—“ফিরিয়ে দিতে হলে তাকে সেফ কাস্টডিতে রেখে কী লাভ?”
—“লাভ-ক্ষতির অঙ্ক সবসময় এক হয় না ব্রো। কে যে কখন লাভ করবে আর কে যে কখন লোকসান, কে বলতে পারে? যা বলছি করো।”
—“ওকে দাদা, হুকুম শর-আখেঁপর! রাখছি এখন। গাড়ির আওয়াজ পাচ্ছি বলে মনে হচ্ছে!”
— “বেশ। অল দ্য বেস্ট!”—চলবে।
শাক্য দা-কে মেসেজ করবে সে? না-কি এখন করবে না ? শাক্য দাকে অবশ্য এই ক’দিনে যেমনটা বুঝেছে সে, তাতে শাক্য দা কিছু মনে করার মানুষ নয়। ইতস্তত করে সে মেসেজ করেই দিল। যখন দেখবেন নিশ্চয়ই রিপ্লাই দেবেন।
—“কী করছেন? আজ রাতে কি ফিরতে পারবেন দাদা?”
সে ভেবেছিল কাল সকালে উত্তর আসবে। কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে মিনিট পাঁচেক পরে রিপ্লাই এল, “হসপিটালে বসে আছি। ডক্টরের সেন্স এখন ফেরেনি। ফিরলে কথা বলে তারপর রওনা হবো। তোমার কী খবর? হেলথ-সেন্টারের দিকে একবার যেতে পেরেছিলে কি?”
—“আমি ঠিক আছি। হেলথ-সেন্টারে ঢোকার রাস্তায় আছি দাদা!”
—“একা না-কি? খবরদার একা যেও না। এরা বড় ফেরোশাস গ্যাং! হ্যাঁ গ্যাং-ই বলছি, কারণ, এ-কাজ একজনের পক্ষে করা সম্ভব নয়। এরা একদল দুষ্কৃতি মিলে এ-সব কাজ করছে বলেই মনে হচ্ছে। ফলে কাউকে না নিয়ে যেও না!”
—“টহলদার পুলিশকে বলেছি। টহলদার-ভ্যান নিয়ে এল বলে…!”
—“এলে তবে যেও। চারদিকে খেয়াল রেখো। ডিউটির চেয়েও বড় মানুষের প্রাণ। মনে রেখো।”
— “হ্যাঁ দাদা!”
—“ফিরে জানিও!”
—“সিওর। আর কোন কাজ?”
—“নুনিয়া। দ্যাটস পুয়োর গার্ল। ওকে সেফ কাস্টডিতে রাখতে হবে। যে-ভাবেই হোক ওর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা কর ব্রো। আমাদের কেসে এটা খুব জরুরি!”
—“ঠিক আছে। আমি দেখছি। এখন তো রাত। আজ তো কিছু করা সম্বভব নয়। কাল সকালে চার্চে গিয়ে ফাদারের সঙ্গে কথা বলবো।”
—“যাই করো। ল্যাজামুড়ো কিছু বলো না। জাস্ট বলবে, আমার প্রাণ বাঁচানোর জন্য আমি ওকে স্পেশালভাবে ট্রিট দিতে চেয়েছি। সেই কারণে তোমার হাতে যেন ছাড়ে। আবার তুমিই তাকে সুস্থভাবে ফিরিয়ে দেবে।”
—“ফিরিয়ে দিতে হলে তাকে সেফ কাস্টডিতে রেখে কী লাভ?”
—“লাভ-ক্ষতির অঙ্ক সবসময় এক হয় না ব্রো। কে যে কখন লাভ করবে আর কে যে কখন লোকসান, কে বলতে পারে? যা বলছি করো।”
—“ওকে দাদা, হুকুম শর-আখেঁপর! রাখছি এখন। গাড়ির আওয়াজ পাচ্ছি বলে মনে হচ্ছে!”
— “বেশ। অল দ্য বেস্ট!”—চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।


















