শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
শাক্যরা যখন দলবল সমেত পিশাচ পাহাড়ের থানে পৌঁছল, তখন সকাল সাতটা। মঙ্গল ওঝার মৃত্যুর পর তিন দিন পার হয়েছে। এই সময়টা দরকার ছিল। এ-জাতীয় প্রাচীন দেবস্থানে চাইলেই হুট করে ঢুকে গেলে, পরে আইনি ঝামেলায় পড়তে হতে পারে। আবার ঢোকাটা খুব জরুরিও বটে। সেই কারণে, একেজিকে দিয়ে যাবতীয় ব্যাবস্থা করে সরকারি উকিলের তরফে হাই কোর্টে স্পেশাল প্লি করা হয়েছিল, যাতে তদন্তের স্বার্থে অবিলম্বে কালাদেওর গুহায় প্রবেশ এবং অনুসন্ধানের অনুমতি পাওয়া যায়। কোর্টে অতি দ্রুত যাওয়া হয়েছিল বলে, একতরফা শুনানির শেষেই অনুমতি পাওয়া গিয়েছে। তবে শর্তসাপেক্ষে। সরকারি পুরাতত্ত্ব বিভাগের একজন, আর্মির তরফে কর্নেল পদমর্যাদার একজন, একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, একজন ইতিহাসবিদ এবং স্থানীয় একজন মান্যগণ্য সদস্যকে টিমে নিয়ে ঢুকতে হবে। তাঁরা তদন্তে কোন বাধা দেবেন না। কেবল খেয়াল রাখবেন, প্রাচীন পুরাতত্ত্বঘটিত কোনও নিদর্শন থাকলে তা যেন নষ্ট না হয়। সেই সঙ্গেই লোকাল সেন্টিমেন্টের কথা মাথায় রেখে থানের পবিত্রতা যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে বলা হয়েছে।
মঙ্গল ওঝার মৃত্যুর খবর চাউর হয়ে যাওয়ার পরে প্রায় সঙ্গে-সঙ্গেই পুলিশ কর্ডন করে স্থানটি ঘিরে ফেলা হয়েছিল। লোকাল থানায় অত ফোর্স নেই বলে ডিএম এসডিপিওকে বলায় সদর থেকে স্পেশাল ফোর্স নিয়ে এসে স্থানটি পুরপুরি ঘিরে ফেলা হয়েছে। বর্দার এরিয়ায় এখানে আর্মির ক্যাম্প আছে। সেখান থেকেও যথাবিহিত সহায়তা করা হয়েছে। কর্নেল পদমর্যাদার একজনকে সহজেই সেখান থেকে টিমে সামিল হওয়ার অনুমতি দিয়েছে আর্মি। কলকাতা থেকে সড়কপথে পুরাতত্ত্ব বিভাগের একজন সদস্য, কলকাতার একটি পুরানো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীন ইতিহাস বিভাগের প্রধান এবং একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক গতকাল সন্ধ্যাতেই এসে পৌঁছেছেন। টিমের সকলকে ডেকে তাঁদের সঙ্গে দু’ রাউন্ড আলোচনা হয়ে গিয়েছে। এই আলোচনায় অবশ্য স্থানীয় মান্যগণ্য যিনি, তিনি উপস্থিত নেই। আপাতত, স্থানীয় মান্যগণ্য হিসাবে সেখানকার প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষককেই রাখা হয়েছে। তিনি আগামীকাল নির্দিষ্ট সময়ে টিমের সঙ্গে যোগ দেবেন। ডিএম, এসডিপিও এখানেই আছেন দু’দিন যাবৎ। গোটা অভিযানটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে প্রতি পদে-পদে সতর্ক থাকতে হবে। সে-কথাই শাক্য বলেছে গতকাল সকলকে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৩ : রিমিতার ব্রেকিং-নিউজ

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৯ : আনকো আলোয় যায় দেখা ওই ‘সপ্তপদী’-র পথ চলা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-১০১ : ত্রিপুরাতেও সিপাহি বিদ্রোহের ছোঁয়া লেগেছিল

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৫: অকালরাবী জাতক—সময় গেলে সাধন হবে না

ডিএম বলেছেন, “হ্যাঁ, এই কথাটা আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যে, কোনভাবে স্থানীয় লোক যদি মনে করেন যে, তাঁদের দেবস্থানের পবিত্রতা নষ্ট হয়েছে, তাহলে কিন্তু বিক্ষোভ-অবরোধ শুরু হয়ে যাবে, রাজনৈতিক দলগুলিও ঝাঁপিয়ে পড়তে দেরি করবে না। অতএব আমাদের খুব সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলতে হবে!”
অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বললেন, “আপনারা কি রাজনৈতিক দলগুলিকে জানিয়েছেন যে তদন্তের স্বার্থে এমন একটি অভিযানের প্রয়োজনীয়তা ছিল বলেই আপনারা বাধ্য হয়েছেন এটি করতে?”
ডিএম বললেন, “তার কোন প্রয়োজনীয়তা আছে কি? আমরা বাধ্য নই তাদের এটা জানাতে!”
অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বললেন, “আইনত বাধ্য নন। কিন্তু তাদের জানিয়ে রাখলে তারা পরে এই বিষয়টিকে নিয়ে ইস্যু করে তুলতে পারত না!”

ডিএমের হয়ে শাক্য জবাব দিল, “স্যার, উত্তরটা আমি দিচ্ছি। আমরা মনে করছি, যা কিছু অপরাধ ঘটছে, তার সঙ্গে পলিটিক্যাল কোনও কানেকশন থাকা অসম্ভব নয়। যদি তেমনটি থেকে থাকে, তাহলে কার্যক্ষেত্রে আমাদের অভিযান পর্বতের মূষিকপ্রসব হয়ে দাঁড়াবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। কারণ, সেক্ষেত্রে রাজনৈটিক প্রভাব খাটানো থেকে শুরু করে স্থানীয়দের তাতিয়ে দিয়ে যাতে এই অভিযান ভণ্ডুল করে দেওয়া যায়, সেই চেষ্টা শুরু হয়ে যাবে। জানেনই তো সব। আমাদের দেশে এই প্র্যাকটিস তো নতুন কিছু নয়!”
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

একলা নববর্ষ

আর্মির কর্নেল বললেন, “আপনার যুক্তি ঠিক মানছি, কিন্তু ধরুন অভিযান শুরু হওয়ার খব পাওয়ার পরে যদি তারা একইরকমভাবে প্রভাব খাটাতে চেষ্টা করে। পাবলিককে ক্ষেপিয়ে তুলে আমাদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়, তখন? তখন কীভাবে তাদের সামাল দেবেন, সেই ব্যাপারটা নিশ্চয়ই আপনারা ভেবে রেখেছেন?”
এসডিপিও বললেন, “কোর্টের অর্ডারে তদন্তের সময় এলাকায় একশো চুয়াল্লিশ ধারা বলবৎ থাকবে। আমরা আধ কিলোমিটার দূর থেকে কর্ডন করে সকলকে আটকে দেব ভেবেছি। আশা করি তাতে অসুবিধা হবে না। ওরা অ্যাজিটেশন দেখালে তা সামলে দেবে স্পেশাল পুলিশ ফোর্স। তাছাড়া লালবাজার থেকে আসা এই অফিসার সমস্ত অভিযানটি পরিচালনা করছেন। তাঁর একটা বিশেষ পরিকল্পনা আছে। আমাদের বিশ্বাস ওই পরিকল্পনা রূপায়িত হলে আর মাস অ্যাজিটেশন হবে না !” বলে শাক্যকে দেখিয়ে বললেন, “আমি চাই অফিসার নিজের মুখেই বিষয়টি বলুন।”
“কিরকম?” কৌতূহলী হয়ে উপস্থিত নতুন সদস্যেরা সকলেই শুনতে চাইলেন।
শাক্য বলল, “দেখুন, এ-জাতীয় অভিযান ঠিক আর পাঁচটা অভিযানের মতো যে নয়, তা নিশ্চয়ই আমরা সকলেই জানি। কেভ অফ কালাদেওতে অভিযানের সময় পাবলিককে ক্ষেপিয়ে তোলার সবচেয়ে সহজ উপায় হল, দেবস্থান অপবিত্র করছে, এই রিউমার ছড়িয়ে দেওয়া এবং একবার পাবলিককে উত্তেজিত করতে পারলে, তার প্রতিক্রিয়া যে দুর্দমনীয় হবে, তা বলাই বাহুল্য। তাদের তরফের যুক্তিও অকাট্য। দেবস্থান বিশেষ-বিশেষ সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতীক। অতএব তাকে ঘিরে আবেগ, উন্মাদনা যে থাকবে, তাতে সন্দেহ নেই। অতএব আমাদের অভিযানের শুরু থেকেই সেখানে পাবলিকের ভিড় জমবে আর সেই ভিড়ের সুযোগে তাদের ক্ষেপিয়ে তোলার সুযোগও থাকবে। যাদের ভেস্টেড ইন্টারেস্ট আছে, তারা এই সুযোগ হাতছাড়া হতে দেবে না কোনওমতেই। কিন্তু ধরুন, ওই জমায়েতটাই যদি হালকা করে দেওয়া যায় কোন উপায়ে ?”
কর্নেল বললেন, “কোন পেটি কিন্তু এসেনসিয়াল ট্রিকস্ মনে হচ্ছে। কী বলুন তো?”
শাক্য বলল, “ঠিক বলেছেন। ট্রিকস তো অ্যাপ্লাই করতেই হবে, আর সেটি পেটিও বটে। আমরা ওইদিন সরকারের তরফে গ্রামের মধ্যে একটি স্থানে কালাদেওর বেদী তৈরি করে বিশেষ পূজাপাঠের ব্যবস্থা করেছি। কালাদেওর থানে এমনিতেই মঙ্গল ওঝার মৃত্যুর পর থেকে পুজো বন্ধ। অতএব এই সুযোগেই আমরা পঞ্চায়েতকে কনভিন্স করিয়েছি যে, পুজো একেবারে বন্ধ হলে কালাদেও কূপিত হতে পারেন। অতএব যতদিন না তদন্ত শেষ হয়ে আবার স্বাভাবিক পুজো শুরু হচ্ছে, ততদিন কালাদেওর ওই থানেই বিশেষ পুজোপাঠ চলবে। আগামীকাল সেই ওপেনিং ডে। অতএব পূজার সঙ্গে সঙ্গে আমরা একটা ভোজ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।
বেশিরভাগ লোকই সকাল থেকে সেখানে ব্যস্ত থাকবে। কারণ, এই ভোজের রান্নাবান্নার দিকটা স্থানীয় মহিলাদেরকেই দেখতে হবে। তাঁদের সাহায্য করবেন নির্বাচিত পুরুষেরা। আর যেখানে নিত্য অনাহার সঙ্গী, সেখানে পেট পুরে খিচুড়ি, লাবড়া, বেগুনি, চাটনি আর বোঁদে নেহাতই মন্দ খাবার নয়। সব ব্যবস্থার আয়োজন সম্পূর্ণ। আমরা সামান্য তদন্তের স্বার্থে গুহায় কিছুক্ষণের জন্য প্রবেশ করব বলে জানিয়েছি, আশা করি ভিড় প্রথমত দু’ভাগ হয়ে যাবে। কালাদেওর পুজো প্লাস খাওয়াদাওয়া—এই আকর্ষণ এড়িয়ে থাকা সম্ভব হবে না সকলের পক্ষে। বাকি যারা থাকবে, মনে রাখবেন, তারা কালাদেওর পূজা কিংবা খাওয়াদাওয়া সব কিছুর আকর্ষণ ত্যাগ করেছে মানে। তাদের মনে ভয়, সংশয় কিংবা অন্য উদ্দেশ্য আছে। অবশ্য এদের মধ্যে যে নিছক কৌতূহলী মানুষ কেউ নেই, তা আমি বলছি না। সেইকারনেই কারা-কারা সেদিন কালাদেওর থানে ভিড় জমায় তাদের উপর নজরদারি চালান হবে। বাংলায় কথা আছে না, যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলে পাইতে পারো অমূল্য রতন…এ ঠিক তেমন!”
“বাহ্, সহজ কিন্তু অব্যর্থ ট্রিকস্ বলেই মনে হচ্ছে!” বললেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক। “তবে তারপরেও একটা গন্ডগোলের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে, নয়-কি?”
“আমাদের পেশাতে সব সময়েই গণ্ডগোল ঝুটঝামেলার অবকাশ থেকেই যায় স্যার। ওগুলি আমাদের পেশার অঙ্গ হয়ে গেছে। তবে এক্ষেত্রে আমরা চাই, গণ্ডগোল হোক। করুক কেউ-কেউ গণ্ডগোল, তাতে আমাদের সুবিধা হবে খড়ের গাদা থেকে ছুঁচ খুঁজে বার করতে। নাহলে খাটনি বেড়ে যেত!”
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৭: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— শিকরেঠুঁটো কাছিম

হ্যালো বাবু!, পর্ব-১৩০: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১১

এসডিপিও বললেন, “আপনারা চিন্তা করবেন না। ড্রোনের সাহায্যে গোটা জায়গার ভিডিও করা থাকবে, নজরদারিও চলবে। আমরা চাইছি, সাসপেক্টস সেই পাতা ফাঁদে পা দিক। যাদের যাদের ভেস্টেড ইন্টারেস্ট আছে কালাদেওর থান এবং মঙ্গল ওঝার মৃত্যুর সঙ্গে, তারা না এসে পারবে না। তবে খুব ধূর্ত হলে আলাদা কথা। সেক্ষেত্রে সে নিজে না এসে কোন বিশ্বস্ত সহযোগীকে পাঠাবে। এইসমস্ত সম্ভাবনার কথা কিন্তু অলরেডি ভেবে রেখেছেন মি. সিংহ। আমরা জাস্ট তাঁর হুকুমমতো কাজ করছি আর কী !”

শাক্য কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বলল, “ওভাবে বলবভেন না স্যার। আমরা সকলে মিলে ভেবেছি, প্ল্যান রেডি করেছি। ডিএম স্যার নিজেও যথেষ্ট মাথা ঘামিয়েছেন। তাঁর সাহায্য ছাড়া ওভাবে খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করে আইওয়াসের ব্যবস্থা করা নেক্সট্ টু ইম্পসিবল্ ছিল। সুতরাং একা আমার কোন ক্রেডিট না!”
“পর্যাপ্ত ফোর্স থাকছে নিশ্চয়ই?” কর্নেল জিজ্ঞাসা করলেন।
এসডিপিও বললেন, “মোর দ্যান এনাফ্!”
“বেশ!”
“আমার একটা জিজ্ঞাসা আছে, মি. আর্কিওলজিস্টের কাছে…” ডিএম বললেন।
“আমার নাম সুধীভূষন ভট্টাচার্য। বলুন।”
“এ-জাতীয় প্রাচীন গুহায় প্রবেশের সময় আমরা না-হয় খেয়াল রাখব, গুহাগাত্রে প্রাচীন কোন নিদর্শন, শিল্পকর্ম ইত্যাদি যদি কিছু থাকে, তা যাতে রক্ষা পায় তার উপর। কিন্তু ধরুন, যদি গুহার যাতায়াতের পথে কোন নিদর্শন থাকে তাহলে সেটা কীভাবে আমরা রক্ষা করবো? কারণ, আমাদের তো ওর ওপর দিয়েই গুহায় ঢুকতে হবে!”
“দেখুন,” সুধীভূষন বললেন, “সচরাচর গুহার যাতায়াতের রাস্তায় ওঁরা কিছু খোদাই করতেন না। কারণ, সেকালের শিল্পী-ভাস্করেরাও জানতেন, যদি তেমন কিছু খোদাই করা হয় কিংবা আঁকা হয় যাতায়াতের রাস্তায়, তাহলে তা পায়ে-পায়ে নষত হয়ে যাবে, ক্ষয়ে যাবে, আর সবচেয়ে বড় কথা, সেই শিল্পকর্ম উপভোগ করার সুযোগ থাকবে না। অতএব সাধারণত যাতায়তের রাস্তায় কিছু থাকবে না বলেই মনে হয়। অবশ্য যদি কিছু থেকে থাকে তবেই।”
“আর তাছাড়া তার পরেও যদি কিছু থেকে থাকে, তাহলে আমরা যা অনুমান করছি, তা যদি সত্যি হয়, তবে তা কোনকালে ধুয়েমুছে সাফ হয়ে গিয়েছে!” শাক্য বলল।
“একদম যথার্থ বলেছেন,” সুধীভূষণ বললেন।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৬: প্রাকৃতিক অবস্থার পরিবর্তন ও প্রাণীদের অস্থিরতা : যুদ্ধের দূষণ, মনে, প্রাণে, বাতাবরণে, সর্বত্র

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৭ : সোনার কেল্লা: ডিটেকশনের ড্রয়িংরুম

কর্নেল বললেন, “দেখুন, ভিড় হবেই। কৌতূহলী মানুষদের আপনি কোনওভাবেই এড়াতে পারবেন না। আর ভিড়ের মধ্যে সবাই যে কালপ্রিট বা কোন গ্যাং-এর সঙ্গে যুক্ত এমনও নয়। ধরুন, কচিকাঁচারাও তো ভিড় করবে। তাদের আপনাকে বাদ দিতে হবে। তারা তো আর যাই হোক কালপ্রিট হতে পারে না। এরপর ধরুন বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা যদি কেউ ভিড় জমান, তাঁদেরকেও আপনাকে বাদ দিতে হবে। পড়ে থাকবে কে? কিছু তরুণ বা মাঝবয়সী লোক। এঁদের মধ্যে কালপ্রিট থাকবে আপনি আশা করেন?”

শাক্য কিছু একতা বলতে গিয়েও বলল না। বলা সমীচীন বধ করল না। পরিবর্তে বলল, “কালপ্রিটি থাকবেই, আমি এমন কথা বলিনি, থাকতে পারে—সে-কথাই বলেছি। যদি থাকে ভালো, আর যদি না-ও থাকে, তাহলেও বলছি আর অতি অল্পদিনের মধ্যেই এই পিশাচপাহাড়ে কালাদেওর নাম-ও-নিশান মিটিয়ে দেবো!”
“ওভার-কনফিডেন্ট মনে হচ্ছে?” বললেন ইতিহাসবিদ অধ্যাপক।
“একেবারেই না। তবে একদম জিরো লেভেলের কনফিডেন্ট নিয়েও কোন তদন্ত আমি শুরু করিনা কোনদিন, স্যার!”
ডিএম বললেন, “আপনারা কাজের কথায় আসুন। আমাদের হাতে আজকের রাতটা কেবল, কারুর অন্য কোন মত বা প্ল্যানিং থাকলে আমাদের নির্দ্বিধায় জানাতে পারেন। আমার একটাই কথা, এই অভিযান যেন সাকসেস্ফুল হয়।”
এসডিপিও বললেন, “সেটাই। স্যার!”
শাক্য বলল, “আজ রাতে আপনারা ডিনার সেরে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ুন। কাল ভোর-ভোর উঠতে হবে। আমরা চাইছি অন্তত সকাল সাতটা-সাড়ে সাতটার মধ্যে স্পটে পৌঁছে একটুও দেরি না করে কাজ শুরু করে দিতে। স্থানীয় স্কুলের হেডমাস্টার, যিনি আমাদের সঙ্গে থাকবেন আগাগোড়া, তিনি জানিয়েছেন, ঠিক ছটার সময় নির্দিষ্ট স্থানে অপেক্ষা করবেন। মনে রাখবেন, আমাদের কাজ, যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, কালাদেও কাণ্ডের জড় সমেত উপড়ে ফেলা!”

সেই উদ্দেশ্যেই আজ সকাল সাতটায়, এক ঘন্টা লেটে ফুল টিম কালাদেওর থানে যখন নামল, তখন সেখানে চোখে পড়ার মতো ভিড় না থাকলেও, মানুষ জড়ো হয়েছে নিতান্ত কম নয়। সবাই একবার শাক্যর দিকে তাকালেন। শাক্য কিন্তু কঠোর মুখে মন্দিরের দিকে এগিয়ে গেল। পুলিশেরা সকলে কর্ডন করে রেখেছে। জড়ো হওয়া পাবলিকের নানারকম মন্তব্য, কথাবার্তার টুকরো ভেসে আসছিল শাক্যর কানে। মাথার উপরে তাকাল একবার সে। নজরদারি ড্রোন উড়ছে মাথার উপর। আসবে কি, আসবে কেউ তদন্তের গতিপ্রকৃতি ছানবিন করতে? —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content