
চিঠিতে লেখা—
আমি আশঙ্কা করছি আমার ওপর হামলা হতে পারে! এমন কি আমাকে খুনও করা হতে পারে। আমার জীবন সংশয় ঘটলে দু’জন দায়ী থাকবে—আমার স্ত্রী প্রতিমা, যার সঙ্গে এখন আমার কোনও সম্পর্ক নেই আর তার আত্মীয় ও গোপন প্রেমিক কুন্তল। এই চিঠি আমি সজ্ঞানে কারও প্ররোচনা ছাড়া লিখেছি।
—ইতি অমলেন্দু পাল।
পুলিশের প্রাথমিক কর্তব্য অনুযায়ী, মৃতের জবানীতে লেখা এই চিঠির ভিত্তিতে প্রতিমা ও কুন্তলকে তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এত কিছুর পর এই কেস ধৃতিমান চৌধুরীর কাছে এল! এর আগের কেসগুলোতে সূত্রের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে অপরাধী পর্যন্ত পৌঁছনো ছিল চ্যালেঞ্জ। এখন অপরাধী হিসেবে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারাই সঠিক অপরাধী কিনা তার অনুসন্ধান করার জন্য গোয়েন্দা বিভাগ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে অমলেন্দু পাল মৃত্যু রহস্য হাতে নিয়েছে।
আমি আশঙ্কা করছি আমার ওপর হামলা হতে পারে! এমন কি আমাকে খুনও করা হতে পারে। আমার জীবন সংশয় ঘটলে দু’জন দায়ী থাকবে—আমার স্ত্রী প্রতিমা, যার সঙ্গে এখন আমার কোনও সম্পর্ক নেই আর তার আত্মীয় ও গোপন প্রেমিক কুন্তল। এই চিঠি আমি সজ্ঞানে কারও প্ররোচনা ছাড়া লিখেছি।
—ইতি অমলেন্দু পাল।
পুলিশের প্রাথমিক কর্তব্য অনুযায়ী, মৃতের জবানীতে লেখা এই চিঠির ভিত্তিতে প্রতিমা ও কুন্তলকে তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এত কিছুর পর এই কেস ধৃতিমান চৌধুরীর কাছে এল! এর আগের কেসগুলোতে সূত্রের ভিত্তিতে অনুসন্ধান করে অপরাধী পর্যন্ত পৌঁছনো ছিল চ্যালেঞ্জ। এখন অপরাধী হিসেবে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারাই সঠিক অপরাধী কিনা তার অনুসন্ধান করার জন্য গোয়েন্দা বিভাগ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে অমলেন্দু পাল মৃত্যু রহস্য হাতে নিয়েছে।
বিভাগীয় কর্তা বিভূতি চক্রবর্তীর এতদিনকার অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়েছে যে কুন্তল বা প্রতিমা দু’জনের কেউই এই হত্যার সঙ্গে যুক্ত নয়। তাই যদি সত্যি হয় তবে মৃত্যু বা হত্যা যাই হোক সেটা ঘটল কীভাবে? আর আসল অপরাধীই বা কে? বিভূতি চক্রবর্তী ধৃতিমানকে চিনতেন প্রাথমিকভাবে একজন নাট্যপরিচালক এবং পরবর্তীকালে এক চিত্র পরিচালক হিসেবে। তাই তাঁর মনে হয়েছে এই গোটা ঘটনার মধ্যে অপরাধের থেকে মানবিক সম্পর্কের টানাপড়েন মনের বিচিত্র গতি ও অনুভূতি জড়িয়ে রয়েছে। সুতরাং পুলিশ বিভাগের চিরাচরিত তদন্তের চেয়েও জরুরি কেন কোন মানসিক অবস্থায় এই ঘটনা ঘটল সেটা জানা!
—ক্রিমিনোলজির চেয়ে সাইকোলজিটা এখানে বেশি জরুরি চ্যাম্প! তাই এই কেসের দায়িত্ব আমি আপনাকে দিলাম!
—কিন্তু স্যার এর জন্য এই সবকটি চরিত্রকে বিশেষ করে স্টাডি করা দরকার। এটা তো আর সাজানো উপন্যাস নয় যে চরিত্রগুলো বিশ্লেষণ করার পরে ক্লাইম্যাক্স এ পৌঁছচ্ছে। আমাকে উল্টোপথে ক্লাইম্যাক্স থেকে চরিত্র বিশ্লেষণে যেতে হবে, সেটা যথেষ্ট সময় সাপেক্ষ। ততদিনে পুলিশ অপরাধী বলে যাদের ধরেছে তাদের যদি সাজা হয়ে যায়!
—ক্রিমিনোলজির চেয়ে সাইকোলজিটা এখানে বেশি জরুরি চ্যাম্প! তাই এই কেসের দায়িত্ব আমি আপনাকে দিলাম!
—কিন্তু স্যার এর জন্য এই সবকটি চরিত্রকে বিশেষ করে স্টাডি করা দরকার। এটা তো আর সাজানো উপন্যাস নয় যে চরিত্রগুলো বিশ্লেষণ করার পরে ক্লাইম্যাক্স এ পৌঁছচ্ছে। আমাকে উল্টোপথে ক্লাইম্যাক্স থেকে চরিত্র বিশ্লেষণে যেতে হবে, সেটা যথেষ্ট সময় সাপেক্ষ। ততদিনে পুলিশ অপরাধী বলে যাদের ধরেছে তাদের যদি সাজা হয়ে যায়!
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-৮৯: অনুসরণ/১০

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৪: যুদ্ধ করতে সব সময় পেশীশক্তি নয়, দরকার বিশ্বাসের গল্পও

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬১: রাস্তায় গাড়ির তেল শেষ হয়ে গেলে দুর্গতির কোনও সীমা থাকবে না
—যারা ধরা পড়েছে তারা প্রকৃত অপরাধী না হলে অবশ্যই দুর্ভাগ্যটা তাদের। চেয়ারে বসে অনেক কথা ইচ্ছে থাকলেও বলা যায় না। কিন্তু ব্যক্তিগত স্তরে তো বলা যায়। এই যে আমাদের আইনের ভাষায় একটা কথা খুব বলা হয়, ১০ জন অপরাধী ছাড়া পেতে পারে কিন্তু একজন নিরাপরাধও যেন অন্যায় শাস্তি না পায়। আসলে তা কি ঘটে? বহুক্ষেত্রে অপরাধীরা ছাড়া পেয়ে যায় কারণ যত বড় অপরাধী তত দামি উকিল! প্রমাণ থাকে না সাক্ষী থাকে না। আর অসহায় নিরাপরাধ মানুষ নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে না পেরে অন্যায় ভাবে শাস্তি পেতে থাকেন! আদালতে প্রকৃত দোষী বা নির্দোষের বিচার হয় না। আপাত প্রমাণ-পাল্টা প্রমাণের ভিত্তিতেদোষ বা নির্দোষের আইনের ধারার বিচার হয়। সাক্ষ্যপ্রমাণ না থাকলে হার্ডকোর ক্রিমিনাল আইনের চোখে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে সমাজে মিশে যায়। তারপর রয়েছে আমাদের দেশের বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৩: মেথরকে ডেকে এনে বসাতেন নিজের বিছানায়

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২২: য পলায়তি, স জীবতি
ধৃতিমান জানে যে এই নিয়ে বহু কথা হতে পারে কিন্তু অনুমানের ভিত্তিতে শাস্তি দেওয়া যায় না। তাই দোষী যদি অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সব প্রমাণ লোপাট করে ফেলতে পারে তাহলে আইনের হাঁড়িকাঠে তাকে কিছুতেই বলি দেওয়া যাবে না! আপাতদৃষ্টিতে বিচার করলে তার অপরাধ নিশ্চিত হওয়া সত্বেও তাকে অপরাধী বলা যাবে না। আইনের পরিভাষা এমনই যে তাকে কিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বলা হয় বটে যে অপরাধী যতই বুদ্ধিমান হোক অকুস্থলে একটা না একটা প্রমাণ ছেড়ে যায় কিন্তু শতকরা হিসেবে দেখা যায় সেই প্রমাণের ভিত্তিতে শাস্তি হওয়া অপরাধীর সংখ্যা নগণ্য।
কুন্তলের সঙ্গে কথা বলে বিশেষ সুবিধা হয়নি সে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে বিয়ের পর থেকে প্রতিমার সঙ্গে তার কখনও কোনওরকম যোগাযোগ ছিল না। প্রতিমা এই একই কথা বলেছিল স্বীকার করেছে যে তার শেষ চিঠি এবং মনের অবস্থা এমন ছিল যে হয়তো সে এই ঘটনা না ঘটলে কুন্তলের সঙ্গে আবারও একবার যোগাযোগ করতো। প্রতিমা বলেছে, অমলেন্দু যে কোনও কারণেই হোক মানসিক দুর্বলতায় ভুগছিল! হতে পারে তার অফিস সংক্রান্ত ক্রমাগত কোন চাপ তার এই মনের দুর্বলতার কারণ! প্রতিমা স্বীকার করেছে যে অমলেন্দুর কাছে তার ও মামাতো দাদা কুন্তলের সম্পর্ক নিয়ে চিঠি এসেছিল। অমলেন্দু সরাসরি গিয়ে শ্রীরামপুরে তার সঙ্গে কথা বলে। সেই চিঠি প্রসঙ্গ তুলেছিল প্রতিমা স্বীকার করেছিল পারিবারিক বাধার বিচারে আত্মীয়তার মধ্যে এই ধরনের সম্পর্ক অবৈধ তাই সে এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার জন্য অমলেন্দুর সঙ্গে বিয়েতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু এসবই জবানবন্দি, এর ভিত্তিতে প্রতিমা বা কুন্তলের দোষমুক্তির সম্ভাবনা খুবই কম। ধৃতিমানের মনে হল অমলেন্দুর অফিসে ছড়িয়ে আছে অনেক সূত্র।
কুন্তলের সঙ্গে কথা বলে বিশেষ সুবিধা হয়নি সে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে বিয়ের পর থেকে প্রতিমার সঙ্গে তার কখনও কোনওরকম যোগাযোগ ছিল না। প্রতিমা এই একই কথা বলেছিল স্বীকার করেছে যে তার শেষ চিঠি এবং মনের অবস্থা এমন ছিল যে হয়তো সে এই ঘটনা না ঘটলে কুন্তলের সঙ্গে আবারও একবার যোগাযোগ করতো। প্রতিমা বলেছে, অমলেন্দু যে কোনও কারণেই হোক মানসিক দুর্বলতায় ভুগছিল! হতে পারে তার অফিস সংক্রান্ত ক্রমাগত কোন চাপ তার এই মনের দুর্বলতার কারণ! প্রতিমা স্বীকার করেছে যে অমলেন্দুর কাছে তার ও মামাতো দাদা কুন্তলের সম্পর্ক নিয়ে চিঠি এসেছিল। অমলেন্দু সরাসরি গিয়ে শ্রীরামপুরে তার সঙ্গে কথা বলে। সেই চিঠি প্রসঙ্গ তুলেছিল প্রতিমা স্বীকার করেছিল পারিবারিক বাধার বিচারে আত্মীয়তার মধ্যে এই ধরনের সম্পর্ক অবৈধ তাই সে এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার জন্য অমলেন্দুর সঙ্গে বিয়েতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু এসবই জবানবন্দি, এর ভিত্তিতে প্রতিমা বা কুন্তলের দোষমুক্তির সম্ভাবনা খুবই কম। ধৃতিমানের মনে হল অমলেন্দুর অফিসে ছড়িয়ে আছে অনেক সূত্র।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২১: পরিবেশ শুধু প্রাকৃতিক বাতাবরণ নয়, এর প্রভাব মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও সম্পৃক্ত

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৭: আমুর বাজ
অফিসে গিয়েই লোকাল থানার উপস্থিতিতে তার বন্ধ ড্রয়ারের সিল করা লক খুলেখুঁজে পাওয়া গেল সেই মোক্ষম সূত্র যার ভিত্তিতে ধৃতিমান মৃত অমলেন্দুর প্রকৃত চরিত্র বিশ্লেষণ শুরু করল। ধৃতিমান বারবার চেষ্টা করেছে যে এমন কিছু খুঁজে পাওয়ার যার ভিত্তিতে অতীতটা প্রমাণ হিসেবে আদালতের সামনে রাখা যায়। অফিসেই কথা প্রসঙ্গে এই প্রথম জানা গেল অমলেন্দু ডায়েরি লিখতো, যা প্রতিমা জানতো না! অমলেন্দুর চাবি দেওয়ার ড্রয়ারের এক কোণে সেই মোটা ডায়েরি পাওয়া গেল। যে ডায়েরিতে সে তার মনের সমস্ত কথা কৈশোর যৌবন থেকে শুরু করে মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত লিখে গিয়েছে! আর পাওয়া গেল আধুনিক কালে সিগারেট খাওয়ার ভেপ আজকাল এসব অনলাইনে পাওয়া যায় সেই সঙ্গে হ্যাশ অয়েলের পরিত্যক্ত অ্যাম্পলস! অমলেন্দু যে সিগারেট খেত না তার প্রমান তার অফিসে এবং প্রতিমার পাওয়া গিয়েছিল। অথচ ভেপ নিতো কেন? কবে থেকে?
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৪: যুদ্ধ করতে সব সময় পেশীশক্তি নয়, দরকার বিশ্বাসের গল্পও

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৫: মা সারদার সাধুভক্তি
শুরুর থেকে অমলেন্দুর মৃত্যু পর্যন্ত কাহিনি যেভাবে এগিয়েছে তার সবটুকুই মৃত অমলেন্দুর ডায়েরির থেকে নেওয়া। শেষপাতায় কতকগুলো আপাত সম্পর্কহীন গুরুত্বপূর্ণ শব্দ লিখে পেন দিয়ে গোল সার্কেল করা হয়েছে—
বারবার হেরে যাওয়া, মানসিক দুর্বলতা, অকারণ না সঠিক সন্দেহ, একটু একটু করে শেষ হওয়ার থেকে একেবারে শেষ হয়ে যাওয়া অনেক সম্মানের! আমি যে যন্ত্রনা ভোগ করছি প্রতিমা ও কুন্তলকে সেই একই যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে, প্রতিশোধ প্রতিহিংসা মুক্তি , সাহসই সেই মুক্তির পথ।—চলবে।
বারবার হেরে যাওয়া, মানসিক দুর্বলতা, অকারণ না সঠিক সন্দেহ, একটু একটু করে শেষ হওয়ার থেকে একেবারে শেষ হয়ে যাওয়া অনেক সম্মানের! আমি যে যন্ত্রনা ভোগ করছি প্রতিমা ও কুন্তলকে সেই একই যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে, প্রতিশোধ প্রতিহিংসা মুক্তি , সাহসই সেই মুক্তির পথ।—চলবে।
অমলেন্দু পাল মৃত্যুরহস্য। পরবর্তী পর্ব আগামী বৃহস্পতিবার ১৭ জুলাই, ২০২৫।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। উপন্যাস লেখার আগে জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১ম খণ্ড)’। এখন লিখছেন বসুন্ধরা এবং…এর ৩য় খণ্ড।


















