
আর্য প্রাণপণে দৌড়াতে চাইছিল করিডোর ধরে। কিন্তু তার শরীর অসাড় হয়ে আসছে ভয়ে। মনের মধ্যে তোলপাড় চলছিল। মনে হচ্ছিল সে যদি দৌড়ানো থামিয়ে দেয়, তাহলে তার উপর রহস্যময় সেই আগন্তুকের মরণ-ছোবল নেমে আসবে তার উপর। রিসর্টটা বিশাল বড় নয়, ফলে তার আর করিডোর কত বড় হবে? কিন্তু শিথিল পদক্ষেপে শরীরটাকে হিঁচড়ে-হিঁচড়ে টেনে নিয়ে যেতে গিয়ে আর্যর মনে হচ্ছিল, এই করিডোর সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা করিডোর। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার, যখন আর্য দরজা খুলেছিল, তখন করিডোরের সবক’টি আলো জ্বলছিল না। কারণ জ্বললে আগন্তুকের মুখ স্পষ্ট দেখতে পেত সে। কিন্তু তা সে পায়নি। কেমন একটা ফ্যাকাশে আলো যেন করিডোর জুড়ে খেলে বেড়াচ্ছিল। হয়তো একটি-দুটি আলো জ্বলছিল। তা যদি হয় তাহলে বলতে হবে, লোডশেডিং ছিল না। কেউ ইচ্ছে করেই আলোগুলি বন্ধ রেখেছিল, যেমন তার রুমের আলো যাতে না-জ্বলে, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু কে? কেন সে এইরকম করছে? তাহলে কি নেক্সট টার্গেট সে?
আর্যর লাগাতার চিৎকারে করিডোরের দু’পাশের রুমগুলি থেকে বেরিয়ে এসেছে ততক্ষণে অরণ্য, তৃধা, অঞ্জন, পূষণ, রিমিতা। আর্যর ততক্ষণে একজায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ে চিৎকার করে চলেছে ভাঙা গলায়। রিসর্টের নিচের লবিতেও আলো জ্বলে উঠেছিল। কারা যেন উঠে আসছিল সতর্ক পায়ে সিঁড়ি বেয়ে।
আর্যর খেয়াল ছিল না যে, সে সম্পূর্ণ উলঙ্গ। অরণ্যই সেটা খেয়াল করে ভিতর থেকে তার একখানি টাওয়েল এনে আর্যের কোমরে জড়িয়ে দিয়ে তাকে চেপে ধরে ঝাঁকাতে লাগল, “আর্য, আর্য, কুল, কুল। মাথা ঠান্ডা কর। কোনও ভয় নেই। আমরা সকলে আছি তো!”
অঞ্জন এগিয়ে এসেছিল, সে একখানি শার্ট নিয়ে এসে আর্যকে পরিয়ে দিল। আর্যর রুগ্ন শরীরে অঞ্জনের সাইজের শার্টটি ঢলঢল করতে লাগল।
আর্যর লাগাতার চিৎকারে করিডোরের দু’পাশের রুমগুলি থেকে বেরিয়ে এসেছে ততক্ষণে অরণ্য, তৃধা, অঞ্জন, পূষণ, রিমিতা। আর্যর ততক্ষণে একজায়গায় দাঁড়িয়ে পড়ে চিৎকার করে চলেছে ভাঙা গলায়। রিসর্টের নিচের লবিতেও আলো জ্বলে উঠেছিল। কারা যেন উঠে আসছিল সতর্ক পায়ে সিঁড়ি বেয়ে।
আর্যর খেয়াল ছিল না যে, সে সম্পূর্ণ উলঙ্গ। অরণ্যই সেটা খেয়াল করে ভিতর থেকে তার একখানি টাওয়েল এনে আর্যের কোমরে জড়িয়ে দিয়ে তাকে চেপে ধরে ঝাঁকাতে লাগল, “আর্য, আর্য, কুল, কুল। মাথা ঠান্ডা কর। কোনও ভয় নেই। আমরা সকলে আছি তো!”
অঞ্জন এগিয়ে এসেছিল, সে একখানি শার্ট নিয়ে এসে আর্যকে পরিয়ে দিল। আর্যর রুগ্ন শরীরে অঞ্জনের সাইজের শার্টটি ঢলঢল করতে লাগল।
পূষণের সঙ্গে অবস্থার ফেরে এই ক-দিনে সামান্যই আলাপ হয়েছে দলটির। কিন্তু এই অবস্থায় সে এগিয়ে না-এসে পারল না। অরণ্যকে বলল, “অরণ্যবাবু তো? আপনি ওঁকে ওঁর রুমে নিয়ে যান। আগে চোখেমুখে জল দিন। উনি উত্তেজিত হয়ে আছেন। স্বপ্নটপ্ন দেখেছেন বোধহয়। কিন্তু আগে ওঁকে শান্ত করা দরকার। যান!”
পূষণের কথা শুনে আর্য প্রথমে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখল তাকে। তারপর আস্তে-আস্তে কেমন টেনে-টেনে বলল, “স্বপ্ন ! না-না, স্বপ্ন নয়। স্বপ্ন নয়। সে এসেছিল। এসেছিল সে। দরজার সামনে দাঁড়িয়েছিল। আমি দরজা খুলতেই সে আমার উপর… না না, আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেনি। আমি তাকে দেখেই চেঁচিয়ে উঠেছিলাম, তারপরেই সে অন্ধকারে হুশ করে মিলিয়ে গেল। ভূত, ভূত, কালাদেও ! আমাকে মারতে এসেছিল। আমাকে বাঁচাও তোমরা!”
এমনসময় উন্মেষা বেরিয়ে এল। সে সম্ভবত গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল, বেশবাশ ঠিক করে এসেছে, মুখে-চোখে জলও দিয়ে এসেছে। সে জিজ্ঞাসা করল, “অ্যাই আর্য, কী হয়েছে তোর? এ ভাবে এত রাতে চেঁচাচ্ছিস কেন? আর এইরকম একটা অবস্থায়…!”
অঞ্জন বলল, “উন্মেষা, ও সম্ভবত কোন কিছু দেখে ভয় পেয়েছে। স্বপ্নও হতে পারে, সত্যিও হতে পারে। বলছে তো কালাদেও না-কি এসেছিল!”
আর্য কাতরে উঠল, “না-না, স্বপ্ন নয়। কালাদেও। আমার রুমের আলো জ্বলছিল না। স্বপ্ন তো তখন দেখছিলাম। নানা হাবিজাবি স্বপ্ন। তারপর ঘুম ভেঙে গেল। উঠে পড়ে আলো জ্বালতে গেলাম, দেখলাম স্যুইচ দেওয়া সত্ত্বো আলো জ্বলছে না। ভাবলাম, লোডশেডিং! তখন নিচের কম্পাউণ্ড থেকে আলো এসে জানালার ফাঁক দিয়ে চোখে পড়ায় বুঝলাম, লোডশেডিং নয়, তাহলে অন্য কোথাও আলো জ্বলতে পারে না! কালাদেও ইচ্ছে করে আমাকে মারবে বলে আমার ঘরের আলো নিভিয়ে দিয়েছিল। তারপরেই দরজা খুলে দেখতে গেলাম, দেখলাম…! উফফ্, কী ভয়ঙ্কর!”
“কী যা-তা বলছিস?” অরণ্য বলল, “তোর চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে আমরা তো সকলেই যে-যার ঘরের আলো জ্বলে তারপর বাইরে বেরিয়ে এসেছি। কোথায়, আমাদের ঘরের আলোর তো কোন গণ্ডগোল হয়নি!”
উন্মেষা অবাক করা গলায় বলল, “কাল এসেছিল, আজ আবার ? কালাদেওর এত আক্রোশ কেন এই রিসর্টের বোর্ডারদের উপর?”
“সেটাই তো!” অরণ্য বলল।
পূষণের কথা শুনে আর্য প্রথমে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখল তাকে। তারপর আস্তে-আস্তে কেমন টেনে-টেনে বলল, “স্বপ্ন ! না-না, স্বপ্ন নয়। স্বপ্ন নয়। সে এসেছিল। এসেছিল সে। দরজার সামনে দাঁড়িয়েছিল। আমি দরজা খুলতেই সে আমার উপর… না না, আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেনি। আমি তাকে দেখেই চেঁচিয়ে উঠেছিলাম, তারপরেই সে অন্ধকারে হুশ করে মিলিয়ে গেল। ভূত, ভূত, কালাদেও ! আমাকে মারতে এসেছিল। আমাকে বাঁচাও তোমরা!”
এমনসময় উন্মেষা বেরিয়ে এল। সে সম্ভবত গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল, বেশবাশ ঠিক করে এসেছে, মুখে-চোখে জলও দিয়ে এসেছে। সে জিজ্ঞাসা করল, “অ্যাই আর্য, কী হয়েছে তোর? এ ভাবে এত রাতে চেঁচাচ্ছিস কেন? আর এইরকম একটা অবস্থায়…!”
অঞ্জন বলল, “উন্মেষা, ও সম্ভবত কোন কিছু দেখে ভয় পেয়েছে। স্বপ্নও হতে পারে, সত্যিও হতে পারে। বলছে তো কালাদেও না-কি এসেছিল!”
আর্য কাতরে উঠল, “না-না, স্বপ্ন নয়। কালাদেও। আমার রুমের আলো জ্বলছিল না। স্বপ্ন তো তখন দেখছিলাম। নানা হাবিজাবি স্বপ্ন। তারপর ঘুম ভেঙে গেল। উঠে পড়ে আলো জ্বালতে গেলাম, দেখলাম স্যুইচ দেওয়া সত্ত্বো আলো জ্বলছে না। ভাবলাম, লোডশেডিং! তখন নিচের কম্পাউণ্ড থেকে আলো এসে জানালার ফাঁক দিয়ে চোখে পড়ায় বুঝলাম, লোডশেডিং নয়, তাহলে অন্য কোথাও আলো জ্বলতে পারে না! কালাদেও ইচ্ছে করে আমাকে মারবে বলে আমার ঘরের আলো নিভিয়ে দিয়েছিল। তারপরেই দরজা খুলে দেখতে গেলাম, দেখলাম…! উফফ্, কী ভয়ঙ্কর!”
“কী যা-তা বলছিস?” অরণ্য বলল, “তোর চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে আমরা তো সকলেই যে-যার ঘরের আলো জ্বলে তারপর বাইরে বেরিয়ে এসেছি। কোথায়, আমাদের ঘরের আলোর তো কোন গণ্ডগোল হয়নি!”
উন্মেষা অবাক করা গলায় বলল, “কাল এসেছিল, আজ আবার ? কালাদেওর এত আক্রোশ কেন এই রিসর্টের বোর্ডারদের উপর?”
“সেটাই তো!” অরণ্য বলল।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৬: মিটিং

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৭: রবীন্দ্রনাথের নামে ভিত্তিহীন অভিযোগ, ‘চোখের বালি’ নাকি চুরি করে লেখা

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১১১: পাতিকাক
“ওর ঘরের দরজার সামনে এসেছিল বলছে, কোন চিহ্ন ফেলে যায়নি সে? মানে এই ধর গায়ের বড় বড় লোম, কি ভাঙা নখ! থাকলে বেশ মেমেন্টো হিসাবে নিয়ে যেতাম ফেরার সময়। কই দেখি…” বলে অবলীলায় চলে গেল আর্যর রুমের সামনে। সেখানে গিয়ে সে নিচু হল। রুম থেকে বেরিয়ে আসবার সময় সে মোবাইলটা হাতে নিয়েই বেরিয়েছিল। এখন মোবাইলের আলো জ্বলে সে পুলিশদের মতো করেই যেন পর্যবেক্ষণ করছিল। একবার হাত বুলিয়ে খুঁজলও যদি কোন লোম-টোম পড়ে থাকে, কিন্তু কোথায় কী? সে হতাশ মুখে খানিকটা চড়া গলায় বলল “নাহ্, পেলাম না! আর্য এটা তোর কবি-কম্পনা নয় তো! দ্য গ্রেট ইমাজিনেটিভ পাওয়ার অফ আ পোয়েট!”
আর্য কাতর গলায় বলল, “বিশ্বাস কর। তেমন হলে আমি সবচেয়ে খুশি হতাম। কিন্তু এটা স্বপ্ন নয়, কল্পনা নয়, একেবারে জলজ্যান্ত বাস্তব!”
সকলে উন্মেষার পাগলামিটা দেখছিল। তবে অঞ্জন ব্যাপারটা পছন্দ করছিল না। সে বলল, “উন্মেষা, উঠে এস। এসব কী পাগলামি করছো ? তুমি কি পুলিশ না-কি? আর তোমাকে কালাদেওর মেমেন্টো খুঁজতে হবে না। মাঝেমধ্যে কেমন যে প্রগলভ আচরণ কর, আমি বুঝি না!”
এমনসময় সিঁড়ি দিয়ে সিক্যুরিটি গার্ডদের দু’জন উঠে এল। বিস্ময়জড়িত মুখে জিজ্ঞাসা করল, “কী হয়েছে স্যার? কোন প্রবলেম?”
অঞ্জন বলল, “এই স্যারের ঘরে কালাদেও এসেছিল বলছেন। ঘরের আলো জ্বলছিল না। উনি দরজা খুলে বাইরে আসবেন, দেখলেন, কালাদেও দাঁড়িয়ে দরজার সামনে! আচ্ছা, আপনারা কিছু দেখেননি? মানে আপনাদের রিসর্টটা যেহেতু কালাদেওর ফেভারিট স্পট। তা-না-হলে এত জায়গা থাকতে এখানেই বা বারবার কেন আসবেন?” তার কথায় প্রচ্ছন্ন শ্লেষ লুকিয়ে ছিল।
কালাদেওর আগমন-সংবাদ শুনে ততক্ষণে গার্ডেদের চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তারা অঞ্জনের শ্লেষ বুঝলো না। তাদের একজন বলল, “ম্যানেজারবাবুকে ডাকবো? আসলে গতকাল ওইরকম একটা ঝড় বয়ে গিয়েছে, আজ আবার…!” ইতস্তত করল সে। তার সমবেদনা কতখানি আন্তরিক, কতখানি চাকরির স্বার্থে মালিকের প্রিয় হওয়ার চেষ্টা, তা বোঝা গেল না।
কিন্তু তার কথা শুনে উন্মেষা বলে উঠল, “আচ্ছা, তবে কি কালাদেও এসেছিল মিঃ কাপাডিয়াকেই কিছু করতে ? হয়তো ভুল করে আর্যর দরজায় এসে দাঁড়িয়েছিল!”
পূষণ বলল, “স্যরি ম্যাডাম, কালাদেও এত কিছু জানে আর এটা জানে না যে, ম্যানেজার গ্রাউন্ড-ফ্লোরে থাকেন? তাছাড়া তার তো উচিত ছিল নিচের রুমগুলি আগে চেক করে দোতলায় আসা। আর এলেও পরপর ঘরে সার্চ না করে এতটা উজিয়ে একেবারে শেষপ্রান্তে আর্যবাবুর দরজায় দাঁড়ালেন, ব্যাপারটা একটু কেমন-কেমন শুনতে লাগছে না?”
আর্য কাতর গলায় বলল, “বিশ্বাস কর। তেমন হলে আমি সবচেয়ে খুশি হতাম। কিন্তু এটা স্বপ্ন নয়, কল্পনা নয়, একেবারে জলজ্যান্ত বাস্তব!”
সকলে উন্মেষার পাগলামিটা দেখছিল। তবে অঞ্জন ব্যাপারটা পছন্দ করছিল না। সে বলল, “উন্মেষা, উঠে এস। এসব কী পাগলামি করছো ? তুমি কি পুলিশ না-কি? আর তোমাকে কালাদেওর মেমেন্টো খুঁজতে হবে না। মাঝেমধ্যে কেমন যে প্রগলভ আচরণ কর, আমি বুঝি না!”
এমনসময় সিঁড়ি দিয়ে সিক্যুরিটি গার্ডদের দু’জন উঠে এল। বিস্ময়জড়িত মুখে জিজ্ঞাসা করল, “কী হয়েছে স্যার? কোন প্রবলেম?”
অঞ্জন বলল, “এই স্যারের ঘরে কালাদেও এসেছিল বলছেন। ঘরের আলো জ্বলছিল না। উনি দরজা খুলে বাইরে আসবেন, দেখলেন, কালাদেও দাঁড়িয়ে দরজার সামনে! আচ্ছা, আপনারা কিছু দেখেননি? মানে আপনাদের রিসর্টটা যেহেতু কালাদেওর ফেভারিট স্পট। তা-না-হলে এত জায়গা থাকতে এখানেই বা বারবার কেন আসবেন?” তার কথায় প্রচ্ছন্ন শ্লেষ লুকিয়ে ছিল।
কালাদেওর আগমন-সংবাদ শুনে ততক্ষণে গার্ডেদের চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তারা অঞ্জনের শ্লেষ বুঝলো না। তাদের একজন বলল, “ম্যানেজারবাবুকে ডাকবো? আসলে গতকাল ওইরকম একটা ঝড় বয়ে গিয়েছে, আজ আবার…!” ইতস্তত করল সে। তার সমবেদনা কতখানি আন্তরিক, কতখানি চাকরির স্বার্থে মালিকের প্রিয় হওয়ার চেষ্টা, তা বোঝা গেল না।
কিন্তু তার কথা শুনে উন্মেষা বলে উঠল, “আচ্ছা, তবে কি কালাদেও এসেছিল মিঃ কাপাডিয়াকেই কিছু করতে ? হয়তো ভুল করে আর্যর দরজায় এসে দাঁড়িয়েছিল!”
পূষণ বলল, “স্যরি ম্যাডাম, কালাদেও এত কিছু জানে আর এটা জানে না যে, ম্যানেজার গ্রাউন্ড-ফ্লোরে থাকেন? তাছাড়া তার তো উচিত ছিল নিচের রুমগুলি আগে চেক করে দোতলায় আসা। আর এলেও পরপর ঘরে সার্চ না করে এতটা উজিয়ে একেবারে শেষপ্রান্তে আর্যবাবুর দরজায় দাঁড়ালেন, ব্যাপারটা একটু কেমন-কেমন শুনতে লাগছে না?”
আরও পড়ুন:

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৭: শুধু মুখে ধর্মের বুলি আওড়ালেই কেউ ধার্মিক হয়ে যায় না

ত্রিপুরা: আজ কাল পরশুর গল্প, পর্ব-৭০: ত্রিপুরায় বারবার দেশের ইংরেজ শাসন বিরোধী মানসিকতার প্রতিফলন ঘটেছে
পূষণের কথা শুনে আর্য যেন হালে পানি পেল। ভাবল, যাক, একজন অন্তত তার কথা বিশ্বাস করেছে যে, কেউ এসেছিল, সে কালাদেও হোক বা আর কেউ। আর মধ্যরাতে কারুর দরজায় এসে কেউ যদি ভূতের মতো দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে ধরে নিতে হবে, তার উদ্দেশ্য মোটেও ভালো ছিল না। সে উত্তেজিত হয়ে বলল, “হ্যাঁ, আপনি ঠিক বলেছেন। আমাকেই এবারে মারতে এসেছিল কালাদেও। কিন্তু কেন? আমি তার কী পাকা-ধানে মই দিয়েছি?”
গার্ড দুজন বলল, “আমরা ম্যানেজারবাবুকেই ডেকে আনছি তাহলে? কর্মচারীদের ব্যারাক দূরে বলে তারা তো কেউ স্যারের আওয়াজ শুনতে পায়নি। ম্যানেজারবাবুও অসুস্থ বলে হয়ত এমন ঘুমিয়েছেন যে ঘু ভাঙেনি। অবশ্য নিচের তলায় ম্যানেজারবাবুও তো শেষপ্রান্তে থাকেন একেবারে। এই আওয়াজ তাঁর রুম অবধি পৌঁছানোই মুশকিল!”
অরণ্য বলল, “কিন্তু নিচে তো কর্মচারীদের অন্তত একজনের রাতে থাকার কথা। সে কোথায়?”
একজন গার্ড বলল, “স্যার, রাতের বেলা, সকলেই ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। আমাদের কাজ আলাদা। দিনে রাতে যখন কাজ অফ থাকে, ঘুমিয়ে নিই। তাদের তো আর তেমন নয়। রাতে বিশেষ কোন দরকার পড়লে তাকে ডেকে বললে, সে আসে। আপনারাও যদি নিচে যান, দেখবেন, রিশেপশনে ঘুমিয়ে আছে!”
“এত চিৎকারেও যখন সে-ঘুম ভাঙেনি, তখন কুম্ভকর্ণের ছোট ভাই বলতে হবে,” বিরক্ত গলায় তৃধা বলল।
“আমি ডেকে আনছি স্যার,” একজন গার্ড বলল।
অঞ্জন বলল, “নাহ্, থাক, এত রাতে মিঃ কাপাডিয়াকে ডাকতে হবে না। কাল থেকে ওঁর উপর দিয়ে অনেক ধকল গিয়েছে। রেস্ট নিন। আমরা দেখছি। সারারাত আর্যর কাছে থাকব আমরা। তোমরা বরং উপর-নিচের করিডোর, আর রিসর্টের চারপাশটা একটু ভালো করে দেখে নাও। কেউ কোথাও লুকিয়ে আছে কি-না। তবে সাবধানে।”
উন্মেষা বলল, “হ্যাঁ, সেই ভালো! আর মিঃ কাপাডিয়া এসেই বা কী করবেন? তিনি তো এই অবস্থায় কালাদেওর পিছনে দৌড়াতে পারবেন না?” বলে আর্যর দিকে ফিরে বলল, “আর্য, তুই আমাদের রুমে চল। আজ রাত ওখানেই আমাদের সঙ্গে কাটাবি। কাল ভর হলে দেখা যাবে কোথাও কোন অস্বাভাবিক কিছু ছিল কি-না!”
অঞ্জন বলল, “হ্যাঁ আর্য, তাই চল। আমাদের সঙ্গেই আজ রাত থাকো।”
গার্ড দুজন বলল, “আমরা ম্যানেজারবাবুকেই ডেকে আনছি তাহলে? কর্মচারীদের ব্যারাক দূরে বলে তারা তো কেউ স্যারের আওয়াজ শুনতে পায়নি। ম্যানেজারবাবুও অসুস্থ বলে হয়ত এমন ঘুমিয়েছেন যে ঘু ভাঙেনি। অবশ্য নিচের তলায় ম্যানেজারবাবুও তো শেষপ্রান্তে থাকেন একেবারে। এই আওয়াজ তাঁর রুম অবধি পৌঁছানোই মুশকিল!”
অরণ্য বলল, “কিন্তু নিচে তো কর্মচারীদের অন্তত একজনের রাতে থাকার কথা। সে কোথায়?”
একজন গার্ড বলল, “স্যার, রাতের বেলা, সকলেই ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে। আমাদের কাজ আলাদা। দিনে রাতে যখন কাজ অফ থাকে, ঘুমিয়ে নিই। তাদের তো আর তেমন নয়। রাতে বিশেষ কোন দরকার পড়লে তাকে ডেকে বললে, সে আসে। আপনারাও যদি নিচে যান, দেখবেন, রিশেপশনে ঘুমিয়ে আছে!”
“এত চিৎকারেও যখন সে-ঘুম ভাঙেনি, তখন কুম্ভকর্ণের ছোট ভাই বলতে হবে,” বিরক্ত গলায় তৃধা বলল।
“আমি ডেকে আনছি স্যার,” একজন গার্ড বলল।
অঞ্জন বলল, “নাহ্, থাক, এত রাতে মিঃ কাপাডিয়াকে ডাকতে হবে না। কাল থেকে ওঁর উপর দিয়ে অনেক ধকল গিয়েছে। রেস্ট নিন। আমরা দেখছি। সারারাত আর্যর কাছে থাকব আমরা। তোমরা বরং উপর-নিচের করিডোর, আর রিসর্টের চারপাশটা একটু ভালো করে দেখে নাও। কেউ কোথাও লুকিয়ে আছে কি-না। তবে সাবধানে।”
উন্মেষা বলল, “হ্যাঁ, সেই ভালো! আর মিঃ কাপাডিয়া এসেই বা কী করবেন? তিনি তো এই অবস্থায় কালাদেওর পিছনে দৌড়াতে পারবেন না?” বলে আর্যর দিকে ফিরে বলল, “আর্য, তুই আমাদের রুমে চল। আজ রাত ওখানেই আমাদের সঙ্গে কাটাবি। কাল ভর হলে দেখা যাবে কোথাও কোন অস্বাভাবিক কিছু ছিল কি-না!”
অঞ্জন বলল, “হ্যাঁ আর্য, তাই চল। আমাদের সঙ্গেই আজ রাত থাকো।”
আরও পড়ুন:

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২৫: আজও আধুনিক সমাজ রাজা দুষ্মন্তের তঞ্চকতা এবং দ্বিচারিতার দূষণমুক্ত নয়

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬৩: অগত্যা আমার গাড়িতে বন্ধুদের নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম আলাস্কা ভ্রমণে
অরণ্য বলল, “ওর এখন নিজের ঘরে গিয়ে আগে জামাকাপড় পরে নেওয়া উচিত। তাছাড়া ও কেন আমাদের রুমে যাবে? মেয়েরা আছে, তারা ঘুমিয়ে নিক বরং। আমি আর অঞ্জন আর্যর রুমেই আজ রাতটা কাটাচ্ছি।”
“ওরে বাবা, একা থাকবো? না না, ভয়েই মরে যাবো। কালাদেওর আর দরকার হবে না!”
অঞ্জন বলল, “তাহলে তুমি বরং আমার রুমে চলে এসো। আমি আর্যর ঘরে যাচ্ছি। তোমরা দুই বন্ধু, তুমি আর উন্মেষা আজকের রাতটা গল্প করে কাটাও।”
উন্মেষার কথায় তৃধার মুখ কঠিন হয়ে উঠল। বলল, “দরকার নেই। আমি একা থাকতে পারবো। আর আমার ঘুমও পাচ্ছে আবার। ঘুমালে আমার আর কোন ভয় করে না!”
“আমরা তাহলে এই করিডোরটা চেক করে নিয়ে নিচে যাচ্ছিস স্যার। তারপর নিচের ফ্লোরটা চেক করে বাইরের কম্পাউন্ডে গিয়ে দেখছি স্যার,” বলে গার্ড দু’জন করিডর ধরে এগিয়ে গেল আর্যর রুমের দিকে।
অরণ্য আর্যকে বলল, ‘চল্, আমরাও যাই।”
আর্য ভয়ে-ভয়ে বলল, ‘আমার রুমে যাবো?”
“হ্যাঁ রে বোকা…, আমি থাকব তো, ভয় কিসের?”
তৃধা মজা করে আস্তে বলল, “সেটাই তো ভয়ের!”
আস্তে করে বললেও অরণ্যের কানে গিয়েছে কথাটা। সে কিন্তু মজা হিসাবে নিল না। বেশ রাগত স্বরে বলল, “কী বললে?”
তৃধা একটু থতমত খেয়ে গেল। সে সত্যিই মজা করেছিল। অরণ্য সেটা গায়ে মেখে নেবে বোঝেনি সে। সে কাঁচুমাচু মুখে বলল, “স্যরি। আমি জাস্ট জোক করছিলাম!”
“এটা কি তোমার জোক্ করার টাইম?” চিবিয়ে-চিবিয়ে কথাগুলি বলে অরণ্য আর্যর হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে-যেতে বলল, “চল। আগে চোখেমুখে জল দিয়ে শান্ত হয়ে বোস। তারপর এই নিয়ে যা-বলবি শুনবো।”
পূষণ গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, “আচ্ছা, আমি কি আপনার সঙ্গে যেতে পারি? যদিও আমি আপনাদের টিমের নই, তাহলেও…! আমার মনে হল থাকা উচিত। তাছাড়া আসলে ঘটনাটা ঠিক কী হয়েছিল, সেটা জানতেও আগ্রহী আমি!”
“ওরে বাবা, একা থাকবো? না না, ভয়েই মরে যাবো। কালাদেওর আর দরকার হবে না!”
অঞ্জন বলল, “তাহলে তুমি বরং আমার রুমে চলে এসো। আমি আর্যর ঘরে যাচ্ছি। তোমরা দুই বন্ধু, তুমি আর উন্মেষা আজকের রাতটা গল্প করে কাটাও।”
উন্মেষার কথায় তৃধার মুখ কঠিন হয়ে উঠল। বলল, “দরকার নেই। আমি একা থাকতে পারবো। আর আমার ঘুমও পাচ্ছে আবার। ঘুমালে আমার আর কোন ভয় করে না!”
“আমরা তাহলে এই করিডোরটা চেক করে নিয়ে নিচে যাচ্ছিস স্যার। তারপর নিচের ফ্লোরটা চেক করে বাইরের কম্পাউন্ডে গিয়ে দেখছি স্যার,” বলে গার্ড দু’জন করিডর ধরে এগিয়ে গেল আর্যর রুমের দিকে।
অরণ্য আর্যকে বলল, ‘চল্, আমরাও যাই।”
আর্য ভয়ে-ভয়ে বলল, ‘আমার রুমে যাবো?”
“হ্যাঁ রে বোকা…, আমি থাকব তো, ভয় কিসের?”
তৃধা মজা করে আস্তে বলল, “সেটাই তো ভয়ের!”
আস্তে করে বললেও অরণ্যের কানে গিয়েছে কথাটা। সে কিন্তু মজা হিসাবে নিল না। বেশ রাগত স্বরে বলল, “কী বললে?”
তৃধা একটু থতমত খেয়ে গেল। সে সত্যিই মজা করেছিল। অরণ্য সেটা গায়ে মেখে নেবে বোঝেনি সে। সে কাঁচুমাচু মুখে বলল, “স্যরি। আমি জাস্ট জোক করছিলাম!”
“এটা কি তোমার জোক্ করার টাইম?” চিবিয়ে-চিবিয়ে কথাগুলি বলে অরণ্য আর্যর হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে-যেতে বলল, “চল। আগে চোখেমুখে জল দিয়ে শান্ত হয়ে বোস। তারপর এই নিয়ে যা-বলবি শুনবো।”
পূষণ গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, “আচ্ছা, আমি কি আপনার সঙ্গে যেতে পারি? যদিও আমি আপনাদের টিমের নই, তাহলেও…! আমার মনে হল থাকা উচিত। তাছাড়া আসলে ঘটনাটা ঠিক কী হয়েছিল, সেটা জানতেও আগ্রহী আমি!”
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৯ : মণিহারা: করিডর, সেজবাতি আর…

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১১০: মা সারদার মানবীলীলার অবসান
অরণ্য বলল, “আরে আসুন আসুন। কিন্তু আপনার বেটার-হাফ্ আবার রাগ করবেন না তো?”
রিমিতা ঝংকার দিয়ে বলে উঠল, “না না, ওকে নিয়ে যান, নিয়ে যান। আমার অত ভয় করে না। আর একটা কথা আমি ওঁর হবু-বেটার-হাফ্। ফুল বেটার-হাফ হব কি-না, এখনও ঠিক করিনি!”
পূষণ বলল, “ঠিক আছে, ও-ব্যাপারটা কলকাতা গিয়েই বুঝে নেবো। এখন যে-যার রুমে ঢুকে পড়ুন। আমি আর অরণ্যবাবু আর্যর সঙ্গে আজ রাতটা কাটাচ্ছি। আর আপনাদের অনুরোধ, ফর ইয়োর সেফটি, আজ রাতে যাই ঘটুক না কেন, কেউ রুমের দরজা খুলে হুটহাট করে বেরিয়ে যাবেন না, দরজা খুলবেনও না। শোয়ার আগে একবার সমস্ত চেক কর শোন। আশা করি, কালাদেও যদি হয়ও, তাহলেও আজ রাতে আবার আক্রমণ করার সাহস সে দেখাবে না!”
পূষণের কথা শুনে সকলেই যে-যার রুমে চলে গেল। কেবল সে, অরণ্য আর আর্যই তখনও দাঁড়িয়ে। গার্ড দুজন ফিরে আসছিল। তাদের দেখে দাঁড়িয়ে পড়ে আর্যর দিকে দেখিয়ে বলল, “কিন্তু এই স্যারের রুমের লাইট জ্বলছে দেখলাম তো! উনি বলছিলেন তখন জ্বলছিল না!”
আর্য আগুন-ঝরানো চোখে বলল, “আমি কি মিথ্যে বলছিলাম বলে তোমাদের মনে হয়? মাঝরাতে নাটক করছিলাম?”
“আজ্ঞে না না স্যার। আমরা তা বলতে চাইনি। বলতে চাইছিলাম, তখন না-জ্বললেও এখন জ্বলছে। হতে পারে আপনার যে ফেজ, সেই ফেজে কেবল লোডশেডিং হয়েছিল, সেই জন্যই অন্য জায়গায় আলো জ্বললেও আপনার রুমে জ্বলছিল না।”
আর্য কোনও জবাব না দিলেও পূষণ বলল, “হ্যাঁ, এটা একটা ভালো যুক্তি। ঠিক আছে, আপনারা এবার নিচে গিয়ে চেক্ করে নিন ভালো করে! আমরা রুমে যাই। আসুন আর্য, আসুন অরণ্য।” —চলবে।
রিমিতা ঝংকার দিয়ে বলে উঠল, “না না, ওকে নিয়ে যান, নিয়ে যান। আমার অত ভয় করে না। আর একটা কথা আমি ওঁর হবু-বেটার-হাফ্। ফুল বেটার-হাফ হব কি-না, এখনও ঠিক করিনি!”
পূষণ বলল, “ঠিক আছে, ও-ব্যাপারটা কলকাতা গিয়েই বুঝে নেবো। এখন যে-যার রুমে ঢুকে পড়ুন। আমি আর অরণ্যবাবু আর্যর সঙ্গে আজ রাতটা কাটাচ্ছি। আর আপনাদের অনুরোধ, ফর ইয়োর সেফটি, আজ রাতে যাই ঘটুক না কেন, কেউ রুমের দরজা খুলে হুটহাট করে বেরিয়ে যাবেন না, দরজা খুলবেনও না। শোয়ার আগে একবার সমস্ত চেক কর শোন। আশা করি, কালাদেও যদি হয়ও, তাহলেও আজ রাতে আবার আক্রমণ করার সাহস সে দেখাবে না!”
পূষণের কথা শুনে সকলেই যে-যার রুমে চলে গেল। কেবল সে, অরণ্য আর আর্যই তখনও দাঁড়িয়ে। গার্ড দুজন ফিরে আসছিল। তাদের দেখে দাঁড়িয়ে পড়ে আর্যর দিকে দেখিয়ে বলল, “কিন্তু এই স্যারের রুমের লাইট জ্বলছে দেখলাম তো! উনি বলছিলেন তখন জ্বলছিল না!”
আর্য আগুন-ঝরানো চোখে বলল, “আমি কি মিথ্যে বলছিলাম বলে তোমাদের মনে হয়? মাঝরাতে নাটক করছিলাম?”
“আজ্ঞে না না স্যার। আমরা তা বলতে চাইনি। বলতে চাইছিলাম, তখন না-জ্বললেও এখন জ্বলছে। হতে পারে আপনার যে ফেজ, সেই ফেজে কেবল লোডশেডিং হয়েছিল, সেই জন্যই অন্য জায়গায় আলো জ্বললেও আপনার রুমে জ্বলছিল না।”
আর্য কোনও জবাব না দিলেও পূষণ বলল, “হ্যাঁ, এটা একটা ভালো যুক্তি। ঠিক আছে, আপনারা এবার নিচে গিয়ে চেক্ করে নিন ভালো করে! আমরা রুমে যাই। আসুন আর্য, আসুন অরণ্য।” —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।


















