রবিবার ৮ মার্চ, ২০২৬


কলকাতায় বৃষ্টি
কেউ যেন তার শিশ্ন ধরে খেলা করছিল। খেলা, কিন্তু ভয়ঙ্কর খেলা। মনে হচ্ছিল মাকড়শার মতো কতগুলি নখরযুক্ত আঙুল তার শিশ্নটিকে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে ধরেছে। তারপর সূক্ষ্ম, মিহিন সূঁচফোটার মত করে ফুটিয়ে দিচ্ছে অজস্র শোষকযন্ত্র। তার শিশ্ন থেকে রক্ত বেরিয়ে যাচ্ছে শোষকনলের মাধ্যমে অন্য কারুর শরীরে। অণ্ডকোষ দুটিকে ছিঁড়ে নিতে চাইছে সেই নিপীড়ক। তুলে নিচ্ছে তার ছাল-চামড়া। দগদগে ঘায়ের মতো রক্ত-রস মাখামাখি হয়ে বীভৎস লাগছে জায়গাটা। শিশ্নটা নেতিয়ে পড়েছে। তার ছালও কেউ ছাড়িয়ে নিয়েছে। কে যেন করাত চালাচ্ছে তার ওপর। ঘ্যাস-ঘ্যাস করে বিচ্ছিরি আওয়াজ হচ্ছে। কেউ যেন বলছে, “এভাবে হবে না… লেদ-মেশিন নিয়ে এসো…!” তারপরেই ঘ্যাঁচ্‌ করে কেটে আলাদা হয়ে গেল তার শিশ্ন। আলাদা হয়ে গিয়ে লাফাতে লাগল লাল দগদগে রক্তমাখা সেই অহংকার। এখন বড় অসহায় লাগছে।

তার মনে পড়ল, কতদিন এই শিশ্ন উন্মুখর হয়নি, কতদিন উদগীরণ করেনি আনন্দের লাভা, কতদিন ঝোপঝাড় বনজঙ্গলের মধ্যে অসহায়ের মতো পড়ে থেকেছে, একেবারে অ্যাবান্‌ডানড্‌ পরিত্যক্ত হয়ে, কেউ মায়া-মমতায় হাত বুলিয়ে দেয়নি, কারও করুণা অর্জন করেনি কিংবা সহানুভূতি। কী এক অসহায় বেদনাময় ইতিহাস ছিল এই শিশ্নের, যে এখন বিছানায় পড়ে সদ্য কাটা শিঙিমাছের মতো লাফাচ্ছে। সে ধরতে গেল, আর তার হাত ঢুকে গেল একটা অন্ধকার বিবরের মধ্যে। তারপরেই সে আবিষ্কার করল, সেই বিবরে কেবল তার হাত নেই, আরও অনেক হাত হাঁকুপাকু করে কী-সব খুঁজছে। উঠে আসছে স্তন, নাভি, ভগাঙ্কুর, কানের লতি, চিবুক, হাতের আঙুল, আরও কত কী! সবাই যেন ঘেঁটেঘুটে অন্য-কী খুঁজছিল। কিন্তু কিছুতেই মনে পড়ছিল না তার কী খুঁজছিল। সে-ও সেই বিবরের মধ্যে খুঁজতে লাগল, আর অনাবশ্যক জেনে তুলে এনে ছুঁড়ে-ছুঁড়ে ফেলছিল সেই সব স্তন, যোনি…!
কেউ একজন বলল, “এভাবে হবে না, লেদ-মেশিন নিয়ে এসো… বললাম তো তখন,” তারপর কারও যেন আর্তনাদ শোনা গেল। আর্তনাদ না-কি শীৎকার? শীৎকার না-কি আর্তনাদ? কেমন একটা ঘুলিয়ে যাচ্ছিল সব। মাথা ঝিমঝিম করছিল। একজোড়া রাঙা কর্তিত ঠোঁট উঠে এসে বলল, “যাও, তুমি আমায় একটুও ভালোবাসো না, শরীর, শরীর, তোমার মন নাই?” আর তখনই বিদ্যুৎ-চমকের মতো তার মনে পড়ে গেল, আসলে তারা সবাই মিলে ওই বিবরের মধ্যে হাতড়ে-হাতড়ে খুঁজছিল যা, তা হল হৃদয়। বিবরে সব ছিল, কেবল হৃদয়টুকুই ছিল না। বেশ অসহায়ের মতো সে হাত বার করে আনল। আশেপাশে তাকাল, তার নগ্ন দেহের উপর দিয়ে সাপের মতো কিলবিল করতে করতে এগিয়ে চলেছিল কেউ। তার হিংস্র হিস্‌হিস্‌ আস্ফালন শুনতে পাচ্ছিল সে। সাপ? নাহ্‌, এ-তো তার সেই শিশ্ন! এখন অসহায় কিন্তু উদ্ধত ভঙ্গিতে ছোবল মারবে বলে এগিয়ে যাচ্ছে তার রগের দিকে। ফণা তুলল, তারপরেই হিস্‌হিস্‌ করে বলল, “আর্য তুমি অপরাধী, আমায় অসম্মান করেছ, সেজন্য তোমার বাঁচবার অধিকার তোমার নেই, নাও, প্রস্তুত হও, চলে যাওয়ার জন্য, নাও…” বলতে-বলতে তার ছোবল নিখুঁত লক্ষ্যে নেমে এল তার রগ লক্ষ্য করে…

তড়াক করে উঠে বসল আর্য। ঘুমটা ভেঙে গেল তার। দরদর করে সে ঘামছিল। যদিও বাইরে এখন যথেষ্ট ঠান্ডা, রুমের মধ্যে বরং কুসুম-কুসুম গরম ভাব বেশ আরামদায়ক, তবু এই মুহূর্তে তা আর আরামদায়ক বলে মনে হচ্ছিল না। সেই অবস্থায় উঠে বসল আর্য। দেখল, তার ছোট প্যান্টের মধ্যে তার হাত ঢোকানো। বার করে আনল সে। কেমন যেন ঘৃণ্য মনে হল আজ সেই হাতকে। কুলকুল করে ঘামছে সে, ছোট প্যান্টটা ভিজে একদম জবজবে। সেটাকে খুলে ফেলে সম্পূর্ণ উলঙ্গ হয়ে গেল সে। শিশ্নটা নেতিয়ে পড়ে আছে, যেমন থাকে। উফ্‌, সেইদিনের পর থেকে যতবার জাগানোর চেষ্টা করেছে, ততবারই কেউ তার কানের কাছে ফিসফিস করে বলেছে, “কোনদিন জাগিবে না আর, জাগিবার অবিরাম অবিরাম ভার, কোনদিন সহিবে না আর…” কার কথা? রবীন্দ্রনাথ? সমর সেন? বিষ্ণু দে? সুনীল? শক্তি? না-কি জয় গোস্বামী? কিছুতেই মনে এল না তার জীবনানন্দের কথা। এমনকি লাইনগুলিও যথার্থ কি-না সন্দেহ হচ্ছিল তার। ভয়ঙ্কর এক ঘৃণা জন্মাচ্ছিল সেই অজ্ঞাতপরিচয় কবির ওপর। মনে হচ্ছিল, তাকে উপহাস করার জন্যই যেন চরণগুলি লেখা হয়েছে।
আরও পড়ুন:

রহস্য উপন্যাস: পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক, পর্ব-১২৩: তত্ত্বতালাশ

পঞ্চতন্ত্র: রাজনীতি-কূটনীতি, পর্ব-৮৫: অধিকার নয়, অবস্থানই বলে দেয় জায়গা কার– মালিকের? না দখলদারের?

রহস্য রোমাঞ্চের আলাস্কা, পর্ব-৬২: আলাস্কা ঘুরে দেখার জন্য গাড়ি ভাড়া পাওয়া দুষ্কর

কেন? কেন? সে কী-পাপ করেছে? সে যদি কিছু করেও থাকে, একা তো করেনি! তাহলে অন্য সকলে সুস্থ-স্বাভাবিক রয়ে গেল, কেবল তাকেই অমূলক পাপবোধে ভুগতে হল? কেন? সেদিনের পর থেকে যতবারই সে চেয়েছে লিঙ্গ-উত্থিত হোক, ততবারই সে ব্যর্থ হয়েছে। লোকে এখন তাকে জানে ফ্রিজিড বলে। সে নরমাল, গে, ক্যুইয়ার কিচ্ছু নয়, সে একজন কামশীতল ব্যক্তি, যার কোথাও কোনও নারীর কাছে, কিংবা কোন পুরুষের কাছেও মুখ দেখাবার যোগ্যতা নেই। তার শরীরে সে কামনার কোন উদ্বেলতাই আর টের পায় না। অথচ এই সে, ক্লাস এইটে পড়ার সময় প্রথম বীর্যস্খলন দেখে বিস্ময়জনিত আনন্দে উদ্বেল হয়ে উঠেছিল। ক্লাস নাইনে পড়ার সময় সুনৃতাদের বাড়ির ছাদে অন্ধকার রাত্রে জলট্যাঙ্কের উপরে জীবনের প্রথম নিষিদ্ধ ফল লাভ করেছিল, তার লিঙ্গটাকে মুখের মধ্যে নিয়ে খেলা করার সময় সুনৃতা বহুকষ্টে বলেছিল, “কী দারুণ!” অথচ এখন? সেই ঘটনার পর থেকে আজ পর্যন্ত সে কোন নারীর প্রসাদ লাভ করেনি, বরং আতঙ্কে থেকেছে। কেউ যদি জেনে যায় যে, সে অক্ষম! তাহলে হাসাহাসি করবে সবাই। অরণ্য তো করেই। এখন সে জেনে গেছে বলে আরও করবে। উফ্‌, কীভাবে যে সে এই অন্ধ লক্ষ্যহীন জীবনকে বয়ে নিয়ে চলবে? কেন? কেন যোগ দিল সে ওইদিন সকলের সঙ্গে? সে মানা করতে পারতো, সে পালিয়ে যেতে পারত, সে নিজেকে সংযমের সীমার মধ্যে বেঁধে ফেলতে পারতো! কিন্তু নাহ্‌, সে সে-সব কিছুই করেনি, আস্তে-আস্তে এগিয়ে গিয়েছিল, প্যান্টের জিপার খুলে নামিয়ে দিয়েছিল প্যান্ট হাঁটুর নিচে, তারপর অমোঘ লক্ষ্যে নেমে এসেছিল রক্তাক্ত, প্রায়-ছিন্নভিন্ন বিধ্বস্ত এক যোনীর উপর। উপগত হয়েছিল! তারপরেই তো নেমে এল এই অভিশাপ। এই ভয়ঙ্কর কামশীতলতা!
আরও পড়ুন:

গল্পকথায় ঠাকুরবাড়ি, পর্ব-১২৩: মেথরকে ডেকে এনে বসাতেন নিজের বিছানায়

মহাকাব্যের কথকতা, পর্ব-১২২: রামের পাদুকাগ্রহণের মাহাত্ম্য, ভরত কী রামের ছায়াশ্রিত প্রশাসক?

বিছানা ছেড়ে নেমে এল আর্য। উলঙ্গ অবস্থাতেই ওয়াশরুমের দিকে এগিয়ে গেল। জানালার পর্দার ফাঁকফোকর গলে চুঁইয়ে আসা তারার আলো ছাড়া আর কোন আলো ছিল না রুমের মধ্যে। একেবারে নিশ্চিদ্র অন্ধকার না-হলেও অন্ধকারের রঙ বেশ গাঢ়। ঘুমানোর আগে টাওয়েলটা কোথায় রেখেছিল সে? ছুঁরে ফেলেছিল মেঝের উপরে? না-কি চেয়ারের হাতলে রেখেছিল? মেঝেতে হাতড়ে-হাতড়ে খুঁজল সে, পেল না। চেয়ার যেখানে থাকে, সেখানে গিয়ে চেয়ারের হাতলে হাতড়ালো, পেল না। অন্ধকার ঘরময় সে ঘুরেই চলেছিল, যেন মনে হচ্ছিল, সে কানামাছি খেলায় কানামাছি হয়েছে।

“নাহ্‌,” সে ভাবল, “এ ভাবে হবে না, আমাকে আগে স্যুইচবোর্ডের স্যুইচ টিপে আলো জ্বালতে হবে। তারপর আমি অতি-সহজেই খুঁজে পাবো টাওয়েলটা। ইস্‌ এই বুদ্ধি আমার মাথায় কেন আগে আসেনি? আমি কি বোকা হয়ে যাচ্ছি ? না-কি বোকাই ছিলাম আগাগোড়া? না-কি এলজাইমার হয়েছে আমার?”
মনে করার চেষ্টা করল সে। কিন্তু কিছুই মাথায় এল না। সে আপাতত স্যুইচবোর্ড খোঁজার দিকে মন দিল। কোন দিকে যেন ছিল স্যুইচবোর্ড? ওয়াশরুমের দরজার পাশে? না-কি রুমে ঢোকবার মুখে? মনে হল, রুমের প্রবেশপথের নাগালের মধ্যেই স্যুইচবোর্ড থাকা উচিত, নচেৎ বোর্ডাররা রুমে ঢুকে অন্ধকারে হাতড়াবে না-কি? এই এখন সে যেমন হাতড়াচ্ছে?
আরও পড়ুন:

সত্যজিতের রায়, অপু থেকে আগন্তুক, পর্ব-৬: জয় বাবা ফেলুনাথ: রুকুর অন্দরমহল

এই দেশ এই মাটি, সুন্দরবনের বারোমাস্যা, পর্ব-১০৮: লক্ষ্মী প্যাঁচা

মাথাটা কেমন ভার হয়ে আসছিল। আচ্ছা, সে কী খেয়েছিল আজ? ড্রিংক করেছিল মনে পড়ছে। কিন্তু কী খেয়েছিল, তা জানে না। কে খাইয়েছিল তাকে? সে নিজের পয়সায় ড্রিংক করে না। বড়লোক বন্ধুবান্ধব থাকতে যদি একজন কপর্দকশূন্য কবিকে নিজের গাঁটের পয়সা খরচ করে ড্রিংক করতে হয় তো ধিক্‌ এই জন্মকে! এই জন্ম তো কুক্কুর-জন্মের চেয়েও ঘৃণ্য!

পা’টা একটু টলে গেল তার। সামলাতে দেওয়াল ধরল সে। আর তখনই হাত পড়ল তার স্যুইচবোর্ডের ওপর। আরে, এই তো স্যুইচবোর্ড! লোকে লটারিতে কয়েক কোটি টাকা জিতলেও এভাবে আনন্দিত হয় না, যেমনটি সে হল। তারপরেই মনের আনন্দে সব ক’টি স্যুইচই সে অন করে দিল। কিন্তু এ কী? আলো জ্বলছে না কেন? তাহলে কি এগুলি স্যুইচবোর্ডের স্যুইচ নয়! কী এগুলি? হাত বুলালো সে। নাহ্‌, এইগুলি তো স্যুইচই। তাহলে জ্বলছে না কেন? না-কি সে অন্ধ হয়ে গিয়েছে? সে-কারণে আলো জ্বললেও দেখতে পাচ্ছে না? না-কি লোডশেডিং?

মনকে প্রবোধ দিয়ে জানালার কাছে এগিয়ে যেতেই সে ধাক্কা খেল। এখন কত রাত সে জানে না। কিন্তু জানালার বাইরে রাতে জ্বলে বাগানের প্রান্তসীমার যে আলোগুলি, সেগুলি জ্বলছে দেখতে পেল। তার মানে? মাথার ধাঁধা কেটে যেতে লাগল হালকা-হালকা করে। সে বুঝতে পারল, লোডশেডিং নয়। তা-হলে বাইরের আলোগুলি এভাবে জ্বলতে পারত না। তাহলে? পরমুহূর্তেই তার মাথায় দপ্‌ করে জ্বলে উঠল, একটি সম্ভাবনার কথা! কেউ কি ইচ্ছে করে তার রুমের আলো যাতে না জ্বলে, সেই ব্যবস্থা করেছে? কিন্তু কেন?

এই রিসর্টে আসার পরে সে আর অনিল এক রুম শেয়ার করতো। সে-সময় তার কোন অসুবিধা ছিল না। অনিল অন্যদের মতো এত উচ্ছৃঙ্খল ছিল না। আবার মজাও কম করত না। মাত্রাছাড়া ছিল না বাইরের আচরণে। অথচ সুন্দর মেয়ে দেখলেই তার ভিতরের পশুটা জেগে উঠত। সে-বারেও তো সেই-ই প্রথম প্রস্তাবটি দেয়, “দেখ, আমরা কেউই যখন আলাদা করে ওকে নিজের বলে পাবো না, একজন পেলে বাকি সকলের কষ্ট হবে না-পাওয়ার, তখন আমরা সকলেই ওকে পাই না কেন? ও হয়ে উঠুক আমাদের সকলের দ্বারা ভোগ্যা!”
আরও পড়ুন:

আলোকের ঝর্ণাধারায়, পর্ব-১০৬: দীনদুখিনীর জননী সারদা

উত্তম কথাচিত্র, পর্ব-১১: ভাগ্যের ফেরে হাস্যকর ‘লাখ টাকা’

সকলেই তখন স্কচ-হুইস্কির নেশায় রক্তিম। সকলে উল্লাস দিয়ে সায় দিয়ে উঠেছিল তার কথায়। আর তারপরেই…! কিন্তু এখানে বেড়াতে এসে প্রথম রাতে স্থানীয় কোন মেয়ে পাওয়া যাবে কি-না বডি-ম্যাসাজের জন্য এইটুকু খোঁজ নেওয়া ছাড়া আর কোন বেগড়বাঁই করেনি। আর বেগড়বাঁই যে করবে তার সময় কোথায়? তিন দিনও গেল না, ঘাড় ভেঙে দ’ হয়ে পড়ে থাকল কালাদেওর আক্রমণে। ফিরে এসে সে-কথা শুনে আর্যর বুকের রক্ত জল হয়ে গিয়েছিল। প্রথমদিন ক্লান্ত ছিল বলে সেই রুমে সে ঘুমিয়েছিল বটে, কিন্তু দ্বিতীয়দিন সারারাত ভয়ে সে জেগেই কাটিয়েছিল বলতে গেলে। ম্যানেজারকে বলতে তিনি এই সিঙ্গলরুমের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন, যদিও রুমটা করিদোরের একপ্রান্তে। তবে তাতে কোন অসুবিধা ছিল না আর্যর। রুমের পাশেই একটা ছোট ঘোরানো সিঁড়ি, আপদকালীন ব্যবস্থা। এই সিঁড়ি দিয়ে একেবারে বাগানে গিয়ে পরা যায়, যদিও এমনিতে সেটা সম্ভব নয়, কারণ একতলায় বেরুনোর মুখে ভারি তালা ঝোলে।

কী করবে আর্য ? দরজা খুলে বেরিয়ে কাউকে ডাকবে? কিন্তু কে আলো বন্ধ করল তার রুমের? কীভাবেই বা করল ? তার রুমের মেইন-স্যুইচ বন্ধ করে দিয়েছে কি? কিন্তু কেন?

মাথার মধ্যে হঠাৎ দপ্‌ করে জ্বলে উঠল একটি সম্ভাবনার কথা, তাহলে কি অদৃশ্য সেই আততায়ীর এবারের টার্গেট সে? সে ছাড়া এই মুহূর্তে কেউ কী আছে রুমের মধ্যে? ভাবতেই বুকের মধ্যে রক্তচলাচল বন্ধ হয়ে গেল যেন। পালাতে হবে, তাকে এই রুমের বাইরে যেভাবেই হোক পালাতে হবে। সে ভুলে গেল, তার পরণে খন সুতোটিও নেই। কিন্তু মানুষের আত্মরক্ষার তাড়নার চেয়ে বড় তাড়না কিছু হতে পারে না। তার কাছে সকল লজ্জা, সকল ভয়, সকল সংকোচ তুচ্ছ হয়ে যায়। অতএব সে কোনরকমে হাতড়ে-হাতড়ে দরজার কাছে গেল। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই খুট করে দরজাটা খুলে গেল একটু ফাঁক করে। করিডোরে অন্যদিন আলো জ্বলে, কিন্তু আজ জ্বলছিল না। ছিটকে সরে এল আর্য। দরজা খুলে গিয়েছে। কেউ দাঁড়িয়ে আছে দরজার ওপারে। নিশ্চয়ই তাকে খুন করতে এসেছে! হঠাৎ আত্মরক্ষার প্রবল তাগিদে সে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা আততায়ীকে সজোরে ঠেলে দিল, তারপর করিডর দিয়ে ছুটতে লাগল। আর্ত-অসহায় ভাঙা গলায় প্রাণপণ চেঁচাচ্ছিল সে, “বাঁচাও, বাঁচাও” বলে। তার সেই চিৎকারে একে-একে অন্য রুমের দরজা খুলে যাচ্ছিলো। সেই ফাঁকে আর্যর ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা আগন্তুক ছোট সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল দ্রুত। তারপরেই যেন অন্ধকারের মধ্যে মিশে গেল। তাকে আর দেখা গেল না! —চলবে।
* ধারাবাহিক রহস্য উপন্যাস (novel): পিশাচ পাহাড়ের আতঙ্ক (Pishach paharer Aatanka) : কিশলয় জানা (Kisalaya Jana) বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক, বারাসত গভর্নমেন্ট কলেজ।

গল্প ও উপন্যাস পাঠানোর নিয়ম

‘সময় আপডেটস’ -এর এই বিভাগে যাঁরা গল্প ও উপন্যাস পাঠাতে চান তাঁরা ছোটদের ও বড়দের আলাদা আলাদা গল্প পাঠাতে পারেন। বুঝতে সুবিধার জন্য ইমেলের ‘সাবজেক্ট’-এ বিভাগের উল্লেখ করবেন। ছোটদের গল্পের জন্য ১০০০ শব্দ ও বড়দের গল্পের জন্য ১০০০-১৫০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে ইউনিকোড ফরম্যাটে। সঙ্গে ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বর দিতে ভুলবেন না। গল্প বা উপন্যাস নির্বাচিত হলে যোগাযোগ করা হবে। ইমেল: samayupdatesin.writeus@gmail.com


Skip to content