
ধর্মেন্দ্র।

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৬: সুন্দরবনের পাখি: গুলিন্দা বাটান

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৫ : Twoকি!

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪২: কুইক অ্যাকশন

হ্যালো বাবু! পর্ব-১০৭: ডেসডিমোনার রুমাল/৬

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৯: শো-কেস শহর, উপসাগরীয় শিস এবং গোরার দিনরাত্রি

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪১: ঘটি চেয়ে বঁটি

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৬: এক অনন্য অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রামচন্দ্রের অরণ্যবাস

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৩: ত্রিপুরা : ঊনকোটির বহু মূর্তি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে
তবে সেই ছবির মুক্তি আর দেখা হল না। সোমবার বিকেল থেকে হাসপাতাল চত্বরে বেড়েছিল তৎপরতা। তড়িঘড়ি ধর্মেন্দ্রকে দেখতে ছুটেছিলেন হেমা মালিনিও। গোটা ভারত তখন তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা করছিল। তবে শেষ রক্ষা হল না। সকলকে কাঁদিয়ে চির বিদায় নিলেন রূপলি পর্দার হি-ম্যান ধর্মেন্দ্র। ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক অধ্যায়ের অবসান।
পুরো নাম ধর্মেন্দ্র কেওয়াল কৃষণ দেওল। ১৯৩৫ সালে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ার লুধিয়ানাতে (পাঞ্জাব) এক জাঠ পরিবারে জন্ম ধর্মেন্দ্রর। বাবা ছিলেন স্কুলের হেডমাস্টার। পড়াশোনার প্রতি তেমন ঝোঁক ছিল না হেডমাস্টারের ছেলের। দিলীপ কুমার ও মতিলালের অভিনয় দেখে স্বপ্ন দেখতেন রূপোলি পর্দার নায়ক হওয়ার।
কৈশোরেই ধর্মেন্দ্রর রূপ ছিল দেখবার মতো। সুদর্শন পুরুষ ছিলেন তিনি। তা সত্ত্বেও আর্থিক অনটনের জেরে মাঠে-ঘাটে কাজ করেছেন ধর্মেন্দ্র। কিন্তু পাঁকেতেই তো পদ্ম জন্মায়। নাসরালি গ্রামের ছোট্ট গণ্ডিতে আটকে থাকতে চাননি তিনি। পরিবার তাঁকে বেঁধে রাখতে ১৯ বছরেই বিয়ে দিয়ে দেয় প্রকাশ কৌরের সঙ্গে। তাতেও তাঁর স্বপ্ন উড়ান থেমে যায়নি।
১৯৫৮ সালে ফিল্মফেয়ারের ট্যালেন্ট হান্ট কম্পিটিশনে অংশগ্রহণের জন্য চিঠি পাঠান ধর্মেন্দ্র। সেই চিঠিই ভাগ্য ফেরায় তাঁর। মুম্বই থেকে ডাক আসে। সুদর্শন, সুপুরুষ ধর্মেন্দ্রর ভাগ্য তাঁকে নিয়ে আসে মায়ানগরী মুম্বইতে। নিজের ট্যালেন্টের উপর ভর করেই এই প্রতিযোগিতায় জয়ী হন ধর্মেন্দ্র। প্রতিযোগিতার কথা স্মরণ করে তিনি বলেছিলেন, ‘মেহবুব স্টুডিয়োয় প্রতিযোগিতার ফল বেরোনোর দিন চিন্তায় আমার গলা থেকে জলও নামছিল না। আমার সঙ্গে আরও অনেক প্রতিভাশালী অভিনেতা অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাঁরাও নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছিলেন। কে জিতবে কেউ জানতো না।’
এই প্রতিযোগিতার সুবাদে তিনি বিমল রায়ের নজরে আসেন। ‘বন্দিনী’ সিনেমার জন্য নির্বাচিত হন ধর্মেন্দ্র। ‘বন্দিনী’ ধর্মেন্দ্রের অভিনীত প্রথম সিনেমা হলেও তা রিলিজ হতে সময় লেগেছিল। ফলে বন্দিনীতে কাজ করার পরই প্রযোজকদের দরজায় দরজায় ঘুরতে হত ধর্মেন্দ্রকে। হাতে টাকা ছিল না, জুটত না দু-বেলার খাবার। একটা সময় হাল ছেড়ে গ্রামে ফিরে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন, তাঁকে আটকান মনোজ কুমার।

উত্তম কথাচিত্র,পর্ব-৭২ : গলি থেকে রাজপথ

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৫: একদিকে জল, অন্যদিকে পাহাড় সিউয়ার্ডের রাস্তা যেন স্বর্গদ্বার!
সিনেমার মতোই তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে নানা অধ্যায়। রং বদলেছে তাঁর জীবনের ক্যানভাসও। মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে
করেছিলেন তিনি। স্ত্রী প্রকাশ কৌর। প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও ধর্মেন্দ্রর চার সন্তান। সানি দেওল, ববি দেওল, অজিতা দেওল এবং বিজেতা দেওল। এরপর ১৯৮০ সালে ধর্মেন্দ্র বিয়ে করেন ‘ড্রিমগার্ল’ হেমা মালিনীকে। এষা দেওল এবং অহনা দেওল ধর্মেন্দ্র-হেমার সন্তান।১৯৬০ সালে ধর্মেন্দ্রর প্রথম ছবি মুক্তির পর পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি প্রায় ২০ টি সিনেমায় অভিনয় করেন। তবে কাঙ্খিত সাফল্য আসে ১৯৬৬ এ। বক্স অফিসে ধর্মেন্দ্রর ‘ফুল অউর পাত্থর’ সুপার-ডুপার হিট। রিলিজ করার পরই তাঁর ফিল্মি কেরিয়ারগ্রাফ চড়চড় করে চড়তে থাকে। সত্যকাম, শোলে, আঁখে, কর্তব্য-র মত ছবিতে মন কাড়েন তিনি। সহজেই মহিলামহলের হার্টথ্রব হয়ে ওঠেন।
তাঁর রাফ-টাফ ইমেজ আর অ্যাকশন সিকোয়েন্স ছিল বহু ছবির প্রাণ। তাই তাঁকে অনেকেই বলতেন, বলিউডের হি-ম্যান । তাঁর করা অ্যাকশন ছবি মানেই বক্সঅফিসে নিশ্চিত সাফল্য । বডি ডাবল না নিয়েই বহু ছবিতে অ্যাকশন সিকোয়েন্স করেছেন। ২০১২ সালে পদ্মভূষণ সম্মানে সম্মানিত হন ধর্মেন্দ্র।
অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। বিজেপির টিকিটে লোকসভা নির্বাচনে জিতে ২০০৪ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত বিকানের-এর সাংসদ ছিলেন তিনি। ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুতে ভারতীয় সিনেমার এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের অবসান হল। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে চিরদিন আলোকিত হয়ে থাকবেন ধর্মেন্দ্র।
* সৌম্যকান্তি জানা। সুন্দরবনের ভূমিপুত্র। নিবাস কাকদ্বীপ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা। পেশা শিক্ষকতা। নেশা লেখালেখি ও সংস্কৃতি চর্চা। জনবিজ্ঞান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণের জন্য ‘দ্য সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল ২০১৬ সালে ‘আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড’ এবং শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান লেখক হিসেবে বঙ্গীয় বিজ্ঞান পরিষদ ২০১৭ সালে ‘অমলেশচন্দ্র তালুকদার স্মৃতি সম্মান’ প্রদান করে সম্মানিত করেছে।


















