শনিবার ৬ জুন, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি

ছবি: সংগৃহীত।

মা স্নিগ্ধাকে দেখে অবাক!
—কী রে তুই?
—তোমাকে দেখতে ইচ্ছে হল তাই চলে এলাম!
—একা এলি!
—দোকা কোথায় পাবো? তোমার জামাই তো কলেজে ব্যস্ত !
—হ্যাঁ, সেতো হবেই! একটা কলেজে পড়ায়, সে কি কম দায়িত্ব! ব্যস্ত তো থাকবেই!
— হ্যাঁ ভীষণ ভীষণ ব্যস্ত!
—ওভাবে বলছিস কেন?
— কী ভাবে বললাম?
—এমন যেন তুই মোহনপুর গিয়ে দেখে এসেছিস!
স্নিগ্ধা মায়ের দিকে তাকায়। মায়েরা কি মনের কথা পড়তে পারেন? সেটা জানতে গেলে মা হতে হবে! কিন্তু স্নিগ্ধার তো আর এজন্মে মা হওয়া হবে না! একটা নপুংসককে ডিভোর্স দিয়ে আর একটা কাপুরুষের সঙ্গে আর জীবন কাটানোর ইচ্ছে নেই! তার পছন্দের পুরুষকে সে হারিয়ে ফেলেছে! চিরকালের মতো!
আরও পড়ুন:

উপন্যাস: আকাশ এখনও মেঘলা, পর্ব-৪৩: আকাশ এখনও মেঘলা

উপন্যাস: দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-৭: কেমন আছেন সুনীতি, নদীর নরম ছেড়ে সমুদ্রের নুনে!

সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১২৫: সুন্দরবনের পাখি: বিলের বালুবাটান

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১৩৮: পার্ক স্ট্রিট থেকে মহর্ষি ফিরে এসেছিলেন জোড়াসাঁকোয়

ছন্দা ভাবেন, বিয়ের পর মেয়ে এসেছে। তাকে থাকার বিষয়ে এখন কিছু না বলাই ভালো!
—ভালো হয়েছে! এতদিন বাদে এসেছিস, থাক না কদিন হাতপা ছড়িয়ে।
—কদিন নয় অনেকদিন থাকবো!
—থাক না আমি কি মানা করেছি।
— যদি সারাজীবন থেকে যাই?
—এসব কি অলুক্ষনে কথা!
—না! বলছি! তোমার জামাই নিজে নিতে না এলে আমি যাবো না! আর তোমার জামাই এখন যে কাজে ব্যস্ত তাতে তার পক্ষে সময় বের করা খুব কঠিন! হয়ত অপেক্ষা করতে করতে সারাটা জীবন কেটে যাবে।
—বুঝেছি! বরের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছে? ও সংসারে অমন মনোমালিন্য ঝগড়াঝাঁটি হয়! আবার ভাব হয়, আবার ভুলবোঝাবুঝি কেটে যায়!
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৪১: কারুর কেউ নই-কো আমি…

উত্তম কথাচিত্র,পর্ব-৭২ : গলি থেকে রাজপথ

স্নিগ্ধা কোনও জবাব না দিয়ে নিজের ঘরে যায়, পাখার নিচে খাটে টানটান হয়ে শুয়ে পড়ে। খাটে শুয়ে খাটের ধার থেকে মাথাটা ঝুলিয়ে দিলে মাথায় রক্ত সঞ্চালন হয় ! ঘাড়ের পেশিতে চাপ পড়ে ফলে পিঠের পেশিতে আরাম হয়। এটা নাকি রিল্যাক্সেশনের একটা উপায়! ছোটবেলায় মণিদীপাদি নাচ শেখাতেন স্কুলেরই এক দিদিমণি। মণিদীপাদি রিল্যাক্সেশনের এই কায়দা শিখিয়েছিল। ছোটবেলায় নেচে ক্লান্ত হয়ে পড়লে এভাবে রিল্যাক্স করলে বেশ ফ্রেশ লাগতো। আজ সেটা কাজে লাগছে না কেন! কারণটা সহজ। ছোটবেলায় সেটা ছিল শারীরিক ক্লান্তি – আর আজকেরটা মানসিক গ্লানি!
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৩৬: এক অনন্য অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ রামচন্দ্রের অরণ্যবাস

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৮২: ত্রিপুরা : উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রত্নভূমি ঊনকোটি

মাকে বলা হল না ঝগড়া করাটা সুস্থতার লক্ষণ! মেয়েদের মন খারাপ লাগলে, ডিপ্রেশন থেকে বেরিয়ে আসতে তুমুল ঝগড়া অভিমান করার জন্য একটা নিজস্ব মানুষ লাগে! নারীর একজন বিশ্বাসযোগ্য পুরুষ। পুরুষের একজন বিশ্বাস্য নারী! ভালোমন্দ অভিমান অভিযোগ সবই তো আসে দাবি থেকে, তীব্র অধিকারবোধ থেকে। একে অপরকে আঁকড়ে আগলে রাখার ভালোবাসা থেকেই মন কষাকষির সৃষ্টি। যাদের সংযোগই নেই তাদের সংঘাত হবে কি করে?
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৫ : Twoকি!

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৫: একদিকে জল, অন্যদিকে পাহাড় সিউয়ার্ডের রাস্তা যেন স্বর্গদ্বার!

স্নিগ্ধা আর ফিরে যায়নি। মা ছন্দাকে দূরত্বের প্রকৃত কারণ বলতে পারেনি স্নিগ্ধা! অপমান আর আক্ষেপের জ্বালায় জ্বলেপুড়ে খাক হয়ে গেছে। দুলালকে মোহগ্রস্ত করার একটা ব্যর্থ চেষ্টা করেছে। তৃপ্তির মনটা বিষিয়ে দিতে চেয়েছে। কিছুতেই শান্তি পায়নি স্নিগ্ধা! তারপর দুলালের স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সুখে থাকাকে একরকম মেনে নিয়েছিল। আর ঠিক তখনই কানাইলাল মহেশ্বরীর কাছ থেকে প্রস্তাব এলো! দুলালের চরিত্রকে খুন করার জঘন্য ষড়যন্ত্রে হাত মেলালো স্নিগ্ধা! দুলাল, দুলালের সংসার বৌ তৃপ্তিকে একেবারে দুমড়ে মুচড়ে শেষ করে দিয়েছে স্নিগ্ধা! তৃপ্তির সিঁথিতে দেওয়া সিঁদূর, দুলালের হাতে পরানো এটা ভাবলেই শরীরের মধ্যে একটা অদ্ভুত জ্বালা শুরু হয়। এখন সে জ্বালাটা কমবে, ওদের দূর্দশা যত বাড়বে তত শান্তি হবে মনে।

এবার স্নিগ্ধা নিজেকে ইন্দ্রিয়সুখে ভাসিয়ে দেবে। আর কোথাও ফেরার নেই। এবার ধ্বংসের খেলায় মাতবে স্নিগ্ধা। —চলবে।

* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content