বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
গাড়িটার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছিল। বড় গাড়ি। পুলিশের টহল-ভ্যান কি? সুদীপ্ত রাস্তার ওপর থেকে সরে গিয়ে আশেপাশে যে বড় বড় গাছ আছে, তার একটির আড়ালে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকল। দুষ্কৃতিদের গাড়িও হতে পারে। শাক্যদা বলে দিয়েছে, যা করতে হবে ভাবনাচিন্তা করে। এরা সত্যিই বড় ফেরশাস গ্যাং। ধীরে-ধীরে বাড়তে-বাড়তে গত মাস দেড়েক ধরে যা শুরু করেছে, তাতে এখনই রাশ না ধরলে এলাকার ল অ্যান্ড অর্ডার বলতে আর কিছু থাকবে না। পিশাচপাহাড়ের এত খারাপ অবস্থা আগে কখন দেখেনি সুদীপ্ত, মানে যতদিন সে এই থানায় আছে আর কি। এখনই সুরাহা না হলে তাদের সকলেরই সার্ভিস রিপোর্টে খারাপ কিছুই লেখা হবে। এর পরের পোস্টিং নিশ্চয়ই পানিশমেন্ট পোস্টিং হবে। এরা আসলে এত বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, একটা অপরাধ ঢাকতে আরও দশটা অপরাধ করে বসছে। মার্ডার-কিডন্যাপ এসব যেন জলভাত হয়ে গিয়েছে এদের কাছে। এলাকায় কোন থানা-পুলিশ আছে, সে-কথাই যেন এরা ভুলে গিয়েছে। এখনই এদের ভালো মতন সবক না শেখালেই নয়। সুদীপ্ত ভিতরে-ভিতরে উত্তেজিত হয়ে উঠল। পকেট থেকে সিগারেট বার করে ধরাতে যাবে তাদের পুলিশভ্যান এসে দাঁড়াল।

গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে এল সুদীপ্ত। তাকে দেখেই হরিপদ গাড়ি থামাল। আফজল গাড়ি থেকে নেমে দাঁত কেলিয়ে বলল, “ছোট বাইরে করছিলেন না-কি স্যার?”
সুদীপ্ত দাঁতে দাঁত চেপে কাঁচা খিস্তি দিয়ে বলল, “তোমার অপেক্ষায় ছিলাম আফজল!”
আফজলের বয়স খুব কম বা বেশি নয়, সুদীপ্তর কাছাকাছি। ফলে অফিসিয়াল পোস্ট যাই হোক না কেন, এমনিতে দু’জনের পারস্পরিক আচরণ বন্ধুসুলভ।
“গাছের আড়ালে ছিলেন, তাই ভাবলাম। রাগ করেননি তো?” হাসল আফজল।
“এটা হাসির সময় নয় আফজল। রাগারাগির সময় নয়। আমাদের হাতে প্রতিটি সেকেন্ড এখন গুরুত্বপুর্ণ। যাদের বিরুদ্ধে আমরা লড়াইয়ে নেমেছি, তারা ডেঞ্জেরাস লোক। বেশ বড়-সড় গ্যাং। এখানে সতর্ক থাকাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওরা যে-কোনও মুহূর্তে অ্যাটাক করতে পারে। যা বোঝা যাচ্ছে, এরা এত বেপরোয়া হয়ে গিয়েছে যে, পুলিশকেও অ্যাটাক করতে ভয় পায় না!”
আফজলের গলার স্বর বদলে গেল, “সত্যি স্যার। আমাদের এই পিশাচপাহাড় ছিল শান্ত জনপদ। পাশের রাজ্যের সঙ্গে বর্ডারে ছোটখাটো ঝুটঝামেলা কখনও-সখনও হতো, কিন্তু তা এত মাথা ঘামানোর বিষয় হয়ে ওঠেনি। কিন্তু এখন যেন রোজ… না না, রোজ নয়, ঘণ্টায়-ঘণ্টায় এমন সব কাণ্ড ঘটছে যে একটু বিশ্রাম নেওয়ার অবকাশ পাওয়া যাচ্ছে না!”
“হ্যাঁ আফজল। সেই জন্যই এবার আমাদের আর দেরি না করে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। চল, হেলথ্ সেন্টার অভিযানে যাওয়া যাক্ এখন!”
“আপনি কি বাইকে যাবেন, না-কি গাড়িতে আসবেন?”
“আমি বাইকেই যাচ্ছি। এখানে বাইক লক্ করে রেখে গেলে হয়তো এমনিতে কোনও সমস্যা নেই, তাও, মন চাইছে না। এরা যে কী পারে আর কী পারে না, সে-বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে। যাই হোক, আমি বাইকে আগে-আগে যাচ্ছিস, তোমরা পিছন-পিছন এসো। একটু দূরত্ব রেখে আস্তে-আস্তে আমাকে অনুসরণ করো। হেলথ সেন্টারে যাওয়ার এই রাস্তাটার দু’পাশে দেখছ তো গাছপালা ঘন হয়ে রাতের বেলায় কেমন গভীর জঙ্গল মনে হচ্ছে। এর আড়ালে ওরা লুকিয়ে থাকতে পারে। আমাকে একা ভেবে অ্যাটাক করলে ওদের চার্জ করতে দেরি করো না!”
আফজল চিন্তিত মুখে বলল, “ব্যাপারটা একটু হঠকারিতা হয়ে যাচ্ছে না? ওরা ধরুন ফায়ারিং করল, আপনার বেকায়দায় লেগে গেলে কী হবে ভেবেছেন?”
“যাই হোক। পুলিশের চাকরিতে জীবন-মৃত্যু পায়ের ভৃত্য চিত্ত ভাবনাহীন—জানো না?”
“স্যার। সত্যি বলব? সাধ করে মরতে কেউ চায়? আপনারও পরিবার আছে, আমারও। বাচ্চাও আছে। আমাদের কিছু হলে ওদের কী অবস্থা হবে ভেবে দেখেছেন? অ্যাকসিডেন্ট হলে না-হয় কারুর হাত নেই বলে মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু যেখানে মৃত্যু ওৎ পেতে আছে বলে জানা, সেখানে সতর্ক না-হওয়া মূর্খামি! আপনি গাছের আড়ালে বাইক রেখে লক্ করে গাড়িতে উঠে বসুন। আমার মন সায় দিচ্ছে না!” আফজলের গলার স্বর অত্যন্ত গম্ভীর।
সুদীপ্ত একবার ভাবল। কথাটা খারাপ বলেনি আফজল। সে আফজলের কাঁধে হাত রেখে বলল, “আরে রিল্যাক্স আফজল, ঠিক আছে তোমার কথাই থাক্। আমি বাইকটা রেখে আসছি। তারপর গাড়িতেই যাব !”
হরিপদ গাড়ির স্টিয়ারিং-এ বসে সব কথা শুনছিল। এতক্ষণ কোনও কথা বলেনি। এবার বলল, “আফজল স্যার ঠিক কথাই বলেছেন স্যার। আপনি গাড়িতে এসে বসুন। তারপর দেখছি বেজন্মার বাচ্চারা কী করে, স্যরি স্যার, মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল, কিছু মনে করবেন না!”
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪৭: মধ্যরাতের অভিযান

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৮: অসম-মিজোরাম সীমান্তে ঘাড়মুড়ার নব আবিষ্কৃত ভাস্কর্যও সুপ্রাচীন

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩২: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— গন্ধগোকুল

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৬: কবির টুপি, কবির জোব্বা

সুদীপ্ত বাইক গাছের আড়ালে লুকিয়ে লক্ করে রেখে এসে গাড়িতে উঠে বসতেই গাড়ি ছেড়ে দিল হরিপদ। খুব আস্তে-আস্তে, যাতে বেশি শব্দ না হয়, এমনভাবে গাড়ি চালাচ্ছিল সে। সুদীপ্ত সামনে উঠতেই আফজল পিছনে চলে গিয়েছিল। আর একজন শিবম্ মুন্ডা পিছনেই বসে ছিল। সে হাবিলদার একজন। একটু স্থূল গড়ন। বয়সও হয়েছে। তাকে দেখে সুদীপ্তর ভরসা হল না তেমন। ওরা অ্যাটাক করলে শিবম্ মুন্ডা আগেই সারেন্ডার করবে।
দু’ পাশে গাছপালার প্রাচীর। ঝিঁঝিঁ ডাকছে। রাতের দিকে শেয়াল-টেয়াল বেরোয়। যদিও তাদের কাউকে আজ দেখা গেল না। ফরেস্ট-ডিপার্টমেন্টের আওতাধীন এই ছোট-ছোট জঙ্গলগুলি। মাঝেমধ্যে তাদের বোর্ড লাগান আছে। তার উপর জিপের আলো পড়ায় মুহূর্তের জন্য চোখে পড়ছিল।
সুদীপ্ত চাপা গলায় বলল, “দু’জন পিছনে বসে দু’পাশে নজর রাখো। ওরা আজ হেলথ সেন্টারে হানা দিতে পারে বলেই খবর!”
আফজল চাপা গলায় প্রত্যুত্তর দিল, “স্যার!”
গাড়ি ক্রমে হেলথ সেন্টারের সামনে এসে পড়ল। সুদীপ্ত হরিপদকে বলল, “হরিপদ, একেবারে গেটের সামনে নিয়ে যেও না। এখানেই একদিকে রাখো!”
আরও পড়ুন:

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৭ : কাঞ্চনজঙ্ঘা: দেখা হবে চন্দনের বনে

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৪৫: অকৃতজ্ঞ-জাতক : কৃতঘ্ন

হেলথ সেন্টারের কাছে এসে জঙ্গল একেবারে পাতলা হয়ে গিয়েছিল। আশেপাশে যদিও বাড়িঘর তেমন নেই, তবে একটি প্রতীক্ষালয় আছে, তার গা-ঘেঁষে দু’টি চা-পান-বিড়ি সিগারেটের দোকান। দিনের বেলা মাঝেমধ্যে ভিড় হয়। তবে রাতের বেলা এখন দু’টিই ঝাঁপবন্ধ।
এখান থেকে বেশ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে হেলথ সেন্টারের সামনের গেট। গেটের দুপাশে নিয়ন আলো জ্বলে হলদেটে আলো ছড়াচ্ছে। কম্পাউন্ডের চারপাশেই মাঝারি উচ্চতার বাউণ্ডারি-ওয়াল। গাছপালাও আছে। তারই ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে হেলথ সেন্টারের সামনে একটা বাল্ব জ্বলছে। নিঃসঙ্গ। চারদিকে কোথাও কোন সাড়াশব্দ নেই। রাতের বেলা হেলথসেন্টারের দায়িত্বে থাকা গোবিন্দ সোরেন ঘুমিয়ে আছে মশারি খাটিয়ে। নেহাৎ কোন পেশেন্ট পার্টি এলে সে উঠে পড়বে হাঁকডাক শুনেই। বাইরের ওলাপসিবল্ গেটে তালা দেওয়ার নিয়ম নেই। কে কখন এসে পড়ে তার ঠিক আছে?

হেলথসেন্টারের পিছনে কিছুটা দূরে ডাক্তারের ভবন, নার্সদের থাকার কোয়াটার্সগুলিও এই অন্ধকারে শুয়ে আছে। একজন নার্সের নিয়ম অনুযায়ী অফিসে থাকার কথা থাকলেও, যেহেতু এখানে তেমন একতা ভিড় হয় না, রাতের বেলা তো নয়ই, ফলে খাতায়-কলমে যাই লেখা হোক তাঁরা কোয়াটার্সেই চলে যান। দরকার পড়লে ফোন করে দিলেই চলে আসেন। এই বন্দোবস্তে কারও কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়, হয়ও না। সিএমওইচ ব্যাপারটি জানেন এবং তাঁরও মৌখিক সমর্থন আছে।
আফজল ফিসফিস করে বলল, “স্যার, নেমে আমি আর শিবম্ দেখে আসছি চারপাশ। আপনি গাড়িতেই থাকুন!”
“আমিও যাব। তার আগে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করো। হরিপদ গাড়িটা জায়গামতো দেখে পার্ক করো আগে। তারপরে হেড লাইটটা নিভিয়ে দাও। দেখা যাক্ আজ পালে হায়নারা পড়ে কি-না!”
হরিপদ আগেই দেখে নিয়েছিল। এখানে সে তো এই প্রথম আসছে না। সে গাড়িটা একটু বাঁ দিকে নিয়ে গিয়ে সেখানে একটা বন্ধ গ্যারাজ ঘর আছে, তার পিছনে অনেকখানি অংশ ফাঁকা, পেশেন্টপার্টি গাড়ি নিয়ে এলে সেখানে রাখে কেউ-কেউ, বাকিরা হেলথ সেন্টারের মধ্যে ফাঁকা মাঠে রাখে, সেইখানেই গাড়ি এমনভাবে দাঁড় করাল যাতে গাড়ি থেকে হেলথ সেন্টারের গেট স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৩: জরাসন্ধের ঔদ্ধত্য ও কৃষ্ণের ভূমিকা যুধিষ্ঠিরকৃত রাজসূয় যজ্ঞের প্রাসঙ্গিক সূচনা

দশভুজা, অন্য লড়াই: এই স্বাধীনতার জন্য আমরা লড়াই করিনি

মিনিট পাঁচেক এভাবেই কাটল। তারপর সুদীপ্ত নেমে পড়ল গাড়ি থেকে, পিছন পিছন আফজল এবং শিবম্। আস্তে-আস্তে এগিয়ে গেল হেলথসেন্টারের দিকে।
গাড়ির আলো নিভিয়ে দেওয়ার ফলে চারপাশে এখন হেলথ সেন্টারের হলদেটে ম্লান আলো ছাড়া আর কিছু নেই। সে আলো এত অপ্রতুল যে, পরস্পরের চোখমুখই ভাল করে দেখা যায় না।
আফজল বলল, “আমরা কি একসঙ্গে একইদিকে যাব, না-কি ভিন্ন-ভিন্ন দিকে?”
“আমি ডান দিকটায় যাচ্ছি, তুমি আর শিবম্ বাঁ দিকটায় যাও!” চাপা গলায় সুদীপ্ত জবাব দিল।
“না স্যার। আপনি তখন বললেন, এরা ফেরোশাস গ্যাং। যদি তারা আসে, তাহলে একা আসবে না। একা-একা এই অন্ধকারে আপনি যাবেন, যে-কোন মুহূর্তে আপনার উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে? একজনের সঙ্গে নাহয় আপনি লড়াই করতে পারবেন, কিন্তু তারা একাধিক হলে? আপনি শিবম্কে নিয়ে যান। আমি একা যাচ্ছি।”
“তোমার উপর তারা এক-এক করে ঝাঁপিয়ে পড়বে ভাবছো?”
“স্যার!”
“প্ল্যান বদলালাম। তিনজনেই একদিকেই যাব। তারপর দেখা যাবে। হরিপদকে বলে দাও, গাড়িতে বসে সে মেইন এনট্রান্সের দিকে নজর রাখুক!”
আফজল বলে ফেরত এলে বাঁ-দিকে যেতে-যেতে চাপা গলায় সুদীপ্ত বলল, “আমার মন বলছে তারা এলে সামনের গেট দিয়ে আসবে না। পিছনের গেট বা বাউন্ডারি-ওয়্যাল বেয়ে আসবে!”
আফজল বলল, “কিন্তু ডাক্তারকে যদি তারা অলরেডি কিডন্যাপ করেই থাকে, তাহলে আবার কীসের জন্য এখানে আসবে? অন্য কিছুর খোঁজে? না-কি আরও কোন গভীর মোটিভ আছে?”
“দেখা যাক্। আপাতত মুখে কুলুপ এঁটে চল চারপাশটা ঘুরে দেখা যাক্! রিভলভার হাতে রাখো। দরকার পড়লে গুলি চালাতে হবে। তবে প্রাণে না মেরে আহত করলেই হবে। এসো।”
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭৯ : উত্তরমেঘ

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৫: পরবাস প্রস্তুতি (এক)

আর কথা না বাড়িয়ে সকলে সেটাই করল। সীমানাপ্রাচীরকে ডান হাতে রেখে তারা এদিক-ওদিক তাকাতে তাকাতে চলছিল। সুদীপ্তের নিজের হাতে তার সার্ভিস রিভলভার, আফজলেরও। শিবম্ কাঁধের রাইফেলটা হাতে নিয়েছে। খুব সন্তর্পনে হাঁটছিল তারা। রাশিরাশি শুকনো পাতা পড়ে আছে। বসন্ত এসে গেলেও বিগত শীতের এই চিহ্নগুলি মায়ার মতো বুকে জড়িয়ে রেখেছে প্রকৃতি। সেগুলির ওপর পা পড়তেই মচ্মচ্ করে পাতা গুঁড়িয়ে যাওয়ার আওয়াজ হচ্ছিল। কুয়াশা ক্রমেই জাঁকিয়ে বসছে। বাতাসে হিম ভাব বাড়ছে। তবে এখনও সহনীয়। ভোররাতের দিক ছাড়া ঠান্ডা লাগার কোন সম্ভাবনা নেই।
বাঁ-দিকের মোড় ঘুরতেই বাধা পেল তারা। ওদিকে অনেকখানি অংশ ঝোপঝাড় হয়ে যাওয়ার পথ রুদ্ধ করেছে।
শিবম্ বলল, “এট্টু ঘুরে যেতে হবে স্যার!” ঝোপঝাড় আছে। দেখে পা ফেলবেন। হাতের টর্চ দিয়ে মাটিতে আলো ফেলে চলবেন স্যার। এখন শিয়রচাঁদার বেরুনর সময়।
ওদের প্রত্যেকের কাছেই ছোট কিন্তু শক্তিশালী পেনসিল টর্চ থাকে। সেগুলিই ওরা পকেট থেকে বার করে বাঁ হাতে নিল। আফজল বলল, ‘আমি আগে-আগে যাচ্ছিস স্যার। আপনারা আমার পিছন-পিছন আসুন!” বলে সে এগিয়ে গেল।
সামান্যই এগিয়েছে তারা, হঠাৎ আফজল আলো নিভিয়ে দিল।
“কী হল আফজল? আলো নেভালে কেন? চার্জ দিয়ে আননি?” চাপা গলায় জিজ্ঞাসা করল সুদীপ্ত। আজকালকার টর্চ। ব্যাটারিতে চার্জ দিতে হয়।
আফজল একইরকম গলায় বলল, “সামনে লোক আছে স্যার!”
“লোক ?”
“হ্যাঁ, সম্ভবত আপনি যাদের কথা বলছিলেন তারাই হবে!”
“তারা ? সংখ্যায় একের বেশি আছে না-কি?”
“হ্যাঁ স্যার। তেমনই তো মনে হল!”
“ওরা নিশ্চয়ই আমাদের দেখতে পায়নি?”
“বুঝতে পারছি না স্যার! আমাদের দেখতে না পেলেও টর্চের আলো না-দেখাটা আশ্চর্যের!” আফজল কিছুটা সন্দেহের সুরে বলল।
“একটু বাঁ-দিকে ছড়িয়ে যাও। ওরা যদি সত্যিই আমাদের উপস্থিতি দেখে ফেলে থাকে, কিংবা আঁচ করে, তাহলে অ্যাতাক্ করতে দেরি করবে না!” সুদীপ্ত বলল।
তার সন্দেহ যে অমূলক ছিল, তা বোঝা গেল তখনই। তারা একটু বাঁ-দিকে সরে যাচ্ছে, ঠিক তক্ষুনি উল্টোদিক থেকে কেউ ফায়ারিং করল। একতা জোর আওয়াজ করে রাতের অন্ধকারকে খানখান করে দিল সে শব্দ!—চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content