
প্রায়ান্ধকার ঘরে বিছানায় ওলটপালট খাচ্ছিক দুটি শরীর। ঘরের উজ্জ্বল আলোগুলি সব নেভানো ছিল, তবে তা বলে ঘর একেবারে অন্ধকার ছিল না। জিরো পাওয়ারের একটা স্তিমিত সবুজ আলো ঘরটাকে রহস্যময় করে তুলেছিল। সেই আলো দুটি নগ্ন শরীরের উপর পড়েই হারিয়ে যাচ্ছিল। মোবাইলে মৃদু ভলিউমে বাজছিল আশারের ‘ক্যান ইউ হ্যান্ডেল ইট?’ তা-ও একজনের চাপা কষ্ট আর শীৎকারকে চাপা দিতে পারছিল না তা।
ঘরটা আর্যের। অনিল চলে যাওয়ার পরে সে একাই আছে। ক্রমশ বিরক্ত হয়ে উঠছে। এখানে এসে ফেঁসে গিয়েছে। তার এত টাকা নেই। পুলিশ থেকে তার হোটেলভাড়া না মেটালে তাকে জেলে যেতে হবে। অবশ্য অঞ্জন সাক্সেনা আছে। সুতরাং হয়তো অতটাও দুরাবস্থা হবে না। কিন্তু যদি সে-ও মুখ ফেরায়? তাহলে সত্যিই তার জেলের ঘানি টানাই লেখা আছে কপালে।
আজ সন্ধ্যার পর বোর হয়ে সে কিছুক্ষণ লনে পায়চারি করল। কিন্তু গার্ডরা সন্ধ্যার পর লনে থাকা উচিত নয় বলে সাবধান-বাণী শোনানোর পর সে আবার রুমে ফিরে এসেছিল। কিছুক্ষণ মোবাইল ঘাঁটল। ভাগ্যিস এই রিসর্টে ফ্রি ওয়াই-ফাই আছে, নাহলে তাকে এখন একগাদা টাকা খরচ করে ডেটাপ্যাক ভরতে হতো। কিন্তু কাঁহাতক আর মোবাইল ঘাঁটা যায়? এদিকে অঞ্জন, অরণ্য, উন্মেষা, তৃষা—যে-যার নিজেদের রুমে। অনিল থাকলে সেও গল্পগুজব করতে পারতো। কিন্তু তা আর সম্ভব নয়। এই অবস্থায় ওদের রুমে গিয়ে আড্ডা দেওয়ার জন্য সে যেতেই পারত, কিন্তু এখানে এই রিসর্টের পরিবেশে এখন ওরা কী করছে, কেমন অবস্থায় আছে, তা না-জেনে যাবেই বা কেমন করে? সেটা শোভনও নয়।
ঘরটা আর্যের। অনিল চলে যাওয়ার পরে সে একাই আছে। ক্রমশ বিরক্ত হয়ে উঠছে। এখানে এসে ফেঁসে গিয়েছে। তার এত টাকা নেই। পুলিশ থেকে তার হোটেলভাড়া না মেটালে তাকে জেলে যেতে হবে। অবশ্য অঞ্জন সাক্সেনা আছে। সুতরাং হয়তো অতটাও দুরাবস্থা হবে না। কিন্তু যদি সে-ও মুখ ফেরায়? তাহলে সত্যিই তার জেলের ঘানি টানাই লেখা আছে কপালে।
আজ সন্ধ্যার পর বোর হয়ে সে কিছুক্ষণ লনে পায়চারি করল। কিন্তু গার্ডরা সন্ধ্যার পর লনে থাকা উচিত নয় বলে সাবধান-বাণী শোনানোর পর সে আবার রুমে ফিরে এসেছিল। কিছুক্ষণ মোবাইল ঘাঁটল। ভাগ্যিস এই রিসর্টে ফ্রি ওয়াই-ফাই আছে, নাহলে তাকে এখন একগাদা টাকা খরচ করে ডেটাপ্যাক ভরতে হতো। কিন্তু কাঁহাতক আর মোবাইল ঘাঁটা যায়? এদিকে অঞ্জন, অরণ্য, উন্মেষা, তৃষা—যে-যার নিজেদের রুমে। অনিল থাকলে সেও গল্পগুজব করতে পারতো। কিন্তু তা আর সম্ভব নয়। এই অবস্থায় ওদের রুমে গিয়ে আড্ডা দেওয়ার জন্য সে যেতেই পারত, কিন্তু এখানে এই রিসর্টের পরিবেশে এখন ওরা কী করছে, কেমন অবস্থায় আছে, তা না-জেনে যাবেই বা কেমন করে? সেটা শোভনও নয়।
অনেকক্ষণ শুয়ে থাকল। এককাপ কফি খেতে ইচ্ছে করছিল। কিন্তু নিজেকেই সেই বিল পেমেন্ট করতে হবে, এই ভয়ে আর ওই পথে গেল না। বারমুডা পরে আছে সে। খালি গা। ঘরে ফ্যান চলছে হাল্কাভাবে। রাতে অবশ্য ঠান্ডা লাগবে। ফ্যান চালানোর জো নেই তখন। কোন কাজ নেই ভেবে নিজের পুরুষাঙ্গটা নিয়ে অনেকক্ষণ নাড়াচাড়া করল সে। কিন্তু কামভাব জাগল না। হতাশ হল সে। তাহলে সে দিনের পর দিন কামশীতল হয়ে যাচ্ছে! এরপর একসময় আর উত্থিত হবে না অঙ্গটা? মোবাইলে নীল ছবির অপশনে গিয়ে দেখল কিছুক্ষণ। নাহ্। তাতেও কিছু হচ্ছে না। আচ্ছা কতদিন আগে সে একজন রমণীদেহ ভোগ করেছে? স্মৃতির পাতা হাতড়াতে হাতড়াতে সে আবিষ্কার করল, তাও বছর সাত-আট তো হবেই। আর সেটা কোনও সফল এনকাউন্টার ছিল না। অসফল হয়ে উঠে আসতে হিয়েছিল বেড থেকে। খিস্তি দিয়েছিল সোনাগাছির সেই মেয়েটি, “দাঁড়ায় না তো আসিস কেন? শালা হিজড়ে!”
কানে ধ্বক্ করে বেজেছিল শব্দটা। হিজড়ে! সে তাহলে স্বাভাবিক নয়? কিন্তু এরা অশিক্ষিত। জানেও না যে, আজকাল হিজড়ে মানে ট্রান্সজেন্ডার আর গে সম্পূর্ণ পৃথক সত্তাসম্পন্ন বলেই ধরা হয়। তেমনই ক্যুইয়ার, লেসবিয়ান…। সে কী তবে গে? কিন্তু তাহলে কোন কোন সময় তার উন্নতস্তনী কাউকে দেখলে রমণের ইচ্ছে জাগে কেন? অবশ্য জাগলেই সে ছেলেদের নিজস্ব পদ্ধতিতে উত্তেজনাকে বাইরে বের করে দেয়। কিন্তু একই ব্যাপার তার ছেলেদের ক্ষেত্রেও হয়। তার বন্ধুরা অবশ্য কেউ জানে না, সন্দেহ করে, কিন্তু এদের কারুর সঙ্গেই তো সে কখন কোনও অন্যরকম যৌনকর্মে লিপ্ত হয়নি, ফলে এদের নিশ্চিতভাবে জানার কথাও নয়। কিন্তু তার জীবনে পুরুষ এসেছে। তাদের মধ্যে এমন পুরুষ আছে, যারা বিবাহিত। সন্তানের পিতা। কিন্তু ছেলেদের রমণের মধ্যে তারা যে আনন্দ পায়, আর কিছুতে তেমন পায় না। সে একজন ডেভেলপারকে চেনে, তার সঙ্গে কয়েকরাত কাটিয়েছেও সে, সেই ডেভেলপার আলাদা একটি জায়গায় তার পুরুষসঙ্গীকে একখানি ফ্ল্যাট দিয়েছে, যেখানে সপ্তাহান্তে সে যৌনসুখ দিতে-পেতে যায়। স্বামী-স্ত্রীর মতো থাকে তারা। সেই সঙ্গীটি কিন্তু ট্রান্সজেন্ডার নয়। গে। শাড়ি-সায়া-পেটিকোট পরে না, একেবারে প্যান্ট-শার্ট-বারমুডা পরে থাকে এই তারই মতো। বেশ দাঁড়িগোঁফওলা, দেখলে মনেই হবে না যে, তার যৌনচাহিদা একটু আলাদা।
কানে ধ্বক্ করে বেজেছিল শব্দটা। হিজড়ে! সে তাহলে স্বাভাবিক নয়? কিন্তু এরা অশিক্ষিত। জানেও না যে, আজকাল হিজড়ে মানে ট্রান্সজেন্ডার আর গে সম্পূর্ণ পৃথক সত্তাসম্পন্ন বলেই ধরা হয়। তেমনই ক্যুইয়ার, লেসবিয়ান…। সে কী তবে গে? কিন্তু তাহলে কোন কোন সময় তার উন্নতস্তনী কাউকে দেখলে রমণের ইচ্ছে জাগে কেন? অবশ্য জাগলেই সে ছেলেদের নিজস্ব পদ্ধতিতে উত্তেজনাকে বাইরে বের করে দেয়। কিন্তু একই ব্যাপার তার ছেলেদের ক্ষেত্রেও হয়। তার বন্ধুরা অবশ্য কেউ জানে না, সন্দেহ করে, কিন্তু এদের কারুর সঙ্গেই তো সে কখন কোনও অন্যরকম যৌনকর্মে লিপ্ত হয়নি, ফলে এদের নিশ্চিতভাবে জানার কথাও নয়। কিন্তু তার জীবনে পুরুষ এসেছে। তাদের মধ্যে এমন পুরুষ আছে, যারা বিবাহিত। সন্তানের পিতা। কিন্তু ছেলেদের রমণের মধ্যে তারা যে আনন্দ পায়, আর কিছুতে তেমন পায় না। সে একজন ডেভেলপারকে চেনে, তার সঙ্গে কয়েকরাত কাটিয়েছেও সে, সেই ডেভেলপার আলাদা একটি জায়গায় তার পুরুষসঙ্গীকে একখানি ফ্ল্যাট দিয়েছে, যেখানে সপ্তাহান্তে সে যৌনসুখ দিতে-পেতে যায়। স্বামী-স্ত্রীর মতো থাকে তারা। সেই সঙ্গীটি কিন্তু ট্রান্সজেন্ডার নয়। গে। শাড়ি-সায়া-পেটিকোট পরে না, একেবারে প্যান্ট-শার্ট-বারমুডা পরে থাকে এই তারই মতো। বেশ দাঁড়িগোঁফওলা, দেখলে মনেই হবে না যে, তার যৌনচাহিদা একটু আলাদা।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫২: শিকার এবং শিকারী

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৭: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — পাতিশিয়াল

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা/ দ্বিতীয় অধ্যায়, পর্ব-৫৫: আকাশ এখনও মেঘলা

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি পর্ব-৯৫ : রাজনীতির দাবার ছকে ত্যাগের মহাকাব্য: এক অন্য পঞ্চতন্ত্রের খোঁজে
নিজের জন্মের উপর ঘেন্না ধরে যায়, এ-সব কথা ভাবলেই। আজ যদি সে অঞ্জনের মতো হতো, তাহলে তার একজন স্ত্রী থাকত, সন্তানও। সমাজের চোখে একটা স্বাভাবিক জীবনের অধিকারী হতে পারত সে। কিন্তু নাহ্, এ-জন্মে তা আর সম্ভব নয়। কারণ সে দেখেছে, ছেলেরা যখন তাতে উপগত হয়, সে আনন্দ পায়। ভালো লাগার অনুভূতি জড়িয়ে ধরে তাকে। মেয়েদের সঙ্গে রমণে তা সে পায় না। ভাগ্যিস পায় না। পেলে হয়তো আজ থেকে বেশ কয়েকবছর আগের এক কালো রাতে আরও অনেকের সঙ্গে সেও জড়িয়ে পড়ত একটা অপরাধের সঙ্গে। সেই অপরাধের থেকে তার হাত যদিও পুরোপুরি কলঙ্কমুক্ত নয়। কারণ, সেই অপরাধ যখন ঘটছিল সে তখন স্কচ এবং ডার্ক চকোলেট, স্মোকড হ্যাম আর চিকেন স্যালামি খাচ্ছিল। আজকাল মাঝেমধ্যেই মনে হয়, সেই অপরাধের জন্যই তার কপালেও একতা আনন্যাচারাল ডেথ ঈশ্বর লিখে রেখেছেন। অনিলের মতোই। কারণ অনিল, অরণ্য দু’জনেই সেদিনের সেই অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল। তৃষাও। যদিও সে বা তৃষা প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে নেই। কিন্তু সেই অপরাধের প্রতি তৃষার প্রত্যক্ষ সমর্থন ছিল। সে নীরব দর্শক ছিল। প্রতিবাদ করতে পারত, কিন্তু স্কচ আর ভালো-ভালো খাবার পেলে কে আর প্রতিবাদের কথা ভাবে?
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯০: ত্রিপুরার রাজপরিবারকে রবীন্দ্রনাথের প্রথম পত্র

বিচিত্রের বৈচিত্র, গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৪৭: অরণ্যজাতক : বন্ধু তোমার পথের সাথীকে চিনে নিও
নাহ্। মনটাকে অন্যদিকে ঘোরাতে হবে। এই ভেবে সে একটা গে-পর্ণ চালিয়ে দিল মোবাইলে। দেখতে দেখতে তার উত্তেজনা ফিরে আসছিল। হাত আবার নাড়াচাড়া শুরু করেছিল লিঙ্গকে মুঠোয় ধরে। ঠিক সেই সময় অরণ্য যে ঢুকে পড়বে সে আশা করেনি। মোবাইলটা বন্ধ করারও সময় পেল না। হাত থেকে খসে পড়ল। ছবিতে তখন শীৎকার করছিল ছেলেটা। আনন্দের, ব্যথার। অরণ্য সম্ভবত সেটা আন্দাজ করেই, “কী দেখছিস বা***” বলেই ছোঁ মেরে সেটা তুলে নিয়ে দেখে খিক্খিক্ করে হাসল। বলল, “তাহলে ধরা পড়ে গেলি?”
নিজেকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করল আর্য। “কী ধরা পড়ে গেলাম?”
“এই যা এতদিন লুকাচ্ছিলি?”
“কী লুকাচ্ছিলাম? কিছুই লুকাইনি। আমার লুকাবার কিছু নেই!” বলতে গিয়েও তার গলা কেঁপে গেল।
“আর লুকিয়ে কী হবে বাপ? তুই যে একটা গে সেটা আমি আগেই সন্দেহ করেছিলাম। আমাকে বলতে পারতিস্। আমি কিন্তু কোন লুকোছাপা করি না। আমি বাইসেক্সুয়াল। মেয়ে হোক বা ছেলে, আমার মনে ধরলে আর তারা রাজি হলে আমার কিছুতেই কোন আপত্তি নেই। তোকে আমিই সুখ দিতে পারতাম আগে জানলে। এতদিনে অনেকবার এনকাউন্টার হয়ে যেত! আমার মতো একজন জিম-টোনড, পার্টনার হায়ার করতে গেলে কিন্তু তোর গাঁড় ফাঁক হয়ে যাবে!”
“কী আলতু-ফালতু বলছিস ? অন্যের রুমে ঢুকতে গেলে নক্ করে ঢুকতে হয় জানিস না?”
“কেন বে? তাহলে এভাবে ধরা পড়ে যেতিস না, তাই তো?”
“হোয়াট দ্য হেইল আর য়্যু সেয়িং? মোবাইল দে। আর আমাকে একটু একা থাকতে দে!”
“মোবাইল দেবো। আগে সবাইকে ডাকি!”
“অরণ্য!” আর্যর গলায় কাতরতা।
“উহুঁ বাবা। আজ নো ছারান ছোড়ন। ধরা যখন পড়েই গেছিস, আজ আমাকে চান্স দিতেই হবে। না দিলে তোর সিক্রেট আর সিক্রেট থাকবে না, ওপেন বুক হয়ে যাবে।”
“অরণ্য ! প্লিজ ! ছেড়ে দে। আমি তোর কী ক্ষতি করেছি?”
“ক্ষতি তো এখনই করবি, যদি না আমার ভিতরটাকে জাগিয়ে তাকে তৃপ্ত না করিস,” বলে অরণ্য এগিয়ে এসে থাবা মেরে ধরে আর্যর কাঁধ।
“না না, কেউ চলে এলে কেলেঙ্কারি হবে। তার চেয়ে ভালোয়-ভালোয় কলকাতা ফিরি, তারপর কথা দিলাম, একদিন তুই যা চাইবি তা-ই হবে!”
হাসল অরণ্য। ফিচেল হাসি। “সে তো হবেই। যতদিন না তর শরীরটা আমাকে বোর করছে, ততদিন চলতেই থাকবে এ-সব। কিন্তু এখন ট্রায়াল!”
“না!” চাপা গলায় আর্তনাদ করে উঠল আর্য।
নিজেকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করল আর্য। “কী ধরা পড়ে গেলাম?”
“এই যা এতদিন লুকাচ্ছিলি?”
“কী লুকাচ্ছিলাম? কিছুই লুকাইনি। আমার লুকাবার কিছু নেই!” বলতে গিয়েও তার গলা কেঁপে গেল।
“আর লুকিয়ে কী হবে বাপ? তুই যে একটা গে সেটা আমি আগেই সন্দেহ করেছিলাম। আমাকে বলতে পারতিস্। আমি কিন্তু কোন লুকোছাপা করি না। আমি বাইসেক্সুয়াল। মেয়ে হোক বা ছেলে, আমার মনে ধরলে আর তারা রাজি হলে আমার কিছুতেই কোন আপত্তি নেই। তোকে আমিই সুখ দিতে পারতাম আগে জানলে। এতদিনে অনেকবার এনকাউন্টার হয়ে যেত! আমার মতো একজন জিম-টোনড, পার্টনার হায়ার করতে গেলে কিন্তু তোর গাঁড় ফাঁক হয়ে যাবে!”
“কী আলতু-ফালতু বলছিস ? অন্যের রুমে ঢুকতে গেলে নক্ করে ঢুকতে হয় জানিস না?”
“কেন বে? তাহলে এভাবে ধরা পড়ে যেতিস না, তাই তো?”
“হোয়াট দ্য হেইল আর য়্যু সেয়িং? মোবাইল দে। আর আমাকে একটু একা থাকতে দে!”
“মোবাইল দেবো। আগে সবাইকে ডাকি!”
“অরণ্য!” আর্যর গলায় কাতরতা।
“উহুঁ বাবা। আজ নো ছারান ছোড়ন। ধরা যখন পড়েই গেছিস, আজ আমাকে চান্স দিতেই হবে। না দিলে তোর সিক্রেট আর সিক্রেট থাকবে না, ওপেন বুক হয়ে যাবে।”
“অরণ্য ! প্লিজ ! ছেড়ে দে। আমি তোর কী ক্ষতি করেছি?”
“ক্ষতি তো এখনই করবি, যদি না আমার ভিতরটাকে জাগিয়ে তাকে তৃপ্ত না করিস,” বলে অরণ্য এগিয়ে এসে থাবা মেরে ধরে আর্যর কাঁধ।
“না না, কেউ চলে এলে কেলেঙ্কারি হবে। তার চেয়ে ভালোয়-ভালোয় কলকাতা ফিরি, তারপর কথা দিলাম, একদিন তুই যা চাইবি তা-ই হবে!”
হাসল অরণ্য। ফিচেল হাসি। “সে তো হবেই। যতদিন না তর শরীরটা আমাকে বোর করছে, ততদিন চলতেই থাকবে এ-সব। কিন্তু এখন ট্রায়াল!”
“না!” চাপা গলায় আর্তনাদ করে উঠল আর্য।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৯: পরবাস প্রস্তুতি (শেষ)

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৬: পঞ্চবটীর যাত্রাপথে প্রাপ্তি, পিতৃবন্ধু জটায়ু ও বনবাসজীবনে লক্ষ্মণের ভূমিকা
অরণ্য তাকে ছেড়ে দিয়ে দরজার কাছে গিয়ে দরজা লক করে দিল ভিতর থেকে। তারপর নিজের টি-শার্ট খুলে ফেলল। পেশল লোমশ দেহ দেখে আর্যর মনে এখন আর কাম জাগল না। ভয় লাগল।
অরণ্য বলল, “এখানে তো ওয়াক্সিং করানোর সুযোগ পাইনি। তাই লোম বড় হয়ে গেছে। কিন্তু তোদের তো আবার রোমশ বুক-পেটই পছন্দ। তাই না?” বলে এগিয়ে এল আর্যর দিকে।
আর্য হাত জোর করল, “প্লিজ। কেন বুঝছিস না। আমরা বন্ধু। এ-সব করলে সেটাই নষ্ট হয়ে যাবে!”
“গেলে যাবে। দেখ, তোর মতো হাফ-ভিখিরির সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে বয়েই গেছে আমার। করিস তো ওই ফ্রি-ল্যান্স আর লিখিস ছাইপাঁশ কবিতা। তুই পড়িস আর যে ছাপায় সে পড়ে। ওতে নিজের সিগারেট কেনবার পয়সা হয় না তোর, সে আমরা সকলেই জানি। আর আমি তোকে এমনি-এমনি করব না, তার বিনিময়ে তোর হোটেলের ভাড়া আমি মেটাবো!”
“না !”
“ওইসব ছেনালি রাখ, এরপর আমার মাথা গরম হয়ে গেলে আর তিন-চার দিন উঠে দাঁড়াতে পারবি না!” বলেই অরণয় আর্যকে এক ঝটকায় দুহাতে ধরে টেনে আনল নিজের দিকে। তার ঠোঁটতা কামড়ে ধরল। আর্য ছটফট করছিল। কিন্তু অরণ্য অনেক শক্তিশালী। তার কবলে পড়ে তাকে লাগছিল সিংহের থাবার মধ্যে যেন ইঁদুর।
বিছানায় শুইয়ে দিয়ে এরপর অরণ্য তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এদিক ওদিক কামড় দিতে লাগল। “আঃ, লাগছে, ছাড়!” বলে আর্য ঠেলে সরিয়ে দিতে চাইল তাকে। কিন্তু পারছিল না। এক হাতে আর্যকে ধরে আর এক হাতে নিজের প্যান্টটা নামিয়ে দিল অরণ্য। তার উত্থিত পুরুষাঙ্গ থির-থির করে কাঁপছিল উত্তেজনায়। আর্যর চুলের মুটি ধরে তার উপর আর্যর মুখখানা চেপে ধরল অরণ্য। হিংস্র গলায় বলল, “যা করার কথা কর!”
অরণ্য বলল, “এখানে তো ওয়াক্সিং করানোর সুযোগ পাইনি। তাই লোম বড় হয়ে গেছে। কিন্তু তোদের তো আবার রোমশ বুক-পেটই পছন্দ। তাই না?” বলে এগিয়ে এল আর্যর দিকে।
আর্য হাত জোর করল, “প্লিজ। কেন বুঝছিস না। আমরা বন্ধু। এ-সব করলে সেটাই নষ্ট হয়ে যাবে!”
“গেলে যাবে। দেখ, তোর মতো হাফ-ভিখিরির সঙ্গে বন্ধুত্ব বজায় রাখতে বয়েই গেছে আমার। করিস তো ওই ফ্রি-ল্যান্স আর লিখিস ছাইপাঁশ কবিতা। তুই পড়িস আর যে ছাপায় সে পড়ে। ওতে নিজের সিগারেট কেনবার পয়সা হয় না তোর, সে আমরা সকলেই জানি। আর আমি তোকে এমনি-এমনি করব না, তার বিনিময়ে তোর হোটেলের ভাড়া আমি মেটাবো!”
“না !”
“ওইসব ছেনালি রাখ, এরপর আমার মাথা গরম হয়ে গেলে আর তিন-চার দিন উঠে দাঁড়াতে পারবি না!” বলেই অরণয় আর্যকে এক ঝটকায় দুহাতে ধরে টেনে আনল নিজের দিকে। তার ঠোঁটতা কামড়ে ধরল। আর্য ছটফট করছিল। কিন্তু অরণ্য অনেক শক্তিশালী। তার কবলে পড়ে তাকে লাগছিল সিংহের থাবার মধ্যে যেন ইঁদুর।
বিছানায় শুইয়ে দিয়ে এরপর অরণ্য তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এদিক ওদিক কামড় দিতে লাগল। “আঃ, লাগছে, ছাড়!” বলে আর্য ঠেলে সরিয়ে দিতে চাইল তাকে। কিন্তু পারছিল না। এক হাতে আর্যকে ধরে আর এক হাতে নিজের প্যান্টটা নামিয়ে দিল অরণ্য। তার উত্থিত পুরুষাঙ্গ থির-থির করে কাঁপছিল উত্তেজনায়। আর্যর চুলের মুটি ধরে তার উপর আর্যর মুখখানা চেপে ধরল অরণ্য। হিংস্র গলায় বলল, “যা করার কথা কর!”
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮২ : সখের চোর

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি
আর্যর চোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছিল। অরণ্য ক্রমাগত চাপ বাড়াচ্ছিল বলে সে মুখ ফাঁক করে অরণ্যের উত্থিত দণ্ড মুখে নিতে বাধ্য হল। ভালো লাগার অনুভূতি প্রকাশ করছিল অরণ্য।
কিছুক্ষণ পরে সে অবশ্য বার করে নিল তার কামদণ্ডটা। তারপর বলল, “এবার ফাইনাল এনকাউন্টার!”
আর্য উত্তেজনায় হাঁফাতে-হাঁফাতে বলল, “না অরণ্য, আজ এইটুকু থাক্। আমি আর পারছি না!”
“সে কী রে? এত তাড়াতাড়ি হাঁফিয়ে গেলে হবে? এটা ট্রায়াল বলে মিনিট কুড়িতে ফিনিশ করবো। কিন্তু যেটা ফুল টাইম প্লে হবে, সেটা কতক্ষণ চলবে বলতে পারছি না!” বলে কদর্য ভঙ্গীতে হাসল অরণ্য।
আর্য হঠাৎ চিৎকার করে উঠল, “এই-এই একই অপরাধ তুই কিন্তু আগেও করেছিলি অরণ্য। তুই, অনিল, তৃষা…! মনে পড়ে? অনিল তার সাজা পেয়েছে! তুইও পাবি। তৃষাও!”
অরণ্য হঠাৎ রেগে গিয়ে সজোরে থাপ্পড় কষালো আর্যর গালে। “শালা, সতী লক্ষ্মী, তুই কী করে জানলি অনিল ওই কারণে সাহজা পেয়েছে? অনিলকে কালাদেও মারেনি তাহলে?”
“আমি জানি না। আমার মন বলছে। ওপরওয়ালার দেওয়া সাজা। কেউ এড়াতে পারে না!” হাঁফাতে-হাঁফাতে বলল আর্য।
“ফাক্ ইয়োর ওপরওয়ালা। পেটি মিডিওকার সেন্টমেন্ট। তোকে বোঝাচ্ছি, ফাক্ কী জিনিস!” বলে আর্যর দুটি পা দুহাতে ধরে তা উল্টে দিল সে।
“ফর গড সেক্, ছেড়ে দে…!”
“তুই আমাকে বাধ্য করেছিস, আমার ভালো মানুষের মুখোশের আড়ালে অন্য আর একটা যে মুখ আছে, তাকে বার করে আনতে। তোকে ছেড়ে দিতে পারবো না! আজ তোর ওপরওয়ালাই আমাকে পাঠিয়েছে তোকে সাজা দিতে! সেদিনের সেই ঘটনায় তুইও ছিলি সেই স্পটে। তখন তুই বাঁআ চুপ করে ছিলি কেন? অনিল তোকে টাকা দিয়েছিল তাই না? আজ তোকে বুঝিয়ে দেব আমার ঠাপ কী জিনিস! দেখ…” বলে নেমে এল অরণ্য আর্যর ওপর।
“ঠিক করছিস না অরণ্য,” কোনমতে গোঙানির মধ্যে বলল আর্য, “এর সাজা তোকে পেতেই হবে! ওপরওয়ালা আছেন। এর আগের অপরাধের সাজাও তুই পাবি…।”
কিন্তু তার কথা বন্ধ হয়ে গেল। অরণ্য আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। আর্যর খুব কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু কিছু করার ছিল না। ঘরময় তখন শক্তিশালীর উল্লাস, দুর্বলের শীৎকার আর এক অক্ষমের অভিশাপ ঘুরে বেড়াচ্ছিল। কেউ জানে না তাদের জন্য আসলে কী অপেক্ষা করে আছে! —চলবে।
কিছুক্ষণ পরে সে অবশ্য বার করে নিল তার কামদণ্ডটা। তারপর বলল, “এবার ফাইনাল এনকাউন্টার!”
আর্য উত্তেজনায় হাঁফাতে-হাঁফাতে বলল, “না অরণ্য, আজ এইটুকু থাক্। আমি আর পারছি না!”
“সে কী রে? এত তাড়াতাড়ি হাঁফিয়ে গেলে হবে? এটা ট্রায়াল বলে মিনিট কুড়িতে ফিনিশ করবো। কিন্তু যেটা ফুল টাইম প্লে হবে, সেটা কতক্ষণ চলবে বলতে পারছি না!” বলে কদর্য ভঙ্গীতে হাসল অরণ্য।
আর্য হঠাৎ চিৎকার করে উঠল, “এই-এই একই অপরাধ তুই কিন্তু আগেও করেছিলি অরণ্য। তুই, অনিল, তৃষা…! মনে পড়ে? অনিল তার সাজা পেয়েছে! তুইও পাবি। তৃষাও!”
অরণ্য হঠাৎ রেগে গিয়ে সজোরে থাপ্পড় কষালো আর্যর গালে। “শালা, সতী লক্ষ্মী, তুই কী করে জানলি অনিল ওই কারণে সাহজা পেয়েছে? অনিলকে কালাদেও মারেনি তাহলে?”
“আমি জানি না। আমার মন বলছে। ওপরওয়ালার দেওয়া সাজা। কেউ এড়াতে পারে না!” হাঁফাতে-হাঁফাতে বলল আর্য।
“ফাক্ ইয়োর ওপরওয়ালা। পেটি মিডিওকার সেন্টমেন্ট। তোকে বোঝাচ্ছি, ফাক্ কী জিনিস!” বলে আর্যর দুটি পা দুহাতে ধরে তা উল্টে দিল সে।
“ফর গড সেক্, ছেড়ে দে…!”
“তুই আমাকে বাধ্য করেছিস, আমার ভালো মানুষের মুখোশের আড়ালে অন্য আর একটা যে মুখ আছে, তাকে বার করে আনতে। তোকে ছেড়ে দিতে পারবো না! আজ তোর ওপরওয়ালাই আমাকে পাঠিয়েছে তোকে সাজা দিতে! সেদিনের সেই ঘটনায় তুইও ছিলি সেই স্পটে। তখন তুই বাঁআ চুপ করে ছিলি কেন? অনিল তোকে টাকা দিয়েছিল তাই না? আজ তোকে বুঝিয়ে দেব আমার ঠাপ কী জিনিস! দেখ…” বলে নেমে এল অরণ্য আর্যর ওপর।
“ঠিক করছিস না অরণ্য,” কোনমতে গোঙানির মধ্যে বলল আর্য, “এর সাজা তোকে পেতেই হবে! ওপরওয়ালা আছেন। এর আগের অপরাধের সাজাও তুই পাবি…।”
কিন্তু তার কথা বন্ধ হয়ে গেল। অরণ্য আরও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। আর্যর খুব কষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু কিছু করার ছিল না। ঘরময় তখন শক্তিশালীর উল্লাস, দুর্বলের শীৎকার আর এক অক্ষমের অভিশাপ ঘুরে বেড়াচ্ছিল। কেউ জানে না তাদের জন্য আসলে কী অপেক্ষা করে আছে! —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।


















