শুক্রবার ১৯ জুন, ২০২৬

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু!

হ্যালো বাবু! পর্ব-৯৪: গ্রিন টি /২

হ্যালো বাবু! পর্ব-৯৪: গ্রিন টি /২

সারা ফ্ল্যাটে বৈভবের স্পষ্ট স্বাক্ষর! সুবিশাল হলঘর দামি দামি ফার্নিচার বড়সড় ঝকঝকে সুদৃশ্য ঝাড়লণ্ঠন শোকেসে নানান বিজনেস অ্যাওয়ার্ড। মাঝে এই বড়সড় হল ঘরের চারপাশে চারটি ঘর। টানা হলঘর বরাবর সুন্দর সাজানো একটা বারান্দা আর বারান্দার উল্টোদিকে কিচেন কমন ওয়াশরুম ওইদিকে বাড়ির এন্ট্রান্স। যেকোনও তদন্তের জন্য ক্রাইমসিনের ভূগোলটা জানা খুব জরুরি, কিন্তু আমাদের সত্যানুসন্ধানী শ্রীমান ধৃতিমান চৌধুরী একই সঙ্গে একজন চলচ্চিত্র ও নাট্যপরিচালক।

হ্যালো বাবু! পর্ব-৯৩: গ্রিন টি /১

হ্যালো বাবু! পর্ব-৯৩: গ্রিন টি /১

সাতসকালে ক্রাইম সিনে পৌঁছে গিয়েছেন শ্রেয়া। প্রাথমিকভাবে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। ঘরের কোথাও কোনওরকম অস্বাভাবিকতা নেই। বাইরে থেকে কেউ আসেননি বলেই মনে হচ্ছে। রিয়ার বয়স্কা মা সকালবেলা মৃতদেহ আবিষ্কার করেন। ক্রাইমসিন এভিডেন্স বলতে অর্ধেক খালি চায়ের কাপ তাতে বেশ দামি ব্র্যান্ডের একটি গ্রিণ টি-এর ব্যাগ!

হ্যালো বাবু! পর্ব-৯২: অনুসরণ/১৩

হ্যালো বাবু! পর্ব-৯২: অনুসরণ/১৩

এই লোকটিকে অনুসরণ করতে শুরু করল ধৃতিমান। লোকটি কালীঘাটের মন্দির আর টালি নালার উপর কালীঘাট ব্রিজের মাঝে থাকে। ব্রিজ-লাগোয়া নবগ্রহ মন্দিরের নিচে সিঁড়ি দিয়ে নেমে গিয়ে একটা ঘুপচি ঘরে একা থাকে। নিয়ম করে প্রত্যেক দিন রাত ন'টায় বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে রাত দশটা থেকে পরের দিন ভোর ছটা পর্যন্ত ডিউটি সেরে বাড়ি ফেরে। সপ্তাহের সাতদিনই কাজ, কোনও ছুটি নেই। বাজার সেরে বাড়িতে ঢুকে রান্নাবাড়ি করে তারপর ঘুম। খাওয়া-দাওয়া সেরে আবার রাত নটায় বেরিয়ে পড়া। তার নাম মুকুন্দ। মুকুন্দ গুছাইত। মুকুন্দ যে জায়গাটায় থাকে সেটা শহরের...

হ্যালো বাবু! পর্ব-৯১: অনুসরণ/১২

হ্যালো বাবু! পর্ব-৯১: অনুসরণ/১২

শুরু থেকে অমলেন্দুর মৃত্যু পর্যন্ত কাহিনি যেভাবে এগিয়েছে তার সবটুকুই মৃত অমলেন্দু ডায়েরি থেকে নেওয়া। শেষ পাতায় লেখা আছে কতকগুলো আপাত সম্পর্কহীন গুরুত্বপূর্ণ শব্দ। সেগুলি আবার লিখে পেন দিয়ে গোল সার্কেল করা হয়েছে।

হ্যালো বাবু! পর্ব-৯০: অনুসরণ/১১

হ্যালো বাবু! পর্ব-৯০: অনুসরণ/১১

পুলিশের প্রাথমিক কর্তব্য অনুযায়ী, মৃতের জবানীতে লেখা এই চিঠির ভিত্তিতে প্রতিমা ও কুন্তলকে তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এত কিছুর পর এই কেস ধৃতিমান চৌধুরীর কাছে এল! এর আগের কেসগুলোতে সূত্রের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে অপরাধী পর্যন্ত পৌঁছনো ছিল চ্যালেঞ্জ। এখন অপরাধী হিসেবে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারাই সঠিক অপরাধী কিনা তার অনুসন্ধান করার জন্য গোয়েন্দা বিভাগ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে অমলেন্দু পাল মৃত্যু রহস্য হাতে নিয়েছে।

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৯: অনুসরণ/১০

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৯: অনুসরণ/১০

অফিসে অমলেন্দুর বারবার মনে হয়েছে সে বোধহয় প্রতিমাকে অন্যায়ভাবে সন্দেহ করেছে। প্রথমে ভেবেছিল ফোন করে একবার কথা বলবে। তারপর ভেবে দেখলো কথায় কথা বাড়বে অফিসের মধ্যে বসে এত কথা বলা যাবে না, সন্ধেবেলা বাড়ি ফিরে প্রতিমাকে নিয়ে কোথাও বেরোবে তারপর নিজের দোষ স্বীকার করবে। অমলেন্দু সে সুযোগ পায়নি। বাড়ি ফিরে দেখেছে কাউকে কিছু না জানিয়ে প্রতিমা তাদের বাড়ি ছেড়ে শ্রীরামপুরের বাড়িতে চলে গিয়েছে!

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৮: অনুসরণ/৯

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৮: অনুসরণ/৯

মানব মনের বিচিত্র গতি-প্রকৃতি কোনও বাঁধাধরা নিয়ম মানে না। তাই কখন মানুষ কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবে তার পূর্বাভাষ পাওয়া শক্ত। কোন কথায় কার মনে কোন প্রতিক্রিয়া তীব্রতা পাবে, তার কোন ঠিক ঠিকানা থাকে না। এমন হতেই পারে শত অনুযোগ-অভিযোগ গায়ে-না-মাখা সর্বংসহা মানুষটি আচমকা একদিন কোন একটি সাধারণ কথার অন্য কোনও গূঢ় অভিপ্রায় ভেবে বসলেন। আর মূহুর্তের মধ্যে এমনই এক মারাত্মক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন যাতে ভবিষ্যতের ব্যক্তিসম্পর্ক টুকরো টুকরো হয়ে গেল!

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৭: অনুসরণ/৮

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৭: অনুসরণ/৮

একটা অদ্ভুত অস্থিরতাকে যেন বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে অমলেন্দু। বাসে মিনিবাসে বা ডালহৌসির রাস্তায় আচমকা কেউ তার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকলে সে বিরক্ত হয়ে চোয়াল শক্ত করে মুখ ঘুরিয়ে নিত। কেউ হয়তো মুখ ফসকে জিজ্ঞেসই করে ফেলল——আচ্ছা আপনাকে কোথায় দেখেছি বলুন তো?

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৬: অনুসরণ/৭

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৬: অনুসরণ/৭

এই বিষয়ে বলতে গিয়ে ভিজিল্যান্স-এর এক পরিচিত সহৃদয় অফিসারের কাছে ধমক খেয়েছে অমলেন্দু! —দেখুন মিঃ পাল, এর আগে টিকিট কাউন্টারের কেসে রুলস অনুযায়ী আপনার বিরুদ্ধে স্টেপ নেওয়া হয়েছিল, ইনক্রিমেন্ট প্রমোশন বন্ধ হয়েছিল, ডিপার্টর্মেন্ট বদলে দেওয়া হয়েছিল! কিন্তু আমি ব্যক্তিগত ভাবে জানি, আপনি নিজে এই টাকা তছরুপ করেননি। দোষের মধ্যে কাজে ফাঁকি দিয়ে আগে পালাতেন পরের দিন এসে ব্যাকডেটে সই করে ফেঁসে গিয়েছিলেন! যে জন্য ইউনিয়ন আপনাকে সাপোর্ট করেছিল এবং আপনার পানিশমেন্ট কিছুটা কমানো হয়েছিল। এবারেও কিন্তু আপনি সেই একই ভুল করতে...

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৫: অনুসরণ/৬

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৫: অনুসরণ/৬

বিয়ের পর প্রথম বেশ কয়েকটা মাস স্বপ্নের মতো কেটে গেল। দুটো অচেনা নারী-পুরুষ যে রোমাঞ্চ নিয়ে একে অপরকে ধীরে ধীরে চেনে জানে, একটু একটু করে বিশ্বাস, দাবি পছন্দ-অপছন্দ মিলিয়ে মিশিয়ে ভালবাসতে শুরু করে ঠিক সেই চেনাপথেই জীবন এগোলো। পূর্ব পরিচিত প্রেমঘটিত বিয়ে হলে ঠিক এভাবেই সব এগোয় কিনা অমলেন্দুর জানা নেই! তার বন্ধুর সংখ্যা কম!

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮8: অনুসরণ/৫

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮8: অনুসরণ/৫

ঠিক এখন চলন্ত ট্রেনের জানলা দিয়ে ছিপছিপে তন্বী মেয়েটিকে দেখে আচমকা কেমন যেন একটা অদ্ভুত আকর্ষণ অনুভব করলো অমলেন্দু! লেভেল ক্রসিংটা এসে যাচ্ছে! লেভেল ক্রসিং টপকালেই প্রতিমা হারিয়ে যাবে! অমলেন্দু কি প্রতিমাকে হারিয়ে ফেলবে চিরকালের মতো! নাকি মিথ্যে দিয়ে অতীতের অস্বস্তিকর অধ্যায়কে চাপা না দিয়ে যে মেয়ে সহজভাবে স্বীকার করতে পারে— ‘সেটা দূর্ঘটনা! একসময়ের ভুল ছিল’। তাকে বিশ্বাস করা যায়? সে স্বীকার করেছে যে সেই অন্যায় সম্পর্ক থেকে সরে আসতে চেষ্টা করছে সে। তাই অমলেন্দুর সঙ্গে বিয়েতে মত দিয়েছে! অমলেন্দু তো জিজ্ঞেস...

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৩: অনুসরণ/৪

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৩: অনুসরণ/৪

প্রতিমা থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল। আশেপাশে অফিসফেরতা অনেক চেনা মুখ। প্রতিমাকে এ ভাবে ওভারব্রিজে কথা বলতে দেখলে অনেক মুখচেনা তথাকথিত ভদ্রলোক ভদ্রমহিলারা কৌতুহলী হয়ে পড়বেন। প্রতিমা উলটোপথে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের দিকটায় হাঁটা দিল। অমলেন্দু একটু অবাক হয়ে প্রতিমার পিছনে পিছনে গেল। অমলেন্দু কিন্তু ভাবার চেষ্টা করছে, চিঠিটা প্রতিমাকে দেবে নাকি মুখে বলবে সবটুকু।

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮২: অনুসরণ/৩

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮২: অনুসরণ/৩

চিঠিটা ৩-৪ বার পড়ার পর অমলেন্দু ঠিক কী করবে বুঝে উঠতে পারল না। এদিকে এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, না হলে অনেক দেরি হয়ে যাবে। দেখেই বোঝা যাচ্ছে এটা একটা ভাঙচির চিঠি। হতে পারে সত্যি সত্যি কোনও ছেলের সঙ্গে প্রতিমার কোনও সম্পর্ক রয়েছে। আবার নাও হতে পারে। পারিবারিক আপত্তির জেরে অনেক সময় এই ধরনের চিঠিচাপাটি দিয়ে ক্ষতি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে অমলেন্দু এই চিঠিটাকে খুব হালকা ভাবে নিতে পারল না। তার সেজমামার বিয়ের সময় একই ঘটনা ঘটেছিল। তখন সময় আরও কম ছিল। শেষ মুহূর্তে এরকম একটা ভাঙচির চিঠি এসেছিল সেজমামার...

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮১: অনুসরণ/২

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮১: অনুসরণ/২

খুব স্বাভাবিকভাবে বৈদ্যবাটির সম্বন্ধটা ভেঙ্গে গেল! আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে যে সামান্য কয়েকজনের কথার গুরুত্ব অমলেন্দু দিত তাঁরাই বোঝালেন খোঁজখবর নেওয়াতে কোনও অন্যায় নেই। সম্বন্ধ করে বিয়ে দিতে গেলে মেয়ের বাড়ি থেকে ছেলের খোঁজ তো নেবেই! তাতে এতটা অসন্তুষ্ট হবার কোনও কারণ নেই।

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮০: অনুসরণ/১

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮০: অনুসরণ/১

অমলেন্দু’র মধ্যে একটা তুলনামূলক হিংসে কাজ করতো, শুদ্ধ আভিধানিক বাংলায় যাকে মাৎসর্য্য বলে এটা অন্যের ভালো দেখতে না পারা, অন্যের প্রাচুর্য সহ্য করতে না পারা। পাশের বাড়ির এক বন্ধু মাধ্যমিকের ফার্স্টডিভিশনে পাশ করেছিল অমলেন্দু সেকেন্ডডিভিশন। সেকেন্ডডিভিশনের দুঃখ নয়, লাগোয়া বাড়ির সেই ছেলেটির ফার্স্ট ডিভিশনের দুঃখে বুক ফেটে সারা রাত কেঁদেছিল অমলেন্দু।

Skip to content