
এই বিষয়ে বলতে গিয়ে ভিজিল্যান্স-এর এক পরিচিত সহৃদয় অফিসারের কাছে ধমক খেয়েছে অমলেন্দু!
—দেখুন মিঃ পাল, এর আগে টিকিট কাউন্টারের কেসে রুলস অনুযায়ী আপনার বিরুদ্ধে স্টেপ নেওয়া হয়েছিল, ইনক্রিমেন্ট প্রমোশন বন্ধ হয়েছিল, ডিপার্টর্মেন্ট বদলে দেওয়া হয়েছিল! কিন্তু আমি ব্যক্তিগত ভাবে জানি, আপনি নিজে এই টাকা তছরুপ করেননি। দোষের মধ্যে কাজে ফাঁকি দিয়ে আগে পালাতেন পরের দিন এসে ব্যাকডেটে সই করে ফেঁসে গিয়েছিলেন! যে জন্য ইউনিয়ন আপনাকে সাপোর্ট করেছিল এবং আপনার পানিশমেন্ট কিছুটা কমানো হয়েছিল।
—দেখুন মিঃ পাল, এর আগে টিকিট কাউন্টারের কেসে রুলস অনুযায়ী আপনার বিরুদ্ধে স্টেপ নেওয়া হয়েছিল, ইনক্রিমেন্ট প্রমোশন বন্ধ হয়েছিল, ডিপার্টর্মেন্ট বদলে দেওয়া হয়েছিল! কিন্তু আমি ব্যক্তিগত ভাবে জানি, আপনি নিজে এই টাকা তছরুপ করেননি। দোষের মধ্যে কাজে ফাঁকি দিয়ে আগে পালাতেন পরের দিন এসে ব্যাকডেটে সই করে ফেঁসে গিয়েছিলেন! যে জন্য ইউনিয়ন আপনাকে সাপোর্ট করেছিল এবং আপনার পানিশমেন্ট কিছুটা কমানো হয়েছিল।
এবারেও কিন্তু আপনি সেই একই ভুল করতে যাচ্ছেন। আপনি যদি বলেন যে, ফাইলের লিস্টে ডকুমেন্ট মিলিয়ে টিক দিয়ে সই করেছেন, তাহলে ডকুমেন্টস গেল কোথায়? আর যে টেন্ডার পেয়েছে তারই ডেসপ্যাচ রিসিট বা অ্যাকনলেজমেন্ট যদি ফিজিক্যালি না পাওয়া যায়, আর লিস্টে ডকুমেন্ট পাওয়ার কথা সই করে স্বীকার করা হয়ে থাকে তাহলে সেটা তো ভয়ংকর অপরাধ! তার মানে আসল ডকুমেন্ট নেই এটা প্রমাণ করা যাচ্ছে না যে অফিসিয়ালি সেই পার্টি টেন্ডার ডকুমেন্ট কীভাবে পেয়েছে। টেন্ডার পেতে অন্য কোনও গরমিল করেছে কিনা! অথচ আপনার সই করা লিস্টের রেকর্ড ম্যানিউপুলেট করা হয়েছে। টেন্ডার যে সঠিকভাবে হয়েছে সেটা সাবস্ট্যানশিয়েট করছে আপনার ম্যানুপুলেটেড ডকুমেন্ট!
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৫: অনুসরণ/৬

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৩: জলপিপি
—দেখুন স্যার আপনার সব কথা আমি বুঝতে পারছি। কিন্তু বিশ্বাস করুন আমি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ডেসপ্যাচ আর অ্যাকনলেজমেন্ট ডকুমেন্ট-এর সঙ্গে পার্টির নাম মিলিয়ে টিক দিয়েছি। আমি মিথ্যে বলছি না।
—আমি জানি আপনি মিথ্যে বলছেন না! কিন্তু সেটা প্রমাণ করতে না পারবেন আপনি, না পারব আমি!
—আচ্ছা পার্টি তো নিয়ম মেনেই টেন্ডার বক্সে সিল বন্ধ টেন্ডার জমা দিয়েছে, আর টেন্ডারের সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই!
—নেই! যদি এই পার্টি অর্ডার না পেয়ে রাম-শ্যাম-যদু যে কেউ পেতো তাহলেও কোনও সমস্যা হত না। প্রবলেম হল এরাই কাজের বরাত পেয়েছে। আর শোরগোল করছে তারা দু’জন যারা বরাত পায়নি। তারা প্রমাণ করতে চায় টেন্ডার পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ, রেলওয়েজের টেন্ডার কোটি টাকার কাজ, কিছু খরচাপাতি করে হইচই বাঁধিয়ে টেন্ডার গুলিয়ে দিতে পারলেই কেল্লা ফতে!
—আমি জানি আপনি মিথ্যে বলছেন না! কিন্তু সেটা প্রমাণ করতে না পারবেন আপনি, না পারব আমি!
—আচ্ছা পার্টি তো নিয়ম মেনেই টেন্ডার বক্সে সিল বন্ধ টেন্ডার জমা দিয়েছে, আর টেন্ডারের সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই!
—নেই! যদি এই পার্টি অর্ডার না পেয়ে রাম-শ্যাম-যদু যে কেউ পেতো তাহলেও কোনও সমস্যা হত না। প্রবলেম হল এরাই কাজের বরাত পেয়েছে। আর শোরগোল করছে তারা দু’জন যারা বরাত পায়নি। তারা প্রমাণ করতে চায় টেন্ডার পদ্ধতি ত্রুটিপূর্ণ, রেলওয়েজের টেন্ডার কোটি টাকার কাজ, কিছু খরচাপাতি করে হইচই বাঁধিয়ে টেন্ডার গুলিয়ে দিতে পারলেই কেল্লা ফতে!
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮২: যে রাজাকে দেখলে প্রজারা ভয় পান, সেই রাজা ভালো প্রশাসক হতে পারেন না

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১১৭: মহাভারতের বিচিত্র সব গল্পকথায় রয়েছে মানবজীবনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম অনুভূতির প্রকাশ ও দ্বন্দ্বময়
—কিন্তু আমি এটা বুঝতে পারছি না এরকম ঘটনা ঘটল কী করে?
—আপনি এগুলো বুঝতে পারেন না বলেই তো বারবার এই ধরনের বিপদে পড়ে যান! আপনার আশেপাশে কি ঘটছে সেদিকে নজর রাখেন না! আপনার পেছনে কে কী করছে সেদিকটা ঘুরেও দেখেন না! আপনার হেফাজতে থাকা ফাইল ক্যাবিনেট থেকে ওই দুটো ডকুমেন্ট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে?
—কেন?
—একটু ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখুন উত্তরটা খুঁজে পাবেন!
—এখন মাথায় কিছুই আসবে না!
—ফাইল ক্যাবিনেটের চাবি আপনার কাছেই থাকে?
—হ্যাঁ!
—ওই ক্যাবিনেটে ডিপার্টমেন্টের আরও ফাইল থাকে! যে ফাইলগুলো অন্য স্টাফেরাও হ্যান্ডেল করেন।
—হ্যাঁ, সে তো স্বাভাবিক!
—ফাইল ক্যাবিনেটের চাবি সকালবেলায় খোলা হয় আর দিনের শেষে ছুটির সময় বন্ধ করে ড্রয়ারে রেখে আপনি ড্রয়ার চাবি দিয়ে যান! ঠিক?!
—হ্যাঁ!
—বছরের মধ্যে কিছুটা সময় আপনার ছুটি থাকে মানে ছুটি নেন তো, ক্যাসুয়াল লিভ বা লম্বা প্ল্যান্ড ছুটি!
—টুকটাক ক্যাজুয়াল লিভ, সিক লিভ নিই। তবে লম্বা ছুটি… কিছুদিন আগে মানে বিয়ের পর একটু বেড়াতে গিয়েছিলাম তখন নিয়েছিলাম।
—তখন নিশ্চয়ই অফিসের কাজ বন্ধ ছিল না, ক্যাবিনেট খোলা হয়েছিল ফাইল বের করা হয়েছিল ক্যাবিনেট বন্ধও করা হয়েছিল!
—হ্যাঁ, সেটা তো হয়ই!
—সেটা হয় এবং সেটাই স্বাভাবিক বলে এবারেও আপনি অল্পশাস্তির উপর দিয়ে বেঁচে যাবেন। যদি নিজের কর্তব্যের সাফাই গাইতে এই টিকমারা লিস্টটা আঁকড়ে পড়ে না থাকেন। তবে সম্ভবত এবার একমাত্র আপনাকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না, এটা গোটা ডিপার্টমেন্টের গাফিলতি হিসেবে কনসিডার করা হবে।
—আপনি এগুলো বুঝতে পারেন না বলেই তো বারবার এই ধরনের বিপদে পড়ে যান! আপনার আশেপাশে কি ঘটছে সেদিকে নজর রাখেন না! আপনার পেছনে কে কী করছে সেদিকটা ঘুরেও দেখেন না! আপনার হেফাজতে থাকা ফাইল ক্যাবিনেট থেকে ওই দুটো ডকুমেন্ট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে?
—কেন?
—একটু ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখুন উত্তরটা খুঁজে পাবেন!
—এখন মাথায় কিছুই আসবে না!
—ফাইল ক্যাবিনেটের চাবি আপনার কাছেই থাকে?
—হ্যাঁ!
—ওই ক্যাবিনেটে ডিপার্টমেন্টের আরও ফাইল থাকে! যে ফাইলগুলো অন্য স্টাফেরাও হ্যান্ডেল করেন।
—হ্যাঁ, সে তো স্বাভাবিক!
—ফাইল ক্যাবিনেটের চাবি সকালবেলায় খোলা হয় আর দিনের শেষে ছুটির সময় বন্ধ করে ড্রয়ারে রেখে আপনি ড্রয়ার চাবি দিয়ে যান! ঠিক?!
—হ্যাঁ!
—বছরের মধ্যে কিছুটা সময় আপনার ছুটি থাকে মানে ছুটি নেন তো, ক্যাসুয়াল লিভ বা লম্বা প্ল্যান্ড ছুটি!
—টুকটাক ক্যাজুয়াল লিভ, সিক লিভ নিই। তবে লম্বা ছুটি… কিছুদিন আগে মানে বিয়ের পর একটু বেড়াতে গিয়েছিলাম তখন নিয়েছিলাম।
—তখন নিশ্চয়ই অফিসের কাজ বন্ধ ছিল না, ক্যাবিনেট খোলা হয়েছিল ফাইল বের করা হয়েছিল ক্যাবিনেট বন্ধও করা হয়েছিল!
—হ্যাঁ, সেটা তো হয়ই!
—সেটা হয় এবং সেটাই স্বাভাবিক বলে এবারেও আপনি অল্পশাস্তির উপর দিয়ে বেঁচে যাবেন। যদি নিজের কর্তব্যের সাফাই গাইতে এই টিকমারা লিস্টটা আঁকড়ে পড়ে না থাকেন। তবে সম্ভবত এবার একমাত্র আপনাকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না, এটা গোটা ডিপার্টমেন্টের গাফিলতি হিসেবে কনসিডার করা হবে।
আরও পড়ুন:

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০১: মা সারদার মায়িকবন্ধন ত্যাগ

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৫৯: নীল হ্রদের পারে, নীল আকাশের নিচে লাল রঙের হেলিকপ্টার অন্য মাত্রা এনে দিয়েছিল
আবার অমলেন্দু পালের ভর্ৎসনা মাখানো অফিস মেমো জুটল। তবে অনুমান মতো এবার একা তাকেই দোষী করা হয়নি, গোটা ডিপার্টমেন্টকে ওয়ার্নিং দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর ফলটা হল মর্মান্তিক, ক্যাশ কাউন্টারের সেই অন্যায়ের দায় নিয়ে এতদিন অমলেন্দু প্রমোশন আটকে ছিল! আর কয়েকটা মাস কাটলেই অভিশাপ-মুক্ত হতে পারতো অমলেন্দু। কিন্তু তার আগেই মেমো খাওয়ার ফলে এবারের প্রমোশনটাও কেঁচিয়ে গেল। তার দু’বছর জুনিয়র যারা তারা টকটক করে প্রমোশন পেয়ে অমলেন্দুর উপরে উঠে গেল।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২: “জনৈক গণশত্রুর জবানবন্দি”

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১১৯: আশ্রমের ছাত্ররা বৃষ্টিতে ভিজলে কুইনাইন খাওয়ানো হত
এখান থেকেই মানুষটা বদলে গেল। অমলেন্দুর মনে হতে লাগলো যে কেউ সর্বক্ষণ তার পিছনে ক্ষতি করতে চাইছে। অফিসে সে সব সময় সন্নিগ্ধ হয়ে থাকতো। হঠাৎ হঠাৎ পিছনে ফিরে দেখতো কেউ তাকে লক্ষ্য করছে কিনা। অফিস থেকে বাড়ি যাবার সময় থমকে গিয়ে আশপাশ দেখে নিতো, তাকে কেউ ফলো করছে কি না? এই অকারণ সন্দেহ একটা মানুষকে ধীরে ধীরে একজন পুরোদস্তুর মনোরোগী বানিয়ে দিল! —চলবে।
অমলেন্দু পাল মৃত্যুরহস্য। পরবর্তী পর্ব আগামী বৃহস্পতিবার ১৯ জুন ২০২৫
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। উপন্যাস লেখার আগে জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১ম খণ্ড)’। এখন লিখছেন বসুন্ধরা এবং…এর ৩য় খণ্ড।


















