বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
ডিএম দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তা-বলে তিনি স্বয়ং এত রাতে উপস্থিত হবেন, এতটাও আশা করেনি শাক্য।
সে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলছিল। এই অবস্থায় সত্যব্রতকে এখান থেকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা আছে কি-না, সে-বিষয়ে।
ডাক্তার বললেন, “দেখুন, এটা তো কোন ফ্যাটাল ইনজুরির কেস নয়, হেমারেজ-টেজ হয়েছে, এমনও নয়। স্রেফ স্ট্রেস থেকে মাইল্ড অ্যাটাক হয়েছে। ফিয়ার আর স্ট্রেস থেকে এতা অনেকেরই হয়। অনেকসময় আমরা নিজেরাই সচেতনভাবে বুঝতেও পারি না তা। আর এ-ক্ষেত্রে আপনারা ক্যুইক এখানে নিয়ে এসেছেন, আমরা যা-করা দরকার করেছি, আপাতত সিডেসিভ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। তার কারণ, ডক্টরকে দেখে মনে হচ্ছে, বেশ কয়েক রাত ঘুমাননি। তার উপর খাওয়া-দাওয়াও করেননি কিংবা কম করেছেন। আমি এই জন্যই নার্সকে বলে স্যালাইন চালু করেছি। এমনিতে আমি আশা করছি, ভর রাতের মধ্যেই ইনি অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠবেন। তার আগে অ্যাম্বুলেন্সে করে আপনারা বেটার কোন নার্সিংহোম বা জেলা হসপিটালে নিয়ে যেতেই পারেন। আই হ্যাভ নো প্রবলেম। হাউএবার, ইট ইজ ওনলি পসিবল ইফ দ্য রেজিস্টার হ্যাজ রিটন্ দ্যাট ইউ আর টেকিং দ্য পেশেন্ট আন্ডার ইয়োর ওন রেসপনসিবিলিটি। ইউ আন্ডারস্টান্ড দ্যাট উই আর অল গভর্ণমেন্ট এমপ্লয়িজ!”
“হ্যাঁ, হ্যাঁ। রেজিস্টার সই থেকে অল ফরামালিটিজ সেরেই আমরা পেশেন্টকে নিয়ে যাব। ডিএম নিজে ব্যবস্থা করবেন বলেছেন। আসলে কেসটা খুব সেনসেটিভ। বুঝতেই পারছেন!”
ডাক্তারটি তরুণ। বুদ্ধিদীপ্ত ঝকঝকে চেহারা। তাঁর চোখে-মুখে সামান্য বিস্ময়তাড়িত কৌতূহলের ভাব ফুটে উঠেই আবার মিলিয়ে গেল। অর্থাৎ তিনি ক্যামোফ্লেজ করতে জানেন। কৌতূহল দমন করতে শেখা একটা বড় গুণ।
শাক্য বলল, “দেখুন ডক্টর, আপনাকে একটা রিক্যুয়েস্ট আছে।”
“বলুন।”
“আপনাকে যেমন বললাম, কেসটা খুব সেনসেটিভ। ফলে বুঝতেই পারছেন, আমাদের কিছু-কিছু জিনিস অন্যভাবে হ্যাণ্ডেল করতে হবে। আমরা রেজিস্টার খাতায় অন্য নাম এন্ট্রি করব। এটা আপনাকে ওভারলুক করতে হবে।”
ডক্টর একটু উসখুস করে উঠলেন। বললেন, ‘দেখুন অফিসার, তা কী করে হয়? পরে কোন কেস উঠলে, কিংবা পেশেন্টের যদি কিছু হয়ে যায়, তাহলে… বুঝতেই পারছেন, সেক্ষেত্রে আমার পেশার উপর প্রশ্ন উঠে যাবে!”
“দেখুন, আপনাকে সব খুলে বলতে পারছি না সে-জন্য আমি দুঃখিত। কিন্তু এটুকু বলতে পারি, এই পেশেন্ট এখানে অ্যাডমিট ছিল, এ-কথা জানাজানি হওয়া বরং আপনার জন্য ফ্যাটাল হতে পারে!”
“মানে?”
“আপনি কি বুঝতে পারছেন না যে, এখানে এই হেলথ্ সেন্টারে দিব্যি ভালো কন্ডিশনে পেশেন্ট অ্যাডমিট হলেন, তাঁর যথোচিত ট্রিটমেন্ট শুরু হল, তারপরেও পুলিশ কেন পেশেন্টকে এখানে রাখতে চাইছে না ! আসলে পেশেণ্ট এখানে থাকলে আমরা আশঙ্কা করছি যে-কারণে তিনি ভয় পেয়েছিলেন, সেই ভয়েরাই তাঁকে আবার অ্যাটাক্ করতে পারে। আর এবার তারা চাইবে, ডক্টরকে জানে একেবারে মেরে ফেলতে। তার সম্ভাবনা আছে বলেই ডি.এম সাহেব নিজে পেশেন্টকে অন্যত্র ট্রান্সফার করার কথা ভেবেছেন। জেলা হসপিটালে থাকলে তাঁর নিরাপত্তা যেভাবে দেওয়া সম্ভব, সেটা এখানে দেওয়া সম্ভব নয়, তা আপনিও জানেন, আমরাও জানি!”
“এটা তাহলে ঝামেলার কেস। সোজাসাপটা ভয় পাওয়ার ব্যাপার নয়?”
“নাহ্। তা-হলে আমরা এখানে এতক্ষণ অপেক্ষা করতাম না। শুনুন, আমরা আশঙ্কা করছি এখানে ইনি থাকুন বা না-ই থাকুন, ইনি যে এখানে এসেছিলেন, সে-কথা চাপা থাকবে না। আর সে-কথা কানে পৌঁছালেই ভয়ের কারণেরা এখানে হানা দেবে। তখন দুটি তিনটি পুলিশ প্রোটেকশন দিয়ে পেশেন্টকে বাঁচান না-ও সম্ভব হতে পারে। সে-ক্ষেত্রে তো আরও বড় কেসে আপনি ফেঁসে যাবেন। তাই নয় কি?”
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪১: কারুর কেউ নই-কো আমি…

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৫ : Twoকি!

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪০: বেচারা বড় কষ্টে আছে, মহর্ষি সাহায্য পাঠিয়েছিলেন সাত হাজার টাকা

হ্যালো বাবু! পর্ব-১০৭: ডেসডিমোনার রুমাল/৬

ডক্টর বুঝতে না-পারলেও বোকার মতো মুখ করে মাথা নেড়ে সায় দিলেন।
“ডক্টর আমার প্রেডিকশন যদি ঠিক হয়, তাহলে ওরা ঠিক গন্ধ ধুঁকে-শুঁকে এখানে এসে হাজির হবে। হবেই। কারণ, ইতিমধ্যেই ওরা নিশ্চয়ই খবর পেয়ে গেছে। কিংবা কাল সকালের মধ্যে পাবেই পাবে। তারপর ওরা একমুহূর্ত দেরি করবে না। ক্ষ্যাপা কুকুরের মতো খুঁজতে বেরিয়ে পড়বে পেশেন্টকে। এবার ওদের একটাই মিশন—কিলিং দ্যাট ডক্টর। আর তা করতে গিয়ে ওরা এখানে আসবেই। এবং রেজিস্টার দেখতে চাইবেই। না দেখালে ওরা ছাড়বে না। যতদূর বুঝেছি, ওরা খুব নৃশংস প্রকৃতির। আপনি না-দেখাতে চাইলেও ওরা দেখানোর জন্য চাপ দেবে, বলপ্রয়োগ করবে। যদি বাধ্য করে, তখন দেখাবেন, কিন্তু প্লিজ বলবেন না যে, পেশেন্ট জেলা হাসপাতালে পুলিশের সুপারভিশনে আছে। কথাটা মাথায় রাখবেন।”
ডক্টর আবারও মাথা নাড়লেন। তাঁর মুখে দেখে মনে হচ্ছিল, এমন ঝঞ্ঝাটে তিনি জীবনে প্রথম পড়েছেন। কোনরকমে আমতা-আমতা করে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমার কিছু হবে না তো স্যার ? ফেঁসে যাব না-তো স্যার?”
“কিচ্ছু হবে না, আপনি নিশ্চিন্তে থাকুন। আমরা যখন এই কেস হ্যাণ্ডেল করছি, তখন আমাদের নিজেদের পথেই আমাদের চলতে হবে। তবে তার জন্য আর দশজন নিরীহ মানুষকে হ্যারাসড্ হবে, তা কিন্তু আমরা চাই না। আমাদের উপরে ভরসা রাখুন!”
“সেই ভরসাই যেন অটূট থাকে দেখবেন স্যার। সামনের বছরের প্রথম দিকে আমার বিয়ে। চার বছর ধরে এই হেলথ্ সেন্টারে আছি। এইবার কলকাতার দিকে ট্র্যান্সফার না-হলে মরে যাব স্যার!”
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৮: সুনীতির পথ জন্মান্তরে

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, সুন্দরবনের বারোমাস্যা পর্ব-১২৬: সুন্দরবনের পাখি: গুলিন্দা বাটান

শাক্য চোখ দিয়ে ইশারা করে ভরসা যোগালো। তারপর বলল, “আপনি পেপার রেডি করতে শুরু করে দিন ডক্টর। আমি বাইরের ইন্তেজামটা দেখে আসছি। মনে রাখবেন রাত পোহানোর আগেই এখানে থেকে ওঁকে নিয়ে চলে যাবো।”
“আচ্ছা স্যার!” ডক্টর উঠে অফিসঘরের দিকে হাঁটা দিল।
এমনসময় শাক্যর মোবাইল বেজে উঠল। ডি.এম ফোন করেছেন।
“আপনি কোথায় মিঃ সিং?”
“আমি এখানকার এই হেলথ হোমের ডক্টরের সঙ্গে কথা বলছিলাম স্যার। কিছু ফর্মালিটিজ থাকে, সেগুলি যাতে তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে যায়, সে-জন্য কথাবার্তা বলছিলাম!”
“আমি আর মিনিট পাঁচ-সাতের মধ্যে ঢুকছি। আমার সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স এবং যথেষ্ট ফোর্স আছে। আপনি যা সেরে নেওয়ার নিন। পেশেন্টকে আমরা যত তাড়াতাড়ি পারি এখান থেকে সরিয়ে ফেলতে চাই। আমি নিজে থেকে সমস্ত অপারেশনটা ডিরেক্ট করব বলে নিজেই আসছি। এনি নিউ প্রোগ্রেস ?”
“নাহ স্যার। তবে লোকাল থানার সেকেন্ড অফিসার সুদীপ্ত, আজকেই আমরা দুজন আপনার চেম্বারে গিয়েছিলাম, মনে আছে নিশ্চয়ই, তা তাঁকে ইমিডিয়েট থানায় ফিরে গিয়ে রিপোর্ট করতে বলেছি। আমার যা মনে হচ্ছে, সেখানেও সব কিছু ঠিক স্বাভাবিক নেই। স্যার, অপরাধীরা দিনের-পর-দিন রিমোট প্লেসগুলিকে প্রায় নরক করে তুলেছে। বর্ডার এরিয়ায় এমনিতেই ঝুটঝামেলা লেগেই থাকে, তার উপর এখনকার অবস্থা আরও ভয়াবহ। অনেকদিন যাবৎ ওদের বিরুদ্ধে কোন অ্যাকশান নেওয়া হয়নি স্যার। এর ফলে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আরও আগে রাশ টানলে ভালো ছিল, কিন্তু বেটার লেট দ্যান নেভার। এবার আমাদের এই বিষবৃক্ষের শেকড়সমেত উপড়ে ফেলতেই হবে। আপনি আসুন স্যার। আমি বাইরে গিয়ে দাঁড়াচ্ছি!”
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৬: এক অনন্য অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রামচন্দ্রের অরণ্যবাস

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮২: ত্রিপুরা : উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রত্নভূমি ঊনকোটি

একেবারে ঘড়ি ধরে সাত মিনিট তিন সেকেন্ডে হেলথ সেন্টারের চৌহদ্দির মধ্যে ঢুকল ডিএমের গাড়ি এবং অ্যাম্বুলেন্স, সেইসঙ্গে একটি ভ্যান ভর্তি সশস্ত্র পুলিশ।
শাক্য এগিয়ে গেল। “স্যার…”
“অফিসার ! আয়োজন কতদূর?”
“বেশি দেরি হবে না। হয়ে এসেছে প্রায়। বসলেই খেতে দেওয়া যাবে!” সামান্য রসিকতা করার সুযোগ ছাড়ল না সে।
ডিএম অবশ্য রসিকতা বুঝলেন কি-না কে জানে, তিনি বললেন, “এই হেলথ্ সেন্টারে আলোর ব্যবস্থা কম। এমন তো হওয়ার নয়! পি ডবল্যুকে বললেই তো সারিয়ে দেয়। এখানকার ডক্টর ইনফর্ম করেননি ওঁদের? কী আশ্চর্য!”
শাক্য বলল, “একদিক দিয়ে সেটা আমাদের পক্ষে শাপে বর হয়েছে। এই আলো-অন্ধকারের মধ্যেই এখান থেকে পেশেন্টকে নিয়ে যাওয়া সুবিধাজনক। আশার কথা হেলথ-সেন্টারের আশেপাশে যে ঝুপড়ি দোকানগুলি রয়েছে, রাত হয়ে যাওয়ায় সেগুলিও বন্ধ। না-হলে কে যে কোথায় উঁকি মেরে বসে আছে… !” কথা শেষ করল না সে।
ডিএম বললেন, “ডক্টর কোথায় ? চলুন তাঁর সঙ্গে কথা সেরে নেওয়া যাক!”
শাক্য বলল, “চলুন !” বলে সবে হেলথ-সেন্টারের বারান্দায় উঠতে যাবে, ডক্টর অফিসঘর থেকে বেরিয়ে এলেন।
“স্যার!”
ডিএম ডক্টরকে বললেন, “আপনার এই হেলথ-সেন্টারে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই, আপনি সিএময়িচকে জানিয়েছেন? আজ যদি এই অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে হুলিগানরা আক্রমণ করে, তাহলে তাদের তো পরে আইডেন্টিফাই করতেও অসুবিধা হবে! আপনি ইমিডিয়েট এই কথা জানিয়ে যথাস্থানে মেইল করুন। তারপর আমি দেখবো!”
“ঠিক আছে স্যার।”
“এখন চলুন, কী-সমস্ত ফর্মালিটি আছে, সেগুলি সেরে ফেলেই আমরা পেশেন্টকে নিয়ে চলে যাবো। আমি চাই না, যাঁর উপর একবার অ্যাটেম্পট হয়েছে, তিনি আবারও একটা অ্যাটেম্পটের জন্য প্রস্তুত হয়ে বসে থাকুন। চলুন!”
পরের কিছুক্ষণ বলতে গেলে ঝড়ের গতিতে কাটল। সত্যব্রতকে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দিয়ে ডিএম বললেন, “আপনি আমার গাড়িতে আসুন। চলুন আমার সঙ্গে। আপনার কোন গাড়ি তো দেখছি না!”
“সুদীপ্ত নিয়ে থানায় ফিরেছে। সে গিয়ে সব কিছু ঠিক থাকলে আমার জন্য পাঠিয়ে দেবে ওই গাড়ি কিংবা অন্য গাড়ি। আপনি চিন্তিত হবেন না!”
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র,পর্ব-৭২ : গলি থেকে রাজপথ

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৫: একদিকে জল, অন্যদিকে পাহাড় সিউয়ার্ডের রাস্তা যেন স্বর্গদ্বার!

ডিএম বললেন, “আজ আপনার ফেরা হবে না। অনেক শলাপরামর্শ আছে আপনার সঙ্গে। আপনি আমার সঙ্গে চলুন। কাল সকালে আমি গাড়ি দিয়ে আপনাকে পৌঁছে দেব।”
“স্যার। আমি আপনার সঙ্গে যাব ঠিক আছে। কিন্তু শলাপরামর্শ শেষে ফিরে যেতে পারলেই ভালো হতো, কিন্তু ডক্টর বলেছেন, ভোররাত নাগাদ সত্যব্রতর জ্ঞান ফিরে আসতে পারে। তবে আমি ধরছি, জ্ঞান ফিরে আসার সঙ্গে-সঙ্গেই সত্যব্রত যে কথা বলতে পারবেন, তা এখনই জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না। যাই হোক, আন্দাজ, ন’টার সময়ও যদি সত্যব্রত কথা বলতে পারেন, তাহলে আমি তাঁর সঙ্গে কথা বলে তবেই বিদায় নেবো। ওখানে ফিরে আমি পিশাচপাহাড় রিসর্টের সকলকে আপাতত গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি দেবো। তারপরে দেখা যাক!”
“আপনার এক্সপিরিমেন্ট সাকসেসফুল হোক। গাড়িতে উঠুন। আপনি যেমন চাইছেন তা-ই হবে। কাল সকালে আপনাকে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব আপনার!”
“আপনি যখন অফার দিয়েছেন, তখন সে-চিন্তা যে আপনার, তা আমি জানি। চলুন। তা-ই হোক্। তবে একটা কথা স্যার, এখানে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা সকলে নির্ভরযোগ্য তো? বুঝতেই পারছেন, পাকা দান কেঁচে যাক—এ-আমি চাই না!”
“এ-ব্যাপারে আমি আপনাকে কথা দিতে পারি মি. সিংহ। আজকের অপারেশনে আমার বাছাই করা নির্দিষ্ট লোকজনই এসেছেন। তারপরেও যদি কিছু হয়, তাহলে তা দুর্ভাগ্য বলেই মেনে নিতে হবে !”
“ডক্টরের সাক্ষ্য খুব জরুরি স্যার। এই কেসে প্রত্যক্ষ সাক্ষী, আই মিন আই-উইটনেস খুব কম। তাঁদের মধ্যে ডক্টর সত্যব্রত একজন। ওঁকে আমাদের যেভাবেই হোক সুস্থ করে তুলতে হবে। এই কেসে যাঁরা-যাঁরা এইরকম আই-উইটনেস, তাঁদের প্রত্যেকের সুরক্ষার ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। তা না হলে, কেস কেঁচে গণ্ডুষ হয়ে যাবে!”—চলবে।

* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content