বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
সুদীপ্ত, আফজল আর শিবম মুণ্ডা যখন বন্ধ ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে এবং সুদীপ্ত ভাবছে, পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক কী নেওয়া যেতে পারে, ঠিক তক্ষুনি সুদীপ্তর মোবাইল ভাইব্রেট করে উঠল। কোনও অ্যাকশনে যাওয়ার আগে সুদীপ্ত সব সময়েই তার মোবাইল একেবারে সায়ালেন্ট না করে, ভাইব্রেট মোডে করে নেয়। তারা হয়তো চুপিসাড়ে কালপ্রিটদের ডেনকে টার্গেট করে এগচ্ছে, এমন সময় মোবাইল বেজে উঠে গোটা অভিযানেরই সাড়ে সর্বনাশ করে দিল। কিংবা সে হয়তো টার্গেট করেছে হিট করবে বলে, এমন সময় মোবাইল বেজে উঠে তার মনঃসংযোগ নষ্ট করে দিল, বুলেট টার্গেটে না-লেগে অন্য কোথাও হিট করল। এরকম আরও কতকিছুই হতে পারে। এই সময় সবচেয়ে বিরক্তিকর, ঘরোয়া ফোনগুলিই। কাছের মানুষগুলি হয়তো ভালোবেসে, উদ্বিগ্ন হয়েই ফোন করে তাকে, সময়ে-অসময়ে, কিন্তু সেটা যে তার কাজের পক্ষে কত অসুবিধার সৃষ্টি করে, তা বোঝাতে পারে না সে তাদের। আবার মোবাইলের রিং-টোন বাজলেই তার হাত অনিবার্যভাবে চলে যায়, তাদের পেশায় যখন-তখন যে-কেউ ফোন করতে পারে। আর সেই ফোনগুলির গুরুত্ব অনেক। ভাইব্রেট করে রাখলে সুবিধা এটাই যে, ফোন যদি আসতেই থাকে বারবার, তাহলে ভাইব্রেশনের বাড়াবাড়ি দেখে সে বুঝতে পারে, এটা জরুরি কোন কল। অতএব সময়-সুযোগ মতো সে রিং-ব্যাক করে কিংবা কল অ্যাটেন্ড করে। আজকেও যখন তারা তিনজন হেলথ্-হোমের বন্ধ চেম্বারের সামনে দাঁড়িয়ে প্রায় কিংকর্তব্যবিমূঢ়, তখনই ফোনটা ভাইব্রেট করতে শুরু করল। সুদীওত প্রথমটায় গা করল না। ভাবল, যে করছে, সে হয়তো ফোন তুলছে না দেখে ক্ষান্ত দেবে। কিন্তু না, তেমনটা হল না। ফোন আসতেই থাকল, একবার নয়, থেমে-থেমে বার বার।
সাধারণত কোনও ইনসিডেন্ট ঘটলে লোকে থানার যে অফিশিয়াল নম্বরটি সর্বত্র দেওয়া আছে, সেখানেই ফোন করে। ডিউটি অফিসার যিনিই থাকুন না কেন, তিনিই ফোন ধরেন। তারপর প্রয়োজনমাফিক মালাকার স্যার কিংবা তাকে ফোন করে জানায়। অতএব কারুর সরাসরি তাকে ফোন করার উপায় নেই। তাহলে কে করছে? শাক্য স্যার? কিন্তু তিনি তো এখন সত্যব্রতকে নিয়ে ব্যস্ত। এই সময়, যখন তিনি জানেন, সুদীপ্ত একটা জরুরি মিশনে আছে, তিনি অন প্রিন্সিপল অসময়ে ফোন করবেন না। সঠিক সময়ে ফোন করে আপডেট নেবেন। অতএব সুদীপ্তর মনে হচ্ছে, ফোনটা আর যিনি করুন, শাক্য স্যার করছেন না। এটা মনে হতেই, তার শরীরে ফোন ধরা নিয়ে কেমন যেন একটা অনীহা জাগল। এখন এই ফোনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল, সামনের ঘরে বন্দি দুজনকে জ্যান্ত ধরা। পাকা মৎস্যশিকারীরা যেমন, মাছ ধরতে বসে ফাতনার দিকে ছাড়া আর কোনওদিকে মন দেয় না, সুদীপ্তও এই মুহূর্তে তেমনভাবেই বন্ধ ঘরের দিকে মনোযোগ দেবে বলে ঠিক করল।
তাকে অনেকক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে ভাবতে দেখে আফজল বলল, “স্যার! কিছু ভাবলেন?”
“উঁ?” অন্যমনস্কভাবে সুদীপ্ত জবাব দিল।
“বলছি শুনুন না, থানা থেকে আরও ফোর্স আনানোর ব্যবস্থা করুন। দেখলেন তো একটু আগেই, ওরা কীরকম খতরনাক্। গুলি-গোলা চালাতে দু’বার ভাববে না। ওদের তো আর গুলি খরচের পিছনে সরকারি নির্দেশ নেই! ওরা এমনিতেই ভয়ঙ্কর। আমাদের তিনজনকে বেরিয়ে এসে একবার কব্জায় পেলে আর কিন্তু ছাড়বে না। একেবারে স্পট ডেড্! তার চেয়ে ফর্স আসুক, তারপর চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে…”
“তোমার প্রস্তাব যুক্তিযুক্ত হলেও ইমপসিবল্! ভেবে দ্যাখো, তার আগেই যদি ওরা ভিতর থেকে দরজা ভেঙে ফেলে? তাহলে?”
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬১ : গোবিন্দ সোরেন দ্য গ্রেট

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৭ : দুই সহোদরার সখি সংবাদ (২)

উত্তম কথাচিত্র পর্ব-৮৮ : নেকলেস

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫৪: শূর্পনখার কাহিনিতে, ষড়রিপুর প্রভাব, এক শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত নয় কী?

শিবম্ মুন্ডা হঠাৎ বলল, “স্যার, গাছের আড়াল থেকেও তো দরকার পড়লে গুলি চালান যাবে। আগের বারের মতো আমরা তিনজন কোনও-না-কোনও গাছের আড়ালে পজিশন নিই না?”
সুদীপ্ত বলল, “বাহ্। নাইস সাজেশন্। হয়তো এমনটিই করতে হবে!”
“থানায় ফোন করুন একবার। এখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে সংক্ষেপে ব্রিফিং করুন। তারপর দেখুন তারা কী চায়?”
“তারা যদি চায় মরতে, তাহলে তাদের সেই চাওয়া তুমি মেনে নেবে তো আফজল?”
সুদীপ্তর প্রশ্ন শুনে আফজল একটু থতমত খেল। সে আমতা-আমতা করে বলল, “আমি আমাদের থানার চাওয়ার কথা বলতে চেয়েছি স্যার!”
“বুঝেছি। সে-জন্যই তো বললাম আফজল। তুমি কি মনে করো, আমাদের থাকা-না-থাকায় থানা বল, ডিস্ট্রিক্ট হেডকোয়াটার্স বল, কারুর কিছু যায় আসে না আফজল। আমরা এখানে অধীনস্থ কর্মচারী। যখন যেখানে পাঠাবে যেতে হবে, যা দেবে তা খেতে হবে—আমরা আসলে মানিয়ে নিতে নিতে ওদের লোভ বাড়িয়ে দিয়েছি। বন্ডেড লেবার আমরা। আমাদের চিন্তার বল, ভাবনার বল, সিদ্ধান্তের বল, কোন ক্ষেত্রেই কোনও স্বাধীনতা নেই! যাক্ এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ভিতরের উত্তেজনাকে দমন করার জন্য তোমায় কিঞ্চিৎ জ্ঞান দিলাম। ডোন্ট মাইন্ড!”
“কী-যে বলেন স্যার। মাইন্ড করার কী আছে!” আফজল বলল।
“দেখ, আমার মনে হচ্ছে, ভিতরে আটকে পড়া বাঘদুটিকে নিয়ে আপাতত না ভেবে, যে দরজাটা বাইরে থেকে আটকে দিয়ে খাঁচাবন্দি করেছে কালপ্রিটদুটিকে, তার খোঁজ করা দরকার! আর সে নিশ্চয়ই বাইরের লোক নয়, এই হেলথ্ সেন্টারের কেউ!”
শিবম্ বলল, “স্যার, আমার মনে হচ্ছে, এ গোবিন্দের কাজ!”
“গোবিন্দ?”
“গোবিন্দ সোরেন। স্টাফ। দেখেননি, বয়স্ক করে, মাঝেমধ্যেই বিড়বিড় করে অদ্ভুত-অদ্ভুত সব কথা বলে?”
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯৯ : শুধু মনুভ্যালি নয়, কৈলাসহরের চা বাগান কালীশাসনও বিপ্লবী তৎপরতার সাক্ষী

রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু!, পর্ব-১২৮: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৯

সুদীপ্তর মনে পড়ে গেল, শাক্য স্যারের সঙ্গে যেদিন এসেছিল, একজন বৃদ্ধ কিন্তু সতর্ক এবং ক্ষিপ্র স্বভাবের একজন বয়স্ক মানুষ তাদের সত্যব্রতর কাছে নিয়ে গিয়েছিল। এ-কি সেই? তাহলে তার অ্যাসেসমেন্ট ঠিক ছিল। তবে লোকটি কেবল সতর্ক এবং ক্ষিপ্রই নয়, চতুরও বটে। এই ভাবে দু’জন ক্রিমিন্যালকে বন্দি করা চাট্টিখানি কথা নয়।
সুদীপ্ত বলল, “হ্যাঁ, হ্যাঁ, দেখেছি মনে পড়ছে। তাহলে তার খোঁজ করতে হবে। আফজল, তুমি আর শিবম গিয়ে দেখো, তাকে কোথাও খুঁজে পাও কিনা। সে নিশ্চয়ই পালায় নি। এমন হতে পারে, সে এদের আটক করে থানাতে দৌড়েছে। আমি এখানে পাহারায় থাকছি।”
“স্যার, থানাতে দৌড়ানোর কী দরকার? তার কাছে নিশ্চয়ই ফোন আছে। আর থানার নম্বর কি সে জানে না?”
“এত কিছু প্রেডিক্ট করার সময় নেই এখন আফজল, তুমি যাও। দেখ, লোকটিকে খুঁজে পাও কিনা!”
“তার চেয়ে আমি বলি স্যার, আপনি আর শিবম্ যান। আমি এখানে আছি পাহারায়। চিন্তা করবেন না, ভরসা করতে পারেন আমার উপর!” আফজল সামান্য হেসে বলল।
সুদীপ্ত আফজলের কাঁধে হাত রেখে বলল, “আফজল, চিন্তা সকলের জন্যই হয়। আবার ভরসাও। তুমি যদি এখানে পাহারায় থাকতে চাও থাকো। তবে তোমার সঙ্গে শিবম্ থাকবে। আমি একাই যাব। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব গোবিন্দকে খুঁজে নিয়ে আসছি!”
“তার দরকার হবে না স্যার। আমি এসে গিয়েছি!” হঠাৎ পিছন থেকে কেউ বলল।
ওরা সবাই চমকে পিছনে ফিরে তাকাল। দেখল গালে ক’দিনের না-কামানো পাকা দাড়ি-গোঁফসহ একজন বয়স্ক লোক দাঁড়িয়ে। গায়ে শার্ট আর পাজামা। তাদের অজান্তে কখন চুপিসাড়ে যে এসে দাঁড়িয়েছে, বুঝতেই পারা যায়নি। মার্জারের চেয়েও নিঃশব্দচরণ বলে মনে হচ্ছিল লোকটিকে।
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫২: কূটবণিক্-জাতক — ভাণ্ডার তোর পণ্ড যে হয়

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০১ : সত্য সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, আর মূর্খ অন্যের ব্যাখ্যায় তাকে খোঁজে!

“আরে গোবিন্দ দা! তোমার কথাই তো হচ্ছিল!” শিবম্ চাপা গলায় চিৎকার করে উঠল।
হ্যাঁ, এই লোকটিই সেদিন শাক্য স্যার আর তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিল।
সুদীপ্ত সময় নষ্ট করল না, বলল, “গোবিন্দ, তুমিই লোকদুটিকে ভিতরে বন্দি করেছো?”
“লোক ক’জন আছে, তা জানি না স্যার। অন্ধকারে শুয়ে ছিলাম। হেলথ সেন্টারে আউটডোরের এন্ট্রিগেট তো বন্ধ করার নিয়ম নেই, দিনেরাতে খোলা। ওরা সেটার বাইরে দাঁড়িয়ে চাপা গলায় কথা বলছিল। আমার ঘুম এমনিতেই পাতলা। ফলে জেগে উঠে ভিতরের ঘরে গিয়ে পিছনের দরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে দরজারয় টাকা লাগিয়ে দিয়ে সামনের দিকে চলে আসি। আমি জানতাম ওরা আমাকে কিংবা আর কিছু খুঁজতে ওই ঘরে ঢুকবে। সেই মতো ওরা যখন ভিতরের ঘরে তখন আমি সামনের দিকে এসে এই দরজাতেও তালা লাগিয়ে দিই। চাবি তো আমার কাছেই থাকে সব। ওরা যতক্ষণে বুঝেছে যে, ফাঁদে পড়ে গেছে, ততক্ষণে আর কিছু করার ছিল না!”
“ব্রেভো গোবিন্দ! তুমি তো বুড় হাড়ে ভেল্কি দেখিয়ে দিলে!” সুদীপ্ত মুগ্ধ গলায় বলল। মানুষ এইরকম পরিস্থিতিতে বোমকে গিয়ে বুঝে উঠতে পারে না কী করবে। সেখানে লোকটি যথেষ্ট প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের পরিচয় দিয়েছে।
“স্যার, এরা কারা? এরাই কি আমার ডাক্তারবাবুকে কিডন্যাপ করেছে? তাহলে এদের আমি আস্ত রাখব না! অত ভালো একজন ডাক্তার বহুদিন আমাদের এই এলাকার মানুষ পায় নি স্যার! তাঁকে কিনা কিডন্যাপ করা? দেখাচ্ছি মজা!” গোবিন্দর চোখ ধ্বক্ করে জ্বলে উঠল।
“শান্ত হও গোবিন্দ। পুলিশ তোমার ডাক্তারবাবুকে খুঁজে এনে দেবে ঠিক সময়ে। কিন্তু এখন ঠান্ডা মাথায় কাজ করতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ো না। ওরা অপরাধী হলে ওদের শাস্তি হবেই। এখন বল তো, তুমি কি থানায় ফোন করে খবর দিয়েছো?”
গোবিন্দ বলল, “আমি করিনি। শেফালিকা দিদি, মানে নার্স দিদি থানাতেই তো ফোন করেছিলেন স্যার। ওঁরা বললেন, থানা থেকে আপনারা অলরেডি এখানে উপস্থিত আছেন। সরাসরি আপনাকে এসে যেন বলি। আপনার নাম্বারও দিলেন। তখন আমি দিদির কাছ থেকে নম্বর নিয়ে ফোন করলাম। রিং হয়ে গেল। কিন্তু কেউ তুলল না-বলে কী-ব্যাপার দেখার জন্য ছুট্টে আসছি!”
“ও তাহলে তুমিই একটু আগে ফোন করেছিলে?”
“হ্যাঁ স্যার!”
“বুঝলাম,” বলে আফজলের দিকে ফিরে সুদীপ্ত বলল, “তুমি তাহলে থানায় ফোন করে আরও কিছু ফোর্সের ব্যবস্থা কর। আমি বাকিটা দেখছি!”
“স্যার,” গোবিন্দ সোরেন বলল, “নুনিয়া আর শেফালিকা দিদির বড় বিপদ। তাদের বাঁচাতে হবে যে!”
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪৫: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী— বালিকাঠা

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

নুনিয়া! সেই রহস্যময়ী মেয়েটি! তাকে ঘিরে কত মিথ না এ-অঞ্চলে প্রচলিত। অথচ সুদীপ্ত জানে, শৈশবে ভয়ানক নির্মল গ্যাং-রেপের ফলে অবস্থা এমন ক্রিটিক্যাল ছিল যে, তার বেঁচে ওঠাটাই চাপের ছিল।
“নুনিয়া কোথায়?”
“শেফালিকা দিদির কাছে। ডাক্তারবাবু বুদ্ধি করে যাওয়ার আগে দিদির কাছে নুনিয়াকে লুকিয়ে রেখে গিয়েছিলেন। এখন দিদি আর নুনিয়া দুজনেরই খুব বিপদ। দু’দিন ধরে ডাক্তারবাবু নিখোঁজ হওয়ার পরপরই কারা যেন কোয়াটার্সে উঁকিঝুঁকি মারছিল, দেখবার চেষ্টা করছিল, নুনিয়া আছে কি-না। তারপরে ওরা বোধহয় টের পেয়ে গিয়েছিল, নুনিয়া কোথায় আছে। সে-জন্যই আজ রাতে এখানে এসেছ! সত্যিমিথ্যে বলতে পারব না, কিন্তু মনে হচ্ছে আমার!” গোবিন্দ থামল।
সুদীপ্ত আফজলের দিকে তাকাল। আফজলও তার দিকেই তাকিয়ে ছিল। সে বলল, “আপনি গোবিন্দের সঙ্গে যান স্যার। আমি এদিকতা দেখছি। আমার মনে হয়, নার্স দিদি আর নুনিয়াকে আগে হরিপদদার গাড়িতে করে থানায় পাঠিয়ে দিয়ে ফর্স এলে এই দুজনের ব্যবস্থা করাই ভালো।”
সুদীপ্ত বলল, “তার আগে গাড়িতে যে লোকটি আহত অবস্থায় আছে, তার ফার্স্ট এইডের ব্যবস্থা করতে হবে নার্সদিদিকে দিয়ে। গোবিন্দ, আমার যাওয়ার দরকার নেই। তুমি ওদের দু’জনকে নিয়ে এসো। আর নার্সদিদিকে বলো ফার্স্ট এইডের ব্যবস্থা করতে হবে, একজনের পায়ে গুলি লেগেছে!” হল।—চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content