কলকাতায় বৃষ্টি

শচীনকর্তা।

শৈশবেই পুত্রের মধ্যে সঙ্গীত প্রতিভার আঁচ পেয়েছিলেন পিতা। একবার সরস্বতী পুজোর দিনে স্কুলে গান গেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন শচীন। পিতা চাইলেন পুত্র উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের তালিম নিক উপযুক্ত গুরুর কাছে। কিন্তু বাংলার মেঠো সুর তখন প্রবল ভাবে কাছে টানছে কুমার শচীনকে। পড়াশোনার পাশাপাশি কুমিল্লাতে চলতে থাকল তাঁর সুরের সাধনাও।
বিএ পাশ করার পর উচ্চ শিক্ষার জন্য নবদ্বীপ চন্দ্র পুত্রকে নিয়ে এলেন কলকাতায়। কিন্তু পড়াশোনা আর হল না। সঙ্গীতের মধ্যেই ডুবে থাকলেন শচীন। তালিম নিলেন উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতেরও। নিজেকে সমৃদ্ধ করে তুললেন। একদিন বেতারে গান গাওয়ার সুযোগ পেলেন তিনি। জীবনকথায় শচীন দেববর্মণ লিখেছেন, “বেতারে আমার নিজের সুর সংযোজনায় দু-খানা গান গাইলাম। পারিশ্রমিক পেলাম দশ টাকা। আমার জীবনের প্রথম উপার্জন। লক্ষ টাকার থেকেও বেশি মনে হয়েছিল।”
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭৮ শচীন দেববর্মণ ও ত্রিপুরার রাজপরিবার

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৪: বিশাল বপু নিয়ে দিনেন্দ্রনাথ ধপাস করে পড়েছিলেন রবীন্দ্রনাথের উপর

হ্যালো বাবু! পর্ব-১০৩: ডেসডিমোনার রুমাল/২

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৩: শঙ্করের দেশান্তর, আখ্যানের অন্য পথ

একদিন রেকর্ড বের হল শচীনকর্তার। প্রথম রেকর্ড বের হয় হিন্দুস্থান রেকর্ড কোম্পানি থেকে। এক পিঠে ছিল রাগপ্রধান গান ‘এ পথে আজ এসো প্রিয়া’। রেকর্ডের অপর পিঠে ছিল লোকগীতি ‘ডাকলে কোকিল রোজ বিহানে’। রেকর্ডটি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে।আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি শচীনকর্তাকে। লোক আর রাগ সঙ্গীতের মিশেলে তিনি সৃষ্টি করলেন এক নতুন শৈলী। হয়ে উঠলেন শচীন দেববর্মণ। বাংলা ও বাঙালির প্রিয় গায়ক। কলকাতায় সঙ্গীতানুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ তখন তিনি।
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২১: সুন্দরবনের পাখি: ছোট গুলিন্দা

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১১ : অরিন্দম কহিলা বিষাদে

একদিন মুম্বই থেকেও ডাক পেলেন শচীনকর্তা। সেখানেও যেন বাংলার মেঠো সুরের যাদু। বিভিন্ন হিন্দি চলচ্চিত্রের গানে নিপুণ দক্ষতায় তিনি ব্যবহার করলেন এই সুর। শ্রোতারা মুগ্ধ। হিন্দি ফিল্মি গানে তখন যেন এস ডি বর্মণ এক নতুন ঠিকানা, তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য। এভাবেই তিনি হয়ে ওঠেন দেশের সঙ্গীত জগতের মধ্যমণি। জীবদ্দশাতেই যেন এক কিংবদন্তি।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৩৬: মত্ত হস্তির দাপাদাপি

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৩: যুধিষ্ঠিরের সভায় উপস্থিত মহর্ষি নারদের প্রশ্নগুলি যেন রাজনীতির সার্বিক দিগদর্শন

এবার আসা যাক আগরতলা তথা ত্রিপুরার সঙ্গে শচীন কর্তার সম্পর্কের কথায়। মুম্বইতে যাওয়ার পর স্বাভাবিক ভাবেই ত্রিপুরার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ক্ষীণ হয়ে এসেছিল। রাজপরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও সাধারণ্যে ধোঁয়াশা। কেউ বলেন তাঁর বাবার রাজা হবার কথা ছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত রাজধানী ছেড়ে চলে যেতে হয়েছিল কুমিল্লায়। এই রাগ অভিমান মনের মধ্যে পুষে রেখেছিলেন শচীন কর্তা। আবার কেউ কেউ তাঁর বিয়ের কথা বলেছেন।
আরও পড়ুন:

আমার দুর্গা: বিজ্ঞানী রাজেশ্বরী চট্টোপাধ্যায়

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৪: অ্যাঙ্করেজের সঙ্গে সিউয়ার্ডকে জুড়েছে পৃথিবীখ্যাত সিউয়ার্ড হাইওয়ে

মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরের পুত্র মহারাজ কুমার সহদেব বিক্রম কিশোর প্রায় দুই দশক আগে আমায় বলেছিলেন, শেষের দিকে তিনি রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চাননি বলেই মনে হয়। শচীন কর্তার বিয়ের ব্যাপারে রাজপরিবারের অনেকেই অসন্তুষ্ট ছিলেন এটা ঘটনা। উল্লেখ করা যায় যে, শচীন কর্তা তাঁর ছাত্রী মীরা দেবীকে বিয়ে করেছিলেন। —চলবে।

* ত্রিপুরা তথা উত্তর পূর্বাঞ্চলের বাংলা ভাষার পাঠকদের কাছে পান্নালাল রায় এক সুপরিচিত নাম। ১৯৫৪ সালে ত্রিপুরার কৈলাসহরে জন্ম। প্রায় চার দশক যাবত তিনি নিয়মিত লেখালেখি করছেন। আগরতলা ও কলকাতার বিভিন্ন প্রকাশনা থেকে ইতিমধ্যে তার ৪০টিরও বেশি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। ত্রিপুরা-সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের ইতিহাস ভিত্তিক তার বিভিন্ন গ্রন্থ মননশীল পাঠকদের সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়ও সে-সব উচ্চ প্রশংসিত হয়েছে। রাজন্য ত্রিপুরার ইতিহাস, রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ত্রিপুরার রাজ পরিবারের সম্পর্ক, লোকসংস্কৃতি বিষয়ক রচনা, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা সঞ্জাত ব্যতিক্রমী রচনা আবার কখনও স্থানীয় রাজনৈতিক ইতিহাস ইত্যাদি তাঁর গ্রন্থ সমূহের বিষয়বস্তু। সহজ সরল গদ্যে জটিল বিষয়ের উপস্থাপনই তাঁর কলমের বৈশিষ্ট্য।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content