রহস্য উপন্যাস: হ্যালো বাবু!

পর্ব-১৩৩: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১৪

পর্ব-১৩৩: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১৪

ঠিক রাত পৌনে এগারোটায় ধৃতিমানের ফোনে ভয়েস মেসেজ। নীলাঞ্জনার ভয়েস মেসেজ ফরোয়ার্ড করেছেন শ্রেয়া। এই মেসেজ আদালতে জবানবন্দি হিসেবে গণ্য হবে না। আজ কালার ফিউশন স্টুডিও থেকে আসার আগে শ্রেয়া নীলাঞ্জনাকে বুঝিয়ে এসেছে।

পর্ব-১৩২: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১৩

পর্ব-১৩২: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১৩

শ্রেয়া বাইরে বের হলে সবসময় সঙ্গে পিস্তল রাখে। অস্ট্রিয়াতে তৈরি আধুনিক গ্লক-১৭ মেক ৯এমএম পিস্তল। তার শরীরের সঙ্গে হাতের আড়ালে লেগে থাকা কাঁধে লাগানো পিস্তল রাখার শোল্ডার হোলস্টার। শ্রেয়া ডানহাতি। তাই বামকাঁধের তলায় প্রায় আট ইঞ্চি লম্বা ফুল সাইজ লোডেড পিস্তল রাখা। প্রায় ৯০০ গ্রাম ওজন আর ডান কাঁধের নিচে দুটি লোডেড ম্যাগাজিন।

পর্ব-১৩১: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১২

পর্ব-১৩১: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১২

সঠিক লাঞ্চের সময় শ্রেয়া ও ধৃতিমান কালার ফিউশন স্টুডিয়োতে পৌঁছল। জায়গাটা রুবি জেনারেল হাসপাতালের পাশে আরবানা কমপ্লেক্সের পিছনে। অফিসের জিপ। শ্রেয়া সামনে বসে ছিল। বাড়ির থেকে নিতে এলে অন্যান্য দিন শ্রেয়া পিছনের সিটেই বসে। স্বাভাবিক থাকে। আজ খুব চুপচাপ ছিল।

পর্ব-১৩০: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১১

পর্ব-১৩০: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১১

যন্ত্রণার অতীত ধৃতিমানেরও আছে। বাবুর এই পোষ্যটি ছোট্টবেলার সঙ্গী। বুবু তাঁর আত্মার আত্মীয়। সেই রানাঘাটের বাড়ি থেকে তার সঙ্গে রয়েছে। তখন বাবা-মা সকলে ছিলেন। এখন কেউ বুবুর বয়েস জানতে চাইলে, ‘অত হিসেব করি না’ বলে এড়িয়ে যায়। আসলে তার ভয় হয়। বুবুকে হারিয়ে ফেলার ভয়। মাকে যেমন আচমকা হারিয়ে ফেলেছিল। মা যখন চলে গেলেন বাবু তখন ক্লাস নাইন। বাবু একা আর ভাই বোন নেই। কাছের বলতে ছিল বুবু।

পর্ব-১২৯: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১০

পর্ব-১২৯: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১০

এখন অনেক রাত। একা একা যখন ঘুম আসে না। তখন সারাদিনে ঘটে যাওয়া অসংখ্য ঘটনা থেকে টুকরো টুকরো অংশগুলো মনের ব্ল্যাকবোর্ডে জিজ্ঞাসা চিহ্ন দিয়ে লেখা হতে থাকে। সে ভাবেই আজ হঠাৎ শ্রেয়ার ব্যাপারটা এলো! দ্রুত চলে এলো দৃশ্যগুলো। সিনেমাতে একে মন্তাজ বলে। পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কহীন কতকগুলো দৃশ্য জুড়ে অন্য একটা মানে তৈরি হয়। জাক্সটাপোজ অফ শটস!

পর্ব-১২৮: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৯

পর্ব-১২৮: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৯

সৎ বা অসৎ নারকেল গাছ হয় না। আমরা মুখে বলি বটে সাপের মতো হিংস্র। কিন্তু সাপ তো ভয় পেয়ে কামড়ায়। নিজের কর্তৃত্ব ফলাতে পশুপাখিরা কোনও কাজ করে না। সত্যবাদী বা মিথ্যেবাদী ধানগাছ হয় না। মানুষের মন এইসব ভয়ংকর বিষে টইটুম্বুর। তাই তাদের বিচার করতে গিয়ে সরাসরি পাটিগণিত বীজগণিত বা জ্যামিতির সম্পাদ্য উপপাদ্যতে কাজ হয় না। ফিজিক্স কেমিস্ট্রি বায়োলজি আর সাইকোলজিকে পূর্ণমাত্রায় ব্যবহার করতে হয়।

পর্ব-১২৭: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৮

পর্ব-১২৭: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৮

বুবু ঘুমিয়ে পড়েছে। তার খাঁচায় রোজকার মতই চাপা দেওয়া। ঘরের আলো নেভানো। বড়বড় গরাদওয়ালা লম্বালম্বা জানলা ছিল এ বাড়িতে। বুবুর জন্যে বাড়িওয়ালার সঙ্গে কথা বলে আলাদা করে জাল লাগিয়ে নিয়েছে ধৃতিমান। চলকে আসা চাঁদের আলো সেই জাল বেয়ে মেঝেতে পড়েছে। স্টেজে ডিমারের মুখে জাল লাগিয়ে যেরকম একটা এফেক্ট দেওয়া হয়। মেঝেতে ঠিক তেমনি আলো-ছায়ার আঁকিবুকি।

পর্ব-১২৬: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৭

পর্ব-১২৬: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৭

শান্তিবাবু যেন ধৃতিমানকে বোঝান যে হাতের লক্ষ্মী এ ভাবে পায়ে ঠেলতে নেই। ধৃতিমানের সঙ্গে কথা বলে শান্তি সর্বজ্ঞ যেন অতি সত্বর ধৃতিমানের ব্যাংক ডিটেলস বিকাশ লাহিড়ির কাছে পাঠিয়ে দেন। ধৃতিমানের টাকা ব্যাংকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। বিকাশ লাহিড়ীর সহকারি করিমুল নামের একটি ছেলে দলিল নিয়ে আসবে, সেখানে লাগানো নো অবজেকশনের চিঠি থাকবে। শুধু ধৃতিমানের একটা সই চাই।

পর্ব-১২৫: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৬

পর্ব-১২৫: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৬

খানিকক্ষণের মধ্যে ফরেনসিকের কাজ শেষ হল। পুরো বাড়ি সিল করে লোকাল থানায় প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে শ্রেয়া গিয়ে সরাসরি পুলিশের জিপে গিয়ে বসল। দূরে ধৃতিমান দাঁড়িয়ে। কিন্তু তাকে একবার জিজ্ঞেস করল না সে কোথায় যাবে। একবার হাত দেখাল। জিপ চলে গেল। ফরেনসিকের জন্য একটা গাড়ি এলো। আত্রেয়ী গাড়ী থেকে মুখ বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করল।

পর্ব-১২৪: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৫

পর্ব-১২৪: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৫

একসময় বাঙালি নায়িকারা ফিগার সচেতন ছিলেন না। খাওয়া-দাওয়ার আজকের ধরাকাট তখন অত গুরুত্ব পেত না। বয়সের বাড়লেই নায়কদের ভুঁড়ি আর নায়িকারা বুড়ি! দিনকাল পাল্টে গিয়েছে। এখন অভিনেতা-অভিনেত্রীরা নিয়ম করে উপোস করেন। ইন্টার্মিনান্ট ফাস্টিং। নিয়মিত বিরতি-সহ উপবাস। মাছেভাতে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে নিদারুণ কোপ। ভাতহীন জীবন। আর তাতেই ছিপছিপে তন্বীরা বয়সের গলায় চেন বেঁধে রেখেছেন।

পর্ব-১২৩: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৪

পর্ব-১২৩: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৪

বারান্দায় টানা উঁচু গ্রিল দেওয়া। সেখান দিয়ে ঘরে আসার সুযোগ নেই! বাড়ির দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। দরজার লক। তার বাইরে কোলাপসেবল গেটে তালা দেওয়া। সবদিক থেকে ব্যাপারটা আত্মহত্যার দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু একটা খটকা বাবু মানে ধৃতিমান চৌধুরীকে ভাবাচ্ছে। বারান্দার উঁচু গ্রিলে নীলাঞ্জনার ওড়না বেঁধে গলায় ফাঁস লাগানোটা যেন ম্যাচ করছে না! অমিতাভ কী চেয়েছিল তার মৃতদেহটা রাস্তা থেকে কেউ দেখতে পাক?

পর্ব-১২২: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৩

পর্ব-১২২: অমিতাভ হত্যারহস্য / ৩

বুবুকে আজকে ব্রেকফাস্টের বদলে ব্রাঞ্চ দিতে হবে। কারণ সকালে বেরিয়ে কখন ফেরার সম্ভব হবে সেটা চক্রবর্তী সাহেব নিজেও জানেন না। উল্টোডাঙার মুচিবাজারের আরিফ রোডে বাবু মানে ধৃতিমানের ভাড়া বাড়ি থেকে একটা অ্যাপক্যাব নিয়ে তাকে পৌঁছতে হবে সুদূর দক্ষিণে রিজেন্ট পার্ক পোস্ট অফিসের পাশে। অমিতাভ চক্রবর্তী একে টেলি নায়িকার স্বামী তার ওপর আবার গলায় ওড়না ঝুলিয়ে মৃত্যু। মিডিয়াতে যেন ডবল ডিমের এগ রোল। ঠাসা মাংসের পুর!

পর্ব-১২১: অমিতাভ হত্যারহস্য / ২

পর্ব-১২১: অমিতাভ হত্যারহস্য / ২

অমিতাভ নীলাঞ্জনার ছবিতে ছবিতে ছয়লাপ করা বিয়ে এবং বৌভাত। হইহই করা হনিমুন লোকে যতটা উপভোগ করেছে। অমিতাভ’র এই মৃত্যুতে তাদের অপ্রকাশিত গ্রে রিলেশনস মানে কাছে কাছে থেকে ক্রমশ দূরে দূরে যাওয়া এখানে ওখানে ছড়িয়ে পড়ল। সাতসকালে সরাসরি গোয়েন্দা কর্তা ভৈরব চক্রবর্তীর ফোন।

পর্ব-১২০: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১

পর্ব-১২০: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১

অমিতাভ চক্রবর্তীর দ্বিতীয় বিবাহ। প্রথমজন রুনা। রুনা দত্ত। নামী কোম্পানিতে অমিতাভ’র টিমের সর্বকনিষ্ঠ সদস্যা! মার্চ মাসে কনফিডেন্সিয়াল রিপোর্ট তৈরি হয়। মাস ছয়েক রুনা কোনও ক্লায়েন্ট পায়নি। কোম্পানি বসে বসে মাইনে দিয়েছে। আইটি জগতে যাকে বেঞ্চ বলে। সামনে এপ্রিল থেকে ইনক্রিমেন্ট তো পাবেই না, চাকরিটাই বাঁচবে কিনা সেটা জিজ্ঞাসার মুখে। কাজে অতটা পোক্ত না হলেও রুনার উপস্থিত বুদ্ধি চিরকালই প্রখর।

পর্ব-১১৯: ডেসডিমোনার রুমাল / ১৮

পর্ব-১১৯: ডেসডিমোনার রুমাল / ১৮

শেক্সপিয়ারের গল্পে ইয়াগো ক্যাসিওর পদোন্নতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে ক্যাসিওকে বিপদে ফেলতে গোপনে ডেসডিমোনার রুমাল চুরি করে ক্যাসিওর বাড়িতে রেখে আসে এবং পরে ওথেলোকে সেই রুমাল দেখিয়ে মিথ্যে অবিশ্বাস জাগাতে জানায় যে ডেসডিমোনা ক্যাসিওর প্রতি অনুরক্ত! ইয়াগো চেয়েছিল ক্যাসিওর সঙ্গে ওথেলোর যুদ্ধ হোক আর সে ডেসডিমোনাকে ভোগ করুক। কিন্তু অবিশ্বাসের আগুনে জ্বলতে থাকা ওথেলো ডেসডিমনাকে খুন করে বসে।

Skip to content