রবিবার ১৪ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
অন্ধকার ঘরের মধ্যে লোকটি অপেক্ষা করছিলেন। ঘরে আলো নেই এমন নয়, ইচ্ছে করেই জ্বালাননি তিনি। আসলে একঘেঁয়ে আলোর মধ্যে থাকতে থাকতে লোকটা অন্ধকারকে মন-প্রাণ দিয়ে চেয়েছিলেন, অন্ধকারকে ভালোবেসে ফেলেছিলেন। সমস্তদিন আলোর মধ্যে থাকতে-থাকতে হাঁফ ধরে যায় তাঁর। তখন এই অন্ধকার ঘরের মধ্যে এসে বসেন তিনি। পরিকল্পনা করেন। মুঠোফোনের মাধ্যমে তাঁর কাজকারবার সামলান। অন্ধকারের এই বিশাল সাম্রাজ্য অন্য কারও বকলমে চালানো কি কম ঝক্কির নাকি? অবশ্য এতদিন যথেষ্ট দায়িত্বসহকারে এবং বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এই সাম্রাজ্য চালিয়ে এসেছেন তিনি। কিন্তু এবার বুঝি সব যায়। নানা কারনে তাঁর সেই সাম্রাজ্য টলমল। গত কয়েকদিনে যা-যা করেছেন তিনি, সব ব্যর্থ, সব ফাঁকি, মেকি। এমন নয় যে, এই প্রথম ব্যর্থতা এল তাঁর জীবনে। কিন্তু সেই ব্যর্থতা ছিল সাময়িক। এমন ধারাবাহিক ব্যর্থতা নয়। কেন যেন মনে হচ্ছে, সামান্য অসতর্ক হলেই তাঁর দিন শেষ হয়ে আসবে।

ঘরের মধ্যে সেকেলে দম দেওয়া একটা বড় ওয়ালক্লক ঝুলছে। তার কাঁটা বিচ্ছিরিভাবে টিকটক আওয়াজ করে ঘুরছে। এমনিসময় অবশ্য কানে আসে না সেই আওয়াজ। কিন্তু যেদিন-যেদিন তিনি উত্তেজনায় অস্থির হয়ে পড়েন, কিংবা অজানিত আশঙ্কায় ভয়ে কাঁটা হয়ে থাকেন, সেদিন-সেদিন ওয়াল-ক্লকও যেন তার বিচ্ছিরি শব্দের আওয়াজ আরও বাড়িয়ে দেয়। আজ যেমন দিয়েছে।

সাইকেল মাহাতো যে এত বড় একটা ভুল করতে পারে, তা কখন ভাবেননি তিনি। এক-একটা ভুল এমন থাকে, যা ‘জোর কা ঝটকা, ধীরে সে লাগে’-র মতো। এই ভুলও তেমনই। সাইকেল তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী এবং উপকারী বন্ধু না-হলে হয়ত শোনামাত্র সাইকেলের জীবনে একটা ফুলস্টপ টেনে দেওয়ার ব্যবস্থা করতেন তিনি। যদিও এবারে সাইকেল তাঁর হাত থেকে রেহাই পেলেও, সব ঝুটঝামেলার একটা সন্তোষজনক এবং আশু সমাধান না-করতে পারে, তাহলে অন্য একজনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। সকলের অলক্ষ্যে থেকে যে কলকাঠি নাড়ছে, সে এই তাঁর চেয়েও নিষ্ঠুর, প্রতিশোধেচ্ছু, মায়াদয়াহীন পশু, তার হাত থেকে সাইকেলকে কেউ বাঁচাতে পারবে না।
সাইকেল যখন তাকে খবরটা দেয়, তখন প্রথমে তিনি নিজে এই খবরটা বিশ্বাস করতে পারেননি। অবাক গলায় বলেছিলেন, “কী! কী বললে আর-একবার বলো!”
“বাঞ্চোত ডক্টর পালিয়েছে!” সাইকেল থমথমে গলায় উত্তর দিয়েছিল।
“যা বলছ ভেবে বলছ তো?”
“যা সত্যি ঘটেছে, তা-ই বলছি। অন্য কিছু বলে আমার লাভ?”
“পালাবে? কী ভাবে সম্ভব হল তা? তোমাদের সতর্ক পাহারায় রাখতে বলিনি!”
“সতর্ক পাহারাতেই রাখা হয়েছিল। কিন্তু সত্যব্রত, আমাদের নিয়োগ করা কীভাবে আক্রমণ করল, সেটাই ভাবছি! আমরা ভেবেছিলাম, ডাগ্দার একা, ফলে যতই চেষ্টা করুক, পালাতে পারবে না। এ-দিকের রাস্তাঘাট হাতের তালুর মতো না-চিনলে জঙ্গলের পথে পালানোর চেষ্টা করা আর জুয়া খেলা দুটিই সমান। কিন্তু ও আমাদের লোককে খাবার দেওয়ার সময় অতর্কিত আঘাত করে পালিয়েছে। কুত্তার বাচ্চাকে আমি দেখে নেবো!”
“তোমার মুরোদ আমার জানা আছে সাইকেল। মুখেই বড়-বড় কথা। আগে দেখতে পারলে না আর এখন সে পালিয়ে যাওয়ার পরে বলছ, দেখে নেবে?”
“আমাকে দোষ দেবেন না খামোকা। আমি কিন্তু আগেই বলেছিলাম, ও সব তুলে আনা, লুকিয়ে রাখা ছোড়কে একেবারে জিন্দা পুঁতে দিলেই তো ল্যাটা চুকে যায়। কিন্তু তখন আপনিই বলেছিলেন, এখন কিছু করার দরকার লাই সাইকেল। করলে অযথা প্রশাসনের দৃষ্টি ইদিকে পড়বে। সেজন্যই ডাক্তারকে ঘটা করে বাঁচিয়ে রাখতে হয়েছিল। তা-না-হলে কবেই…!” সে আর কথা শেষ করল না, তার মুখচোখ কঠিন হয়ে গেল।
“বাজে এক্সিউজ দিয়ো না ! কী করলে কী হত, সেটা পরের কথা। যেটা আসল কথা সেটা হচ্ছে, তুমি তোমার ডিউটি ঠিকভাবে পালন করতে পারোনি সাইকেল !”
“চেষ্টা করেছি। আমার দিক থেকে যা-যা করার ছিল, সব করেছি। তা বলে হাত-পা-গুটিয়ে ওখানেই থানা গেড়ে বসলে বাকি কাম-কাজ কে সামলাতো শুনি?”
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪২: কুইক অ্যাকশন

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১০: চাঁদের ওপিঠে কালো

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৪৫: আকাশ এখনও মেঘলা

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৬ : কাঞ্চনজঙ্ঘা: ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী?

কথাটা সত্যি। সাইকেল অনেক কাজ একা হাতে সামলায়। লোকাল দলটিকে পরিচালনা করার মতো দক্ষতা এবং যোগ্যতা তার আছে। পরিকল্পনা তাকে বুঝিয়ে দিলেই হল। এমন সুচারুভাবে সে কাজ করবে যে, ভুলত্রুটি ধরে কার সাধ্যি? কালাদেওর আতঙ্কের সুযোগে তাঁদের সাম্রাজ্যের জাল অন্ধকারে-অন্ধকারে কম ছড়িয়েছে না-কি? কিন্তু তা বলে তার আজকের মারাত্মক ভুলকে কি ক্ষমা করতে পারবে অলক্ষ্যের সেই সর্বাধিনায়ক? মনে হয় না। তাঁকে রিপোর্ট করতেই হবে কাল সকালে। তার মধ্যে যদি ডক্টরকে খুঁজে না-পাওয়া যায়, তা হলে যা ঘটেছে তা জানাতেই হবে। খুঁজে পেলে আর জানাবেন না তিনি। কিন্তু যদি খারাপ খবরতাই বহাল থাকে এবং তাঁকে জানাতেই হয়, তাহলে তখন যে কী করবে সর্বাধিনায়ক, তা ভাবতেও চাইছেন না তিনি।
“সাইকেল, যেমন করে পারো ডক্টরকে খুঁজে বার করো। আর খুঁজে পেলেই নিকেশ করে দাও। আশেপাশের কেউ বাধা দিতে এলে তাদেরও খতম করে দাও। তারপর গাছকাটা মেশিন দিয়ে ডক্টরের ধড়-মুণ্ডু আলাদা করে দাও। বি কুইক। যা করবে তাড়াতাড়ি কর। আমি বড়জোর আজকের রাতটুকু ওপরে রিপোর্ট করব না। কিন্তু কাল সকালেও যদি আমি তাঁকে ঘটনাটা না-জানাই, তাহলে সবার আগে আমার মুণ্ডুটাই ধড় থেকে আলাদা হয়ে যাবে। বুঝতে পারছো ?”
ফোনের ওপার থেকে সাইকেল কোন জবাব দিল না।
অসহিষ্ণু হয়ে লোকটি বলল, “কী হয়েছে? চুপ করে আছো কেন? তুমি ডক্টরকে খুঁজে পাওয়ার গুরুত্ব বুঝতে পারছো তো?”
“পারছি। কিন্তু এখন এত রাতে কোথায়-কোথায় খুঁজবো?” হতাশ আক্রোশে সাইকেল মুখ দিয়ে একটা কাঁচা খিস্তি দিয়ে ফেলল। “শালা, খা… ছেলে!” তারপরেই জিভ কাটল, “স্যরি। ভুল করে বেরিয়ে গিয়েছে!”
“ইট’স্ ওকে! এখন বেরিয়ে পড়ো!”
“কিন্তু কোথায় খুঁজবো? আচ্ছা, পুলিশস্টেশনে গিয়ে খোঁজ নেবো? সেখানে নিশ্চয়ই ফিরে গিয়ে এতক্ষণে এজাহার দিয়েছে !”
“পাগল নাকি? পুলিশস্টেশনে এই মার্কামারা চেহারা নিয়ে তুমি গেলে তোমাকেই চুরু-চামারির কেসে ফাঁসিয়ে দেবে। সাবধান!”
“যা ব্বাবা ! আমি ও-সব কামধান্দা অনেকদিন আগেই ছেড়ে দিয়েছি, তাও আমার কলঙ্ক ঘুচল না। আমি আর ও-সব করি না, কবে যে সমঝাবে লোক!”
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৭: জৌরালি

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪১: ঘটি চেয়ে বঁটি

“শোনো, বকওয়াস রাখো। মাথা ঠাণ্ডা করে বোঝার চেষ্টা করো। ডক্টর এ-দিককার রাস্তা মোটেই চেনে না। সে যদিও তাৎক্ষণিক বুদ্ধি প্রয়োগ করে পালাতে সক্ষম হয়েছে, তবুও বেশিদূর পালানো তার পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ, এখানে সে কিছুই চেনে না আশা রাখি। সেক্ষেত্রে সে কাছাকাছি কোথাও লুকিয়ে থাকতে পারে। তবে এত রাতে এই অচেনা-অজানা জায়গায় আর কারও সাহায্য পাওয়ার আশা নেই বললেই চলে। ফলে সে কাছাকাছি কোথাও শেল্টার নেওয়ার চেষ্টা করবে। আগে ডক্টরের পক্ষে কোথায়-কোথায় লুকানো সম্ভব সে-ব্যাপারে খোঁজখবর নাও, তারপর সেইসব সম্ভাব্য স্থানগুলিতে লোক পাঠাও। তবে সবার আগে থানায় কাউকে পাঠিয়ে খোঁজ নাও, সত্যব্রত সেখানে ফিরে এসেছেন কি-না। যদি কোনভাবে এসে থাকেন, ভালো কথা, তাহলে হেলথ সেন্টারে নিজের কোয়াটার্সেই ফিরে যাবে। কিন্তু না-এসে থাকলে মুশকিল আছে!”
“আমার মনে হয় ডক্টর এত বুরবক্ নয়। পালিয়ে আসতে পারলেও নিজের কোয়াটার্সে এখন ফিরবে না ! এত ঢ্যামনা পাবলিক!”
“নুনিয়াকেও এখন পাওয়া গেল না!”
“ওকে পেয়ে যাবো খুব জলদি। ও যে বাঞ্চোত ডক্টরটার কাছে গিয়েছিল, সেটাতে কোনও সন্দেহ নেই। পাকা খবর। ডক্টরকে আমার লোক তুলে নিয়ে এসেছিল কিছুক্ষণের মধ্যেই। তারপর ওর ঘর সার্চ করা হয়েছিল। কেউ ছিল না। শয়তানের বাচ্চা নুনিয়া বিলকুল ডায়েন আছে। কিন্তু ডায়েনকেও তো আকশে উড়ে যেতে হবে। ডক্টরের ঘরের বাইরে পাহারা ছিল। কাউকে বেরুতে দেখা যায়নি। মনে হয় আমাদের লোক আসার আগেই ও অন্য কোথাও চলে গিয়েছিল। কিন্তু কোথায় ভাবতে-ভাবতে মনে পড়ল, হেলথ্-সেন্টারের ওই নার্সদিদিরা তো নুনিয়াকে ভালো করেই চেনে। গোবিন্দ সোরেনও। তারা কেউ ছুপাকে রাখেনি তো! লোক লাগিয়ে দিয়েছি। মনে হচ্ছে শয়তান চিড়িয়া এবার জালে পড়বে। তারপর ওকে খাল্লাস করে দেবো!”
“খবরদার নয়। ওকে পার্সেল করার সব ব্যবস্থা করা আছে। নেপাল হয়ে ওকে এমন জায়গায় পাঠানো হবে যে, কেউ কোনওদিন আর ওকে খুঁজে পাবে না। ও নিজেও ফিরে আসতে পারবে না। মনে রাখবে, নুনিয়া মেয়ে। আর এ-দেশের মেয়েমানুষের মাংসের জন্য বাইরের লোকজন হ্যাংলার মতো অপেক্ষা করে আছে ! ভারতীয় মেয়েদের সঙ্গে সেক্স করে না-কি মজা অনেক। তার উপর যদি কচি মাল হয়!”
“ধুস। ওর তো আসল জিনিসই বাদ গিয়েছে। রেপড্ হয়েছিল তো। ওর জন্য কে আর টাকা খরচ করবে?”
“আছে, আছে। কত রকমের বিকৃত লোকজন আছে, তুমি জানো? ছেলেবেলায় রেপড হওয়া মেয়েদের সঙ্গে সেক্স করার জন্য আলাদা একদল লোক রয়েছে। ডার্ক ওয়েবে গেলেই দেখতে পাবে। তুমি ও-সব বুঝবে না। দরকারও নেই বোঝার। আপাতত খুঁজে আনো দ্যাট ন্যাস্টি ফেলো ডক্টরকে। ও এখন আমাদের জন্য খতরনাক!”
“আবার হয়তো কালাদেওকে জাগাতে হবে!”
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৬: এক অনন্য অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রামচন্দ্রের অরণ্যবাস

উত্তম কথাচিত্র পর্ব-৭৩ : ‘খেলাঘর’

“খবরদার। সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আমরা কেউ নই। বস্ বললে নেবে। আপাতত উনি মাথা ঠাণ্ডা রাখতে বলেছেন। লালাবাজারের টিকটিকি এসেছে। ধুরন্ধর খুব। লুজ্ বল দিলে মেরে খেলবে। একেবারে গো-হারা হেরে যাব তখন। এমন কোন বাড়াবাড়ি করলে চলবে না এখন, যাতে টিকটকিটা সন্দেহ করে। কালাদেও আপাতত ঠাণ্ডা ঘরে থাকবে।”
“য্যায়সে আপকা মর্জি!”
“যাও। এখন কাজে লেগে পড়ো। তোমার একটা পজিটিভ ফোনের অপেক্ষায় আমি সারারাত জেগে থাকব। যখনই খোঁজ পাবে, আমাকে খবর দেবে!”
“হ্যাঁ হ্যাঁ! রাখছি এখন।” সাইকেল ফোন কেটে দিয়েছিল।
তারপরেই শুরু হয়েছিল তাঁর প্রতীক্ষা। অন্তহীন অপেক্ষার পালা। নুনিয়ার হাতছাড়া হওয়া, সত্যব্রতর পালিয়ে যাওয়া—এ সব কী হচ্ছে কী! সবাই মিলে তাঁকে পাগল করে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে দেখা যাচ্ছে! কিন্তু তার চেয়েও সাইকেল অ্যান্ড কোং তাঁকে পাগল করে দেবে। এখনও ফোন করছে না কেন? ডক্টরের কোন ট্রেস এখনও কি পায়নি তারা? আরে বাবা, একটা লোক তো আর এত তাড়াতাড়ি হাওয়ায় উবে যেতে পারে না! তাহলে পাচ্ছে না কেন ওরা? রাগে-ক্ষোভে সজোরে সামনের টেবিলটার উপর মুষ্ঠ্যাঘাত করেন তিনি। ঝনঝন করে ওঠে টেবিল। কাঁচের টপ হলে এতক্ষণে হয় কাঁচ ভাঙার ঝনঝন শব্দ ঘড়ির শব্দকেও ছাপিয়ে যেত। কিন্তু এখন সেই শব্দ মিলিয়ে যেতেই ঘড়ির শব্দ আবার নিজের এলাকা দখল করে নিল।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৩: ত্রিপুরা : ঊনকোটির বহু মূর্তি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে

পিতার ঔজ্জ্বল্য কখনও ম্লান হয়নি পুত্রের খ্যাতিতে

“একদম মেজাজ দেখাবে না। অকম্মার ধাড়ি কোথাকার! শোন, ওই খচ্চরটাকে আমাদের যে ডেনে রেখেছিলে, সেটা থেকে সমস্ত চিহ্ন সরিয়ে ফেলো। খাট-চেয়ার-টেবিল যা-যা থাকা কোন স্কুলের পক্ষে বেমানান, সমস্তই আজ রাতেই সরিয়ে ফেলতে হবে। কেউ যেন বুঝতেই না পারে, ওখানে এককালে একটা স্কুল চললেও এখন অন্য কিছু চলে। ছাত্রছাত্রীর অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুলের অবস্থা যেমনটি হওয়া উচিত তেমন-যেন মনে হয়। যদি কোনভাবে আমাদের হাতছাড়া হয়ে খচ্চরটা পুলিশের কাছে এজেহার দিতে সক্ষম হয়, তাহলে কিন্তু পুলিশ এই তল্লাটের সমস্ত স্কুলে হানা দেবে। আমাদের ডেনটা চোখে পড়ুক, তা আমি চাই না। হয়ত সর্বাধিনায়কও চাইবেন না। যাক্, যা বলছি করো। দু’জনকে সেখানে ইমিডিয়েট চলে যেতে বল, তারপর যেমন-যেমনভাবে যেখানে যা রাখলে একটি পরিত্যক্ত স্কুলবিল্ডিং বলে মনে হবে, তাই করো। এমনকি খচ্চর ডক্টর নিজেও যেন এসে দেখে চিনতে না পারে! বুঝেছ? এই কাজটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি সব পাল্টে দিতে পারো, তাহলে দেখবে ডক্টর নিজেই চিনতে পারবেন না নিজের জায়গা। সেই বিভ্রান্তিই ওঁর অভিযোগের ভিতকে দুর্বল করে দেবে। নির্জনে হেলথ-সেন্টারে থেকে ডক্টরের মাথাখানা গেছে, এটা বরং ছড়িয়ে দেওয়া যাবে। যাও। যা বলচজি করো। তারপর ডক্টরকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়ো!”

সাইকেল বলল, ‘আমাকে কি আপনি এতই গাধা ভাবেন। যখনই ডক্টর পালিয়েছে খবর পেলাম, তখনই ওই শেল্টারের সুরক্ষার দায়িত্বে যে-দুজন আছে, তাদের একজনকে ফোনে সব নির্দেশ দিয়ে ফুলপ্রুফ ব্যবথা করে রেখেছি। উ-নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না। সাইকেলের বুদ্ধি প্লেনের গতিতে চলে। রাখুন ক্যানে। আমরা রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছি। আলাদা-আলাদা ভাবে। পরে রিপোর্ট করব আপনাকে। এখন রাখছি।” বলে তাঁর কোন বক্তব্যের তোয়াক্কা না-করে ফোনটা মুখের উপর কেটে দিল সাইকেল। তিনি একটু ক্রুদ্ধ হলেন। পরমূহূর্তেই ভাবনা জেগে উঠল মাথায়, দুর্ভাবনা। তবে কি তাঁর হাত থেকে সব কৃতিত্ব সাইকেল কেড়ে নিতে চাইছে? সে যেন একটু বেশিই অ্যাক্টিভ হয়ে উঠেছে। কে জানে! তবে এইভাবে যাবতীয় কৃতিত্ব নিজে আত্মস্যাৎ করতে থাকলে সর্বাধিনায়কের কাছে ভুল বার্তা যাবে, তখন তাঁকে সরিয়ে সাইকেলকেই হয়তো এই অঞ্চলে নারী-পাচার, কাঠ-পাচার, অরগ্যান-পাচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব দেবেন সর্বাধিনায়ক। উফ্! সাইকেলকে এখন তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে হচ্ছে। সাইকেলও কি তাঁকে সেইরকম প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে?—চলবে।

* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content