
অধ্যাপক গাউল্ড ডাও ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে।
বয়স তখন ৮৫, তাঁর শরীর অশক্ত হলেও মন নয়। বরাবর বেশি মাত্রায় স্বাধীনতাপ্রিয় এবং সদাসর্বদা প্রাণশক্তিতে ভরপুর অধ্যাপিকা ও দেশের বিশিষ্ট বৈজ্ঞানিক রাজেশ্বরী চট্টোপাধ্যায় সারাজীবন যা করতে চেয়েছিলেন তাই করেছিলেন, কোনও বাধা তাঁর কাছে বাধা ছিল না, আর তাই অশীতিপর তিনি ২০০৭ সালে শতাধিক প্রাচীন তাঁর কর্মক্ষেত্রের (ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স) প্রয়োজনীয় ও অত্যন্ত জরুরি কাগজপত্রের সংরক্ষণ, প্রাক্তনীদের নিয়ে গ্রন্থসংকলন থেকে স্মারকলিপি প্রস্তুতে ছিলেন অগ্রগণ্য। আমৃত্যু করে গিয়েছিলেন সেই কাজ।
দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর শঙ্কর মাত্ত রোডের বাড়িতে ২৪ জানুয়ারি ১৯২২ সালে তাঁর জন্ম হয়। বারো বছর বয়সে স্কুল থেকে রাজেশ্বরী ও তাঁর বন্ধুদের প্রথম ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের (IISC) পার্কের মতো ক্যাম্পাসে বেড়াতে নিয়ে যাওয়া হয়। সারাদিন প্রজাপতির মতো উড়ে বেরিয়ে তাঁরা সেদিন এক মধ্য বয়সী মহিলার দেওয়া দক্ষিণ ভারতীয় হালকা কিছু খাবার খেয়েছিলেন, খুব যত্ন করে কলাপাতায় তিনি তাদের খাইয়েছিলেন। বাড়ি ফেরার পথে শিক্ষিকার মুখে রাজেশ্বরী শুনেছিলেন সেই মহিলা ছিলেন জগদ্বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক ও নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সিভি রমনের স্ত্রী লোকসুন্দরী রমন। তখন এসবের কিছু না বুঝলেও অদৃষ্ট তাঁর ভাগ্যকে আইআইএসসি, বেঙ্গালুরুর সঙ্গে যেন বেঁধে দিচ্ছিলেন।
আরও পড়ুন:

পৃথিবীর সর্বোচ্চ একক আর্চ ব্রিজের নির্মাণে বিনয়ী এক অধ্যাপিকা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৩: এ কে? এ কে গো?

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩২: কবিকন্যা মীরার স্বামী রবীন্দ্রনাথকে ভর্ৎসনা করেছিলেন

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৬: এক উপেক্ষিতা রাজকন্যার কথা
যদিও ভারতবর্ষের ইতিহাসে সেই সময় নারীদের জন্য খুব প্রশস্ত ছিল না, পারিবারিক পরিসরে সামাজিক রীতি, রেওয়াজ, বন্ধন মেনে চলাই ছিল নিয়ম। যদিও সেই নিয়ম খুব একটা খাটতো না তাঁদের পরিবারের ক্ষেত্রে। পরাধীনতার গ্লানি গায়ে মেখে, ‘বেটি পড়াও’ স্লোগান ছাড়াই রাজেশ্বরীর ঠাকুরমা কমলাম্মা দাসাপ্পা ছিলেন সেই সময়ের মহীশূরের প্রথম মহিলা গ্রাজুয়েট। তিনি ছিলেন অন্য ধাতুতে গড়া, সেই প্রাক-স্বাধীনতা যুগে নারী কল্যাণে ব্রতী মানুষটির লক্ষ্য ছিল অকালে বিধবা এবং স্বামী পরিত্যক্তাদের সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা, তাঁর দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ‘লন্ডন মিশন স্কুলে’ ছোট রাজেশ্বরীকে ভর্তি করে দেওয়া হয়।

বন্ধুদের সঙ্গে।
স্কুলের পাঠ শেষ করে ১৯৩৭ সালে তিনি বেঙ্গালুরুরর উইমেন্স ইন্টারমিডিয়েট কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৩৯ সালে মহীশূর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় পদার্থবিদ্যা, গণিত এবং অর্থনীতি-সহ প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় হন। এরপর সেন্ট্রাল কলেজ থেকে ১৯৪২ সালে গণিত বিষয়ে স্নাতক এবং মহীশূর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৪৩-এ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। উভয় পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। ভারত ছাড়ো আন্দোলনের আগুনের আঁচ তখনও নেভেনি। সশস্ত্র বিপ্লবীরা আরও তীব্র আন্দোলনের জন্য তৈরি হচ্ছেন, একমাত্র লক্ষ্য ছিল দেশের স্বাধীনতা।
ওদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজছিল। জাপান ইন্দো-চিন, মালয়েশিয়া, বার্মা জয় করার পর ভারতে অনুপ্রবেশের প্রস্তুতির পাশাপাশি ইম্পেরিয়াল জাপানিজ আর্মি এয়ারফোর্স ১৯৪২ থেকে ১৯৪৪ সালের মধ্যে কলকাতা ও বিশাখাপত্তনমে বেশ কয়েকবার বোমা হামলা করেছিল। এমতাবস্থায় ইংল্যান্ড অথবা আমেরিকায় গিয়ে তাঁর উচ্চশিক্ষার মূলত পিএইচডির বাসনা যতই থাকুক, সেই বাসনা সেইসময় তাঁকে ত্যাগ করতে হয়েছিল। যদিও আইআইএসসির দরজা তাঁর সামনে খোলা ছিল। কিন্তু, কোথায় গণিত বিভাগ! অগত্যা রাজেশ্বরী সাহসে ভর করে গেলেন স্যার সিভি রমনের কাছে, গণিতের ছাত্রীকে তিনি নিলেন না, জানালেন পদার্থবিদ্যায় কৃতবিদ্য ছাড়া তিনি কাউকে উচ্চতর গবেষণার কাজে নিচ্ছেন না। আইআইএসসির ভিতরে অন্য খবর ছড়ালো যে অধ্যাপক রমন বিভাগে ছাত্রী গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক।
ওদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের দামামা বাজছিল। জাপান ইন্দো-চিন, মালয়েশিয়া, বার্মা জয় করার পর ভারতে অনুপ্রবেশের প্রস্তুতির পাশাপাশি ইম্পেরিয়াল জাপানিজ আর্মি এয়ারফোর্স ১৯৪২ থেকে ১৯৪৪ সালের মধ্যে কলকাতা ও বিশাখাপত্তনমে বেশ কয়েকবার বোমা হামলা করেছিল। এমতাবস্থায় ইংল্যান্ড অথবা আমেরিকায় গিয়ে তাঁর উচ্চশিক্ষার মূলত পিএইচডির বাসনা যতই থাকুক, সেই বাসনা সেইসময় তাঁকে ত্যাগ করতে হয়েছিল। যদিও আইআইএসসির দরজা তাঁর সামনে খোলা ছিল। কিন্তু, কোথায় গণিত বিভাগ! অগত্যা রাজেশ্বরী সাহসে ভর করে গেলেন স্যার সিভি রমনের কাছে, গণিতের ছাত্রীকে তিনি নিলেন না, জানালেন পদার্থবিদ্যায় কৃতবিদ্য ছাড়া তিনি কাউকে উচ্চতর গবেষণার কাজে নিচ্ছেন না। আইআইএসসির ভিতরে অন্য খবর ছড়ালো যে অধ্যাপক রমন বিভাগে ছাত্রী গ্রহণ করতে অনিচ্ছুক।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৮: ছোট বাবুইবাটান

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১১ : অরিন্দম কহিলা বিষাদে
থেমে যাওয়ার পাত্রী তিনি কোনও দিনও ছিলেন না। গণিত বিষয়ে গবেষণা তাঁকে করতেই হতো। গণিতে পিএইচডি করার ব্যবস্থা সেই সময় বেঙ্গালুরুতে বিশেষ ছিল না, বরং তখন গণিতের পীঠস্থান ছিল কলকাতা। সেখানে রাজেশ্বরী অনায়াসেই পেয়ে যেতেন তাঁর রিসার্চ গাইড, কিন্তু পারিবারিক বিধিনিষেধের কারণে তাঁর পক্ষে কলকাতা যাওয়া সম্ভব হল না, অমন আলোকপ্রাপ্ত পরিবারও নিজেদের মেয়েকে বাইরে পড়তে যেতে দেয়নি। এই সময় সম্পর্কে পরে তিনি অনুশোচনা করে বলেছিলেন আমি ছেলে হলে আমাকে এই বাধার সম্মুখীন হতে হতো না।

ল্যাবে কর্মরত।
আক্ষেপ নিয়ে বসে থাকার পাত্রী তিনি ছিলেন না, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি বিভাগে তিন বছরের সার্টিফিকেট কোর্সে তিনি যোগাদান করা মনস্থ করেন। বিধি সেখানেও বাম, সেই বিভাগের তৎকালীন প্রধান অধ্যাপক এসপি চক্রবর্তী রাজেশ্বরীর পড়াশোনার প্রশংসা করলেও একজন মহিলা হিসেবে তাঁকে এই কোর্সে যোগদান করতে বারণ করলেন কারণ প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিংয়ের সময় তাঁর পক্ষে একা কলকাতা বা জামশেদপুর যাওয়া সম্ভব হবে না। বেঙ্গালুরুতে তখন ইন্ডাস্ট্রি বলতে শুধু হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স কিন্তু তারা তখনও ট্রেনি ছাত্রছাত্রী নিতে শুরু করেনি।
সার্টিফিকেট কোর্সের বদলে তিনি অধ্যাপক চক্রবর্তীর কথা মতো তাঁর ল্যাবে রিসার্চার হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে কিছু ইলেকট্রনিক্স এবং ইলেকট্রিক্যাল কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাঠ নিয়ে কয়েকটি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ লেখেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে সেই সব গবেষণা তাঁর বিদেশ যাত্রার পথকে সুগম করেছিল। ১৯৪৪ সালের সেইসব আলোচনায় বাদ যায়নি ভ্যাকুয়াম টিউবস, ইলেক্ট্রো-অ্যাকোস্টিকস এবং লাইন কমিউনিকেশনের মতো জটিল বিষয়।
সার্টিফিকেট কোর্সের বদলে তিনি অধ্যাপক চক্রবর্তীর কথা মতো তাঁর ল্যাবে রিসার্চার হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে কিছু ইলেকট্রনিক্স এবং ইলেকট্রিক্যাল কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাঠ নিয়ে কয়েকটি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ লেখেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে সেই সব গবেষণা তাঁর বিদেশ যাত্রার পথকে সুগম করেছিল। ১৯৪৪ সালের সেইসব আলোচনায় বাদ যায়নি ভ্যাকুয়াম টিউবস, ইলেক্ট্রো-অ্যাকোস্টিকস এবং লাইন কমিউনিকেশনের মতো জটিল বিষয়।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩২: লৌকিকও অলৌকিকের টানাপোড়েনের বিনির্মাণ—ঋষিকবির মহাকাব্য রামায়ণ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার (১৯৪৫) প্রায় সঙ্গে সঙ্গে ভারত সরকার দেশের উচ্চমেধাসম্পন্নদের স্কলারশিপ দিয়ে বিদেশে পাঠাচ্ছিলেন উচ্চশিক্ষার জন্য, শর্ত ছিল দেশে ফিরে তিন বছর দেশের কাজে, উন্নতিতে ব্রতী হতে হবে। অদম্য জেদ, প্রত্যয় ও স্কলারশিপের ভরসায় রাজেশ্বরী চলে গেলেন আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ে। খুব সহজ ছিল না সেই যাপন। আদ্যন্ত দক্ষিণভারতীয় পরিবেশে মানুষ হওয়া তিনি হঠাৎ অনেকটা এগিয়ে যাওয়া, মুক্ত পৃথিবীতে যেন গিয়ে পড়লেন। সেই একা যাপনের দিনগুলোতে সাহচর্য পেলেন বন্ধু পার্বতী সুব্রহ্মণ্যম এবং মাতৃসমা ক্যারল উডস্-এর। ক্রমশ ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতকোত্তর (১৯৪৯) এবং ১৯৫৪ সালে ভ্যাকুয়াম টিউব ট্রিগার সার্কিট যা ছিল প্রথম দিকের কম্পিউটারের মূল ভিত্তি, সেই বিষয়ে গবেষণা করে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছিলেন, পর্যবেক্ষক হিসেবে পেয়েছিলেন বিখ্যাত অধ্যাপক উইলিয়াম গাউল্ড ডাওকে।

প্রথম জীবনে রাজেশ্বরী।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসিদ্ধ অধ্যাপক ডাও ছিলেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, স্পেস রিসার্চ, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ও নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পথিকৃৎ এবং রাডার জ্যামিংয়ের আবিষ্কর্তা। প্রায় এক দশক পরে (১৯৫৩) দেশে ফিরে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্সের ইলেকট্রিক্যাল কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে (ECE) প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তিনি যোগদান করেন। সেই বছরই আইআইএসসির(IISC) অপর বৈজ্ঞানিক ও অধ্যাপক শিশিরকুমার চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে পরিণয়ে আবদ্ধ হওয়ার পর তিনি সর্বত্র রাজেশ্বরী চট্টোপাধ্যায় হিসেবে পরিচিত হন। বিবাহ পরবর্তী সময়ে চট্টোপাধ্যায় দম্পতি দেশজ সম্পদের উপর নির্ভর করে দেশের প্রথম মাইক্রোওয়েভ ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ ল্যাবের নির্মাণ করেন। ১৯৬০ এর দশকে তাঁরা মাইক্রোওয়েভ টেকনোলজি এবং স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনের উপর কোর্সও চালু করেন।
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
কর্মরত অবস্থায় তাঁর সাতটি প্রযুক্তিমূলক বই বেরোয় এবং ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে সেইসব বই খুব সাড়া ফেলে। প্রফেসর পদে উন্নীত হওয়ার পর তিনি ইলেকট্রিক্যাল কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভামুখ্য নির্বাচিত হন। বিভাগে দীর্ঘদিন পড়িয়েছিলেন ইলেকট্রোম্যাগনেটিক থিওরি, গভীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছিলেন ইলেকট্রন টিউব সার্কিট এবং মাইক্রোওয়েভ টেকনোলজি বিষয়ে। কুড়িজন পিএইচডির ছাত্রের দিকদর্শন, শতাধিক গবেষণাধর্মী লেখালেখি এবং মাইক্রোওয়েভ ইঞ্জিনিয়ারিং ও অ্যান্টেনা প্রযুক্তির উপর তাঁর সাতটি বই স্বাধীনোত্তর বিজ্ঞান সাধনায় সুদিন নিয়ে আসে। তাঁর এই অবদানের জন্য তিনি প্রচুর পুরস্কার পান এবং ১৯৮২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর গ্রহণ করলেও আমৃত্যু সেই বিজ্ঞানের সাধক নিজস্ব সাধনা করে যান, সামাজিক উন্নতিকল্পে আরও বেশি করে এগিয়ে যান, যুক্ত হন ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর উইমেন্স স্টাডিজের সঙ্গে; জাতপাত, লিঙ্গবৈষম্য, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন।

কলকাতার বিড়লা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়ামের ভিতরে রাজেশ্বরী চট্টোপাধ্যায়ের স্ট্যাচু।
রাজেশ্বরী চট্টোপাধ্যায়ের একমাত্র সন্তান অধ্যাপিকা ইন্দিরা চট্টোপাধ্যায় পিতা-মাতার স্মরণে জানিয়েছিলেন যে, তাঁরা শুধু অধ্যাপক-অধ্যাপিকা এবং স্বনামধন্য বৈজ্ঞানিক ছিলেন না, ছিলেন ব্যতিক্রমী শিক্ষক, শিক্ষিকা যাঁরা ছাত্রছাত্রীদের প্রতি সবসময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন, সেটা পেশাগত হোক কিংবা ব্যক্তিগত। বাড়িতে তাঁদের আনাগোনা লেগেই থাকত। ছাত্রছাত্রীদের প্রতি তাঁদের সত্যিকারের মমত্ববোধের কারণে রাজেশ্বরী ও শিশির চট্টোপাধ্যায় হয়ে উঠেছিলেন তাঁদের ‘মা-চা’ ও ‘পা-চা’, অর্থাৎ ‘মামা চ্যাটার্জী’ এবং ‘পাপা চ্যাটার্জী’।
তাঁর স্বনামধন্য ছাত্ররা হলেন টিএস বেদবতী, আনন্দ কুমার, আরপি শেনয়, কেজি নারায়ণন। নিজেকে ‘প্রযুক্তিবিদ্যার বৈজ্ঞানিক’ সম্বোধনে অভ্যস্ত সেই মহিয়সী ২০১০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বার্ধক্যজনিত কারণে লোকান্তরিত হন এবং রেখে যান বিজ্ঞান সাধনার সেই ধারা যা ভারতীয় মহিলা ইঞ্জিনিয়ারদের কাজের মধ্য দিয়ে অমর হয়ে আছে, থাকবে।
তাঁর স্বনামধন্য ছাত্ররা হলেন টিএস বেদবতী, আনন্দ কুমার, আরপি শেনয়, কেজি নারায়ণন। নিজেকে ‘প্রযুক্তিবিদ্যার বৈজ্ঞানিক’ সম্বোধনে অভ্যস্ত সেই মহিয়সী ২০১০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বার্ধক্যজনিত কারণে লোকান্তরিত হন এবং রেখে যান বিজ্ঞান সাধনার সেই ধারা যা ভারতীয় মহিলা ইঞ্জিনিয়ারদের কাজের মধ্য দিয়ে অমর হয়ে আছে, থাকবে।
* ড. বিদিশা মিশ্র বিগত ষোলো বছর ধরে সরকারি কলেজে, বর্তমানে কলকাতার লেডি ব্রেবোর্ন কলেজে অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর বিষয়— সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্য। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃতী ছাত্রী বিদিশা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উভয় পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় হন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল —বাঙালি নৈয়ায়িক চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের গ্রন্থ ‘কাব্যবিলাস’। তাঁর এই গবেষণা ২০২১ সালে কর্ণাটকের আইএনএসসি পাবলিশিং হাউস থেকে ‘দ্য কাব্যবিলাস অফ চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য — এ ক্রিটিক্যাল স্টাডি’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রদেশের পত্রিকায় তাঁর শোধপত্রগুলি প্রকাশিত হয়েছে। বর্তমানে তাঁর তত্ত্বাবধানে একাধিক স্কলার গবেষণার কাজ শেষ করেছেন। বিভিন্ন সরকারি কাজকর্ম ও অধ্যাপনার পাশাপাশি তিনি গুরুজি বিপ্লব মুখোপাধ্যায়ের কাছে হিন্দুস্থানি ক্লাসিক্যাল শিক্ষারতা। ভ্রমণপিপাসু বিদিশা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান ঘুরেছেন, সেইসব অভিজ্ঞতা তাঁকে সমৃদ্ধ করেছে বলে তিনি মনে করেন।


















