
মেজাজ ক্রমেই খিটখিটে হয়ে উঠছিল অরণ্যের। এখানে আর সে থাকতে পারছে না। আজ সে হাঁটতে-হাঁটতে থানায় যাবে। কথা বলবে লালবাজারের অফিসার হোক কিংবা লোকাল থানার ওসির সঙ্গে, দিন-দুয়েকের মধ্যে যদি তাদের যেতে না-দেওয়া হয়, তাহলে কলকাতায় ল’ইয়ারের সঙ্গে কথা বলে সে কোর্টে মুভ করবে।
তৃধাও ব্যাপারটিতে সায় দিয়েছে। তার তো শিয়রে শমন। বর ডাঙায় পা দিয়েই যদি দেখে সে তখনও বান্ধবীদের সঙ্গে ছোট-খাটো ট্যুর খতম করে ফেরেনি, সটান এখানে চলে আসবে, তারপর…। এই তারপরের ব্যাপারটা ভেবেই সে একেবারে খেপচুরিয়াশ হয়ে উঠছে দিন-দিন। খুব স্বাভাবিক। এটা তাদের দাম্পত্য সম্পর্কের স্থায়িত্বের ব্যাপার। মোটেই ছেলেখেলা করার বিষয় নয়। আজ সাতসকালেও এই নিয়ে অরণ্যের সঙ্গে তার একচোট হয়ে গিয়েছে। এই রিসর্টটা যে দিন-দিন কেমন রহস্যময় এবং ‘খতরনাক’ হয়ে উঠছে, তা তো তারা সকলে দেখতে পাচ্ছে। রাতের বেলায় রিসর্টের দোতলায় উঠে আসছে কালাদেও কিংবা অন্য কোন ভূত-প্রেত-পিশাচ বা আর কেউ। গেটে সিক্যুরিটি গার্ড থাকা সত্ত্বেও কী-ভাবে তা সম্ভব সে-কথা তৃধার মাথায় আসছে না। বিশেষ ভাবে কেবলমাত্র আর্যকে টার্গেট করে, তার উপরেই আক্রমণ করতে এসেছিল, না-কি ওটা আকস্মিক নির্বাচন, আর্যর জায়গায় সে-ও হতে পারত কালাদেওর টার্গেট—এ-কথা স্পষ্ট নয়। তার উপর গোটা ব্যাপারটা এবার যে-ভাবে রিসর্ট-কর্তৃপক্ষ চেপে গেল, তাতে এখানে থাকাটাও রিস্কি হয়ে যাচ্ছে। তৃধা এ-ব্যাপারে ক্ষোভ জানিয়েই বলেছিল অরণ্যকে, “তোমাদের উচিত ওই কাপাডিয়াকে চেপে ধরা। কেন তিনি পুলিশকে জানাচ্ছেন না? কাল রাতের ঘটনা কি মোস্ট আনওয়ান্টেড নয়?”
তৃধাও ব্যাপারটিতে সায় দিয়েছে। তার তো শিয়রে শমন। বর ডাঙায় পা দিয়েই যদি দেখে সে তখনও বান্ধবীদের সঙ্গে ছোট-খাটো ট্যুর খতম করে ফেরেনি, সটান এখানে চলে আসবে, তারপর…। এই তারপরের ব্যাপারটা ভেবেই সে একেবারে খেপচুরিয়াশ হয়ে উঠছে দিন-দিন। খুব স্বাভাবিক। এটা তাদের দাম্পত্য সম্পর্কের স্থায়িত্বের ব্যাপার। মোটেই ছেলেখেলা করার বিষয় নয়। আজ সাতসকালেও এই নিয়ে অরণ্যের সঙ্গে তার একচোট হয়ে গিয়েছে। এই রিসর্টটা যে দিন-দিন কেমন রহস্যময় এবং ‘খতরনাক’ হয়ে উঠছে, তা তো তারা সকলে দেখতে পাচ্ছে। রাতের বেলায় রিসর্টের দোতলায় উঠে আসছে কালাদেও কিংবা অন্য কোন ভূত-প্রেত-পিশাচ বা আর কেউ। গেটে সিক্যুরিটি গার্ড থাকা সত্ত্বেও কী-ভাবে তা সম্ভব সে-কথা তৃধার মাথায় আসছে না। বিশেষ ভাবে কেবলমাত্র আর্যকে টার্গেট করে, তার উপরেই আক্রমণ করতে এসেছিল, না-কি ওটা আকস্মিক নির্বাচন, আর্যর জায়গায় সে-ও হতে পারত কালাদেওর টার্গেট—এ-কথা স্পষ্ট নয়। তার উপর গোটা ব্যাপারটা এবার যে-ভাবে রিসর্ট-কর্তৃপক্ষ চেপে গেল, তাতে এখানে থাকাটাও রিস্কি হয়ে যাচ্ছে। তৃধা এ-ব্যাপারে ক্ষোভ জানিয়েই বলেছিল অরণ্যকে, “তোমাদের উচিত ওই কাপাডিয়াকে চেপে ধরা। কেন তিনি পুলিশকে জানাচ্ছেন না? কাল রাতের ঘটনা কি মোস্ট আনওয়ান্টেড নয়?”
অরণ্য বলেছিল, “তোমার কি মনে হয়, এ-কথা আমি বা আমাদের মধ্যে কেউ তোলেনি? আমি তুলেছি, অঞ্জন তুলেছে, আর ওই-যে কাপল, কী-যেন নাম বলেছিল, হ্যাঁ হ্যাঁ, মনে পড়েছে, পূষণ অ্যান্ড রিমিতা—তাঁরাও তুলেছিলেন। তুমি কি সকলকে একেবারে দায়িত্বজ্ঞানহীন ওয়ার্থলেস ভাবো?”
“তুলে কী লাভ হয়েছে? তোমাদের কথাকে রিসর্ট কর্তৃপক্ষ থোড়াই কেয়ার করে!”
“ব্যাপারটা তা নয়। কাপাডিয়ার কথাও ফেলে দেওয়ার নয়। এখানে আরও অনেক রিসর্ট তৈরি হয়েছে হাল-আমলে। সেখানে কোথাও কোনও আক্রমণ বা দুর্ঘটনা ঘটছে না, কেবলমাত্র এই রিসর্টেই ঘটছে। এটা অন্য হোটেল-মালিকদের চক্রান্ত হতে পারে। ভয় দেখিয়ে পিশাচপাহাড় রিসর্টের বদনাম করতে চাইছে। বার বার কথা উঠলে এই রিসর্টের এত বদনাম হয়ে যাবে যে, আর কেউ কোনওদিন এখানে আসবে না। এমনিতেও নানা ঘটনা পরপর ঘটায় বুকিং একেবারে তলানিতে। সকলেই ভয় পাচ্ছে এই রিসর্টের ব্যাপারে। এইভাবে চললে, মালিক কাপাডিয়াকে সরিয়ে দেবেন, কিন্তু বাকি কর্মচারিদেরকেও রেয়াত করবেন না।”
তৃধা ঠোঁট উল্টিয়ে বলেছিল, “তাতে আমাদের কী?”
অরণ্য বিরক্ত হয়েছিল। সে কলকাতায় জিম আর স্পা চালায়। সেখানে যারা ট্রেনার কিংবা অন্য কাজ করে, তাদের ভালোমন্দ দেখা সে তার ডিউটি বলে মন করে। কর্মচারিদের ভালোমন্দের ব্যাপারে উদাসীন হওয়া মোটেও সুখকর বিষয় নয়। এতে ব্যবসার দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হয়। যারা ব্যবসা বোঝে না, তারাই এ-কথা বলবে। তাছাড়া এই বাজারে হঠাৎ করে এতগুলি মানুষ বে-রোজগার হয়ে পড়বে, এটাও কাম্য নয় তার কাছে।
“তুলে কী লাভ হয়েছে? তোমাদের কথাকে রিসর্ট কর্তৃপক্ষ থোড়াই কেয়ার করে!”
“ব্যাপারটা তা নয়। কাপাডিয়ার কথাও ফেলে দেওয়ার নয়। এখানে আরও অনেক রিসর্ট তৈরি হয়েছে হাল-আমলে। সেখানে কোথাও কোনও আক্রমণ বা দুর্ঘটনা ঘটছে না, কেবলমাত্র এই রিসর্টেই ঘটছে। এটা অন্য হোটেল-মালিকদের চক্রান্ত হতে পারে। ভয় দেখিয়ে পিশাচপাহাড় রিসর্টের বদনাম করতে চাইছে। বার বার কথা উঠলে এই রিসর্টের এত বদনাম হয়ে যাবে যে, আর কেউ কোনওদিন এখানে আসবে না। এমনিতেও নানা ঘটনা পরপর ঘটায় বুকিং একেবারে তলানিতে। সকলেই ভয় পাচ্ছে এই রিসর্টের ব্যাপারে। এইভাবে চললে, মালিক কাপাডিয়াকে সরিয়ে দেবেন, কিন্তু বাকি কর্মচারিদেরকেও রেয়াত করবেন না।”
তৃধা ঠোঁট উল্টিয়ে বলেছিল, “তাতে আমাদের কী?”
অরণ্য বিরক্ত হয়েছিল। সে কলকাতায় জিম আর স্পা চালায়। সেখানে যারা ট্রেনার কিংবা অন্য কাজ করে, তাদের ভালোমন্দ দেখা সে তার ডিউটি বলে মন করে। কর্মচারিদের ভালোমন্দের ব্যাপারে উদাসীন হওয়া মোটেও সুখকর বিষয় নয়। এতে ব্যবসার দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি হয়। যারা ব্যবসা বোঝে না, তারাই এ-কথা বলবে। তাছাড়া এই বাজারে হঠাৎ করে এতগুলি মানুষ বে-রোজগার হয়ে পড়বে, এটাও কাম্য নয় তার কাছে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪০: কেঁচো খুঁড়তে কেউটে

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৭: কেমন আছেন সুনীতি, নদীর নরম ছেড়ে সমুদ্রের নুনে!

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৮: পার্ক স্ট্রিট থেকে মহর্ষি ফিরে এসেছিলেন জোড়াসাঁকোয়

হ্যালো বাবু! পর্ব-১০৭: ডেসডিমোনার রুমাল/৬
অরণ্য বিরক্ত হয়ে বলল, “যা বোঝ না, তা নিয়ে কথা বল না তো ! আমাদের কী মানে ? ওই কর্মচারীদের সকলকে কাপাডিয়া তাড়িয়ে দিলে, কাজ থেকে ছাঁটাই করে দিলে সেটা খুব ভালো হবে বলছিস? শোন, ব্যবসাদার মানুষেরা মুখে হম্বিতম্বি করবে বটে, কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ব্যবসার ভালো-মন্দ বিবেচনা করেই নেয়। তুমি সেখানে থানায় ইনফর্ম করার কথা বলছ। আচ্ছা, এর আগে একের-পর-এক এই যে এতগুলি ঘটনা ঘটল, আজ অবধি পুলিশ তার একটিরও কিনারা করতে পেরেছে? সুতরাং পুলিশকে ইনফর্ম করলেই একেবারে কালাদেও প্রিজন-ভ্যানে করে জেল-হাজতে গিয়ে ঢুকবেন, এতখানি আশা করা অন্যায়। তাও কিন্তু আমরা বলেছি। আমাদের প্রত্যেকের ভিতরের উদ্বেগ জানি বলেই বলেছি। কিন্তু কাপাডিয়া বারবার বলছেন, এই-সব ঝুটঝামেলা বার বার হতে থাকলে পিশাচপাহাড় রিসর্ট মালিক বন্ধ করে দেবেন। কর্মচারিদের কী-হবে তিনি জানেন না, তবে তিনি নিজে আর এ-কাজ করবেন না। ম্যানেজারির কাজে ইস্তফা দিয়ে তাঁর নিজের বাড়িতেই ফিরে যাবেন। এর পরেও কি মানুষটিকে কিছু বলা যায়?”
“কিন্তু সাফার তো বেশি আমরা করছি! উইকএন্ডে ক’দিন মস্তি করতে এসে এখন দিন কুড়ি এখানেই আটকে বসে আছি। এদিকে আমার বর যদি এখানে এসে পড়ে কী হবে ভেবে দেখেছ, ডিভোর্স আর কোনভাবেই আটকাতে পারবে না কেউই।”
“ভালোই হবে। একজন ডিভোর্সি নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখার মজা তো এনজয় করতে পারবো!” মজাদার গলায় বলল অরণ্য। মনোমালিন্যকে হালকা করার জন্যই বলা। সে ভেবেছিল, তৃধা তার কথা শুনে কপট রাগে তার পিঠে দু’-চারটে কিল মেরে তবে শান্ত হবে। কিন্তু আদতে তেমন কিছুই হল না।
“কিন্তু সাফার তো বেশি আমরা করছি! উইকএন্ডে ক’দিন মস্তি করতে এসে এখন দিন কুড়ি এখানেই আটকে বসে আছি। এদিকে আমার বর যদি এখানে এসে পড়ে কী হবে ভেবে দেখেছ, ডিভোর্স আর কোনভাবেই আটকাতে পারবে না কেউই।”
“ভালোই হবে। একজন ডিভোর্সি নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখার মজা তো এনজয় করতে পারবো!” মজাদার গলায় বলল অরণ্য। মনোমালিন্যকে হালকা করার জন্যই বলা। সে ভেবেছিল, তৃধা তার কথা শুনে কপট রাগে তার পিঠে দু’-চারটে কিল মেরে তবে শান্ত হবে। কিন্তু আদতে তেমন কিছুই হল না।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৪ : প্রতিদ্বন্দ্বী-গণশত্রু: অন্তর্লোকের অ্যানাটমি

উত্তম কথাচিত্র,পর্ব-৭২ : গলি থেকে রাজপথ
তৃধা বলল, “তোমার সব কিছুতেই খালি ইয়ার্কি তাই-না? তুমি কি ভেবেছ, তুমি ফুলে-ফুলে মধু খেয়ে বেড়াবে, আর আমি সেই ফুলের অন্যতম হয়ে মধু বিলোব তোমায়? কখনই না। বিয়ের জন্য চাপ দেব। বিয়ে! বুঝলে?”
“বিয়ে!” অরণ্য যেন আকাশ থেকে পড়ে। “বিয়ের কথা এল কোত্থেকে?”
“কোথা থেকে আসবে আবার? আমিই বললাম। আমার বর আমাকে এই অবস্থায় দেখবার পর ডিভোর্স দেবে এতা কনফার্ম, তারপর আমি তোমার সঙ্গে রেজিস্ট্রি-ম্যারেজটা সেরে তোমার বাড়িতে গিয়ে উঠব, সেটাই বললাম!”
“আর ইউ ম্যাড তৃধা? তুমি জান, আমি…”
“বাই-সেক্সুয়াল। তাতে আমার সমস্যা নেই তো! থাকলে তোমার সঙ্গে এখানে আসতাম কি?”
“তৃধা! এ-সব কথা এখানে উঠছে কেন?”
“তুমি তুলতে চাইছ বলে। দেখ, আমার সাফ কথা, তোমরা যত তাড়াতাড়ি পারো, আমায় এখান থেকে কলকাতায় ফিরে যাওয়ার ব্যবিস্থা করে দাও। তারপর তোমরা বাকিরা কী করবে, সেটা তোমাদের ব্যাপার। আমি জাস্ট আর নিতে পারছি না!”
“হোয়াট দ্য হেল উইথ য়্যু ? তুমি কি ভাবছ, আমরা বাকিরাও এই অবস্থায় খুব মস্তিতে আছি ? এনজয় করছি?”
“দেখে তো তেমনই মনে হচ্ছে! নো-টেনশন, নো-স্ট্রেস!”
“আমরা যে টেনশড্, স্ট্রেসড—তা দেখানোর জন্য কী করবো? মাথার চুল ছিঁড়বো? না-কি নেকেড হয়ে রাস্তায়-রাস্তায় ছুটে বেড়াবো?”
“শেষেরটা হলে কিন্তু মন্দ হয় না। একটা মেল ন্যুড র্যা লি হয়ে যাক না? তাতে তোমার ফলোয়ার্স বাড়তে পারে!”
“ইউ ন্যাস্টি বিচ্! আমার রাগ কিন্তু আমি এরপর সামলাতে পারব না।” চিৎকার করে ওঠে অরণ্য।
“ডোন্ট সাউট! বুঝলে? কে পরোয়া করে তোমার ওই রাগের? কী করবে তুমি?”
“ইউ ফাকিং হোর!…” রেগেমেগে অরণ্য রুম থেকে বেরিয়ে গিয়ে সারা দুপুর বাগানে গার্ডেন-আমব্রেলার নিচে বিয়ারের মগ হাতে বসে রইল। এই সময় দুপুরে বাইরে বসে থাকা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু তার ইচ্ছে করছিল না তৃধার মুখোমুখি হতে। রিসর্টের স্টাফদের কেউ-কেউ এসে তাকে ভিতরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করল, লাঞ্চ কখন করবেন, সে-কথাও জিজ্ঞাসা করল, কিন্তু অরণ্য দু’ প্লেট ফ্রায়েড চিকেন আর নাটস্ অর্ডার করে আর দু’ ক্যান বিয়ারের অর্ডার দিল।
কাপাডিয়া নিজে এলেন। আজ তাঁর পরনে অন্যধরণের পোশাক। এসে সামনের চেয়ার টেনে নিয়ে খুব অন্তরঙ্গতার সুরে বললেন, “আপনি কি কাল রাত মে যো কুছ হুয়ি হ্যায়, উসকে লিয়ে স্ট্রেসড?”
“বিয়ে!” অরণ্য যেন আকাশ থেকে পড়ে। “বিয়ের কথা এল কোত্থেকে?”
“কোথা থেকে আসবে আবার? আমিই বললাম। আমার বর আমাকে এই অবস্থায় দেখবার পর ডিভোর্স দেবে এতা কনফার্ম, তারপর আমি তোমার সঙ্গে রেজিস্ট্রি-ম্যারেজটা সেরে তোমার বাড়িতে গিয়ে উঠব, সেটাই বললাম!”
“আর ইউ ম্যাড তৃধা? তুমি জান, আমি…”
“বাই-সেক্সুয়াল। তাতে আমার সমস্যা নেই তো! থাকলে তোমার সঙ্গে এখানে আসতাম কি?”
“তৃধা! এ-সব কথা এখানে উঠছে কেন?”
“তুমি তুলতে চাইছ বলে। দেখ, আমার সাফ কথা, তোমরা যত তাড়াতাড়ি পারো, আমায় এখান থেকে কলকাতায় ফিরে যাওয়ার ব্যবিস্থা করে দাও। তারপর তোমরা বাকিরা কী করবে, সেটা তোমাদের ব্যাপার। আমি জাস্ট আর নিতে পারছি না!”
“হোয়াট দ্য হেল উইথ য়্যু ? তুমি কি ভাবছ, আমরা বাকিরাও এই অবস্থায় খুব মস্তিতে আছি ? এনজয় করছি?”
“দেখে তো তেমনই মনে হচ্ছে! নো-টেনশন, নো-স্ট্রেস!”
“আমরা যে টেনশড্, স্ট্রেসড—তা দেখানোর জন্য কী করবো? মাথার চুল ছিঁড়বো? না-কি নেকেড হয়ে রাস্তায়-রাস্তায় ছুটে বেড়াবো?”
“শেষেরটা হলে কিন্তু মন্দ হয় না। একটা মেল ন্যুড র্যা লি হয়ে যাক না? তাতে তোমার ফলোয়ার্স বাড়তে পারে!”
“ইউ ন্যাস্টি বিচ্! আমার রাগ কিন্তু আমি এরপর সামলাতে পারব না।” চিৎকার করে ওঠে অরণ্য।
“ডোন্ট সাউট! বুঝলে? কে পরোয়া করে তোমার ওই রাগের? কী করবে তুমি?”
“ইউ ফাকিং হোর!…” রেগেমেগে অরণ্য রুম থেকে বেরিয়ে গিয়ে সারা দুপুর বাগানে গার্ডেন-আমব্রেলার নিচে বিয়ারের মগ হাতে বসে রইল। এই সময় দুপুরে বাইরে বসে থাকা প্রায় অসম্ভব। কিন্তু তার ইচ্ছে করছিল না তৃধার মুখোমুখি হতে। রিসর্টের স্টাফদের কেউ-কেউ এসে তাকে ভিতরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করল, লাঞ্চ কখন করবেন, সে-কথাও জিজ্ঞাসা করল, কিন্তু অরণ্য দু’ প্লেট ফ্রায়েড চিকেন আর নাটস্ অর্ডার করে আর দু’ ক্যান বিয়ারের অর্ডার দিল।
কাপাডিয়া নিজে এলেন। আজ তাঁর পরনে অন্যধরণের পোশাক। এসে সামনের চেয়ার টেনে নিয়ে খুব অন্তরঙ্গতার সুরে বললেন, “আপনি কি কাল রাত মে যো কুছ হুয়ি হ্যায়, উসকে লিয়ে স্ট্রেসড?”
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৬: এক অনন্য অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রামচন্দ্রের অরণ্যবাস

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮২: ত্রিপুরা : উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রত্নভূমি ঊনকোটি
অরণ্য সে-কথার জবাব দিল না। উল্টে প্রশ্ন করল, “আজ অন্যরকম ড্রেস-আপ করেছেন দেখছি ? কোথাও যাবেন না-কি? কোনও মিসট্রেস-ফেস আছে না-কি?”
কাপাডিয়া থমমত খেলেন। তারপর কষ্ট করে হেসে বললেন, “কী যে বলেন আপনি ? আমার কি ও-সব করার বয়স আছে? আর যখন বয়স ছিল, তখনও করিনি। কম উমর মে সাদি হোনে সে উনকি জরুরৎ নেহি পড়ি!”
“তাহলে যাচ্ছেন কোথাও না-কি এমনি?”
“না-না, শহরে যাব। কিছু মালপত্র নিজে না গেলে ঠিক খরিদারি হয় না। বোঝেন তো, স্টাফদের সবসময় সব কাজে পাঠানো যায় না। আমি আমার উড়ন খাটোলা নিয়ে যাব, আপনারা ডিনার সারার আগেই ফিরে আসব আশা করি। দেখি বেরুতেই দেরি হয়ে গেল। কাজটা তাড়াতাড়ি মিটিয়ে আসি। কিন্তু আপনি বাইরে বসে থাকবেন না। দেখছেন তো কী-রকম গরম হাওয়া দিচ্ছে। আর কিছুদিন বাদে লু বইবে। স্কিন বার্ণ করে দেবে এমন বজ্জাত হাওয়া। এখনই কেমন গরম হাওয়া দিচ্ছে দেখছেন তো ? যান, ভিতরে যান। ডাইনিং-এ গিয়ে বসুন অন্তত। হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে খুব মুশকিল। ইয়ে তো আপ্কা কলকাত্তা নেহি হ্যায়। ওই চার্চের হাসপাতাল আর না-হল হেলথ্ সেন্টারই ভরসা। যান, ভিতরে যান।”
“আচ্ছা কাপাডিয়া, আমরা যদি লোকাল থানায় গিয়ে রিক্যুয়েস্ট করি যে, আমাদের এ-ভাবে নজরবন্দি না রেখে মুচলেকা লিখিয়ে নিয়ে আপাতত কলকাতা যেতে দিতে, দেবেন ওঁরা?”
“সিটা আমি কীভাবে বলব বলুন ? তবে আপনারা রিক্যুয়েস্ট করতেই পারেন। সত্যিই তো চার দিনের ট্যুর কুড়ি দিন হয়ে গেল। আমি আপনাদের অসুবিধার কথা বুঝি। বলুন ওঁদের। বলে দেখুন কী বলে! আমার দেরি হয়ে গেছে। আমি আসি। আপনি এখানে না-বসে ডাইনিং-এ গিয়ে বসুন।” বলে কাপাডিয়া তাঁর বহু পুরানো বাইকে বেরিয়ে গেলেন শহরের দিকে।
বসে-বসে বিয়ার পান করতে-করতে সে দেখল পূষণ আর রিমিতা ঘনিষ্ঠভাবে হাত ধরাধরি করে তাকে খেয়াল না করেই বাগানের পিছনের দিকে চলে গেল।
উন্মেষা বা অঞ্জন সম্ভবত রুমের বাইরে বেরোয়নি আজ। সেজন্য তাদের দেখতে পেল না সে।
তৃধা একবার বেরিয়ে এসে তার দিকে তাকাল, তারপর দুমদুম করে পা ফেলে আবার ডাইনিং-এর দিকে চলে গেল।
কাপাডিয়া থমমত খেলেন। তারপর কষ্ট করে হেসে বললেন, “কী যে বলেন আপনি ? আমার কি ও-সব করার বয়স আছে? আর যখন বয়স ছিল, তখনও করিনি। কম উমর মে সাদি হোনে সে উনকি জরুরৎ নেহি পড়ি!”
“তাহলে যাচ্ছেন কোথাও না-কি এমনি?”
“না-না, শহরে যাব। কিছু মালপত্র নিজে না গেলে ঠিক খরিদারি হয় না। বোঝেন তো, স্টাফদের সবসময় সব কাজে পাঠানো যায় না। আমি আমার উড়ন খাটোলা নিয়ে যাব, আপনারা ডিনার সারার আগেই ফিরে আসব আশা করি। দেখি বেরুতেই দেরি হয়ে গেল। কাজটা তাড়াতাড়ি মিটিয়ে আসি। কিন্তু আপনি বাইরে বসে থাকবেন না। দেখছেন তো কী-রকম গরম হাওয়া দিচ্ছে। আর কিছুদিন বাদে লু বইবে। স্কিন বার্ণ করে দেবে এমন বজ্জাত হাওয়া। এখনই কেমন গরম হাওয়া দিচ্ছে দেখছেন তো ? যান, ভিতরে যান। ডাইনিং-এ গিয়ে বসুন অন্তত। হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে খুব মুশকিল। ইয়ে তো আপ্কা কলকাত্তা নেহি হ্যায়। ওই চার্চের হাসপাতাল আর না-হল হেলথ্ সেন্টারই ভরসা। যান, ভিতরে যান।”
“আচ্ছা কাপাডিয়া, আমরা যদি লোকাল থানায় গিয়ে রিক্যুয়েস্ট করি যে, আমাদের এ-ভাবে নজরবন্দি না রেখে মুচলেকা লিখিয়ে নিয়ে আপাতত কলকাতা যেতে দিতে, দেবেন ওঁরা?”
“সিটা আমি কীভাবে বলব বলুন ? তবে আপনারা রিক্যুয়েস্ট করতেই পারেন। সত্যিই তো চার দিনের ট্যুর কুড়ি দিন হয়ে গেল। আমি আপনাদের অসুবিধার কথা বুঝি। বলুন ওঁদের। বলে দেখুন কী বলে! আমার দেরি হয়ে গেছে। আমি আসি। আপনি এখানে না-বসে ডাইনিং-এ গিয়ে বসুন।” বলে কাপাডিয়া তাঁর বহু পুরানো বাইকে বেরিয়ে গেলেন শহরের দিকে।
বসে-বসে বিয়ার পান করতে-করতে সে দেখল পূষণ আর রিমিতা ঘনিষ্ঠভাবে হাত ধরাধরি করে তাকে খেয়াল না করেই বাগানের পিছনের দিকে চলে গেল।
উন্মেষা বা অঞ্জন সম্ভবত রুমের বাইরে বেরোয়নি আজ। সেজন্য তাদের দেখতে পেল না সে।
তৃধা একবার বেরিয়ে এসে তার দিকে তাকাল, তারপর দুমদুম করে পা ফেলে আবার ডাইনিং-এর দিকে চলে গেল।
আরও পড়ুন:

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৬: সুন্দরবনের পাখি: গুলিন্দা বাটান

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৫: একদিকে জল, অন্যদিকে পাহাড় সিউয়ার্ডের রাস্তা যেন স্বর্গদ্বার!
আর্য অনেকটা বেলায় এল। তার চোখমুখ ফোলা। স্নান করেছে বোঝাই যায়। মাথার চুল থেকে এখনও জল ঝরে পড়ছে। মাথাটাও ভালো করে মুছতে পারে না, তারা না-কি কবিতা লিখে বিপলব করবে। “শালা গাণ্ডু কাঁহিকা!” মনে-মনে খিস্তি দেয় অরণ্য।
আর্য এসে তার সামনে দাঁড়িয়ে বলল, “শুনলাম, সেই সকাল থেকে এতক্ষণ ধরে এখানে বসে-বসে তুই মদ গিলছিস?”
“বিয়ার মদ নয় রে শালা আনকালচার্ড!”
“সব মদ। অ্যালকোহল কম থাকুক বা বেশি। বিষ কম জোরালো হলে কি তাকে অমৃত বলতে হবে না-কি ?”
“চুপ শালা। বিয়ার খেতে হলে বসে যা। অর্ডার দে। ভয় নেই। আমি পে করব!”
“সে খেলে তুইই করবি পে। আমার অত টাকা নেই। দরিদ্র কবি। কিন্তু আমি এখন ওসব খাব না। ভাত-ডাল খাব। হাজার হোক বাঙালি, লাঞ্চে ভাত না হলে চলে?”
“আমার চলে!”
“সে তুই জিম করিস, সেজন্য তোকে ডায়েট মেইনটেইন করতে হয়। আমার তো সে-বালাই নেই! আমি ভাত খাবই।”
“কাল রাতে ওইরকম ঘটনা ঘটল, তারপরে তোর গলা দিয়ে ভাত নামবে এখন?”
“আলবাৎ নামবে। কাল রাতের ঘটনা একটা বিভীষিকা ছিল। ধরে নিলাম আজ বা কাল কিংবা পরশু সে আসবে আবার। কিন্তু ততদিন তো আমায় বেঁচে থাকতে হবে? তার জন্য খাওয়া দরকার বুঝলি ! পেটে দানাপানি না পড়লে শরীরে পাওয়ার আসবে কোথা থেকে। এবার কালাদেও এলে আমি ভয় পাব না। ফাইট করব!”
আর্যর নিষ্ফলা আক্ষেপ দেখে অরণ্য হেসে গড়িয়েই পড়ে যাচ্ছিল। সেই অবস্থাতেই সে জড়িয়ে-মড়িয়ে বলল, “ফাইট কোনি, ফাইট! হিঃ! হিঃ! তোকে দেখে আমার কষ্ট হয় রে উজবুক। কিছুই করতে পারলি না জীবনে, কেবল বাতেলা মেরেই গেলি। সো পিটি!”
আর্য তার কথা গায়ে মাখল না। চলে যেতে-যেতে বলল, “আসলে আয়। আমার খিদে পেয়েছে। আমি গেলাম!”
অরণ্য জড়ান গলায় বেসুরো গান গেয়ে উঠল, “কারুর কেউ নই-কো আমি, কেউ আমার নয়…! আর্য, আজ বিকালে থানায় যাবি? এখান থেকে বেরোতে হবে আমাদের, বুঝলি, বেরুতে হবে!”—চলবে।
আর্য এসে তার সামনে দাঁড়িয়ে বলল, “শুনলাম, সেই সকাল থেকে এতক্ষণ ধরে এখানে বসে-বসে তুই মদ গিলছিস?”
“বিয়ার মদ নয় রে শালা আনকালচার্ড!”
“সব মদ। অ্যালকোহল কম থাকুক বা বেশি। বিষ কম জোরালো হলে কি তাকে অমৃত বলতে হবে না-কি ?”
“চুপ শালা। বিয়ার খেতে হলে বসে যা। অর্ডার দে। ভয় নেই। আমি পে করব!”
“সে খেলে তুইই করবি পে। আমার অত টাকা নেই। দরিদ্র কবি। কিন্তু আমি এখন ওসব খাব না। ভাত-ডাল খাব। হাজার হোক বাঙালি, লাঞ্চে ভাত না হলে চলে?”
“আমার চলে!”
“সে তুই জিম করিস, সেজন্য তোকে ডায়েট মেইনটেইন করতে হয়। আমার তো সে-বালাই নেই! আমি ভাত খাবই।”
“কাল রাতে ওইরকম ঘটনা ঘটল, তারপরে তোর গলা দিয়ে ভাত নামবে এখন?”
“আলবাৎ নামবে। কাল রাতের ঘটনা একটা বিভীষিকা ছিল। ধরে নিলাম আজ বা কাল কিংবা পরশু সে আসবে আবার। কিন্তু ততদিন তো আমায় বেঁচে থাকতে হবে? তার জন্য খাওয়া দরকার বুঝলি ! পেটে দানাপানি না পড়লে শরীরে পাওয়ার আসবে কোথা থেকে। এবার কালাদেও এলে আমি ভয় পাব না। ফাইট করব!”
আর্যর নিষ্ফলা আক্ষেপ দেখে অরণ্য হেসে গড়িয়েই পড়ে যাচ্ছিল। সেই অবস্থাতেই সে জড়িয়ে-মড়িয়ে বলল, “ফাইট কোনি, ফাইট! হিঃ! হিঃ! তোকে দেখে আমার কষ্ট হয় রে উজবুক। কিছুই করতে পারলি না জীবনে, কেবল বাতেলা মেরেই গেলি। সো পিটি!”
আর্য তার কথা গায়ে মাখল না। চলে যেতে-যেতে বলল, “আসলে আয়। আমার খিদে পেয়েছে। আমি গেলাম!”
অরণ্য জড়ান গলায় বেসুরো গান গেয়ে উঠল, “কারুর কেউ নই-কো আমি, কেউ আমার নয়…! আর্য, আজ বিকালে থানায় যাবি? এখান থেকে বেরোতে হবে আমাদের, বুঝলি, বেরুতে হবে!”—চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।


















