
দিনের ব্যস্ততার সঙ্গে রাতের এই স্তব্ধতা মেলানো যায় না। কোথায় সেই কোলাহল, হই- হট্টগোল! মোড়ের মাথায় জ্যামযন্ত্রণা নেই, ট্রাফিকপুলিশের অসহায়তা নেই। বেশ ফাঁকা-ফাঁকা, মাঝে মধ্যে হুশ-হুশ করে লরি আর প্রাইভেটকার ছুটে যাচ্ছে। হঠাৎই লাল আলোর অ্যাম্বুলেন্স ছুটে নয়, বোধহয় উড়েই গেল! ভেতরে হয়তো মুমূর্ষু রোগী, তাই এত তাড়াহুড়ো, মুহূর্তেই লাল আলো মিলিয়ে যায়।
দিন সাতেক আগে সালাম একটা ঘোড়া কিনে এনেছে, শোনপুরের মেলা থেকে। পাটনা ছাড়িয়ে এই শোনপুর। ফি-বছর কার্তিকে বসে পশুমেলা। সেখান থেকে ট্রাকে করে ঘোড়া নিয়ে আসা সহজ কাজ নয়। যতই ঝকমারি হোক, ঝুটঝামেলা-উৎপাত থাক না কেন, পেট কা সওয়াল, যেতেও হয়েছে,আনতেও হয়েছে।
সালাম ক’দিন আগেই শোনপুর থেকে ঘোড়া নিয়ে এসেছে। লাখ টাকা দিয়ে ঘোড়া কেনা সহজ ব্যাপার ছিল না। কত কষ্টে, তিলে তিলে সঞ্চয়, খেয়ে না-খেয়ে টাকা জমিয়েছিল। টাকা গেছে, যাক, ঘোড়া অবশ্য পেয়েছে একেবারে মনের মতো। কী আনন্দ, আনন্দ আর ধরে না সালামের!
এই মধ্যরাতে রাজাবাজারের বড়ো রাস্তায় সদ্য কেনা ঘোড়াকে ট্রেনিং দিতে গিয়ে সেই আনন্দ আবারও ঝরে ঝরে পড়ে। ঘোড়াটা সত্যিই ভালো, ভয়ডর নেই। সংখ্যায় কম হলেও পাশ দিয়ে গাড়ি ছুটে যাচ্ছে। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। ফিরেও তাকাচ্ছে না। সালামের কথা কান খাড়া করে শুনছে, যেমনভাবে এগোতে বলছে, তেমনভাবেই এগোচ্ছে। নড়চড়, ভুলভাল হচ্ছে না।
ঘোড়া যায় টগবগ টগবগ। টগবগানো সেই ধ্বনি সালামের মনে শুধু আনন্দ নয়, স্বস্তিও আনে। দিন দুই আগে নিজের হাতে ঘোড়ার পায়ে নাল পরিয়েছে। অনেক সময় পেরেক ঠুকে নাল পরাতে গিয়ে বিপত্তি ঘটে। এমনকি কখনো বেলগাছিয়ার ভেটেরিনারি হাসপাতালেও নিয়ে যেতে হয়েছে। পেকে যায়, ওষুধ লাগিয়ে, ওষুধ খাইয়ে সুস্থ না করা পর্যন্ত হাঁটতে চায় না, হাঁটলেও খুঁড়িয়ে হাঁটে। সদ্য কেনা সালামের ঘোড়া পেরেকের ঠকঠকাঠক হজম করে নিয়েছে। কেমন তালে তালে, সুর তুলে সে হাঁটছে,ছুটছে! সশব্দে শুধু নয়, ছন্দে ছন্দে, স্বচ্ছন্দে।
দিন সাতেক আগে সালাম একটা ঘোড়া কিনে এনেছে, শোনপুরের মেলা থেকে। পাটনা ছাড়িয়ে এই শোনপুর। ফি-বছর কার্তিকে বসে পশুমেলা। সেখান থেকে ট্রাকে করে ঘোড়া নিয়ে আসা সহজ কাজ নয়। যতই ঝকমারি হোক, ঝুটঝামেলা-উৎপাত থাক না কেন, পেট কা সওয়াল, যেতেও হয়েছে,আনতেও হয়েছে।
সালাম ক’দিন আগেই শোনপুর থেকে ঘোড়া নিয়ে এসেছে। লাখ টাকা দিয়ে ঘোড়া কেনা সহজ ব্যাপার ছিল না। কত কষ্টে, তিলে তিলে সঞ্চয়, খেয়ে না-খেয়ে টাকা জমিয়েছিল। টাকা গেছে, যাক, ঘোড়া অবশ্য পেয়েছে একেবারে মনের মতো। কী আনন্দ, আনন্দ আর ধরে না সালামের!
এই মধ্যরাতে রাজাবাজারের বড়ো রাস্তায় সদ্য কেনা ঘোড়াকে ট্রেনিং দিতে গিয়ে সেই আনন্দ আবারও ঝরে ঝরে পড়ে। ঘোড়াটা সত্যিই ভালো, ভয়ডর নেই। সংখ্যায় কম হলেও পাশ দিয়ে গাড়ি ছুটে যাচ্ছে। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। ফিরেও তাকাচ্ছে না। সালামের কথা কান খাড়া করে শুনছে, যেমনভাবে এগোতে বলছে, তেমনভাবেই এগোচ্ছে। নড়চড়, ভুলভাল হচ্ছে না।
ঘোড়া যায় টগবগ টগবগ। টগবগানো সেই ধ্বনি সালামের মনে শুধু আনন্দ নয়, স্বস্তিও আনে। দিন দুই আগে নিজের হাতে ঘোড়ার পায়ে নাল পরিয়েছে। অনেক সময় পেরেক ঠুকে নাল পরাতে গিয়ে বিপত্তি ঘটে। এমনকি কখনো বেলগাছিয়ার ভেটেরিনারি হাসপাতালেও নিয়ে যেতে হয়েছে। পেকে যায়, ওষুধ লাগিয়ে, ওষুধ খাইয়ে সুস্থ না করা পর্যন্ত হাঁটতে চায় না, হাঁটলেও খুঁড়িয়ে হাঁটে। সদ্য কেনা সালামের ঘোড়া পেরেকের ঠকঠকাঠক হজম করে নিয়েছে। কেমন তালে তালে, সুর তুলে সে হাঁটছে,ছুটছে! সশব্দে শুধু নয়, ছন্দে ছন্দে, স্বচ্ছন্দে।
সালাম ঘোড়ার পিছু পিছু হাঁটছিল। রাশ টানতেই থমকে দাঁড়ায়। উঠে পড়ে পিঠে। ঘোড়ার পিঠে উঠেই গতি বাড়ায়। ট্রামগুমটি পেরিয়ে শিয়ালদার ফ্লাইওভার। স্টেশনের ইলেকট্রনিক ঘড়িতে একটা পাঁচ। সালাম ঘোড়া ঘুরিয়ে ফেলে জগৎ সিনেমার দিকে। সব সময় সামনের দিকেই যেতে অভ্যস্ত ঘোড়া। চোখে ঢাকনা লাগানো থাকে। ফলে দু’পাশের কিছু দেখতে পায় না। যা দেখে, তা সোজা, বলা যায়, নাক-বরাবর।
সালাম তার ঘোড়ার পায়ে যেমন নাল লাগিয়েছে, তেমনই ঢাকনা লাগিয়েছে চোখে। কী অনুগত, সালাম বলা মাত্র তার ঘোড়া মোড় নেয়। মোড় নিয়ে আবার ছুটতে শুরু করে। এদিকে এ-মহূর্তে গাড়িটাড়ি নেই বললেই চলে। গতি বাড়িয়ে দ্রুত পৌঁছে যায় রাজাবাজারে।
রাজাবাজারে পৌঁছেই সালামের নজরে পড়ে, নতুন কেনা ঘোড়ার ট্রেনিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে সিরাজ। হেজিপেজি নয়, সিরাজ কেউকেটা লোক, দেখে, কথা বলে সালামের এমনই মনে হয়। খান আটেক ঘোড়া, খান চারেক গাড়ি। আছে মস্ত আস্তাবল। বড়ো পরিসরের সে-আস্তাবলে আট ঘোড়া আয়েশ করে থাকে। সালামদের গলিতেই সিরাজের আস্তাবল। সে অবশ্য সালামের মতো ঘুপসিঘরে থাকে না, থাকে কাঁকুরগাছির দিকে, রেলব্রিজ লাগোয়া এক ফ্ল্যাটে। সালামের সঙ্গে দেখা হলেই সিরাজ যে থমকে দাঁড়ায়, হাসে, তা নয়। আজ হাসল। ঘোড়ার দরদাম নিয়েও নানা কথা জিগ্যেস করল।
বর্ধমান-তারকেশ্বর—নানা দিকে, দিকবিদিকে সিরাজের ঘোড়ার গাড়ি নিত্যি ভাড়া যায়। যথেষ্ট পয়সাকড়ি আছে তার। সেই সিরাজ রাস্তায় দাঁড়িয়ে এ-কথা সে-কথা বলায়, গল্প করায় সালামের রীতিমতো ভালো লাগে। বড়োলোক তো গরিবদের পাত্তা দেয় না। সিরাজ আজ পাত্তা দেওয়ায়,কথা বলায় যেন এক ঝলক ফুরফুরে বাতাস বয়ে গেল।
সালাম তার ঘোড়ার পায়ে যেমন নাল লাগিয়েছে, তেমনই ঢাকনা লাগিয়েছে চোখে। কী অনুগত, সালাম বলা মাত্র তার ঘোড়া মোড় নেয়। মোড় নিয়ে আবার ছুটতে শুরু করে। এদিকে এ-মহূর্তে গাড়িটাড়ি নেই বললেই চলে। গতি বাড়িয়ে দ্রুত পৌঁছে যায় রাজাবাজারে।
রাজাবাজারে পৌঁছেই সালামের নজরে পড়ে, নতুন কেনা ঘোড়ার ট্রেনিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে সিরাজ। হেজিপেজি নয়, সিরাজ কেউকেটা লোক, দেখে, কথা বলে সালামের এমনই মনে হয়। খান আটেক ঘোড়া, খান চারেক গাড়ি। আছে মস্ত আস্তাবল। বড়ো পরিসরের সে-আস্তাবলে আট ঘোড়া আয়েশ করে থাকে। সালামদের গলিতেই সিরাজের আস্তাবল। সে অবশ্য সালামের মতো ঘুপসিঘরে থাকে না, থাকে কাঁকুরগাছির দিকে, রেলব্রিজ লাগোয়া এক ফ্ল্যাটে। সালামের সঙ্গে দেখা হলেই সিরাজ যে থমকে দাঁড়ায়, হাসে, তা নয়। আজ হাসল। ঘোড়ার দরদাম নিয়েও নানা কথা জিগ্যেস করল।
বর্ধমান-তারকেশ্বর—নানা দিকে, দিকবিদিকে সিরাজের ঘোড়ার গাড়ি নিত্যি ভাড়া যায়। যথেষ্ট পয়সাকড়ি আছে তার। সেই সিরাজ রাস্তায় দাঁড়িয়ে এ-কথা সে-কথা বলায়, গল্প করায় সালামের রীতিমতো ভালো লাগে। বড়োলোক তো গরিবদের পাত্তা দেয় না। সিরাজ আজ পাত্তা দেওয়ায়,কথা বলায় যেন এক ঝলক ফুরফুরে বাতাস বয়ে গেল।
আরও পড়ুন:

শারদীয়ার গল্প-১: কাঠ ঠোকরার বাসা

দশভুজা : আমার দুর্গা—বিজ্ঞানী রাজেশ্বরী চট্টোপাধ্যায়

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩২: কবিকন্যা মীরার স্বামী রবীন্দ্রনাথকে ভর্ৎসনা করেছিলেন

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৯: হাট্টিমা
সিরাজের ঘোড়াটা খয়েরি রঙের। সালামের মতো এমন ধপধপে দুধসাদা নয়। দুটো ডানা থাকলেই তার ঘোড়া তো পঙ্খিরাজ! নিজের ঘোড়ার জন্য সালামের বেশ গর্ব হয়। কোন গ্ৰামে বড়ো হয়েছে, কে জানে! যেভাবে সালামকে পিঠে নিয়ে টগবগিয়ে রাজাবাজার ফিরে এলো,যে কেউ দেখে বলবে, এর আবার ট্রেনিংয়ের দরকার কী! একেবারে তৈরি, চোস্ত!
সালামেরও এমন মনে হয়। রঙচঙে উজ্জ্বল, পেতলের পাতে মোড়া ঝলমলে গাড়ি এখনই জুড়ে দিলে এ-ঘোড়ার অসুবিধা হবে না। টগবগিয়েই ছুটবে। গাড়ি অবশ্য টানবে দুজনে, আরেকজন তো মসজিদ ছাড়িয়ে, দোকানপাট পেরিয়ে সরু-রোগা গলি ধরে কিছুটা যাওয়ার পর সালামের যে ঘুপসিঘর, সেখানে বাঁধা রয়েছে! এই রাতে নিশ্চিত ঘুমোচ্ছে। কে বলে ঘোড়া দাঁড়িয়ে ঘুমোয়, হাত-পা ছড়িয়ে আয়েশ করে মাটিতেই নিশ্চিত ঘুমোচ্ছে। একটা সুন্দর নাম আছে তার, খুশবু। এ-পাড়ার আলাম প্রায়ই বলে, ‘খুশবু কিউ? বদবু নেহি?’ আলামের এই রসিকতায় সালাম কিছুই মনে করে না। আলামেরও ঘোড়া আছে, গাড়ি আছে। বন্ধুজন, একই সঙ্গে বড়ো হয়েছে, একই ব্যবসায় মন দিয়েছে। বন্ধুর এমনতরো রসিকতায় হো-হো করে সালাম প্রতিবারই হেসেছে।
দোসর-হারা হয়ে খুশবু মন খারাপ করে কতদিন কাটিয়েছে। থম মেরে বসে থেকেছে। কখনো-বা এককোণে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থেকেছে। দানা খায়নি, পানি খায়নি। সালাম শুধু নয়, এ-তল্লাটের অনেকেই কম-বেশি লক্ষ করেছে, খুশবুর চোখে জল। চোখের কোণ জলে ভরা। শুধু তো খুশবু নয়, সালামও কেঁদেছে। কেঁদেছে একা-একা। কেউ হয়ত নেই আশপাশে, নির্জনে নিরালায় বেশি করে মনে পড়েছে মেহবুবকে। গলার কাছে কী যেন আটকে থেকেছে, অনুভব করেছে অব্যক্ত যন্ত্রণা। সারা দেহে খয়েরিতে কালোতে ছাপছোপ, সাদা ধপধপে পুচ্ছ। টগবগিয়ে ছুটলে দূর থেকেও দেখা যেত দুলতে থাকা সেই পুচ্ছ । কত স্মৃতি, কত ছবি। একের পর এক সব সরে সরে যায়। মেহবুবকে খুব মনে পড়ে।
সালামেরও এমন মনে হয়। রঙচঙে উজ্জ্বল, পেতলের পাতে মোড়া ঝলমলে গাড়ি এখনই জুড়ে দিলে এ-ঘোড়ার অসুবিধা হবে না। টগবগিয়েই ছুটবে। গাড়ি অবশ্য টানবে দুজনে, আরেকজন তো মসজিদ ছাড়িয়ে, দোকানপাট পেরিয়ে সরু-রোগা গলি ধরে কিছুটা যাওয়ার পর সালামের যে ঘুপসিঘর, সেখানে বাঁধা রয়েছে! এই রাতে নিশ্চিত ঘুমোচ্ছে। কে বলে ঘোড়া দাঁড়িয়ে ঘুমোয়, হাত-পা ছড়িয়ে আয়েশ করে মাটিতেই নিশ্চিত ঘুমোচ্ছে। একটা সুন্দর নাম আছে তার, খুশবু। এ-পাড়ার আলাম প্রায়ই বলে, ‘খুশবু কিউ? বদবু নেহি?’ আলামের এই রসিকতায় সালাম কিছুই মনে করে না। আলামেরও ঘোড়া আছে, গাড়ি আছে। বন্ধুজন, একই সঙ্গে বড়ো হয়েছে, একই ব্যবসায় মন দিয়েছে। বন্ধুর এমনতরো রসিকতায় হো-হো করে সালাম প্রতিবারই হেসেছে।
দোসর-হারা হয়ে খুশবু মন খারাপ করে কতদিন কাটিয়েছে। থম মেরে বসে থেকেছে। কখনো-বা এককোণে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থেকেছে। দানা খায়নি, পানি খায়নি। সালাম শুধু নয়, এ-তল্লাটের অনেকেই কম-বেশি লক্ষ করেছে, খুশবুর চোখে জল। চোখের কোণ জলে ভরা। শুধু তো খুশবু নয়, সালামও কেঁদেছে। কেঁদেছে একা-একা। কেউ হয়ত নেই আশপাশে, নির্জনে নিরালায় বেশি করে মনে পড়েছে মেহবুবকে। গলার কাছে কী যেন আটকে থেকেছে, অনুভব করেছে অব্যক্ত যন্ত্রণা। সারা দেহে খয়েরিতে কালোতে ছাপছোপ, সাদা ধপধপে পুচ্ছ। টগবগিয়ে ছুটলে দূর থেকেও দেখা যেত দুলতে থাকা সেই পুচ্ছ । কত স্মৃতি, কত ছবি। একের পর এক সব সরে সরে যায়। মেহবুবকে খুব মনে পড়ে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৪: অনুসরণ

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১১ : অরিন্দম কহিলা বিষাদে
খুশবুর সঙ্গে মেহবুবের ছিল খুব ভাবসাব। খুশবুকে দেওয়া দানা মেহবুব খেত। মেহবুবেরটা খুশবু। পাল্টাপাল্টি করে খেয়েই বুঝি তাদের আনন্দ! রাজাবাজারের ঘোড়াগাড়ি বিয়েশাদিতেই যায় বেশি। বিয়েশাদি তো আর বছরভর থাকে না, তখন দাঁড়াতে হয় ভিক্টোরিয়ার কাছে। পাঁচশো টাকায় এক চক্কর। মিনিট পনেরোর রাইড। দিনভর দাঁড়িয়ে থেকেও একটা খদ্দের জোটে নি, এমনও তো কত ঘটেছে!
খদ্দের নেই, হেস্টিংসের ঘোড়াওলাদের ঝগড়াবিবাদ আছে। ভিক্টোরিয়াতে আসা বেশিরভাগ ঘোড়াওলা হেস্টিংসের। ওরা সংঘবদ্ধ, ফলে রাজাবাজারের কেউ গেলে নানা অছিলায় ঝগড়াবিবাদ জুড়ে দেয়। গালমন্দ করে। ওসব গায়ে না মেখে সালাম ভিক্টোরিয়ার অদূরে ঠায় বসে থেকেছে কতদিন। কোনও খদ্দর এগিয়ে এলে কোথা থেকে উড়ে এসে হেস্টিংসের কেউ ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ভুজুংভাজুং দিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এভাবে খদ্দের হাতছাড়া হওয়া এখন গা-সওয়া হয়ে গেছে। এরপরও তো এক-আধজন এসে পড়ে। কী আনন্দ! সালামের মুখে জমে থাকা শ্রাবণ-মেঘ মুহূর্তে সরে যায়। কীভাবে ঘোড়ার দানা জোগাড় করবে, ছোলা জোগাড় করবে— সে-সবই ভাবতে থাকে সে। হঠাৎই ভাবনায় ছেদ পড়ে। শ্রাবণ-মেঘ সরে গেলে তার মুখে একটুকরো রোদ পড়ে। উজ্জ্বল দেখায় সালামকে।
সেই ভিক্টোরিয়াতে কতদিন যায়নি সালাম। ওকে দেখলেই নুর পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করত। নুরের ওপর বেজায় খাপ্পা ছিল সে। এখন আর নেই। সব রাগ কর্পূর হয়ে উবে গিয়েছে। মাঝে অনেকদিন যেতে পারেনি। তার না যাওয়া যে নুরকে উদ্বিগ্ন করতে পারে, সালামের ভুলেও মনে হয়নি। হঠাৎই নুরের ফোন পেয়ে,দুশ্চিন্তার কথা জানতে পেরে সব রাগ মুহূর্তে গলে জল হয়ে গিয়েছিল।
সালাম নতুন ঘোড়া দিলরুবাকে নিয়ে আস্তবলে রেখে আসে। খুশবু তখনও জেগে। দিয়ে যাওয়া দানা পড়ে রয়েছে। খায়নি। হয়তো ইচ্ছে করেই খায়নি। হয়তো দিলরুবার জন্য অপেক্ষা করছে। এই অনুমান যে মিথ্যে নয়, একটু পরেই সালাম তা বুঝতে পারে। খেতে খেতে খুশবু দিলরুবার দিকে তাকায়, দিলরুবাও তাকিয়ে থাকে খুশবুর দিকে। দু’দিনেই দু’জনে ভাবসাব হয়ে যায়।
গাড়ি নিয়ে, খুশবু ও দিলরুবাকে নিয়ে ট্রায়াল চলে একটু বেশি রাতে। রাজাবাজার-শিয়ালদা- মৌলালি ছাড়িয়ে পৌঁছে যায় সেই মল্লিকবাজারের মোড়ে। সালাম খুব খুশি। খুশবু আর দিলরুবার মধ্যে বোঝাপড়ায় কোনো ঘাটতি নেই। আর একদিন ভোরের দিকে বের হবে, তারপর ভিড়ভাট্টায়, দুপুরের দিকে। সে-ট্রায়ালেও হেসেখেলে যে দুটিতে পার হবে, সে-ব্যাপারে সালামের কোনও টেনশন নেই।
খদ্দের নেই, হেস্টিংসের ঘোড়াওলাদের ঝগড়াবিবাদ আছে। ভিক্টোরিয়াতে আসা বেশিরভাগ ঘোড়াওলা হেস্টিংসের। ওরা সংঘবদ্ধ, ফলে রাজাবাজারের কেউ গেলে নানা অছিলায় ঝগড়াবিবাদ জুড়ে দেয়। গালমন্দ করে। ওসব গায়ে না মেখে সালাম ভিক্টোরিয়ার অদূরে ঠায় বসে থেকেছে কতদিন। কোনও খদ্দর এগিয়ে এলে কোথা থেকে উড়ে এসে হেস্টিংসের কেউ ঝাঁপিয়ে পড়েছে। ভুজুংভাজুং দিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এভাবে খদ্দের হাতছাড়া হওয়া এখন গা-সওয়া হয়ে গেছে। এরপরও তো এক-আধজন এসে পড়ে। কী আনন্দ! সালামের মুখে জমে থাকা শ্রাবণ-মেঘ মুহূর্তে সরে যায়। কীভাবে ঘোড়ার দানা জোগাড় করবে, ছোলা জোগাড় করবে— সে-সবই ভাবতে থাকে সে। হঠাৎই ভাবনায় ছেদ পড়ে। শ্রাবণ-মেঘ সরে গেলে তার মুখে একটুকরো রোদ পড়ে। উজ্জ্বল দেখায় সালামকে।
সেই ভিক্টোরিয়াতে কতদিন যায়নি সালাম। ওকে দেখলেই নুর পায়ে পা দিয়ে ঝগড়া করত। নুরের ওপর বেজায় খাপ্পা ছিল সে। এখন আর নেই। সব রাগ কর্পূর হয়ে উবে গিয়েছে। মাঝে অনেকদিন যেতে পারেনি। তার না যাওয়া যে নুরকে উদ্বিগ্ন করতে পারে, সালামের ভুলেও মনে হয়নি। হঠাৎই নুরের ফোন পেয়ে,দুশ্চিন্তার কথা জানতে পেরে সব রাগ মুহূর্তে গলে জল হয়ে গিয়েছিল।
সালাম নতুন ঘোড়া দিলরুবাকে নিয়ে আস্তবলে রেখে আসে। খুশবু তখনও জেগে। দিয়ে যাওয়া দানা পড়ে রয়েছে। খায়নি। হয়তো ইচ্ছে করেই খায়নি। হয়তো দিলরুবার জন্য অপেক্ষা করছে। এই অনুমান যে মিথ্যে নয়, একটু পরেই সালাম তা বুঝতে পারে। খেতে খেতে খুশবু দিলরুবার দিকে তাকায়, দিলরুবাও তাকিয়ে থাকে খুশবুর দিকে। দু’দিনেই দু’জনে ভাবসাব হয়ে যায়।
গাড়ি নিয়ে, খুশবু ও দিলরুবাকে নিয়ে ট্রায়াল চলে একটু বেশি রাতে। রাজাবাজার-শিয়ালদা- মৌলালি ছাড়িয়ে পৌঁছে যায় সেই মল্লিকবাজারের মোড়ে। সালাম খুব খুশি। খুশবু আর দিলরুবার মধ্যে বোঝাপড়ায় কোনো ঘাটতি নেই। আর একদিন ভোরের দিকে বের হবে, তারপর ভিড়ভাট্টায়, দুপুরের দিকে। সে-ট্রায়ালেও হেসেখেলে যে দুটিতে পার হবে, সে-ব্যাপারে সালামের কোনও টেনশন নেই।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৭, অন্য পুজো: ইতিহাসের আলোকে ত্রিপুরায় দুর্গাপূজা

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩২: লৌকিকও অলৌকিকের টানাপোড়েনের বিনির্মাণ—ঋষিকবির মহাকাব্য রামায়ণ
সত্যিই তাই, সালামের ভাবনায় কোনও ভুলচুক নেই, দু’জনকে একসঙ্গে রাস্তায় নামিয়েই তা সে বুঝতে পারে। সালামের আনন্দ আর ধরে না।
সেই আনন্দ দু’দিনেই মিলিয়ে যায়। সব সঞ্চয় নিংড়ে ঘোড়া কেনার সময় সালামের বারবার মনে হয়েছিল, এবার অন্তত বউবাচ্চা নিয়ে খেয়েপরে বেঁচেবর্তে থাকা যাবে। মেহেবুব মরে যাওয়ার পর মাসখানেক কী কষ্টেই না কেটেছে!
নতুন ঘোড়া হল, গাড়িও হল, নেই শুধু সওয়ারি। বিয়েশাদি কি বন্ধ হয়ে গেল! প্রসেশনট্রসেশনেও কেউ কি ঘোড়ার গাড়িটাড়ি রাখছে না, রাজাবাজারে দাঁড়িয়ে থাকা সার সার ঘোড়ার গাড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে আপন মনেই সালাম এ-সব বলে। বিড়বিড়িয়ে বলতে থাকে, পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আনজিরও শুনতে পায় না। সালাম যে কিছু বলছে, ঠোঁট নড়ছে,তা অবশ্য আনজিরের নজর এড়িয়ে যায়না। সালামকে নিজের অসহায়তার কথা বলে। জানায় তারও তথৈবচ অবস্থা, দিন আনতে পান্তা ফুরোচ্ছে, খুব অভাব-অনটনের মধ্যে আছে। ঠিক করে নেয়, কাল থেকে ভিক্টোরিয়ার সামনে গিয়ে দাঁড়াবে। হেস্টিংসের ঘোড়াওলারা বিরক্ত হবে, হাবিজাবি কথা বলবে। সেসব গায়ে না মেখে, দাঁতে দাঁত চেপে মাটি কামড়ে লড়তে হবে। না, আনজিরকে এসব অবশ্য বলেনি। নিজের মনের কথা নিজের মনেই চেপে রেখেছে। আনজিরকে বলেছে, হ্যাঁ, সেও যাবে। এছাড়া আর কী বা করার আছে!
পরের দিন ছিল রোববার। খুব সকালেই সালামের ঘুম ভেঙে গেল। একচিলতে ঘরের জানলা দিয়ে একটুকরো আকাশ দেখা যাচ্ছে। তখনও ঝলমলে উজ্জ্বল নয়। লালের আভা ছড়ানো। অন্যদিন হলে হয়ত আলিস্যি করে আরও একটু শুয়ে থাকত। আজ আর দেরি করল না। চটপট উঠে পড়ল। ওইটুকু ছোট ঘরে তিন তিনটে ছেলেমেয়ে, এককোণে গুটিসুটি মেরে বিবি। সবাই ঘুমোচ্ছে অঘোরে। সালাম গিয়ে দাঁড়াল ছোট্ট জানলাটার কাছে। আকাশময় ছড়ানো লালের আভা দ্রুত মুছে যাচ্ছে। আবছা-ঝাপসা নয়, আলো ঠিকরে পড়ছে। আলোয় ভাসছে চারপাশ। সালামের এই ঘুপসিঘরের একটু দু্রেই ছোট্ট আস্তবল, বাঁধা রয়েছে ঘোড়া দুটো। ঘোড়ার গায়ের বোঁটকা গন্ধ নাকে এসে লাগে। অবশ্য গন্ধ না বলে দুর্গন্ধ বলাই ভালো,হোক না বোঁটকা, সালামের গা-সওয়া হয়ে গিয়েছে!
সালাম শ্যাম্পু মাখিয়ে ঘোড়া দুটোকে স্নান করালো। ছোলা খাওয়ালো। খুশবু ও দিলরুবা দুজনেই খুব খুশি। একসঙ্গে ডেকে উঠল। সালামের মনে হল নিজেদের ভাষায় কথা বলছে তারা। তাদের ভাষা, কথা-বলা তো আর সালাম বোঝেনা! সালাম না বুঝলেও তারা অবশ্য বোঝে। কিছু বললে, কেমন কান খাড়া করে খুশবু শোনে, দিলরুবা শোনে। থামতে বললে থামে, ছুটতে বললে ছোটে। সালাম দুজনেরই মাথায়, গায়ে হাত বুলিয়ে দেয়। কী খুশি, পারলে তার গায়ের সঙ্গে লেপ্টে যায়।
সেই আনন্দ দু’দিনেই মিলিয়ে যায়। সব সঞ্চয় নিংড়ে ঘোড়া কেনার সময় সালামের বারবার মনে হয়েছিল, এবার অন্তত বউবাচ্চা নিয়ে খেয়েপরে বেঁচেবর্তে থাকা যাবে। মেহেবুব মরে যাওয়ার পর মাসখানেক কী কষ্টেই না কেটেছে!
নতুন ঘোড়া হল, গাড়িও হল, নেই শুধু সওয়ারি। বিয়েশাদি কি বন্ধ হয়ে গেল! প্রসেশনট্রসেশনেও কেউ কি ঘোড়ার গাড়িটাড়ি রাখছে না, রাজাবাজারে দাঁড়িয়ে থাকা সার সার ঘোড়ার গাড়িগুলোর দিকে তাকিয়ে আপন মনেই সালাম এ-সব বলে। বিড়বিড়িয়ে বলতে থাকে, পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আনজিরও শুনতে পায় না। সালাম যে কিছু বলছে, ঠোঁট নড়ছে,তা অবশ্য আনজিরের নজর এড়িয়ে যায়না। সালামকে নিজের অসহায়তার কথা বলে। জানায় তারও তথৈবচ অবস্থা, দিন আনতে পান্তা ফুরোচ্ছে, খুব অভাব-অনটনের মধ্যে আছে। ঠিক করে নেয়, কাল থেকে ভিক্টোরিয়ার সামনে গিয়ে দাঁড়াবে। হেস্টিংসের ঘোড়াওলারা বিরক্ত হবে, হাবিজাবি কথা বলবে। সেসব গায়ে না মেখে, দাঁতে দাঁত চেপে মাটি কামড়ে লড়তে হবে। না, আনজিরকে এসব অবশ্য বলেনি। নিজের মনের কথা নিজের মনেই চেপে রেখেছে। আনজিরকে বলেছে, হ্যাঁ, সেও যাবে। এছাড়া আর কী বা করার আছে!
পরের দিন ছিল রোববার। খুব সকালেই সালামের ঘুম ভেঙে গেল। একচিলতে ঘরের জানলা দিয়ে একটুকরো আকাশ দেখা যাচ্ছে। তখনও ঝলমলে উজ্জ্বল নয়। লালের আভা ছড়ানো। অন্যদিন হলে হয়ত আলিস্যি করে আরও একটু শুয়ে থাকত। আজ আর দেরি করল না। চটপট উঠে পড়ল। ওইটুকু ছোট ঘরে তিন তিনটে ছেলেমেয়ে, এককোণে গুটিসুটি মেরে বিবি। সবাই ঘুমোচ্ছে অঘোরে। সালাম গিয়ে দাঁড়াল ছোট্ট জানলাটার কাছে। আকাশময় ছড়ানো লালের আভা দ্রুত মুছে যাচ্ছে। আবছা-ঝাপসা নয়, আলো ঠিকরে পড়ছে। আলোয় ভাসছে চারপাশ। সালামের এই ঘুপসিঘরের একটু দু্রেই ছোট্ট আস্তবল, বাঁধা রয়েছে ঘোড়া দুটো। ঘোড়ার গায়ের বোঁটকা গন্ধ নাকে এসে লাগে। অবশ্য গন্ধ না বলে দুর্গন্ধ বলাই ভালো,হোক না বোঁটকা, সালামের গা-সওয়া হয়ে গিয়েছে!
সালাম শ্যাম্পু মাখিয়ে ঘোড়া দুটোকে স্নান করালো। ছোলা খাওয়ালো। খুশবু ও দিলরুবা দুজনেই খুব খুশি। একসঙ্গে ডেকে উঠল। সালামের মনে হল নিজেদের ভাষায় কথা বলছে তারা। তাদের ভাষা, কথা-বলা তো আর সালাম বোঝেনা! সালাম না বুঝলেও তারা অবশ্য বোঝে। কিছু বললে, কেমন কান খাড়া করে খুশবু শোনে, দিলরুবা শোনে। থামতে বললে থামে, ছুটতে বললে ছোটে। সালাম দুজনেরই মাথায়, গায়ে হাত বুলিয়ে দেয়। কী খুশি, পারলে তার গায়ের সঙ্গে লেপ্টে যায়।
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
সালাম ঘোড়ার স্নান-পর্ব মিটিয়ে মোড়ের মাথায় যায়। গলির মুখে আনজিরের সঙ্গে দেখা। সেও ঘোড়া নিয়ে আজ ভিক্টোরিয়া যাবে। রাস্তায় পরপর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে সিরাজের ঘোড়া। সামনে সিরাজও। সালাম-আনজিররা খদ্দের পায় না।অথচ সিরাজের অভাব নেই। সামনের শনিবার পাণ্ডুয়ায় যেতে হবে। অ্যাডভান্স দিতে এসে সাদা আলিগড়ির সঙ্গে কালো পাঞ্জাবি পরে আসা লোকটা জোর দরাদরি করছে। সেসব কানে আসে সালামের। কেমন যেন মন খারাপ হয়ে যায়। একটু আগেই সে ভিক্টোরিয়ায় যেতে চায়। দেরি করলে যদি জায়গা না মেলে। আশঙ্কা-আতঙ্ক তো সারাক্ষণই তাড়া করছে। তাই পায় পায় ফিরে যাচ্ছিল বাড়ির দিকে, ঠিক তখনই নজরে পড়ে, বড় ছেলে মজিদ হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসছে। দূর থেকেই আব্বাজানকে জানায়, খুশবু কী করছে! ওর বোধহয় শরীর খারাপ। ছেলের কথা তখনো শেষ হয়নি। সালাম প্রায় দৌড়ে গলিপথ ধরে সোজা খুশবুর কাছে পৌঁছতে চায়।
দ্রত পৌঁছেও কী হয়েছে, হঠাৎ কেন খুশবু এরকম করছে, কিছুই বুঝতে পারল না সালাম। একরাশ বমি করেছে, গোঙাচ্ছে। দিলরুবা পাশেই দাঁড়িয়ে, কেমন অসহায়, ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে খুশবুকে দেখছে। মুহূর্তের মধ্যে মহল্লার আরও কেউ কেউ এসে পড়ে। সবার মুখেই এক কথা, এখুনি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দরকার। আখতার বেলগাছিয়ার ভেটেরিনারি হাসপাতালের এক ডাক্তারকে ফোন করে সব জানায়। ডাক্তারটি তার চেনা। ঘোড়ার ছোটখাটো অসুখবিসুখ হলে, ‘কল’ দিলে চলে আসেন। বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য। সেই ডাক্তারবাবুও হাসপাতালে নিয়ে আসার কথা বলেন। আশ্বস্ত করেন অন ডিউটিতে রয়েছেন, নিয়ে এলে কোন অসুবিধা হবে না। তখনই ট্রিটমেন্ট শুরু হয়ে যাবে।
সালাম কখন কপাল চাপড়ে মাটিতেই বসে পড়েছে। কোথায় ভিক্টোরিয়া, কোথায় বিয়েশাদির আনন্দ-জৌলুস! সব ধুয়ে মুছে হারিয়ে, মিলিয়ে গেছে। মনে হয়, খুশবুর নয়, বড় ছেলে মজিদের কিছু হয়েছে। মহরম-রাতে শোকযাত্রায় যেভাবে বুক চাপড়ায়, তেমনভাবে বুক চাপড়ে শব্দ করে সালাম কেঁদে ওঠে। জড়ো হওয়া পাড়া-প্রতিবেশীরা তাকে বোঝাতে বোঝাতে ম্যাটাডোর এসে যায়।
ড্রাইভারের পাশে বসে মণিরুল লাল কাপড় নাড়তে থাকে। দিলরুবা যে গতিতে ছোটে, সে গতিতেই বুঝি ম্যাটাডোরও ছুটতে থাকে। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর অতি দ্রুত চিকিৎসা শুরু হয়ে যায়। পেসেন্টকে নিয়ে যায় ভেতরে। বাইরে উদ্বিগ্ন হয়ে থাকা পাড়া-প্রতিবেশী, সালামের প্রিয়জন। আখতার যাঁকে ফোন করেছিলেন,যিনি রাজাবাজারে ঘোড়ার চিকিৎসা করতে অনেকবারই গিয়েছেন, সেই ডাক্তারবাবুটি এসে সালামের মাথায় হাত রাখেন। ‘কোনo ভয় নেই, তোমার ঘোড়া সুস্থ হয়ে উঠবে’, আশ্বস্ত করেন, চোখে মুখে প্রত্যয় খেলে যায়।
সালাম দুচোখ ভরা জল নিয়ে মাটিতেই বসেছিল। এবার শিশুর মতো কেঁদে ওঠে।
দ্রত পৌঁছেও কী হয়েছে, হঠাৎ কেন খুশবু এরকম করছে, কিছুই বুঝতে পারল না সালাম। একরাশ বমি করেছে, গোঙাচ্ছে। দিলরুবা পাশেই দাঁড়িয়ে, কেমন অসহায়, ফ্যালফ্যাল দৃষ্টিতে খুশবুকে দেখছে। মুহূর্তের মধ্যে মহল্লার আরও কেউ কেউ এসে পড়ে। সবার মুখেই এক কথা, এখুনি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া দরকার। আখতার বেলগাছিয়ার ভেটেরিনারি হাসপাতালের এক ডাক্তারকে ফোন করে সব জানায়। ডাক্তারটি তার চেনা। ঘোড়ার ছোটখাটো অসুখবিসুখ হলে, ‘কল’ দিলে চলে আসেন। বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য। সেই ডাক্তারবাবুও হাসপাতালে নিয়ে আসার কথা বলেন। আশ্বস্ত করেন অন ডিউটিতে রয়েছেন, নিয়ে এলে কোন অসুবিধা হবে না। তখনই ট্রিটমেন্ট শুরু হয়ে যাবে।
সালাম কখন কপাল চাপড়ে মাটিতেই বসে পড়েছে। কোথায় ভিক্টোরিয়া, কোথায় বিয়েশাদির আনন্দ-জৌলুস! সব ধুয়ে মুছে হারিয়ে, মিলিয়ে গেছে। মনে হয়, খুশবুর নয়, বড় ছেলে মজিদের কিছু হয়েছে। মহরম-রাতে শোকযাত্রায় যেভাবে বুক চাপড়ায়, তেমনভাবে বুক চাপড়ে শব্দ করে সালাম কেঁদে ওঠে। জড়ো হওয়া পাড়া-প্রতিবেশীরা তাকে বোঝাতে বোঝাতে ম্যাটাডোর এসে যায়।
ড্রাইভারের পাশে বসে মণিরুল লাল কাপড় নাড়তে থাকে। দিলরুবা যে গতিতে ছোটে, সে গতিতেই বুঝি ম্যাটাডোরও ছুটতে থাকে। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর অতি দ্রুত চিকিৎসা শুরু হয়ে যায়। পেসেন্টকে নিয়ে যায় ভেতরে। বাইরে উদ্বিগ্ন হয়ে থাকা পাড়া-প্রতিবেশী, সালামের প্রিয়জন। আখতার যাঁকে ফোন করেছিলেন,যিনি রাজাবাজারে ঘোড়ার চিকিৎসা করতে অনেকবারই গিয়েছেন, সেই ডাক্তারবাবুটি এসে সালামের মাথায় হাত রাখেন। ‘কোনo ভয় নেই, তোমার ঘোড়া সুস্থ হয়ে উঠবে’, আশ্বস্ত করেন, চোখে মুখে প্রত্যয় খেলে যায়।
সালাম দুচোখ ভরা জল নিয়ে মাটিতেই বসেছিল। এবার শিশুর মতো কেঁদে ওঠে।
* গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি (Tagore Stories – Rabindranath Tagore) : পার্থজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Parthajit Gangopadhyay) অবনীন্দ্রনাথের শিশুসাহিত্যে ডক্টরেট। বাংলা ছড়ার বিবর্তন নিয়ে গবেষণা, ডি-লিট অর্জন। শিশুসাহিত্য নিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে গবেষণা করে চলেছেন। বাংলা সাহিত্যের বহু হারানো সম্পদ পুনরুদ্ধার করেছেন। ছোটদের জন্য পঞ্চাশটিরও বেশি বই লিখেছেন। সম্পাদিত বই একশোরও বেশি।
















