শনিবার ৬ জুন, ২০২৬

পর্দার আড়ালে

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৩ : জনঅরণ্য: সরস্বতী না লক্ষ্মী?

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১৩ : জনঅরণ্য: সরস্বতী না লক্ষ্মী?

জনঅরণ্য, দ্য মিডলম্যান। ১৯৭৬ সালের ছবি, বিংশ শতকের সাতের দশকের চিত্রায়ন, মূল কাহিনি মণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায় বা শঙ্করের। লক্ষ্য করার মতো এই যে, জন আর অরণ্যে ব্যাকরণের নিয়ম মেনে সন্ধি হয়নি, তখন বিপুল গণবিস্ফোরণের যে জনারণ্য ভারতে শাখা প্রশাখা মেলছিল আজকের মহীরূহ হওয়ার জন্য, সেই জনারণ্যে আরেকটি জনঅরণ্য গড়ে উঠছিল, শিক্ষিত বেকার মানুষের। এই অসদর্থক অসঙ্গতির রাজ্যে সন্ধি নেই, আছে বৈরী, সংঘর্ষ, কঠিন এক কেজো জগৎ।

read more
পর্ব-৮০: আগরতলায় ফুটবল মাঠে রেফারিও করেছেন শচীনকর্তা

পর্ব-৮০: আগরতলায় ফুটবল মাঠে রেফারিও করেছেন শচীনকর্তা

অভিমান করে নয়, সুরের সাধনাই তাঁকে প্রথমে কলকাতা এবং পরে মুম্বই নিয়ে গিয়েছিল। পিতা পড়ার জন্য নিয়ে গেলেন কলকাতা। সেখানেও সঙ্গীত সাধনা। খোলে গেল এক বিপুল সম্ভাবনার দিগন্ত। বাংলার মন জয়ের পর আকৃষ্ট হল মুম্বই। আরব সাগরের তীরে জীবনের শেষ অধ্যায়ে সাফল্যর শীর্ষে তিনি। ত্রিপুরার রাজপরিবারের কুমার শচীন হয়ে উঠলেন দেশের এসডি বর্মণ।

read more
সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১২ : স্বপ্নের নায়ক, নায়কের স্বপ্ন

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১২ : স্বপ্নের নায়ক, নায়কের স্বপ্ন

এ এক মৃগয়াক্ষেত্র যেন। তবে কি মেঘনাদবধ আসন্ন? প্রমীলাকে অনুসরণ করে, তাড়া করেই যেন অরিন্দম ঘোরলাগা দুষ্যন্তের মতো প্রবেশ করেন এক হল ঘরে। এখন তিনি ব্রজেশ্বর, প্রমীলা যেন দেবী চৌধুরাণী, তাঁকে লুটে নিয়েছে এই অব্যক্ত সম্পর্কের আভাস, তিনি এখন এক ডাকাতের জঙ্গলে যেন।

read more
পর্ব-৭৯: ‘বেতারে দু-খানা গান গাইলাম, পারিশ্রমিক পেলাম দশ টাকা’

পর্ব-৭৯: ‘বেতারে দু-খানা গান গাইলাম, পারিশ্রমিক পেলাম দশ টাকা’

একদিন রেকর্ড বের হল শচীনকর্তার। প্রথম রেকর্ড বের হয় হিন্দুস্থান রেকর্ড কোম্পানি থেকে। এক পিঠে ছিল রাগপ্রধান গান ‘এ পথে আজ এসো প্রিয়া’। রেকর্ডের অপর পিঠে ছিল লোকগীতি ‘ডাকলে কোকিল রোজ বিহানে’। রেকর্ডটি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে।আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি শচীনকর্তাকে।

read more
পর্ব-৭৮: শচীন দেববর্মণ ও ত্রিপুরার রাজপরিবার

পর্ব-৭৮: শচীন দেববর্মণ ও ত্রিপুরার রাজপরিবার

রাজার পর সাধারণত রাজপুত্রই সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হন। কিন্তু মাঝে মাঝে এর ব্যতিক্রমও ঘটে। আর এই ব্যতিক্রমী ঘটনার সূত্রেই একদিন ত্রিপুরা যাকে হারিয়েছিল পরবর্তী সময়ে তিনিই হয়ে উঠেছেন দেশবন্দিত সুরকার।

read more
সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১১ : অরিন্দম কহিলা বিষাদে

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১১ : অরিন্দম কহিলা বিষাদে

অরিন্দম তার প্রগলভতায় বিস্মিত হন, হয়তো খানিক আকৃষ্ট-ও। তবে নায়কসুলভ তথাকথিত দুর্বলতার বিপরীতে তিনি তখন সংযত, ভদ্র, শিষ্ট। স্তব্ধ রাত, একাকী এক নারী ও রূপোলী দুনিয়ার হার্টথ্রব নায়ক, মুচমুচে গল্পের জন্য এর চেয়ে আকর্ষণীয় আর কী হতে পারে? মেয়েটি কি বিবাহিতা? এই প্রশ্নের উত্তরে মেয়েটি ডুকরে কেঁদে ওঠে, বিচলিত অরিন্দম দু’ পা “এগোতেই” মেয়েটি খিলখিলিয়ে হেসে ওঠে।

read more
সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-১০ : নায়ক ও মহাপুরুষ

মহাপুরুষ ছবির শেষদৃশ্যটি মনে করুন। নায়কের ঠিক কীরকম পরিণতি হয়, রাতের অন্ধকারে তাড়া খেয়ে পাশে চতুর্ভুজ পঞ্চানন ‘কেবলানন্দ’ মহাদেবকে নিয়ে শূন্য গলির মোড়ের দিকে চলে যেতে হয়। বিরিঞ্চিবাবাকে নায়ক ভাবুন কিংবা না-ই ভাবুন, অরিন্দম চ্যাটার্জি নায়ক। নায়কের সংজ্ঞা ঠিক কী, সেই নিয়ে মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই।

read more
সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৯ : মণিহারা: করিডর, সেজবাতি আর…

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৯ : মণিহারা: করিডর, সেজবাতি আর…

আজ বাইশে শ্রাবণ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস। রবীন্দ্রজন্ম-শতবর্ষে নির্মিত চলচ্চিত্র “মণিহারা”র কিছু দৃশ্য থাকল আজ। চলচ্চিত্রের দৃশ্যভাষায় বাঙ্ময় হয়ে ওঠা কিছু মুহূর্তের অধিবাস্তবতার নেপথ্যে জেগে থাকা দুর্জ্ঞেয় মনোলোকে আজ যাওয়া যাক। সেই মরজগৎ দেহাতীত অতীন্দ্রিয় অনুভূতির যূথীগন্ধে অশান্ত হয়, সেখানে করুণসুরে বিচ্ছেদের সুর বাজে।

read more
সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৮ : গরুর চোখে জল

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৮ : গরুর চোখে জল

সুকুমার রায় তথ্যচিত্রের একটি দৃশ্যে দেখা যায় এক পণ্ডিতমশাইকে। নেপথ্যে প্রাচ্য বনাম পাশ্চাত্যশিক্ষার দ্বন্দ্ব। হযবরলতেও এই দ্বন্দ্ব আছে। প্রসঙ্গটি বিতর্কিত। এ যেন সুকুমার রায়ের কবিতার সেই “খিলখিল্লির মুল্লুকেতে থাকত নাকি দুই বেড়াল/ একটা শুধােয় আরেকটাকে, “তুই বেড়াল, না মুই বেড়াল?”

read more
সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৭ : পাঠশালা-ক্লাসরুম

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৭ : পাঠশালা-ক্লাসরুম

আজ আমরা শিক্ষাঙ্গনে একটু উঁকি মারি। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, শিক্ষা মানুষ গড়ার একটি মাধ্যম। বিদ্যা আলোকগামী করে। প্রথমে প্রসন্ন গুরুমশায়ের পাঠশালায় ঢোকা যাক। অপুর পাঠশালায় প্রথম দিন। দাঁড়িপাল্লা হাতে গুরুমশাই দোকান সামলাতে সামলাতে কিছু ডিকটেশন দিচ্ছেন। তাঁর দৈনন্দিন দোকানদারি আর পাঠদানের মধ্যে সেতু বেঁধে দেয় নানা উচ্চ অনুচ্চ ধ্বনি, বিক্রিবাটা আর পড়াশোনা দুটোতেই তারা সমান অর্থবহ

read more
সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৬:  জয় বাবা ফেলুনাথ: রুকুর অন্দরমহল

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৬: জয় বাবা ফেলুনাথ: রুকুর অন্দরমহল

রুকু, ভালো নাম রুক্মিণীকুমার ঘোষাল। লাল হাফ প্যান্ট, সঙ্গে চেক চেক ফুলস্লিভ শার্ট। তাকে প্রথম দেখা যাবে ঘোষালবাড়ির ছাদের কার্ণিসে দাঁড়িয়ে বন্দুক তাক করে ফায়ার করতে। এখন সে আমাদের সামনে, মুখে চিউয়িংগাম, ছাদের আধ-খোলা আধা-বন্ধ দরজার একটি আংশিক ভাঙা পাল্লার ফ্রেমের এপারে চিত্রবত্ দাঁড়িয়ে আছে। তার সামনে ফেলু, তোপসে, জটায়ু। কাশীর ঘোষালবাড়ির প্রশস্ত ছাদের একটি অংশে সিঁড়ি ভেঙে নেমে মোড় ঘুরে ক্যাপ্টেন স্পার্কের ঘর, রুকুর অন্দরমহল। এখানে সোজা পথে পৌঁছনো যায় না, বাঁক ঘুরে, সিঁড়ি ভেঙে গভীরে প্রবেশ করতে হয়।

read more
সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৫: সমাপ্তি: শেষ হয়ে হইল না শেষ

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৫: সমাপ্তি: শেষ হয়ে হইল না শেষ

মৃন্ময়ীর বিয়ে হয়ে গিয়েছে। নববধূর বেশে সকলকে লুকিয়ে রাতের বেলায় নদীর তীরে তার প্রমোদভূমিটিতে দোলনায় দুলে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে। সেই রথতলায় স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রথ, রথের কোন্ কোণটিতে পিঞ্জরগত চরকি, বটগাছের শাখা থেকে লম্বমান দোলনা, রাত্রির অপার্থিব মায়া, আলো আঁধারিতে সাজানো রহস্যময়ী ধরিত্রীর বুকে নিদ্রিত মৃন্ময়ীর মধ্যে জেগে থাকা মুক্ত প্রকৃতির ব্যঞ্জনাঘন দৃশ্যকাব্যের পরেও চরকিকে ভুলতে পারবেন না রসজ্ঞ দর্শক। ভুলবেন না রথের অনুষঙ্গটি।

read more
সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৪: রিলেটিভিটি ও বিরিঞ্চিবাবা

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৪: রিলেটিভিটি ও বিরিঞ্চিবাবা

পরশপাথর কিংবা শাখাপ্রশাখার প্রসঙ্গে নৈতিকতার প্রশ্ন উঠল যখন, তখন আরেকটি দৃশ্য দেখা যাক। দেখা যেতে পারতো জন-অরণ্য, দ্য মিডলম্যান, অথবা ঘরেবাইরে কিংবা নির্বাক ছবি ‘টু’, অথবা ‘সদগতি’ কিংবা অন্য কিছু। কিন্তু আজ আমরা বেছে নিলাম ‘মহাপুরুষ’।

read more
সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৩: পরেশের পরশপাথর

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৩: পরেশের পরশপাথর

১৯৫৮ থেকে ১৯৯০ সালের যাত্রাপথ। ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দে মুক্তি পাওয়া পরশপাথরে যে জীবন, দেশ দুনিয়ার কথা, মোহমুক্ত হয়ে জীবনকে জয় করার কথা বলা হচ্ছে ১৯৯০ সালের ছবিতে আসন্ন মুক্ত অর্থনীতির দেশের স্বপ্নে আকাঙ্ক্ষায় আর একটা সহস্রাব্দের শেষ বিন্দুতে পৌঁছে এতদিনের বয়ে চলা, লালিত পালিত বোধ-বুদ্ধি, আদর্শ ও বিশ্বাসের পরিসরে সেই জীবনের জয়গান কি শোনা যাচ্ছে?

read more
সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২: “জনৈক গণশত্রুর জবানবন্দি”

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-২: “জনৈক গণশত্রুর জবানবন্দি”

গণশত্রুর কথা মনে পড়ে? হেনরিক্ ইবসেনের “অ্যান এনিমি অব দ্য পিপল্” অবলম্বনে সত্যজিৎ রায়ের ছবি গণশত্রু। প্রথম ও শেষদৃশ্য। মফঃস্বল শহরের জনৈক চিকিৎসক, অশোক গুপ্ত বুঝতে পেরেছিলেন শহরে জলবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। নামে অশোক, যিনি শোকোত্তীর্ণ, পদবীতে গুপ্ত। তাঁকে চেনা খানিক কঠিন নয় কি?

read more

 

 

Skip to content