
“স্যার?”
“কে? উল্লাস?”
“হ্যাঁ স্যার!”
“এত অস্থির কেন? কিছু হয়েছে?”
“শাক্য স্যার কোথায় স্যার?”
“কেন?”
“স্যারকে দরকার ছিল!”
“তোমার সার্ভিসের জন্য না-কি? তাহলে অপেক্ষা করতে হবে। স্যার এখন পিশাচপাহাড়ে নেই। ফিরুন আগে। তারপর না-হয় ডাকবেন তোমায়!”
“স্যার! সার্ভিসের জন্য নয়। স্যার যে-কাজে আমাকে পাঠিয়েছিলেন, সেই কাজের বিষয়েই কথা বলতাম একটু!”
“তা আমাকে বলতে পারো। আমি শাক্য স্যারকে বলে দেবো ফিরলে।”
“কবে ফিরবেন উনি স্যার?”
“যে-কোন সময়। আজ রাতেই হোক কিংবা কাল সকালে। তুমি কি ফোন করেছিলে?”
“হ্যাঁ স্যার। ফোন করেছি বার-তিনেক। তার বেশি তো করা যায় না স্যার। হয়ত কোন জরুরি কাজে ব্যস্ত আছেন। আপনাদের কাজের তো দিনরাতের কোন ব্যাপার নেই। চব্বিশ ঘন্টাই ডিউটি।
সেই জন্য আমি করিনি আর। স্যার হয়ত আননোন নাম্বার দেখে রিং-ব্যাক করেননি!”
“এটা ভুল ধারণা তোমার উল্লাস। আমাদের পেশায় আননোন-নোন নাম্বার বলে কিছু নেই। কোন আননোন নাম্বার থেকেও যদি কল আসে, তাহলেও আমাদের ধরতে হয় কিংবা পরে দেখলে রিং-ব্যাক করতে হয়। কে জানে, হয়তো কোন বিপদে পড়ে কেউ কল করছে। সুতরাং এ-ব্যাপারে আমি তোমাকে আশ্বস্ত করছি উল্লাস যে, শাক্য স্যার নিশ্চয়ই বিশেষ ব্যস্ত আছেন, সেই জন্যই তোমার ফোন রিসিভ করতে পারেননি। কিংবা দেখলেও কল-ব্যাক যে করবেন সেই সময়টুকুই পাননি!”
“কে? উল্লাস?”
“হ্যাঁ স্যার!”
“এত অস্থির কেন? কিছু হয়েছে?”
“শাক্য স্যার কোথায় স্যার?”
“কেন?”
“স্যারকে দরকার ছিল!”
“তোমার সার্ভিসের জন্য না-কি? তাহলে অপেক্ষা করতে হবে। স্যার এখন পিশাচপাহাড়ে নেই। ফিরুন আগে। তারপর না-হয় ডাকবেন তোমায়!”
“স্যার! সার্ভিসের জন্য নয়। স্যার যে-কাজে আমাকে পাঠিয়েছিলেন, সেই কাজের বিষয়েই কথা বলতাম একটু!”
“তা আমাকে বলতে পারো। আমি শাক্য স্যারকে বলে দেবো ফিরলে।”
“কবে ফিরবেন উনি স্যার?”
“যে-কোন সময়। আজ রাতেই হোক কিংবা কাল সকালে। তুমি কি ফোন করেছিলে?”
“হ্যাঁ স্যার। ফোন করেছি বার-তিনেক। তার বেশি তো করা যায় না স্যার। হয়ত কোন জরুরি কাজে ব্যস্ত আছেন। আপনাদের কাজের তো দিনরাতের কোন ব্যাপার নেই। চব্বিশ ঘন্টাই ডিউটি।
সেই জন্য আমি করিনি আর। স্যার হয়ত আননোন নাম্বার দেখে রিং-ব্যাক করেননি!”
“এটা ভুল ধারণা তোমার উল্লাস। আমাদের পেশায় আননোন-নোন নাম্বার বলে কিছু নেই। কোন আননোন নাম্বার থেকেও যদি কল আসে, তাহলেও আমাদের ধরতে হয় কিংবা পরে দেখলে রিং-ব্যাক করতে হয়। কে জানে, হয়তো কোন বিপদে পড়ে কেউ কল করছে। সুতরাং এ-ব্যাপারে আমি তোমাকে আশ্বস্ত করছি উল্লাস যে, শাক্য স্যার নিশ্চয়ই বিশেষ ব্যস্ত আছেন, সেই জন্যই তোমার ফোন রিসিভ করতে পারেননি। কিংবা দেখলেও কল-ব্যাক যে করবেন সেই সময়টুকুই পাননি!”
“আচ্ছা বুঝলাম স্যার। হ্যাঁ ঠিকই বলেছেন। সেই কারণেই হয়তো ফোন ধরতে পারেননি আমার। ঠিক আছে স্যার পরে আবার করে দেখব। আপনি ভালো আছেন তো স্যার?”
“কোথায় আর ভালো উল্লাস! চারদিকে যা সব শুরু হয়েছে, তাতে ভালো থাকা যায়? তুমি বলো!”
“হ্যাঁ স্যার, ঠিক বলেছেন। আমাদের এলাকাটা আগে কত শান্ত ছিল। ছোটখাটো পলিটিক্যাল
ঝুটঝামেলা ছাড়া আর বড়-ছোট কোনও কিছুই ঘটেনি কখন। কিন্তু এখন যেন রোজ কিছু-না-কিছু ঘটেই চলেছে। খুন-জখম-চুরি-ছিনতাই! পিশাচপাহাড় ট্যুরিস্টদের লক্ষ্য হিয়ে ওঠায় আমরা স্যার মনে-মনে বেশ খুশি হয়েছিলাম। আমি তো হয়েই ছিলাম। এইসব ট্যুরিস্টদের অনেকেই বেড়াতে এসে স্পা কিংবা ম্যাসাজ সার্ভিস নিতে পছন্দ করেন। আমি ভেবেছিলাম, আস্তে-আস্তে যত তাঁরা
আসবেন, তাঁদের চাহিদা বাড়বে। কিন্তু কোথায় কী! সব যেন কেমন হয়ে গেল!”
“হ্যাঁ উল্লাস। এতদিন থানায় শুয়ে-বসে শরীরে জং ধরে গিয়েছিল। কালাদেও অ্যান্ড কোং এখন এমন ছুটিয়ে মারছে যে দু’দণ্ড তিষ্টোতে দিচ্ছে না। জং সব ঝরে যাচ্ছে! চারদিক থেকে ভ্যারাইটিজ সব কালপ্রিটস সব এই পিশাচপাহাড়েই যেন এসে জড়ো হয়েছে !” সুদীপ্ত আক্ষেপের সঙ্গে বলে উঠল।
“হ্যাঁ স্যার। একদম ঠিক কথাই বলেছেন। অপরাধের ডালপালা আমাদের গাঁ-গঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেককাল যে-সমস্ত অপরাধ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলিও যেন ফিরছে আস্তে-আস্তে !”
“কী-ধরণের অপরাধের কথা বলছ উল্লাস, যা বন্ধ হয়েও আবার ফিরে এসেছে ? আছে না-কি খবর?” সুদীপ্তর গলায় কৌতূহল ঝরে পড়ে।
“সেই কারণেই তো স্যারকে ফোনটা করেছিলাম স্যার!”
“কী হয়েছে?” সুদীপ্তর গলা কি কাঁপছে? একটা ধাক্কা শেষ না-হতে-হতেই আবার একটা ধাক্কা? উফফ, সে এবার পাগল হয়ে যাবে। এদিকেও তো ঘটনার-পর-ঘটনা। মালাকার স্যারের অবজারভেশন যদি ঠিক হয়, তাহলে বলতে হবে, পিশাচপাহাড় হেলথ্সেন্টারের উপর শনির দৃষ্টি পড়েছে। খুব শিগগিরিই ঝামেলা হতে পারে। যে- বা যারা চাইছে ঝামেলা পাকাতে, তাদের নিশ্চয়ই একটা উদ্দেশ্য আছে, কিন্তু কী সেই উদ্দেশ্য সেটাই স্পষ্ট হচ্ছে না। সব জায়গায় পুলিশ প্রোটেকশন বা গার্ড দেওয়ার পর পর্যাপ্ত পুলিশ থানায় নেই। ডিস্ট্রিক্ট হেড কোয়াটার্সে ফোন করে ফর্স আনানো যেতেই পারত। কিন্তু তারা হাত উল্টে দিয়েছেন। সদরেই পর্যাপ্ত পুলিশ নেই।
বহুকাল নিয়োগ হয় নি বলে, পুলিশবিভাগ এখন কর্মী-সংকটে ভুগছে। সেক্ষেত্রে পিশাচপাহাড়েই যদি পুলিশ-প্রোটেকশনের নামে বেশি ফোর্স পাঠানো হয়, তাহলে জেলার বাকি অঞ্চলগুলি তো শূন্য হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে সেই-সমস্ত এলাকায় অপরাধের হার বেড়ে যেতে পারে। তাছাড়া পিশাচ পাহাড়ে ইদানিং অন্য ভয় দেখা দেওয়ায় কেউ রাজি হচ্ছে না এখানে রাতপাহারা দেওয়ার জন্য। দিনের বেলা কালাদেওর আবির্ভাব বা আক্রমণ ঘটে না, সকলেই চাইছে সেই সময়টাতেই ডিউটি করতে। কিন্তু সন্ধ্যের পর ডিউটি করতে বেশিরভাগ পুলিশই নারাজ। এই অবস্থায় এখনই অপরাধে রাশ টানতে না-পারলে ক্রমশই অবস্থা হাতের বাইরে বেরিয়ে যাবে। এখনই গিয়েছে অনেকটা। শাক্য স্যার কি তদন্তে ঢিলে দিচ্ছেন ? তিনি আসার পর বেশ কিছুদিন কেটে গেছে। কয়েকটা মার্ডার, কিডন্যাপ্…
“কোথায় আর ভালো উল্লাস! চারদিকে যা সব শুরু হয়েছে, তাতে ভালো থাকা যায়? তুমি বলো!”
“হ্যাঁ স্যার, ঠিক বলেছেন। আমাদের এলাকাটা আগে কত শান্ত ছিল। ছোটখাটো পলিটিক্যাল
ঝুটঝামেলা ছাড়া আর বড়-ছোট কোনও কিছুই ঘটেনি কখন। কিন্তু এখন যেন রোজ কিছু-না-কিছু ঘটেই চলেছে। খুন-জখম-চুরি-ছিনতাই! পিশাচপাহাড় ট্যুরিস্টদের লক্ষ্য হিয়ে ওঠায় আমরা স্যার মনে-মনে বেশ খুশি হয়েছিলাম। আমি তো হয়েই ছিলাম। এইসব ট্যুরিস্টদের অনেকেই বেড়াতে এসে স্পা কিংবা ম্যাসাজ সার্ভিস নিতে পছন্দ করেন। আমি ভেবেছিলাম, আস্তে-আস্তে যত তাঁরা
আসবেন, তাঁদের চাহিদা বাড়বে। কিন্তু কোথায় কী! সব যেন কেমন হয়ে গেল!”
“হ্যাঁ উল্লাস। এতদিন থানায় শুয়ে-বসে শরীরে জং ধরে গিয়েছিল। কালাদেও অ্যান্ড কোং এখন এমন ছুটিয়ে মারছে যে দু’দণ্ড তিষ্টোতে দিচ্ছে না। জং সব ঝরে যাচ্ছে! চারদিক থেকে ভ্যারাইটিজ সব কালপ্রিটস সব এই পিশাচপাহাড়েই যেন এসে জড়ো হয়েছে !” সুদীপ্ত আক্ষেপের সঙ্গে বলে উঠল।
“হ্যাঁ স্যার। একদম ঠিক কথাই বলেছেন। অপরাধের ডালপালা আমাদের গাঁ-গঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেককাল যে-সমস্ত অপরাধ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলিও যেন ফিরছে আস্তে-আস্তে !”
“কী-ধরণের অপরাধের কথা বলছ উল্লাস, যা বন্ধ হয়েও আবার ফিরে এসেছে ? আছে না-কি খবর?” সুদীপ্তর গলায় কৌতূহল ঝরে পড়ে।
“সেই কারণেই তো স্যারকে ফোনটা করেছিলাম স্যার!”
“কী হয়েছে?” সুদীপ্তর গলা কি কাঁপছে? একটা ধাক্কা শেষ না-হতে-হতেই আবার একটা ধাক্কা? উফফ, সে এবার পাগল হয়ে যাবে। এদিকেও তো ঘটনার-পর-ঘটনা। মালাকার স্যারের অবজারভেশন যদি ঠিক হয়, তাহলে বলতে হবে, পিশাচপাহাড় হেলথ্সেন্টারের উপর শনির দৃষ্টি পড়েছে। খুব শিগগিরিই ঝামেলা হতে পারে। যে- বা যারা চাইছে ঝামেলা পাকাতে, তাদের নিশ্চয়ই একটা উদ্দেশ্য আছে, কিন্তু কী সেই উদ্দেশ্য সেটাই স্পষ্ট হচ্ছে না। সব জায়গায় পুলিশ প্রোটেকশন বা গার্ড দেওয়ার পর পর্যাপ্ত পুলিশ থানায় নেই। ডিস্ট্রিক্ট হেড কোয়াটার্সে ফোন করে ফর্স আনানো যেতেই পারত। কিন্তু তারা হাত উল্টে দিয়েছেন। সদরেই পর্যাপ্ত পুলিশ নেই।
বহুকাল নিয়োগ হয় নি বলে, পুলিশবিভাগ এখন কর্মী-সংকটে ভুগছে। সেক্ষেত্রে পিশাচপাহাড়েই যদি পুলিশ-প্রোটেকশনের নামে বেশি ফোর্স পাঠানো হয়, তাহলে জেলার বাকি অঞ্চলগুলি তো শূন্য হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে সেই-সমস্ত এলাকায় অপরাধের হার বেড়ে যেতে পারে। তাছাড়া পিশাচ পাহাড়ে ইদানিং অন্য ভয় দেখা দেওয়ায় কেউ রাজি হচ্ছে না এখানে রাতপাহারা দেওয়ার জন্য। দিনের বেলা কালাদেওর আবির্ভাব বা আক্রমণ ঘটে না, সকলেই চাইছে সেই সময়টাতেই ডিউটি করতে। কিন্তু সন্ধ্যের পর ডিউটি করতে বেশিরভাগ পুলিশই নারাজ। এই অবস্থায় এখনই অপরাধে রাশ টানতে না-পারলে ক্রমশই অবস্থা হাতের বাইরে বেরিয়ে যাবে। এখনই গিয়েছে অনেকটা। শাক্য স্যার কি তদন্তে ঢিলে দিচ্ছেন ? তিনি আসার পর বেশ কিছুদিন কেটে গেছে। কয়েকটা মার্ডার, কিডন্যাপ্…
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪৪: মৃত্যুর অনিবার্য ক্ষুধা

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-১২: এ দিন যাবে, রবে না

পিতার ঔজ্জ্বল্য কখনও ম্লান হয়নি পুত্রের খ্যাতিতে

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮৬: বক্সনগরে আবিষ্কৃত হয়েছে বৌদ্ধ স্তুপ, চৈত্যগৃহ ও একটি মঠ
এ-সব ঘটেছে। কিন্তু তদন্তে অগ্রগতি হচ্ছে কোথায়? সাংবাদিকরা যদি আবার একযোগে ছেঁকে ধরে তাহলে কী উত্তর দেবে পুলিশ?
সুদীপ্ত স্যারকে কোন কথা না বলে চুপ করে থাকতে দেখে উল্লাস অস্বস্তি বোধ করল। রাত অনেক হয়েছে। এই অবস্থায় তার ফোন করা ঠিক হয়নি। কাল সকালের জন্য অপেক্ষা করলেই হতো। কিন্তু আজ বিকেলে সে যা দেখেছে এবং এই মুহূর্তে তার কাছে যে-দুটি জিনিস আছে, সে-সমস্ত কথা যতক্ষণ না বলতে পারছে শাক্য স্যারকে, সে স্থির হয়ে বসতে পর্যন্ত পারছে না। অথচ শাক্য স্যার ব্যস্ত থাকায় ফোন পর্যন্ত ধরতে পারছেন না। আজকের রাতটা তার ঘুম গেল। সে ভাবল ফোন রেখে দেবে। কাল সকালে আবার ফোন করে দেখবে শাক্য স্যার ফোন ধরেন কি-না। তখন না-হয় বলবে। ভেবে সে ফোন রাখতে যাচ্ছে, এমনসময় সুদীপ্ত স্যার আবার সবাক হয়ে উঠলেন।
“উল্লাস, কলে আছো?”
“হ্যাঁ স্যার, বলুন!”
“তুমি কী বলতে গিয়েও চুপ করে গেলে! কিছু হয়েছে কি?”
উল্লাস বলল, “না-হলে এত রাতে আপনাদের ফোন করে ডিস্টার্ব করব এমন মানুষ আমি নই স্যার। ব্যাপার যা ঘটেছে, তা গুরুতর। কীভাবে বলি…” সে ইতস্তত করছিল।
“এত হেজিটেট আই মিন ইতস্তত করছ কেন তুমি? যা বলতে চাও নির্ভয়ে বল!”
“ফরেন-মেড রিভলভার স্যার।…”
মানে? তড়াক করে লাফিয়ে ওঠে যেন সুদীপ্ত। “ফরেন-মেদ রিভলভার? মানে? কী বলতে চাইছ স্পষ্ট বল!”
সুদীপ্ত স্যারকে কোন কথা না বলে চুপ করে থাকতে দেখে উল্লাস অস্বস্তি বোধ করল। রাত অনেক হয়েছে। এই অবস্থায় তার ফোন করা ঠিক হয়নি। কাল সকালের জন্য অপেক্ষা করলেই হতো। কিন্তু আজ বিকেলে সে যা দেখেছে এবং এই মুহূর্তে তার কাছে যে-দুটি জিনিস আছে, সে-সমস্ত কথা যতক্ষণ না বলতে পারছে শাক্য স্যারকে, সে স্থির হয়ে বসতে পর্যন্ত পারছে না। অথচ শাক্য স্যার ব্যস্ত থাকায় ফোন পর্যন্ত ধরতে পারছেন না। আজকের রাতটা তার ঘুম গেল। সে ভাবল ফোন রেখে দেবে। কাল সকালে আবার ফোন করে দেখবে শাক্য স্যার ফোন ধরেন কি-না। তখন না-হয় বলবে। ভেবে সে ফোন রাখতে যাচ্ছে, এমনসময় সুদীপ্ত স্যার আবার সবাক হয়ে উঠলেন।
“উল্লাস, কলে আছো?”
“হ্যাঁ স্যার, বলুন!”
“তুমি কী বলতে গিয়েও চুপ করে গেলে! কিছু হয়েছে কি?”
উল্লাস বলল, “না-হলে এত রাতে আপনাদের ফোন করে ডিস্টার্ব করব এমন মানুষ আমি নই স্যার। ব্যাপার যা ঘটেছে, তা গুরুতর। কীভাবে বলি…” সে ইতস্তত করছিল।
“এত হেজিটেট আই মিন ইতস্তত করছ কেন তুমি? যা বলতে চাও নির্ভয়ে বল!”
“ফরেন-মেড রিভলভার স্যার।…”
মানে? তড়াক করে লাফিয়ে ওঠে যেন সুদীপ্ত। “ফরেন-মেদ রিভলভার? মানে? কী বলতে চাইছ স্পষ্ট বল!”
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৭ : কাঞ্চনজঙ্ঘা: দেখা হবে চন্দনের বনে

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৭৬ : মায়ামৃগ
“ফরেন মেড রিভলভার পেয়েছি দুটি। কি-করব বুঝতে পারছি না। আমি নিজে তো আর এত দামফাম বুঝি না। তবে দেখে মনে হল সরেস মাল, খাঁটি জিনিস। কিন্তু যতদূর জানি, এগুলি কিনতে পারমিট লাগে। সত্যি লাগে না-কি স্যার ?”
“লাগে। তুমি ঠিকই জানো!”
“স্যার, আমি শাক্য স্যারকে এই ঘটনাটাই বলতে চাইছিলাম। উনি বলেছিলেন, গ্রামে এসে যদি এমন কিছু দেখি যা আমার চোখে সন্দেহজনক বা স্বাভাবিক নয়, তা সঙ্গে-সঙ্গে যেন ওঁকে জানাই।
আর এ-ব্যাপারটা তো আমাকে অবাক করে দিয়েছি। আপনি ভাবতে পারবেন না, হঠাৎ করে আমি যা দেখে ফেলেছি, তা শুনলে শাক্য স্যার, আপনি—আপনারা দুজনেই হতভম্ব হয়ে যাবেন !”
“কী হয়েছে?”
উল্লাস মঙ্গল ওঝার বাড়ি যাওয়া, তার সঙ্গে কথাবার্তা বলা থেকে শুরু করে খানিকটা বেপরোয়াভাবে তার পিছু নেওয়া থেকে শুরু করে যা-যা দেখেছে সব বলল। তবে আর একজন অচেনা বয়স্ক লোক, যাকে সে এর আগে কখন দেখেছে বলে মনে পড়ছে না, সে আসার পরেই উল্লাস সেখান থেকে পালিয়ে এসেছে বলে বাকি ঘটনা তার জানা নেই।
“কাল সকালে মঙ্গল ওঝার বাড়ি যাব না-কি স্যার?”
“যেতেই পারো। তাহলে রিভলভার হারিয়ে মঙ্গলের প্রতিক্রিয়া বুঝতে পারবে। কিন্তু খুব সাবধান। তোমার জন্য এখন আমারই চিন্তা হচ্ছে খুব। দেখ, বর্ডার এরিয়াতে এইরকম ইল্লিগাল ওয়েপন-স্মাগ্লিং খুব কমন ব্যাপার। সেইসঙ্গেই আর-একটা কমন ব্যাপার হল, এই সব গ্যাং-এর পিছনে থাকে সমাজের প্রভাবশালী কেউ বা কেউ-কেউ। মোটের উপর বড় মাথা। তাদের হাত খুব লম্বা এবং তারা খুব নিষ্ঠুরও বটে। তাদের কারবারের সামনে কোন বাধা এসে পড়লে তারা কিন্তু যে-কোন উপায়ে সেই বাধা হটিয়ে দিতে দ্বরি করবে না। আর তোমার মতো মানুষের জন্য সে-কারণেই চিন্তা হচ্ছে। কোনভাবে ওরা যদি জানতে পারে…”
“সেখানে তখন আর কেউ ছিল না স্যার!”
“তুমি নিশ্চিত তো যে আর কেউ ছিল না?”
“লাগে। তুমি ঠিকই জানো!”
“স্যার, আমি শাক্য স্যারকে এই ঘটনাটাই বলতে চাইছিলাম। উনি বলেছিলেন, গ্রামে এসে যদি এমন কিছু দেখি যা আমার চোখে সন্দেহজনক বা স্বাভাবিক নয়, তা সঙ্গে-সঙ্গে যেন ওঁকে জানাই।
আর এ-ব্যাপারটা তো আমাকে অবাক করে দিয়েছি। আপনি ভাবতে পারবেন না, হঠাৎ করে আমি যা দেখে ফেলেছি, তা শুনলে শাক্য স্যার, আপনি—আপনারা দুজনেই হতভম্ব হয়ে যাবেন !”
“কী হয়েছে?”
উল্লাস মঙ্গল ওঝার বাড়ি যাওয়া, তার সঙ্গে কথাবার্তা বলা থেকে শুরু করে খানিকটা বেপরোয়াভাবে তার পিছু নেওয়া থেকে শুরু করে যা-যা দেখেছে সব বলল। তবে আর একজন অচেনা বয়স্ক লোক, যাকে সে এর আগে কখন দেখেছে বলে মনে পড়ছে না, সে আসার পরেই উল্লাস সেখান থেকে পালিয়ে এসেছে বলে বাকি ঘটনা তার জানা নেই।
“কাল সকালে মঙ্গল ওঝার বাড়ি যাব না-কি স্যার?”
“যেতেই পারো। তাহলে রিভলভার হারিয়ে মঙ্গলের প্রতিক্রিয়া বুঝতে পারবে। কিন্তু খুব সাবধান। তোমার জন্য এখন আমারই চিন্তা হচ্ছে খুব। দেখ, বর্ডার এরিয়াতে এইরকম ইল্লিগাল ওয়েপন-স্মাগ্লিং খুব কমন ব্যাপার। সেইসঙ্গেই আর-একটা কমন ব্যাপার হল, এই সব গ্যাং-এর পিছনে থাকে সমাজের প্রভাবশালী কেউ বা কেউ-কেউ। মোটের উপর বড় মাথা। তাদের হাত খুব লম্বা এবং তারা খুব নিষ্ঠুরও বটে। তাদের কারবারের সামনে কোন বাধা এসে পড়লে তারা কিন্তু যে-কোন উপায়ে সেই বাধা হটিয়ে দিতে দ্বরি করবে না। আর তোমার মতো মানুষের জন্য সে-কারণেই চিন্তা হচ্ছে। কোনভাবে ওরা যদি জানতে পারে…”
“সেখানে তখন আর কেউ ছিল না স্যার!”
“তুমি নিশ্চিত তো যে আর কেউ ছিল না?”
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৯: জলমুরগি

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৪০: রামের সত্যরক্ষা, প্রবাদপ্রতিম রামরাজ্যের স্রষ্টার বৈরাগ্যের রূপ
“হ্যাঁ স্যার। নিশ্চিত। আমি তো আর কাউকে দেখিনি!”
“তোমরাই বল না, জঙ্গলের হাজারটা চোখ?”
“হ্যাঁ স্যার। এইরকম একটা কথা চালু আছে…”
“কথাটার অর্থ অন্যরকম। জঙ্গলে কে-যে কখন লুকিয়ে আছে, কী দেখছে, তা অন্য কেউ সবসময় বুঝতেও পারে না। অথচ সব কথা বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। যাই হোক্, আজকের রাতটা খুব সাবধানে থাকবে। হুটপাট করে বাড়ির বাইরে বেরুবে না। আর তেমন বুঝলে যদি অন্য কোন শেলটার থাকে, সেখানে চলে যেতে পারো। আমি দেখছি। শাক্য স্যার ফিরুন, তারপর ঠিক করা যাবে, তোমার ব্যাপারটায় কী করা যায়।”
“ঠিক আছে স্যার। তবে বাড়িতেই থাকব। বন্ধুবান্ধবদের বাড়ি গিয়ে রাত কাটালে বাড়ির লোক সন্দেহ করবে। এতদিন পরে বাড়ি ফিরে বন্ধুবান্ধবদের বাড়িতে থাকা ভালো দেখাবে না। তাছাড়া বন্ধুবান্ধবরাও তো কাজের সূত্রে বাইরে সব। যে দু’-চারজন আছে, তাদের সঙ্গে তেমন একটা হৃদ্যতা নেই আর, কথাবার্তাও হয় না তেমন, সময়ই পাই না, ফলে আজ হঠাৎ তাদের বাড়ি গিয়ে
উঠলে তারাই সন্দেহ করে বসবে বেশি। তার চেয়ে বাড়িতেই থাকি। বাড়িতে সবাইকে কোনভাবে এটা-ওটা বলে ম্যানেজ করি যে, আজকের রাতটা ভালো নয়। বাড়ির বাইরে যাওয়া কিংবা কেউ দাকলে সাড়া দেওয়া মানা ! না-হলে আমি একা সতর্ক হলেই হবে না। ওরা যদি সতর্ক না থাকে, তাহলে বিপদ ঘাড়ে করে নিজেরাই বয়ে আনবে নিজেদের অজান্তে।”
“হ্যাঁ, ঠিক বলেছ। আমি দেখছি শাক্য স্যারকে ধরতে। যদি পাই জানাবো। নাহলে অপেক্ষা করতে হবে ওঁর ফেরার। উনি যদি সব শুনে তোমাকে ফোন করে আর-একবার কথা বলতে চান, বলবেন। তবে একটা কথা এখন মনে হচ্ছে, এক্ষুনি তোমার কথায় সায় দিয়ে কাল সকালে মঙ্গলের বাড়ি গিয়ে তার হাবভাব দেখে আসার কথা বলেছিলাম বটে, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, ওটা করলে বিপদ আরও বাড়বে বই কমবে না। মঙ্গল এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে সে-ও কম ধূর্ত হবে না, এটাই স্বাভাবিক। ফলে তুমি গেলে তার বরং আরও সন্দেহ বাড়বে। অতএব কাল সকালে মঙ্গল ওঝার বাড়িতে হুট করে যাওয়া ঠিক নয়। একটু বুঝেশুনে চলতে হবে তোমাকে।”
“আচ্ছা স্যার। যাব না তবে!”
“তোমরাই বল না, জঙ্গলের হাজারটা চোখ?”
“হ্যাঁ স্যার। এইরকম একটা কথা চালু আছে…”
“কথাটার অর্থ অন্যরকম। জঙ্গলে কে-যে কখন লুকিয়ে আছে, কী দেখছে, তা অন্য কেউ সবসময় বুঝতেও পারে না। অথচ সব কথা বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। যাই হোক্, আজকের রাতটা খুব সাবধানে থাকবে। হুটপাট করে বাড়ির বাইরে বেরুবে না। আর তেমন বুঝলে যদি অন্য কোন শেলটার থাকে, সেখানে চলে যেতে পারো। আমি দেখছি। শাক্য স্যার ফিরুন, তারপর ঠিক করা যাবে, তোমার ব্যাপারটায় কী করা যায়।”
“ঠিক আছে স্যার। তবে বাড়িতেই থাকব। বন্ধুবান্ধবদের বাড়ি গিয়ে রাত কাটালে বাড়ির লোক সন্দেহ করবে। এতদিন পরে বাড়ি ফিরে বন্ধুবান্ধবদের বাড়িতে থাকা ভালো দেখাবে না। তাছাড়া বন্ধুবান্ধবরাও তো কাজের সূত্রে বাইরে সব। যে দু’-চারজন আছে, তাদের সঙ্গে তেমন একটা হৃদ্যতা নেই আর, কথাবার্তাও হয় না তেমন, সময়ই পাই না, ফলে আজ হঠাৎ তাদের বাড়ি গিয়ে
উঠলে তারাই সন্দেহ করে বসবে বেশি। তার চেয়ে বাড়িতেই থাকি। বাড়িতে সবাইকে কোনভাবে এটা-ওটা বলে ম্যানেজ করি যে, আজকের রাতটা ভালো নয়। বাড়ির বাইরে যাওয়া কিংবা কেউ দাকলে সাড়া দেওয়া মানা ! না-হলে আমি একা সতর্ক হলেই হবে না। ওরা যদি সতর্ক না থাকে, তাহলে বিপদ ঘাড়ে করে নিজেরাই বয়ে আনবে নিজেদের অজান্তে।”
“হ্যাঁ, ঠিক বলেছ। আমি দেখছি শাক্য স্যারকে ধরতে। যদি পাই জানাবো। নাহলে অপেক্ষা করতে হবে ওঁর ফেরার। উনি যদি সব শুনে তোমাকে ফোন করে আর-একবার কথা বলতে চান, বলবেন। তবে একটা কথা এখন মনে হচ্ছে, এক্ষুনি তোমার কথায় সায় দিয়ে কাল সকালে মঙ্গলের বাড়ি গিয়ে তার হাবভাব দেখে আসার কথা বলেছিলাম বটে, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, ওটা করলে বিপদ আরও বাড়বে বই কমবে না। মঙ্গল এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলে সে-ও কম ধূর্ত হবে না, এটাই স্বাভাবিক। ফলে তুমি গেলে তার বরং আরও সন্দেহ বাড়বে। অতএব কাল সকালে মঙ্গল ওঝার বাড়িতে হুট করে যাওয়া ঠিক নয়। একটু বুঝেশুনে চলতে হবে তোমাকে।”
“আচ্ছা স্যার। যাব না তবে!”
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু!, পর্ব-১১১: ডেসডিমোনার রুমাল/১০

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৩: মাঝ-রাতে আশ্রমে একটি বালক কাঁদছিল কেন?
“উল্লাস, সব ঠিক থাকলে তুমি আমাকে একবার টেক্সট মেসেজ করে জানিয়ে দিও কাল সকালে। আমি আজ সারারাত জেগে থাকব। অনেক কাজ একসঙ্গে এসে চেপেছে ঘাড়ে। এবার এক-এক করে নামানোর চেষ্টা করতে হবে!”
“আচ্ছা স্যার। আমি জানিয়ে দেবো। আপনারা সাবধানে থাকবেন। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি দেখা হচ্ছে আপনাদের সঙ্গে। রাখলাম স্যার।”
“হুঁ!” সুদীপ্ত আনমনা হয়ে ফোন নামিয়ে রাখল সামনের টেবিলের উপরে। আজ রাতে তার ডিউটি ছিল না। কিন্তু শাক্য স্যার তাকে ফেরত পাঠিয়েছেন, যাতে হেলথ-সেন্টারের সুরক্ষার ব্যাপারটি সে দেখে নিতে পারে। এ-কারণেই সে এখানে ফিরে মালাকার স্যারকে বলে ব্যবস্থা করে নিয়েছে। একবার হেলথ-সেন্টারে যেতে হবে, আজ রাতেই। হায়েনারা রাতেই বেরোয়, দিনের আলোয় তারা স্বচ্ছন্দ বধ করে না। সে উঠে পড়ল। বাইক নিয়ে যাবে সে। সঙ্গে যে কোনও একজনকে নিয়ে গেলেই হল। জাস্ট কয়েক রাউন্ড মেরেই চলে আসবে। তারপর কাল সকালে গিয়ে বাকি যা ছানবিন করার করবে। এবার উঠেপড়ে লাগতে হবে। অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে অলরেডি।—চলবে।
“আচ্ছা স্যার। আমি জানিয়ে দেবো। আপনারা সাবধানে থাকবেন। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি দেখা হচ্ছে আপনাদের সঙ্গে। রাখলাম স্যার।”
“হুঁ!” সুদীপ্ত আনমনা হয়ে ফোন নামিয়ে রাখল সামনের টেবিলের উপরে। আজ রাতে তার ডিউটি ছিল না। কিন্তু শাক্য স্যার তাকে ফেরত পাঠিয়েছেন, যাতে হেলথ-সেন্টারের সুরক্ষার ব্যাপারটি সে দেখে নিতে পারে। এ-কারণেই সে এখানে ফিরে মালাকার স্যারকে বলে ব্যবস্থা করে নিয়েছে। একবার হেলথ-সেন্টারে যেতে হবে, আজ রাতেই। হায়েনারা রাতেই বেরোয়, দিনের আলোয় তারা স্বচ্ছন্দ বধ করে না। সে উঠে পড়ল। বাইক নিয়ে যাবে সে। সঙ্গে যে কোনও একজনকে নিয়ে গেলেই হল। জাস্ট কয়েক রাউন্ড মেরেই চলে আসবে। তারপর কাল সকালে গিয়ে বাকি যা ছানবিন করার করবে। এবার উঠেপড়ে লাগতে হবে। অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে অলরেডি।—চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।


















