
মাঝরাত্তিরে চিৎকার-চ্যাঁচামেচি হই-হট্টগোলে কাঁচা ঘুমটা বরবাদ হয়ে গিয়ে রিমিতার খুব মাথা ধরেছিল। তার মাইগ্রেনের সমস্যা আছে। একবার শুরু হলে তিন দিন পাক্কা কষ্টভোগ চলে। একেই এ-বারের এই ট্যুরে আসার জন্য তাদের দু’জনের দুর্ভোগের শেষ নেই, তার পর থেকে বাধা-বিঘ্ন বিপদ-আপদ যেন ছাড়তেই চাইছে না। এই পিশাচপাহাড় নামক জায়গাটি, তার উপর একই নামের এই রিসর্টটি যেন যত গণ্ডগোল আর বিপদের আখড়া। এখানে এতসব কাণ্ড হবে জানলে প্রি-ম্যারিটাল এনজয়মেন্টের স্থান হিসেবে অন্য কোনও জায়গার কথা ভাবা যেত। কিন্তু এখন আর আফসোস করে কোন লাভ নেই। দুশ্চিন্তা অন্য জায়গায়। কলকাতায় ফিরে তাদের চাকরিটা আর থাকবে কি-না সেটা সে বা পূষণ—কেউই জানে না। প্রাইভেট কোম্পানি নিজেদের লাভ-লোকসান দিয়েই ব্যাপারটিকে দেখবে। ম্যানেজারের কাছে তারা দু’জনেই মেইলে আপডেট পাঠিয়েই চলেছে, কিন্তু আর কয়েকদিনের মধ্যে চাকরিতে জয়েন না করলে যে তিনি কিছু করতে পারবেন না, সেটা ঠারে-ঠোরে জানিয়েই দিয়েছেন ভদ্রলোক।
এ-ব্যাপারে সে মামাকে অনুরোধ করতেই পারতো। মাকে দিয়েও বলাতে পারতো। পুলিশের একজন বড়কর্তার ফোন পেয়ে অফিস হয়তো একটু অ্যাডজাস্ট করতে পারতো। কিন্তু এ-সব ব্যাপারে বলতে তার কেমন লাগে। পিশাচপাহাড়ে এসে সেই প্রথম দিন থেকে আজ অবধি কী-কী ঘটেছে, মামা সবটাই জানেন। লালবাজার থেকে শাক্য সিংহ যে মামার নির্দেশেই কেসটা টেক-অফ করেছেন, তা মামা নিজেই জানিয়েছেন। খুব হুনহাল অফিসার, তাঁর উপর ভরসা রাখাই যায়—এই পর্যবেক্ষণ এবং মতামত মামা জানিয়েছেন তাকে। তবে এটাও বলেছেন, রিমিতা আর পূষণ এখানে আসবার আগেই কেসটা টেক-অফ করা হয়েছিল। কিছু বাধ্য-বাধকতার কারণে শাক্য সিংহ অবশ্য তখন এখানে আসেন নি। তবে, কেসটাকে হাল্কাভাবে না নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছিল। শাক্য সিংহ-ই দেখছিলেন। নির্দিষ্ট সময়ে তাঁর ইমিডিয়েট-বসকে আপডেটও দিয়েছেন। এখন দিয়ে যাচ্ছেন। অতএব তাদের দুজনের জন্যই মামা এই কেসের ব্যাপারে উৎসাহী এমন নয়।
বরং এ-সম্বন্ধে খবরের কাগজের রিপোর্ট পড়ে তাঁর আগ্রহ জেগেছিল বলেই, খানিকটা নিজের উদ্যোগেই কেসটার ব্যাপারে তত্ত্বতালাশ করতে শুরু করেন এবং যখন বোঝেন যে, কেসটা নেহাতই সহজ-সরল নয়, তখন বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে চৌকস বলে যাকে মনে করেন, তাঁকেই দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি এখনও আশাবাদী, এই কেস সলভ্ করতে যদি কেউ পারে, তাহলে শাক্য সিংহই পারবেন। আর তাদের দুজনের যদি কোন অসুবিধা হয়, তাহলে তারা নির্দ্বিধায় শাক্য সিংহকে তা বলতে পারে। কারণ, এখানে এসে গণ্ডগোলে ফেঁসে যাওয়ার পর মামাকে জানাতে বাধ্য হয়েছিল সে। তখন মামা শাক্য সিংহকে তাদের দুজনের ব্যাপারে অ্যালার্ট করে দিয়েছিলেন। পুলিশ বিভাগ থেকে যেন যতটা সম্ভব সহযোগিতা করা হয় তাদের, বলে দিয়েছিলেন তিনি। তবে, মামা এ-ও বলেছিলেন, “যদি দেখা যায় তোমরা ইনোসেন্ট, তাহলে পুলিশ-বিভাগ অবশ্যই তোমাদের সঙ্গে আছে, কিন্তু যদি দেখা যায়, তোমাদের মধ্যে কেউ এই-সমস্ত ক্রাইমের সঙ্গে ইনভলভড্, তাহলে শাক্য সিংহ তো দূর, মামাও তোমাদের ছায়া মাড়াবে না, জেনে রেখো!”
এ-ব্যাপারে সে মামাকে অনুরোধ করতেই পারতো। মাকে দিয়েও বলাতে পারতো। পুলিশের একজন বড়কর্তার ফোন পেয়ে অফিস হয়তো একটু অ্যাডজাস্ট করতে পারতো। কিন্তু এ-সব ব্যাপারে বলতে তার কেমন লাগে। পিশাচপাহাড়ে এসে সেই প্রথম দিন থেকে আজ অবধি কী-কী ঘটেছে, মামা সবটাই জানেন। লালবাজার থেকে শাক্য সিংহ যে মামার নির্দেশেই কেসটা টেক-অফ করেছেন, তা মামা নিজেই জানিয়েছেন। খুব হুনহাল অফিসার, তাঁর উপর ভরসা রাখাই যায়—এই পর্যবেক্ষণ এবং মতামত মামা জানিয়েছেন তাকে। তবে এটাও বলেছেন, রিমিতা আর পূষণ এখানে আসবার আগেই কেসটা টেক-অফ করা হয়েছিল। কিছু বাধ্য-বাধকতার কারণে শাক্য সিংহ অবশ্য তখন এখানে আসেন নি। তবে, কেসটাকে হাল্কাভাবে না নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছিল। শাক্য সিংহ-ই দেখছিলেন। নির্দিষ্ট সময়ে তাঁর ইমিডিয়েট-বসকে আপডেটও দিয়েছেন। এখন দিয়ে যাচ্ছেন। অতএব তাদের দুজনের জন্যই মামা এই কেসের ব্যাপারে উৎসাহী এমন নয়।
বরং এ-সম্বন্ধে খবরের কাগজের রিপোর্ট পড়ে তাঁর আগ্রহ জেগেছিল বলেই, খানিকটা নিজের উদ্যোগেই কেসটার ব্যাপারে তত্ত্বতালাশ করতে শুরু করেন এবং যখন বোঝেন যে, কেসটা নেহাতই সহজ-সরল নয়, তখন বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে চৌকস বলে যাকে মনে করেন, তাঁকেই দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি এখনও আশাবাদী, এই কেস সলভ্ করতে যদি কেউ পারে, তাহলে শাক্য সিংহই পারবেন। আর তাদের দুজনের যদি কোন অসুবিধা হয়, তাহলে তারা নির্দ্বিধায় শাক্য সিংহকে তা বলতে পারে। কারণ, এখানে এসে গণ্ডগোলে ফেঁসে যাওয়ার পর মামাকে জানাতে বাধ্য হয়েছিল সে। তখন মামা শাক্য সিংহকে তাদের দুজনের ব্যাপারে অ্যালার্ট করে দিয়েছিলেন। পুলিশ বিভাগ থেকে যেন যতটা সম্ভব সহযোগিতা করা হয় তাদের, বলে দিয়েছিলেন তিনি। তবে, মামা এ-ও বলেছিলেন, “যদি দেখা যায় তোমরা ইনোসেন্ট, তাহলে পুলিশ-বিভাগ অবশ্যই তোমাদের সঙ্গে আছে, কিন্তু যদি দেখা যায়, তোমাদের মধ্যে কেউ এই-সমস্ত ক্রাইমের সঙ্গে ইনভলভড্, তাহলে শাক্য সিংহ তো দূর, মামাও তোমাদের ছায়া মাড়াবে না, জেনে রেখো!”
মামার এইটুকু কথাই রিমিতার কাছে অনেক বড় পাওয়া। সে বা পূষণ যে ক্রিমিন্যাল নয়, সে-কথা মামা নিশ্চিতভাবে জানেন বলেই এমন একটা কথা তিনি বলতে পেরেছেন, তা-না-হলে মামা তার ফোন রিসিভ করতেন না, পাশে দাঁড়ানো তো দূর ! কিন্তু এই বিপদে মামাকে ফোন করা আর অফিসে চাকরিটা যাতে থাকে, সে-জন্য মামাকে অনুরোধ করার মধ্যে পার্থক্য আছে। চাকরিটা সে নিজের যোগ্যতাতেই পেয়েছিল। কোন মামা-কাকার সুপারিশে নয়। পূষণের তো আবার তেমন কোন প্রভাবশালী মামা-কাকা নেই। সেজন্যই তারা দুজন ঠিক করেছে, চাকরিটা বাঁচাতে নিজেরাই উদ্যোগী হবে, না-বাঁচলে নতুন চাকরির চেষ্টা করতে হবে। প্রাইভেট জবে এমন ওঠা-পড়া খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। নিজেদের উপর কনফিডেন্স থাকলে সব বিপদ-বাধাই ওভারকাম করা যায়, কেবল একটু সময় লাগতে পারে এটুকুই। কিন্তু ভিতরে-ভিতরে যে সে-ব্যাপারে টেনশন হচ্ছে না তা নয়। কেবল তো চাকরি হারানোর টেনশন নয়, আবার কোন চাকরি পেলেও কতদিনে পাবে, সেই চাকরিটা মনঃপূত হবে কি-না, এখান থেকে বিপদের এত জটাজাল ছিন্ন করে কলকাতায় ফিরবে কবে, তার আগে কোন নতুন ঘটোনা-দুর্ঘটনা ঘটবে কি-না, প্রশ্নের পর প্রশ্ন, সংশয়ের পর সংশয় যেন আর কাটতেই চাইছে না। যত সে ভাবে, এ-সব নিয়ে অতিরিক্ত টেনশন সে করবে না, ততই টেনশনের পর টেনশন নিজেই হাজির হয়। এই বদ্ধ শ্বাসরুদ্ধকর জায়গাটি থেকে আপাতত মুক্তি পেলেই সে আর পূষণ বাঁচে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩১: যে পালিয়ে বেড়ায়

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩১: মহর্ষি চেয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে মৃত্যু

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৩৩: আকাশ এখনও মেঘলা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৫: পূর্বোত্তরে আন্তরাজ্য সীমা বিবাদ
আজ অনেকদিন পর পূষণ একটু রোম্যান্টিক হয়ে পড়েছিল। তার খোলা বুকে রিমিতাকে টেনে নিয়ে রিমিতার স্তনে মুখ ঘষতে-ঘষতে বলেছিল, “রিমি, যদি কলকাতায় ফিরতে পারি, চাকরি থাকুক বা না-ই থাকুক, আমরা এবার বিয়েটা সেরেই ফেলব। তুমি একজায়গায়, আমি একজায়গায় থাকব, এ-আমি মানতে পারব না। আর এই বিরহ সহ্য হবে না আমার।”
রিমিতা ওর মাথার ঘন চুল ঘেঁটে দিয়ে বলেছিল, “মিত্থুক। খালি মাশ্কা লাগানো আমায় ! আদরের দিনগুলিতে তুমি একটু বেশি রোম্যান্টিক হওয়ার অ্যাকটিং করো আমি বুঝে গিয়েছি!”
স্তন থেকে মুখ তুলে তাকে একটা-দুটো-তিনটে চুমু খেয়ে পূষণ বলেছিল, “অ্যাই না, সত্যি বলছি। মাইরি!”
“আবার, ওইসব রক্বাজদের মতো কথা বলছো?” কপট রাগে বলল রিমিতা।
“তোমার সঙ্গে দেখা হওয়ার আগে রকেই তো বসতাম। আর এখন বসবার জন্য রক ভালো লাগে না, অন্য কিছু ভালো লাগে !” বলে রাতপোশাকের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে রিমিতার উরুসন্ধিতে রেখেছিল পূষণ।
“অসভ্য। ভালো লাগছে না যাও। ঘুম পাচ্ছে!”
“অ্যাই! সত্যি ঘুম পাচ্ছে না-কি?”
রিমিতার সত্যি ঘুম পাচ্ছিল। তখন মাইগ্রেনের চিহ্নমাত্র কিছু ছিল না। পূষণের প্রশ্নের জবাবে সে বলল, “সত্যি বাবু। খুব ঘুম পাচ্ছে !”
“এই যা ! আমি কোথায় ভাবলাম, অনেকদিন পরে তোমার শরীরে একটু হাঁটতে বেরবো…”
“ভোরে বেড়ু-বেড়ূ করো। এখন ঘুমাও।…”
রিমিতার হাতটা নিয়ে নিজের ছোট শর্টস্-এর উপর দিয়ে উরুসন্ধিতে রেখে পূষণ বলল, “ও কিন্তু বেড়ু-বেড়ুর জন্য একেবারে রেডি…”
আলতো হাতে পূষণের হার্ডনেসকে ফিল করতে-করতে রিমিতা বলেছিল, “ওকে বল, মর্ণিং-ওয়াক স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। এখন ঘুমিয়ে পড়লে ভোরে রিওয়ার্ডস্ পাবে।”
“কী রিওয়ার্ডস্ শুনি? সিক্সটি-নাইন?”
“যাঃ! খালি অসভ্যতা! ঘুমাতে দাও তো… পাজি ছেলে!” বলে পূষণকে ঠেলে দিয়ে নিজে গড়িয়ে গিয়েছিল বিছানার কিনারায়। জড়ানো গলায় বলেছিল, “প্লিজ। ঘুম পাচ্ছে আমার। কাল করো! কিংবা সক্কালে!”
রিমিতা ওর মাথার ঘন চুল ঘেঁটে দিয়ে বলেছিল, “মিত্থুক। খালি মাশ্কা লাগানো আমায় ! আদরের দিনগুলিতে তুমি একটু বেশি রোম্যান্টিক হওয়ার অ্যাকটিং করো আমি বুঝে গিয়েছি!”
স্তন থেকে মুখ তুলে তাকে একটা-দুটো-তিনটে চুমু খেয়ে পূষণ বলেছিল, “অ্যাই না, সত্যি বলছি। মাইরি!”
“আবার, ওইসব রক্বাজদের মতো কথা বলছো?” কপট রাগে বলল রিমিতা।
“তোমার সঙ্গে দেখা হওয়ার আগে রকেই তো বসতাম। আর এখন বসবার জন্য রক ভালো লাগে না, অন্য কিছু ভালো লাগে !” বলে রাতপোশাকের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে রিমিতার উরুসন্ধিতে রেখেছিল পূষণ।
“অসভ্য। ভালো লাগছে না যাও। ঘুম পাচ্ছে!”
“অ্যাই! সত্যি ঘুম পাচ্ছে না-কি?”
রিমিতার সত্যি ঘুম পাচ্ছিল। তখন মাইগ্রেনের চিহ্নমাত্র কিছু ছিল না। পূষণের প্রশ্নের জবাবে সে বলল, “সত্যি বাবু। খুব ঘুম পাচ্ছে !”
“এই যা ! আমি কোথায় ভাবলাম, অনেকদিন পরে তোমার শরীরে একটু হাঁটতে বেরবো…”
“ভোরে বেড়ু-বেড়ূ করো। এখন ঘুমাও।…”
রিমিতার হাতটা নিয়ে নিজের ছোট শর্টস্-এর উপর দিয়ে উরুসন্ধিতে রেখে পূষণ বলল, “ও কিন্তু বেড়ু-বেড়ুর জন্য একেবারে রেডি…”
আলতো হাতে পূষণের হার্ডনেসকে ফিল করতে-করতে রিমিতা বলেছিল, “ওকে বল, মর্ণিং-ওয়াক স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো। এখন ঘুমিয়ে পড়লে ভোরে রিওয়ার্ডস্ পাবে।”
“কী রিওয়ার্ডস্ শুনি? সিক্সটি-নাইন?”
“যাঃ! খালি অসভ্যতা! ঘুমাতে দাও তো… পাজি ছেলে!” বলে পূষণকে ঠেলে দিয়ে নিজে গড়িয়ে গিয়েছিল বিছানার কিনারায়। জড়ানো গলায় বলেছিল, “প্লিজ। ঘুম পাচ্ছে আমার। কাল করো! কিংবা সক্কালে!”
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩০: অলৌকিকতার আবরণে লৌকিক-অনুভবের পরশ

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ
পূষণ আর জোর করেনি। কখনই করে না। সেক্স ব্যাপারটা এখন-আর আলাদা করে কোন জরুরি ব্যাপার নয় তাদের কাছে। সম্পর্কের প্রথমদিকে যে উত্তেজনা ছিল স্বাভাবিক, এখন তার জায়গা নিয়েছে, সত্যিকারের প্রেম। এতদিন পরে এসে তাদের দুজনেরই মনে হয়, শরীরের সেতু পার না হলে ভালোবাসার তীর্থে পৌঁছানো যায় না। শরীরের মাদকতা ক্ষণস্থায়ী, সেতু-পারাপারের মতোই। হাঁটতে-হাঁটতে শেষ। কিন্তু তীর্থ তো তা নয়। যতবার তীর্থে উপণীত হওয়া যায়, ততবারই নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করা যায়। প্রেম যেন একটা বনের মতো। তার কোথাও ভালোবাসার ফুল ফুটে আছে, কোথাও অভিমানের অন্ধকার অপেক্ষমান। সৌন্দর্য ও রহস্যময়তার মিলিত সমবায় হচ্ছে ভালোবাসা। সে যেন সত্যিই এক তীর্থ। যতবার সেই ভালোবাসার তীর্থে নতজানু হবে প্রেমিক বা প্রেমিকারা, ততবারই নতুন অনুভবে দেহ-মন-প্রাণ ভরে উঠবে কামগন্ধহীন এক মধুর সুষমায়। ঘুমিয়ে পড়েছিল সে-ও। কিন্তু তারপরেই আর্তনাদ আর ঘুমের দফারফা।
পূষণ রিমিতাকে ঘুম ভাঙাতে চায় নি। কিন্তু রিমিতার ঘুম নিজের থেকেই ভেঙে গিয়েছিল। ওইরকম বিকট আর্ত-চিৎকারে মরা মানুষও উঠে বসবে। অর্ক নামের লোকটি কোন-কারণে ভয় পেয়েছিল। কেউ এসে নক্ করেছিল তার দরজায়। সেই কারণেই যেমন অবস্থায় ছিল, ঠিক সেইরকম নগ্ন অবস্থায় ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসে করিডোর ধরে ছুটছিল সে। কিন্তু যে দরজার সামনে দাঁড়িয়েছিল, সে কেন বাধা দিল না? বাধা দিয়ে ঘরের মধ্যে ঠেলে দিলেই তো ল্যাটা চুকে যেত। তাহলে কি অর্ক কোন দুঃস্বপ্ন দেখে এমন করেছেন ? না-কি সত্যিকারের কাউ এসে দাঁড়িয়েছিল তার রুমের দরজার ওদিকে। কিন্তু সেটাই যদি হয়, তাহলে সে কে?
অর্কর অমন অবস্থা দেখে রিমিতা খানিকটা লজ্জায় নিজের বিছানায় এসে বসে পড়েছিল। অনেকক্ষণ ধরে বসেই ছিল। তার মনে হচ্ছিল, পূষণ ফিরে এলেই তার কাছে সবটা শুনে সে ঘুমাতে যাবে। কিন্তু পূষণের দেরি হচ্ছিল। তার অপেক্ষায় থাকতে-থাকতে রিমিতা কখন শুয়ে পড়েছিল, হয়তো তন্দ্রাচ্ছন্নও হয়ে পড়েছিল। কিন্তু একটানা ঘুম নয়, কেমন ছেঁড়া-ছেঁড়া ঘুম। বার-বার ভেঙে যাচ্ছিল বিচ্ছিরিভাবে। মাথার শিরা দপদপ্ করতে শুরু করেছিল তখন থেকেই। বুঝতে পারছিল রিমিতা, মাইগ্রেন নামক দৈত্য হয়তো জেগে উঠবে এবার। বিরক্ত হচ্ছিল সে। আতঙ্কিতও। মনে-প্রাণে চাইছিল যেন মাইগ্রেন না অ্যাটাক করে। কিন্তু কোথায় কী?
পূষণ রিমিতাকে ঘুম ভাঙাতে চায় নি। কিন্তু রিমিতার ঘুম নিজের থেকেই ভেঙে গিয়েছিল। ওইরকম বিকট আর্ত-চিৎকারে মরা মানুষও উঠে বসবে। অর্ক নামের লোকটি কোন-কারণে ভয় পেয়েছিল। কেউ এসে নক্ করেছিল তার দরজায়। সেই কারণেই যেমন অবস্থায় ছিল, ঠিক সেইরকম নগ্ন অবস্থায় ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসে করিডোর ধরে ছুটছিল সে। কিন্তু যে দরজার সামনে দাঁড়িয়েছিল, সে কেন বাধা দিল না? বাধা দিয়ে ঘরের মধ্যে ঠেলে দিলেই তো ল্যাটা চুকে যেত। তাহলে কি অর্ক কোন দুঃস্বপ্ন দেখে এমন করেছেন ? না-কি সত্যিকারের কাউ এসে দাঁড়িয়েছিল তার রুমের দরজার ওদিকে। কিন্তু সেটাই যদি হয়, তাহলে সে কে?
অর্কর অমন অবস্থা দেখে রিমিতা খানিকটা লজ্জায় নিজের বিছানায় এসে বসে পড়েছিল। অনেকক্ষণ ধরে বসেই ছিল। তার মনে হচ্ছিল, পূষণ ফিরে এলেই তার কাছে সবটা শুনে সে ঘুমাতে যাবে। কিন্তু পূষণের দেরি হচ্ছিল। তার অপেক্ষায় থাকতে-থাকতে রিমিতা কখন শুয়ে পড়েছিল, হয়তো তন্দ্রাচ্ছন্নও হয়ে পড়েছিল। কিন্তু একটানা ঘুম নয়, কেমন ছেঁড়া-ছেঁড়া ঘুম। বার-বার ভেঙে যাচ্ছিল বিচ্ছিরিভাবে। মাথার শিরা দপদপ্ করতে শুরু করেছিল তখন থেকেই। বুঝতে পারছিল রিমিতা, মাইগ্রেন নামক দৈত্য হয়তো জেগে উঠবে এবার। বিরক্ত হচ্ছিল সে। আতঙ্কিতও। মনে-প্রাণে চাইছিল যেন মাইগ্রেন না অ্যাটাক করে। কিন্তু কোথায় কী?
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৭: আবাবিল
একরাশ বিরক্তি নিয়ে এখন সে বসে আছে জানালার ধারে। ভোরের দিকের ঠান্ডা উপেক্ষা করে জানালার একদিকের শার্সি খুলে দিয়েছিল। রাত আর বেশি অবশিষ্ট নেই। অন্ধকার তরল হতে শুরু করেছিল। রিসর্টের পিছনে বাউণ্ডারি-ওয়ালের ওপারের জমিতে কিছু ঝোপঝাড়-ইতস্তত গজিয়ে ওঠা খেজুরের গাছ। খানিকটা জমি ছেড়ে শাল-মহুয়া, কুসুম-পলাশের বন, এখন তাদের দেখাচ্ছে সিল্যুয়েটে আঁকা ছবির মতো। হালকা কুয়াশার চাদরে মুড়ি দিয়ে তারা এখন ঘুমিয়ে। বাউন্ডারি-ওয়ালের গায়ে-গায়ে কিছু দূর অন্তর যে ল্যাম্প-পোস্টগুলি আছে, তারা নিরক্ত চোখে হলদেটে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছিল রাত-ফুরানোর আগে যতটুকু পারে। জানালা দিয়ে কুয়াশা-ভেজা ঠান্ডা-বাতাস রিমিতার শরীরে আছড়ে পড়ছিল আদুরে ভঙ্গীতে। কিছুটা হলেও আরাম পাচ্ছিল সে। ঘুমানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু সে জানে ঘুম আসবে না। জোর করে চোখ বন্ধ অবস্থায় আর কতক্ষণ বসে থাকা যায়। মাঝেমধ্যেই চোখ খুলে সে বাইরের দিকে তাকাচ্ছিল। আজ হয়ত তারই ক্লান্ত-যন্ত্রণাকাতর চোখের সামনে সূর্যটা একটু-একটু করে উঠবে। গোটা রিসর্টই মাঝখানের ডামাডোলের পরে আবার ঝিমিয়ে পড়েছে। রিমিতার রুমের জানালা দিয়ে ইউ আকৃতির এই রিসর্টের একদিক ভালোই দেখা যায়। সেখানে কোন রুমেই কোনও আলো জ্বলছিল না, কেবল একটি রুম ছাড়া। সেই রুমের জানালায় যদিও ভারি পর্দা ঝুলছে, এখান থেকে ভিতরের কিছু দেখা মুশকিল, তবে বেশ বোঝা যাচ্ছিল যে রুমে আলো জ্বলছে।
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
রিমিতা জানে, রুমটি মিঃ কাপাডিয়ার। বেচারা কাপাডিয়া। ম্যানেজারি করতে এসে যেভাবে নাকাল হচ্ছেন, তাতে কতদিন আর এই চাকরি করবেন, তা নিয়ে নিজেই সন্দিহান। আজ মধ্যরাতেও যা হল, তা নিশ্চয়ই তাঁর কানে পৌঁছে গিয়েছে, আর তার ফলেই ঘুম চটকে গেছে তাঁর। কাল হয়তো আবার পুলিশ আসবে, আবার জিজ্ঞাসাবাদ। নিজেই তো বলছিলেন একদিন, রিমিতার মনে পড়ল, নতুন হোটেল খুঁজছেন। তেমন হোটেল পেলে এখানকার চাকরিটা ছেড়ে দেবেন। বয়স হচ্ছে। শেষ বয়সে স্ত্রী-সন্তানদের কাছে থাকতে চান। তাঁর আর বেশি মাইনে নিয়ে কাজ নেই। এর চেয়ে কম, কিন্তু কাছাকাছি পেলেও চলে যাবেন। বেচারা। এই বয়সে নতুন কাজ পাওয়া মুশকিল। তখনই তার নিজের জন্য চিন্তাটা আবার ফিরে এল। কাপাডিয়ার না-হয় বয়স হয়েছে, ফলে নতুন চাকরি পাওয়া চাপের ব্যাপার, কিন্তু তার, পূষণের তো বয়স কম, তারাও কি সহজে চাকরি জোগাড় করতে পারবে আবার একটা? কথাটা মাথায় আসতেই মাইগ্রেনের ব্যথাটা আবার চেপে বসল দ্বিগুণ ভাবে।
বিরক্ত হয়ে সে আবার চোখ বন্ধ করবে, এমনসময় খুট্ করে আওয়াজ হল। পূষণ ফিরল? — চলবে
বিরক্ত হয়ে সে আবার চোখ বন্ধ করবে, এমনসময় খুট্ করে আওয়াজ হল। পূষণ ফিরল? — চলবে
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।


















