
ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।
|| ফোটোগ্রাফ-১৮ ||
এখন গভীর রাত! উল্টোডাঙার মুচিবাজার ও তার পিছনে আরিফ রোড সংলগ্ন অঞ্চল এখন ঘুমে আচ্ছন্ন। আশপাশে মধ্যবিত্ত মানুষের বাস। সন্ধেবেলায় জমজমাট অঞ্চল। হাসি-ঠাট্টা চিৎকৃত হুল্লোড়। টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিকদের টুকরোটাকরা শোনা যায়। নিজেদের মধ্যে যখন কথা বলেন, অত পোশাকি বাদ বিচার থাকে না। চিৎকার করে হেসে হুল্লোড় করে যূথবদ্ধ মধ্যবিত্ত মানুষ বেঁচে থাকেন। সংসারে মান অভিমান হয়। ভুল বোঝাবুঝি ঘটে।
এক সময়ের নিয়মছাড়া বাঁধনহীনভাবে গায়ে গায়ে লেগে গড়ে ওঠা শহুরে বাড়িদের মাঝে পাঁচিলের একচিলতে আব্রু। পাশাপাশি। ঘেঁষাঘেঁষি। জানলার মুখে জানলা। দরজার মুখে দরজা। ঝগড়াঝাঁটি মান-অভিমান এমনকি একান্ত ব্যক্তিগত জীবনের গভীর নিঃশ্বাসও বোধহয় শোনা যায়। বহুদিন এমন হয়েছে। অনেকক্ষণ ল্যাপটপে সিনেমা দেখে বা অনেক কিছু পড়ার পরেও দু চোখের পাতা ভারি হয়ে আসেনি। চেয়ার নিয়ে ধৃতিমান তার ঘরের ঈর্ষা করার মত বড়সড় গরাদওয়ালা জানলার সামনে চাঁদের আলোয় পা ডুবিয়ে বসে থেকেছে। দূরে, বহু দূরে তাকিয়ে দেখেছে। হয়তো কোনও সুউচ্চ ফ্ল্যাটে তখনও আলো জ্বলছে। কারা জেগে আছে সেখানে? এখনও? সুখে না দুঃখে! সেই বহু দূরে থাকা অচেনা অজানা চরিত্রদের মনের মধ্যে গেঁথে গল্প ভাবতে শুরু করেছে এক সময়ের নাট্যকার চিত্রনাট্যকার পরিচালক অধুনা গোয়েন্দা ধৃতিমান চৌধুরী।
কানে হেডফোন গুঁজে আবার চালিয়ে দিল নীলাঞ্জনার স্বীকারোক্তি।
কানে হেডফোন গুঁজে আবার চালিয়ে দিল নীলাঞ্জনার স্বীকারোক্তি।
আরও পড়ুন:

হ্যালো বাবু! পর্ব-১৩৬: অমিতাভ হত্যারহস্য / ১৭

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫৩: বাদুড়

অর্ধ শতাব্দী পর বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০২ : ‘স্বজাতির্দূরতিক্রমা’—জন্মগত স্বভাব কি কখনও বদলায়? পঞ্চতন্ত্রের পাতায় এক অমোঘ রাজনৈতিক সত্যের
এক সপ্তাহের মধ্যেই সেই অনুভূতিহীন যান্ত্রিক ভালোবাসা নিদারুণ অত্যাচার হয়ে উঠল। কোনওক্রমে কয়েকটা মাস একসঙ্গে ছিলাম। মানে তখনও ওই বাড়ি থেকে আমার ব্যাগ নিয়ে পাকাপাকিভাবে বেরিয়ে আসিনি। তবে মাঝে মাঝেই শুটিং শেষে রাতে গ্লফগ্রিনে মার কাছে চলে যেতাম। ও বাড়িতেও আমরা আলাদা থাকতাম। এখানে একটা কথা বলবো। ব্যক্তিগত প্রশ্ন করা উচিত নয়। এবং আমার স্বীকারোক্তিতেও সেটা অপ্রয়োজনীয়। কিন্তু কথাটা বলা দরকার। লেখার সময় এই অংশটা বাদ দিয়ে দেবেন।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯১ : বিপাশা

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬২: যুদ্ধের নৃশংসতা নয়, জনমানসে ঠাঁই পায় শুধু যুদ্ধের মূল উদ্দেশ্য
শ্রেয়া, এখন অফিস-কাছারিতে মেয়েরা অতো সিঁদুর-শাঁখা পরে না। আর আপনার কাজটাতো পুরুষদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। আমার তো খুব এক্সাইটিং লেগেছিল। আপনাকে প্রথম দিন দেখে। তবে আমার ভুল না হলে আপনি অবিবাহিতা! না খুনের তদন্তকারী অফিসারের বিয়ে হওয়া না হওয়ার সঙ্গে, তদন্তের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু আপনি বিবাহিতা নন বলেই হয়ত আমার পরের স্বীকারোক্তি ঠিক বুঝতে পারবেন না। শারীরিক সম্পর্কে একটা প্রচ্ছন্ন পাশবিকতা আছে। পুরুষের ক্ষেত্রে সে পাশবিকতা অনেকটাই ইন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রিত। নারীর জন্য তা অনেকটা মানসিক। মানসিক পরিতৃপ্তির পরেই কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয়ের নিয়ন্ত্রণের শুরু! তাই মনের সাড়া না থাকায় আমাদের সম্পর্কে ক্লেদ জমতে শুরু হল। আমি স্বাবলম্বী! সামাজিকভাবে পরিচিত আর কিছুটা হলেও জনপ্রিয়। তাই সংসার থেকে বেরিয়ে আসতে আমাকে খুব একটা সময় লাগেনি। আরও একটা বিষয় আমার অদ্ভুত লেগেছিল। স্বাভাবিক সম্পর্কে স্বামী বা স্ত্রী পরস্পরকে এড়িয়ে থাকলে, দূরত্ব তৈরি হবার ঠিক আগে একটা তীব্র দাবির পর্যায় থাকে। সেটা স্বামী বা স্ত্রী যেকোনও দিক থেকে হতে পারে। নিম্ন মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্ত জীবনের প্রতিদিনের মান-অভিমান দ্বন্দ্ব বা দূরত্ব—এই দাবি বা আকাঙ্ক্ষায় মিলিয়ে যায়। কিন্তু দু’জনের কারও দিক থেকেই যদি এই দাবি না থাকে, তাহলে সম্পর্কের ডালটা শুকিয়ে ঝরে পড়ে বা কোনও পরকীয়ার ঝোড়ো হাওয়ায় মট করে ভেঙে যায়।
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২৭ : সোনার কেল্লা: ডিটেকশনের ড্রয়িংরুম

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট
শুনতে শুনতে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৯৩৬ সালে লেখা উপন্যাস জীবনের জটিলতার কথা মনে হচ্ছিল ধৃতিমানের। এই উপন্যাস নিয়ে ধৃতিমান ছবি করবে ভেবেছিল। চিত্রনাট্যের প্রথম খসড়া তৈরি ছিল। দুর্ভাগ্য যে কজন প্রযোজকের কাছাকাছি ধৃতিমান পৌঁছতে পেরেছিল তাদের উর্বর মস্তিষ্কে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানব চরিত্রচিত্রণের জটিলতা কোনওভাবেই ঢেউ তোলেনি। এখন এই নিশ্চুপ মাঝরাতে হোয়াটসঅ্যাপে স্বীকারোক্তি শুনতে শুনতে হঠাৎ করেই নীলাঞ্জনা ও অমিতাভকে মানিকবাবুর সৃষ্টি করা চরিত্র নগেন বা শান্তার মতো মনে হচ্ছে।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৯ : আড়ালে আছে আততায়ী
নগেন ও শান্তার যান্ত্রিক সম্পর্কের মধ্যে পাশের বাড়ির বিমল অনুঘটকের কাজ করেছিল। আবার বিমল জানতেই পারেনি তার বোন প্রমিলা পাশের বাড়ির বিবাহিত নগেনের প্রতি অনুরক্ত। আর সেখান থেকেই প্রেম অতৃপ্তি নিয়ে মানবজীবনের জটিলতার আঁকিবুঁকি রচনা করেছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার চালু হল নীলাঞ্জনা স্বীকারোক্তি—আর পরবর্তী অংশ শুনে যেন চমকে উঠল ধৃতিমান!
—অমিতাভের কাছ থেকে চলে আসার ঠিক এক সপ্তাহ পরেই আমার কাছে অচেনা নাম্বার থেকে ফোন। অচেনা নাম্বারে ফোন বড় একটা ধরি না। কিন্তু এই নাম্বার থেকে আগে এসএমএস এসেছিল। সংক্ষিপ্ত কয়েকটি কথা।
‘কথা বলতে চাই। প্রয়োজনটা আমার থেকেও আপনার বেশি। আপনার পারিবারিক সংকটে আমার সঙ্গে কথা বলাটা বোধহয় জরুরি।’ —চলবে।
—অমিতাভের কাছ থেকে চলে আসার ঠিক এক সপ্তাহ পরেই আমার কাছে অচেনা নাম্বার থেকে ফোন। অচেনা নাম্বারে ফোন বড় একটা ধরি না। কিন্তু এই নাম্বার থেকে আগে এসএমএস এসেছিল। সংক্ষিপ্ত কয়েকটি কথা।
‘কথা বলতে চাই। প্রয়োজনটা আমার থেকেও আপনার বেশি। আপনার পারিবারিক সংকটে আমার সঙ্গে কথা বলাটা বোধহয় জরুরি।’ —চলবে।
অমিতাভ হত্যারহস্য পরবর্তী পর্ব প্রকাশিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬।
* জিৎ সত্রাগ্নি (Jeet Satragni) বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি জগতে এক পরিচিত নাম। দূরদর্শন সংবাদপাঠক, ভাষ্যকার, কাহিনিকার, টেলিভিশন ধারাবাহিক, টেলিছবি ও ফিচার ফিল্মের চিত্রনাট্যকার, নাট্যকার। জিৎ রেডিয়ো নাটক এবং মঞ্চনাটক লিখেছেন। ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’ নাটকের রচয়িতা, ‘বুমেরাং’ চলচ্চিত্রের কাহিনিকার। প্রকাশিত হয়েছে ‘জিৎ সত্রাগ্নি’র নাট্য সংকলন’, উপন্যাস ‘দুটি নভেলা’ ,‘পূর্বা আসছে’ ও ‘বসুন্ধরা এবং…(১/২/৩ খণ্ড)’ ও নাটক ‘মেঘে ঢাকা ঘটক’। এখন লিখছেন ‘হ্যালো বাবু’এবং ‘আকাশ এখনও মেঘলা’।


















