২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ সোমবার ৮ জুন, ২০২৬

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক

পর্ব-১৪০: কেঁচো খুঁড়তে কেউটে

পর্ব-১৪০: কেঁচো খুঁড়তে কেউটে

উল্লাস যখন দ্রুত এগোচ্ছিল, তখন তার ফেলে আসা জায়গায় এক অন্য নাটক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। উল্লাস তা জানতেও পারল না। সন্ধাআর অন্ধকারে আর-একটি শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনা সন্ধ্যার সেই মাদকতাকে মুহূর্তের জন্য যেন ছিন্নভিন্ন করে দিল। পরের দিন খবরটা শুনে উল্লাস স্তম্ভিত হয়ে যাবে। বলবে, “হা ঈশ্বর! এর নাম জীবন?”

read more
পর্ব-১৩৯: শেফালিকার বিপদ

পর্ব-১৩৯: শেফালিকার বিপদ

শেফালিকা অবাক হয়ে গেলেন। তাঁর শোওয়ার ঘরে একটা আলমারি আছে। অনেককালের পুরানো। পাল্লা বন্ধ করার সময় বিকট আওয়াজ হয়। এখানকার কোয়াটার্সগুলির মেঝে ভালো করে তৈরি নয়। সমান নয়, এদিক-ওদিক ঢালু। ফলে আলমারি দেওয়ালের থেকে খানিক সামনে এনে রাখতে হয়েছে। অনেককাল থেকেই আছে অবশ্য। পিছনটায় ক্বচিৎ-কদাচিৎ সময় পেলে ঝাড়ু লাগান। নাহলে মাকড়শা আর আরশুলারা তাদের আঁতুড়ঘর হিসেবেই ব্যবহার করে। সেই নোংরার মধ্যে ঢুকে মেয়েটা নুন দিয়ে তেঁতুল খাচ্ছিলো?

read more
পর্ব-১৩৮: আপৎকালীন পরিস্থিতি

পর্ব-১৩৮: আপৎকালীন পরিস্থিতি

ডিএম সাহেব যে তার মেসেজ পেয়ে এত তাড়াতাড়ি রিপ্লাই দেবেন, তা শাক্য আশা করেনি। সে ভেবেছিল, এত রাতে তিনি হয়তো তার মেসেজ সিন করে রেখে দেবেন। কিন্তু না, তিনি সরাসরি ফোন করেছেন। ভদ্রলোক সত্যিই খুব অ্যাকটিভ প্রশাসনিক প্রধান। এই ধরণের লোকদের শাক্য খুব পছন্দ করে। এঁরা কাজের হন। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে সিদ্ধহস্ত। আর প্রম্পট্‌ অ্যাকশানের ব্যাপারে এঁদের জুড়ি মেলা ভার। সে ফোন ধরল। “হ্যালো, অফিসার। প্লিজ ব্রিফিং মি!” শাক্য যা ঘটেছে তা অনুপুঙ্খ বলল। তিনি ধৈর্য ধরে শুনলেন আগে। ব্রিফিং করার সময় কোন ইন্টার্যা প্ট করলেন...

read more
পর্ব-১৩৭: জীবনখাতার প্রতি পাতায়

পর্ব-১৩৭: জীবনখাতার প্রতি পাতায়

আজও তেমন একটা দিন। আজ ঘুমাবার রাত নয় জেনেই কাপাডিয়া একরাশ কাজ নিয়ে বসেছিলেন। যত বেশি কাজ করে মস্তিষ্ককে ক্লান্ত করতে পারবেন, তত তাড়াতাড়ি হয়তো ঘুম আসবে। যদিও নিজেই জানেন, ধন্য আশা কুহকিনী! যদি তেমনটাই হত, তাহলে ভিতরে-ভিতরে ক্লান্ত-বিধ্বস্ত কাপাডিয়া কবেই যে চিরঘুমের দেশে চলে যেতেন, তার নেই ঠিক! আর এখন? পিশাচপাহাড়…পিশাচপাহাড় রিসর্ট কি তাঁকে আর ঘুমাতে দেবে?

read more
পর্ব-১৩৬: মত্ত হস্তির দাপাদাপি

পর্ব-১৩৬: মত্ত হস্তির দাপাদাপি

শেফালিকা আঁতকে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। “কী বলছেন আপনি স্যার? ডক্টরকে আমরা সকলে কত রেসপেক্ট করি আপনি জানেন? উনি অন্যান্য ডক্টরদের থেকে আলাদা। আমাদের সঙ্গে আচরণ করতেন বড় দাদার মতো। বসিং করতেন না। সব কাজ আমাদের উপরে চাপিয়ে দিয়ে নিজে অন্য কাজে ব্যস্ত থাকতেন না। ওঁকে শ্রদ্ধা না-করে আপনি পারবেন না। সেই পরম শ্রদ্ধেয় মানুষটিকে আমি কিডন্যাপ্‌ করবো? কিন্তু কেন? তাঁকে কিডন্যাপ করে আমার কোন্‌ স্বার্থ পূরণ হবে শুনি?”

read more
পর্ব-১৩৫: ন হন্যতে

পর্ব-১৩৫: ন হন্যতে

সতর্কতা বলতে পুলিশ-প্রোটেকশন বোঝায়। কিন্তু পিশাচপাহাড় আপাত শান্ত ছোট্ট একটা জনপদ, যার বাসিন্দার সংখ্যা মেরে-কেটে কয়েক হাজার, সেখানকার থানায় কতজন পুলিশ পোস্টেড হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়। অতএব প্রোটেকশন চাইলেই দেওয়া খুব কঠিন। একে স্টাফ বাড়ন্ত, তার উপর কালাদেওর ঘটনাগুলি ঘটার পর থেকে পুলিশের মধ্যেও একটা চাপা আতঙ্ক কাজ করছে। ফলে রাত-পাহারায় অনেকেই রাজি নয়। পুলিশের রুটিন পেট্রলিং অবশ্য বজায় আছে।

read more
পর্ব-১৩৪: অনুসরণ

পর্ব-১৩৪: অনুসরণ

মঙ্গল উঠে ঘরের ভিতর চলে গিয়েছিল, সম্ভবত থানে যাওয়ার উপযুক্ত পোষাকআশাক করে বেরোবে বলে। ভেক না ধরলে তো ভিক্ষা মেলে না, ফলে ও-টুকু করতেই হবে। তবে সন্ধ্যের দিকে বিশেষ দিন ছাড়া বেশিক্ষণ পূজাপাঠ হয় না। ওই থালায় কিছু ভোজ্যবস্তু দিয়ে দু-একটা ফুল ছড়িয়ে ধূপ-দীপ দেখানো। তারপরেই চলে আসতে হয়, পিছনে একবারও না তাকিয়ে। তাদের বিশ্বাস, কালাদেওর থানে পূজা দিয়ে ফিরে আসার সময় পিছু ফিরে তাকালেই কালাদেও রুষ্ট হন।

read more
পর্ব-১৩৩: এ কে? এ কে গো?

পর্ব-১৩৩: এ কে? এ কে গো?

জীবনবাবু হঠাৎ করে ব্রেক কষায় গাড়ির মধ্যে সবাই সামনের দিকে হুমড়ি খেয়ে পড়ল। সুদীপ্তর মাথা ঠুকে গেল ড্যাশবোর্ডে। গাড়িটা বিচ্ছিরি শব্দ করে থেমে যেতেই সামনের উইণ্ডস্ক্রিনে প্রায় ঝাঁপ দিয়ে আছড়ে পড়ল একজন। ঘটনার আকস্মিকতায় শাক্য, সুদীপ্ত তো বটেই, জীবনবাবুর মতো অভিজ্ঞ, পোড় খাওয়া ড্রাইভারও হকচকিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর মুখ দিয়ে প্রায় আর্তনাদের মতো বেরিয়ে এল, “এ কী? এ কে? এ কে গো?”

read more
পর্ব-১৩২: প্রেম নামে বন

পর্ব-১৩২: প্রেম নামে বন

মাঝরাত্তিরে চিৎকার-চ্যাঁচামেচি হই-হট্টগোলে কাঁচা ঘুমটা বরবাদ হয়ে গিয়ে রিমিতার খুব মাথা ধরেছিল। তার মাইগ্রেনের সমস্যা আছে। একবার শুরু হলে তিন দিন পাক্কা কষ্টভোগ চলে। একেই এ-বারের এই ট্যুরে আসার জন্য তাদের দু’জনের দুর্ভোগের শেষ নেই, তার পর থেকে বাধা-বিঘ্ন বিপদ-আপদ যেন ছাড়তেই চাইছে না। এই পিশাচপাহাড় নামক জায়গাটি, তার উপর একই নামের এই রিসর্টটি যেন যত গণ্ডগোল আর বিপদের আখড়া। এখানে এতসব কাণ্ড হবে জানলে প্রি-ম্যারিটাল এনজয়মেন্টের স্থান হিসেবে অন্য কোনও জায়গার কথা ভাবা যেত। কিন্তু এখন আর আফসোস করে কোন লাভ নেই। দুশ্চিন্তা...

read more
পর্ব-১৩১: যে পালিয়ে বেড়ায়

পর্ব-১৩১: যে পালিয়ে বেড়ায়

>নুনিয়া যা বলেছে, যতটুকু আভাস দিয়েছে তাঁকে, এখনও পর্যন্ত যতটুকু ক্লু এবং পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণ জোগাড় করতে পেরেছেন, তাতে মনে হয়, এখানে একটা স্পষ্ট হিউম্যান অরগ্যানস্‌ ট্র্যাফিকিং-এর কাজকারবার চলছে এবং সাইকেল তার মাথা না হলেও অন্যতম একজন হেল্পিং-হ্যান্ড। কিন্তু এর মাথাটি কে, সেটাই এখনও জানা যায়নি। কোনওদিন সেই মাথাটি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারা যাবে কি? যদি তিনি বেঁচে ফেরেন, তাহলে বেশি দেরি না করে, সোজা গিয়ে হাজির হবেন শাক্য সিংহের কাছে। সব খুলে বলবেন।

read more
পর্ব-১৩০: চুপি-চুপি আসে

পর্ব-১৩০: চুপি-চুপি আসে

পূষণের কেন যেন মনে হচ্ছিল, আর্যর মনে আছে, স্বপ্নে সে কী দেখেছিল, কিন্তু বলতে চাইছে না কোন কারণে। সেই কারণতা কি অরণ্য যেতা মেনশন করতে চাইছে মজার ছলে, সেই জাতীয় ইরাটিক কিছু? যে-কারণে আর্য লজ্জা পাচ্ছে? কিন্তু এরাটিক কিছু এই বয়সে স্বপ্নে দেখা ত সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ, তাতে লজ্জা পাওয়ার কি-আছে? তাছাড়া তার মনে হচ্ছিল, আর্য যে স্বপ্নের বিবরণ দাখিল করা থেকে বিরত থাকছে, তা বিশেষ কোন কারণে এবং সচেতনভাবেই করছে।

read more
পর্ব-১২৯: পথিমধ্যে অতর্কিতে

পর্ব-১২৯: পথিমধ্যে অতর্কিতে

শাক্য বলল, “সুদীপ্ত, যদিও আমি যত্রতত্র খাই না, বুঝতেই পারছেন, ফিটনেস ফ্রেক বলে আমার খাবারদাবার খুব রেস্ট্রিক্টেড্, কিন্তু এখন তো অনন্যোপায়। পড়েছি মোগলের হাতে, খানা খেতে হবে সাথে। অতএব আজকে না-হয় চিট্-ডে বলেই মনে করলাম। কলকাতায় ফিরে জিমে বেশি সময় দিতে হবে এক্সট্রা ক্যালরি বার্ণ করার জন্য!” বলে হেসে উঠল।

read more
পর্ব-১২৮: রাখে হরি, মারে কে?

পর্ব-১২৮: রাখে হরি, মারে কে?

উত্তেজনায় হাত কামড়ালেন সত্যব্রত। ইস্, আর-একটু সতর্ক যদি হতেন। এত সহজে ওদের বিশ্বাস করে বেরিয়ে আসা উচিত হয়নি, গোবিন্দ আসবে বলেছিল সাথে, সে-যদি আসত, তাহলে ওরা হয়তো অন্য প্ল্যান ভাঁজতো। একবার মনে হচ্ছে, তাকে না-নিয়ে আসা ভুল হয়েছে, আর-একবার ভাবছেন সে যে আসেনি, তাতে শাপে বর হয়েছে, কারণ, সত্যব্রত না-ফিরলে গোবিন্দ নিশ্চয়ই থানায় যাবে এবং তাঁকে উদ্ধারের ব্যাপারে আদা-জল খেয়ে লাগবে। গোবিন্দ লোকটি আর-যাই-হোক ভীষণ সৎ ও সাচ্চা দিল ইনশান।

read more
পর্ব-১২৭: আঁধারে ছিল আগন্তুক?

পর্ব-১২৭: আঁধারে ছিল আগন্তুক?

আর্য প্রাণপণে দৌড়াতে চাইছিল করিডোর ধরে। কিন্তু তার শরীর অসাড় হয়ে আসছে ভয়ে। মনের মধ্যে তোলপাড় চলছিল। মনে হচ্ছিল সে যদি দৌড়ানো থামিয়ে দেয়, তাহলে তার উপর রহস্যময় সেই আগন্তুকের মরণ-ছোবল নেমে আসবে তার উপর। রিসর্টটা বিশাল বড় নয়, ফলে তার আর করিডোর কত বড় হবে? কিন্তু শিথিল পদক্ষেপে শরীরটাকে হিঁচড়ে-হিঁচড়ে টেনে নিয়ে যেতে গিয়ে আর্যর মনে হচ্ছিল, এই করিডোর সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা করিডোর। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার, যখন আর্য দরজা খুলেছিল, তখন করিডোরের সবক’টি আলো জ্বলছিল না।

read more
পর্ব-১২৬: মিটিং

পর্ব-১২৬: মিটিং

ডিএম ওদের সময় দিয়েছিলেন দুপুর দুটোয়। তার আগে তাঁর জরুরি কিছু কাজকর্ম আছে, ফলে সকালের দিকে চাইলেও সময় বার করতে পারেননি। তাতে শাক্যদের কোনও অসুবিধা ছিল না। দেখা করে কথা হওয়াটা জরুরি, তা সে এ-বেলাই হোক বা ও-বেলা। সে আর সুদীপ্ত নির্দিষ্ট সময়ের ঘন্টাখানেক আগেই পৌঁছে গিয়েছিল। সময়ের ব্যাপারে শাক্য অত্যন্ত সতর্কতা মেনে চলে। এ তার পিতার শিক্ষা। তিনি ছিলেন সময়ের ব্যাপারে একেবারে জীবন্ত ঘড়ি।

read more

Skip to content