রবিবার ৮ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: প্রতীকী। সংগৃহীত।

মালাকার গর্জন করে বললেন, “এত যে কাণ্ড হয়েছে, আমাকে জানাননি কেন?”
মালাকারের গর্জনের সামনে কাঁচুমাচু হয়ে শেফালিকা জানালেন, “আজ্ঞে স্যার, আমরা তো জানতাম না যে এখনও ডক্টর ফিরে আসবেন না। তাছাড়া তিনি কখন গেছেন, তা-ও তো আমরা জানতাম না। গোবিন্দ বলায় আমরা জানতে পেরেছি যে, দুজন লোক এসে এমার্জেন্সি কেস বলায় ডক্টর তাঁর ফোলিও নিয়ে বেরিয়ে গেছেন। সকালে না ফেরায় আমরা ভেবেছিলাম, ক্রিটিক্যাল কেস, সেজন্যই হয়তো দেরি হচ্ছে। কিন্তু সন্ধ্যে গড়িয়ে গেলেও যখন ফিরলেন না, তখনই গোবিন্দকে পাঠানো হয়। ও অবশ্য আরও আগে যেতে চেয়েছিল, কিন্তু আমরা একটু অপেক্ষা করে দেখতে চাইছিলাম, তিনি ফেরেন কি-না…”
“কেন? ক্রিমিনালদের টাইম দিচ্ছিলেন, যাতে তারা ডাক্তারকে কিডন্যাপ্‌ করে অনেক দূর পালিয়ে যেতে পারে? আমার তো আপনাকে হাইলি সাশপিসাস বলে মনে হচ্ছে?” বিস্ময়ে ভ্রূ কুঁচকে গেল তাঁর, গলা সরু করে দিশমনমার্কা হাসি হেসে শেফালিকে বললেন, “আপনি এই কিডন্যাপের সঙ্গে জড়িত, তাই না?”
শুনে শেফালিকা আঁতকে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। “কী বলছেন আপনি স্যার? ডক্টরকে আমরা সকলে কত রেসপেক্ট করি আপনি জানেন? উনি অন্যান্য ডক্টরদের থেকে আলাদা। আমাদের সঙ্গে আচরণ করতেন বড় দাদার মতো। বসিং করতেন না। সব কাজ আমাদের উপরে চাপিয়ে দিয়ে নিজে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকতেন না। ওঁকে শ্রদ্ধা না-করে আপনি পারবেন না। সেই পরম শ্রদ্ধেয় মানুষটিকে আমি কিডন্যাপ্‌ করবো? কিন্তু কেন? তাঁকে কিডন্যাপ করে আমার কোন্‌ স্বার্থ পূরণ হবে শুনি?”
মালাকার দমে না গয়ে বললেন, “কেন? মুক্তিপণ আদায়!”
“মানে?” শেফালিকা প্রায় আর্তনাদ করে উঠল। এমন আজব শব্দ জীবনে যেন সে প্রথম শুনছে, এমনই তার মুখভঙ্গি।
“মানে, পরে চাপ দিয়ে তাঁর ফ্যামিলির কাছ থেকে মোটা মুক্তিপণ আদায় করে কাজ ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র পালিয়ে গিয়ে রাজার হালে থাকা। বুঝতে পারলেন?”
“আপনি…আপনি একটা ইয়ে…! আমি ডক্টরকে কিডন্যাপ করে এখানে বসে রইলাম, কখন মুক্তিপণ পাবো সেই আশায়? বাঃ!”
“দেখুন, সকলেই পাকা অ্যালিবাই তৈরি করে রাখে। আপনি যে রাখেননি, তার কী প্রমাণ?”
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৫ ন হন্যতে

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৩৮: আকাশ এখনও মেঘলা

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৭, অন্য পুজো: ইতিহাসের আলোকে ত্রিপুরায় দুর্গাপূজা

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৩: শঙ্করের দেশান্তর, আখ্যানের অন্য পথ

গোবিন্দ পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল। এতক্ষণ ধরে জেরার নামে এইসমস্ত অদ্ভুত কথা সে শুনছিল আর ভিতরে-ভিতরে বিরক্ত হচ্ছিল। এখন সে আর কথা না বলে থাকতে পারল না, “দেখুন স্যার, আপনাকে আগেই বলেছি, দুজন অজ্ঞাতপরিচয় লোক এসেছিল। বলল, এমার্জেন্সি। পেশেন্ট আসতে পারবে না। আমি শুনে ভাবলাম, নিশ্চয়ই লেবার-পেইন উঠেছে। এ-সব অঞ্চলে এমন ধারা ঘটনা তো আর নতুন নয়। এর আগেও হয়েধে এমন এবং ডক্টরসাব গিয়েছেন এক দাকে। কোনওদিন কোনও পেশেন্ট ডাকতে এলে না করতেন না। ঝড়বৃষ্টির মধ্যেও না। বলেন, এদের সবাইকে দেখভাল করার দায়িত্ব নিয়েই এই প্রোফেশনে এসেছি। সেখানে থেকে ঝড়বৃষ্টির অজুহাতে সরে যাই কি-করে? সেই পেশেন্টপার্টিও তো ঝড়বৃষ্টি মাথায় করে এসেছে। সে আসতে পারলে আমি যেতে পারব না কেন? দারোগাবাবু, ডক্টর তো আসলে মানুষ নয়, দেও। গড্‌! তবে আমি কিন্তু শুনিনি, তারা কোথায় থাকে। হয়তো ডক্টরসাবকে বলে থাকবে। তা তারা ডাকল, আর ডক্টরসাব বেরিয়ে গেলেন, তাড়াতাড়ি ফিরব বলে। আমি গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। তার আগে গাড়ির আওয়াজ শুনেছিলাম। ওরা গাড়ি এনেছিল। সম্ভবত এমার্জেন্সি কেস বলে! আর আমি কিছু জানি না। সকালবেলাও ডক্টরসাব ফিরলেন না। আমি দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। তারপর আমার মন কু ডাকছিল। সন্ধ্যে গড়িয়ে গেল ফিরলেন না দেখেই থানায় গিয়ে মিসিং-ডায়েরি করলাম। এবং আপনার মতো একজন গুণী মানুষকে কষ্ট দিলাম। আই বেগ ইয়োর পার্ডন!”
“তুই তাহলে সত্যিই ওদের দেখেছিস?”
“মিথ্যে দেখতে যাব কেন? আজব তো?” গোবিন্দ বিড়বিড় করে বকে।
“যা জিজ্ঞাসা করছি হ্যাঁ কিংবা না করে তার উত্তর দে! একটাও বাজে কথা বলেছিস তো থানায় ধরে নিয়ে গিয়ে লক-আপে ভরে দেবো! বল্‌, ওদের দেখেছিলি?”
“হ্যাঁ!”
“আবার দেখলে চিনতে পারবি?”
“মনে হয় না। অন্ধকারে এসেছিল তো শেষ রাতের দিকে! একঝলক দেখা।”
“তুই কী করছিলি? তোর তো তখন এখানে থাকার কথা না? জেগে ছিলি কেন?” হুংকার দিয়ে বলে উঠল মালাকার।
“আজ্ঞে, আমার কাজটাই তো জেগে থাকার। ঘুম কম হয় আমার। ইনসমনিয়া মানে বোঝেন তো? সেই ইনসমনিয়া আছে আমার। রাতের দিকে সেজন্য হেলথসেন্টারের বারান্দায় বসে থাকি। ঘুম পেলে যাই। পাশেই তো আমার থাকার ঘর। তাও বসে থাকতে-থাকতে তন্দ্রা মতো এসেছিল। তার মধ্যে যেন শুনলুম, কে যেন দরজা খুলছে, ফিসফিস করে কার গলার আওয়াজ পেলাম। চোখ খুলে দেখবার চেষ্টাও করলাম, কাউকে দেখতে পেলাম না! তখন ভাবলাম ভুল শুনেছি। তারও অনেকক্ষণ পরে গাড়ির আওয়াজ পেয়ে চটকা ভাঙল। তাও কি-আর উঠতে মন চায়? তবুও উঠলাম। ডক্টরসাবের কাছে গেলাম। ততক্ষণে উনি বেরোচ্ছেন!”
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৩: মহর্ষিকে অনুসরণ করে তাঁর পত্নীও বাড়ির পুজোতে যোগ দিতেন না

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১১ : অরিন্দম কহিলা বিষাদে

গোবিন্দ সোরেনের বক্তব্য শুনে মালাকারের গা-টা কেমন ছমছম্‌ করতে লাগল। আজকাল এই অন্সলে যা ভূতের আবির্ভাব হচ্ছে! কালাদেও যে একা আসেন নি, তাঁর চ্যালাচামুণ্ডা ভূতিপ্রেত-পিশাচকেও সঙ্গে নিয়ে এসেছেন, এ-বিশ্বাস তাঁর আগে থেকেই ছিল। এখন অন্ধকারের ফিসফাস আওয়াজে কথা বলার কাহিনি শুনে তাঁর বিশ্বাস আরও পাকা হল। মুশকিল হল, তারপরেই তাঁর পেট গুড়গুড় করে ডাকতে শুরু করেছে। তিনি কোনরকমে বললেন, “আচ্ছা, ডক্টর ভূতের পাল্লায় পড়েননি তো? কিংবা কালাদেও তাঁর কোন চ্যালাচামুণ্ডাকে পাঠান নি তো? হ্যাঁ রে গোবিন্দ, যারা এসেছিল, তাদের পায়ের পাতা দেখেছিলি?”
“আজ্ঞে না। পায়ের পাতা দেখতে যাব কেন?”
মালাকার দাঁতমুখ খিঁচিয়ে বললেন, “তা দেখবি কেন হতভাগা? কার সিন্দুকে কত আছে, তা দেখবি। যত্তসব! আরে পায়ের পাতা দেখলে তবেই না মালুম হত তারা মানুষ না-কি ভূত? ভূতেদের পায়ের পাতা উল্টো দিকে থাকে জানিস না?”
গোবিন্দ হেসে বলল, “ওহ্‌। এই ব্যাপার? তা আগে বলবেন তো। আজ্ঞে না দারোগাবাবু, তারা মানুষ, ভূট নয়। আমি তাদের পায়ের পাতা না দেখলেও, দিব্যি দেওয়ালে তাদের ছায়া পড়তে দেখেছি। ডক্টরসাবের সঙ্গে যখন কথা বলছিল তারা, তখন। তাছাড়া কালাদেওর সঙ্গী হলে তারা তো ডক্টরসাবকে উড়িয়ে নিয়ে যেত কিংবা এখানেই মেরে ফেলত! তারা গাড়ি নিয়ে আসবে কেন?”
“কী গাড়ি জানিস?”
“হ্যাঁ। ডক্টরসাব রওনা হলে আমি তাঁর সঙ্গে-সঙ্গে গেট পর্যন্ত যাই। তখনই দেখেছি। মারুতি গাড়ি!”
“নম্বর দেখেছিস?”
“নাহ্‌। প্রয়োজন মনে করিনি তখন। ভুল হয়েছে। আসলে বুঝতে পারিনি যে ওরা ডক্টরসাবকে কিডন্যাপ করে নিয়ে যাবে! তাহলে গাড়ির নাম্বার নোট করে রাখতাম। আসলে…” বলে হঠাৎ গোবিন্দ চুপ!
“আসলে…”
“আমার কেমন মনে হচ্ছে, ডক্টরসাব অনেকের অনেক কিছু গোপন কথা জেনে গিয়েছিলেন বলে, ওরা অনেকেই তক্কে-তক্কে ছিল। তাদেরই কেউ…”
“তক্কে-তক্কে ছিল মানে? কিসের গোপন কথা?”
“মানে ওঁকে মারার কিংবা কিডন্যাপ করার প্ল্যান ছিল। সুযোগ পাচ্ছিল না। পরশু সুযোগ পেয়ে…! আর গোপন কথা মানে, বুধন মাহাতোর ব্যাপারে।”
“বুধন মানে সেই কালাদেও যার গলা আর ধড় আলাদা করে দিয়ে চিবিয়ে খেয়েছিল, সে তো?”
“হ্যাঁ!”
“কিন্তু কী গোপন কথা? আমরা তো কেউ জানি না!”
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১৯: হাট্টিমা

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৩: যুধিষ্ঠিরের সভায় উপস্থিত মহর্ষি নারদের প্রশ্নগুলি যেন রাজনীতির সার্বিক দিগদর্শন

গোবিন্দ বেফাঁস বলে ফেলেই নিজের ভুল বুঝতে পেরেছিল। অবস্থা সামাল দেওয়ার জন্য সে বলল, “আমি কী করে জানব স্যার? অনুমান করছিলাম আর-কি!”
মালাকার ভীষণ রেগে গিয়ে বললেন, “তোর এ-সব বস্তাপচা অনুমানের ঝাঁপি এখানে খুলবি না! তোর অনুমানের গপ্পো শোনার জন্য আমি এই অবেলায় এখানে আসি নি। বাস্তবে যা দেখেছিস, নিজের চোখে আবার বলবি!”
“আজ্ঞে, স্যরি স্যার। ভুল হয়ে গেছে। আর হবে না!”
“গাড়ির রঙ কী ছিল?”
“আজ্ঞে কালো। না-কি লাল! কালো কিংবা লাল হবে?”
“হয় কালো, নয় লাল! যে-কোন একটা!”
“তাহলে কালোই থাক্‌!” বিরক্তি গোপন করে বলল ন্যাথানিয়েল গোবিন্দ সোরেন।
“গাড়ি চলে যাওয়ার পর কী দেখলি?”
“আজ্ঞে?” প্রশ্নটা বুঝতে না পেরে জিজ্ঞাসা করল গোবিন্দ।
“গাড়ি চলে যাওয়ার পর কোন কিছু দেখতে পেয়েছিলি?”
“আজ্ঞে না। গাড়ি চলে যাওয়ার পর আমি আমার ঘরে গিয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করি। তারপর কখন যে চোখ লেগে গিয়েছে জানি না। উঠে দেখি বেলা হয়ে গেছে। পেশেন্টরাও অনেকে এসেছে। একটু অবাক হয়েছিলাম!”
“কেন? পেশেন্ট আসায় অবাক হওয়ার কী আছে? হেলথসেন্টারে পেশেন্ট আসবে না তো কি ফিল্মস্টার আসবে?”
“আজ্ঞে, সেজন্য নয়। চার্চ-হসপিটাল ছেড়ে আমাদের এখানে দেখাতে তো এমনিতে কেউ আসে না। যা আসে ওখানে হুড়ো খেয়ে। রোজ জনা পাঁচ-সাত, খুব বেশি হলে দশজন আসে এখানে। গতকাল সকালে কিন্তু প্রায় জনা পঁচিশ এসে উপস্থিত। আরও আশ্চর্যের বিষয় হল, তারা কেউ আশেপাশের গাঁ-গঞ্জের নয়। অচেনা মুখ সব! এই প্রথম এখানে এসেছে, তাও বোঝা যায়। আমি যেহেতু ওই চার্চেই বড় হয়েছি, ফলে চার্চে আমার অনেক জানাশোনা। সেখান থেকে খবর নিলাম যে, চার্চ-হসপিটাল থেকে এতজনকে রেফার করা হয়নি। আর সেটাই স্বাভাবিক। চার্চের ইনফ্রাস্ট্রাকচারের কাছে হেলথসেন্টার তো কিছুই না। তারা রেফার করবে কেন? হয়ত সেকেন্ড ওপিনিয়ন নেওয়ার জন্য, কিংবা পেশেন্ট তাদের কথা না শুনলে তারা ডিসচার্জ করে দিলে, সেইসব উটকো পেশেন্টরা এখানে এসে হাজির হয়। এছাড়া লেবার-পেইনের কেস তো আছেই! কিন্তু এত্ত ভিড়? কখনও দেখিনি!”
“ডাক্তার না-আসায় তারা কিছু করেনি?”
“কয়েকজন পেশেন্টপার্টির লোক গাছতলায় বসে প্ল্যান করছিল, আমি শুনেছি, তাদের কারুর-কারুর উসকানিতে কোন-কোন পেশেন্ট তখন চড়াও হন এবং কিছু জিনিস ভাঙ্গচুরও করেন। আমরা তখনই থানায় রিপোর্ট করতে ছুটছিলাম, কিন্তু শেফালিদি বললেন, ডক্টরবাবু আগে ফিরে আসুন, দেখুন, তারপর থানায় ডায়েরি করবো!”
“গণ্ডগোল থেমে যাওয়ার পর তারা কোন্‌দিকে গিয়েছিল, খেয়াল আছে?”
“আজ্ঞে না!”
“ডাক্তারবাবুর রুমটা দেখা যাবে?”
“তাঁর রুম তো তিনি তালা দিয়ে গিয়েছেন। সেটা না ভেঙে তো দেখা সম্ভব নয় স্যার!”
আরও পড়ুন:

রজনীর রবি

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান

মালাকার কী বলতে যাচ্ছিলেন। এমন সময় শেফালি বললেন, “আপনি বিশ্বাস করুন, স্যারের অন্তর্ধানের পিছনে আমাদের কারুর হাত নেই। থাকলে, আমরা এখানে এত নিশ্চিতভাবে বসে থাকতে পারতাম না!”
“হুম্‌!” বললেন বটে মালাকার, কিন্তু তাঁর চোখমুখ থেকে সন্দেহ গেল না। “দেখ, আজ কিংবা কালকেও যদি ডক্টর না ফেরেন, তাহলে আমরা পুরোদমে লেগে পড়বো। অবশ্য মর্গটর্গগুলিও দেখা দরকার। যদিও এদিকে গত দু’দিনে কোথাও কোন অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে বলে শুনিনি!”
“স্যার, অমন কথা বলবেন না। ডক্টরসাব আমাদের সকলের বড়ে ভাইয়ার মতো। তাঁর কিছু হবে না। হতে পারে না। অল আর উই প্রে ফর হিম!”
মালাকার আরও কিছুক্ষণ থেকে একে-ওকে চমকে-দমকে চলে গেলেন। সকলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। গোবিন্দ মুখ তেতো গেলার মতো করে বলল, “সুদীপ্তবাবু কিংবা কলকাতা থেকে আসা গোয়েন্দাবাবু হলে ডক্টরসাবের এই হারিয়ে যাওয়ার কেসটা আলাদা গুরুত্ব পেতো। কিন্তু এঁকে দেখে মনে হচ্ছিল, মত্ত হাতি যেন দাপাদাপি করছে। জাস্ট মিনিংলেস কথাবার্তা বলে চলে গেলেন। এঁর পক্ষে সারাজীবন চেষ্টা করলেও ডক্টরসাবকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়!” — চলবে

* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content