রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক

পর্ব-১৪৬: সেফ শেলটার

পর্ব-১৪৬: সেফ শেলটার

ডক্টর সত্যব্রতর সঙ্গে নুনিয়ার একটি অদ্ভুত বন্ডিং আছে। নুনিয়াকে ইনি স্নেহ করেন, নুনিয়াও ডক্টরকে বিশ্বাস করে। নুনিয়া সম্ভবত ডক্টরকে কিছু বলেছিল। আমরা এখনও জানি না, সেই কারণেই ডক্টরকে কিডন্যাপ করা হয়েছিল কি-না। নুনিয়া এখন কোথায়, কীভাবে আছে, তাও জানি না। জানতে হবে। আজ-কালের মধ্যে নুনিয়াকে আমাদের হেফাজতে নিতে হবে। আমার কেমন যেন মনে হচ্ছে, ডক্টরের পর যার উপর অ্যাতাক হবে, সে নুনিয়া। অবশ্য অলরেডি তা হয়ে গিয়েছে কি-না কে বলবে?”

read more
পর্ব-১৪৫: জরুরি একটি ফোন

পর্ব-১৪৫: জরুরি একটি ফোন

উল্লাস মঙ্গল ওঝার বাড়ি যাওয়া, তার সঙ্গে কথাবার্তা বলা থেকে শুরু করে খানিকটা বেপরোয়াভাবে তার পিছু নেওয়া থেকে শুরু করে যা-যা দেখেছে সব বলল। তবে আর একজন অচেনা বয়স্ক লোক, যাকে সে এর আগে কখন দেখেছে বলে মনে পড়ছে না, সে আসার পরেই উল্লাস সেখান থেকে পালিয়ে এসেছে বলে বাকি ঘটনা তার জানা নেই।

read more
পর্ব-১৪৪: মৃত্যুর অনিবার্য ক্ষুধা

পর্ব-১৪৪: মৃত্যুর অনিবার্য ক্ষুধা

বৃদ্ধ লোকটির হাতে পিস্তল উঠে এল একটা। এটা আরও প্রাণঘাতী, আরও দামি, আর সেটা হাতে নিয়ে লোকটিকে অ্যাকশন-প্যাকড্‌ ফিল্মের হিরোদের মতো লাগছে। লোকটির হাতে পিস্তল দেখে মঙ্গল ভয় পেয়ে গেল। সে পায়ে পড়তে গেল। এবারকার মতো তাকে যেন মাফ করে দেওয়া হয়। পরের বার থেকে সে আরও সতর্ক থাকবে।

read more
পর্ব-১৪৩: আঁধারে আছে আততায়ী

পর্ব-১৪৩: আঁধারে আছে আততায়ী

সাইকেল মাহাতো যে এত বড় একটা ভুল করতে পারে, তা কখন ভাবেননি তিনি। এক-একটা ভুল এমন থাকে, যা ‘জোর কা ঝটকা, ধীরে সে লাগে’-র মতো। এই ভুলও তেমনই। সাইকেল তাঁর দীর্ঘদিনের সঙ্গী এবং উপকারী বন্ধু না-হলে হয়ত শোনামাত্র সাইকেলের জীবনে একটা ফুলস্টপ টেনে দেওয়ার ব্যবস্থা করতেন তিনি। যদিও এবারে সাইকেল তাঁর হাত থেকে রেহাই পেলেও, সব ঝুটঝামেলার একটা সন্তোষজনক এবং আশু সমাধান না-করতে পারে, তাহলে অন্য একজনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।

read more
পর্ব-১৪২: কুইক অ্যাকশন

পর্ব-১৪২: কুইক অ্যাকশন

“ডক্টরের সাক্ষ্য খুব জরুরি স্যার। এই কেসে প্রত্যক্ষ সাক্ষী, আই মিন আই-উইটনেস খুব কম। তাঁদের মধ্যে ডক্টর সত্যব্রত একজন। ওঁকে আমাদের যেভাবেই হোক সুস্থ করে তুলতে হবে। এই কেসে যাঁরা-যাঁরা এইরকম আই-উইটনেস, তাঁদের প্রত্যেকের সুরক্ষার ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। তা না হলে, কেস কেঁচে গণ্ডুষ হয়ে যাবে!”

read more
পর্ব-১৪১: কারুর কেউ নই-কো আমি…

পর্ব-১৪১: কারুর কেউ নই-কো আমি…

মেজাজ ক্রমেই খিটখিটে হয়ে উঠছিল অরণ্যের। এখানে আর সে থাকতে পারছে না। আজ সে হাঁটতে-হাঁটতে থানায় যাবে। কথা বলবে লালবাজারের অফিসার হোক কিংবা লোকাল থানার ওসির সঙ্গে, দিন-দুয়েকের মধ্যে যদি তাদের যেতে না-দেওয়া হয়, তাহলে কলকাতায় ল’ইয়ারের সঙ্গে কথা বলে সে কোর্টে মুভ করবে।

read more
পর্ব-১৪০: কেঁচো খুঁড়তে কেউটে

পর্ব-১৪০: কেঁচো খুঁড়তে কেউটে

উল্লাস যখন দ্রুত এগোচ্ছিল, তখন তার ফেলে আসা জায়গায় এক অন্য নাটক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। উল্লাস তা জানতেও পারল না। সন্ধাআর অন্ধকারে আর-একটি শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনা সন্ধ্যার সেই মাদকতাকে মুহূর্তের জন্য যেন ছিন্নভিন্ন করে দিল। পরের দিন খবরটা শুনে উল্লাস স্তম্ভিত হয়ে যাবে। বলবে, “হা ঈশ্বর! এর নাম জীবন?”

read more
পর্ব-১৩৯: শেফালিকার বিপদ

পর্ব-১৩৯: শেফালিকার বিপদ

শেফালিকা অবাক হয়ে গেলেন। তাঁর শোওয়ার ঘরে একটা আলমারি আছে। অনেককালের পুরানো। পাল্লা বন্ধ করার সময় বিকট আওয়াজ হয়। এখানকার কোয়াটার্সগুলির মেঝে ভালো করে তৈরি নয়। সমান নয়, এদিক-ওদিক ঢালু। ফলে আলমারি দেওয়ালের থেকে খানিক সামনে এনে রাখতে হয়েছে। অনেককাল থেকেই আছে অবশ্য। পিছনটায় ক্বচিৎ-কদাচিৎ সময় পেলে ঝাড়ু লাগান। নাহলে মাকড়শা আর আরশুলারা তাদের আঁতুড়ঘর হিসেবেই ব্যবহার করে। সেই নোংরার মধ্যে ঢুকে মেয়েটা নুন দিয়ে তেঁতুল খাচ্ছিলো?

read more
পর্ব-১৩৮: আপৎকালীন পরিস্থিতি

পর্ব-১৩৮: আপৎকালীন পরিস্থিতি

ডিএম সাহেব যে তার মেসেজ পেয়ে এত তাড়াতাড়ি রিপ্লাই দেবেন, তা শাক্য আশা করেনি। সে ভেবেছিল, এত রাতে তিনি হয়তো তার মেসেজ সিন করে রেখে দেবেন। কিন্তু না, তিনি সরাসরি ফোন করেছেন। ভদ্রলোক সত্যিই খুব অ্যাকটিভ প্রশাসনিক প্রধান। এই ধরণের লোকদের শাক্য খুব পছন্দ করে। এঁরা কাজের হন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে সিদ্ধহস্ত। আর প্রম্পট্‌ অ্যাকশানের ব্যাপারে এঁদের জুড়ি মেলা ভার। সে ফোন ধরল। “হ্যালো, অফিসার। প্লিজ ব্রিফিং মি!” শাক্য যা ঘটেছে তা অনুপুঙ্খ বলল। তিনি ধৈর্য ধরে শুনলেন আগে। ব্রিফিং করার সময় কোন ইন্টার্যা প্ট করলেন...

read more
পর্ব-১৩৭: জীবনখাতার প্রতি পাতায়

পর্ব-১৩৭: জীবনখাতার প্রতি পাতায়

আজও তেমন একটা দিন। আজ ঘুমাবার রাত নয় জেনেই কাপাডিয়া একরাশ কাজ নিয়ে বসেছিলেন। যত বেশি কাজ করে মস্তিষ্ককে ক্লান্ত করতে পারবেন, তত তাড়াতাড়ি হয়তো ঘুম আসবে। যদিও নিজেই জানেন, ধন্য আশা কুহকিনী! যদি তেমনটাই হত, তাহলে ভিতরে-ভিতরে ক্লান্ত-বিধ্বস্ত কাপাডিয়া কবেই যে চিরঘুমের দেশে চলে যেতেন, তার নেই ঠিক! আর এখন? পিশাচপাহাড়…পিশাচপাহাড় রিসর্ট কি তাঁকে আর ঘুমাতে দেবে?

read more
পর্ব-১৩৬: মত্ত হস্তির দাপাদাপি

পর্ব-১৩৬: মত্ত হস্তির দাপাদাপি

শেফালিকা আঁতকে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। “কী বলছেন আপনি স্যার? ডক্টরকে আমরা সকলে কত রেসপেক্ট করি আপনি জানেন? উনি অন্যান্য ডক্টরদের থেকে আলাদা। আমাদের সঙ্গে আচরণ করতেন বড় দাদার মতো। বসিং করতেন না। সব কাজ আমাদের উপরে চাপিয়ে দিয়ে নিজে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকতেন না। ওঁকে শ্রদ্ধা না-করে আপনি পারবেন না। সেই পরম শ্রদ্ধেয় মানুষটিকে আমি কিডন্যাপ্‌ করবো? কিন্তু কেন? তাঁকে কিডন্যাপ করে আমার কোন্‌ স্বার্থ পূরণ হবে শুনি?”

read more
পর্ব-১৩৫: ন হন্যতে

পর্ব-১৩৫: ন হন্যতে

সতর্কতা বলতে পুলিশ-প্রোটেকশন বোঝায়। কিন্তু পিশাচপাহাড় আপাত শান্ত ছোট্ট একটা জনপদ, যার বাসিন্দার সংখ্যা মেরে-কেটে কয়েক হাজার, সেখানকার থানায় কতজন পুলিশ পোস্টেড হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। অতএব প্রোটেকশন চাইলেই দেওয়া খুব কঠিন। একে স্টাফ বাড়ন্ত, তার উপর কালাদেওর ঘটনাগুলি ঘটার পর থেকে পুলিশের মধ্যেও একটা চাপা আতঙ্ক কাজ করছে। ফলে রাত-পাহারায় অনেকেই রাজি নয়। পুলিশের রুটিন পেট্রলিং অবশ্য বজায় আছে।

read more
পর্ব-১৩৪: অনুসরণ

পর্ব-১৩৪: অনুসরণ

মঙ্গল উঠে ঘরের ভিতর চলে গিয়েছিল, সম্ভবত থানে যাওয়ার উপযুক্ত পোষাকআশাক করে বেরোবে বলে। ভেক না ধরলে তো ভিক্ষা মেলে না, ফলে ও-টুকু করতেই হবে। তবে সন্ধ্যের দিকে বিশেষ দিন ছাড়া বেশিক্ষণ পূজাপাঠ হয় না। ওই থালায় কিছু ভোজ্যবস্তু দিয়ে দু-একটা ফুল ছড়িয়ে ধূপ-দীপ দেখানো। তারপরেই চলে আসতে হয়, পিছনে একবারও না তাকিয়ে। তাদের বিশ্বাস, কালাদেওর থানে পূজা দিয়ে ফিরে আসার সময় পিছু ফিরে তাকালেই কালাদেও রুষ্ট হন।

read more
পর্ব-১৩৩: এ কে? এ কে গো?

পর্ব-১৩৩: এ কে? এ কে গো?

জীবনবাবু হঠাৎ করে ব্রেক কষায় গাড়ির মধ্যে সবাই সামনের দিকে হুমড়ি খেয়ে পড়ল। সুদীপ্তর মাথা ঠুকে গেল ড্যাশবোর্ডে। গাড়িটা বিচ্ছিরি শব্দ করে থেমে যেতেই সামনের উইণ্ডস্ক্রিনে প্রায় ঝাঁপ দিয়ে আছড়ে পড়ল একজন। ঘটনার আকস্মিকতায় শাক্য, সুদীপ্ত তো বটেই, জীবনবাবুর মতো অভিজ্ঞ, পোড় খাওয়া ড্রাইভারও হকচকিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর মুখ দিয়ে প্রায় আর্তনাদের মতো বেরিয়ে এল, “এ কী? এ কে? এ কে গো?”

read more
পর্ব-১৩২: প্রেম নামে বন

পর্ব-১৩২: প্রেম নামে বন

মাঝরাত্তিরে চিৎকার-চ্যাঁচামেচি হই-হট্টগোলে কাঁচা ঘুমটা বরবাদ হয়ে গিয়ে রিমিতার খুব মাথা ধরেছিল। তার মাইগ্রেনের সমস্যা আছে। একবার শুরু হলে তিন দিন পাক্কা কষ্টভোগ চলে। একেই এ-বারের এই ট্যুরে আসার জন্য তাদের দু’জনের দুর্ভোগের শেষ নেই, তার পর থেকে বাধা-বিঘ্ন বিপদ-আপদ যেন ছাড়তেই চাইছে না। এই পিশাচপাহাড় নামক জায়গাটি, তার উপর একই নামের এই রিসর্টটি যেন যত গণ্ডগোল আর বিপদের আখড়া। এখানে এতসব কাণ্ড হবে জানলে প্রি-ম্যারিটাল এনজয়মেন্টের স্থান হিসেবে অন্য কোনও জায়গার কথা ভাবা যেত। কিন্তু এখন আর আফসোস করে কোন লাভ নেই। দুশ্চিন্তা...

read more

Skip to content