
ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।
পুলিশের তদন্তে এমন তথ্য অনুসন্ধান সম্ভব যেটা ধৃতিমান বা তাদের মতো গোয়েন্দার একার পক্ষে করা সম্ভব নয়। যেমন ফোনের ভিতরে হোয়াটসঅ্যাপের ডিফল্ট টাইমারের জন্য ডিলিট হয়ে যাওয়া বা স্বেচ্ছায় ডিলিট করা চ্যাট পুনরুদ্ধার করা চ্যাটের অপরপ্রান্তের মানুষটির সব তথ্য তালাশ সংগ্রহ করা। পুলিশ প্রশাসনের সক্রিয় অনুমোদন ছাড়া মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডাররা কোনও অবস্থাতেই প্রকাশ করে না। কল রেকর্ড এমন কি প্রয়োজনে কল মনিটারিং করানো পুলিশের অনুমোদন সাপেক্ষ। তিনজনের ক্ষেত্রেই ফোনের সূত্র ধরে একজন কমন বন্ধুর খোঁজ পাওয়া গেল। যদিও তিনটি বিভিন্ন নম্বর থেকে তিনজনকে হোয়াটসঅ্যাপ এবং কল করা হয়েছিল। সেই তিনজনের ফোনের সূত্র ধরে যে যে ব্যক্তির কাছে পৌঁছনো গেল , দেখা গেল তাদের কোনও অস্তিত্ব নেই। কিন্তু সিম কার্ড ইস্যু করা হয়েছে। শুরু হল সিম কার্ডের টাওয়ার লোকেশন খুঁজে বের করা। দেখা গেল তাদের টাওয়ার লোকেশন একটি জায়গায়, সেটি নবি মুম্বাইয়ের পাম বিচ রোডে নেরুলে যে দিল্লি পাবলিক স্কুল আছে তারই কাছাকাছি কোনও এক অঞ্চল।
ইদানীং কালে অপরাধে দমনে আন্তঃরাজ্য প্রশাসনের মধ্যে একটা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। তাই আগেভাগে মুম্বই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে সব জানানো ছিল। তাদের সহযোগিতাতেই তিনটি মোবাইল নম্বরের একটি নম্বর বহুদিন পর হঠাৎ একটিভ হতে লোকেশন নির্দিষ্ট করা গেল। ওখানে দুটি এন আর আই কমপ্লেক্স রয়েছে। এন আর আই শি-উড এস্টেট ফেজ ওয়ান আর টু, ফেজ ওয়ানের একটি নির্দিষ্ট টাওয়ারের লোকেশন থেকে হিতেশ ওয়াদিয়া নামে এক ধনী ব্যবসায়ীর খোঁজ পাওয়া গেল। কিন্তু বহুদিন তিনি বিদেশে!
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-৯৯: গ্রিন টি /৭

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৩৩: আকাশ এখনও মেঘলা

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩১: যে পালিয়ে বেড়ায়

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৫: পূর্বোত্তরে আন্তরাজ্য সীমা বিবাদ
হিতেশের ফ্ল্যাট দেখাশোনা করে একটি বোবা-কালা কর্মচারী। এলাকার লোকেরা সকলেই হিতেশ ওয়াদিয়ার নাম শুনেছে, কিন্তু তাকে চোখে দেখেনি। এই হিতেশ ওয়াদিয়ার নির্দেশে সব কাজ-কর্ম চলে। হিতেশ কখনও দুবাই থেকে কখনও ইউরোপের নানা অংশ থেকে ফ্যাক্স পাঠায় ই-মেইল করে। গত দিওয়ালিতে এসেছিলেন বলে কর্মচারীটি জানালেন, মানে লিখে জানালেন।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩০: অলৌকিকতার আবরণে লৌকিক-অনুভবের পরশ

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ
ধৃতিমান বুঝতে পারছিল তদন্তটা একটা দেয়ালের সামনে গিয়ে থমকে যাচ্ছে। আর এই কলকাতায় ঘটে যাওয়া খুনগুলো অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সংগঠিত করা হয়েছে। খুব কাছাকাছি সময়ের মধ্যেই তিনজন বিষ প্রয়োগে খুন হয়েছেন। এখন খুনি কি একজন না একাধিক এটা একটা ধোঁয়াশা। খুনের মোটিফটা আরও একটা ধোঁয়াশা! হিতেশ ওয়াদিয়া বা কলকাতায় ঘটনা ঘটানো এক বা একাধিক খুনি, কেন কলকাতার সঙ্গে সংযুক্ত মাঝারী মহিলা উদ্যোগপতিদের খুন করার চক্রান্ত করবে? তাছাড়া ডালপালা ছড়িয়ে তদন্ত কলকাতার সীমানা ছাড়িয়ে নবী মুম্বই হয়ে বিদেশে পোঁছেছে। কলকাতায় প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক মহলে চাপ বাড়ছে কিন্তু কিছুতেই রহস্যের সুকঠিন লৌহগোলোকে কোন ছিদ্র করা যাচ্ছে না। গোয়েন্দা কর্তা ভৈরব চক্রবর্তী খুবই দুশ্চিন্তায় আছেন। শ্রেয়া এবং ধৃতিমান তাঁর দুই বড় সহায়, কোনওভাবেই তাঁকে কোনও সাহায্য করতে পারছে না।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯০: শত্রুকে হারাতে সব সময় অস্ত্র নয়, ছলনারও আশ্রয় নিতে হয়

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৭: আবাবিল
পুলিশ এবং গোয়েন্দা চটপট রহস্য সমাধান করে ফেলছে এমনটাই ঘটে। কিন্তু কিছুতেই রহস্যের সমাধান হচ্ছে না সবকিছু একটা থমকে যাওয়া অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে এমন অবস্থাটাও ঘটে। ধৃতিমানের জীবনে এরকম অবস্থাটা এই প্রথম। চুপচাপ বাড়ি থেকে না বেরিয়ে তিনটে কেস নিয়ে বারবার ভাবার চেষ্টা করছিল। গোয়েন্দাদপ্তরে গিয়ে ভৈরব চক্রবর্তীর মুখোমুখি হতে পারছে না। বুবুর সঙ্গে বসে বসে কথা বলছিল আপনারা তো জানেন বুবু, বাবুর পোষা কাকাতুয়ার নাম!
—হল না বুবু!
—হল না হল না!
—রিয়া সেন, অনন্যা প্যাটেল সেনগুপ্ত নেহা দাদলানি। তিনটে খুন। এখন প্রশ্ন হল খুনি কটা ? একটা না তিনটে!
—তিনটে তিনটে তিনটে!
—খুনি তিনটে না একটা!
—তিনটে তিনটে তিনটে!
—না খুনি একটাই!
—তিনটে তিনটে তিনটে!
—হল না বুবু!
—হল না হল না!
—রিয়া সেন, অনন্যা প্যাটেল সেনগুপ্ত নেহা দাদলানি। তিনটে খুন। এখন প্রশ্ন হল খুনি কটা ? একটা না তিনটে!
—তিনটে তিনটে তিনটে!
—খুনি তিনটে না একটা!
—তিনটে তিনটে তিনটে!
—না খুনি একটাই!
—তিনটে তিনটে তিনটে!
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
এর আগে অনেক জটিল রহস্য সমাধানে বুবু এরকম দুতিনটে ক্লু দিয়ে দিয়েছিল। কি করে দিয়েছিল সেটা বাবু বলতে পারবে না। কারো সঙ্গে এ নিয়ে কখনও সে আলোচনাও করেনি। কিন্তু ঘটনাটা সত্যি। এবারেও বুবু বারবার তিনটি খুনির কথা বলছে, যে টাইমফ্রেমে খুনগুলো হয়েছে তাতে তিনজন আলাদা মানুষের ইনভলভমেন্টটা জাস্টিফাই করে। তারমানে কলকাতায় এরকম তিনজন সুপারি কিলার কিংবা…
সঙ্গে সঙ্গে শ্রেয়ার কলার টিউন ফেলুদা থিম বেজে উঠল—
—হ্যাঁ শ্রেয়া!
—ডার্ক ওয়েবে এর সূত্র দিয়ে আমরা একটা অদ্ভুত লিড পাচ্ছি!
—কী রকম?
—CK মানে কন্টাক্ট কিলার বলে ডার্ক ওয়েব একটা এপ্লিকেশন আছে। খুন করার স্ট্যার্ট আপ বলতে পারেন!
—মানে?
—মানে বলতে পারব না। কিন্তু একই সঙ্গে মাল্টিপল মার্ডার করবার একটা অপশন আছে এই অ্যাপ্লিকেশনে। পেমেন্ট যা কিছু কোনও একটা বিদেশি ব্যাংকের কোডে জমা পড়ে। আমার মনে হচ্ছে এই তিনটি খুন CK অ্যাপ্লিকেশন দিয়ে করা হয়েছে। কারণ মুম্বই পুলিশ জানাচ্ছে, তারা খবর পেয়েছিল আলীবাগে একটা ২৫০০ স্কয়ার ফিট ল্যান্ড ডিলের ব্যাপারে হিতেশ ওয়াদিয়ার আধার কার্ড অ্যাক্টিভেশন হয়েছে। মানে হিতেশ নিজে এসে ডিলটা ফাইনাল করেছে। কিন্তু কোন ইমিগ্রেশন রেকর্ডে হিতেশ ওয়াদিয়ার দেশে ফেরার রেকর্ড নেই। মুম্বই পুলিশ থেকে হিতেশের নবী মুম্বাইয়ের নেরুলে এন আর আই শি-উড এস্টেট ফেজ ওয়ান ফ্ল্যাটে রেড করে কিন্তু হিতেশকে পায় না। কিন্তু সব কটা মোবাইল ফোন সিজ করেছে। তারই একটা ফোনে এই CK অ্যাপ্লিকেশনের হদিস পাওয়া গিয়েছে।— চলবে
সঙ্গে সঙ্গে শ্রেয়ার কলার টিউন ফেলুদা থিম বেজে উঠল—
—হ্যাঁ শ্রেয়া!
—ডার্ক ওয়েবে এর সূত্র দিয়ে আমরা একটা অদ্ভুত লিড পাচ্ছি!
—কী রকম?
—CK মানে কন্টাক্ট কিলার বলে ডার্ক ওয়েব একটা এপ্লিকেশন আছে। খুন করার স্ট্যার্ট আপ বলতে পারেন!
—মানে?
—মানে বলতে পারব না। কিন্তু একই সঙ্গে মাল্টিপল মার্ডার করবার একটা অপশন আছে এই অ্যাপ্লিকেশনে। পেমেন্ট যা কিছু কোনও একটা বিদেশি ব্যাংকের কোডে জমা পড়ে। আমার মনে হচ্ছে এই তিনটি খুন CK অ্যাপ্লিকেশন দিয়ে করা হয়েছে। কারণ মুম্বই পুলিশ জানাচ্ছে, তারা খবর পেয়েছিল আলীবাগে একটা ২৫০০ স্কয়ার ফিট ল্যান্ড ডিলের ব্যাপারে হিতেশ ওয়াদিয়ার আধার কার্ড অ্যাক্টিভেশন হয়েছে। মানে হিতেশ নিজে এসে ডিলটা ফাইনাল করেছে। কিন্তু কোন ইমিগ্রেশন রেকর্ডে হিতেশ ওয়াদিয়ার দেশে ফেরার রেকর্ড নেই। মুম্বই পুলিশ থেকে হিতেশের নবী মুম্বাইয়ের নেরুলে এন আর আই শি-উড এস্টেট ফেজ ওয়ান ফ্ল্যাটে রেড করে কিন্তু হিতেশকে পায় না। কিন্তু সব কটা মোবাইল ফোন সিজ করেছে। তারই একটা ফোনে এই CK অ্যাপ্লিকেশনের হদিস পাওয়া গিয়েছে।— চলবে
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩খণ্ড)’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















