বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।

ধৃতিমান সোশ্যাল মিডিয়া উল্টে দেখে। স্ক্রল করতে করতে সেই জায়গাগুলোতেই ট্যাপ করে যেগুলো তাকে সমৃদ্ধ করবে। সেটা যদি কোন নিউজ আইটেম বা খুব গুরুত্বপূর্ণ ইনস্টা ফিড হয়ে থাকে, তাহলে সেই লিংকটা সে তার ল্যাপটপে সেভ করে রাখে। হঠাৎ মনে পড়ে গেল ক’দিন আগেই সম্ভবত অক্টোবর মাসের ৭ তারিখ বোম্বে হাইকোর্ট একটা রায় দিয়েছিল। খুঁজে দেখতেই পেয়ে গেল, পি ভি পাটিল ভার্সেস স্টেট অফ মহারাষ্ট্র। সেখানে বলা হয়েছিল—
Filing of charge sheet is not an empty formality, and it should contain all the details for not sending accused for trial, to enable the Magistrate to decide whether to accept the report and discharge the bonds or order further investigation or to take cognizance of the offence…
তার মানে থানায় বসে যিনি চার্জশিট লিখছেন, তিনি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ঘটনাটাকে বিবৃত করবেন। যারা যুক্ত তাদের সকলের নাম সংযুক্ত থাকতে হবে চার্জশিটে। বিচার করবার জন্য বিচারক রয়েছেন, আদালত রয়েছে। তাঁরা ঠিক করবেন কোন অভিযুক্তের ক্ষেত্রে সারকামস্ট্যাশিয়াল এভিডেন্স বা অবস্থাগত প্রমাণাদি তার অপরাধ করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বা তাঁকে সংযুক্ত করছে না! মোদ্দা কথায় তাঁর ক্ষেত্রে নিরাপরাধ হবার আইনত যুক্তিগ্রাহ্য অজুহাত তৈরি করছে। তখন মহামান্য আদালত বা বিচারক ঠিক করবেন অভিযুক্তকে অপরাধের দায় থেকে মুক্ত করা যায় কিনা বা পুলিশকে আরও তদন্ত করে দেখার জন্য বলা যায় কিনা। কিন্তু চার্জশীট লেখার সময় সেইসমস্ত অবস্থাগত প্রমাণাদি বা অপরাধ করার ক্ষেত্রে অ্যালিবাই বা আইনসিদ্ধ অজুহাত কোনভাবেই গ্রাহ্য করা যাবে না।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১১০: ডেসডিমোনার রুমাল/৯

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৪২: শূকরজাতক: কাপুরুষ? মহাপুরুষ?

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৯: রাজসূয় মহাযজ্ঞের মাহাত্ম্য ও আধুনিকতা

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪২: কাদম্বরীর পিতামহ ছিলেন ঠাকুরবাড়ির পাহারাদার, পিতা ছিলেন বাজারসরকার

শুধুমাত্র পাহাড়গঞ্জ থানার ইনভেস্টিগেটিং অফিসার দয়ারাম নয়। আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ থানার অনেক ইনভেস্টিগেশন অফিসারই কারণে অকারণে অর্থ বা অনর্থের চাপে খুশিমনে বা বাধ্য হয়ে স্বঘোষিত বিচারসভা বসিয়ে দেন। এমনভাবে চার্জশিট তৈরি হয় যাতে বিচারকের কাছে পৌঁছানোর আগেই একজন সন্দেহভাজন সন্দেহমুক্ত হয়ে তদন্তের আওতার বাইরে থেকে যান। দৈন্যন্দিন আইনগত সুবিধা-অসুবিধাকে দেখতে দেখতে শ্রদ্ধেয় বিচারকেরা আইনের ধারায় তাঁদের পর্যবেক্ষণ এবং রায়ের উল্লেখ দিয়ে ক্রমাগত প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করে চলেছেন।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪৩: আঁধারে আছে আততায়ী

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১০: চাঁদের ওপিঠে কালো

পরবর্তীকালে আদালতে পরিশ্রমী আইনজীবীরা এই সমস্ত বিশেষ উল্লেখ পেশ করে আইনের মশারির ফাঁকফোকর দিয়ে অপরাধের মশাদের আটকাবার চেষ্টা করছেন! কিন্তু ৩৩ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার ব্যাপী ১৪০ কোটি দেশবাসীকে নিয়ে আমাদের এই ভারতবর্ষ! ২০২৫ এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় পাঁচ কোটি ৩০ লক্ষ মুলতুবি মামলার চার কোটি ৬০ লক্ষ-ই হলো লোয়ার কোর্টে। সারাদেশের বিভিন্ন হাইকোর্টে মুলতুবি রয়েছে ৬৩ লক্ষ মামলা। সুপ্রিমকোর্টেই মুলতুবি মামলার সংখ্যা ছিয়াশি হাজার। আর সারাদেশে অনুমোদিত বিচারপতির সংখ্যা কমবেশি ৩৪ হাজার। সুতরাং এই দৈত্যের মতো ভয়ংকর চেহারার মুলতুবী মামলার নিষ্পত্তি করতে গিয়ে বিচারের ভুল এড়াতে গিয়ে ‘তারিখ পে তারিখ’ পড়বে এতে আর আশ্চর্য হবার কি আছে? তাই রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী অপরাধীরা এতটাই নির্ভীক। নামিদামি উকিল ব্যারিস্টারকে পয়সা দিলে আদালতে কেস চলতে থাকবে। অভিযোগকারী মরে ভূত হয়ে যাবেন, অপরাধী বহাল তবিয়তে আরও অপরাধী হয়ে উঠবে, অথবা জগদীশ্বরের কৃপায় তার দেহাবসান হবে কিন্তু বিচার তো থামবে না। গঙ্গা দিয়ে বয়ে যাওয়া জল আর আদালতের বিচার প্রক্রিয়া সমানভাবে বইতে থাকবে।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭৫ : অবাক পৃথিবী

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৬ : কাঞ্চনজঙ্ঘা: ভর করেছিল সাতটি অমরাবতী?

সারিতার সূত্রে জানা গেল, অনেক তথ্য শুভ্রাংশু মুখার্জির খুবই ঘনিষ্ঠ ছিলেন তদানীন্তন শাসকদলের এক সাংসদ। এই সাংসদকে দিয়ে পুরো তদন্তকে হিমঘরে পাঠানো হয়েছিল। নিহত স্ত্রীর বিয়োগে শোকার্ত এবং দুর্ঘটনায় চোট পাওয়া শুভ্রাংশু মুখার্জিকে পুলিশ যাতে কোনভাবে বিরক্ত না করে তার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং পুলিশ সেই নির্দেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসরণ করেছে। এসব তথ্য অবশ্য খাতাকলমে কোথাও লেখা নেই। কিন্তু পুরনো সময়ের কিছু লোকজন তখন নতুন চাকরিতে ঢুকেছেন আজকে তাঁরা বয়স্ক। সারিতা খান্না নিজে উদ্যোগ নিয়ে সমস্ত তথ্যজোগাড় করেছেন। এবং সেটা শুভ্রাংশু মুখার্জির সঙ্গে কথোপকথনের আগেই। যাতে এমন কিছু সূত্রের উল্লেখ করা যায় যেটা শুভ্রাংশুকে ভাবাবে।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৩: ত্রিপুরা : ঊনকোটির বহু মূর্তি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৮: সোনালি বাটান

কিন্তু এইসব অভিযোগের স্বপক্ষে আদালতে পেশ করার মতো প্রমাণ কোথায়? আর সেই পেনশনভোগী অবসরপ্রাপ্তেরা কেউই পরেশ রাওয়াল বা অনুপম খেরের মতো সিনেমার সাহসী চরিত্র নন যাদের চিত্রনাট্যের প্রয়োজনে আদর্শের জন্যে মরতেও রাজি হতে হয়! না হলে রক্তমাংসের জীবনযুদ্ধে এমন লড়াকু মানুষ কালেভদ্রে এক-আধজন! একমাত্র দোষী শুভ্রাংশু যদি ভূতে পাওয়ার মতো আচমকা থানায় গিয়ে নিজের সবদোষ স্বীকার করেন তাহলেই হয়তো দোষী শাস্তি পাবে ! কিন্তু কুড়িবছর আগেকার তামাদি হয়ে যাওয়া অপরাধের স্বীকারোক্তি এখন শুভ্রাংশুর মতো একজন পাকা মাথা কেন করবেন?—চলবে।

আনন্দ পাল হত্যা রহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content