
“হ্যাঁ বল। এখন নিশ্চয়ই তুমি একা এবং ফ্রি?” একেজি জিজ্ঞাসা করলেন। তাঁর গলায় কিন্তু রসিকতার সুর নেই। তিনি আদ্যন্ত সিরিয়াস।
“হ্যাঁ স্যার। নিজের বাংলোয় আছি। সুদীপ্ত যদিও বলছিল, তার ওখানেই থেকে যাওয়ার জন্য, কিন্তু আপনার সঙ্গে কথা বলাটা জরুরি ছিল।”
“সুদীপ্ত নামের অফিসারটি কি রিলায়েবল?”
“আপাতত তেমনই মনে হচ্ছে স্যার। ঘটে বুদ্ধি আছে। মালাকারের মতো নির্বোধ নয়!”
“বেশ। এবার বল, আর কিছু?”
“স্যার, যে ইনফোগুলি জোগাড় করতে বলেছিলাম, সেগুলি পেলে হয়তো কিছুটা এগোনো সম্ভব হবে। যদিও সেটা এখনই জোরের সঙ্গে বলা যাচ্ছে না। হয়তো দেখলাম, ওই ইনফোর মধ্যে এমন কিছুই নেই, যা আমাদের ইনভেস্টিগেশনের কাজে লাগতে পারে। তখন অন্য রাস্তা ভাবতে হবে!”
“বললাম তো, ইরাবতী মিত্র ব্যাপারটি দেখছেন। তাঁর দক্ষতার বিষয়টি তো তোমার জানা আছে।”
“হ্যাঁ স্যার, সেটাই ভরসা। একটা ব্যাপার স্যার, আপনি কি লক্ষ্য করে দেখেছেন, এখানে যাবতীয় ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু একটি জায়গা?”
“কীরকম ?”
“দেখুন, নেই-নেই করে এখানে, এই পিশাচপাহাড়ে এখন রিসর্ট বা হোম-স্টের সংখ্যা পাঁচ-সাতটি। আরও কিছু তৈরি হচ্ছে দেখতে পেয়েছি। তার মানে ট্যুরিস্ট-ডেস্টিনেশন হিসেবে এই এলাকার এখন পিক-আওয়ার চলছে। অথচ এখানে যাবতীয় ঘটনা ঘটছে একটিমাত্র রিসর্টকে কেন্দ্র করেই। সেটি হল ওই পিশাচপাহাড় রিসর্ট, যাদের হাত ধরে এই এলাকায় রিসর্ট-বিজনেসের শুরু।”
“সেটা ঠিক। তাহলে কি তুমি বলতে চাইছ, প্রোফেশনাল রিভ্যালরি থেকেই কেউ বা কেউ-কেউ এই সব কাণ্ড ঘটাচ্ছে?”
“হতে পারে স্যার। তা-না-হলে আশেপাশের রিসর্টগুলিতেও এক-আধটা আক্রমণ হতে পারতো। কিন্তু বাকি রিসর্টগুলির কথা কালাদেও বলুন আর অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতিই বলুন, তার বা তাদের যেন খেয়ালই নেই। ব্যাপারটা অসাভাবিক, তাই নয়?”
“হ্যাঁ স্যার। নিজের বাংলোয় আছি। সুদীপ্ত যদিও বলছিল, তার ওখানেই থেকে যাওয়ার জন্য, কিন্তু আপনার সঙ্গে কথা বলাটা জরুরি ছিল।”
“সুদীপ্ত নামের অফিসারটি কি রিলায়েবল?”
“আপাতত তেমনই মনে হচ্ছে স্যার। ঘটে বুদ্ধি আছে। মালাকারের মতো নির্বোধ নয়!”
“বেশ। এবার বল, আর কিছু?”
“স্যার, যে ইনফোগুলি জোগাড় করতে বলেছিলাম, সেগুলি পেলে হয়তো কিছুটা এগোনো সম্ভব হবে। যদিও সেটা এখনই জোরের সঙ্গে বলা যাচ্ছে না। হয়তো দেখলাম, ওই ইনফোর মধ্যে এমন কিছুই নেই, যা আমাদের ইনভেস্টিগেশনের কাজে লাগতে পারে। তখন অন্য রাস্তা ভাবতে হবে!”
“বললাম তো, ইরাবতী মিত্র ব্যাপারটি দেখছেন। তাঁর দক্ষতার বিষয়টি তো তোমার জানা আছে।”
“হ্যাঁ স্যার, সেটাই ভরসা। একটা ব্যাপার স্যার, আপনি কি লক্ষ্য করে দেখেছেন, এখানে যাবতীয় ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু একটি জায়গা?”
“কীরকম ?”
“দেখুন, নেই-নেই করে এখানে, এই পিশাচপাহাড়ে এখন রিসর্ট বা হোম-স্টের সংখ্যা পাঁচ-সাতটি। আরও কিছু তৈরি হচ্ছে দেখতে পেয়েছি। তার মানে ট্যুরিস্ট-ডেস্টিনেশন হিসেবে এই এলাকার এখন পিক-আওয়ার চলছে। অথচ এখানে যাবতীয় ঘটনা ঘটছে একটিমাত্র রিসর্টকে কেন্দ্র করেই। সেটি হল ওই পিশাচপাহাড় রিসর্ট, যাদের হাত ধরে এই এলাকায় রিসর্ট-বিজনেসের শুরু।”
“সেটা ঠিক। তাহলে কি তুমি বলতে চাইছ, প্রোফেশনাল রিভ্যালরি থেকেই কেউ বা কেউ-কেউ এই সব কাণ্ড ঘটাচ্ছে?”
“হতে পারে স্যার। তা-না-হলে আশেপাশের রিসর্টগুলিতেও এক-আধটা আক্রমণ হতে পারতো। কিন্তু বাকি রিসর্টগুলির কথা কালাদেও বলুন আর অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতিই বলুন, তার বা তাদের যেন খেয়ালই নেই। ব্যাপারটা অসাভাবিক, তাই নয়?”
“আচ্ছা, এমন হতে পারে না যে, দুষ্কৃতি অন্য রিসর্টে বসে আছে এবং পিশাচপাহাড় রিসর্টের উপর হামলা চালাচ্ছে? সেই কারণে, যাতে থানা থেকে খানাতল্লাশি না হয়, সেজন্য অন্য রিসর্টে আক্রমণ করছে না?”
“হতে পারতো স্যার। তবে আমার মনে হয় না, অন্য কোথাও থেকে সে একের-পর-এক আক্রমণ-হত্যা ইত্যাদি সুচারুভাবে চালিয়ে যেতে পারত। পিশাচপাহাড় রিসর্টের আশেপাশেই তার ঘাঁটি, কিংবা রিসর্টেই সে আত্মগোপন করে আছে?”
“তাহলে তো ট্যুরিস্টদের মধ্যে কেউ!”
“হতেই পারে। সে-কারণেই তো তাদের হুজ-হু সব চাইছি। আমি নিজেও ওদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলি সার্চ করে দেখেছি। কয়েকজনের প্রাইভেট অ্যাকাউন্ট। কেবল উন্মেষা আর আর্যর অ্যাকাউন্ট ওপেন। তার মধ্যে উন্মেষা খুব একটা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তা নয়। লাস্ট পোস্ট করেছিল বছর দেড়েক আগে। অন্যদিকে আর্য মাঝেমধ্যে ছোট-ছোট রিপোর্টাজ কিংবা ফিচার, সেইসঙ্গে কবিতাও পোস্ট করে এইটুকু। বাকিরা অ্যাক্টিভ এবং ভালোমতোই অ্যাক্টিভ। আমি লালবাজারে বলে ওদের অ্যাকাউন্ট ইথিকাল হ্যাকারদের দিয়ে হ্যাক করেছিলাম। তাতে দেখলাম, অরণ্য, তৃষা, অঞ্জন সাক্সেনা সকলেই বেশ অ্যাক্টিভ। অরণ্যের ফ্যান-ফলোয়ার অনেক। সে সেমি-নিউড পোস্ট দিলেই লাইকস আর কমেন্টেস্-এর বন্যা বয়ে যায়। শেয়ারও হয় প্রচুর। আমার তো মনে হয়, সশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে তার আয় নিতান্ত কম নয়। এমনকি এখানে এসেও, নজরবন্দি অবস্থাতেও অরণ্য আউটডোর এবং ইনডোরের কিছু স্ট্রিমি ভিডিও আপলোড করেছেন, যাতে এ-ব্যাপারে তাঁর ইনভলভ্মেন্ট কতটা বোঝা যায়। অনিলের মৃত্যুও তাঁকে যে খুব একটা বিচলিত করেছে তা নয়। তাঁর আনন্যাচারাল ডেথের একদিন পরেই তিনি একটি শাওয়ার রিলস আপলোড করেছেন প্রায় নগ্ন অবস্থায়। অতএব বোঝা যায়, তিনি এই-ব্যাপারে খুব বিচলিত নন, কিন্তু কেন? তিনি এতটাই নিরুদ্বিগ্ন মানুষ যে, প্রায় সাধক বলা যায়, যাঁর কাছে জন্ম-মৃত্যু দুটিই খুব স্বাভাবিক ব্যাপার!”
“তাহলে অরণ্য তোমার প্রাইম সাসপেক্ট?”
“আপাতত সকলেই। আপনার ভাগ্নী বা হবু-জামাইও। কারণ, তারা পা রাখার পর-পরই পিশাচপাহাড়ে কালাদেওর আবির্ভাব, অনিল এবং সুবলের মৃত্যু, কাপাডিয়ার অপরে আক্রমণ…! তাহলে ওঁদের কীভাবে ক্লিনচিট দিই স্যার?”
“হতে পারতো স্যার। তবে আমার মনে হয় না, অন্য কোথাও থেকে সে একের-পর-এক আক্রমণ-হত্যা ইত্যাদি সুচারুভাবে চালিয়ে যেতে পারত। পিশাচপাহাড় রিসর্টের আশেপাশেই তার ঘাঁটি, কিংবা রিসর্টেই সে আত্মগোপন করে আছে?”
“তাহলে তো ট্যুরিস্টদের মধ্যে কেউ!”
“হতেই পারে। সে-কারণেই তো তাদের হুজ-হু সব চাইছি। আমি নিজেও ওদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলি সার্চ করে দেখেছি। কয়েকজনের প্রাইভেট অ্যাকাউন্ট। কেবল উন্মেষা আর আর্যর অ্যাকাউন্ট ওপেন। তার মধ্যে উন্মেষা খুব একটা অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তা নয়। লাস্ট পোস্ট করেছিল বছর দেড়েক আগে। অন্যদিকে আর্য মাঝেমধ্যে ছোট-ছোট রিপোর্টাজ কিংবা ফিচার, সেইসঙ্গে কবিতাও পোস্ট করে এইটুকু। বাকিরা অ্যাক্টিভ এবং ভালোমতোই অ্যাক্টিভ। আমি লালবাজারে বলে ওদের অ্যাকাউন্ট ইথিকাল হ্যাকারদের দিয়ে হ্যাক করেছিলাম। তাতে দেখলাম, অরণ্য, তৃষা, অঞ্জন সাক্সেনা সকলেই বেশ অ্যাক্টিভ। অরণ্যের ফ্যান-ফলোয়ার অনেক। সে সেমি-নিউড পোস্ট দিলেই লাইকস আর কমেন্টেস্-এর বন্যা বয়ে যায়। শেয়ারও হয় প্রচুর। আমার তো মনে হয়, সশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে তার আয় নিতান্ত কম নয়। এমনকি এখানে এসেও, নজরবন্দি অবস্থাতেও অরণ্য আউটডোর এবং ইনডোরের কিছু স্ট্রিমি ভিডিও আপলোড করেছেন, যাতে এ-ব্যাপারে তাঁর ইনভলভ্মেন্ট কতটা বোঝা যায়। অনিলের মৃত্যুও তাঁকে যে খুব একটা বিচলিত করেছে তা নয়। তাঁর আনন্যাচারাল ডেথের একদিন পরেই তিনি একটি শাওয়ার রিলস আপলোড করেছেন প্রায় নগ্ন অবস্থায়। অতএব বোঝা যায়, তিনি এই-ব্যাপারে খুব বিচলিত নন, কিন্তু কেন? তিনি এতটাই নিরুদ্বিগ্ন মানুষ যে, প্রায় সাধক বলা যায়, যাঁর কাছে জন্ম-মৃত্যু দুটিই খুব স্বাভাবিক ব্যাপার!”
“তাহলে অরণ্য তোমার প্রাইম সাসপেক্ট?”
“আপাতত সকলেই। আপনার ভাগ্নী বা হবু-জামাইও। কারণ, তারা পা রাখার পর-পরই পিশাচপাহাড়ে কালাদেওর আবির্ভাব, অনিল এবং সুবলের মৃত্যু, কাপাডিয়ার অপরে আক্রমণ…! তাহলে ওঁদের কীভাবে ক্লিনচিট দিই স্যার?”
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২২: য পলায়তি, স জীবতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৪: যুদ্ধ করতে সব সময় পেশীশক্তি নয়, দরকার বিশ্বাসের গল্পও

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬১: রাস্তায় গাড়ির তেল শেষ হয়ে গেলে দুর্গতির কোনও সীমা থাকবে না
একেজি কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন। তারপর বললেন, “অবশ্যই ওরাও সন্দেহের আওতায় থাকবে। তোমাকে বলছি শাক্য, যদি শেষ পর্যন্ত দেখা যায় ওরা অপরাধী কিংবা অপরাধের সঙ্গে অদের কানেকশন রয়েছে, আমার তরফ থেকে কোন প্রতিবন্ধকতা আমি সৃষ্টি করবো না। আইনের ঊর্দ্ধে কেউ নয়। ওরাও নয়!”
“খুশি হলাম স্যার। তবে আমি জানতাম, আপনি এ-কথাই বলবেন। আপনি আলাদাই স্যার। অন্য কেউ হলে আগেই অদের এখান থেকে কলকাতায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতেন ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে। আর তা চাইলে আপনি সহজেই করতে পারতেন স্যার। কিন্তু আপনি তা করেননি!”
“সেটা এথিক্যালি ঠিক হত কি? যাই হোক, ওরা বা আর কেউ, সে যেই বা যারাই হোক না কেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে তার জন্য যথাযোগ্য সাজা ভোগ করুক, এটাই আমি চাই। দরকার হলে ওদের আটক করে কোর্টে প্রোডিউস করো। নিজেদের জিম্মায় নিয়ে আরও ভালো করে ইন্টারোগেট করলেই হয়তো সত্যটা বেরিয়ে আসবে!”
“স্যার, এখনি তার দরকার নেই। আমি নিশ্চিত, এত সহজ-সরল ব্যাপারটি নয়। আপনি তো জানেন, আপনাকে বলেছি, আপনার ভাগ্নি এবং হবু-জামাই ‘অরণ্যবার্তা’র অফিসে ছানবিনে গিয়ে জেনেছে, অজ্ঞাতপরিচয় কেউ স্থানীয় স্কুলমাস্টার ভবানীপ্রসাদ রায়ের নাম দিয়ে ফিচার লিখে বাই-পোস্ট পাঠাচ্ছে। তবে তার কোন ঠিকানা ছিল না লেখার সঙ্গে। ফলে ফিরে তার সঙ্গে যোগাযগ করার রাস্তা বন্ধ। এদিকে আসল ভবানীপ্রসাদ রায় অদ্ভুতভাবে অন্যের লেখার কৃতিত্ব নিজে দাবি করছেন। তাঁর চালচলন রহস্যজনক। আমি শুনে সুদীপ্তকে অনুরোধ করেছি, তাঁর ব্যাপারে গোপনে খোঁজখবর নিতে। দরকার হলে পিছনে খোচড় লাগাতে। দেখা যাক। কিন্তু এ-সমস্ত ঘটনা থেকেই আমার মনে একটা ধারণা বদ্ধমূল হতে শুরু করেছে যে, কেসটা জটিল হলেও সরল। কোথাও একটা চাবিকাঠি আছে, সেটা খুঁজে পেলেই সব রহস্যের জট দ্রুত খুলে যাবে।”
“তাই যেন যায়। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। আগেরবার ইলেকশনে এই এলাকায় তাঁর দল পিছিয়ে ছিল। এবার তিনি চাইছেন, লিড নিতে। কিন্তু এলাকার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি যদি এইরকম থাকে, তাহলে তাঁর সেই আশা দুরাশাই থেকে যাবে।”
“বুঝলাম। তবে আমরা কিন্তু চেষ্টা করছি, আপ্রাণ চেষ্টা করছি। মুখ্যমন্ত্রী লিড নেবেন বলে নয়, পুলিশবিভাগের নিজস্ব সম্মানের কথা ভেবেই চেষ্টা করছি। প্রতিটি ব্যর্থতা আমাদের উপর কেমন ভারি হয়ে চেপে বসে তা তো জানি!”
“খুশি হলাম স্যার। তবে আমি জানতাম, আপনি এ-কথাই বলবেন। আপনি আলাদাই স্যার। অন্য কেউ হলে আগেই অদের এখান থেকে কলকাতায় ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতেন ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে। আর তা চাইলে আপনি সহজেই করতে পারতেন স্যার। কিন্তু আপনি তা করেননি!”
“সেটা এথিক্যালি ঠিক হত কি? যাই হোক, ওরা বা আর কেউ, সে যেই বা যারাই হোক না কেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে তার জন্য যথাযোগ্য সাজা ভোগ করুক, এটাই আমি চাই। দরকার হলে ওদের আটক করে কোর্টে প্রোডিউস করো। নিজেদের জিম্মায় নিয়ে আরও ভালো করে ইন্টারোগেট করলেই হয়তো সত্যটা বেরিয়ে আসবে!”
“স্যার, এখনি তার দরকার নেই। আমি নিশ্চিত, এত সহজ-সরল ব্যাপারটি নয়। আপনি তো জানেন, আপনাকে বলেছি, আপনার ভাগ্নি এবং হবু-জামাই ‘অরণ্যবার্তা’র অফিসে ছানবিনে গিয়ে জেনেছে, অজ্ঞাতপরিচয় কেউ স্থানীয় স্কুলমাস্টার ভবানীপ্রসাদ রায়ের নাম দিয়ে ফিচার লিখে বাই-পোস্ট পাঠাচ্ছে। তবে তার কোন ঠিকানা ছিল না লেখার সঙ্গে। ফলে ফিরে তার সঙ্গে যোগাযগ করার রাস্তা বন্ধ। এদিকে আসল ভবানীপ্রসাদ রায় অদ্ভুতভাবে অন্যের লেখার কৃতিত্ব নিজে দাবি করছেন। তাঁর চালচলন রহস্যজনক। আমি শুনে সুদীপ্তকে অনুরোধ করেছি, তাঁর ব্যাপারে গোপনে খোঁজখবর নিতে। দরকার হলে পিছনে খোচড় লাগাতে। দেখা যাক। কিন্তু এ-সমস্ত ঘটনা থেকেই আমার মনে একটা ধারণা বদ্ধমূল হতে শুরু করেছে যে, কেসটা জটিল হলেও সরল। কোথাও একটা চাবিকাঠি আছে, সেটা খুঁজে পেলেই সব রহস্যের জট দ্রুত খুলে যাবে।”
“তাই যেন যায়। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। আগেরবার ইলেকশনে এই এলাকায় তাঁর দল পিছিয়ে ছিল। এবার তিনি চাইছেন, লিড নিতে। কিন্তু এলাকার আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি যদি এইরকম থাকে, তাহলে তাঁর সেই আশা দুরাশাই থেকে যাবে।”
“বুঝলাম। তবে আমরা কিন্তু চেষ্টা করছি, আপ্রাণ চেষ্টা করছি। মুখ্যমন্ত্রী লিড নেবেন বলে নয়, পুলিশবিভাগের নিজস্ব সম্মানের কথা ভেবেই চেষ্টা করছি। প্রতিটি ব্যর্থতা আমাদের উপর কেমন ভারি হয়ে চেপে বসে তা তো জানি!”
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৩: মেথরকে ডেকে এনে বসাতেন নিজের বিছানায়

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৬: জয় বাবা ফেলুনাথ: রুকুর অন্দরমহল
“আমি তোমাকে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাপারটি বললাম এ-কারণে যে, এই কেসে তাড়াতাড়ি কোন অগ্রগতি না-হলে তিনি হয়তো এই কেসের ভার সিআইডিকে দিয়ে দেবেন। তখন আর লালবাজারের নিজস্ব কন্ট্রোলে কেসটা থাকবে না। আর ব্যর্থতার দায়ে তোমাকে নিশ্চয়ই সিআইডির সেই টিমে তুমি থাকবে না!”
“বুঝেছি স্যার। আসলে আমি এভাবে দেখি না, সকলে মিলে সম্মিলিতভাবে আমাদের পুলিশিবিভাগ। সেখানে আমি বা আপনি বিচ্ছিন্ন কেউ নয়। আদতে কেস যেই সলভ করুক না কেন, আমি মনে করি সে সম্মিলিতভাবে আমাদের পুলিশ-বিভাগেরই জয়। ফলে আমাকে কেস থেকে সরিয়ে দিলেও আমার রাগ-ক্ষোভ-মান-অভিমান কিছুই হবে না!”
“সত্যি তুমি অদ্ভুত। তবে আমি এতটা উদার নই। এই কেসে তোমার পরাজয় হলে আমি ভাবব, আমার নিজেরই পরাজয় ঘটল। আমার বিশ্বাসের পরাজয় ঘটল। দেখ, সকলেরই এক-একটি ডার্ক হর্স থাকে, অন্তত থাকা উচিত। আমার কাছে তুমি সেই ডার্ক হর্স। অতএব আমি চাই, তুমি জেতো!”
“চেষ্টা করব স্যার। আর একটা কথা?”
“বল?”
“আমি ঠিক করেছি, এবারে পিশাচপাহাড় রিসর্টের সবাইকে আশেপাশের এলাকায় স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানোর অনুমতি দেবো। এক সপ্তাহের বেশি হয়ে গেল, তাঁরা আটকে আছেন। যদি দেখি সব ঠিকঠাক চলছে, তাহলে তাঁদের কলকাতা ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেবো, তবে মুচলেকা লিখিয়ে নিয়ে যে, কেসের স্বার্থে যখনই তাঁদের কল্ করা হবে, তখনই তাঁদের আসতে হবে !”
“ব্যাপারটা রিস্ক্ হয়ে যাবে না?”
“হলেও কিছু করার নেই। আমাদের সেই রিস্ক নিতেই হবে। না নিলে, তাঁরা এখানে ঠিক কোথায়-কোথায় যেতে চান কিংবা যাচ্ছেন, তা জানা যাবে না। কিন্তু আমাদের এই কেসে সেটা জানা খুব দরকার!”
“বেশ তাই করো তাহলে। কবে থেকে ফ্রি করতে চাইছো বন্দি চিড়িয়াদের?”
“সম্ভব হলে পরশু থেকেই!”
“কাল থেকে নয় কেন?”
“বুঝেছি স্যার। আসলে আমি এভাবে দেখি না, সকলে মিলে সম্মিলিতভাবে আমাদের পুলিশিবিভাগ। সেখানে আমি বা আপনি বিচ্ছিন্ন কেউ নয়। আদতে কেস যেই সলভ করুক না কেন, আমি মনে করি সে সম্মিলিতভাবে আমাদের পুলিশ-বিভাগেরই জয়। ফলে আমাকে কেস থেকে সরিয়ে দিলেও আমার রাগ-ক্ষোভ-মান-অভিমান কিছুই হবে না!”
“সত্যি তুমি অদ্ভুত। তবে আমি এতটা উদার নই। এই কেসে তোমার পরাজয় হলে আমি ভাবব, আমার নিজেরই পরাজয় ঘটল। আমার বিশ্বাসের পরাজয় ঘটল। দেখ, সকলেরই এক-একটি ডার্ক হর্স থাকে, অন্তত থাকা উচিত। আমার কাছে তুমি সেই ডার্ক হর্স। অতএব আমি চাই, তুমি জেতো!”
“চেষ্টা করব স্যার। আর একটা কথা?”
“বল?”
“আমি ঠিক করেছি, এবারে পিশাচপাহাড় রিসর্টের সবাইকে আশেপাশের এলাকায় স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়ানোর অনুমতি দেবো। এক সপ্তাহের বেশি হয়ে গেল, তাঁরা আটকে আছেন। যদি দেখি সব ঠিকঠাক চলছে, তাহলে তাঁদের কলকাতা ফিরে যাওয়ার অনুমতি দেবো, তবে মুচলেকা লিখিয়ে নিয়ে যে, কেসের স্বার্থে যখনই তাঁদের কল্ করা হবে, তখনই তাঁদের আসতে হবে !”
“ব্যাপারটা রিস্ক্ হয়ে যাবে না?”
“হলেও কিছু করার নেই। আমাদের সেই রিস্ক নিতেই হবে। না নিলে, তাঁরা এখানে ঠিক কোথায়-কোথায় যেতে চান কিংবা যাচ্ছেন, তা জানা যাবে না। কিন্তু আমাদের এই কেসে সেটা জানা খুব দরকার!”
“বেশ তাই করো তাহলে। কবে থেকে ফ্রি করতে চাইছো বন্দি চিড়িয়াদের?”
“সম্ভব হলে পরশু থেকেই!”
“কাল থেকে নয় কেন?”
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২২: রামের পাদুকাগ্রহণের মাহাত্ম্য, ভরত কী রামের ছায়াশ্রিত প্রশাসক?

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৮: লক্ষ্মী প্যাঁচা
“কাল ডিএমের সঙ্গে আমাদের মিটিং আছে। আপাতত ওটাই পাখির চোখ। আমি এক-এক করে নিশ্চিত হতে চাইছি। জাল বিছানোর কাজ শুরু করেছি আগেই। কালকের মিটিং-টা খুব ভাইটাল। আপনি যদি স্যার ডিএমকে ব্যাপারটা সম্পর্কে একবার বলে দেন…!”
“আগেই বলে রেখেছি। তুমি চাইলে আবারও বলতে পারি। তবে তার বোধহয় সরকার হবে না। কারণ, ডিএম মধ্যবয়সী এবং এ-ব্যাপারে অ্যাওয়ার খুব। উনিও চাইছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সত্যটা সামনে আসুক। যদি আধিভৌতিক ব্যাপার হয়, সেটাই ক্লিন অ্যাণ্ড ক্লিয়ারলি পাবলিক জানুক। আর যদি তা না হয়ে, মানুষের দ্বারা সংঘটিত কোন অপরাধ হয়, তাহলে তার মুখোশ খুলে যাক। অতএব আমার বিশ্বাস তিনি তোমাকে পূর্ণভাবে সাহায্য করবেন।”
“করলেই ভালো। কারণ, আমি যতটুকু বুঝছি, কালাদেওর নাগাল পাওয়ার আগে আমাদের লোক্যাল মাসল্ম্যানদের সঙ্গে লড়াই করতে হবে!”
“যেমন…?”
“পঞ্চায়েত-স্তর থেকে হায়ারার্কি অবধি…।”
“লোক্যাল-সেন্টিমেন্টের কথা মাথায় রেখো। তোমার-আমার কাছে কালাদেও একটা বোগাস মিথ্ হতে পারে, কালপ্রিটদের নিশ্চিন্ত অ্যালিবাই, কিন্তু লোক্যাল পাবলিক তো সে-কথা বুঝবে না। মাস-ইরিটেশন না হলেই হল। আমি কী বলতে চাইছি বুঝেছো নিশ্চয়ই?”
“আগেই সে-ব্যবস্থা যতটা সম্ভব করা যায়, করা শুরু করে দিয়েছি স্যার। বাকিটুকুর জন্যই ডিএম-এসপি এঁদের সাহায্যের প্রয়োজন। সোজা আঙুলে ঘী উঠবে না বলে এক্ষেত্রে আঙুল আমাদের বাঁকাতেই হবে !”
“সে বাঁকাও। যতটা পারো সাবধানে বাঁকাও। আঙুল পরে সোজা করতে পারলেই হল!” হাসলেন একেজি।
হাসল শাক্যও। এতক্ষণ পরে স্যার সহজভাবে মজা করলেন বলে সে বুঝতে পারছে, যে-পথে সে চলেছে, তাতে একেজির সমর্থন রয়েছে। তা-না-হলে তিনি সরস মন্তব্য করতেন না। সে বলল, “স্যার?”
“বলো!”
“আগেই বলে রেখেছি। তুমি চাইলে আবারও বলতে পারি। তবে তার বোধহয় সরকার হবে না। কারণ, ডিএম মধ্যবয়সী এবং এ-ব্যাপারে অ্যাওয়ার খুব। উনিও চাইছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সত্যটা সামনে আসুক। যদি আধিভৌতিক ব্যাপার হয়, সেটাই ক্লিন অ্যাণ্ড ক্লিয়ারলি পাবলিক জানুক। আর যদি তা না হয়ে, মানুষের দ্বারা সংঘটিত কোন অপরাধ হয়, তাহলে তার মুখোশ খুলে যাক। অতএব আমার বিশ্বাস তিনি তোমাকে পূর্ণভাবে সাহায্য করবেন।”
“করলেই ভালো। কারণ, আমি যতটুকু বুঝছি, কালাদেওর নাগাল পাওয়ার আগে আমাদের লোক্যাল মাসল্ম্যানদের সঙ্গে লড়াই করতে হবে!”
“যেমন…?”
“পঞ্চায়েত-স্তর থেকে হায়ারার্কি অবধি…।”
“লোক্যাল-সেন্টিমেন্টের কথা মাথায় রেখো। তোমার-আমার কাছে কালাদেও একটা বোগাস মিথ্ হতে পারে, কালপ্রিটদের নিশ্চিন্ত অ্যালিবাই, কিন্তু লোক্যাল পাবলিক তো সে-কথা বুঝবে না। মাস-ইরিটেশন না হলেই হল। আমি কী বলতে চাইছি বুঝেছো নিশ্চয়ই?”
“আগেই সে-ব্যবস্থা যতটা সম্ভব করা যায়, করা শুরু করে দিয়েছি স্যার। বাকিটুকুর জন্যই ডিএম-এসপি এঁদের সাহায্যের প্রয়োজন। সোজা আঙুলে ঘী উঠবে না বলে এক্ষেত্রে আঙুল আমাদের বাঁকাতেই হবে !”
“সে বাঁকাও। যতটা পারো সাবধানে বাঁকাও। আঙুল পরে সোজা করতে পারলেই হল!” হাসলেন একেজি।
হাসল শাক্যও। এতক্ষণ পরে স্যার সহজভাবে মজা করলেন বলে সে বুঝতে পারছে, যে-পথে সে চলেছে, তাতে একেজির সমর্থন রয়েছে। তা-না-হলে তিনি সরস মন্তব্য করতেন না। সে বলল, “স্যার?”
“বলো!”
আরও পড়ুন:

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৬: দীনদুখিনীর জননী সারদা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-২৬: যিনি নিরূপমা তিনিই ‘অনুপমা’
“আর একটা সাহায্য লাগবে। করতে পারবেন কি?”
“কী-সাহায্য আগে তা শুনি। তারপর তো বলবো।”
“আপনার পরিচিত কেউ আছেন, যিনি আর্কিওলজিস্ট?”
“তুমি আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইণ্ডিয়ার কোন অফিসারের সঙ্গে জানাচেনা আছে কি-না জানতে চাইছ তো?”
“হ্যাঁ স্যার।”
“আছে। তবে তিনি এখন চাকরিতে আছেন না-কি রিট্যায়ার করেছেন জানি না। খোঁজ নেবো। রিট্যায়ার করলেও ক্ষতি নেই। তিনি কারুর নাম সাজেস্ট করতে পারেন। তুমি কি চাইছো, তোমাদের এক্সপিডিশন টু দ্য পিশাচপাহাড় কেভ, কোন আর্কিওলজিস্ট তোমাদের সঙ্গে যান?”
“এক্সাক্টলি সো স্যার। ভবিষ্যতে কোন অ্যাজিটেশন থেকে তাহলে বাঁচার পথ থাকতো।”
“কিন্তু সরকারি স্তরে ব্যাপারটি মুভ করতে গেলে অনর্থক সময় নষ্ট হবে না?”
“সে-কারণেই তো আপনাকে বলা স্যার। ডিএমকে আমি অনুরোধ করতেই পারি, কিন্তু আমি চাইছি না স্থানীয় তথ্য-সংস্কৃতি দফতর আগে থেকে ব্যাপারটি জানুক। যে বা যারা ব্যাপারগুলি চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের কোন খোচড় যে আমাদের সরকারি দপ্তরগুলিতে ছড়িয়ে নেই, এমন তো আর বলা চলে না। সেক্ষেত্রে তারা সতর্ক হয়ে যেতে পারে। তাহলে এত আয়োজন মাঠে মারা যাবে !”
“মুশকিলে ফেললে। দেখছি। আর কিছু?”
“আপাতত মনে পড়ছে না। তবে একটাই অ্যাসিওরেন্স দিতে পারি যে, এই এক্সপিডিশনটার শেষে কোন-না-কোন ব্রেকিং-নিউজ আপনাকে দিতে পারবো আশা রাখি!”
“হোপ্ ফর দ্য বেস্ট। আমার শুভেচ্ছা রইল। জয়যুক্ত হয়ে ফিরে এসো।”
“তথাস্তু বস্। তবে তার আগে কালকের দৌত্য নির্বিঘ্ন হোক, আশীর্বাদ করুন।”
“করিলুম বৎস। আপাততো কমিশনার ইজ কলিং। ফোনটা ছাড়লাম। আমার বসের কাছে আবার কি জবাবদিহি করতে হয় দেখি। কাল কী হল জানিও।”
“একদম বস। গুড নাইট।”
“গুড নাইট।”—চলবে।
“কী-সাহায্য আগে তা শুনি। তারপর তো বলবো।”
“আপনার পরিচিত কেউ আছেন, যিনি আর্কিওলজিস্ট?”
“তুমি আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইণ্ডিয়ার কোন অফিসারের সঙ্গে জানাচেনা আছে কি-না জানতে চাইছ তো?”
“হ্যাঁ স্যার।”
“আছে। তবে তিনি এখন চাকরিতে আছেন না-কি রিট্যায়ার করেছেন জানি না। খোঁজ নেবো। রিট্যায়ার করলেও ক্ষতি নেই। তিনি কারুর নাম সাজেস্ট করতে পারেন। তুমি কি চাইছো, তোমাদের এক্সপিডিশন টু দ্য পিশাচপাহাড় কেভ, কোন আর্কিওলজিস্ট তোমাদের সঙ্গে যান?”
“এক্সাক্টলি সো স্যার। ভবিষ্যতে কোন অ্যাজিটেশন থেকে তাহলে বাঁচার পথ থাকতো।”
“কিন্তু সরকারি স্তরে ব্যাপারটি মুভ করতে গেলে অনর্থক সময় নষ্ট হবে না?”
“সে-কারণেই তো আপনাকে বলা স্যার। ডিএমকে আমি অনুরোধ করতেই পারি, কিন্তু আমি চাইছি না স্থানীয় তথ্য-সংস্কৃতি দফতর আগে থেকে ব্যাপারটি জানুক। যে বা যারা ব্যাপারগুলি চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের কোন খোচড় যে আমাদের সরকারি দপ্তরগুলিতে ছড়িয়ে নেই, এমন তো আর বলা চলে না। সেক্ষেত্রে তারা সতর্ক হয়ে যেতে পারে। তাহলে এত আয়োজন মাঠে মারা যাবে !”
“মুশকিলে ফেললে। দেখছি। আর কিছু?”
“আপাতত মনে পড়ছে না। তবে একটাই অ্যাসিওরেন্স দিতে পারি যে, এই এক্সপিডিশনটার শেষে কোন-না-কোন ব্রেকিং-নিউজ আপনাকে দিতে পারবো আশা রাখি!”
“হোপ্ ফর দ্য বেস্ট। আমার শুভেচ্ছা রইল। জয়যুক্ত হয়ে ফিরে এসো।”
“তথাস্তু বস্। তবে তার আগে কালকের দৌত্য নির্বিঘ্ন হোক, আশীর্বাদ করুন।”
“করিলুম বৎস। আপাততো কমিশনার ইজ কলিং। ফোনটা ছাড়লাম। আমার বসের কাছে আবার কি জবাবদিহি করতে হয় দেখি। কাল কী হল জানিও।”
“একদম বস। গুড নাইট।”
“গুড নাইট।”—চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer atanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।


















