রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু!

পর্ব-১১৮: ডেসডিমোনার রুমাল / ১৭

পর্ব-১১৮: ডেসডিমোনার রুমাল / ১৭

শ্রেয়ার জোরাজুরিতে আবার ঐশী পালকে জেরা করার জন্যে গোয়েন্দা দফতরে হাজির করা হল। একই দিনে শুভ্রাংশু মুখার্জীকে ডাকা হল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। এদের দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়নি সুতরাং উকিল ডেকে তার সামনে কথা বলার কোন ওজর আপত্তি টিকবে না। বলা হল পুলিশ এখনও ধোঁয়াশায় রয়েছে এটা আত্মহত্যা না খুন। তাই আবার ভালো করে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

পর্ব-১১৭: ডেসডিমোনার রুমাল / ১৬

পর্ব-১১৭: ডেসডিমোনার রুমাল / ১৬

ধৃতিমান একদিন বাড়িতে বসে পুরনো কতগুলো টেপ বাজিয়ে বাজিয়ে দেখছিল যে তাতে কী আছে। ভাগ্য ভালো এখনও তার টেপ রেকর্ডারটা চলে, আর টেপের ফিতে জড়িয়ে যায়নি। হঠাৎই তার মধ্যে থেকে একটা বাজি ফাটার টেপ আবিষ্কার করল ধৃতিমান। কালীপূজোর আগে বুবুকে অভ্যাস করানোর জন্য বারবার টেপে বাজি পোড়ানোর শব্দ শোনানো হতো। যাতে আসল বাজি পোড়ানোর জোরালো শব্দ শুনলে বুবু ভাবে সেই আওয়াজ টেপে বাজছে। সে স্বাভাবিক থাকবে। ভয় পাবে না।

পর্ব-১১৬: ডেসডিমোনার রুমাল / ১৫

পর্ব-১১৬: ডেসডিমোনার রুমাল / ১৫

স্বাভাবিকভাবে অশান্তি বাড়ল। একটা পুরনো পলিসি ম্যাচিওর হতে আনন্দ’র হাতে কিছু টাকা এসেছিল। মুখার্জীদার কিছুটা ধার শোধ করতে সেদিন আনন্দ মুখার্জিদার ফ্ল্যাটে গিয়েছিল। সেদিন সে আমার ফেলে আসা রুমালটা পায়। রাতে ফিরে এসে চরম অশান্তি হল। আমার মাথার ঠিক ছিল না। আমিও বলে দিলাম ধারের টাকা যে বর শোধ করতে পারে না টাকার বদলে তার বৌকে ছেড়ে দিতে হয়! আনন্দ সে রাতে আমায় গলা টিপে মারতে এসেছিল! মেরে দিলেই ভালো হতো। বেঁচে যেতাম!

পর্ব-১১৫: ডেসডিমোনার রুমাল / ১৪

পর্ব-১১৫: ডেসডিমোনার রুমাল / ১৪

কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টিম পৌঁছল বেগুসরাই। বিহার পুলিশের সক্রিয় সহযোগিতায় গাছিতোলা দামড়ি নালা বেগুসরাই এলাকার বাবুন সিং আর বক্তিয়ার এই দুই দাগি অপরাধীকে নির্দিষ্ট করলেও পুলিশ পোঁছবার আগেই তারা চম্পট দিল! এত গোপনীয় তথ্য কী করে অপরাধীদের ডেরায় পৌঁছে গেল সেটা একটা বড় সন্দেহ তৈরি করল। খবরটা কলকাতা থেকে পৌঁছেছে নাকি বেগুসরাই লোকাল থানা থেকে খবর পৌঁছে গিয়েছিল তাদের কাছে? ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে হল। শ্রেয়া বেগুসরাই যায়নি। বেছে বেছে এনকাউন্টার স্পেশালিস্টদের এই ধরণের অপারেশনে পাঠানো হয়। শ্রেয়া গিয়েছিল ঘাটশিলাতে। আসলে...

পর্ব-১১৪: ডেসডিমোনার রুমাল / ১৩

পর্ব-১১৪: ডেসডিমোনার রুমাল / ১৩

প্রবাদে বলে যে, অপরাধী শতচেষ্টা করেও কৃত অপরাধের রেশ বাঁচাতে পারেন না। শুভ্রাংশু মুখার্জির মোবাইলে যে যে ফোন এসেছিল সেগুলো ট্রেস করেছিল পুলিশ। সবকটি ফোনেরই হদিস পাওয়া গিয়েছে। শুধু তিনটে অজানা নম্বর থেকে ফোন এসেছিল বিহারের বেগুসরাই এলাকা থেকে করা ফোন। আর এই ফোনেই সূত্র পেয়ে গেল গোয়েন্দা দফতর।

পর্ব-১১৩: ডেসডিমোনার রুমাল / ১২

পর্ব-১১৩: ডেসডিমোনার রুমাল / ১২

সারিতার সহকর্মী এবং সারিতা, দু’জনেই বুঝতে পারলেন কোনও অপরাধ করুন বা না করুন শুভ্রাংশু মুখার্জি অত্যন্ত কঠিন এবং দৃঢ় মনের মানুষ! যেকোনও সাধারণ লোক এরকম একটা চাপের মুখে কথা হারিয়ে ফেলে ভুল বলে দেয়, নার্ভাস হয়ে পড়ে। টেলিফোনে চুপ করে সময় নেওয়া ছাড়া শুভ্রাংশু মুখার্জির আর কোনও প্রতিক্রিয়া নেই!

পর্ব-১১২: ডেসডিমোনার রুমাল / ১১

পর্ব-১১২: ডেসডিমোনার রুমাল / ১১

নীলাঞ্জনবাবুকে বুঝিয়ে সাহস দিতে সারিতা অনেক চেষ্টা করলেন। শ্রেয়া প্রায় দু-তিনবার কলকাতা থেকে ফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বললেন। অনেক বোঝানোর পর আশ্বস্ত হয়ে নীলাঞ্জন ব্যানার্জি আদালতে তার দিদি শ্রীমতি নয়না মুখার্জির অস্বাভাবিক মৃত্যুর আবার তদন্ত করার আবেদন জমা দিলেন।

পর্ব-১১১: ডেসডিমোনার রুমাল/১০

পর্ব-১১১: ডেসডিমোনার রুমাল/১০

সারিতার সূত্রে জানা গেল, অনেক তথ্য শুভ্রাংশু মুখার্জির খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন তদানীন্তন শাসকদলের এক সাংসদ। এই সাংসদকে দিয়ে পুরো তদন্তকে হিমঘরে পাঠানো হয়েছিল। নিহত স্ত্রীর বিয়োগে শোকার্ত এবং দুর্ঘটনায় চোট পাওয়া শুভ্রাংশু মুখার্জিকে পুলিশ যাতে কোনভাবে বিরক্ত না করে তার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং পুলিশ সেই নির্দেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করেছে। এসব তথ্য অবশ্য খাতাকলমে কোথাও লেখা নেই।

পর্ব-১১০: ডেসডিমোনার রুমাল/৯

পর্ব-১১০: ডেসডিমোনার রুমাল/৯

কেস রি-ওপেনের জন্য কোনও স্পেসিফিক টাইম লিমিট নেই! যদি নিউ এভিডেন্স পাওয়া যায় তখন সেই নতুন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পুরনো কেসকে রিভিজিট করা যায়। স্পেসিফিক্যালি যেখানে সেই সময়ের ফরেনসিক পরীক্ষা কোয়েশ্চেনেবেল? যে যে পরীক্ষা করে এগনো উচিত ছিল সেগুলো করা হয়নি। সেকেন্ডলি পুরনো কেসফাইল পড়ে যদি মনে এমন সন্দেহ হয়, যে তদন্তের মধ্যে গলদ ছিল বা ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু তথ্য এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে অথবা একটা মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনার চেহারা দেওয়া হয়েছে তাহলে কেস রি-ওপেন হতে পারে!

পর্ব-১০৯: ডেসডিমোনার রুমাল/৮

পর্ব-১০৯: ডেসডিমোনার রুমাল/৮

যদি মনে এমন সন্দেহ হয়, যে তদন্তের মধ্যে গলদ ছিল বা ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু তথ্য এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে অথবা একটা মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনার চেহারা দেওয়া হয়েছে, তাহলে কেস রি-ওপেন হতে পারে! যদি এটা দেখানো যায় যে, সঙ্গের যে মানুষটি ছিলেন তাকে সে-ভাবে কোনও জিজ্ঞাসাবাদ না করে বা শুধু অনুমানের ভিত্তিতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাহলেও কোর্টের কাছে কেস রি-ওপেন করবার আপিল করা যায়। লোয়ার কোর্ট অ্যাপিল ডিসমিস করলে, হায়ার কোর্টে যাওয়া যায়।

পর্ব-১০৮: ডেসডিমোনার রুমাল/৭

পর্ব-১০৮: ডেসডিমোনার রুমাল/৭

শুভ্রাংশু ছাড়া অন্য কেউ জড়িত হয়? যাকে এখনও আন্দাজ করা যাচ্ছে না? যদি আনন্দ নিজেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে মদ খেতে শুরু করে? করতেই পারে। কিন্তু সেক্ষেত্রে মদের গ্লাস এবং অবশিষ্ট মদের বোতল পাওয়া গেল না কেন? রেফ্রিজারেটরে অন্য কোনও মদের বোতল ছিল না কেন? মদের বোতলে ঘুমের ওষুধটা কে মেশালো?

পর্ব-১০৭: ডেসডিমোনার রুমাল/৬

পর্ব-১০৭: ডেসডিমোনার রুমাল/৬

শান্তিকাকার সৌজন্যে মাসে মাসে পাওয়া একটা মোটা ব্যাঙ্ক ইন্টারেস্ট থেকেই বাবু-বুবুর সংসার, বাড়ি ভাড়া দিয়েও মোটামুটি ভালোভাবে সংসারটা চলে যায়। শান্তিকাকা আজ আর বেঁচে নেই। কিন্তু বাবুর প্রতিমাসে ব্যাঙ্কের ইন্টারেস্ট ঢোকার এসএমএস পেলেই শান্তিকাকার কথা মনে করে চোখে জল এসে যায়!

ডেসডিমোনার রুমাল/৫

ডেসডিমোনার রুমাল/৫

ঐশী আবাসনে খুব পরিচিত ছিল। বিজয়াসম্মেলনী নববর্ষের অনুষ্ঠান বা চড়ুইভাতি সবেতেই ঐশী একপায়ে খাড়া। একথা অবশ্য অন্যান্যরাও জেরার মুখে স্বীকার করেছেন। শুভ্রাংশুও যথেষ্ঠ শোকাহত। তাঁর সঙ্গেও কথা বলেছে শ্রেয়া। শান্ত ও স্বাভাবিকভাবে শ্রেয়ার সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন শুভ্রাংশু।

ডেসডিমোনার রুমাল/৪

ডেসডিমোনার রুমাল/৪

আনন্দ পালের স্ত্রী ঐশী পাল সকাল থেকেই চোখে কালো চশমা পরে হাতে রুমাল নিয়ে কেঁদে যাচ্ছেন। ছিপছিপে তন্নী ঐশী কালকের বিজয়া সম্মিলনীতে নেচেছেন! শুভ দাশগুপ্ত’র সোশ্যালমিডিয়াতে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করা একটি কবিতা,’আমিই সেই মেয়ে’-তে নেচে সবাইকে চমক লাগিয়ে দিয়েছেন।

ডেসডিমোনার রুমাল/৩

ডেসডিমোনার রুমাল/৩

দেহ মর্গে যাওয়ার পর ধৃতিমান ওই ফ্ল্যাটবাড়ির সাততলায় ছাদে গেল। আনন্দ পাল থাকতেন পাঁচতলায়। ছাদের ভূগোলটা দেখাই উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে জিওগ্রাফির বদলে ফিজিক্সের খোঁজ পেল একটা ফোল্ডিং সিঁড়ি। দুর্গাপুজোয় যত্রতত্র সিঁড়ি পড়ে থাকাটা আশ্চর্য নয়। কিন্তু এ বাড়ির ছাদে কেন ফোল্ডিং সিঁড়ি? কোনও বিল্ডিঙের ছাদে তো কোনও আলো লাগানো নেই, এ বাড়িতেও নেই।

Skip to content