শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
গোবিন্দ সামনের দরজায় তালা লাগিয়েই ছুটল শেফালিকা দিদিমণির কোয়াটার্সের দিকে। যে ভাবেই হোক নুনিয়াকে বাঁচানই এখন তার লক্ষ্য। লোক দুটি এরপর যখন বুঝতে পারবে, তখন বেরোতে চাইলেও সহজে বেরোতে পারবে না। পিছনের হোক বা বাইরের দুটি দরজাই শালকাঠের এবং বেশ শক্তপোক্ত।

সে দৌড়াচ্ছিল। এখন প্রতিটি সেকেন্ড মূল্যবান। শেফালিকাদের কোয়াটার্স হেলথ সেন্টারের পিছনের দিকে। সত্যব্রতর কোয়াটার্স পেরয়ে ডানহাতি। এমনিতে গাছপালার জন্য তো বটেই, আলোর অপ্রতুলতার জন্যও অন্ধকার এখানে গাঢ়। ছোট-ছোট কোয়াটার্সগুলির দরজার সামনে কটি করে বাল্ব জ্বলছিল। তা দিয়ে আর কতটুকু অন্ধকারই বা আর দূর হয়? নেহাত গোবিন্দর এ সব হাতের তালুর মতো চেনা।

শেফালিকা দিদিমণির কোয়াটারের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল সে। একবার ভাবল। রাত ভোর হতে চলেছে প্রায়। এখন যদি নুনিয়াকে এখান থেকে অন্যত্র সরিয়েও নিয়ে যেতে হয়, কোথায় নিয়ে যাবে সে কিংবা শেফালিকা? দিনের আলো ফুটে উঠবে ঘণ্টা দুই-তিন পরেই। তার মধ্যে কোথায় নিয়ে যাবে সে? কাকে বিশ্বাস করবে সেটা বুঝতে পারছে না গোবিন্দ। সে জানেও না যে, নুনিয়া কেন চার্চের নিরাপদ শেল্টার ছেড়ে পালিয়ে এল। সে যদি পালিয়ে না আসত, তাহলে হয়ত আজকে এই বদমাশ লোকগুলি এখানে এভাবে ঢুকে পড়ত না, গোলাগুলি চালাত না। যাই হোক, যা থাকে কপালে। নুনিয়াকে কোথাও রাখার ব্যবস্থা হয়ত ঠিক হয়ে যাবে। প্রভু যীশু এততা নির্দয় নন যে, মা-বাপ মরা মেয়েটিকে বারবার হিংস্র শ্বাপদের মুখে ঠেলে দেবেন।

সে শেফালিকার দরজায় টোকা মারল।
সব চুপচাপ। শেফালিকা দিদি নিশ্চয়ই ঘুমিয়ে পড়েছেন। কিন্তু নার্সদিদিদের ঘুম খুব পাতলা হয়। ঘুমের মধ্যেও সজাগ থাকতে হয়, এমার্জেন্সি এলে উঠে পড়ে রেডি হতে হয় পাঁচ মিনিটের মধ্যে। অতএব সে আবারও টোকা দিল। এর আগে অবশ্য এমার্জেন্সি এলে সে কড়া নেড়েছে। কিন্তু এখন কড়া নাড়লে শেফালিকা দিদিমণিই কেবল উঠবেন না, রেশমা দিদিমণিও উঠে পড়বেন। আসেই কারণেই সে সাবধানতা অবলম্বন করছে।
কিন্তু একটা ব্যাপারে সে একটু দ্বিধায় আছে, নুনিয়া শেফালিকা দিদিমণির কাছেই আছে, এটা সে অনুমান করে নিচ্ছে, কিন্তু যদি তা না থাকে? যদি রেশমা দিদিমণির কাছে থেকে থাকে? তাহলে তো শেফালিকা দিদিমণি জেনে যাবেন যে, নুনিয়া এখানে কোথাও লুকিয়ে আছে। তাহলে?

সাতপাঁচ ভেবেও সে আবার আগের চেয়ে কিছুটা জোরে দরজায় শব্দ করল। সে নিশ্চিত যে, নুনিয়া যদি কোথাও থেকে থাকে তাহলে সে শেফালিকা দিদির কাছেই থাকবে। কিছুদিন যাবৎ শেফালিকা দিদি যেভাবে মাছ-মাংস-ডিম-দুধ-ন্যুডলস্ খাওয়া শুরু করেছেন, পেঁপে সিদ্ধ আর আলুর ঝোলের বদলে তাতে মুদি দোকানির মতো তারও সন্দেহ হয়েছিল, কিছু একটা হয়েছে। নিজের জন্য এত খরচ করার পাত্র শেফালিকা দিদি নয়। তাঁর মেয়ে-জামাই নাতনি এলেই একমাত্র এমনটা করেন শেফালিকা দিদি। কিন্তু তারা এলে এ-তল্লাটের সকলেই জানতে পারত। তাদের দেখাও যেত। কিন্তু এবারে তাদের কাউকেই দেখা যায় নি। অতএব দুয়ে-দুয়ে চার করলে যা দাঁড়ায়…! আশ্চর্য এই যে, যারা এসেছে নুনিয়ার খোঁজে তারা এই সহজ কথাটা যদি জেনে আসত, তাহলে ভুল করে তার কাছে যেত না। আর তা না গেলে, এতক্ষণে হয়ত শেফালিকা দিদিকে ঘায়েল করে নুনিয়াকে ঠিক তুলে নিয়ে যেত। শেফালিকা আর কতক্ষণ ওই বদমাশ লোকগুলির সঙ্গে যুঝতে পারতেন?

নাহ্, কেউ খুলছে না তো! অবাক হল সে। একমাত্রই যদি না খোলেন, তাহলে কড়াই নাড়তে হবে জোরে। তাতে রেশমা দিদিমণির ঘুম ভাঙলে তার কিছু করার নেই। সে মনে-মনে ঠিক করে নিয়েছে, নুনিয়াকে নিয়ে আর কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকলে সোজা পুলিশ স্টেশনেই যাবে।

সে আগের চেয়ে জোরে নক্ করল এবার। এত আওয়াজে ঘুম না ভাঙার কোন কারণ নেই। তাছাড়া যতই ভিতরের দিকে হোক, এত রাতে এইরকম পরিবেশে গুলিগোলা চলার আওয়াজ এখান পর্যন্ত আসবে না, এটা অসম্ভব। বাজির আওয়াজ ভাবার কোন কারণ নেই। কারণ, একে তো হেলথসেন্টার মূল লোকালয়ের একটেরে, তার উপর এখন কোন উৎসবের সময় নয়। আচ্ছা, সে ভাবল, শেফালিকাদিদি ভেবে বসেননি তো যে, সে আসলে ওই বদমাশ লোকদের কেউ। সেজন্যই দরজা খুলছেন না। এত রাতে স্বাভাবিক কেউ তো তাঁর দরজায় নক্ করবে না। আর অন্য সময় হলে গোবিন্দ নিজেই তো “শেফালিকা দিদি, দরজা খুলুন, এমার্জেন্সি কেস এসেছে” বলে হাঁক মারে। গোবিন্দ বুঝতে পারল, ঘুম ভাঙলেও সেকারণেই সম্ভবত শেফালিকা দরজা খুলছেন না। সে এই চিন্তা করে চাপা গলায় আর-একবার কড়া নেড়ে বলল, “শেফালিকা দিদিমণি, আমি গোবিন্দ। দরজা খুলুন। খুব বিপদ। হাতে একদম সময় নেই। যা করবার তাড়াতাড়ি করতে হবে!”
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৫৬ : করিডোরে কেউ নেই

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৩ : অপারেশন উদ্বাস্তু এবং গুরু-শিষ্য সংবাদ

দোলি হ্যায়!

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৮৫ : সাথীহারা

এইবার কাজ হল, দরজা সামান্য ফাঁক হল। গোবিন্দ যা ভেবেছিল সেটাই হয়েছে। ঘুম ভেঙে গেলেও ভয়ে শেফালিকা দরজা খুলছিলেন না। তার মনে পড়ে যাচ্ছিল নুনিয়ার কথা, পিছনের বারান্দার গ্রিলের গায়ে দাঁড়িয়ে কেউ উঁকিঝুঁকি মারছিল ভিতরে।
শেফালিকা দরজা সামান্য ফাঁক করে চাপা গলায় বললেন, “কী হয়েছে গোবিন্দ? কিসের যেন আওয়াজ শুনলাম! কী হয়েছে? কিসের বিপদ?”
“ভিতরে ঢুকতে দিন আগে। বাইরে দাঁড়িয়ে বলা ঠিক নয়!”
শেফালিকা এদিক-ওদিক দেখে দরজা ফাঁক করে সরে এলেন, গোবিন্দ ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দিল। তারপর বলল, “শুনুন দিদিমণি, আপনি আমাকে না বললেও আমি অনুমান করে নিয়েছি যে, নুনিয়া এখানেই আছে। আর নুনিয়ার এখন খুব বিপদ!”
“নুনিয়া?” বিস্ময়ে শেফালিকা কাঠ হয়ে গেলেন। গোবিন্দ কীভাবে জানল যে, নুনিয়া এখানে আছে?
শেফালিকা অস্বীকার করার চেষ্টা করলেন, “কী সব বলছ তুমি গোবিন্দ ? নুনিয়া এখানে কেন থাকবে?”
“শেফালিকা দিদিমণি, নুনিয়া যে এখানে আছে তা যেমন আমি অনুমান করে বুঝে নিয়েছি, আরও অনেকেই বুঝে নিয়েছে। আপনার বাজারপত্র করার ধরণ কিছুদিন থেকে বদলে গিয়েছিল কোন কারণ ছাড়াই। সকলেই কিছু একটা অনুমান করে নিয়েছে। আর এখন আমার মনে হচ্ছে নুনিয়াকে না পেয়েই ডাক্তারবাবুকে তুলে নিয়ে গেছে ওরা। তারপর হয়তো উনি বলে দিয়েছেন, আমি তো জানি না, নুনিয়া আপনার কাছে কীভাবে এল, তা সে যাই হোক, এখন সে-সব বলা বা ভাবার সময়ও নেই। বেশ কয়েকজন মিলে হেলথসেন্টারের আশেপাশে আছে। দু’জন ভিতরে ঢুকে অফিসঘরে আমার উপর হামলা চালাতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি বুদ্ধি করে তাদের আটকে দিয়েছি। তবে জানি না তা কতক্ষণের জন্য…!” বলে সে যা-যা ঘটেছে, তা সংক্ষেপে বলল।
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৫০: দণ্ডকারণ্যে শূর্পনখা—একটি নাটকীয় চমক ও দ্বৈতসত্তায় অনন্য রাম

এই দেশ এই মাটি, ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৯৫: ত্রিপুরায় স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রভাব

শেফালিকা আর গোপন করার চেষ্টা করলেন না। অবশ্য করেও লাভ হত না। যাকে নিয়ে কথা, সে নিজেই তখন উঠে এসেছে বিছানা ছেড়ে।

নুনিয়া বলল, “গোবিন্দ আংকেল, ওরা এখানে আসার আগেই আমি বেরিয়ে যাচ্ছি…!”
শেফালিকা বললেন, “কখন না। ডাক্তারবাবু আমাকে পইপই করে বলে দিয়ে গিয়েছেন, তোকে একা কোথাও যেতে দিতে। তুই একা কোথাও চলে গেলে, উনি ফিরলে আমি মুখ দেখাতে পারব না। তুই একা কোথাও যাবি না। যদি যেতে হয়, আমি তোর সঙ্গে যাচ্ছি!”
গোবিন্দ বলল, “কোথায় যাবেন আপনারা ? আমার তো মনে হয় সিধে থানায় যাওয়া উচিত। ওর চেয়ে বেটার শেলটার এই মুহূর্তে নুনিয়ার আর একটাও নেই!”
“থানায় কখন বদমাশরা হামলা করে না গোবিন্দ? সেখান থেকে অপরাধীদের ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার খবরও এক-আধটা নয়, অনেক আছে। তাহলে?”
নুনিয়া বলল, “কলকাতা থেকে এসেছেন যে অফিসার, তাঁকে খবর দিতে পারো গোবিন্দ আংকেল? তিনি হলে খুব ভালো হয়!”
“কিন্তু তাঁর নাম্বার তো জানি না। কোথায় থাকেন, সে-অবশ্য খুঁজে বার করে নিতে পারবো। কিন্তু তোমাদের এখানে ফেলে রেখে যাব কীভাবে?”
শেফালিকা বললেন, “আমরা তিনজনেই তাহলে যাই?”
“সে নাহয় হল,” গোবিন্দ বলল, “কিন্তু এখানে সব কিছু অরক্ষিত ফেলে রেখে তো যাওয়া যাবে না। যে দু’জনকে ঘরে আটকে রেখেছি তারা হয় দরজা ভেঙে পালাবে, নয়তো বাইরে তার যদি কোনও সঙ্গী থাকে তাহলে তারা এসে হামলা চালাবে। অতএব ওদের সংবাদ পুলিশকে জানাতেই হবে। আমি থানায় ফোন করছি!”
“তুমি রাখ। আমি করছি। বলছি, আমরা খুব অসহায় বোধ করছি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পুলিশ ফোর্স নিয়ে আসতে!”
“বেশ! করুন আপনি। আর নুনিয়া তুমি ততক্ষণে মাথায় স্কার্ফ জড়িয়ে মুখটাকে আড়াল করে নাও। বেগতিক দেখলে পিছনের দরজা দিয়ে পালাতে হতে পারে। আমাদের কথা ভেবো না। তুমি আগে নিজেকে বাঁচিও!”
নুনিয়া ভিতরে স্কার্ফ আনতে চলে গেল। শেফালিকা ফোন করছিলেন থানায়…।
আরও পড়ুন:

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৪১: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী — গড়িয়োল

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৯৯ : দুই সাপের বিবাদ ও রাজকন্যার গুপ্তধন লাভ! প্রাকারকর্ণের চাণক্য-নীতিতে মুগ্ধ উলূকরাজ

গোবিন্দ যখন দৌড়াল, ঠিক তখনই সামনের গেট খুলে আহত দুজন কালপ্রিটকে নিয়ে সুদীপ্ত, আফজল আর শিবম্ মুন্ডা ঢুকল হেলথসেন্টারের কম্পাউণ্ডের মধ্যে। তার আগে অবশ্য তাদের দেখে হরিপদ দৌড়ে এসেছিল গাড়ির ভিতর থেকে নেমে।

হরিপদ কাছাকাছি এসে বলল, “গুলির আওয়াজ শুনছিলাম স্যার। আমি নেমেও পড়েছিলাম জিপ থেকে। তারপর ভাবলাম, আমি খালি হাতে গিয়ে তো ওখানে কিছু করতে পারব না। কেবল আপনাদের ঝামেলা আর বিপদ বাড়িয়ে দেব। সেজন্য এখানে রাস্তার ধারে লুকিয়ে বসে অপেক্ষা করছিলাম। যদি কেউ পালাতে চায়, তাহলে তাকে চেষ্টা করে ঘায়েল করব বলে!”
“ঠিক করেছ হরিপদ। গুলিগোলার মাঝখানে গিয়ে পড়লে আমাদের বিপদ বাড়ত বই কমত না। বুদ্ধিমানের মতো কাজ করেছ। এখন একটা কাজ কর। মালাকার স্যারের ফোন নিশ্চয়ই ‘সার্ভিস এরিয়ার বাইরে বলবে, এরোপ্লেন মোড অন করে রেখেছেন বলে, তুমি বরং আর কাউকে ফোন করে ওঁকে জানাতে বলো যে, এখানে হেলথসেন্টারে ইমিডিয়েট দু’চারজন পুলিশ পাঠান!”
“আচ্ছা স্যার। সে নাহয় বলছি। কিন্তু আর পুলিশ পাঠিয়ে কী হবে স্যার? আপনারা নিজেরাই তো ধজরে ফেলেছেন সবক’টাকে!”
“নাহ্ হরিপদ, এরা সবক’জন নয়। আমার দৃঢ় বিশ্বাস এদের আরও কয়েকজন শাগরেদ ভিতরে আছে। এরা কিন্তু স্বাভাবিকভাবেই মুখ খুলছে না। যদিও প্রাথমিক ট্রি্টমেন্টটা হয়ে যাক্, তারপর এদের মুখ, পিছন সব খুলিয়ে একেবারে একাকার করে দেবো!”
আফজল বলল, “আপনি বললে এখনই শুরু করে দিই স্যার। শিবমের হাত থেকে পালানোর জন্য মাঝেমধ্যেই ঝাঁকুনি দেওয়ার চেষ্টা করছে দেখছেন না? অথচ শালার পায়ে চোট না-কি ? দেব চোটের উপর এমন বাটাম, পা-টাই আর থাকবে না। কেটে বাদ দিতে হবে!”
“না না, থাক্ আফজল। এখনই এ-সব ন্য। সে-সময় পড়ে আছে। এখন ভিতরে যাই চল। আগে এদের ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করা যাক। বেশিক্ষণ রক্তক্ষরণ হলে কিন্তু বিপদ। এদের মরগে দেওয়া চলবে না কিছুতেই। এদের সবকটাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে মামলার শেষদিন পর্যন্ত। হরিপদ তোমাকে যা বললাম, করো!”
“আচ্ছা স্যার। দেখছি,” বলে হরিপদ ফিরে গেল গাড়ির কাছে।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু!, পর্ব-১২৪: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৫

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৪৮: ঘরে চুরি, বাইরে চুরি

সুদীপ্ত দিনকয়েক আগেই এসেছে এখানে। সত্যব্রতর সঙ্গে কথা বলতে। শাক্যর সঙ্গে। অতএব সে জানে, ঢুকেই ডান দিকে গেলে হেলথিসেন্টারের অফিস কাম ক্লিনিক। সেদিকেই চলল সে। যাওয়ার আগে একবার চারদিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নিল। সে নিশ্চিত, এই চত্বরের মধ্যেই কোথাও আছে এই দুজন অপরাধীর সঙ্গীদ্বয়। কিন্তু আগে এদের ব্যবস্থা করতে হবে, তারপর অন্য কথা।

চত্বর শুনশান। কোথাও কোন শব্দ নেই, কেবল ঝিঁঝিঁর ডাক আর গাছপালার মধ্যে দিয়ে হাওয়া বয়ে যাওয়ার আওয়াজ ছাড়া। একটু আগেই যে গুলিগোলা চলল, তার জন্য কোন প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না কোথাও। সুদীপ্ত হেলথসেন্টারের ঘরটার সামনে গিয়ে একটু অবাক হল। রাতের বেলা বলে তালা ঝুলিয়ে রেখেছে না-কি? কিন্তু এমার্জেন্সি সার্ভিসের জন্য অফিসঘরে একটা আলোও তো জ্বেলে রাখতে পারে! ডাক্তারের কোয়াটার্সের দিকে যাবে না-কি? ওইদিকেই নার্সদের কোয়াটার্স বলে মনে হয়েছিল তার। নার্সদের ইউনিফর্ম বাইরে শুকাতে দেওয়া ছিল সে দেখেছে। কী করবে ভাবছে। এমনসময় বন্ধ ক্লিনিকের ভিতর থেকে কেউ দরজায় মুর্হুমুহু লাথি মারতে লাগল, “অ্যাই ঢ্যামনা বুড়ো, মাদার*** দরজা খোল। আমাদের আটকে সটকে পালাবি ভেবেছি। এই হেলথসেন্টার জ্বালিয়ে খাক্ করে দেবো! খোল!”

সুদীপ্ত অবাক হয়ে গেল, ভিতরে কারা? শুনে তো মনে হচ্ছে, এই বদমাশগুলির সঙ্গী, যারা ভিতরে ঢুকেছিল কোন কারণে, তারাই। এদের বন্ধ করল কে? বুড়ো? কোন বুড়ো? —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content