শনিবার ৭ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।

ধৃতিমান আর শ্রেয়া পড়ল ফাঁপরে। হিসেব অনুযায়ী শুভ্রাংশুকে জেরা করা উচিত। কিন্তু সে যে জাতের মানুষ তাকে দিয়ে কিছুই স্বীকার করানো যাবে না! বিহারের গাছিতোলা দামড়িনালা বেগুসরাই এলাকার বাবুন সিং আর বক্তিয়ার। তারা যদি এই খুনের দু’জন সুপারি কিলার হয়! তাহলে তাদের গ্রেফতার করতেই হবে। তাদের দিয়ে শুভ্রাংশু মুখার্জিকে আইডেন্টিফাই করাতে হবে। অথবা শুভ্রাংশু মুখার্জির মুখ দিয়ে বলাতে হবে যে তিনিই এই দু’জনকে আনন্দ পালকে খুন করার সুপারি দিয়েছিলেন। সেটা তো হচ্ছে না!
শুভ্রাংশু মুখার্জিকে জেরা করলে তিনি ঐশীর গল্পটাই বলে দেবেন। শুধু ঐশীকে শারীরিকভাবে ভোগ করার স্বীকারোক্তি ছাড়া। বলবেন তাকে হেল্প করবার জন্য তিনিই মডেলিংয়ের কাজ পাইয়ে দিয়েছিলেন। সেটাতে ঐশীর সমর্থন ছিল, এখন তার ভিক্টিম কার্ড খেলে লাভ কী? আবার সামনে ধোঁয়াশার দেওয়াল।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪৫: রাজসূয় যজ্ঞের সূচনায় মতবিনিময়ে নিহিত বৈচিত্র্যময় মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি

হ্যালো বাবু! পর্ব-১১৬: ডেসডিমোনার রুমাল / ১৫

পর্দার আড়ালে, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৯ : চারুলতা: নাচে মুক্তি? নাচে বন্ধ?

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৩৪: ছোট নখরযুক্ত ভোঁদড়

মাঝে মাঝে আচমকা কিছু আনকা ঘটনা থেকে তদন্তের সূত্র পাওয়া যায়। ধৃতিমান একদিন বাড়িতে বসে পুরনো কতগুলো টেপ বাজিয়ে বাজিয়ে দেখছিল যে তাতে কী আছে। ভাগ্য ভালো এখনও তার টেপ রেকর্ডারটা চলে, আর টেপের ফিতে জড়িয়ে যায়নি। হঠাৎই তার মধ্যে থেকে একটা বাজি ফাটার টেপ আবিষ্কার করল ধৃতিমান। কালীপুজোর আগে বুবুকে অভ্যাস করানোর জন্য বারবার টেপে বাজি পোড়ানোর শব্দ শোনানো হতো। যাতে আসল বাজি পোড়ানোর জোরালো শব্দ শুনলে বুবু ভাবে সেই আওয়াজ টেপে বাজছে। সে স্বাভাবিক থাকবে। ভয় পাবে না। হঠাৎ মাথার মধ্যে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল! তড়িঘড়ি ইউটিউবে ‘আমি সেই মেয়ে’ কবিতাটা শুনলো। একবার দু’বার বারবার।
আরও পড়ুন:

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৮: অসম-মিজোরাম সীমান্তে ঘাড়মুড়ার নব আবিষ্কৃত ভাস্কর্যও সুপ্রাচীন

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১৬: পরবাস প্রস্তুতি (দুই)

এখন মাঝরাত! কিন্তু শ্রেয়ার সঙ্গে আলোচনা না করে সে শান্তি পাচ্ছে না। সে ফোন না করে মেসেজ করলো। রাত হয়েছে কিন্তু শ্রেয়া অনেক সময় জেগে থাকে। ফোনটা সাইলেন্টে রেখে স্ক্রিনে তাকিয়ে ছিল। যদি শ্রেয়ার ফোন আসে ! ফোনে আলো ঝলসে উঠলো।
—হ্যালো কোনও ক্লু?
—হ্যাঁ, দারুণ ক্লু! ‘আমি সেই মেয়ে’ কবিতাটা শুনেছেন?
—না।
—আমি শুনলাম! মিনিট চারেকের কবিতা।
—কিন্তু জবানবন্দিতে যা শুনেছি তাতে ঐশীর নাচের আলাদা করে প্রশংসা হয়েছিল! মানে নাচের প্রেফারেন্স ছিল।
—হ্যাঁ, আমি আপনার পাঠানো ভিডিওটা দেখেছি! মধ্যে মধ্যে নাচের মিউজিক বাজবার জন্য আরও চার-পাঁচ মিনিট, মানে মোটামুটি মিনিট নয়েক সময়। মাঝে মাঝে আবৃত্তি আসছে মাঝে মাঝে নাচের আবহ। আবহ টেপে বাজছে আবৃত্তিটা লাইভ? কি মনে হয়?
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, অসমের আলো অন্ধকার, পর্ব-৬৩: বরাকের ভট্ট সঙ্গীত এবং বারমোসী গান

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪৮: অপারেশন হেলথ সেন্টার

—আপনি ঠিক কী মিন করছেন?
—না মানে লাইভ পারফম্যান্স! যতই কনফিডেন্স থাক, ম্যাচ করা বা ভয়েস ব্যাল্যান্সের জন্য তো।
—ধৃতিমান আপনি সিনেমা নাটকের ডিরেক্টর এগুলো আপনার সাবজেক্ট! আমি তো অতো… জাস্ট এ মিনিট! আপনি বলতে চাইছেন আবৃত্তিটাও লাইভ ছিল না, টেপেই বেজেছে!
—এক্স্যাক্টলি!
—ওহ মাই গড!
—কী হল!
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭৯ : উত্তরমেঘ

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৭: এক উটকো লোকের কথায় ভুলে রবীন্দ্রনাথ-মৃণালিনীকে দিতে হয়েছিল খেসারত

মোবাইল ফোনের ওপ্রান্তে আক্ষেপ করতে করতে শ্রেয়া বলল—
—আমি অন্য দ্য ভেরি ফার্স্ট ডে এই ক্লুটা পেয়েও ইম্প্ররট্যান্স দিইনি! তখনই কেসটা ক্র্যাক করতে পারতাম!
—কী হয়েছিল?
—সেদিন কমিউনিটি হলে বসে যখন স্টেটমেন্ট নিচ্ছিলাম একটা বাচ্চা ছেলে! হার্ডলি চার পাঁচ বছর! তার মা খুব প্রশংসা করছিল আবৃত্তি আর নাচের আর সেই ছেলেটা খালি খালি বলছিল। কাকুটা সিগারেট খাচ্ছিল! যদিও শুভ্রাংশু মুখার্জিকে ওর টেকনিক্যালি দাদু না হলেও জেঠু বলা উচিত! এনি ওয়েস! তার মা তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল, তুই থাম মাঝে মাঝে মিউজিক ছিল তখন হয়তো সিগারেট খেয়েছেন! আমরা সামনে বসে দেখলাম—
— শুভ্রাংশু মুখার্জি তো অন-স্টেজ ছিলেন না, ভিডিওতে তো!
—আরে সেটাই তো! ওই ভিডিওটা তো আমিও দেখেছি। কিন্তু ওই মহিলাদের কথা শুনে মাথায় কি রকম একটা এস্টাবলিশড হয়ে গিয়েছিল যে শুভ্রাংশু মুখার্জিকে সকলে ভিস্যুয়ালি দেখেছেন। ওই বাচ্চাটার কথায় গুরুত্ব দিইনি বলে এত বড় ক্লু মিস করে গিয়েছি। বাচ্চাটা ঠিকই দেখেছে টেপে যখন আবৃত্তি বাজছিল তখন কাকুটা মানে শুভ্রাংশু দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছিল।—চলবে।

আনন্দ পাল হত্যা রহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content