রবিবার ৭ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
দিন কয়েক পরে ধৃতিমানের সন্দেহ এবারেও সঠিক বলে প্রমাণিত হল। রোমিও জেঠুর প্যান্টের থেকে নমুনা নিয়ে ধৃতিমানের অনুরোধ মতো তার সমস্ত ধরনের টক্সিকোলজির টেস্ট করতে অনুরোধ করা হয়েছিল। আর তা থেকে বেরিয়ে গেলেও এক ভয়ঙ্কর তথ্য। ফরেনসিকের মফিজুল ফোন করে বলল—
—জাঁহাপানা তুসি গ্রেট হো!
—গালি দিচ্ছ কেন ভাই?
—আরে কমপ্লিমেন্ট দিচ্ছি!
—বিশ্বাস হয় না। রোমিও জেঠুর প্যান্টের স্যাম্পলে কিছু পাওয়া যায়নি তো। আসলে বুনো হাঁস তাড়া করার মতো একটা ব্যাপার করেছিলাম।
—তুমি ফাটিয়ে দিয়েছো বস!
—মফিজুল প্লিজ! আমি নিজেই নাটক এবং ছবি করি কিন্তু কিছুতেই ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছতে ডিলে করানোটা পছন্দ করি না। এই “কি হবে কি হবে” ব্যাপারটা ক্রিয়েট করতে যতটা মজা লাগে। দর্শক হিসেবে এই ব্যাপারটার শিকার হয়ে পড়তে ঠিক ততটাই অস্বস্তি হয়। পড়ার বই হলে আমি তো পাতা উল্টে শেষটুকু আগে পড়েনি। ল্যাপটপের ছবি হলে ফার্স্ট ফরওয়ার্ড করে লাস্ট সিন আগে দেখি! সিনেমা হলে গিয়ে ছবি বহুদিন দেখিনি। আমি জানি তুমি বলবে যে আমি এই জেনারেশানের মেকারদের হিংসে করি তাই ছবি দেখি না এবং আমার নাক উঁচু! তা নয় ওই ঘুরপথে ক্লাইম্যাক্স দেখার ধৈর্য নেই আমার চটপট বলো আমার কেলেঙ্কারিটা কী এবং কতখানি!
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-৯৮: গ্রিন টি /৬

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩১: যে পালিয়ে বেড়ায়

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৬: তালচোঁচ

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৪: ‘শিলালিপি সংগ্ৰহ’ গ্রন্থ অতীতের ত্রিপুরা নিয়ে গবেষণার দিশারী

—তোমার জন্যই প্রমাণ হচ্ছে এই তিনটেই খুন। স্বাভাবিক হার্ট অ্যাটাক নয়।
—কী বলছ!
—ওই যে তুমি সমস্ত ধরনের টক্সিকোলজির টেস্ট বলেছিলে ওটা না বললে ইনভেস্টিগেশন ইনকনক্লুসিভ থেকে যেত। বিন্টারোর হদিশ পেতাম না!
—বিন্টারো কী?
কলকাতায় বৃষ্টি

নাটক-সহ এই সংকলনটি প্রকাশিত হবে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে চেতনা প্রযোজিত ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ অভিনয়ের আগে সন্ধ্যে ৬:১৫ মিনিটে। প্রকাশ করবেন পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায় এবং অধ্যাপক সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়।

—সাঙ্ঘাতিক ভেষজ বিষ! ফ্যামিলি হিসেবে আকন্দ নয়নতারা করবী জাতীয় গাছ। এটা ট্রেস করতে একজন বোটানিস্টের হেল্প নিতে হয়েছে। সমুদ্রের ধারে ভিজে জায়গায় ঝাঁকড়া গাছ, দক্ষিণভারতের কেরালা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ম্যাডাগ্যাস্কর, অস্ট্রেলিয়াতে হয়। এই গাছের ছাল পাতা সব বিষাক্ত কিন্তু ফলের যে বীজ অংশটা সেটা সাংঘাতিক বিষ। ছোট কাঁচা আমের মতো সবুজ ফল হয় পাকলে লাল, ভেতরে যে একটা বীজ থাকে তাতে সার্বারিন, নাইট্রিটোলিন আর থেভিন ছাড়াও কিছু ভীষণ বিষাক্ত অ্যালকোহলয়েড স্টেরোয়েডস টারপেনয়েডস আর স্যাপোনিন্স থাকে!
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ

—এই সব কেমিস্ট্রির টার্ম শুনেই তো শরীর খারাপ লাগছে। মাধ্যমিকে ফিজিক্স আর অংকের জন্যে সায়েন্স গ্রুপে পাশ করেছি রসায়ন বিষয়টাই আমার কাছে বিষায়ন!
—জেনারেল অটপ্সিতে সার্বারিন ধরা পড়ে না – যে বা যারা এটা ব্যবহার করেছে তারা সেটা খুব ভালো করে জানে। আবার এই প্ল্যান্ট থেকেই অ্যান্টি-ক্যান্সার, আন্টি-ইনফ্লামেটরি, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল, এনালজেসিক ওষুধপত্র তৈরি হয়। ম্যাডাগাস্কারের ইতিহাসে পাওয়া যায় রাজারানীদের মৃত্যুদণ্ড দিতে এই বিষ ব্যবহার হোত —তাই একে সুইসাইড ট্রি-ও বলে!
—কিন্তু যা বলছো এই বিষ ভীষণ আনকমন।
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩০: ঠাকুরবাড়ির জামাই রমণীমোহনকে মন্ত্রী করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৯: শকুন্তলারা আজও আছেন

—হ্যাঁ! ভাগ্যিস তুমি ইন্ডিকেশন দিয়েছিলে নিউ আলিপুরে রিয়া সেনের বাড়িতে একটা অদ্ভুত জায়গা থেকে গ্রিনটির বেশ কিছু আনইউজড পাঊচ উদ্ধার হয়েছিল। ওদের ওয়েস্টবিনে ফেলা হয়েছিল গ্রিন-টির অব্যবহৃত প্যাকেট। আদৌ কিছু পাওয়া যাবে কিনা আমার সন্দেহ ছিল তাই আর তোমাকে জানাইনি-প্যান্টের স্যাম্পল থেকে বিন্টারো পাবার পর খুব সাবধানে পাউচগুলো এবং পাউচের ভেতরের টি ব্যাগ থেকে স্যাম্পল টেস্ট করা হয়েছিল। রেজাল্ট পাওয়ার পর সত্যি চমকে গেছি। পাউচগুলোর কাগজের প্যাকেটের বাইরে খুব সূক্ষ্ম সূচ ব্যবহার করে বিষ ইনজেক্ট করা হয়েছে। মাইক্রোস্কোপ ছাড়া যে ছিদ্র আবিষ্কার করা প্রায় অসম্ভব। যে পাউচগুলো ফেলে দেওয়া হয়েছে সেগুলো সব কটা পয়েজন্ড! রান্নাঘরের কোন ড্রয়ারে টি-ব্যাগের আর কোনও স্টক পাওয়া যায়নি – রিয়া সেনের মায়ের কাছে জানা গেল ওদের একটা স্টোর রুম আছে – সেখানে অনলাইনে আনানো জিনিসপত্রের প্যাকেট রাখা থাকে, তার মধ্যে খুঁজে এই গ্রিনটির প্যাকেট পাওয়া গেছে। যেগুলোর একটা বাঞ্চ আমরা নিয়ে এসেছিলাম, খুব স্বাভাবিকভাবেই তাতে কোন বিষ নেই।
আরও পড়ুন:

টিচার্স ডে

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

এতটা শোনার পর ধৃতিমান চুপ করে রইল। ভাবতে থাকল বাইপাসের ধারে পাঁচতারা হোটেলে অনন্যাকে বা কোয়েস্ট মলের নেহা দাদলানিকে যে বিষ দেওয়া হয়েছে তার সোর্স কোথায়?
—আচ্ছা মফিজুল তিনটে ডেডবডিতেই কি।
—হ্যাঁ, সার্বারিন পজিটিভ! — চলবে
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩খণ্ড)’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content