
বড় রাস্তার মোড়ে এবার অনেকগুলো দোকান। বৌদির স্মার্ট বিরিয়ানি, জলি পান সেন্টার, সেন্টুর কাবাব, মামার চা, গোপালের লস্যি, ফণীর মটকা, ভোঁদার মোমোর পাশেই পলাশের “হটস্পট”, রোলের দোকান। সব রকমের রোল-চাউমিনের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান, ওয়ান স্টপ সলিউশন। ভেজ রোল, এগ রোল, ডবল এগ, এগ-চিকেন, চিকেন-মটন, মটন-এগ, পনির, ফিশ টিকিয়া, ফিউশন ইত্যাদিতে ভরা সংসার। কেবল রোল, চাউ, হাক্কা নুডলস। পিউ বলেছিল, ভেজ চপ, মটন কাবাব, ফিস ফিঙ্গার, চিকেন কাটলেট এইসবের কাটতি অনেক, রাখতে হবে। পুজোর সময় লোকজন টানতে গেলে বিরিয়ানি মোমোর বাজারে ফ্রাই-টাই না রাখলে চলে না। পলাশ অতো পারবে না। সারাবছর ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ানো লোকজন ছ-সাতদিনের জন্য খুন্তি ধরেছে অনেক দায়ে পড়ে। নাহলে পিঠের ছাল গোটানোয় হাত পাকিয়ে এখন রোল গোটানো! পলাশ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।
পলাশ গুণ্ডা নয়। কিন্তু ফুটবল মাঠের গণ্ডগোল থেকে ভাড়াটে, জবরদখল করা লোকজন সরানো, টাইট দিতে পলাশদের ডাক পড়ে। এতে কারোর ভালো, তো কারোর খারাপ। লোকে গুণ্ডা বলে, কেউ কেউ আরেকটু এগিয়ে মাস্তান টাস্তান বলে বটে, কিন্তু পলাশ এসবে থাকতে চায় না। কিছু টাকা জমলে একটা ছোট ব্যবসা, কিংবা অটো… পিউ স্টার্ট আপ না কীসব বলে, কিন্তু পলাশ অতশত জানে না।সে শুধু জানে, একটু পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে পারলে একদিন পিউকে চমকে দেবে। এক বাণ্ডিল লাল, হলুদ গোলাপ ধরিয়ে প্রপোজ করে দেবে। কী বলবে তা এখনও ঠিক করেনি যদিও, তবুও ওসব কোনও ব্যাপার নয়, ক্লাস সেভেনের বিদ্যেতেই ওসব হয়ে যায়, সেখানে পলাশ ক্লাস ইলেভেন। আর পিউ কলেজ পাশ। তাতে প্রেম আটকায়নি। পিউ বলেছিল, আমার বাড়িতে তোমাকে মানবে না, তুমি একটা গুণ্ডা। জামাই পাড়ায় পাড়ায় মারপিট করে জানলে বাবা মার সম্মান বাড়বে নাকি?
জামাই? কার জামাই? পিউ এতদূর ভেবে ফেলেছে দেখে পলাশ খানিক বিষম খায়। সে তো প্রপোজটাও করে উঠতে পারলো না। তার কাজকর্ম, প্রেম কিছুই সিরিয়াস নয়, টাইমপাশ। পিউকে দেখতে পলাশের ভালো লাগে। মেয়েটার চোখদুটোর মধ্যে কিছু একটা আছে, যার টানে টানেই অকাল বসন্ত নামে বিকালগুলোয়। পিউ আবদার করে, রোল খাবো। পলাশ পকেটে হাত ঢোকায়। ততক্ষণে পিউ অর্ডার করে দিয়েছে দুটো রোল। তার মানে তো সত্তর আশি টাকার ধাক্কা। টুকটুকে লাল সস দিতে দিতে রোলদাদা জানতে চায়, মির্চি? পলাশ হ্যাঁ, না কী যে বলে বোঝে না। রোলে কামড় দিয়ে ঝালে ঝালে অস্থির। পিউ খিলখিল করে হেসে বলে, তুমি ঝাল খেতে পারো না, কেমন পুরুষ মানুষ? তুমি চোখ রাঙালে লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালায়? ঢপ দেওয়ার আর জায়গা পাওনি! যত্তোসব, রাগে দাঁত কিড়মিড় করতে করতে একটা চিটচিটে একশোর নোট বাড়িয়ে ধরে পলাশ। রোলদাদা হেসে জানায়, দিদিমনি দিয়ে দিয়েছে।
পলাশ গুণ্ডা নয়। কিন্তু ফুটবল মাঠের গণ্ডগোল থেকে ভাড়াটে, জবরদখল করা লোকজন সরানো, টাইট দিতে পলাশদের ডাক পড়ে। এতে কারোর ভালো, তো কারোর খারাপ। লোকে গুণ্ডা বলে, কেউ কেউ আরেকটু এগিয়ে মাস্তান টাস্তান বলে বটে, কিন্তু পলাশ এসবে থাকতে চায় না। কিছু টাকা জমলে একটা ছোট ব্যবসা, কিংবা অটো… পিউ স্টার্ট আপ না কীসব বলে, কিন্তু পলাশ অতশত জানে না।সে শুধু জানে, একটু পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে পারলে একদিন পিউকে চমকে দেবে। এক বাণ্ডিল লাল, হলুদ গোলাপ ধরিয়ে প্রপোজ করে দেবে। কী বলবে তা এখনও ঠিক করেনি যদিও, তবুও ওসব কোনও ব্যাপার নয়, ক্লাস সেভেনের বিদ্যেতেই ওসব হয়ে যায়, সেখানে পলাশ ক্লাস ইলেভেন। আর পিউ কলেজ পাশ। তাতে প্রেম আটকায়নি। পিউ বলেছিল, আমার বাড়িতে তোমাকে মানবে না, তুমি একটা গুণ্ডা। জামাই পাড়ায় পাড়ায় মারপিট করে জানলে বাবা মার সম্মান বাড়বে নাকি?
জামাই? কার জামাই? পিউ এতদূর ভেবে ফেলেছে দেখে পলাশ খানিক বিষম খায়। সে তো প্রপোজটাও করে উঠতে পারলো না। তার কাজকর্ম, প্রেম কিছুই সিরিয়াস নয়, টাইমপাশ। পিউকে দেখতে পলাশের ভালো লাগে। মেয়েটার চোখদুটোর মধ্যে কিছু একটা আছে, যার টানে টানেই অকাল বসন্ত নামে বিকালগুলোয়। পিউ আবদার করে, রোল খাবো। পলাশ পকেটে হাত ঢোকায়। ততক্ষণে পিউ অর্ডার করে দিয়েছে দুটো রোল। তার মানে তো সত্তর আশি টাকার ধাক্কা। টুকটুকে লাল সস দিতে দিতে রোলদাদা জানতে চায়, মির্চি? পলাশ হ্যাঁ, না কী যে বলে বোঝে না। রোলে কামড় দিয়ে ঝালে ঝালে অস্থির। পিউ খিলখিল করে হেসে বলে, তুমি ঝাল খেতে পারো না, কেমন পুরুষ মানুষ? তুমি চোখ রাঙালে লোকজন বাড়ি ছেড়ে পালায়? ঢপ দেওয়ার আর জায়গা পাওনি! যত্তোসব, রাগে দাঁত কিড়মিড় করতে করতে একটা চিটচিটে একশোর নোট বাড়িয়ে ধরে পলাশ। রোলদাদা হেসে জানায়, দিদিমনি দিয়ে দিয়েছে।
পিউরা যে সচ্ছল এমনটা নয়। চলে যায়। পিউ বেশ কিছু টিউশনি করে এখন, ছোটাছুটি করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, সকলের মন জুগিয়ে মাসের শেষে কিছু হাতে থাকে। পলাশকে সে বলেছিল, এসব গুণ্ডামি বন্ধ করো। কিছু না পারলে রোলের দোকান দাও। যেন রোল বানানো কিছুই ব্যাপার নয়। নিজে কটা বানিয়েছিস জীবনে?
পলাশ এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে চ্যালেঞ্জটা নিয়ে। খুলেই ফেলেছে হটস্পট, ক্লাবের মনাদাকে ধরে। মহালয়ার পরদিন মনাদা ফিতে কেটে শুভ উদ্বোধন করে দিয়েছে। পুজোর কদিন নয়, সারাবছর দোকান চালিয়ে গেলে মনাদা আপত্তি নেই। ভাগ্যিস ক্লাবের গোবিন্দকে প্ল্যানটা বলেছিল। গোবিন্দ লাফিয়ে উঠে জানিয়েছিল, তুমি কিচ্ছু ভেবো না গুরু। আমি সবটা সামলে নেব। আমি তো কোভিডের আগে সাতবছর রোল ভেজেছি। আমি ভাজব। তুমি সস ছিটিয়ে মুড়বে। শশা, পেঁয়াজ কচুকাটা করে ছড়িয়ে দেবে। কিচ্ছু ডিফিকাল্ট নয়।
লাল, হলুদ সস ঝাড়তে ঝাড়তে চতুর্থীর রাতে পলাশ এসব ভাবছিল। সামনে একটার পর একটা গোল গোল নধর ডিম-পরোটা পড়ছে, গোবিন্দ যেন বিশ্বকর্মা, চারহাতে রোল ভাজছে, নুডলস নেড়ে যাচ্ছে। এগরোলের চাহিদা ভালোই, চিকেন রোল মাঝারি, বাকিগুলো তেমন নয় এখনও। সামনের বিশাল চাটুটায় যেন স্কুলের ছুটির ঘণ্টা বেজেই চলেছে। পলাশ মাঝে মাঝে ধমকায়, অতো আওয়াজ করছিস কেন! জ্যাম লেগেছে নাকি। গোবিন্দ হাত নেড়ে বলেছে, ওসব তুমি বুঝবে না গুরু, এ হল মার্কেটিং। লাইন লেগে যাবে। তা লাইন লেগে গেছে খুব, গোবিন্দ যেন জাদু জানে। চতুর্থীর বিকাল থেকেই সামনের রাস্তায় মানুষের ঢল, মায়াবী আলোয় সকলে স্বপ্নের পথ হাঁটছে। দুঘণ্টায় যা বিক্রিবাটা, এরকম একদিন চললে দোকান দেওয়ার খরচা উঠে এসে হাতে খানিকটা লাভ থেকে যাবে। দ্বাদশী পর্যন্ত এরকম চললে… পলাশ অতো ভাবতে পারে না। লাল টুকটুকে টোম্যাটো সসটা দেখতে দেখতে পেঁয়াজে ছুরি চালায়। চোখের বাষ্প পার করে একগুচ্ছ টুকটুকে জলের বিন্দু লাগা গোলাপ চোখে ভাসে।
পলাশ এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে চ্যালেঞ্জটা নিয়ে। খুলেই ফেলেছে হটস্পট, ক্লাবের মনাদাকে ধরে। মহালয়ার পরদিন মনাদা ফিতে কেটে শুভ উদ্বোধন করে দিয়েছে। পুজোর কদিন নয়, সারাবছর দোকান চালিয়ে গেলে মনাদা আপত্তি নেই। ভাগ্যিস ক্লাবের গোবিন্দকে প্ল্যানটা বলেছিল। গোবিন্দ লাফিয়ে উঠে জানিয়েছিল, তুমি কিচ্ছু ভেবো না গুরু। আমি সবটা সামলে নেব। আমি তো কোভিডের আগে সাতবছর রোল ভেজেছি। আমি ভাজব। তুমি সস ছিটিয়ে মুড়বে। শশা, পেঁয়াজ কচুকাটা করে ছড়িয়ে দেবে। কিচ্ছু ডিফিকাল্ট নয়।
লাল, হলুদ সস ঝাড়তে ঝাড়তে চতুর্থীর রাতে পলাশ এসব ভাবছিল। সামনে একটার পর একটা গোল গোল নধর ডিম-পরোটা পড়ছে, গোবিন্দ যেন বিশ্বকর্মা, চারহাতে রোল ভাজছে, নুডলস নেড়ে যাচ্ছে। এগরোলের চাহিদা ভালোই, চিকেন রোল মাঝারি, বাকিগুলো তেমন নয় এখনও। সামনের বিশাল চাটুটায় যেন স্কুলের ছুটির ঘণ্টা বেজেই চলেছে। পলাশ মাঝে মাঝে ধমকায়, অতো আওয়াজ করছিস কেন! জ্যাম লেগেছে নাকি। গোবিন্দ হাত নেড়ে বলেছে, ওসব তুমি বুঝবে না গুরু, এ হল মার্কেটিং। লাইন লেগে যাবে। তা লাইন লেগে গেছে খুব, গোবিন্দ যেন জাদু জানে। চতুর্থীর বিকাল থেকেই সামনের রাস্তায় মানুষের ঢল, মায়াবী আলোয় সকলে স্বপ্নের পথ হাঁটছে। দুঘণ্টায় যা বিক্রিবাটা, এরকম একদিন চললে দোকান দেওয়ার খরচা উঠে এসে হাতে খানিকটা লাভ থেকে যাবে। দ্বাদশী পর্যন্ত এরকম চললে… পলাশ অতো ভাবতে পারে না। লাল টুকটুকে টোম্যাটো সসটা দেখতে দেখতে পেঁয়াজে ছুরি চালায়। চোখের বাষ্প পার করে একগুচ্ছ টুকটুকে জলের বিন্দু লাগা গোলাপ চোখে ভাসে।
আরও পড়ুন:

শারদীয়ার গল্প-৪: অপ্রত্যাশিত

দশভুজা : আমার দুর্গা—বিজ্ঞানী রাজেশ্বরী চট্টোপাধ্যায়

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩২: কবিকন্যা মীরার স্বামী রবীন্দ্রনাথকে ভর্ৎসনা করেছিলেন

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৮: ছোট বাবুইবাটান
দোকানে দু’ সারি বেঞ্চে তিন জোড়া প্রেমিক প্রেমিকা রোল খাচ্ছে। একটা ডবল প্লেট চাউমিনের অর্ডার হয়েছে, প্যাকেট হবে। গোবিন্দ চাউগুলোকে গরম ধোঁয়া ওঠা চাটুতে ফেলে নির্দয়ভাবে পেটাচ্ছে। পাশে কয়েকটা পরোটা সেঁকা হচ্ছে। ডিমে টোকা দিতে দিতে গোবিন্দ বলে, গুরু, কাল থেকে অন্তত একশোটা রুটি বেলে রাখতে হবে। অর্ডার হবে, ডিম ঢালবো শুধু। আমাকেই তো ঝক্কি নিতে হবে। ও করে দেব। তুমি শুধু আরো ময়দা আর ডিমের অ্যাডভান্স অর্ডারটা করে রেখো। পলাশের কানে কথাগুলো ঢোকে, আবার ঢোকেও না। সামনের বেঞ্চে পিউয়ের মতো একটা মেয়ে বসে গভীর মনোযোগ দিয়ে রোলে কামড় দিচ্ছে মৃদু মৃদু। ততোধিক মনোযোগ দিয়ে পলাশ দেখতে থাকে, শশার স্তূপের ওপর ছুরির গতি মন্থর হয় খানিক। পাশের ছেলেটা ফোনে কথা বলতে ব্যস্ত। মেয়েটা পিউ? পলাশ চোখ তীক্ষ্ণ করে দেখে, হঠাৎ চোখে পড়ে ওপারের ফুটপাথের এলিট বিরিয়ানিতে পিউয়ের মতোই একটা মেয়ে ঢুকল। চমকে চোখ মোছে পলাশ। আগুনের পাশে দাঁড়িয়ে মাথাটা গেছে, নাকি পেঁয়াজের ঝাঁঝে… সামনের মেয়েটা মুখ ঘুরিয়ে জলের জগটা চায়। নীল জগটা এগিয়ে দিতে দিতে পলাশ মনে মনে নিজেকে গাল দেয়, চোখের মাথা খেয়েছে সে। পিউয়ের শান্ত হ্রদের মতো গভীর প্রশান্ত চোখদুটো এই জায়গায় থাকলে কেমন হতো? গোবিন্দের ঠংঠং খন্তির শব্দ দূরের মন্দিরের ঘণ্টা মনে হয়।
গোবিন্দ পাশ থেকে তাড়া দেয়, হাত চালাও গুরু। পাঁচটা চাউ, চারটে রোলের অর্ডার পড়ল। আরও ক’টা শশা, গাজর কুচিয়ে ফেলো। গোবিন্দ এরমধ্যেই বড়ো চাটুর কানায় ছ’সাতখানা রেডিমেড রোল সাজিয়ে ফেলেছে। অর্ডার পড়লেই হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে, পেমেন্ট-ও হাতে হাতে। যাদের আবার খুব তাড়া নেই, তারা সামনে বসে দাঁড়িয়ে পুরোটা দেখে, ছবি তোলে, সেলফি তোলে। পলাশ-ও দাঁড়িয়ে দেখে গোবিন্দের হাতের কাজ। সাদা ধবধবে লেচিতে নানারকম কায়দার চাপ দিয়ে দিয়ে পাখা ছড়ানো গোল রুটিটায় ফটাং করে ডিম ঢেলে চেপে চেপে ভাজতে থাকে গোবিন্দ। ধীরে ধীরে রং ধরে, লাল টুকটুকে গোলাপের মতো? নাকি পলাশরাঙা? একসময় মুচমুচে হয়ে ওঠে, তখন এদিকের পাথরে এসে পড়ে রুটিটা ম্যাজিক কার্পেটের মতো। তাতে শশা পেঁয়াজের কুচি, খানিকটা আলুর তরকারি রাখে পলাশ, গোবিন্দ যেমন শিখিয়ে দিয়েছে।
গোবিন্দ পাশ থেকে তাড়া দেয়, হাত চালাও গুরু। পাঁচটা চাউ, চারটে রোলের অর্ডার পড়ল। আরও ক’টা শশা, গাজর কুচিয়ে ফেলো। গোবিন্দ এরমধ্যেই বড়ো চাটুর কানায় ছ’সাতখানা রেডিমেড রোল সাজিয়ে ফেলেছে। অর্ডার পড়লেই হাতে ধরিয়ে দিচ্ছে, পেমেন্ট-ও হাতে হাতে। যাদের আবার খুব তাড়া নেই, তারা সামনে বসে দাঁড়িয়ে পুরোটা দেখে, ছবি তোলে, সেলফি তোলে। পলাশ-ও দাঁড়িয়ে দেখে গোবিন্দের হাতের কাজ। সাদা ধবধবে লেচিতে নানারকম কায়দার চাপ দিয়ে দিয়ে পাখা ছড়ানো গোল রুটিটায় ফটাং করে ডিম ঢেলে চেপে চেপে ভাজতে থাকে গোবিন্দ। ধীরে ধীরে রং ধরে, লাল টুকটুকে গোলাপের মতো? নাকি পলাশরাঙা? একসময় মুচমুচে হয়ে ওঠে, তখন এদিকের পাথরে এসে পড়ে রুটিটা ম্যাজিক কার্পেটের মতো। তাতে শশা পেঁয়াজের কুচি, খানিকটা আলুর তরকারি রাখে পলাশ, গোবিন্দ যেমন শিখিয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৪: অনুসরণ

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১১ : অরিন্দম কহিলা বিষাদে
চিকেন রোল হলে সামনের রাংতামোড়া অ্যালুমিনিয়ামের কড়া থেকে গুণে গুণে পাঁচটুকরো বোনলেস চিকেনভাজা। তারপর দু’রকম মশলা ঝাড়ে কায়দা করে। তারপর চিলি সস, তারপরেই লাল টম্যাটো সস, লঙ্কার কুচি সামান্য ছড়িয়ে এবার কায়দা করে সাদা কাগজে গোটাতে একটু হলেও হিমশিম খায় যেন। এর চেয়ে জামার হাতা গোটানো সহজ। তাতে কাজ হয় ম্যাজিকের মতো। রোল বাড়িয়ে ধরলে খরিদ্দার আরেকটু পেঁয়াজ কিংবা সসের বায়না করে, হাসিমুখে ম্যানেজ করে পলাশ। কাস্টমারের সঙ্গে রিলেশনটাই আসল। দিদি, এইখানটায় বসুন, এই পাখার পাশে। দাদা, একটু এদিকে সরে এসে আরাম করে খান। ভালো হয়েছে মাসিমা? ও দিদা, ঝাল কম দেব তো? এরকম চলছে সেই শেষ দুপুর থেকেই। এখন ব্যবসা জমজমাট। বৃষ্টি যদি না হয়, তাহলে আজকের বিক্রিবাটা মন্দ নয়। কাল থেকে সারারাত খোলা। গোবিন্দের উৎসাহের শেষ নেই। ছেলেটা হাতির মতো খাটতে পারে। ক’বছর ধরে চেপে রাখা যাবতীয় এনার্জি যেন গরম চাটুতে নুডলসের সঙ্গে নাচে। পলাশ একটার পর একটা রোল গোটায়। রাস্তার ঝিরঝিরে নরম নীল, সবুজ, হলুদ আলোগুলোয় বড় মায়াবী লাগে রাতের শহর। দূর থেকে কিশোর, কিংবা মান্নার গান ভেসে আসে। তাকে পার হয়ে কখনও আশা, কখনও লতা, কখনও শানু, কখনও সানাই। বেশ লাগে পলাশের। জীবন এমন সুন্দর, সহজ! আগে ভেবে দেখেনি।
সামনে উল্টো দিকের এলিট বিরিয়ানিতে হঠাৎ করে ভিড়ে ভিড়, এ পাশে বৌদির স্মার্ট বিরিয়ানির সবকটা টেবিল ফাঁকা। মোমোর দোকানে কিছু ভিড়, ও দিকের চাচার রোল, বাচ্চুর রোল হাউসে দু-চারজন বসে দাঁড়িয়ে। পলাশের হটস্পটের সামনে যেন ম্যাটিনি শোয়ের ভিড়। মাগো, মুখ তুলে চাও। একগুচ্ছ গোলাপ নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে বাড়িয়ে ধরলে ওই স্নিগ্ধ হ্রদে ঢেউ উঠবে? যদি নিতে না চায় গুণ্ডার হাত থেকে? তাহলে পলাশ হাত দুটো চেপে ধরে জোর করে ধরিয়ে দেবে। ভাবতে ভাবতে সামনের ঝাঁকড়া সবুজ চুল, চকরা বকরা জামা জামা ছেলেটার হাতে বেখেয়ালে তিনটে রোলের গুচ্ছ জোরসে ধরিয়ে দেয়, দিয়েই চমক ভাঙে ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়া ছেলেটার মুখ দেখে। তারপর নিজেকে সামলে নেয় খানিক। কিছু একটা বলে ম্যানেজ দেয়। ও পাশের এলিট বিরিয়ানিতে কী একটা গোল বেঁধেছে। অ্যাই গোবিন্দ, এদিকটা একটু দ্যাখ, বলেই পলাশ দৌড়ে বিরিয়ানির দোকানের সামনে। ভিড়ের মধ্যে চেনা মুখ, কাল্লু আর মদন। কাল্লু পলাশকে দেখেই সমীহ দেখায়। মদনটা চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। কী হয়েছে রে? এত ক্যাচাল কীসের? কাল্লু ততক্ষণে দোকানের খোঁচা খোঁচা দাড়ির লোকটার কলার ধরে ফেলেছে। দাদু, এই দোকান উঠিয়ে নিতে হবে। এখানে অন্য দোকান বসবে। লোকটা কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলে, কিন্তু বাবা সেদিন তো তুমিও ছিলে, মনাও ছিলো। তোমাদের না জানিয়ে তো কিছু করিনি ভাই। আজ তাহলে হুজ্জুতি করছো কেন?
সামনে উল্টো দিকের এলিট বিরিয়ানিতে হঠাৎ করে ভিড়ে ভিড়, এ পাশে বৌদির স্মার্ট বিরিয়ানির সবকটা টেবিল ফাঁকা। মোমোর দোকানে কিছু ভিড়, ও দিকের চাচার রোল, বাচ্চুর রোল হাউসে দু-চারজন বসে দাঁড়িয়ে। পলাশের হটস্পটের সামনে যেন ম্যাটিনি শোয়ের ভিড়। মাগো, মুখ তুলে চাও। একগুচ্ছ গোলাপ নিয়ে সামনে দাঁড়িয়ে বাড়িয়ে ধরলে ওই স্নিগ্ধ হ্রদে ঢেউ উঠবে? যদি নিতে না চায় গুণ্ডার হাত থেকে? তাহলে পলাশ হাত দুটো চেপে ধরে জোর করে ধরিয়ে দেবে। ভাবতে ভাবতে সামনের ঝাঁকড়া সবুজ চুল, চকরা বকরা জামা জামা ছেলেটার হাতে বেখেয়ালে তিনটে রোলের গুচ্ছ জোরসে ধরিয়ে দেয়, দিয়েই চমক ভাঙে ভ্যাবাচ্যাকা খাওয়া ছেলেটার মুখ দেখে। তারপর নিজেকে সামলে নেয় খানিক। কিছু একটা বলে ম্যানেজ দেয়। ও পাশের এলিট বিরিয়ানিতে কী একটা গোল বেঁধেছে। অ্যাই গোবিন্দ, এদিকটা একটু দ্যাখ, বলেই পলাশ দৌড়ে বিরিয়ানির দোকানের সামনে। ভিড়ের মধ্যে চেনা মুখ, কাল্লু আর মদন। কাল্লু পলাশকে দেখেই সমীহ দেখায়। মদনটা চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। কী হয়েছে রে? এত ক্যাচাল কীসের? কাল্লু ততক্ষণে দোকানের খোঁচা খোঁচা দাড়ির লোকটার কলার ধরে ফেলেছে। দাদু, এই দোকান উঠিয়ে নিতে হবে। এখানে অন্য দোকান বসবে। লোকটা কাঁদো কাঁদো মুখ করে বলে, কিন্তু বাবা সেদিন তো তুমিও ছিলে, মনাও ছিলো। তোমাদের না জানিয়ে তো কিছু করিনি ভাই। আজ তাহলে হুজ্জুতি করছো কেন?
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩২: লৌকিকও অলৌকিকের টানাপোড়েনের বিনির্মাণ—ঋষিকবির মহাকাব্য রামায়ণ
পলাশ চমকায়। ননী জ্যেঠু! পিউয়ের বাবা! তাহলে সে ঠিকই দেখেছিল। পিউ একবার-ও বলেনি তো যে ওরা এখানে বিরিয়ানির দোকান দিচ্ছে! ওকে একবার বললে কী এমন ক্ষতি হতো! অবশ্য ওকে তেমন পছন্দ করে না বোধহয় ওরা। দু’বছরের সম্পর্কটার ওপর পলাশের অভিমান হয় বৈকী! গুণ্ডাদের লোকে মানে, ভালবাসে কি? ননীজ্যেঠু ন’পাড়ায় একটা চায়ের দোকান চালায়। চা, ঘুঘনি, পরোটা, বাটার টোস্ট। পলাশের চমক ভাঙে উত্তেজিত কথাবার্তায়। সেদিনের কথা বাদ দিন, তারপর দুদিন কেটে গিয়েছে। আপনি সেদিনে বসে আছেন, আমরা নই। কাল থেকে অন্য দোকান, মনে থাকে যেন। আজ রাতের মধ্যে ফাঁকা করে দিতে হবে। ঘণ্টাখানেক বাদে আবার আসছি।
এই সময় ভিড়ঠেলে পিউ এসে দাঁড়ায়, তার মুখে বিস্ময় আর ভয়মাখানো। পলাশকে দেখে খানিক অস্বস্তির ছায়া এসে পড়ে তার মুখে। সূর্য-ঢাকা মেঘের ছায়া পড়ে তার গভীর দুটো চোখের টলটলে হ্রদের জলে। এইসময় পলাশের যেন কী হয়ে যায় মাথার মধ্যে। গোটানো রোলের মধ্যে সসে তেলে মাখানো শশা, পেঁয়াজ-ঘিরে মুচমুচে রাঙা ময়দার খোলের মতোই মাথাটা শক্ত হয়ে ওঠে, সে আর নিজেকে সামলাতে পারে না। জামার হাতটা গুটিয়ে নিতে থাকে সকলের অজান্তে, নিজের-ও।
কাল্লু রোয়াব দেখিয়ে মদনের দিকে তার শাঁকালুর মতো দাঁতগুলো বের করে হাসতে যাচ্ছিল, এইসময় তার গালের ওপর যেন ব্রহ্মাস্ত্র নেমে আসে। পলাশের একটা চড় খেয়ে কাল্লু টলে মাটিতে পড়ে যায়। বিস্ফারিত চোখে দেখতে দেখতে ধীরে ধীরে উঠে বসে। এটা কী হল পলাশদা? কাল্লুর কলারটা চেপে ধরে পলাশ একটা অস্ফুট গালি দিয়ে বলে, বড়দের সঙ্গে এভাবে কথা বললে তোর গালটাই উড়িয়ে দেব। পা ধরে মাপ চা জ্যেঠুর। সামনে নিশ্চল ননী সাহা। পিউ মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে, তার পা চলছে না। আরওই চলছে না মাথাটা। কী দেখছে এসব? চারপাশের অজস্র চোখের ভিড় থেকে আলাদা একজোড়া চোখের ভাষা তার বুঝতে বিলক্ষণ অসুবিধা হচ্ছে। পানায় ঢাকা ডোবার নিচে সাগরের জেগে ওঠা দেখেছে কখনও কেউ? পলাশ ঘাড় ধরে ননী সাহার পায়ের কাছে ঠেলে দেয় কাল্লুকে। মদন আর নেই, কখন গা ঢাকা দিয়েছে সকলের চোখের অলক্ষ্যে। ভিড় ঠেলে মনাগুণ্ডা ঢোকে।
এই সময় ভিড়ঠেলে পিউ এসে দাঁড়ায়, তার মুখে বিস্ময় আর ভয়মাখানো। পলাশকে দেখে খানিক অস্বস্তির ছায়া এসে পড়ে তার মুখে। সূর্য-ঢাকা মেঘের ছায়া পড়ে তার গভীর দুটো চোখের টলটলে হ্রদের জলে। এইসময় পলাশের যেন কী হয়ে যায় মাথার মধ্যে। গোটানো রোলের মধ্যে সসে তেলে মাখানো শশা, পেঁয়াজ-ঘিরে মুচমুচে রাঙা ময়দার খোলের মতোই মাথাটা শক্ত হয়ে ওঠে, সে আর নিজেকে সামলাতে পারে না। জামার হাতটা গুটিয়ে নিতে থাকে সকলের অজান্তে, নিজের-ও।
কাল্লু রোয়াব দেখিয়ে মদনের দিকে তার শাঁকালুর মতো দাঁতগুলো বের করে হাসতে যাচ্ছিল, এইসময় তার গালের ওপর যেন ব্রহ্মাস্ত্র নেমে আসে। পলাশের একটা চড় খেয়ে কাল্লু টলে মাটিতে পড়ে যায়। বিস্ফারিত চোখে দেখতে দেখতে ধীরে ধীরে উঠে বসে। এটা কী হল পলাশদা? কাল্লুর কলারটা চেপে ধরে পলাশ একটা অস্ফুট গালি দিয়ে বলে, বড়দের সঙ্গে এভাবে কথা বললে তোর গালটাই উড়িয়ে দেব। পা ধরে মাপ চা জ্যেঠুর। সামনে নিশ্চল ননী সাহা। পিউ মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে, তার পা চলছে না। আরওই চলছে না মাথাটা। কী দেখছে এসব? চারপাশের অজস্র চোখের ভিড় থেকে আলাদা একজোড়া চোখের ভাষা তার বুঝতে বিলক্ষণ অসুবিধা হচ্ছে। পানায় ঢাকা ডোবার নিচে সাগরের জেগে ওঠা দেখেছে কখনও কেউ? পলাশ ঘাড় ধরে ননী সাহার পায়ের কাছে ঠেলে দেয় কাল্লুকে। মদন আর নেই, কখন গা ঢাকা দিয়েছে সকলের চোখের অলক্ষ্যে। ভিড় ঠেলে মনাগুণ্ডা ঢোকে।
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
এত ভিড় কীসের? যাও, যাও কিচ্ছু হয়নি। সকলে সরো। মদন পিছনে দাঁড়িয়ে। তার কাটা বাম গালে নীল আলো এসে পড়েছে। মনাদা পলাশের পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলে, প্রাউড অফ ইউ, তোদের মতো ইয়ং স্টার আমাদের ভবিষ্যত্। তারপর কাঁচুমাচু কাল্লুর মাথায় একটা রদ্দা দিয়ে খিঁচিয়ে ওঠে, ভেংচি কাটে। পলাশ অবাক হতে গিয়েও হয় না। কাল্লুর চোখে অবিশ্বাস, মদনের চোখদুটো তিরতির করে কাঁপছে। মনাদা একটু খুকখুক কেশে বলে, কাকাবাবু, কোনও চিন্তা নেই। ওরা যেটা করেছে ঠিক করেনি। আপনি দোকান চালান, কেউ বাধা দেবে না। ওরা ফণীর দোকানের বদলে ননীর দোকানে চলে এসেছে। ভুল বোঝাবুঝি যা হয়েছে এখানেই শেষ হোক। চারপাশের ভিড় পাতলা হচ্ছে। মনা, কাল্লু, মদন সরে পড়ে। পলাশের বুক থেকে একটা বহুদিনের চেপে বসা ভার নেমে যাচ্ছে। টুপটাপ করে ঝরে পড়ছে জল হয়ে গোলাপের বনে।
ননী সাহা চশমার ফাঁক দিয়ে পলাশকে দেখছেন একদৃষ্টিতে। পলাশ হাঁক পাড়ে, গোবিন্দ, দুটো রোল, চটপট। গোবিন্দ একছুটে এসে দাঁড়ায়, জামার গোটানো হাতাটা খুলে কবজির কাছে বোতাম লাগায় পলাশ, একটা রোল নরম হাতে তুলে নেয় পলাশ। রোলের ওপরে লাল সসের আরক্তিম স্পর্শ তার চোখে লাগে যেন। রোলটা আচমকা পিউয়ের দিকে বাড়িয়ে বসে পড়ে মাটিতে, যেন বলতে চায়, আই লাভ ইউ পিউ… আমি খারাপ ছেলে নই। আমি আমার কথা রাখার চেষ্টা করেছি। সিনেমায় এমন করেই তো দেখায়, গোলাপের বদলে রোলটুকু যা আলাদা। পিউ লজ্জিত মুখে রোবটের মতো রোলটা চেপে ধরে। বুকের বামদিকের হটস্পটটা ব্লিঙ্ক করে, করেই যেতে থাকে। গোবিন্দ তার হাতের বাকি রোলটা ননীবাবুর হাতে গুঁজে দিয়ে একটা শিস দেয়। অসভ্য একটা! চারপাশে থমকে থাকা চোখগুলোর ভিড়ে একটা গভীর হ্রদে জেগে ওঠা আলোড়ন খোঁজে কি পানাডোবার নিচে জেগে উঠতে চাওয়া সমুদ্রটা? মোড়ের চোঙাটায় তখন কী একটা সুর বেজে ওঠে। সানাই? ঢাক? বীরেন্দ্রকৃষ্ণ? নাকি অন্যকিছু? ঠিক বোঝা যায় না। রাতের শহর মায়াবী আলোয় স্নান করে শুদ্ধ হচ্ছে, পুজো শুরু, বোধনের বেশি দেরি নেই আর।
ননী সাহা চশমার ফাঁক দিয়ে পলাশকে দেখছেন একদৃষ্টিতে। পলাশ হাঁক পাড়ে, গোবিন্দ, দুটো রোল, চটপট। গোবিন্দ একছুটে এসে দাঁড়ায়, জামার গোটানো হাতাটা খুলে কবজির কাছে বোতাম লাগায় পলাশ, একটা রোল নরম হাতে তুলে নেয় পলাশ। রোলের ওপরে লাল সসের আরক্তিম স্পর্শ তার চোখে লাগে যেন। রোলটা আচমকা পিউয়ের দিকে বাড়িয়ে বসে পড়ে মাটিতে, যেন বলতে চায়, আই লাভ ইউ পিউ… আমি খারাপ ছেলে নই। আমি আমার কথা রাখার চেষ্টা করেছি। সিনেমায় এমন করেই তো দেখায়, গোলাপের বদলে রোলটুকু যা আলাদা। পিউ লজ্জিত মুখে রোবটের মতো রোলটা চেপে ধরে। বুকের বামদিকের হটস্পটটা ব্লিঙ্ক করে, করেই যেতে থাকে। গোবিন্দ তার হাতের বাকি রোলটা ননীবাবুর হাতে গুঁজে দিয়ে একটা শিস দেয়। অসভ্য একটা! চারপাশে থমকে থাকা চোখগুলোর ভিড়ে একটা গভীর হ্রদে জেগে ওঠা আলোড়ন খোঁজে কি পানাডোবার নিচে জেগে উঠতে চাওয়া সমুদ্রটা? মোড়ের চোঙাটায় তখন কী একটা সুর বেজে ওঠে। সানাই? ঢাক? বীরেন্দ্রকৃষ্ণ? নাকি অন্যকিছু? ঠিক বোঝা যায় না। রাতের শহর মায়াবী আলোয় স্নান করে শুদ্ধ হচ্ছে, পুজো শুরু, বোধনের বেশি দেরি নেই আর।
* শম্পা দত্ত (Sampa Dutta), শিক্ষিকা, সঞ্চালিকা ও বাচিক শিল্পী।
















