রবিবার ৭ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
কলকাতার বিখ্যাত ব্যবসায়ী পরিবারের একমাত্র উত্তরাধিকারী রিয়া সেনকে সকালবেলা নিউ আলিপুরে নিজের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেল। সুন্দরী রিয়া অবিবাহিতা, বয়স এখন ৩৮।

রিয়ার দাদু আনন্দলাল সেনের বাবা অমৃতলাল সেন বঙ্গজীবনের অঙ্গে একটি সুরভিত অ্যান্টিসেপ্টিক ক্রিম ছুঁইয়ে দিয়েছিলেন। সেটা ১৯৩১ সাল। আজ ৯৪ বছর হয়ে গেল, সারা ভারতে এখনও এই ক্রিমের জুড়ি নেই। চার প্রজন্ম ধরে দাপিয়ে ব্যবসা করছে সেন পরিবার। আর ৬টা বছর গেলেই শতবর্ষ উদযাপনের নানা পরিকল্পনা চলছিল। তারই মাঝে ছন্দপতন। শহরের ঐতিহ্যশালী নামী পরিবার! একেবারে প্রাথমিকভাবেই তদন্তের ভার এসে পড়ল ডিসি- ডিডি বিভূতি চক্রবর্তীর গোয়েন্দা বিভাগে।
‘হ্যালো বাবু’ রহস্য ধারাবাহিকের নিয়মিত পাঠকরা জানেন, বাবু মানে ধৃতিমান চৌধুরী থাকেন উল্টোডাঙার মুচিপাড়া বাজারের পিছনটায়। করবাগান সর্বজনীনের পুজো যেখানে হয়, তার কাছেই একটা দোতলা বাড়িতে বাবু আর বুবু আজ বহুবছর ভাড়া থাকে। ‘হ্যালো বাবু’র যাঁরা নিয়মিত পড়েন না, মানে যাঁদের কাছে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ আছে, তাঁরা খুব স্বাভাবিকভাবেই না বাবুকে চেনেন, না বুবুকে! বাবু ছবি বানালেও সন্দীপ রায় নন। বাবু কালচার নামে তাঁর নিজস্ব একটা নাটকের একটা দল আছে, সেখানে সেই নাট্যকার এবং পরিচালক।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-৯২: অনুসরণ/১৩

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-২৭: আকাশ এখনও মেঘলা

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৫: রবীন্দ্রনাথের বিয়ের রাতে মারা গিয়েছিলেন ঠাকুরবাড়ির জামাই

তবে নাম বললেই ফস করে চিনে ফেলার মতো বিখ্যাত সে নয়। ভালো নাম ধৃতিমান। না চ্যাটার্জিও নয়। ধৃতিমান চৌধুরী। সাড়ে ছ-ফুট লম্বা সে নয়। কব্জির জোর এমন কিছু না। রিভলবারই নেই। ফলে ২৭ নম্বর রজনী সেন রোডের ফেলুদা, প্রদোষ মিত্তির বা হ্যারিসন রোড থেকে কেয়াতলায় চলে আসা বক্সী বাবুর মতো সে অতো ঝকমকে বুদ্ধিমান নয়! তারই একটা রিলিজ না হওয়া ছবির প্রাইভেট স্ক্রিনিংয়ে ছবি দেখে সিনেমাপাগল গোয়েন্দা অধিকর্তা বিভূতি চক্রবর্তী তাঁর ভক্ত হয়ে পড়েন।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৬: আমরা আসলে কাকে পুজো করছি? ঈশ্বরকে, নাকি রক্তমাখা অভ্যাসকে?

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৮: সকলের উপর মা সারদার ছিল সমান অধিকার

তারপর সে পেশায় পরিচালক এবং নেশায় ‘সত্যানুসন্ধানী’ জানতে পেরে বেসরকারিভাবে উল্টোডাঙারই এক বিধবা সুষমা কর হত্যারহস্যের কিনারা করতে বলেন। ধৃতিমানের ধীশক্তিতে সকলে চমকিত হয়। সম্পর্কের সেই শুরু! বাবুর জীবনের একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হল বুবু! তাঁর অভিন্নহৃদয় বন্ধু, তাঁর জীবনের সঙ্গী। মানুষ নয়, বুবু একটি পোষা কাকাতুয়া! সে অনর্গল নানা কথা বলে আর টেলিফোনে বাবু কথাবলার সময় শোনে ও দুমদাম দু’-একটা দামি ক্লু দিয়ে দেয়!
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৫: কতদিন পরে এলে

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৪: আনন্দমূর্তি রামের অভাবে অযোধ্যায় নৈরাশ্যের ছায়া, বাস্তব জীবনেও কি আনন্দহীনতা অবসাদ ডেকে আনে?

সেদিন সকালবেলাতেই উল্টোডাঙ্গার মুচিবাজারের বাসিন্দা বাবু মানে ধৃতিমান চৌধুরীর মোবাইল বেজে উঠল। দুরন্ত দুলকি তালে চেলো আর ট্রাম্পেট মেশানো সোনার কেল্লার বহুবার শোনা ক্যামেলরাইড সিকোয়েন্সের সেই অবিস্মরণীয় সাসপেন্স মিউজিক। যাতে মিশে আছে ট্রেনের মোটিফ আর আর ফেলুদার নিজস্ব থিমের ছোঁয়া। বাবু মানে ধৃতিমানের ফোনে চক্রবর্তী সাহেবের পার্সোনাল নম্বরের ল্যান্ড ফোনের রিংটোন ‘মহারাজা তোমারে সেলাম”। গোয়েন্দা কর্তা ভৈরব চক্রবর্তীর মোবাইলের চিহ্ন ফেলুদা থিম! ক্যামেলরাইড গোয়েন্দা অফিসার শ্রেয়া বাসুর রিংটোন।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৮ : গরুর চোখে জল

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৬৫: ইন্দ্রধনু আর ‘ইন্দ্রাণী’

এদিকে ফোনটা অনেকক্ষণ বাজছে। সুরটা শোনার জন্য একটু পরেই ধরল ফোনটা। শ্রেয়া বলল, ওলা বা উবের নিয়ে চট করে নিউআলিপুর আসতে। সাতসকালে ক্রাইম সিনে পৌঁছে গিয়েছেন শ্রেয়া। প্রাথমিকভাবে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। ঘরের কোথাও কোনওরকম অস্বাভাবিকতা নেই। বাইরে থেকে কেউ আসেননি বলেই মনে হচ্ছে। রিয়ার বয়স্কা মা সকালবেলা মৃতদেহ আবিষ্কার করেন। ক্রাইমসিন এভিডেন্স বলতে অর্ধেক খালি চায়ের কাপ তাতে বেশ দামি ব্র্যান্ডের একটি গ্রিণ টি-এর ব্যাগ!—চলবে।

গ্রিন-টি। পরবর্তী পর্ব আগামী বৃহস্পতিবার ৭ আগস্ট, ২০২৫।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩খণ্ড)’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content