
একঝলকে
ছবি : শহরের ইতিকথা”
পরিচালনা : বিশু দাশগুপ্ত
উত্তম কুমার অভিনীত চরিত্রের নাম : ডাঃ শঙ্করকুমার ওরফে নিখিলেশ
ছবির নায়িকা: মালা সিনহা
মুক্তির তারিখ : ২৩.০৯.১৯৬০
প্রেক্ষাগৃহ : রাধা, পূর্ণ ও প্রাচী
ছবির আঙ্গিক পরিচিত নয়। কিন্তু উত্তম কুমারের অভিনয় গুণ পরিচিত। একের পর এক বাণিজ্যিক ছবিতে উত্তমবাবুর ব্লক ব্লাস্টার অভিনয় তৎকালীন বাণিজ্যিক ছবির মানদণ্ড নির্মাণ করে দিয়েছিল।
আসলে উত্তমবাবু বাঙালি জাতির হৃদয়বৃত্তিকে খুব কাছ করে অনুধাবন করেছিলেন। যে কারণে তাঁর আঙ্গিক অভিনয়ে একটা গতিময়তা থাকত। যেখানে প্রতিটা স্তরের বাঙালি জাতি সে আর্থসামাজিক পর্যায়ের যে স্তরেই বিরাজ করুক না কেন নিজেকে খুঁজে পেত।
আসলে উত্তমবাবু বাঙালি জাতির হৃদয়বৃত্তিকে খুব কাছ করে অনুধাবন করেছিলেন। যে কারণে তাঁর আঙ্গিক অভিনয়ে একটা গতিময়তা থাকত। যেখানে প্রতিটা স্তরের বাঙালি জাতি সে আর্থসামাজিক পর্যায়ের যে স্তরেই বিরাজ করুক না কেন নিজেকে খুঁজে পেত।
ধনীর দুলাল যে সোনার চামচ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে তাঁর মানসিক অভিব্যক্তি উত্তমবাবুর অভিনয়ে পাওয়া যেত, আবার প্রত্যন্ত প্রান্তিক মানুষ যিনি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সামাজিক প্রতিষ্ঠা হাতড়াচ্ছন তাঁর অভিব্যক্তিও উত্তম বাবুর অভিনয়ে পাওয়া যেত। স্বাধীন ভারতে বাঙালি জাতির যে জাতিগত একটা ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দায় ছিল চলচ্চিত্রশিল্প সেখান থেকে খুব বেশি দূরে ছিল না।
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯৬ : ‘চণ্ডাল-কূপ’ ও অস্পৃশ্যতা: পঞ্চতন্ত্রের আড়ালে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন ভারতের এক দগদগে ইতিহাস

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮২ : সখের চোর

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫৩: ক্যান ইউ হ্যান্ডেল ইট?

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৮: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — বানর
প্রেম নামক একটি অলীক অনুভববেদ্য মানসিক স্থিতিকে প্রকাশ করার জন্য কাহিনীর চরিত্রের আদর্শকে ছোট করা হত না। প্রেম সে যত পবিত্র হোক না কেন তা যেন কর্তব্যের ভূমিতে চারা গাছ থেকে মহীরুহ হয়। তাই নায়ক নায়িকার চলাফেরার মধ্যে সেই আঙ্গিক পরিচয়টি বা অভিব্যক্তিটি প্রত্যাশা করা হতো।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা/ দ্বিতীয় অধ্যায়, পর্ব-৫৬: আকাশ এখনও মেঘলা

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২১ : পরশপাথর— ক্ষ্যাপা খুঁজে ফেরে…
ছবির কাহিনি অত্যন্ত সাদামাটা। কাহিনি ও চিত্রনাট্যকার বিনয় চট্টোপাধ্যায়ের ক্ষুরধার লেখনীতে, কৃষ্ণা নামের একটি গ্রামের মেয়ের গল্প। গ্ৰাম্য বলে প্রত্যাখ্যান করে ইউরোপ ফেরত সামন্ত সেন, যাঁকে কৃষ্ণার বাবাই পড়াশোনা করার জন্য যাবতীয় অর্থসাহায্য করেছিলেন। তাঁর বাবা তথাকথিত আধুনিক মেয়েতে পরিণত করার জন্য তাকে তাদের গ্ৰামের জমিদার নিখিলেশ এর কাছে রেখে যান। তাঁকে সাহায্য করতে গিয়ে কৃষ্ণা এবং নিখিলেশ একে অপরের প্রেমে পড়ে যায়। তবে নিখিলেশ তাঁর বাবার প্রতিশ্রুতি ও কর্তব্যবোধ থেকে তাকে অস্বীকার করে। অন্যদিকে সে যার আসল বাগদত্তা, সে রূপান্তরিত কৃষ্ণাকে দেখে তাকে বিয়ে করতে সম্মত হয়। অবশেষে এটি একটি জটিল রোম্যান্টিক নাটকে পরিণত হয়।
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২০: গোরা-সুনীতি: সম্পর্কের অন্য সুর

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৬: পঞ্চবটীর যাত্রাপথে প্রাপ্তি, পিতৃবন্ধু জটায়ু ও বনবাসজীবনে লক্ষ্মণের ভূমিকা
আমরা মানুষকে যেভাবেই দেখি না কেন মানুষ সেই অভিব্যক্তিটি প্রকাশ করে যেটা তার পক্ষে করা সম্ভব। কাহিনির দাবি অনুযায়ী উত্তমবাবুকে সেই জটিল মানসিক অবস্থান ফুটিয়ে তোলার দায় নিতে হয়েছে। যেটা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। অন্যদিকে মালা সিনহাকেও সেই পরিস্থিতির সাথে তাল মেলাতে হয়েছে যেটা তারও পক্ষে সম্ভব ছিল না।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯২: কৈলাসচন্দ্র সিংহ ছিলেন সত্যনিষ্ঠ আপসহীন এক ঐতিহাসিক

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি
অবশেষে কাহিনি এমন একটা নাটকীয় মোড় নেয় যেখানে পরিচালনার গুণে এবং কলা কুশলীদের অভিনয়ে মানুষগুলো তাদের কাম্য জায়গায় পৌঁছাতে পারে। কাহিনির মারপ্যাঁচে প্রতিটা অভিনেতা অভিনেত্রীকে সচেতন থাকতে হয়েছে। পরিচালক বিশু দাশগুপ্ত তিনি অন্য একটি আঙ্গিকে ছবি পরিচালনা করতেন। অগ্রদূতের মতো অনেক বেশিও না আবার কম ও না একটা অন্যরকম পরিবেশ তৈরি করতেন।

ছবিটির আরেকটি মস্ত বড় সম্পদ ছিল রবীন চট্টোপাধ্যায়ের মতো গুণী সংগীত পরিচালকের অংশগ্রহণ। তাঁর সুরে শ্যামল মিত্র, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের কণ্ঠে প্রতিটা গান একটি নতুন মাত্রায় উপস্থিত হয়েছে। যা ছবির সারস্বত সম্পদকে অনেক বাড়িয়ে তুলেছিল। এইভাবে আমরা ছবির সমস্ত আঙ্গিক পর্যালোচনা করলে এটিকে একটি বাণিজ্য সফল কালজয়ী ছবি আখ্যা দিতে পারি।—চলবে।
* উত্তম কথাচিত্র (Uttam Kumar–Mahanayak–Actor) : ড. সুশান্তকুমার বাগ (Sushanta Kumar Bag), অধ্যাপক, সংস্কৃত বিভাগ, মহারানি কাশীশ্বরী কলেজ, কলকাতা।


















