
ছবি : প্রতীকী। সংগৃহীত।
পিনাকীবাবু সত্যিই এ-ব্যাপারে স্কিলড্। একটু কসরৎ করতেই খুলে গেল একে-একে দুটি তালাই। সঠিক চাবি কোন দুটি, সেটি ঠিক করতে কিছুটা সময় লেগেছে, এই যা। দ্বিতীয় তালাটি খুলে আত্মপ্রসাদের হাসি হেসে বললেন, “বুঝলেন কি-না, পাঁচ বছরের সাধনা। স্ত্রী চলে গিয়ে এই কাজটিতে আমাকে চ্যাম্পিয়ান করে গিয়েছে আর-কি।” বলে হা-হা করে হাসবার চেষ্টা করলেন। তবে বেশি জোরে শব্দ করা উচিত নয় মনে পড়ায়, থেমেও গেলেন অচিরেই। বাকিরা অবশ্য কেউ হাসলেন না। পিনাকীবাবুর হাসির পিছনে নিহিত অশ্রুজল সকলেরই মনকে দ্রবীভূত করেছিল।
গরাদ খুলে এবার ওরা সকলে একে-একে লোহার সিঁড়ির কাছে এল। সিঁড়িটা উপরের যে গুহামুখের কাছে শেষ হয়েছে, সেখান দিয়ে সবুজ গাছপালার অংশ চোখে পড়ছিল। পিনাকীবাবু বললেন, “আমি আগে যাচ্ছি। কারণ, বাইরে বেরিয়ে ঠিক কোন্ জায়গায় পৌঁছাব, এটা আপনারা কেউ বুঝতে না-ও পারেন। আমি লোকাল, আমি বুঝতে পারব ঠিক। অন্তত আন্দাজ করতে পারব।”
শাক্য বলল, “সেটা ঠিক। কিন্তু আগে যাওয়ার বিপদ অনেক। সেটা জানেন?”
“বিপদ! এই দিনের বেলায় আবার কীসের বিপদ?” পিনাকীবাবু আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন।
“দেখুন, যারা এই গুহার ভিতর এতকিছু কাণ্ডকসরৎ করে রেখেছে, তারা এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা একেবারে অরক্ষিত ফেলে যাবে, এটা মনে হয় না। এটা ঠিক, গুহার ট্যানেলে সহজে কেউ প্রবেশ করবে না। কারণ, কালাদেও সেখানে বাস করেন, সেই মিথ বেশ ভালভাবে অনেক-অনেক বছর ধরে চারিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া আমরাও দেখলাম, প্রায় চল্লিশ-পঞ্চাশ মিনিট হাঁটার পর তারপরে ওদের ওই কক্ষে পৌঁছনো গিয়েছিল। বেরিয়ে আসতেও লাগল প্রায় পঁচিশ মিনিট। অতএব সামনের দিক দিয়ে কেউ ওদের ওই কক্ষ খুঁজে পাবে কিংবা অতদূর আসবার সাহস দেখাবে, এমন মনে হয় না,। কিন্তু পিছনের এই পথের কথা আলাদা। গুহামুখের কাছে পৌঁছে যদি কৌতূহলী কেউ উঁকি মারে, তাহলে সহজেই সে লোহার সিঁড়ি দেখতে পাবে। আর পেলে নিশ্চয়ই ভিতরে ঢুকতে পারুক বা না পারুক একবার হলেও নেমে দেখবার চেষ্টা করবে। আর তারপর সে যদি দেখে এখানে এইরকম লোহার গেট, তাতে আবার তালা ঝুলছে, তাহলে সে-কথা ভাইরাল হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। যারা এখানে এতবড় অস্ত্রভান্ডার গড়ে কারবার চালাচ্ছে, তারা এত বড় ব্লাণ্ডার করবে, এটা বিশ্বাস হচ্ছে না !”
“আপনি কি বলতে চান, কয়েকশো বছর ধরে এই ব্যবসা চলছে? সেটা কোয়াইট ইমপসিবল না?” কর্নেল সংশয় প্রকাশ করে বললেন।
গরাদ খুলে এবার ওরা সকলে একে-একে লোহার সিঁড়ির কাছে এল। সিঁড়িটা উপরের যে গুহামুখের কাছে শেষ হয়েছে, সেখান দিয়ে সবুজ গাছপালার অংশ চোখে পড়ছিল। পিনাকীবাবু বললেন, “আমি আগে যাচ্ছি। কারণ, বাইরে বেরিয়ে ঠিক কোন্ জায়গায় পৌঁছাব, এটা আপনারা কেউ বুঝতে না-ও পারেন। আমি লোকাল, আমি বুঝতে পারব ঠিক। অন্তত আন্দাজ করতে পারব।”
শাক্য বলল, “সেটা ঠিক। কিন্তু আগে যাওয়ার বিপদ অনেক। সেটা জানেন?”
“বিপদ! এই দিনের বেলায় আবার কীসের বিপদ?” পিনাকীবাবু আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন।
“দেখুন, যারা এই গুহার ভিতর এতকিছু কাণ্ডকসরৎ করে রেখেছে, তারা এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা একেবারে অরক্ষিত ফেলে যাবে, এটা মনে হয় না। এটা ঠিক, গুহার ট্যানেলে সহজে কেউ প্রবেশ করবে না। কারণ, কালাদেও সেখানে বাস করেন, সেই মিথ বেশ ভালভাবে অনেক-অনেক বছর ধরে চারিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া আমরাও দেখলাম, প্রায় চল্লিশ-পঞ্চাশ মিনিট হাঁটার পর তারপরে ওদের ওই কক্ষে পৌঁছনো গিয়েছিল। বেরিয়ে আসতেও লাগল প্রায় পঁচিশ মিনিট। অতএব সামনের দিক দিয়ে কেউ ওদের ওই কক্ষ খুঁজে পাবে কিংবা অতদূর আসবার সাহস দেখাবে, এমন মনে হয় না,। কিন্তু পিছনের এই পথের কথা আলাদা। গুহামুখের কাছে পৌঁছে যদি কৌতূহলী কেউ উঁকি মারে, তাহলে সহজেই সে লোহার সিঁড়ি দেখতে পাবে। আর পেলে নিশ্চয়ই ভিতরে ঢুকতে পারুক বা না পারুক একবার হলেও নেমে দেখবার চেষ্টা করবে। আর তারপর সে যদি দেখে এখানে এইরকম লোহার গেট, তাতে আবার তালা ঝুলছে, তাহলে সে-কথা ভাইরাল হতে খুব বেশি সময় লাগবে না। যারা এখানে এতবড় অস্ত্রভান্ডার গড়ে কারবার চালাচ্ছে, তারা এত বড় ব্লাণ্ডার করবে, এটা বিশ্বাস হচ্ছে না !”
“আপনি কি বলতে চান, কয়েকশো বছর ধরে এই ব্যবসা চলছে? সেটা কোয়াইট ইমপসিবল না?” কর্নেল সংশয় প্রকাশ করে বললেন।
শাক্য হাসল। বলল, “না, আমি ওটা মিন করতে চাইনি। এই ট্যানেল প্রাকৃতিক কারণে আগে থেকেই ছিল। হয়ত পুরোহিত এবং আরও কেউ-কেউ সে-কথা জানত এবং ব্যবহৃতও হতো। পাছে এই পথের কথা আর কেউ জেনে ফেলে, সেকারণেই কালাদেওর মিথ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল সুকৌশলে। আমি এই কালাদেওর যে ইতিহাস লোকাল নিউজ পেপারে বেরিয়েছিল, তা পড়েছি। সেখানকার বক্তব্য যদি সত্য হয়, তাহলে কালাদেওর বাৎসরিক পূজার দিনে যে পাঁঠা, মুরগি ইত্যাদি জ্যান্ত উৎসর্গ করে চলে আসা হয় এবং সকালে এসে দেখা যায়, সেগুলি অদৃশ্য হয়েছে, অনুমান করা যেতেই পারে, এবং আমার তো মনে হয় অনুমান সঙ্গত যে, পুরোহিত এই পথে পরে এসে সেগুলি নিয়ে হয়ত আজ যেখানে অস্ত্রভান্ডার সেখানেই স্ট্যাগ করে রাখত। পরে সুবিধামতো তার ব্যবস্থা করত। এগুলি অস্বাভাবিক নয়।
প্রাচীন মিশরে, গ্রিসে অনেকজায়গাতেই এইজাতীয় গুপ্তপথ থাকত মন্দিরে। সেখানে শত্রু-আক্রমণ হলে ওই পথেই যাতে বিগ্রহ, ধনসম্পদ ইত্যাদি নিরাপদে সরিয়ে ফেলা যায়, তার জন্যই এই পথ ব্যবহার করা হতো। আপনারা হয়ত শুনেছেন, কেদারনাথ থেকে বদ্রীনাথ যাওয়ার প্রাচীন, পুরাণে উল্লিখিত কোন পথ ছিল, যে-পথে একজন পুরীহিত প্রতিদিন কেদারনাথে পূজা দিয়ে বদ্রীনাথে পূজা দিতে যেতেন। অথচ কেদারনাথ থেকে বদ্রিনাথের এখনকার দূরত্ব হচ্ছে প্রায় ২১০ থেকে ২৪০ কিলোমিটার। কোন একজন স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে এটা প্রায় অসম্ভব ছিল সেকালে। তাহলে হয়, এটা গালগপ্পো, নয়তো সত্যি। আমার মনে হয় দ্বিতীয়টিই ঠিক। উভয়স্থানের মধ্যে সংযোগকারী এইরকম কোন একটি ট্যানেল ছিল, যে-পথে অত দূরত্ব অতিক্রম করতে হত না। অতি কম সময়েই সেই পথে দুটি মন্দিরে পুজো দিতে যেতেন পুরোহিত। তবে হিমালয়ে তো নানা ধরণের প্রাকৃতিক বিপর্যয়, ধ্বস ইত্যাদি লেগেই আছে, সেকালেও থাকত। সেইরকম কোন ধ্বসে প্রাচীন সেই পথটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যাই হোক, অনেক জ্ঞান দেওয়া হয়ে যাচ্ছে।
প্রাচীন মিশরে, গ্রিসে অনেকজায়গাতেই এইজাতীয় গুপ্তপথ থাকত মন্দিরে। সেখানে শত্রু-আক্রমণ হলে ওই পথেই যাতে বিগ্রহ, ধনসম্পদ ইত্যাদি নিরাপদে সরিয়ে ফেলা যায়, তার জন্যই এই পথ ব্যবহার করা হতো। আপনারা হয়ত শুনেছেন, কেদারনাথ থেকে বদ্রীনাথ যাওয়ার প্রাচীন, পুরাণে উল্লিখিত কোন পথ ছিল, যে-পথে একজন পুরীহিত প্রতিদিন কেদারনাথে পূজা দিয়ে বদ্রীনাথে পূজা দিতে যেতেন। অথচ কেদারনাথ থেকে বদ্রিনাথের এখনকার দূরত্ব হচ্ছে প্রায় ২১০ থেকে ২৪০ কিলোমিটার। কোন একজন স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে এটা প্রায় অসম্ভব ছিল সেকালে। তাহলে হয়, এটা গালগপ্পো, নয়তো সত্যি। আমার মনে হয় দ্বিতীয়টিই ঠিক। উভয়স্থানের মধ্যে সংযোগকারী এইরকম কোন একটি ট্যানেল ছিল, যে-পথে অত দূরত্ব অতিক্রম করতে হত না। অতি কম সময়েই সেই পথে দুটি মন্দিরে পুজো দিতে যেতেন পুরোহিত। তবে হিমালয়ে তো নানা ধরণের প্রাকৃতিক বিপর্যয়, ধ্বস ইত্যাদি লেগেই আছে, সেকালেও থাকত। সেইরকম কোন ধ্বসে প্রাচীন সেই পথটি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। যাই হোক, অনেক জ্ঞান দেওয়া হয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১৬৮ : পথের শেষ কোথায়?

হয়তো আগামী ছবির নাম রাখতেন ‘হাওয়া-মোরগ’

অর্ধ শতাব্দী পর বঙ্গে ডাবল ইঞ্জিন

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১৬১: আধুনিক ক্ষমতাদখলের লড়াই ও রাজসূয়যজ্ঞের প্রেক্ষিতে যুদ্ধজয় ও অধিকারপ্রতিষ্ঠার মধ্যে সাযুজ্য কোথায়?
সংক্ষেপে বলি, এইখানে অস্ত্রকারবার হয়ত সত্তরের পলিটিক্যাল টালমাটাল সময়ের পর থেকে শুরু হয়েছে। শুনেছি, একদল বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী ইয়্যুনিভার্সিটির ঝকঝকে তরুণের দল এখানে দীর্ঘদিন আত্মগোপন করে অপারেশন চালাচ্ছিল আসেপাশের গ্রামে-গঞ্জে। আমার মনে হয় তারাই প্রথম পুরোহিত-সম্প্রদায়ের বাইরে এই গোপন পথ আবিষ্কার করে, পুরোঘিতদের কেউ তাদের মতাদর্শে প্রভাবিত হয়েও দেখিয়ে দিতে পারেন, যাই ঘটুক না কেন, সেই সময় থেকেই এই গুহাকক্ষ একদল মানুষের কাছে নিশ্চিত শেল্টারে পরিণত হয়। তারই ফলশ্রুতি এই অস্ত্রভান্ডার। এখন ব্যবসার জন্য নাকি দেশে নাশকতা ছড়ানোর জন্য এগুলি জড়ো করা হয়েছে, তা আমাদের পুলিশবিভাগ নিশ্চয়ই তদন্ত করে দেখবে। কিন্তু দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি নিশ্চিতভাবে এনআইএ-র হাতে তদন্তভার দেওয়ার দাবি তুলবেন। সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় তাঁদের হাতেই তদন্তভার তুলে দেওয়া উচিত!” অনেকক্ষণ বলে শাক্য একটু দম নিল, তারপর বলল, “যাই হোক, আমাদের খুব সাবধানে গুহার বাইরে পা রাখতে হবে এখন!”
“কেন ?” ডিএম বললেন, “আপনার কী মনে হচ্ছে ওরা বাইরে অপেক্ষা করছে?”
“না না, ওরা বাইরে থাকলে, সকলে মিলে আমাদের স্বাগত জানানোর জন্য এতক্ষণ অপেক্ষা করত না, তার আগেই আমরা ওই গুহাকক্ষে ঢোকার মুখেই ওরা ওয়েপেন নিয়ে আমাদের অ্যাটাক্ করত। আর তা করলে ওরা কিন্তু অ্যাডভান্টেজ পেয়ে যেত। কারণ, ওদের দিকে মুভ করার কিংবা পজিশন নেওয়ার স্পেস ছিল। আমাদের দিকে ছিল না,। সেক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে ইনজিয়রড্দের সংখাই বাড়ত কেবল!”
“সে বুঝলাম। এখন কি ওরা সকলে না হলেও কেউ-কেউ বাইরে অপেক্ষা করছে?”
“কেউ-কেউ না হলেও কোন পাহারাদার কিংবা নজরদার যাই বলুন, নিশ্চয়ই বাইরে আছে। আর সে যে নিরস্ত্র, সেটাও জোর দিয়ে বলতে পারছি না। কিন্তু একতা ব্যাপারে আমি নিশ্চিত যে, বাইরে কেউ-না-কেউ নজর রাখছে। আমরা বাইরে বেরুলেই ওরা বুঝে যাবে যে, আমরা ওদের গোপন ভান্ডারের হদিশ পেয়ে গিয়েছি। আর কে-ই বা চাইবে বলুন তো, কোটি-কোটি টাকার কারবার এইভাবে ধূলিস্যাৎ হয়ে যেতে দিতে?” শাক্য বলল।
এসপি বললেন, “আমি এক্ষুনি ফোর্সকে এদিকে আসতে বলছি। তাহলে ওরা সংখ্যা দু’জন হোক বা তিন, সমস্যা হবে না !”
“কিন্তু আসতে বলবেন কোথায়? এই গুহামুখ আপনাকে কোথায় এনে ফেলবে আপনি গেস করতে পারছেন এখন থেকে? আপনি তো এক্স্যাক্ট লোকেশনটাই জানেন না। পিনাকীবাবু আগে বাইরে গেলে একটা সুবিধা হতো, তিনি দেখে অন্তত আন্দাজ করতে পারতেন। কিন্তু আমাদের নিজেদের সুবিধার জন্য পিনাকীবাবুর মতো মানুষের প্রাণকে আমরা বাজিতে লাগাতে পারি না। সেই জন্যই আমি নিজে যেতে চাইছি। আসুন।” বলে শাক্য এগিয়ে যেতেই এসপি পিছন থেকে তাকে ডাকলেন।
এসপি বললেন, “দাঁড়ান। আমাদের এখানে ফোর্স থাকতে আপনি আগে কেন যাবেন? সেটা হবে আমাদের এই জেলার পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ব্যর্থতা। অভিজিৎ, এখানে আসুন, আপনি যান আগে…!” বলে সঙ্গে থাকা পুলিশ অফিসারটিকে ডাকলেন।
“কেন ?” ডিএম বললেন, “আপনার কী মনে হচ্ছে ওরা বাইরে অপেক্ষা করছে?”
“না না, ওরা বাইরে থাকলে, সকলে মিলে আমাদের স্বাগত জানানোর জন্য এতক্ষণ অপেক্ষা করত না, তার আগেই আমরা ওই গুহাকক্ষে ঢোকার মুখেই ওরা ওয়েপেন নিয়ে আমাদের অ্যাটাক্ করত। আর তা করলে ওরা কিন্তু অ্যাডভান্টেজ পেয়ে যেত। কারণ, ওদের দিকে মুভ করার কিংবা পজিশন নেওয়ার স্পেস ছিল। আমাদের দিকে ছিল না,। সেক্ষেত্রে আমাদের মধ্যে ইনজিয়রড্দের সংখাই বাড়ত কেবল!”
“সে বুঝলাম। এখন কি ওরা সকলে না হলেও কেউ-কেউ বাইরে অপেক্ষা করছে?”
“কেউ-কেউ না হলেও কোন পাহারাদার কিংবা নজরদার যাই বলুন, নিশ্চয়ই বাইরে আছে। আর সে যে নিরস্ত্র, সেটাও জোর দিয়ে বলতে পারছি না। কিন্তু একতা ব্যাপারে আমি নিশ্চিত যে, বাইরে কেউ-না-কেউ নজর রাখছে। আমরা বাইরে বেরুলেই ওরা বুঝে যাবে যে, আমরা ওদের গোপন ভান্ডারের হদিশ পেয়ে গিয়েছি। আর কে-ই বা চাইবে বলুন তো, কোটি-কোটি টাকার কারবার এইভাবে ধূলিস্যাৎ হয়ে যেতে দিতে?” শাক্য বলল।
এসপি বললেন, “আমি এক্ষুনি ফোর্সকে এদিকে আসতে বলছি। তাহলে ওরা সংখ্যা দু’জন হোক বা তিন, সমস্যা হবে না !”
“কিন্তু আসতে বলবেন কোথায়? এই গুহামুখ আপনাকে কোথায় এনে ফেলবে আপনি গেস করতে পারছেন এখন থেকে? আপনি তো এক্স্যাক্ট লোকেশনটাই জানেন না। পিনাকীবাবু আগে বাইরে গেলে একটা সুবিধা হতো, তিনি দেখে অন্তত আন্দাজ করতে পারতেন। কিন্তু আমাদের নিজেদের সুবিধার জন্য পিনাকীবাবুর মতো মানুষের প্রাণকে আমরা বাজিতে লাগাতে পারি না। সেই জন্যই আমি নিজে যেতে চাইছি। আসুন।” বলে শাক্য এগিয়ে যেতেই এসপি পিছন থেকে তাকে ডাকলেন।
এসপি বললেন, “দাঁড়ান। আমাদের এখানে ফোর্স থাকতে আপনি আগে কেন যাবেন? সেটা হবে আমাদের এই জেলার পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ব্যর্থতা। অভিজিৎ, এখানে আসুন, আপনি যান আগে…!” বলে সঙ্গে থাকা পুলিশ অফিসারটিকে ডাকলেন।
আরও পড়ুন:

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-৯০ : দুই ভাই

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১৫১: ইরাবতী ডলফিন
শাক্য মনে-মনে আবার আহত হল। এসপি এমন করছেন যেন, অভিজিৎ এই অভিযানে মারা গেলেই ভালো, তাতে বীরত্বের গৌরবের মেডেল জেলাপুলিশের গলায় ঝুলবে। মানুষের প্রাণ, তা তিনি যে-স্তরেরই হোন না কেন, সবসময়েই মূল্যবান, সেখানে ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নিচু, অফিসার-কেরানির মধ্যে কোন তফাৎ নেই। কিছু-কিছু মানুষ যে কেন সেটা বুঝেও তাকে অস্বীকার করার চেষ্টা করেন কে জানে!
শাক্য কিন্তু অভিজিৎকে আটকাল। এসপিকে বেশ কড়া ভাষাতেই বলল, “আমিই আগে যাব। কারণ, আগে গেলে ঠিক কী হতে পারে, কী পারে না, তার কোন ধারণা আপনাদের কারওই নেই। থাকলে অনেক আগেই এই এতবড় কর্মকাণ্ডের কথা আপনাদের গোচরে আসত। জেলার আইবি বিভাগের ব্যর্থতার দায় কিন্তু আপনার ডিপার্টমেন্ট এড়াতে পারে না। আপনি ভুলে যাবেন না, এখানে আমি শুধু তদন্তের জন্যই আসিনি, এসেছি জেলার পুলিশিব্যবস্থা সম্পর্কে একটা রিপোর্ট দিতে। সেখানে কিন্তু আমি উল্লেখ করতে বাধ্য হব, আপনাদের গা-ছাড়া মনোভাবের জন্যই এতবড় কাজকারবার এখানে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলতে পেরেছে। সেখানে অভিজিৎবাবুর নাম যদি থাকে, আপনারও থাকবে এবং সবার আগেই থাকবে। অতএব আমার নির্সেশমতো চলুন এবং আমাকে আমার কাজ করতে দিন।”
শাক্য কিন্তু অভিজিৎকে আটকাল। এসপিকে বেশ কড়া ভাষাতেই বলল, “আমিই আগে যাব। কারণ, আগে গেলে ঠিক কী হতে পারে, কী পারে না, তার কোন ধারণা আপনাদের কারওই নেই। থাকলে অনেক আগেই এই এতবড় কর্মকাণ্ডের কথা আপনাদের গোচরে আসত। জেলার আইবি বিভাগের ব্যর্থতার দায় কিন্তু আপনার ডিপার্টমেন্ট এড়াতে পারে না। আপনি ভুলে যাবেন না, এখানে আমি শুধু তদন্তের জন্যই আসিনি, এসেছি জেলার পুলিশিব্যবস্থা সম্পর্কে একটা রিপোর্ট দিতে। সেখানে কিন্তু আমি উল্লেখ করতে বাধ্য হব, আপনাদের গা-ছাড়া মনোভাবের জন্যই এতবড় কাজকারবার এখানে প্রশাসনের নাকের ডগায় চলতে পেরেছে। সেখানে অভিজিৎবাবুর নাম যদি থাকে, আপনারও থাকবে এবং সবার আগেই থাকবে। অতএব আমার নির্সেশমতো চলুন এবং আমাকে আমার কাজ করতে দিন।”
আরও পড়ুন:

গল্পবৃক্ষ, পর্ব-৫৮: শ্যালক-জাতক—অচিনপাখি

রবীন্দ্র জয়ন্তী: তথ্যচিত্র— রবীন্দ্রনাথ, সভ্যতার সঙ্কট
শাক্যর কথা শুনে এসপির মুখ তুম্বো আকার ধারণ করল। ডিএম শাক্যর সেন্টিমেন্টটা বুঝতে পারছিলেন। তিনি এসপিকে বললেন, “ভার্গব, মিঃ সিংহ যেমন চাইছেন, তেমনটাই করতে দিন। উনি ঠিক সামলে নিতে পারবেন। সত্যিই তো, আমারও ব্যর্থতা, নেই-নেই করে কিছু মাস তো হয়ে গেল, আমিও তো কোনদিন পিশাচপাহাড় নিয়ে তেমন কোন ভাবনাচিন্তা করেছি বলে মনে হয় না। শান্ত এলাকা, গঞ্জ মতো। লোকাল দেবতা কালাদেওর মন্দির বা থান যাই বলুন আছে, এটুকুই ভেবে এসেছি। কিন্তু তার আড়ালে যে এতকিছু চলছে তা যদি ঘূণাক্ষরেও সন্দেহ করতাম আগে! আমারই আফসোস হচ্ছে এখন। আপনি আগে যান মিঃ সিংহ!”
শাক্য বলল, “আমি বাইরে বেরিয়ে আপনাদের সিগন্যাল দেব, তারপর আপনারা বেরওবেন। সবাই একসঙ্গে বিপদে না পড়লেই হল। যদিও আমার আশঙ্কা সত্যি না হলেই খুশি হবো!”
শাক্য আর কথা না বাড়িয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে লাগল। গুহামুখের কাছে এসে সে সঙ্গে-সঙ্গে মাথা গলিয়ে দিল না। সন্তর্পণে উঁকি মেরে দেখল, গুহামুখের দু’দিকে বড়-বড় পাথরের চাঁই, কেবল একদিক খোলা। চাঁইগুলি প্রাকৃতিক কারণেই আছে, না কি এনে রাখা হয়েছে, তা বোঝা যাচ্ছে না। একদিকের পথ খোলা। যদিও সেখানে হালকা ঝোপঝাড় রয়েছে। শাক্য মনে-মনে ভাবল, খুব স্বাভাবিক। গুহামুখের সামনে ঝোপঝাড় না বাড়তে দিলে যে-কেউ খুব সহজেই এই পথের হদিশ পেয়ে যেতে পারে। সে আস্তে-আস্তে বাইরে বেরিয়ে এল এবার। তবে দাঁড়িয়ে পড়ল না। হামাগুড়ি দিয়ে ঝোপের কাছে এল। তারপর উঁকি মারল বাইরের দিকে।
শাক্য বলল, “আমি বাইরে বেরিয়ে আপনাদের সিগন্যাল দেব, তারপর আপনারা বেরওবেন। সবাই একসঙ্গে বিপদে না পড়লেই হল। যদিও আমার আশঙ্কা সত্যি না হলেই খুশি হবো!”
শাক্য আর কথা না বাড়িয়ে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে লাগল। গুহামুখের কাছে এসে সে সঙ্গে-সঙ্গে মাথা গলিয়ে দিল না। সন্তর্পণে উঁকি মেরে দেখল, গুহামুখের দু’দিকে বড়-বড় পাথরের চাঁই, কেবল একদিক খোলা। চাঁইগুলি প্রাকৃতিক কারণেই আছে, না কি এনে রাখা হয়েছে, তা বোঝা যাচ্ছে না। একদিকের পথ খোলা। যদিও সেখানে হালকা ঝোপঝাড় রয়েছে। শাক্য মনে-মনে ভাবল, খুব স্বাভাবিক। গুহামুখের সামনে ঝোপঝাড় না বাড়তে দিলে যে-কেউ খুব সহজেই এই পথের হদিশ পেয়ে যেতে পারে। সে আস্তে-আস্তে বাইরে বেরিয়ে এল এবার। তবে দাঁড়িয়ে পড়ল না। হামাগুড়ি দিয়ে ঝোপের কাছে এল। তারপর উঁকি মারল বাইরের দিকে।
আরও পড়ুন:

দেওয়াল পারের দেশ, পর্ব-২৯ : নয়া ভুবনের প্রজাপতি

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-১০১ : সত্য সামনে দাঁড়িয়ে হাসে, আর মূর্খ অন্যের ব্যাখ্যায় তাকে খোঁজে!
কিছুটা ফাঁকা জায়গা, বিক্ষিপ্ত ঝোপঝাড় লতা, তার মধ্যে সরু পায়ে চলা একটা পথ কিছু দূরের জঙ্গলের মধ্যে হারিয়ে গেছে। একটি বিরাট বড় সেগুন গাছ ডালপালা নিয়ে গুহামুখের ডানদিকে বেড়ে উঠেছে, এই গাছটির ডালপালা পাতাই চোখে পড়ছিল গুহার ভিতর থেকে। জায়গাটা ছায়াছায়া শীতল করে রেখেছে এই গাছটি। চারদিকে কেউ কোথাও নেই। পাখি ডাকছে। সূর্য আস্তে-আস্তে তার নিজের রূপ ধারণ করছে। বাতাসে গরম ভাব বাড়ছে। সে গুহামুখে ফিরে বাকিদের উঠে আসতে বলবে, এমনসময় চোখে পড়ল, খানিক দূরে যেখানে জঙ্গল শুরু হয়েছে, তার একটি গাছের আড়াল থেকে লাল গামছা বা ওড়নার মতো কিছু হাওয়ায় উড়ে বাইরে আসতেই একটা হাত সতর্কভাবে তাকে টেনে নিল। মুহূর্তে শাক্য সতর্ক হয়ে গেল। তাহলে সে যা ভেবেছিল তাই হল। ওরা নজরদার না-পাঠিয়ে পারেনি। যদিও তারা জানে, আজ পুলিশফোর্স এখানে উপস্থিত, স্বয়ং জেলার পুলিশ সুপার, ডিএম—এঁরাও আছেন, তারপরেও নজরদার না পাঠিয়ে যে পারেনি, এতেই বোঝা যাচ্ছে, স্থানটি সম্পর্কে তারা কত পজেসিভ। কোটি-কোটি টাকার ব্যবসা এত সহজে কেউ ছাড়তে চায়?
শাক্য পকেট থেকে রিভলভার বার করে আস্তে আস্তে এগিয়ে যেতেই হঠাৎ উল্টোদিক থেকে একটা বুলেট তীব্রগতিতে ছুটে এসে প্রায় কানের কাছ ঘেঁষে টিলাপাথরে লেগে আওয়াজ তুলল। শাক্য আর দেরি করল না। সে-ও পাল্টা গুলি চালাল। লোকটির পিস্তলধরা হাত টার্গেট করেই সে গুলিটা চালাল। ট্রেনিং-এর সময় নিখুঁত লক্ষ্যে গুলি চালানোর ব্যাপারে তার নামডাক ছিল। এবারেও ব্যর্থ হল না। একটা চিৎকার। তারপরেই লোকটির হাত থেকে পিস্তল খসে পড়ল। লোকটি আহত হয়েছে। শাক্য সেদিকে দৌড়ে গেল। —চলবে।
শাক্য পকেট থেকে রিভলভার বার করে আস্তে আস্তে এগিয়ে যেতেই হঠাৎ উল্টোদিক থেকে একটা বুলেট তীব্রগতিতে ছুটে এসে প্রায় কানের কাছ ঘেঁষে টিলাপাথরে লেগে আওয়াজ তুলল। শাক্য আর দেরি করল না। সে-ও পাল্টা গুলি চালাল। লোকটির পিস্তলধরা হাত টার্গেট করেই সে গুলিটা চালাল। ট্রেনিং-এর সময় নিখুঁত লক্ষ্যে গুলি চালানোর ব্যাপারে তার নামডাক ছিল। এবারেও ব্যর্থ হল না। একটা চিৎকার। তারপরেই লোকটির হাত থেকে পিস্তল খসে পড়ল। লোকটি আহত হয়েছে। শাক্য সেদিকে দৌড়ে গেল। —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।


















